অদ্ভুত তোমার নেশা পর্ব-০৫

0
1307

#অদ্ভুত_তোমার_নেশা
#লেখিকা_লায়লা_আঞ্জুমান_ইতি
#পার্ট____________০৫




আকাশ বলল,,,,,ঠিকানা পেয়েছি ওরা ওদের ঢাকার বাহিরে নিয়ে গেছে যত সম্ভব কালই ওই ছেলেটা কুহুকে বিয়ে করতে পারে।বিভোর বলল,,,,ঠিকানা দেয়। আকাশ ঠিকানা পাঠালো বিভোর এক মিনিট ও দেরি না করে গাড়ি নিয়ে ছুটলো ওদের উদ্দেশ্যে, বিভোরের যেতে ৩ ঘন্টার মতো লাগলো,কিন্তু অবশেষে ওখানে গিয়ে পৌছালো।

কুহুকে একটা রুমে আটকে রেখেছে কুহু কখন থেকে কান্না করেই চলেছে,ওর আর কোনো আশা নেই মুহিদ কখনোই কুহুকে মুক্তি দেবে না।এর মাঝে ওর ছোট বোন প্রিয়া ওর কাছে দৌড়ে এসে বলল,,,আপু জানো কে যেনো এসেছে। কুহু বলল,,,,কে…….

এর মাঝেই দরজা দিয়ে বিভোর আসলো, বিভোরকে দেখে কুহুর প্রাণ ফিরে পেলো, কুহু দাড়িয়ে বলল,,,আপনি।বিভোর কুহুকে বলল,,,চল এখন।তখনি কুহুর সত মা এসে বলল,,,কোথায় যাবে আমাদের বাড়ী মেয়ে আমাদের কাছেই থাকবে আপনি কে যে আপনার সাথে আমাদের মেয়েকে যেতে দেবো।বিভোর কুহুকে আবার বলল,,,,চল কুহু।

ওর সত মা বলল,,,,,আপনি অনেক অভদ্র তো আমি মুহিদকে ফোন করেছি ও আসছে ওর হবু বউকে নিয়ে যেতে চাইছেন, ও শিক্ষা দিয়ে ছাড়বে।কুহু বলল,,,,আআ,,আপনি চলে যান মুহিদ ওরা খুব খারাপ লোক আপনার ক্ষতি করে বসবে।বিভোর বলল,,,,কুহু চল আমার সাথে।

তখনি পিছন থেকে মুহিদ বলল,,,,,,এত কিসের তাড়া তো ভাইজান আপনি কে কোথ থেকে আসছেন।বিভোর বলল,,,,,আমি কে তা বুঝতে পারবেন।মুহিদ বলল,,,,আচ্ছা তো আপনি অপেক্ষা করেন আর কিছু খন পর আমার আর আমার কুহু জানের বিয়ে খাওয়া দাওয়া করে যাবেন।বিভোরের রাগে মাথা কাজ করছে না, বিভোর কুহুর হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগলো তখনি মুহিদ বিভোরের হাত ধরে বলল,,,,সাহস তো অনেক দেখছি আমার সামনে আমার হবু বউকে নিয়ে যেতে চাইছেন।বিভোর রেগে মুদিহকে নাক বরাবর একটা ঘুষি মেরে বসলো, মুহিদ ছুটে গিয়ে দূরে পড়লো, এটা দেখে মুহিদের পিছনে দুজন ছেলে ছিল ওরা বিভোরের দিকে যেতে নিলো তখনি বিভোর ওদের এক একটাকে কুকুরের মতো পেটালো সবাই এইসব দেখে ভয়ে জোড়োসোড়ো হয়ে পড়ল,কুহু তো ভয়ে ওর জান যায় যায় বিভোরকে এত টা রাগতে আগে দেখে নিই, এর মাঝে ১৮ জনের মতো ছেলে এসে বিভোরকে ঘিরে ফেলল এত গুলো ছেলের সাথে বিভোরের পেরে উঠা সম্ভব না,ছেলে গুলো বিভোরকে ধরে ফেলল,মুহিদ উঠে বিভোরের কাছে এসে বলতে লাগল,,,,খুব হিরো গিরি দেখলাম তো কুহুকে কি মনে ধরসে নাকি তোর। বিভোর রেগে চুপ হয়ে আছে, আকাশ পুলিশ নিয়ে আসতেও বেশী সময় লাগবে না। তাই বিভোর চুপ হয়ে আছে।কুহু মুহিদের কাছে এসে বলল,,,,আপনি প্লিজ উনাকে ছেড়ে দেন উনার কোনো ক্ষতি করবে না।মুহিদ বাকা হেসে কুহুকে বলল,,,,ওহো কুহু জান তুমি এমন ভাবে রিকুয়েষ্ট করলে তো আমি না রেখে পারি না ওকে ছেড়ে দেব কিন্তু এখন না।বলেই মুহিদ চিল্লিয়ে বলল,,,,,ওই কাওসার কাজী ডাক এখনি বিয়ে করমু।

এর মাঝে কুহুর সত মা বলে উঠল,,,, কিরে কুহু তুই তো কত ভালো সেজে থাকিস তোলে তোলে এত কিছু এই ছেলে কে, কবের থেকে চলছে এসব এর সাথেই কি ছিলি এত দিন,ভালো মালদার পার্টি ধরেছিস দেখছি।মুহিদ বলল,,,আহা আপনি চুপ থাকেন কুহু জান তুমি শোনো এই ছেলে যদি তোমার ভালোবাসা ও হয়ে থাকে তাহলে ওকে ভুলে যাও কারণ এখন তুমি আমার বউ হবে।কুহু কিছু না বলে চুপ হয়ে রয়েছে,এর মাঝে কাজীও চলে আসলো, মুহিদ কুহুকে টেনে নিয়ে চেয়ারে বসালো বিভোরের সামনেই, বিভোর কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না, কুহু অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিভোরের দিকে।মুহিদ বলল,,কাজী সাহেব সব কিছু তাড়াতাড়ি লেখেন। সব কিছু লেখা শেষ করে কাজী সাহেব ওদের সাইন করতে বললেন,মুহিদ তাড়াতাড়ি সাইন করে দিল, এখন কুহুকে সাইন করতে বলল,,,,কুহু চুপ হয়ে বসে চোখের অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে। মুহিদ কুহুকে বলল,,,,কুহু জান সময় নষ্ট করছো কেন সাইন কর তারপর বাসর হা হা হা।

বিভোর কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না এদিক দিয়ে আকাশ এর ও আসার খবর নেই,মুহিদ এবার কুহুকে ধমক দিয়ে বলল,,,সাইন কর।মুহিদের ধমক শুনে কুহু কেপে উঠলো, বিভোর হঠাৎ বলে উঠল,,,, এই বিয়ে হতে পারে না।সবাই বিভোরের দিকে তাকালো, মুহিদ বলল,,,,হবে না মানে তোর কথায়।বিভোর বলল,,,,কুহু আমার স্রী। বিভোরে কথা শুনে সবাই বড়সড় শকট খেল, কুহু অবাক হয়ে বিভোরের দিকে তাকালো, বিভোর বলল,,, ও আমার স্রী আপনি ওকে বিয়ে করতে পারবেন না।মুহিদ বলল,,,,,,,কি???

বিভোর বলল,,,,,হ্যা আমরা বিয়ে করেছি। মুহিদ বলল,,,সত্যি কথা না কি মিথ্যা। বিভোর বলল,,,আপনি চাইলে কাবিন নামা দেখাতে পারি ওটা বাড়ীতে আমাকে ফোন করতে দেন আমি ওইটা আনিয়ে দেখাচ্ছি।কুহুর সব কিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে বলছে কি বিভোর কিসের কাবীন নামা ওদের তো বিয়েই হয় নিই তো কাবিন নামা আসবে কোথ থেকে,বিভোর আর উপায় না পেয়ে মিথ্যে বলেছে ওকে ফোন করতে দিলে ও এস এম এস পাঠিয় আকাশকে সব বলে দিত আর একটা নকল কাবিন নামা বানিয়ে নিয়ে আসতে বলতো।বিভোর বলল,,,,আমাকে ছাড়তে বলুন আমি কাবিন নামা আনাচ্ছি।মুহিদ বলল,,,,,সত্যি বিয়ে হইসে।বিভোর বলল,,,হ্যা।মুহিদ বলল,,,,,ঠিক আছে কাবিন নামা আনতে হইবো না তোরে এখন আবার বিয়ে করতে হইবো। এ কথা শুনে বিভোর আর কুহু দুজনই শকট খেল, বিভোর বলল,,,,আবার বিয়ে করব মানে বিয়ে তো একবার করেছি আবার কেন করব। মুহিদ বলল,,,,,হুম এখন আবার বিয়ে করতে হইবো না করলে এখন আমি কুহুরে বিয়ে করমু।

বিভোর কিছু বলল না কি বলবে বুঝে পাচ্ছে না এত বড় মিথ্যে কথা বলল কুহুকে বাচানোর জন্য কিন্তু তাও কিছু হচ্ছে না। বিভোরের চুপ থাকা দেখে মুহিদ হেসে বলল,,,,আগেই বুঝতে পেরেছিলাম তুই মিথ্যে বলছিস কুহু জান সাইন কর আর আমার সাথে চল। কুহুর মুখটা ছোট হয়ে গেছে, কুহু এখন এতটা অসহায় মনে হচ্ছে নিজেকে, মুহিদ এর সাথে বিয়ে হলে কুহু কখনই ভালো থাকতে পারবে না,এ দিকে দিয়ে আকাশ এখনো আসছে না কেন তা নিয়ে চিন্তায় আছে বিভোর, বিভোরের খুব মায়া হচ্ছে কুহুর মলিন হয়ে যাওয়া মুখটা দেখে, বিভোরের চোখের সামনে একটা মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে যাবে তা মেনে নিতে পারবে না বিভোর

অতঃপর বিভোর বাধ্য হয়ে কুহুকে বিয়ে করে নিলো।তার কিছুখন পর হঠাৎ আকাশ পুলিশ নিয়ে হাজির হলো, তারপর মুহিদকে সহ সব কয়টাকে ধরে নিলো,আকাশ দেখলো বিভোর আর কুহু চুপ হয়ে আছে, আকাশ গিয়ে বিভোরকে বলল,,,বিভোর এই বিভোর তুই ঠিক আছিস এমন চুপ হয়ে আছিস কেন।বিভোর কিছু না বলে ওদের সামনের থেকে চলে গেল,তারপর আকাশ কুহুকে বলল,,,,,কুহু কি হয়েছে ওর তো খুশি হওয়ার কথা তোমাকে বাচাতে পেরেছে।কুহু তারপর সবটা বলল,কুহুর কথা শুনে আকাশ অবাক হয়ে গেল,পরক্ষণেই আকাশের ঠোঁটের কোণে হাসি চলে আসলো, আর বলল,,,,,খুব ভালো হয়েছে চিন্তা কর না সব ঠিক হয় যাবে।আকাশ এবার খেয়াল করলো বিভা কোথাও নেই।আকাশ কুহুকে বলল,,,,,বিভা কোথায়।কুহু বলল,,,বলতে পারি না আমাকে এক রুমে আটকে রেখে ছিল।আকাশ রেগে মুহিদ আর অন্যদের কাছে গিয়ে বলতে লাগলো,,,বিভা কোথায় কোথায় রেখেছিস ওকে।সবাই চুপ হয়ে আছে এটা দেখে আকাশ আরো রেগে গেল আকাশ কিছু বলার আগে প্রিয়া এসে বলতে লাগলো,,,,, ওইদিকের রুমে আটকে রেখেছে।আকাশ এক সেকেন্ড ও লেট না করে দৌড়ে ওদিকের রুমের দিকে গেল,গিয়ে তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দেখলো, বিভার হাত পা মুখ বেধে রেখেছে আর বিভার চোখে অশ্রু জমা হয়ে আছে, আকাশ দ্রুত গিয়ে বিভার হাত পা মুখের বাধন খুলে দিল তারপর গভীর ভাবে বিভার কপালে একটা চুমু খেল বিভা আকাশকে দেখে জরিয়ে ধরলো,আকাশ ও বিভাকে জরিয়ে ধরলো আর বলল,,,,,শান্ত হও আমি আছি তো কেউ তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।বিভা আরও শক্ত করে আকাশকে জরিয়ে ধরলো।

চলবে………….
ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন