?শুধু তোমায় ঘিরে? পর্ব-২+৩

0
4108

?শুধু তোমায় ঘিরে?

#মেঘা আফরোজ….?
#পর্ব-২+৩….?

?

নিচে নেমে একনাগারে পানি খেয়ে চলেছি ঝালটা যেনো কিছুতেই কমছে না তাসিনের মতো ঝালটাও হয়তো আমার সাথে শত্রুতা করছে। ফ্রিজ খুলে মিষ্টি বের করে গপাগপ ৪ টা খেয়ে নিলাম উহ এখন মনে হচ্ছ কিছুটা ঝাল কমেছে। বেসিনের সামনে দাড়িয়ে নিজেকে আয়নায় দেখে এত্তো বড় একটা হা করলাম! এ কি হয়েছে আমার ফেসের? পুরো মুখটা টমেটোর মতো ফুলে গিয়েছে হায় আল্লাহ এ কি হলো আমার!
সবটা হয়েছে ওই হারামি বজ্জাত তাসিনের জন্য। তোকে তো আমি চরম শাস্তি দিবো দেখে নিস তুই হুহহ।

. ?

রাতে ঘুমিয়ে আছি মনে হচ্ছে যেনো কেউ আমার মুখে ঠোঁটে হাতের ছোয়া দিয়ে চলেছে আমি চোখ খুলতে চেয়েও যেনো পারছি না। মনে হচ্ছে আমার চোখ জোড়া চেপে ধরে রাখা হয়েছে। ছোয়াটা আরো প্রকট অনুভব করতে লাগলাম,,,,,আমার ঠোঁটে নরম কিছু ছুয়ে দিলো মুহুর্তেই ঘুমের ঘোরেই কেপে উঠলাম আমি। ধপ করে চোখটা খুলে লাফিয়ে উঠে বসলাম।
চোখ ডলতে ডলতে চারিদিকে চোখ বুলিয়ে নিলাম কই কেউ তো নেই এখানে!! কিন্তু এ কিসের ছোয়া অনুভব করলাম আমি? মনে হলো যেনো কেউ পরম আবেশে আমার ঠোঁটে মিষ্টির উষ্নতা দিলো।
কিন্তু রুমে তো আমি ছাড়া আর কেউ নেই। ধুর কি এতো ভাবছি হয়তো সপ্নো দেখেছি আমি। আবারো বালিশে মুখ গুজে ঘুমের দেশে পারি দিলাম।

দরজার আড়াল থেকে কেউ একজন আমাকে গভীর ভাবে দেখছিলো এতোক্ষণ। সে আর কেউ নয় আমার একমাত্র ক্রাশ তাসিন।
সে মনে মনে বললো এই মেয়েটা পারেও বটে এখনি কি ওর ঘুমটা ভাঙার ছিলো! আবার দেখো কি সুন্দর ভাবে নিশ্চিন্তে মুহুর্তেই ঘুমিয়ে পড়লো। আজ তোমাকে বেশি শাস্তি দিয়ে ফেলেছি এর জন্য আমি অনুতপ্ত। কি করবো বলো বিকেলে যে তোমাকে শাড়িতে দেখে আমার মাথাটাই ঘুরে গিয়েছিলো। অপ্সরীর মতো লাগছিলো তখন তোমাকে । তোমাকে ওভাবে দেখলে যে আমি নিজেকে সামলাতে পারবো না তাইতো শাড়ি পড়তে বারন করলাম। জানি না কেনো তোমাকে এতো ভালো লেগে গেলো আমার তুমি আশেপাশে থাকলে যে আমার তোমাতে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে তাইতো দুরে দুরে থাকতে চাই।
তোমার ওই গোলাপি ঠোঁটের মিষ্টি হাসি,ঘন কালো চুল,তোমার চাহনি যে আমাকে গভীর ভাবে আকৃষ্ট করে মেঘকন্যা। আমার সপ্নোগুলো যে…শুধু তোমায় ঘিরে…।

. ?

খুব সকালেই ঘুমটা ভেঙে গেলো সকাল বললে ভুল হবে তখন ৫:৪২ বাজে ভোর বললেই চলে। আমার অবশ্য এমন সময়েই ঘুম ভেঙে যায়। বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে অজু করে নিলাম তারপর নামাজটা আদায় করলাম। মুহুর্তেই যেনো মনটা ফুরফুরে হয়ে গেলো আমার হয়তো নামাজ পড়ার কারনেই। এখন ফ্রেস লাগছে নিজেকে।
ব্যালকনিতে গিয়ে দাড়ালাম চারিদিকে পাখিদের কিচিমিচি শব্দ হালকা মৃদু বাতাস এসে গায়ে আচড়ে পড়ছে। আবছা আলো থেকে আস্তে আস্তে পরিষ্কার হতে লাগলো মনোমুগ্ধকর একটা দৃশ্য। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে রান্নাঘরে গেলাম যদি কিছু বানাতে পারি। আমি অবশ্য তেমন কিছু রান্না করতে পারি না মা কখনো রান্না করতে দেয় না যেটুকু শিখেছি খালামনির থেকেই।

রান্নাঘরে গিয়ে দেখি খালামনি আমার আগেই হাজির। পাশে গিয়ে দাড়িয়ে বলে উঠলাম। আচ্ছা খালামনি তুমি কি গো এতো সকালে কেনো উঠেছো? পাগলি মেয়ের কথা শোনো এতো সকাল কিরে ৭:৩০ প্রায় বেজে গিয়েছে। তুই এতো সকালে উঠে এখানে আসলি কেনো? আমি তো সকালেই উঠি ভাবলাম ব্রেকফাস্টটা আজ আমি তৈরি করবো কিন্তু কি হলো তুমি আমার ভাবনাকে পিসে মেরে দিলে। ইনোসেন্ট ফেস করে।
আমার কথা শুনে খালামনি শব্দ করে হেসে উঠলো।
হেসে বললো,,,,মেঘা তোকে এসব করতে হবে না তুই বরং একটা কাজ কর তাসিনকে ডেকে তোল গিয়ে ওর নাকি কি কাজ আছে আজ তাড়াতাড়ি বেরোবে।
আমি যাবো না খালামনি তোমার ছেলে আস্তো একটা বজ্জাত তাকে আমি ডাকতে পারবো না।
কেনো ও আবার কি করেছে? কি করেনি তাই বলো।
কি করেছে? ওই তো কাল….না না খালামনিকে বলা যাবে না আরো হাসবে। কিছুনা।
হুম যা না মা ওকে ডেকে দে। কি আর করা খালামনির কথা ফেলতোও পারবো না তাই গেলাম।

. ?

দরজাটা চাপানো ছিলো খুলে ভেততে ঢুকলাম,,,,,,তাসিন বেঘোড়ে ঘুমাচ্ছে ওর মুখে তাকিয়ে কেমন যেনো একটা মায়া কাজ করছে আমার মাঝে,এক অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে। কতোটা ইনোসেন্ট হয়ে ঘুমাচ্ছে তাসিন ইচ্ছে করছে ওর গালটা একটু ছুয়ে দিতে। হঠাৎ ই কালকের কথা মনে পড়লো আমার মুহূর্তেই কিছুটা রাগে ভর করলো আমার উপর।
ব্যাটা বজ্জাত আমাকে মরিচের গুড়ো খাওয়ানো তাইনা। আমার মতো একটা বাচ্চার এতো কিউট একটা চেহারার ১২ টা নয় ১৩ টা নয় পুরোই ১৪ টা বাজিয়ে দিয়েছিলো। আপনাকে তো আমি………ওয়াশরুম থেকে এক বালতি পানি এনে বালতির পুরো পানি টুকু দিলাম তাসিনের গায়ে ঢেলে।
গায়ে পানি পড়ায় ধরফরিয়ে উঠে বসলো তাসিন। এই কে কে?মাাাা আমার গায়ে পানি পড়লো কি করে!! বিরক্তি মাখা মুখে চোখ বন্ধ করে মা মা করছেন।
ওনার এমন কান্ড দেখে আমি জোরে জোরে হাসতে লাগলাম। পানিতে একদম ভেজা কাক হয়ে গিয়েছে আমি যেনো কোনো ভাবেই হাসিটা থামাতে পারছিলাম না।
আমাকে হাসতে দেখে তাসিনের আর বুঝতে বাকী ওইলো না ঠিক কি ঘটেছে। হঠাৎ আমার হাতে টান পড়লো কিছু বুঝে উঠার আগেই তাসিন ভাইয়া আমাকে বিছানায় ভেজা জায়গাটাতে শুইয়ে আমার হাত চেপে ধরলো। এমন কিছু যে হবে আমি ভুলেও ভাবিনি যখন বুঝতে পারলাম ঠিক কি হলো আমার সাথে তখনি চোখদুটো রসগোল্লার মতো বড়বড় হয়ে গেলো আমার। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে চলেছি কিন্তু ওনার শক্তির কাছে পেরে উঠছি না।
তাসিন ভাইয়া পাশের টেবিলে থাকা পানির জগটা নিয়ে পুরো পানিটা আমার উপর ঢেলে দিলো। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম! কি হচ্ছেটা কি ওনাকে ফাসাতে গিয়ে প্রতি বারি আমি ফেসে যাচ্ছি কেনো??
আমাকে আরো বেশি অবাক করে দিয়ে তাসিন ভাইয়া একটা শয়তানি হাসি দিয়ে আমার কাছাকাছি আসতে লাগলো ভয়ে চোখ খিচে বন্ধ করে ফেললাম।
উনি আমার কানের কাছে মুখ এসে ফিসফিসিয়ে বললো,,,,,,মেঘা তুই এতো বোকা কেনো বলতো জানিস তো তুই আমার কাছে হেরে যাবি তারপরেও লাগতে আসিস কি ফল পেলি এখন হুমম?
ওনার নিশ্বাসটা আমার ঘারে এসে পড়ছিলো বার বার শরীরটা কেপে উঠছিলো আমার।
আস্তে করে বললাম ভাইয়া উঠতে দিন আমাকে।চোখ বন্ধ করেই বললাম।
কি করে উঠতে দিবোরে তোকে তোর এই ভেজা ভেজা মুখটা থেকে তো নিজের চোখটা সরাতে পারছি না। তুই আজকে এমন একটা বোকামো না করলে যে অনেক কিছুই মিস করে যেতাম রে মেঘকন্যা। আজকের সকালটা সত্যি আমার জন্য স্পেশাল। মনে মনে বললো।
ক কি হলো ভাইয়া আমার হাতটা ছাড়ুন।
তাসিনের হুস ফিরলো তখন সাথে সাথে আমার হাতটা ছেড়ে দিলো আমি এক ঝটকায় উঠে বসলাম ইসস আমিও যে ভিজে গিয়েছি কি ভাবলাম আর কি হলো।
রাগে গজগজ করতে করতে তাসিনকে বললাম কি করলেন এটা আপনি হ্যা এই সকালে দিলেন তো আমাকে ভিজিয়ে।।
বারে নিজেরটা খুব বুঝিস দেখছি আমাকে যে বিছানা সহ ভিজিয়ে দিলি তার কি হবে?আর যদি কখনো আমাকে জব্দ করতে আসিস তার আগে নিজের কি হবে সেটা ভেবে নিবি কেমন।আমার নাক টেনে বললো।
উঠে দাড়িয়ে বললাম আমি আর থাকবোই না এ বাড়িতে আজি চলে যাবো।
বলেই হনহন করে বেড়িয়ে এলাম।
তাসিন ভাবছে,,,,এইরে পাগলিটা ক্ষেপেছে সত্যি চলে যাবে না তো আবার!

. ?

আজ ৩দিন হলো এ বাড়িতে এসেছি সেদিন চলে যেতে চেয়েছিলাম খালামনি যেতে দেয়নি। ১১ টার দিকে চিপস খাচ্ছি আর আমার ফেভারিট কার্টুন মটু পাতলু দেখছি। খালামনি কোনো এক দরকারে বেড়িয়েছে। আর আমার একমাত্র ক্রাশ মানে ওই বজ্জাত তাসিন নিজের রুমে বসে ল্যাপটপ গুতিয়ে চলেছে।
কলিংবেলের শব্দে খুবই বিরক্ত হলাম আমি আমাকে কি কার্টুন টাও দেখতে দিবে না। বার বার বেজে চলেছে বিরক্ত হয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম।
একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে লম্বা ফর্সা এমনকি দেখতেও খারাপ না। আমার দিকে একধ্যানে তাকিয়ে আছে। ব্যাপারটাতে খুবই বিরক্ত আমি,,,,,এই যে ভাইয়া কাকে চাই? আমার কথা হয়তো তার কানে ঢুকছে না তাই একটু জোরেই বললাম ও হ্যালো কাকে চাইছেন আপনি?
ছেলেটি একটু নরে উঠলো একটু হেসে বললো তাসিন আছে বাসায়?
কেনো ওনাকে আপনার কি দরকার হুম?
আমি তাসিনের ফ্রেন্ড আবির,,,ও কি আছে?
তখনি তাসিন ভাইয়া বলে উঠলো আরে আবির তুই কখন এলি দরজায়,দাড়িয়ে আছিস কেনো ভেতরে আয়।
আবির আমাকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকলো। দুজনে গিয়ে সোফায় বসলো। আমার যে এখন আর মটু পাতলু দেখা হবে না বেশ বুঝতে পারছি। দরজাটা আটকে রুমের দিকে পা বাড়ালাম।
তাসিন ভাইয়ার ফ্রেন্ড আবির ডাকলো,,,,,,এই যে ম্যাম আমাকে একটু পানি খাওয়াতে পারবেন।
কেনো পারবো না একটু কেনো একগ্লাস খাওয়াবো। চলবে?
আবির হেসে বললো হ্যা চলবে।
পানিটা এনে ওনাকে দিলাম তাসিন কেমন যেনো রেগে তাকালো আমার দিকে আজব তো! উনি এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো আমি তো এখন কিছু করিনি।
আবির আমাকে গ্লাসটা দিয়ে বললো ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি কিছু না বলেই গ্লাসটা রেখে রুমে চলে আসলাম।
প্রায় ১ঘন্টা পরে তাসিন আমার রুমে এসে গম্ভীর গলায় বললো মেঘা তোর জামাকাপর গুছিয়ে নে তোকে বাড়িতে রেখে আসবো।
ওনার এমন কথা শুনে আমি অবাক হয়ে বললাম কেনো ভাইয়া মা ফোন দিয়েছিলো?
মেঘা আমি যা বলছি সেটা কর ৩০ মিনিটের মধ্য রেডি হয়ে নিচে আয়। আর শোন আবির কিছু জানতে চাইলে বলবি মা বাবার জন্য খারাপ লাগছে তাই চলে যাচ্ছি।

আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে উনি বেড়িয়ে গেলো। কি হলো হঠাৎ এ বজ্জাতটার আমাকে চলে যেতে বলছে। ঠিকআছে যাবো চলে থাকবো না আর এখানে। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে আমার তাসিনকে হাজারটা গালি দিতে দিতে ব্যাগটা গুছিয়ে নিলাম।

?

#চলবে. . . ?

?শুধু তোমায় ঘিরে?

#মেঘা আফরোজ…..?
#পর্ব-৩….?

?

রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে আছি আমি আর তাসিন ভাইয়া উনার ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছি না। আমিও মুখ গোমড়া করে চুপচাপ বসে আছি একটা কথাই আমি বুঝতে পারি না কোনো ছেলের সাথে যখন আমি একটু কথা বলি তখন এই বজ্জাত তাসিনটা কোথা থেকে উদয় হয়!

কিছুক্ষণ আগে………
ভার্সিটি থেকে ক্লাস শেষ করে বাড়িতে ফিরছিলাম রাস্তায় দাড়িয়ে ছিলাম রিক্সার জন্য কেউ একজন মেঘা বলে ডাকায় পেছনে ফিরে তাকালাম। তাসিন ভাইয়ার ফ্রেন্ড আবির হাসি মাখা মুখে আমার দিকে চেয়ে আছে। কিছুটা বিরক্ত লাগলেও বুঝতে দিলাম না,মুখে হাসি ফুটিয়ে বললাম,আরে ভাইয়া আপনি এখানে?
হুম আমারো সেই প্রশ্ন তুমি এখানে দাড়িয়ে আছো কেনো?
আমার তো ক্লাস ছিলো শেষ করে বাসায় যাচ্ছি।
ওও আচ্ছা,,,,তুমি সেদিন হঠাৎ চলে গেলে কেনো বলোতো আমি তাসিনের বাড়িতে ২ দিন ছিলাম ভেবেছিলাম তোমার সাথে ভালো ভাবে পরিচিত হবো।
কেনো রে আমার সাথে পরিচয় হয়ে তোর লাভ কি শুনি এখন তো মনে হচ্ছে সেদিন তোর জন্যই তাসিন ভাইয়া আমাকে বাড়িতে রেখে এসেছিলো। মনে মনেই বললাম।
কি হলো মেঘা কিছু বলছো না যে?
এমনিতেই পড়া মিস যাচ্ছিলো তাই চলে এসেছি।
ওহ, এনিওয়ে চলো তোমাকে পৌছে দেই।
এবার খুব রাগ হলো আমার আমি একা যেতে পারিনা নাকি?এই লোকটার মতলোব তো ঠিক লাগছে না!,,,,,না ভাইয়া আমি যেতে পারবো।
তখনি হঠাৎ তাসিন বাইক নিয়ে আমাদের সামনে এসে দাড়ালো,,,,গম্ভীর গলায় বললো মেঘা জলদি বাইকে ওঠ। ওনার কথায় আমি কিছুটা অবাকি হলাম হুট করে এসেই বাইকে উঠতে বলছে কেনো? আবির বললো আরে তাসিন তুই এখানে? তোর সাথে আমি পরে কথা বলবো আবির,মেঘা তোকে উঠতে বলেছি শুনতে পাসনি?ধমক দিয়ে বললো কথাটা।
আমিও আর উপায় না পেয়ে উঠে পড়লাম বাইকে।

. ?

তারপরেই এই রেস্টুরেন্টে এনে বসিয়েছে আমাকে। কিন্তু তার মুখে একটি কথাও নেই। মুখটা বোমের মতো ফুলিয়ে রেখেছে। এমন নিরবতা আমার সহ্য হচ্ছে না ইচ্ছে করছে ওনার মুখের বোমটা কিছু একটা দিয়ে মেরে ফাটিয়ে দিতে। অবশেষে নিরবতা ভেঙে আমি বললাম ভাইয়া আমাকে এখানে এনে বসিয়ে রেখেছেন কেনো? আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই বসিয়ে রেখেছি। ইচ্ছে হলেই বসিয়ে রাখতে হবে নাকি? রেস্টুরেন্টে এনে বসিয়েছেন খাবার অর্ডার করেন নি কেনো? দুপুর পার হয়ে যাচ্ছে আমার ক্ষিদে পায় না বুঝি।।
উনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে উঠে গেলেন,আজব তো কোনো কথা না বলে আবার কোথায় গেলেন উনি!
৪/৫ মিনিট পর আবার আমার সামনে এসে আগের ন্যায়ে বসে পড়লেন। সাথে সাথে দুজন ওয়েটার এসে গুনে গুনে ৫/৭ টা খাবার আইটেম আমার সামনে টেবিলে সারিবদ্ধ ভাবে রেখে গেলেন। আমি জাস্ট হা হয়ে গেছি বিষ্মিত চোখে তাকিয়ে বললাম এতো খাবার কে খাবে ভাইয়া? উনি গম্ভীর মুখে উত্তর দিলেন আমার সামনে যে বসে আছে যার ক্ষিদে পেয়েছে সে খাবে।
কিহ এতো খাবার আমি খাবো! ইম্পসিবল। আমাকে কি রাক্ষস মনে হয় আপনার?
চুপ আর একটা কথা বললে সব গুলো খাবার জোর করে খাওয়াবো। সো কথা না বলে চুপচাপ সব গুলো।খাবার শেষ করবি। রেগে বললো।
এই বজ্জাতটার আজ হলো কি আমি তো কোনো ভুল করিনি তাহলে এমন কেনো করছে?
উনি আবারো ধমকে বললেন মেঘা খাওয়া শুরু করতে বলেছি।
কি আর করা খেতেই হবে কেনো যে ক্ষিদে পেয়েছে বলতে গেলাম। এখন নিজের উপরেই রাগ হচ্ছে আমার।

. ?

অল্প কিছু খাওয়ার পর আর পারছি না খেতে করুন দৃষ্টিতে তাকালাম তাসিনের দিকে। হয়তো ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে ওয়েটারকে ডেকে সব সরিয়ে নিলো আর ইশারায় কি যেনো বললো। একটু পরে ওয়েটার চকলেট ফ্লেভারের একটা আইসক্রিম বক্স রেখে গেলেন। ওটা দেখেই আমার সেদিন রাতের কথা মনে পরে গেলো। এই তাসিনের মাথায় কি চলছে কে যানে।
মেঘা আইসক্রিমটা তোর জন্য আর শোন চিন্তার কিছু নেই আজ কিছু মেশানো নেই এতে।
আমি আর দমে থাকতে পারছি না আর কতোক্ষণ এখানে বসিয়ে রাখবে আমাকে! কেনোই বা এনেছে সেটাও বলছে না। এসব ভাবছি তখনি তাসিন বলে উঠলো,,,,,,আবিরের সাথে তোর কিসের এতো কথা?
দেখা হলো তাই কথা বলেছি আর আমি তো নিজে থেকে কথা বলতে যাইনি উনি এসেছেন।
ও তাই,তাহলে তুই চলে আসলি না কেনো সেখান থেকে?
হ্যা চলেই তো যাচ্ছিলাম তখনি তো আপনি আসলেন।
তাসিন একটু চুপ থেকে কিছু একটা ভাবলো তারপর বললো,,,,ঠিকআছে আজকের মতো কিছু বললাম না আর যেনো কখনো তোকে আবিরের সাথে কথা বলতে না দেখি শুধু আবির কেনো কোনো ছেলের সাথেও যেনো না দেখি।
উনার কথার আগামাথা কিছুই বুঝলাম না আমি! আবির তো ওনারি ফ্রেন্ড তাহলে কথা বলতে না করছে কেনো আর অন্য কোনো ছেলের সাথে কথা বললে উনার কি প্রবলেম?
মেঘা তোর ছোট মাথায় এতো কিছু ঢুকবে না তাই এতো ভেবে লাভ নেই। শুধু এটা মাথায় রাখ কোনো ছেলের সাথে কথা বলা চলবে না।
যা বাবা উনি মন পড়তেও পারে নাকি আমি কি ভাবছি সেটাও বুঝে ফেললো। আমি একটু কঠোর গলায় বললাম আমার যার সাথে ইচ্ছে কথা বলবো আপনার কথা কেনো শুনতে যাবো আমি। উনি আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো দাতে দাত চেপে টেবিলে চাপর মেরে বললো,,,,,,কি বললি আবার বল তো।
উনার এমন চাহনিতে আমি ভয়ে চুপসে গেলাম তাসিনের এ রুপ আমি আগে কখনো দেখিনি।
ক কিছু না ভাইয়া আ আমি বাড়ি যাবো মা হয়তো টেনশন করছে।

. ?

উনি স্বাভাবিক কন্ঠে বললেন ঠিকআছে তুই বাইরে গিয়ে দাড়া আমি আসছি। আমি মাথা নাড়িয়ে বেড়িয়ে এলাম।
বাড়ির সামনে আমাকে নামিয়ে দিয়ে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিলেন আমার হাতে।
ভাইয়া কি আছে এতে?
আইসক্রিম,তখন তো খেলি না তাই নিয়ে আসলাম। এখন ভেতরে যা। আপনি চলুন ভেতরে মা খুব খুশি হবে আপনাকে দেখলে। আমার একটা জরুরি কাজ আছে পরে আসবো। বলেই উনি বাইক নিয়ে চলে গেলেন। আর আমি বোকার মতো উনার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে ভেতরে চলে আসলাম।

রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছি তাসিনকে আজকে অন্য রকম লাগলো। এমন ভাবে কথা বললো আমি যেনো তার নিজের কেউ। আচ্ছা উনার প্রতি আমার যেমন একটা অনুভূতি কাজ করে,তেমনটা কি উনারো হয়? না না এসব কি ভাবছি আমি,,,,,হয়তো আমাকে বোন ভেবেই শাসন করেছে।

. ?

তাসিন ছাদে দাড়িয়ে আছে আনমনে ভাবছে,,,,,মেঘাকে আমি কি করে আমার মনের কথা বলবো ও কি আমার হৃদয়ের অনুভূতি বুঝবে? আবিরের সাথে ওর কথা বলাটা আমার সহ্য হচ্ছিলো না তাই তো রেগে ওকে নিয়ে আসলাম। ও কি একটুও বুঝতে পেরেছে কেনো করলাম আমি এটা? আমি ভালোবেসে ফেলেছি ওকে একটা মুহূর্ত চলবে না ওকে ছাড়া আমার।
আবির সেদিন বলছিলো মেঘাকে ওর প্রথম দেখেই ভালোলেগে গেছে। নাহ আমাকেই কিছু করতে হবে আগে মেঘার মনের কথাটা আমাকে জানতে হবে তারপর না হয়,আবিরকে সামলাবো।
কিন্তু কিভাবে জানবো মেঘার ও আমার মতো ফিল হয় কি না?,,,,,,,,,,ইয়েস পেয়েছি রিশা,হ্যা ওর সাহায্য নিতে হবে আমার।
তাসিন নিজের ফোনটা বের করে রিশাকে কল দিলো,রিসা ফোনটা ধরতেই তাসিন বললো।
রিশা আমি যা বলছি চুপচাপ শোনো…………….
তাসিন রিশাকে সবটা বুঝিয়ে দিয়ে ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটিয়ে বললো মেঘারে তোকে আমি আর অন্য কারো হতে দেখতে পারবো না। আমি জানি না তোর মনে কি আছে কিন্তু এখন জানাটা যে খুবই প্রয়োজন।

?

#চলবে. . . ?