#অনুভবে_তুমি
#পর্ব_৫
#লেখনীতে_মুগ্ধ_ইসলাম_স্পর্শ
আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে পুরনো সেই উপমা! যার জন্য আজ আমি বেঁচে রয়েছি। বেঁচে থাকতে তার সাথে আবার দেখা হবে ভাবতে পারিনি কখনো। আমি তাকে দেখাতে বিভোর হয়ে আছি। কখন যে সে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতেই পারিনি।
‘- এই যে মিস্টার ক্যাবলাকান্ত কী দেখছেন এভাবে? যেদিনই আপনার সামনে এসে দাঁড়াই সেদিনই এভাবে তাকিয়ে থাকেন। কী ঘটনা বলুন তো! ভালো টালো বাসেন নাকি?
আমি তার প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করলাম,
‘- এতদিন কোথায় ছিলেন? জানেন পাগলের মত খুঁজছিলাম আপনাকে শুধু একবার দেখবো বলে।
‘- একটা অচেনা অজানা মেয়েকে খুঁজছেন তাও আবার পাগলের মত! কেন?
‘- জানিনা কেন। তবে আপনাকে দেখার জন্য মনটা আমার দেউলিয়া হয়ে গেছে। আপনাকে প্রতিদিন এই ব্রীজ এবং চাচার দোকানে খুঁজি। কিন্তু কখনো পায়নি। কিন্তু আজ আপনি আমার সামনে। সবকিছু কেমন যেন স্বপ্নের মত লাগছে আমার।
‘- স্বপ্ন দেখতে হবেনা। আমি বাস্তবেই আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। বললেন না তো আমাকে কেন খুঁজছিলেন পাগলের মত?
হাত দুটো মুঠো করে ব্রীজের রেলিং-এর উপর রেখে আকাশ পানে তাকালাম।
‘- আমি জানিনা কেন খুঁজছিলাম আপনাকে। তবে খুব করে খুঁজছিলাম। আপনাকে খুঁজতে আমার ভালো লাগে।
‘- কারণটা কী শুধুই ভালো লাগার?
মেয়েটির দিকে একবার তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিলাম।
‘- জানা নেই।
‘- আচ্ছা আজ তাহলে আসি। বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে কোনোদিন।
মেয়েটির যাওয়ার কথা শুনে হঠাৎ আমার হাসি মুখটা মলিন হয়ে গেল। এতদিন পর খুঁজে পেয়েও আবার হারিয়ে ফেলবো তাকে? সে চলে যাওয়ার জন্য পিছু ফিরে হাঁটা ধরল।
‘- শুনুন!
পিছুডাক শুনে আবার আমার কাছে চলে এলো।
‘- যাবেন না প্লিজ।
সে চোখ দুটো ছোট ছোট করে বলল,
‘- থেকে যাওয়ার তো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
আমি উত্তেজিত হয়ে বলি,
‘- কারণ আছে!
সে মাথা নাড়িয়ে বলে,
‘- কী?
আমি একটা শুকনো ঢোক গিলে বললাম,
‘- আপনাকে আমি অনুভব করি সবসময়।
বাক্যটি বলেই তার উল্টো হয়ে দাঁড়ালাম। কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও যখন কোনো সাড়াশব্দ পেলাম না তখন পিছন ঘুরে তাকালাম। কিন্তু উপমা নেই। গেল কোথায়? তাহলে কি সে আমাকে আবার ছেড়ে গেল? আমার ভাগ্যটাই কী এমন? সুখ নামক শব্দটা আমার জন্য কী হারাম হয়ে গেছে?
নিমিষেই আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল।
কেন বারবার এমন হয় আমার সাথে?
‘- এই যে মিস্টার ক্যাবলাকান্ত পিছন ফিরে তাকান?
পিছন থেকে কারো কথা শুনে চকমে উঠলাম। পিছনে তাকিয়ে দেখি উপমা ফুল হাতে নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে আছে। উপমার কাণ্ড দেখে আমি নির্বাক। এই কাজটা সবসময় ছেলেরা করে থাকে। কিন্তু এখানে উপমা নিজেই,,,,।
‘- উইল ইউ বি মাই সন্তানের বাবা?
উপমার প্রপোজ দেখে আমি টাশকিত। এরকম প্রপোজও কেউ করে?
‘- বেশি ঢং না করে ফুল টা নাও।
আমি তাড়াতাড়ি ফুলটা নিয়ে উপমাকে তুলে একটু কাছে নিয়ে আসলাম। আজ প্রথম তার হাত ছুঁয়ে দেখলাম। উপমা কিছু না বলে একদম আমার বুকে মাথা রাখলো। এই অনুভূতি ঠিক কতটা গভীর তা বলে বোঝাতে পারবো না। হৃৎস্পন্দন একেবারে বেড়ে গেছে।
‘- কি হলো তুমি জড়িয়ে ধরছো না কেন?
তার অনুমতি পেয়ে আমিও পরম মমতায় তাকে জড়িয়ে ধরি।
‘- আচ্ছা তুমি জানতে আমি তোমাকে খুঁজছিলাম? আর এটাও জানতে তোমাকে খুব মিস করি?
‘- হ্যাঁ সব জানি।
‘- কিন্তু কিভাবে? কখনো তো দেখাই হয়নি আমাদের।
‘- আমিও অনুভব করে নিয়েছি।
উপমাকে বুক থেকে তুলে ওর কপালে একটা চুম্বন করলাম। তারপর নিজ হাতে ওর মাস্ক খুলতে লাগলাম খুব আগ্রহ নিয়ে। হঠাৎ উপমা আমার হাতে হাত রাখে।
‘- কী হলো আটকালে কেন?
‘- আমি যদি দেখতে অসুন্দর হই?
‘- তাহলে আমার জন্য ভালো।
‘- কিন্তু কথায় কথায় আত্মহত্যা করতে চাওয়া মানুষকে আমি বিয়ে করতে পারবো না।
‘- সে ভয় এখন আর নেই। নিজেকে পরিবর্তন করে নিয়েছি।
‘- সত্যিই তো?
‘- বিশ্বাস না হলে তুমি চলে গিয়ে দেখো। একফোঁটা পানিও পরতে দেব না চোখ দিয়ে।
‘- তাই আমি চলে গেলে তুমি কাঁদবেও না? ঠিক আছে তাহলে চলেই যাচ্ছি।
উপমা চলে যেতে ধরলেই ওকে টেনে বুকে জড়িয়ে নিলাম।
‘- একজন তো চলে গেছে নিজের ইচ্ছেতে। তোমাকে কোথাও যেতে দিচ্ছি না।
‘- হুহ ঢং। মানুষ বোকা হয় জানতাম, কিন্তু তুমি এতটা ক্যাবলাকান্ত হবে ভাবিনি। তোমাকে যে কী দেখে এতবড় পুলিশ অফিসার বানালো? যে মানুষ একটা মেয়েকে মনের কথা বলতে ভয় পায়, সে কিভাবে চোর, খুনির পিছনে দৌড়ায়?
উপমার কথা শুনে অজান্তেই হেঁসে দিই।
‘- কী হলো হাসছ কেন?
‘- শুনো, একটা পুরুষ যতই ক্ষমতাধর বা সাহসী হোক না কেন! ভালোবাসার মানুষটির সামনে সে অসহায় হয়ে যায়।
সে আর কিছু বলল না। আমি আবারও উপমার মাস্কে হাত দিলাম। এবার আর বাঁধা দিল না। আস্তে আস্তে নাকের নিচে নামিয়ে ফেললাম। নাকটা একদম খাঁড়া আর একটু লাল হয়ে আছে। একটু চেনা চেনা লাগছে। এবার পুরোটা খুলে ফেললাম।
সঙ্গে সঙ্গে একহাত দূরে গিয়ে দাঁড়ালাম। অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছি আমি।এতদিন যার সাথে সবসময় ডিউটি করতাম সেই মেয়েটিই সেই পুরনো উপমা। সে সব জেনেও চুপ ছিল।
‘- তুমি?
সে নিশ্চিন্ত হয়েই উত্তর দেয়,
‘- হ্যাঁ আমিই। এতে এতো অবাক হচ্ছো কেন? পছন্দ হয়নি নাকি আমাকে ভালোবাসা যাবে না?
‘- এরকম কিছুই না। কিন্তু তুমি সব জানার পরেও আমাকে বলোনি কেন?
‘- বললে কী আজ আপনার মনের কথাগুলো জানতে পারতাম? আচ্ছা স্যরি।
হঠাৎ ওর আপনি বলায় বুঝলাম অভিমান করেছে। সে ভেবেছিল তাকে দেখে খুশি হবো। কিন্তু তা না করে হয়েছি অবাক।
‘- উহুম স্যরি দিয়ে হবে না। শাস্তি তো পেতেই হবে।
সে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আমি ওকে মারার জন্য হাত তুলতেই সে চোখ দুটো বন্ধ করে নিল। আমি আর বিলম্ব না করে ওকে কোলে তুলে নিলাম।
উপমা আরও বেশি ভয় পেলো। কিন্তু চোখ এখনো বন্ধ। সে ভাবছে কি হচ্ছে এসব। আমি তার নাকের ডগায় আলতো করে একটা চুম্বন করলাম। সঙ্গে সঙ্গে সে চোখের পাতা খুলে তাকায়।
‘- কী করছো মানুষ দেখবে তো৷
‘- তুমি আবার কবে থেকে মানুষের কথা চিন্তা করা শুরু করলে?
‘- হি হি হি।
‘- এভাবে হেসো না৷ কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলবো।
‘- এই খবরদার রাস্তায় কোনো ভণ্ডামি চলবে না৷
কে শুনে কার কথা। উপমার দুই চোখের পাতায় এবার চুম্বন করলাম।
সে লজ্জায় বুকে মাথা লুকালো৷ তাকে বাইকের উপর বসিয়ে দিলাম।
‘- নাও চালাও৷ বাসায় চলো।
উপমা স্টার্ট দিল। আমি পিছনে বসে ওকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে থুতনি রাখলাম।
এতে সে শিউরে ওঠে।
‘- মুগ্ধ কি করছো? প্লিজ,,,
ওর কানের নিচে ঠোঁটের স্পর্শ করলাম। তারপর ঘাড় থেকে থুতনি সরিয়ে নিলাম তবে জড়িয়ে ধরে আছি৷ আর সে আপন গতিতে বাইক চালাতে শুরু করে।
আজ আমার কতটা ভালো লাগছে বলে বোঝানো অসম্ভব। প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার অনুভুতিই আলাদা।
‘- আচ্ছা তুমি কবে থেকে আমায় ভালোবাসো?
‘- যবে থেকে আমার #অনুভবে_তুমি এসেছ।
‘- পাগল।
চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,,