#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব১০
****************
সময় গড়িয়েছে আরোও পনেরো দিন। এই পনেরো দিনে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। মৌ অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে বাড়ির সকলের সাথেই।এখন কারো সাথে কথা বলতে আর সংকোচবোধ করে না মেয়েটা। মিম আর মিতুর সাথে বন্ডিং টা আরো স্ট্রং হয়েছে। সময় পেলেই গল্প জুড়ে তিনজন মিলে। মাহিরের সাথেও স্বাভাবিক থাকে। তবে যেটা পরিবর্তন হয়নি তা হলো রেহানা খানের সাথে তাঁর সম্পর্কের। এখনও পর্যন্ত না পারতে মৌ উনার সামনে যায় না।
মুজাহিদ আহমেদের সাথেও মৌ এর তেমন একটা কথা হয় না। দেখা হলে জিজ্ঞেস করে কেমন আছো। মৌ ও শান্ত কন্ঠে উত্তর করে ভালো আছি। ব্যস এইটুকুই। তবে মৌ এর খুব ইচ্ছে করে চাচ্চুর সাথে বসে গল্প করতে। এটা ওটা নিয়ে কথা বলতে। কতশত আবদার করতে। কিন্তু আফসোস সে পারে না। কারণ চাচ্চুর সাথে ওর পরিচয় বউমা আর শ্বশুরের,চাচা ভাতিজির সম্পর্ক না যেমনটা মিমের সাথে। মৌ দুর থেকে দেখে মিম কি সুন্দর চাচ্চুর পাশে বসে রাজ্যের গল্প করে,এটা ওটার আবদার করে,মিতুর নামে বিচার দেয়, আরোও কতো কি। কিন্তু মৌ এগুলো পারে না। পারবে কি করে? ওর পরিচয় ও এ বাড়ির বউ। বউদের কি এসব মানায়?
তানিশা আহমেদ প্রায়শই সোফায় বসে ভাত মেখে মিম আর মিতুকে খাইয়ে দেন । মাহির বা মুবিন বাড়িতে থাকলে ওরাও এসে ভাগ বসায়। মিতুর কাছ থেকে অনেকবার শুনেছে বড় আম্মুর হাতের মাখা ভাত নাকি অনেক মজা হয়। মৌ এর ও মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে একদিন চেখে দেখতে। কিন্তু ও পারে না বলতে। আচ্ছা বাবা যদি বিয়ের পরই মৌকে উনার হাতে তুলে দিতেন? যদি উনাকে মৌ এর দায়িত্ব দিতেন তাহলে কি উনি নিতেন সেই দায়িত্ব? নাকি অস্বীকার করতেন মৌ কে? এভাবে আদর করে ভাত খাইয়ে দিতেন? নাকি দুর দুর করে তাড়িয়ে দিতেন সামনে থেকে? মৌকে মেয়ে হিসেবে মেনে নিতেন? নাকি উটকো ঝামেলা ভেবে ফেলে দিতেন?
মানুষ নাকি বউ মারা গেলে সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে বিয়ে করেন। কই? মৌয়ের বেলায় এ কথা উল্টো প্রমাণিত হয়েছে । ঐ লোকটা নিজের স্বার্থে বিয়ে করেছেন। নিজের জন্য। মৌ এর কথা কোনোদিনই ভাবেন নি তিনি । শুধুমাত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখেছে মৌকে, সন্তান হিসেবে না। যে দায়িত্ব এখন তিনি নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে মাহিরের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছেন।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো মৌ। তারপর আবারো পড়ায় মনোযোগ দিলো। এমন সময় দরজায় করাঘাত পরতেই উঠে দাঁড়ালো।
~~~ আসুন।
দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো মুশতাক আহমেদ। এতোদিন পর মৌ এর কথা মনে পরলো? মৌ না হয় তাঁর সামনে যায়নি কিন্তু উনি কি পারে নি মৌ এর কাছে আসতে? এসে খবর নিতে যে সে কেমন আছে? তাঁর কি কিছু লাগবে কি না! না,তিনি আসেন নি। একবারের জন্যও আসেন নি। আসবেই বা কেনো? এখনতো তাঁর দায়িত্ব অন্যজনের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি। এখন আর কি দরকার এই মা হারা মেয়েটার খবর নেওয়ার। মনে মনে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো মৌ।
“কেমন আছো?”
~~~ আলহামদুলিল্লাহ।
“কোনো অসুবিধা হচ্ছে এখানে?”
মৌয়ের খুব করে ইচ্ছে করছিলো বলতে…..
~~ জেনে আপনি কি করবেন? আমি তো আর এখন আপনার দায়িত্ব নই, মাহির ভাইয়ের দায়িত্ব আমি। উনি আমার ভালোই খোঁজ খবর রাখছেন। যখন যা লাগছে এনে দিচ্ছেন । তাহলে সুবিধা বা অসুবিধার কথা আপনি জেনে কি করবেন~~
কিন্তু বলতে পারলো না। যতই ঘৃণা করুক কেনো যেনো বেয়াদবি করতে ইচ্ছে করলো না। নানুমনি তাকে বেয়াদবি করা শেখায়নি । তাই করতেও পারলো না।
~~~ না।
ছোট্ট করে উত্তর দিলো মৌ। রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।
“এক সপ্তাহের জন্য আমি একটু দেশের বাইরে যাচ্ছি। তোমার কি কিছু লাগবে? লাগলে বলো আমি নিয়ে আসবো”
~~~ না।
“আচ্ছা ঠিক আছে। সাবধানে থেকো। যদি কিছুর প্রয়োজন হয় তো জানিও।আসছি”
বলেই মুশতাক আহমেদ চলে গেলেন। আবারো দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো মৌ। কি জীবন তাঁর। উনি নাকি ওর বাবা !! আসলো, জানিয়ে দিলো কোথাও যাচ্ছে,জিজ্ঞেস করলো কিছু লাগবে কি না, ব্যস বাবা হওয়ার দায়িত্ব শেষ !! হায়রে ভাগ্য!!
****************
রাত তখন প্রায় নয় টা বেজে দশ মিনিট । তানিশা আহমেদ আসলো মৌ এর ঘরে। দেখলো মৌ মাত্রই জায়নামাজ বিছিয়েছে । তানিশা আহমেদকে দেখে সে আর নিয়ত বাঁধলো না।
~~~ কিছু বলবেন বড় আন্টি?
“আমরা সবাই একটু আমাদের বাড়িতে যাচ্ছি। বিক্রমপুরে। আমার ভাইয়ের শরীরটা ভালো না। একটু আগেই খবর পেয়েছি। তুমি কি একা থাকতে পারবে?”
~~~ সবাই যাবেন? কেউ থাকবে না? মিতুও যাবে?
“রেহানা যাচ্ছে তাই মিতুও যাবে। তোমার কি একা থাকতে ভয় লাগবে?”
মৌ কখনো একা থাকে নি। এই ঘরেও লাইট জ্বালিয়ে ঘুমায় সে। সেখানে পুরো বাড়িতে একা কি করে থাকবে ও।
“নিলা থাকবে তোমার সাথে।”
~~~ আচ্ছা তাহলে সমস্যা নেই। আমি পারবো থাকতে।
তানিশা আহমেদ মৌ এর মাথায় হাত রেখে ধীর স্বরে বললেন….
“আমি চেষ্টা করবো মাহির যেনো ফিরে আসে”
মৌ কিছু বললো না। তানিশা আহমেদের যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো। যদি তাঁর বাবা তাঁদেরকে না ঠকাতো তাহলে হয়তোবা তিনিই মৌ এর মা হতো। হয়তো বা তাঁদেরও একটা সংসার হতো যেই সংসারে মৌ হতো মিম আর মুবিনের বড় বোন। আজ ওকেও তিনি তাঁদের সাথে নিয়ে যেতে চাইতেন। অথচ এখন একবারও জিজ্ঞেস করলো না মৌ যাবে কি না!!
ওদিকে তানিশা আহমেদ ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা জায়ের ঘরে চলে গেলেন।
“ভাবি আমি তো বললাম যাবো না। তোমরা যাও।”
“মৌ যাবে না রেহানা। আমি ওকে যাওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করতে যাই নি। ওকে বলে এসেছি ও যেনো নিলা কে নিয়ে থাকে। তুমি রেডি হও। ও যাবে না।”
রেহানা খান শুনলেন জায়ের কথা তবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানালেন না।তানিশা আহমেদ চেয়েছিলো মৌকে সাথে নিয়ে যেতে। কিন্তু রেহানা খান সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মৌ গেলে উনি যাবেন না। অগত্যা তানিশা আহমেদ আর কি করবেন।তাই মৌকে বুঝিয়ে বলে আসলেন যেনো নিলা কে নিয়ে থাকে।
নামায রত অবস্থায় কল রিসিভ করতে পারেনি মৌ তাই নামায শেষ করে ফোনটা ধরলো। মাহিরের মিসডকল উঠে আছে। এই ফোনটা মাহির কিনে দিয়েছে মৌকে। স্মার্টফোন দিতে চেয়েছিলো কিন্তু মৌ না করে দিয়েছে। কারণ ও এখন সম্পূর্ণ ধ্যান পড়া লেখায় দিতে চায়। কয়েকদিন পরেই এডমিশন টেস্ট । ও চায় না পড়া লেখায় অমনোযোগী হতে। তাই বাটন ফোন নিয়েছে। এর আগেও একটা বাটন ফোন ছিলো। সেটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে বিধায় নতুন ফোন কেনা।
~~~ আসসালামু আলাইকুম।
—— ওয়ালাইকুমুস সালাম। কল ধরো না কেনো? কতগুলো কল দিলাম!
~~~ নামায পরছিলাম।
—– ওহ্। বড় আম্মু কিছু বলেছে?
~~~ হ্যাঁ। থাকতে পারবো সমাস্যা নেই।
—– আচ্ছা ঠিক আছে। আমি আসতে পারলে চলে আসবো।
~~~ সমস্যা নেই। নিলা আপু আছে।
—– আচ্ছা। সাবধানে থেকো আর কোনো সমস্যা হলে কল দিও। রাখছি।
~~~ আল্লাহ হাফেজ।
কল কেটে কিছুক্ষণ মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রইলো মাহির। মেয়েটা এ বাড়িতে আসার পর থেকেই মনমরা হয়ে থাকে। শুধুমাত্র ওর সামনেই একটু চঞ্চলতা দেখায়। কিন্তু আজকাল ওকে সময় দিতে পারছে না একদমই। বাসায় যেতে যেতে দেরী হয়ে যায়। তাই অতো রতে মৌয়ের ঘরে যায় না পাছে আম্মু দেখে ফেললে আরেক ঝামেলা। তবে অনেকদিন তো হলো। সম্পর্কটাকে তো একটা পর্যায়ে নিয়ে আসা উচিৎ। সোহিনীও চলে গেছে ওর ফুপির কাছে। আম্মুকে এবার বোঝানো উচিৎ সবকিছু। কিন্তু কি করবে ও? সম্পর্কটাকে কি করে এগিয়ে নিবে? চেষ্টা করলে ক্ষতি কি? বিয়ে তো হয়েই গেছে। একথা কি অস্বীকার করতে পারবে ও? তাহলে মৌ কে ওর ন্যায্য অধিকারটা দিতে কি সমস্যা? একটা সুযোগ দিয়ে দেখুক না সম্পর্কটাকে । ক্ষতি নেই তো তাতে। আম্মুর সাথে কথা বলতে হবে। হ্যাঁ,আম্মু ফিরলেই কথা বলবে ঠিক করলো মাহির।
#চলবে??
#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব১১
****************
রাত প্রায় এগারোটা । আজকে আবহাওয়ার অবস্থা খুব বেশি একটা ভালো না । থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকে উঠছে সাথে ভারী বাতাস । বর্তমানে নিলা সোফায় বসে টিভি দেখায় ব্যস্ত । তাঁর আজ খুশির দিন কারণ আজ সে সার্ভেন্ট কোয়াটারে ঘুমাবে না। ইচ্ছেমতোন টিভি দেখবে। আগামীকাল সবার আসতে আসতে তো বিকেল হবেই তাই তাঁর কাজের চাপও কম । তাই রিল্যাক্স মোডে টিভি দেখছে। মৌ ও এতোক্ষণ ছিলো নিলার সাথেই। একটু আগেই রুমে গিয়েছে পড়তে। টিভির আওয়াজে যাতে ডিস্টার্ব না হয় তাই রুমের দরজাটা চাপিয়ে দিয়েছে।
হিন্দি গানে মগ্ন নিলার কানে সদর দরজা খোলার আওয়াজ পেতেই চমকে উঠলো। তড়িঘড়ি করে টিভি অফ করে উঠে দাঁড়ালো। নিলাকে দেখে মুবিন নিজের পেছনে কিছু একটা লুকিয়ে ধমকে বললো….
“এই, তুই এখানে কি করছিস?”
“আমি তো ভাইজান……”
পুরো কথা শেষ করার আগেই বললো….
“যা তোর ঘরে যা”
ধমক শুনে নিলা আমতা আমতা করে বললো….
“কিন্তু ভাবি…..”
“মুখের উপর কথা বলিস আবার। বললামনা যেতে? যা ভাগ”
নিলা আর দাঁড়ালো না। এক দৌঁড়ে সার্ভেন্ট কোয়াটারে চলে গেলো। এদিকে নিলা যেতেই হাফ ছেড়ে বাঁচলো মুবিন। বাড়িতে আজ কেউ নেই ভালো করেই জানে সে। তাই তো হাতে করে ছোট একটা ম দের বোতল এবং কিছু চিকেন ফ্রাই নিয়ে এসেছে। বন্ধুদের সাথে খাওয়ার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু প্ল্যান ক্যান্সেল হওয়ায় একা নিজের খাওয়ার জন্যই নিয়ে এসেছে। নিলা দেখে ফেললে নিশ্চিত আম্মুকে বলে দিবে তাইতো ধমকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। মৌ বাড়িতে আছে এ সম্পর্কে ধারণা নেই মুবিনের । আম্মু বলেছিলো সবাই বিক্রমপুর যাচ্ছে, ও যেনো চলে যায় বাসে করে। প্রথমে যেতে ইচ্ছে করলেও বাড়ি ফাঁকা পেয়ে বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করার কথা চিন্তা করে আর যায়নি। ওদিকে লাস্ট মিনিটে বন্ধুরাও জানিয়েছে আজকে আসা পিসিবল না। তাই ভেবেছে নিজেই একা একা ঘরে বসে খাবে।
বোতলটা নিয়ে দোতলায় নিজের ঘরে চলে গেলো মুবিন । তারপর ফ্রেশ হয়ে আবারো নিচে এলো। রান্না ঘর থেকে কিছু চিপস,চানাচুর আর নিজের সাথে করে কেএফসি থেকে আনা চিকেন ফ্রাই গুলো প্লেটে নিয়ে আবারো রুমে চলে গেলো। দরজা আর আটকালো না। পুরো বাড়িতে কেউ নেই তাই এ ব্যাপারে মাথাও ঘামালো না। তারপর দ্রুত নিজের ল্যাপটপ অন করে কিছু অ*শ্লীল ভিডিও দেখতে দেখতে ওগুলো খেতে লাগলো।
ভিডিও দেখতে দেখতে একসময় নিজের মধ্যেই উ*ত্তেজনা অনুভব হলো মুবিনের। ওদিকে নেশাও চড়ে গেছে। বেল্টের উপর হাত দিয়ে খুলতে গেলেই কারেন্ট চলে গেলো। ভিডিও লোডিং দেখে মাথা খারাপ হয়ে গেলো। এমন একটা উ*ত্তেজনা পূর্ণ মুহুর্তে পাগল হয়ে গেলো ছেলেটা। ডাউনলোড ফোল্ডার ঘাটলো না নেই কোনো ভিডিও। কি করবে ভাবতে ভাবতেই নিচে থেকে মৌ এর কন্ঠ ভেসে আসলো ওর কানে।
পুরো বাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে আছে। দুদিন আগেই আইপিএস টা নষ্ট হয়ে যাওয়াতে ঠিক করতে দেওয়া হয়েছে। এখনো দিয়ে যায়নি। তাই কারেন্ট চলে যাওয়াতে পুরো বাড়িতে অন্ধকার নেমে এসেছে। লিভিং রুমের পর্দা গুলো খোলা থাকায় থেকে থেকে চমকানো বিদ্যুতের আলোতে সামান্য আলোকিত হয়ে আবার নিভেও যাচ্ছে। এদিকে বাটন ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে মৌ নিলার নাম ধরে ডেকেই যাচ্ছে।
~~~ নিলা আপু? নিলা আপু কোথায় তুমি? ও নিলা আপু? কই গেলা? কথা বলছো না কেনো?
খুঁজতে খুঁজতে সোফার সামনে চলে এসেছে মৌ। না কোথাও নিলার সাড়াশব্দ নেই। কলিজা শুকিয়ে গেলো মেয়েটার । বড্ড ভয় পেতে লাগলো। এদিকে উপর থেকে তীক্ষ্ণ এবং নেশালো নজরে মৌ কে দেখে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি চলে এলো মুবিনের। ধীরে ধীরে নিচে নামতে লাগলো সে।
মৌ কোনো রকমে শুকনো ঢোক গিলে কিচেনে চলে গেলো মোমবাতি খুঁজতে। নানুমনি বলতো ভূতেরা আগুনে ভয় পায়। তাই আপাতত নিজেকে সামলে আগে মোমবাতি খোঁজায় মগ্ন হলো সে। কিছুক্ষণ খুঁজে পেয়েও গেলো। আটো চুলা জ্বালিয়ে সেখান থেকেই মোমটা ধরিয়ে নিলো। মোমটা ধরাতেই পেছন থেকে মুবিনের ডাক শুনে চমকে পেছনে ফিরলো। মুবিন ওর খুব সামনে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকটা কাছে। মৌ কাঁপা কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো…
~~~ তু….তুমি? তুমি কখন এলে? আর নিলা আপু কই?
মুবিনের চাহনিটা আজ কেমন অস্বস্তিকর মনে হলো মৌ এর। কেমন একটা বিশ্রী গন্ধও আসছে নাকে। তবে কিসের জানে না মৌ। এর আগে এমন গন্ধের সাথে পরিচিত হয়নি সে। তাই জানেও না এটা কিসের গন্ধ। হঠাৎ করেই মস্তিষ্ক জানান দিলো সে ওড়না আনে নি। নিলা আর মৌ বাড়িতে একা থাকায় ওড়না নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি সে। সাথে সাথে উলটো ঘুরে গেলো। তারপর পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলেই মুবিন পথ আটকে নেশালো কন্ঠে বললো….
“আইসিটি টা আবারো বুঝতে পারছি না৷ একটু বুঝিয়ে দিবে?”
মৌ এভাবে মুবিনকে টলতে দেখে কপাল কুঁচকালো। গলার আওয়াজটাও কেমন কেমন যেনো মনে হচ্ছে। তবে এসব ভাবার সময় না এখন। ওর সামনে থেকে যেতে হবে। যতই ভাই হোক। তাঁর সামনে এভাবে থাকতে বিব্রতবোধ করছে মেয়েটা। রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।
~~~ আ….আমি পরে বুঝিয়ে দেবো কারেন্ট আসুক।
বলেই দ্রুত চলে যেতে নিলেই আবারো পথ আটকে দাঁড়ালো মুবিন।
“এখনই বুঝিয়ে দিবে। চলো উপরে”
এবার মৌ এর মস্তিষ্ক কিছুটা সজাগ হলো। মুবিন এর হাবভাব ভালো ঠেকলো না। কিন্তু শতহোক ভাই তো। উল্টো পাল্টা চিন্তা মাথায় আনতে চায় না সে। তবুও মনের মধ্যে উল্টো পাল্টা চিন্তাই আসছে বারবার । মুবিনের চাহনিও সুবিধার ঠেকছে না ওর কাছে । তাই পাশ কাটিয়ে আবারো চলে যেতে যেতে বললো…
~~~ কা….কারেন্ট আসুক। প…পরে বুঝিয়ে দিচ্ছি।
আচমকা হাতে টান খেয়ে মুবিনের বুকে আছড়ে পরলো মৌ। সাথে সাথে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো ওকে।
~~~ কি করছো? এটা কেমন ধরনের আচরণ? অসভ্যতা করছো কেনো? বললাম না পরে বুঝিয়ে দিবো?
কড়া কন্ঠে কথা গুলো বললো মৌ। তারপর আবারো চলে যেতে নিলেই আবারো হাত টেনে ধরলো মুবিন।
“কিসের এতো ত্যাজ তোমার? ভাইয়া তো কাছেও আসে না। রুমেও জায়গা দেয় না। আমি কি চাইছি বুঝো না? এতো না বোঝার ভান করছো কেনো? বাড়িতে কেউ নেই। কেউ কিচ্ছু জানবে না। ভাইয়াও না। ট্রাস্ট মি। ফুল সেটিসফাইড করবো তোমাকে একবার সুযোগ…….
কথা শেষ করার আগেই কষে একটা থাপ্পড় পরলো মুবিনের গালে। রাগে শরীর কাঁপছে মেয়েটার।
~~~ অসভ্য,ইতর কোথাকার। কাকে কি বলছো তুমি? সম্পর্কে আমি তোমার বড়ো বো…. ভাবি হই। তোমার বড়ো বোনের মতো। আমার সামনে ফারদার এসব কথা বলবে না আর। নয়তো ভুলে যাবো তুমি আমার কি হও সম্পর্কে।
বলেই আবারো চলে যেতে নিলেই মুবিন এবার মৌ এর চুলের মুঠি ধরলো। ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলো মৌ। ভাইয়ের এমন আচরণে স্তব্ধ হয়ে গেলো। মোমবাতিটা আপনা আপনি পরে গেলো হাত থেকে।
” ভালো মতো বুঝিয়ে বললাম শুনলি না তো। যেটা আপোষে হলো না সেটা জ*বরদস্তিতেই হোক না হয়। তোকে এখন আমার চাই মানে চাই। দেখি কি করে আটকাস আমাকে। দেখি কে বাঁচায় তোকে। আমাকে থাপ্পড় মারা? আজ বুঝবি এই খন্দকার মুস্তাকিম মুবিন কি জিনিস। হাড়ে হাড়ে টের পাবি ”
ভাইয়ের এমন কথায় কলিজা কেঁপে উঠলো মৌ এর। মুবিন ওর মুখ ধরে ঘুরি সামনে এনে ঠোঁট ছোঁয়ানোর আগেই ও জোড়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো ওকে।
~~~ দোহাই লাগে মুবিন এমন ভুল করার কথা চিন্তাও করো না। তুমি মনে হয় হুশে নেই? এমন পাপের কথা মুখেও এনো না। প্লিজ এরকমটা করো না। আমি তোমার বোনের মতোন। বুঝতে চেষ্টা করো…..
ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে মুবিন। মৌ এর কথায় পাত্তা না দিয়ে ওকে ধরতে নিলেই মৌ এক ছুটে পালিয়ে যায়। দিশে হারা হয়ে উপরের দিকে দৌঁড়ায় মেয়েটা। মুবিনও পেছন পেছন গিয়ে এক সময় ধাক্কা মেরে ওকে ফেলে দেয়। মৌ হাতে ভর দিয়ে পেছাতে থাকে। মেয়েটার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে, শরীর ঘামে ভিজে গেছে ইতোমধ্যে। মুবিন এগোতে এগোতে বললো….
“যেটা সুন্দর ভাবে বেড এ করতে চেয়েছিলাম সেটা যখন তোমার এই করিডোরের ফ্লোরে করতে ইচ্ছে করছে তাহলে তোমার ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দিলাম ডিয়ার ভা…….বি…… লেট্স ইনজয়।
বলেই ঝুঁকে হাতার একসাইড টেনে ছিঁড়ে ফেললো। এরপর অপর সাইড ও। মৌ বাঁচার আকুতিতে সমানে চিৎকার করেই যাচ্ছে।কিন্তু মুবিনের হুশ নেই। সে ব্যস্ত নিজের কার্য হাসিলে। পুরুষত্ব জেগে উঠলে কিছু কিছু মানুষ রুপি অ*মানুষেরা যেমন স্হান, কাল,পাত্র,বয়স, সম্পর্ক সবকিছু ভুলে যায় ঠিক তেমনটাই হয়েছে মুবিনের সাথে। সেও স্থান, কাল,পাত্র সব ভুলে গিয়ে মত্ত হতে চাইলো এক পৈচাশিক খেলায়।
#চলবে??
#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব১২
****************
চোখের সামনে বাঁচার কোনো উপায় দেখছে না মৌ। সবকিছু কি তাহলে শেষ হয়ে যাবে? ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্কে দাগ লেগে যাবে? মা যতই আলাদা হোক, বাবা? বাবা তো একজনই। দুজনের শরীরে তো একই বাবার রক্ত বইছে।তাহলে এই পাপ কেনো হতে দিচ্ছেন? এ কেমন বিচার আপনার মাবুদ? তাঁকে মুখ ফুটে বলতে পারছি না কিন্তু আপনি তো জানেন সে আমার ভাই হয়। একই বাবার সন্তান আমরা। আমারই ভাইয়ের নামে আমার গায়ে ক*লঙ্ক মাখিয়েন না খোদা, এভাবে ভাই বোনের সম্পর্ককে নষ্ট হতে দিয়েন না খোদা, কিছু একটা করুন,দয়া করুন খোদা,দয়া করুন…….
মুবিন মৌ এর দুইহাত মেঝেতে চেপে ধরে গলায় মুখ ডুবাতে যাবেই কি আচমকা এক থাবা এসে পরলো ওর ঘাড়ে। মুহুর্তেই টান মেরে ফেলে দিলো ওকে মৌ এর উপর থেকে। আচমকা আক্রমণে মুবিন ছিটকে পরলো মেঝেতে ।
—– জা*নোয়ারের বাচ্চা, তোর সাহস কি করে হলো ওর গায়ে হাত দেওয়ার? আজ আমি তোকে মেরেই ফেলবো শু*য়োরের বাচ্চা….
বলেই মাহির মুবিনকে এলোপাতাড়ি মারতে লাগলো। নেশায় বুদ মুবিন প্রতিরোধ করার শক্তিটুকুও পেলো না। টলতে টলতে মার খেতে লাগলো।মারের থেকে নিজেকে বাঁচাতে নেশালো কন্ঠে বলতে লাগলো…..
“আমি তোমার বউকে ডাকিনি ভাইয়া, ভাবিই আমাকে ডেকেছে…. আমার কোনো দোষ নেই। খালি বাড়ি পেয়ে ভাবিই আমাকে উস্কিয়েছে। তুমি তাঁকে স্পর্শ করো না দেখে আমাকে দিয়ে…..”
মৌ হাঁটু ভাঁজ করে বসে বসে কাঁদছিলো। মুবিন সরতেই নিজেকে যতটা পারে গুটিয়ে নিয়েছিলো মেয়েটা। হঠাৎ নিজ সম্বন্ধে এমন কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলো…. কান্না করতেও ভুলে গেলে কিছুক্ষণের জন্য। তারপর আবারো মাথার চুলগুলো টেনে কাঁদতে শুরু করলো।
—– মৌ ডেকেছে তোকে? মৌ উস্কিয়েছে? কু*ত্তার বাচ্চা তুই কি বলছিস তুই জানিস? ম দ খেয়েছিস তুই? ম দ খেয়ে নিজেরই বোনের উপর… আমার বউয়ের গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পেলি কই তুই? অমানুষের বাচ্চা।
বলতে বলতে মাহির কিছু একটা খুঁজতে লাগলো। তবে হাতের কাছে কিছু না পাওয়ায় আবারো হাত দিয়েই মারতে থাকলো। একসময় মুবিন মাহিরকে ধাক্কা দিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিতে নিলো কিন্তু পারলো না। ততক্ষণে মাহির চলে এলো। তখনই তাঁর চোখ গেলো বিছানার উপরে ল্যাপটপে চলতে থাকা অ*শ্লীল ভিডিওর উপর। ঘৃণায় শরীর গর্জে উঠলো আবারো। আরোও জোড়ে জোড়ে মারতে লাগলো….
—— এই সব ভিডিও দেখেই তোদের মতো কিছু কিছু মানুষ অমানুষে পরিনত হয়ে যায়৷ তখন বয়স,সম্পর্ক এসব কিচ্ছু মানে না। সবাইকেই ভোগের বস্তু হিসেবে দেখে। আজ তোকে ইচ্ছে মতোন মারবো। মারতে মারতে মেরেই ফেলবো। তোদের মতো জা*নোয়ারদের বাঁচার অধিকার নেই।
আরোও দু চার ঘা বসাতেই মুবিন জ্ঞান হারালো। অজ্ঞান দেখে মাহির মুবিনকে সেখানেই ফেলে রাখলো। ইচ্ছে ছিলো আরোও মারতে। কিন্তু মারলো না। হঠাৎ মৌ এর কথা মনে হতেই দেখলে মেয়েটা দৌঁড়ে সিড়ি দিয়ে নেমে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরের দিকে যাচ্ছে। মাহির সর্বশক্তি দিয়ে দৌঁড়ালো মৌ এর পেছনে। মৌ ততক্ষণে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। মাহির দৌঁড়ে ধরতে পারেনি।
—— মৌ, দরজা খুলো। আই সেইড ওপেন দ্যা ডোর। মৌ, শুনতে পাচ্ছো? কি হলো দরজা খুলো।
মৌ দরজা খোলা তো দুর উল্টো পড়ার টেবিল থেকে চেয়ারটা নিয়ে খাটের উপর রেখে ফ্যানে ওড়না বাঁধলো। গলায় পেঁচিয়ে ঝুলে পরতেই মাহির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সাথে সাথে মৌ এর পা ধরে ফেললো।
~~~ ছাড়ুন আমাকে। ছাড়ুন মাহির ভাই। আমাকে মরতে দিন। আমি বাঁচতে চাই না।
কোনো রকমে চেয়ারটা উঠিয়ে মৌকে দাঁড় করিয়ে গলা থেকে ওড়নাটা খুলে ফেললো মাহির। মৌ তখনও পাগলামি করে যাচ্ছিলো তাই মাহির জোড়ে একটা থাপ্পড় মারলো ওকে। টাল সামলাতে না পেরে খাটের উপরই পরে গেলো। চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো মেয়েটা। মৌয়ের আর্তনাদে বুক ফেঁটে যাচ্ছে মাহিরের।
~~~ প্লিজ আমাকে মরতে দিন। আমি বাঁচতে চাই না। চাই না।
মাহির আবারো গর্জে উঠলো। মৌ এর দুই বাহু ধরে এক ঝটকায় বসিয়ে দিলো। তারপর বাজখাঁই কন্ঠে বললো….
—– মরতে চাস? কেনো মরতে চাস? তোর কি দোষ? তুই কি করেছিস? মরতে হয় ও মরবে। অন্যায় ও করেছে তুই না। তাহলে তুই কেনো মরতে চাস?
~~~ ও…ও.. কি…কিভাবে পারলো? কি করে পারলো আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করতে?আমি না ওর বোন হই? মা না হোক, বাবা…বাবা তো একজনই আমাদের।একই বাবার রক্ত বইছে আমাদের শরীরে…ত…তবুও কি করে আমার শরীরের প্রতি এমন নোংরা দৃষ্টি দিতে পারলো? ওর…ওর কি এসব চিন্তার আগে রক্তে টান পরেনি?আমার রক্তের গন্ধ ওর নাক অব্দি পৌঁছায় নি? মানুষ বলে না রক্তের টান,রক্তের ঘ্রাণ !! তাহলে ওর আর আমার শরীরে যে একই রক্ত বইছে সেই ঘ্রাণ ও কেনো পেলো না? কি করে পারলো এমনটা করতে ? বলুন না, জবাব দিন…. জবাব দিন..
মাহির চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। কি জবাব দিবে? রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।
~~~ জবাব না থাকলে মরতে দিন আমাকে। আমার শরীর জ্বলে যাচ্ছে মাহির ভাই। জ্বলে যাচ্ছে। আমি মরতে চাই। সহ্য হচ্ছে না। পারছিনা সহ্য করতে। ভাই হয়ে কি করে ও ওসব নোংরা কথা বলতে পারলো…..
মাহিরের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো। মৌ এর দিকে তাকিয়ে বললো….
—— এক্ষুনি আমি বড় আম্মুকে ফোন করে সব জানাবো। আর লুকিয়ে রাখবো না। এ বাড়িতে আমার স্ত্রী ছাড়াও যে তোমার আরোও একটা পরিচয় আছে সেটা আজই সবাই জানবে। আমি এক্ষুনি বড় আব্বুকে কল করছি।
মাহির তখন এসে দরজায় অনেকবার কলিং বেল চেপেও যখন কেউ দরজা খুললো না তখন পাসওয়ার্ড দিয়ে দরজা খুলেই ভেতরে ঢুকেছিলো। নতুন আপডেট করে বানানো হয়েছে দরজাটা। এতে করে কেউ চাবি নিতে ভুলে গেলেও যেনো দরজা খুলতে পারে তাই এই পাসওয়ার্ড। বাড়ির সকলের জানা এটা। ঘরে ঢুকতেই মৌ এর চিৎকার শুনে উপরে তাকাতেই রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে এসেছিলো মাহিরের। হাতের কোট টা সোফায় ছুঁড়েই দৌঁড়ে উপরে চলে গিয়েছিলো। কোর্টের পকেটেই মোবাইল গুলো।
মাহির মোবাইল আনতে যাবেই কি মৌ পা আঁকড়ে ধরে কেঁদে উঠলো…….
~~~ প্লিজ যাবেন না। কাউকে কিচ্ছু বলার দরকার নেই। আমি ঐ লোকটার পরিচয় চাই না৷ চাই না আমি। আমি….আমি আপনার স্ত্রী হয়ে এ বাড়িতে এসেছি,যাবোও আপনার স্ত্রী হয়েই। এর বাইরে আমি আমার আর কোনো পরিচয় চাই না। চাই না ঐ লোকের মেয়ে হতে। চাই না।
বলেই আবারো কাঁদতে লাগলো মৌ। মাহির কিছুক্ষণ চুপ থাকলো। তারপর মৌ এর উদ্দেশ্যে বললো…
—— যা যা নেওয়ার প্রয়োজন গুছিয়ে নাও।
মাহিরের এমন কথায় ভরকে গেলো মৌ। ওকে কি বাড়ি থেকে বের করে দিবে মাহির? মুবিন এর কথা কি কোনোভাবে বিশ্বাস করেছে উনি? উনার কি মনে হচ্ছে মৌ ই মুবিনকে….. না না এ কিসব ভাবছে মৌ। মাহির তো জানে মুবিন মৌ এর সম্পর্ক কি। তবুও কেনো একথা বলছে?
~~~ম….মানে?
—— এই মুহুর্তে তুমি আমার সাথে আমার রুমে যাচ্ছো। আজ থেকে আমার ঘরেই থাকবে তুমি।
মাহিরের চোখ দু’টো কেমন লাল হয়ে আছে। মৌ মাহিরের কথায় অবাক হয়ে গেলো।
~~~ কি…কিন্তু আপনার আম্মু? উনি জানলে….
——- আম্মুকে যা বলার আমি বলবো। একটা কথা বলে রাখছি তুমি বলেছো দেখে এখনো চুপ আছি। কিন্তু যেদিন আমার মনে হবে আমার মুখ খুলা উচিৎ সেদিন তুমিও আটকাতে পারবে না আর না বড় আব্বু । তবে মুবিনের কৃতকর্মের ফল ও পাবেই।
~~~ কি…কি করবেন?
——- সেটা সময় হলেই জানতে পারবে।
মৌ আর কিছু বললো না। চুপচাপ নিজের জিনিসপত্র গুছাতে শুরু করলো। তবে ফুঁপানো থামেনি মেয়েটার। ওদিকে মাহিরও চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুতেই রাগ কমছে না ওর। মুবিনকে আরোও মারতে পারলে রাগ হয়তো কমতো। কিন্তু নেশারঘোরে এতোটুকু মার খেয়েই জ্ঞান হারিয়েছে জা*নোয়ারটা তাই মনের স্বাদ মিটিয়ে মারতেও পারলো না। এদিকে রাগও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।
#চলবে??

