Home "ধারাবাহিক গল্প অনুভবে শুধুই তুমি অনুভবে শুধুই তুমি পর্ব-৭+৮+৯

অনুভবে শুধুই তুমি পর্ব-৭+৮+৯

0
659

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব৭

****************
খন্দকার ভিলার লিভিং রুম জুড়ে আজ নেমে এসেছে অন্যরকম এক নিস্তব্ধতা। বর্তমানে বসার ঘরের পরিবেশটা খুবই শান্ত লাগছে। ঝড়ের আগমনের পূর্বে ধরনী যেমন শান্ত অথচ থমথমে একটা রুপ ধারণ করে বর্তমানে খন্দকার ভিলার বসার ঘরটাও সেই রুপ ধারণ করে আছে। সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে আর রেহানা খান মাথা নিচু করে সোফায় বসে অবিরত ফুঁপিয়ে যাচ্ছেন।

কাঁদবে নাই বা কেনো? আজ তাঁর মাতৃ সমতূল্য বড় বোন তাঁর সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে এ বাড়ি থেকে চলে গেছেন। এটা কি করে মেনে নিবেন উনি ? কিছুতেই মানতে পারছেন না। এদিকে অনেক্ক্ষণ ধরে মা’কে কাঁদতে দেখে মাহিরের খারাপ লাগছে। তানিশা আহমেদ এবং মুজাহিদ আহমেদ স্বান্তনা দিচ্ছেন কিন্তু তিনি কারো কথাই শুনছেন না। সমানে কেঁদেই যাচ্ছেন।

মিম আর মিতুও চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। মুশতাক আহমেদ বাড়ি নেই। ছোট ভাইয়ের বউ দরজা খোলার পর পরই নিশ্চিন্তে একটা জরুরী কাজের জন্য বাইরে বেরিয়েছেন ভদ্রলোক । সাথে নিয়ে গেছেন নিজের ছেলে মুবিনকেও । মৌ দু’তলার সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ । নিচে আসার সাহস নেই তাঁর।

মায়ের কান্না দেখে মাহিরের খুব খারাপ লাগলো। আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না। ধীর পায়ে আম্মুর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললো…..

—— আম্মু প্লিজ কান্না করো না। তোমার মাথা ব্যথা করে কান্না করলে। অসুস্থ হয়ে যাবে তুমি।

ব্যস! মাহিরের কথা বলতে দেরী হলো কিন্তু রেহানা খানের উঠে দাঁড়িয়ে ছেলের গালে কষিয়ে থাপ্পড় মা রতে দেরী হলো না। সাথে সাথেই তানিশা আহমেদ এবং মুজাহিদ আহমেদ উঠে দাঁড়ালেন।মাহির চোখ খিচিয়ে বন্ধ করে রেখেছে।

“রেহানা, কি করলে তুমি এটা? এতো বড় ছেলের গায়ে কেউ হাত তুলে? ”

তানিশা আহমেদের কথায় রাগের পারদ যেন তড়তড় করে বাড়লো রেহানা খানের।

“এতো বড় ছেলের জন্য যদি মাকে এতো কিছু সহ্য করতে হয় তাহলে এতো বড় ছেলেরও মায়ের হাতে থাপ্পড় খেতে হবে ভাবি। ইচ্ছে তো করছে জুতা দিয়ে মনের স্বাদ মিটিয়ে পিটাই একে কিন্তু আফসোস সেটা করতে পারছি না।”

দাঁতে দাঁত পিষে কথাগুলো বললেন রেহানা খান। মিম আর মিতু পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চুপচাপ নিজেদের রুমে চলে গেলো। যাওয়ার সময় সিঁড়ির দিয়ে উঠতেই মৌয়ের সাথে চোখাচোখি হলে দু’বোন চোখ নামিয়ে চলে গেলো।

“রেহানা, নিজেকে সামলাও। শান্ত হও “।

স্ত্রীকে শান্ত হতে বললেন মুজাহিদ আহমেদ। ।

” কেনো শান্ত হবো শুনি? কেনো হবো? কি কারণে হবো? কি করেছে ওরা আজ পর্যন্ত আমার জন্য? কি করেছে হ্যাঁ? কিছু করিয়েছি ওদেরকে দিয়ে আমি কখনো? উল্টো এদের পেছনে আমি গা*ধার মতোন খেটেছি। স্কুল,কোচিং, কলেজ কম দৌড়েছি এদের জন্য? নিজে নাওয়া খাওয়া ভুলে এদের পেছনে পরে থেকেছি। এদের পেছনে নিজের জীবনটা শেষ করে দিলাম অথচ বিনিময়ে কি চেয়েছি? একমাত্র ছেলের জন্য নিজের পছন্দের একটা বউ! নিজের বোনের মেয়েকে! কিন্তু ও কি করলো? আরে তোর পছন্দ না হলে আগে কেনো আমাকে না করিস নি? আমি কি তোকে না জানিয়ে আপার কাছে সোহীকে চেয়েছি? তুই জানতি না? তখন কেনো বলিসনি তোর সোহীকে পছন্দ না। তাহলে তো আমি আপার কাছে কখনোই এই আবদার করতাম না। তোর জন্য, শুধুমাত্র তোর জন্য আমি আমার মায়ের মতো বোনকে মনে হয় চিরতরে হারিয়ে ফেললাম। সেই বোন যে কিনা আম্মা-আব্বা মারা যাওয়ার পর আমাকে সন্তানের মতোন বড় করেছে। নিজের সংসার না গুছিয়ে আগে আমার সংসার গুছিয়ে দিয়েছে। নিজের কথা ভাবার আগে সবসময় আমার কথা ভেবেছে। আমার সেই বোন আজ আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে চলে গেলো… কার জন্য? শুধুমাত্র তোর মতোন এক অপদার্থ সন্তানের জন্য।তোর জন্য এমন দিন দেখতে হবে জানলে জন্মের সাথে সাথেই তোকে……..”

“খবরদার রেহানা, রাগের বশে এমন কিছু বলোনা যার জন্য পরে আফসোস করতে হয় তোমাকে…..”

স্বামীর সতর্ক বানী শুনে বড় বড় নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করলেন রেহানা খান। তারপর দাঁতে দাঁত পিষে বললেন……

“যতদিন পর্যন্ত আমার আপার সাথে আমার সবকিছু ঠিক না হচ্ছে,যতদিন পর্যন্ত আমার আপা এ বাড়িতে ফিরে না আসছে ততদিন পর্যন্ত ঐ মেয়েটা যেনো তোর ঘরে না যায়। বলে দিস ঐ মেয়েকে।”

তানিশা আহমেদ আর চুপ করে থাকতে পারলেন না। ছেলে মেয়ে দুজনের সাথেই অন্যায় হচ্ছে এবার। মেয়েটা ওর বিবাহিত স্ত্রী । স্ত্রী যদি স্বামীর ঘরে না থাকে তো কোথায় থাকবে?

“এসব তুমি কি বলছো রেহানা? ওরা স্বামী স্ত্রী। তুমি মানো আর না মানো মেয়েটা মাহিরের স্ত্রী। মাহিরের ঘরে না থাকলে কোথায় থাকবে ও?”

“আমি এতো কিছু জানি না ভাবি। আমি যা বলেছি তাই হবে। ঐ মেয়েটা মাহিরের ঘরে যাবে না ব্যস। তোমরা যদি আমার কথা না মানো তাহলে আমিও এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো”

মুজাহিদ আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। স্ত্রী তাঁর নাছোরবান্দা। যে পরিমাণ রেগে আছে এখন মুখ খুললেও বিপদ। মাহির ও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। বুঝ হওয়ার পর থেকে আর কখনো আম্মুর হাতে মার খায়নি বেচারা। বলতে গেলে বাড়ির সবচেয়ে ভদ্র ছেলে সে। পড়াশোনায় আহামরি ভালো না হলেও ছাত্র হিসেবে একেবারে যে খারাপ তাও নয়। মোটামুটি রেজাল্ট করতো সবসময়। দুষ্টুমিরও রেকর্ড নেই তাঁর। না কারো সাথে অযথা কথা বলতো, না কারোও সাথে বাজে আড্ডা দিতো, না বাড়ির বাইরে রাত কাটাতো।

মাস্টার্স কমপ্লিট করার পর বড় আব্বু এবং আব্বুর কথায় ব্যবসায় মন দিলো। বলতে গেলে একেবারে সোনার টুকরো একটা ছেলে সে। সেই আজ মায়ের হাতে চড় খেয়েছে। ভাবা যায়!! বেচারা আর কি বলবে, এখনো শকেই আছে। কি থেকে কি যে হয়ে গেলো…..

“যদি এই ব্যপারে দাদাকে কেউ কিছু বলেছো বা দাদা আমার সাথে কথা বলতে এসেছে তাহলে সত্যি সত্যি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। কথাটা মাথায় রেখো তোমরা। আর তুই শুনে রাখ, যতদিন আপা আবারো এ বাড়িতে না ফিরছে ততদিন তোকেও শান্তিতে সংসার করতে দিচ্ছি না আমি।তোর বিয়ে করার শখ হাড়ে হাড়ে মেটাবো আমি ”

কথাগুলো বলেই সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালেন রেহানা খান। উনাকে উপরে উঠতে দেখেই সেখান থেকে সরে গেলো মৌ। মুজাহিদ আহমেদের দিকে একবার তাকালো মাহির। ভদ্রলোক ছেলের পিঠে চাপড় মেরে বউয়ের পেছনে পেছন চলে গেলো। এছাড়া কি আর করবে। বউকে দুটো কথা শুনাতেও বুক কাপে লোকটার। বড্ড আদরের বউ তাঁর। বড্ড শখের। তবে খুব জেদীও বটে ।এমনিতে খুব একটা রাগে না। তবে রাগলে তাঁকে মানানোটাও সহজ হয় না। বাপ-মা মরা এই মেয়েটাকে তিনি বড্ড ভালোবাসেন। বলতে গেলে ছেলে মেয়ের থেকেও বেশি। তাইতো কিছু বলতেও কলিজা কাঁপে ভদ্রলোকের।

********************

ছাদের এক কোণে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে মাহির। জ্ঞান হওয়ার পর আজ প্রথমবার আম্মুর হাতে থাপ্পড় খেলো ছেলেটা। থাপ্পড়ের চেয়েও বেশি কষ্ট লাগছে আম্মুর জন্য। খালামনির অবস্থান আম্মুর জীবনের ঠিক কতোটা জুড়ে তা ভালো করেই জানে সে। আজ তাঁর জন্যই খালামনি আম্মুর সাথে সব সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছে বিষয়টা যেনো মানতেই পারছে না বেচারা। পরিস্থিতি যে এতোটা খারাপ হয়ে যাবে তা বুঝতেই পারে নি তখন। এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে কি করে ফেলেছে ও! কিভাবে কি ঠিক করবে মাথায়ই কাজ করছে না ওর।

~~~ আমার জন্য আজ আপনাকে আপনার মা মারলো….

পরিচিত কন্ঠটা কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই ঘুরে দাঁড়ালো মাহির। রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন

~~~ আপনি চাইলে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে সোহীনি আপুকে বিয়ে করে নিতে পারেন। তাহলে আপনার মা আর আপনার উপর রেগে থাকবে না।

-ডিভোর্স – শব্দটা কানে আসতেই কপাল কুঁচকালো মাহির। এই মেয়ে জানে ডিভোর্স শব্দটার ওজন কতো? এর মানে কি? যদি জানতো তাহলে কি এতো সহজেই এই কথা বলতে পারতো?

~~~ আপনি আমার চিন্তা করবেন না৷ আমাদের গ্রামের স্কুলে গিয়ে আবেদন করলে আমাকে প্রাইমারি টিচার হিসেবে নিবেন সেখানে। রেজাল্ট ভালো হওয়ায় স্যার রা আমাকে খুব ভালো জানে। আমি চাকরী করে আমার খরচ চালাতে পারবো। সাথে বাড়িতে টিউশান করালে আরোও ভালো হবে। আমার চলতে অসুবিধা হবে না। তাই আপনি চাইলে ডিভোর্স দিতে পারেন। আমার একটুও কষ্ট লাগবে না।

মাহির কিছুক্ষন অপলক তাকিয়ে রইলো মৌ এর দিকে। এই মেয়ের চোখে দুনিয়াটা কতো সহজ মনে হচ্ছে। অথচ ও জানেই না এই বিশাল বড় পৃথিবীতে একটা মেয়ের জন্য একা টিকে থাকা কতোটা মুশকিল। তারউপর সে যদি ডিভোর্সি হয় তাহলে তো কথাই নেই। অথচ এই মেয়ে সবকিছুকে কতোটা সহজ ভাবে নিচ্ছে। মনে হয় যে বিয়ে একটা খেলা ওর কাছে। ইচ্ছে হয়েছে খেললাম ইচ্ছে হয়নি তো খেলা বন্ধ করে চলে গেলাম। সহজ সরল এই মেয়েটাকে কে বোঝাবে বাস্তব জীবনের কঠিন রুপ সম্পর্কে?

~~~ সত্যি বলতে আমারও এখানে থাকতে ইচ্ছে করছে না। উনাকে দেখলেই আমার রাগ হচ্ছে।

—– কাকে?

~~~ আপনার বড় আব্বুকে!

——- আমার বড় আব্বু তোমার কে হয়?

~~~ কোনো এক সময় খুব গর্ব করে সবাইকে বলতাম উনি আমার বাবা হয়। কিন্তু এখন সেটা মনে হলেই আফসোস লাগে। ঘৃণা লাগে।

—– এভাবে বলতে হয় না মৌ। বড় আব্বু তোমার বাবা হয়। হয়তোবা উনিও অসহায় ছিলেন কোনো কারণে তাই……

~~~ অসহায়? হ্যাহ্, স্বার্থপর চিনেন? সেটাই হচ্ছেন উনি। যাই হোক উনার টপিক বাদ। আপনাকে কি বললাম শুনেছেন?

——- তোমার বয়স অনুযায়ী জ্ঞান একটু কম। সমস্যা নেই ঠিক হয়ে যাবে। এখন নিচে যাও। আসার পর থেকে তো মনে হয় কিছুই খাও নি। গিয়ে কিছু খেয়ে নাও।

~~~ আমি সত্যি বলছি আপনি চাইলে….

—— বড়দের কথা শুনতে হয় মৌ। যাও নিচে যাও।

মৌ আর কিছু বললো না। চুপচাপ নিচে চলে গেলো।
একদিকে মায়ের রাগ,অভিমান অন্যদিকে এই অবুঝ মেয়েটা। কি করে সামলাবে এদের দু’জনকে মাহির? কিচ্ছু বুঝতে পারছে না বেচারা।

#চলবে??

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব৮

****************
রাত তখন প্রায় দশটা। মুশতাক আহমেদ কিছুক্ষণ আগেই বাড়িতে ফিরেছেন। সাথে ফিরেছেন মুবিনও। একটু পরেই সবাই রাতের খাবারের জন্য নিচে নামবে। মুশতাক আহমেদের ঘরটা নিচ তলাতেই । নিচ তলায় রয়েছে মোট তিনটি বেড রুম, একটা বিশাল বড় লিভিং রুম, পাশেই বড় আয়তনের ডাইনিং এরিয়া, কিচেন এবং ভেতরে রয়েছে একটা বারান্দা। প্রত্যেকটা বেডরুমে একটা করে এটাচ্ড ওয়াশরুম থাকা সত্বেও বাইরে একটা কমন ওয়াশরুম এবং বেসিন রয়েছে হাত মুখ ধোঁয়ার জন্য।

দোতলায় উঠতে সিঁড়ির নিচে রয়েছে সুন্দর একটা ওপেন একুরিয়াম। যা মিম এবং মিতুর আবদারে পরবর্তীতে বানানো হয়েছে। উপর তলায় আছে মোট চারটি রুম। একটা মাহিরের, একটা মুবিনের, একটাতে থাকে মিম আর মিতু এবং অন্যটিতে থাকে মুজাহিদ আহমেদ এবং রেহানা খান। উনাদের উপরে থাকার কারণ বাচ্চাদের উপর নজর রাখা। বিশেষ করে মিম আর মিতুর উপর। ঠিক মতোন পড়ছে কি না, সময় মতোন ঘুমোচ্ছে কি না এসব দায়িত্ব রেহানা খানের উপরই।

জামা কাপড় বদলে একটা গেঞ্জি এবং লুঙ্গি পরলেন মুশতাক আহমেদ। সবেই হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এসেছেন ভদ্রলোক। খাটে বসতেই তানিশা আহমেদ গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট সাথে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলেন। ঔষুধ খাওয়া শেষে গ্লাসটা পাশে রাখলেন তিনি। স্ত্রীর মুখটা দেখেই বুঝলেন তানিশা আহমেদ কিছু বলতে চাইছেন।

“বলো কি বলতে চাও?”

“মাহির কে হঠাৎ করে এভাবে বিয়ে করিয়ে আনলে কেনো? তুমি জানতে না রেহানার সোহীকে পছন্দ ছিলো? তবুও কেনো এমনটা করলে?”

“মৌ মাহিরের জন্য পারফেক্ট। বিশ্বাস না হলে ভবিষ্যতে মিলিয়ে নিও। আমি যা ভালো মনে করেছি তাই করেছি।”

“মৌ এর সম্পর্কে আমরা তো কিছুই জানি না৷ ওর মা বাবা কে, কোথায় বাড়ি, পরিবারে কে কে আছে, কিছুই তো বললে না। তোমার কোন বন্ধুর মেয়ে ও? আমি তো তোমার সব বন্ধুকেই মোটামুটি চিনি তাহলে মৌ কে চিনি না কেনো? কার মেয়ে ও? নাম কি ওর বাবার? ”

“তোমাকে এতোকিছু জানতে হবে না। তুমি শুধু খেয়াল রেখো মৌ এর যেনো কোনো অসুবিধা না হয়। আর আমার উপর ভরসা রাখো। মাহিরের খারাপ চাই না আমি।”

“তবুও….”

“সবাইকে ডাকো। খাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। ভাত বাড়ে গিয়ে।”

তানিশা আহমেদ আর কিছু বলার সুযোগ পেলেন না। মুশতাক আহমেদ কথা বাড়াতে চাইছেন না বেশ ভালো করেই বুঝলেন তিনি। তাই চুপচাপ খাবার বাড়তে চলে গেলেন।

“তুমি দাদার সাথে কথা বলেছো?”

স্ত্রীর কথা বেশ অবাক হলেন মুজাহিদ আহমেদ।

“কোন বিষয়ে?”

“ঐ মেয়ের ব্যপারে? বাড়ি কোথায়, বাবা মা কে? পারিবারিক স্ট্যাটাস কি? সবকিছু জিজ্ঞেস করেছো? ”

“ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছে। জন্মের সময় মা মারা গিয়েছে মেয়েটার। নানুর কাছেই থাকতো। আজ সকালে উনিও মারা গেছেন। সেখান থেকেই মাহিরের সাথে বিয়ে। আজই প্রথম দেখেছে দু’জন দু’জনকে। ভাইয়ার সিদ্ধান্তেই নাকি বিয়েটা হয়েছে।”

তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন রেহানা খান। স্বামী তাঁর বড্ড বোকা। ভাইয়ের কথা বিশ্বাস করে বসে আছে। উনি কিছুতেই মানতে নারাজ যে মাহির আর মৌ আগে থেকে কেউ কাউকে চেনে না। রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।

“আর বাবা?”

“সে ব্যপারে ভাইয়াতো কিছু বলে নি। হয়তো উনার বন্ধুর মেয়ে।”

“দাদা বললো আর তুমি বিশ্বাস করে নিলে? আমি বিশ্বাস করি না। মোটেও করি না। কিছু একটা কাহিনী আছে যেটা দাদা লুকাচ্ছেন। হয়তো মাহিরের দোষ লুকাচ্ছেন উনি।”

“আচ্ছা যা হয়েছে বাদ দাও না।”

“মোটেও না। ঐ মেয়েকে আমি কিছুতেই মেনে নেবো না। কক্ষন না। এ বাড়িতেও থাকতে দেবো না। মিলিয়ে নিও।”

“মেয়েটা এতিম রেহানা। ওর সাথে অন্যায় কিছু করো না। ”

“আর আমি? এসেই আমার একমাত্র বোনকে যে কেঁড়ে নিলো সেটা চোখে পরছে না? ও আমার বোনকে কেঁড়ে নিয়েছে। ওকে শান্তিতে থাকতে দিবো আমি?”

মুজাহিদ আহমেদ জানে তাঁর বউও বড্ড চঞ্চল, রাগী,জেদী। তবে মন থেকে ভালো। মৌয়ের ক্ষতি করবেন না তিনি। এখন রাগে এসব বলছে। রাগ কমলেই সব শেষ।

*****************

মিম এবং মিতুর ঘরের সামনে এসেই গলা খাঁকারি দিলো মাহির। ভাইকে দেখতে পেয়েই নড়েচড়ে বসলো দুবোন।

“এসো না ভাইয়া। আমরা ভাবির সাথে কথা বলছিলাম। গ্রাম সম্পর্কে শুনছিলাম। ভাবির মুখে শুনে খুবই এক্সাইটিং মনে হচ্ছে। আমাদের পরীক্ষা শেষ হলে নিয়ে যাবে কিন্তু। ”

——– আচ্ছা যাবো।

“আমাদের ট্রিট কই? বিয়ে করলা ট্রিট দিবা না?”

মিমের কথায় ওর কপালে একটা টোকা দিলো মাহির। সাথে সাথেই “আউচ” করে উঠলো মেয়েটা। মিতু মুখ চেপে হাসছে।

——-বড্ড পাকা হয়ে গেছো না? বড় ভাইয়ের থেকে ট্রিট চাওয়া হচ্ছে ?”

“এটা আমাদের অধিকার। তোমার বিয়ে নিয়ে কতো স্বপ্ন ছিলে জানো? সব তো শেষ। এখন কি ট্রিটও দিবা না?”

ভেংচি কেটে জিজ্ঞেস করলো মিতু।

—– আচ্ছা দিবো। এখন তোরা একটু বাইরে যা। আমার কথা আছে মৌ এর সঙ্গে।

“আচ্ছা ঠিক আছে।”

দুইবোন ভাইয়ের কথা শুনে বেরিয়ে গেলো। এমনিতেও এখন খেতে নামতো ওরা। ওরা যেতেই মৌ ভাবলেশহীন হয়ে জিজ্ঞেস করলো….

~~~ আমি কোথায় থাকবো?

মাহির একটু ভেবে বললো….

——- মিম আর মিতুর রুমে থাকতে পারবে?

~~~ ওদের তো সামনে টেস্ট পরীক্ষা। আমাকেও তো এডমিশন টেস্টের জন্য পড়তে হবে। ভালো রেজাল্ট করতে হবে। আমার টার্গেট ভালো একটা পাব্লিক ইউনিভার্সিটি । তাই একটু বেশিই পড়তে হবে। রাত জেগে পড়তে হবে হয়তো।একসাথে থাকলে ডিস্টার্ব হবে না?

——– তাহলে নিচে দু’টো রুম খালি আছে। একটা তোমার জন্য রেডি করতে বলে দিবো।

~~~ আচ্ছা।

——— এখন চলো নিচে। খাবার খেতে।

~~~ আপনারা সবাই কি একসাথেই খাবার খান?

——- হ্যাঁ।

~~~ তারমানে উনি, মানে আপনার বড় আব্বু আর আপনার আম্মুও খাবেন নিশ্চয়ই ?

——- এতো প্রশ্ন কিভাবে করতে পারো তুমি? সাপ্লাই কে দেয়?

~~~ ব্রেইন দেয়। আর যেটা জিজ্ঞেস করেছি সেটার উত্তর দিন।

—— হ্যাঁ খাবে। রাতের খাবারটা আমরা সবাই একসাথেই খাই।

~~~ তাহলে আমি যাবো না।

——- কেনো?

~~~ ঐ লোকের সামনে যাওয়ার ইচ্ছে নাই। আর আপনার মা আমাকে দেখলে আবারো কেলেঙ্কারি করবে তাই যাবো না।

—— ঐ লোক কি শব্দ মৌ? উনি তোমার বাবা হন।

~~~ আগে মানলেও এখন মানি না। যে আমার মাকে আর আমাকে ঠকিয়েছে সে আমার বাবা না।

——- ঠিক আছে মানতে হবে না। এটলিস্ট আমার দিক থেকেই এখন থেকে বড় আব্বু বলো কেমন?

~~~ ভেবে দেখবো।

ভ্রু কুঁচকালো মাহির। এই মেয়েকে আজ বিকেল পর্যন্তও যতটা শান্তশিষ্ট মনে হয়েছিলো মোটেও তেমন নয়। মৌ এর মধ্যে নিজের আম্মুর প্রতিচ্ছবি দেখছে মাহির। আম্মুকে আর একে সামলাতে আমার খবর হয়ে যাবে মনে মনে ভাবলো বেচারা।

~~~ এই যে কি ভাবছেন?

—— কিছু না। আচ্ছা তোমাকে যেতে হবে না। আমি নিলাকে দিয়ে খাবার পাঠাচ্ছি।

~~~ নিলা কে?

উফ্ আবার প্রশ্ন!! দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো মাহির।

——- বাড়িতে কাজ করে।

~~~ ওহ্। আচ্ছা আমি আপনাকে কি বলে ডাকবো? আপনিতো সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই। ভাইয়া বলে ডাকবো? বয়সে তো অনেক বড়। নাম ধরে ডাকা ঠিক হবে না।

আকাশ থেকে পরলো মাহির।

—– সে কি কথা! ভাইয়া কেনো ডাকতে যাবে? স্বামী কে কেউ ভাইয়া বলে?

~~~ আপনি আমাকে স্ত্রী মানেন?

থতমত খেলো মাহির। কি বলবে এখন?

—— সহজ হতে বলেছিলাম তো তখন। সম্পর্কটাকে ধীরে ধীরে সহজ করি?

~~~ তাহলে আপনার আম্মুকে গিয়ে বলেন যে আমি আপনার রুমেই থাকবো…..

চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেলো মাহিরের। কি বলে এই মেয়ে। এই কথা বললে জু’তোর বাড়ি একটাও মাটিতে পরবে না। শুকনো ঢোক গিললো ছেলেটা। কিছু বলার ভাষা নেই। এদিকে মৌ মাহিরের অবস্থা দেখে মুখ টিপে হাসলো…

~~~ চিল মারেন। এমনিতেই দুষ্টুমি করলাম। আপনি অফিসে যান আর কাজ করেন,স্যালারি পান,মেহেনত করে টাকা কামান এজন্যই এ বাড়ির খাবার খাবো। নয়তো সব সত্যি জানার পর এই বাড়ির এক ফোঁটা পানিও পান করতাম না৷ দরজা থেকেই চলে যেতাম। কিন্তু এ বাড়িতে এসেছি আপনার পরিচয়ে, যেদিন যাবো সেদিনও আপনার পরিচয় নিয়েই যাবো। এছাড়া এ বাড়িতে আর কোনো পরিচয় হবে না আমার। বুঝতে পেরেছেন?

মাহির অবাক হয়ে চেয়ে রইলো মেয়েটার দিকে। কি আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মেয়ে। এইটুকু বয়সেই এতো আত্মসম্মানবোধ। বাকী জীবন তো পরেই আছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই মেয়ে কি রুপ ধারণ করবে খোদা জানে।

~~~ শুনছেন?

—– হু?

~~~ আমার খিদে পেয়েছে।এখন গিয়ে আমার জন্য খাবার পাঠান।

—– ঠিক আছে।

মাহির যেতে নিলে মৌ আবারো ডাকলো…

~~~ শুনুন….

——- আবার কি?

বিরক্তিতে কপাল কুঁচকালো মাহির।

~~~ এরপর থেকে নিজের স্যালারি নিয়ে নিবেন। মাঝে মাঝে আপনিও বাজার করবেন। যা লাগবে কিনে আনবেন। ঠিক আছে?

মাহির বুঝতে পারলো এখন আর কোনো প্রশ্ন করা ঠিক হবে না ৷ কেনো, কি কারণে জিজ্ঞেস করলে মৌ আরোও কথা বাড়াবে। এছাড়া উত্তর তো মাহিরের জানা তাই মৌ এর কথায় সম্মতি জানিয়ে বললো….

—– আচ্ছা ঠিক আছে।

বলেই নিচের দিকে হাটা ধরলো । ওদিকে মৌ মাহিরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে । এভাবে কতোদিন চলবে? ভালো করে পড়াশোনা করে ভালো একটা ভার্সিটিতে এডমিশন নিতে হবে। তারপর হোস্টেলে চলে যাবে সে। মনে মনে এই সিদ্ধান্ত নিলো মেয়েটা।

#চলবে??

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব৯

****************
দেখতে দেখতে কেটে গেলো এক সপ্তাহ । মৌ -খন্দকার ভিলাতে- এসেছে আজ ৮ম দিন । এই আট দিনে মৌ একবারও মুশতাক আহমেদ এর সামনে পরে নি । পরেনি বললে ভুল হবে ইচ্ছে করেই সামনে যায়নি। কেনো যেনো এই লোকটার উপর একটা বিতৃষ্ণা চলে এসেছে। মৌ খুব করে চেয়েছে বাবাকে ঘৃণা না করতে। শত হলেও বাবা তাঁকে ফেলেতো আর দেয়নি। মৌ সহ নানুমনির খরচও তিনিই বহন করতেন। মাসে এক/দুই বার গিয়ে মৌকে দেখে আসতেন। যাওয়ার সময় অনেক কিছু নিয়ে যেতেন। মৌ এর সাথে সময় কাটাতেন। এজন্য সে বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চায় কিন্তু পরক্ষণেই মনে পরে যায় কিভাবে বাবা তাঁর মায়ের মৃত্যুর পরপরই অন্য কাউকে বিয়ে করে নিয়েছেন। তাঁর মাকে ঠকিয়েছেন।

মৌ এর জন্য টাকা পাঠানো,ওকে দেখতে যাওয়া এগুলো সব করেছেন যাতে মৌ তাঁর সাথে শহরে আসতে বায়না না ধরে। মৌকে সব সময় বুঝিয়ে এসেছেন শহরে সে খুবই ব্যস্ত একজন মানুষ। তাঁর দম ফেলারও ফুরসত নেই। তাই মৌকে ওর নানুমনির কাছেই থাকতে হবে। ওর দাদী বেঁচে নেই। চাচ্চু ব্যস্ত তাঁর সংসার নিয়ে। কে দেখবে ওকে? তাইতো সেও কখনো বায়না ধরতো না বাবার সাথে যেতে। এমনিতে চঞ্চল হলেও বাবার কাছে সবসময় ভদ্র মেয়ে সে। বাবার কথার বিপরীতে কথা বলতো না। চুপচাপ মেনে নিতো।

কখনও যদি বাবাকে এক রাতের জন্যও থাকতে বলতো তাঁর বাবা থাকতো না। কাজের অজুহাত দেখিয়ে চলে আসতো৷ তখন না বুঝলেও মৌ এখন খুব করেই বোঝে কেনো তিনি থাকতেন না। এই খানেই তো তাঁর স্ত্রী,সন্তান আছে। তাহলে মৌ এর কাছে কেনোই বা থাকতেন তিনি। কিভাবে নিজের সংসার বাঁচাতে,নিজেকে ভালো প্রমাণ করতে মাহিরকে ব্যবহার করলেন উনি। আজ উনার ষ*ড়য*ন্ত্রের মাশুল দিচ্ছেন ঐ অসহায় লোকটা। তাঁর মা তাঁর সাথে কথা বলে না,মুখ ফিরিয়ে ন্যায় এসব নিয়ে মাহির কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও মৌ বোঝে মায়ের এই আচরণে মাহিরের বুক ঠিক কতোটা পো ড়ে।

মায়ের থেকে আপন এই পৃথিবীতে কেউই হয় না৷ সবাই যতই আদর করুক, ভালোবাসুক, মায়ের অভাব কেউ কখনো পূরণ করতে পারে না। এটা মৌ এর থেকে কেই বা ভালো জানবে। মাহির হলো রেহানার কলিজার টুকরা।সেই ছেলের সাথেই আজ আটদিন হলো তিনি কথা বলেন না। সামনা-সামনি পরলেও মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। এসব মৌ দুর থেকে ঠিকই দেখে, দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাহিরের ঐ মলিন মুখটা দেখে কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। কি করবে সে? রেহানার সামনে যাওয়া বারণ তাঁর। মাহির বলেছে যেতে না। যতদিন না মাকে মানাতে পারছে ততদিন যেনো মৌ ওর মায়ের সামনে না যায় বা মা কিছু বললেও যেনো প্রতিত্তোর না করে।

রেহানা খান সেদিন রাগের বসে মৌ কে শান্তিতে থাকতে দিবে না বললেও উনার মৌ এর ব্যাপারে কোনো মাথা ব্যথা নেই। উনার কাছে মৌ এর কোনো অস্তিত্বই নেই যেনো৷ মৌকে মাহিরের ঘরে ঢুকতে দেননি এতেই উনি শান্তি । এছাড়া আর কোনো কিছুই করেন নি। তবে মৌ যেনো কোনো মতেই মাহিরের ঘরে না যায় এ ব্যাপারে খুব সতর্ক তিনি । যতদিন না আপা তাঁকে আবারো আগলে নিচ্ছেন ততদিন কিছুতেই মৌ আর মাহিরকে কাছে আসতে দিবেন না তিনি। নিজের কাছেই নিজে এই প্রতিজ্ঞা করেছেন ভদ্রমহিলা।

সময় রাত সাড়ে এগারো টা। সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে যার যার মতোন ঘরে চলে গেছে। মাহির ও খেয়ে দেয়ে নিজের ঘরে চলে গেছে। মৌ পড়তে বসেছে। বারোটা পর্যন্ত পড়ে সে। তারপর ঘুমিয়ে যায়। ফজরে উঠে নামায পরে আবারো কিছুক্ষণ পড়ে। তারপর নয়টা পর্যন্ত একটু ঘুমায়। এ বাড়িতে বর্তমানে পড়া ছাড়া তাঁর আর কোনো কাজ নেই। মাঝে মাঝে মন চাইলে ফজরের পরে গিয়ে নিজের জন্য এক কাপ চা করে আনে।রেহানা খান আশেপাশে না থাকলে একটু আকটু রানাঘরে যায়। তবে উনি চলে আসলে মৌ ও এসে পরে। দরকার কি উটকো ঝামেলা বাঁধানোর।

কয়েকটা দিনেরই তো ব্যাপার। ভার্সিটিতে চান্স হয়ে গেলেই তো মৌ সোজা হোস্টেলে। প্রথমে মাহিরের থেকে কিছুটা হ্যাল্প নিবে। তারপর টিউশান জোগাড় করে আস্তে আস্তে শোধ করে দেবে। এরপর একদিন ডিভোর্স পেপার রেডি করে সব ঝামেলা চুকিয়ে দেবে। তারপর মাহির সোহীনিকে বিয়ে করে নেবে। ব্যস মাহির খুশি, সোহীনি, মাহিরের আম্মু খুশি আর সবার খুশিতে মৌ ও খুশি। আরোও একজন খুশি হবেন আর তিনি হলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ। মৌ কে আর নিজের পরিচয়ও দিতে হবে না। এমনি এমনি আপদ বিদায় হয়ে যাবে। যাইহোক তাঁকে ভালো রেজাল্ট করতেই হবে যে ভাবেই হোক।

পড়াশোনায় মগ্ন মৌ আশেপাশের খেয়াল নেই। সে একমনে পড়ে যাচ্ছে । সম্পূর্ণ ধ্যান তাঁর বইয়ের উপর। মৌ এর ঘরে সচরাচর মিম আর মিতু ছাড়া কেউ তেমন একটা আসে না। নিলা আসে ঘর ঝাড়ু দিতে আর মুছে দিতে। দুই বেলা খাবারও নিয়ে আসে। মিম আর মিতু আসে একটু গল্প করতে কিন্তু রেহানা খানের ভয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না চলে যায়। মাহিরও যদি আসে তো সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট। বেশি থাকে না। ওড়না টা চেয়ারে ঝুলানো। ঘরে কেউ নেই তাই ওড়না গলায় ঝুলায়নি মৌ। আশেপাশের খেয়াল নেই তাঁর। সে ব্যস্ত তাঁর পড়া নিয়ে।

“আরে ছোড ভইয়া আপনে এহেনে?”

নিলার কথায় কেঁপে উঠে মুবিন। সাথে সাথে ঘুরে তাকালো মৌ। চেয়ারের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে মুবিন। মৌ সাথে সাথেই চেয়ার থেকে ওড়না টেনে গায়ে জড়ালো।

~~~ তুমি এখানে?

কপাল কুঁচকালো মৌ।

“হ্যাঁ ভা…ভাবি। তো….তোমার কাছেই এসেছি। এ…একটা সা….সাহায্যের জন্য।

~~~ কিসের সাহায্য? আর নক করোনি কেনো? জানো না কারোও রুমে আসতে হলে নক করতে হয়?

” ভু…ভুলে গেছিলাম। সরি।”

~~~ হুমম বলো কি হ্যাল্প চাই?

“আই সি টি… ঐ আই সি টির চার আর পাঁচ নাম্বার চ্যাপ্টারে একটু সমস্যা। ওগুলো বুঝতে পারছিনা। তুৃমি যদি একটু বু….বুঝিয়ে দিতে ”

~~~ ঠিক আছে বুঝিয়ে দিবো। কিন্তু তুমি এতো ঘামছো কেনো?

” এ….এসি, এসি চালু নেই তো তাই হয়তো।”

~~~ আচ্ছা আমি বুঝিয়ে দিবো। আগামীকাল থেকে সোফার রুমে বসবে সন্ধ্যায়। আমি বুঝিয়ে দেবো।

এবার মুবিন একটু সাহস পেলো যেনো ৷ মৌ এর প্রশ্নে এতোক্ষণ চোর ধরা পরে যাওয়ার মতো আমতা আমতা করলেও এবার মনে একটু সাহস পেলো।

“ওখানে আম্মু আর ছোট আম্মু বসে টিভি দেখে ঐ সময় । আমি বরং তোমার ঘরেই চলে আসবো কেমন।”

~~~ সমস্যা নেই। উনাদের টিভি দেখা শেষ হলে যখন নামাযে যাবে তখন বুঝিয়ে দিবো। আমার ঘরে আসার দরকার নেই। এরপর থেকে আসলে নক করে আসবে। এবার যাও।

মুবিন তাড়াহুড়ো করে চলে গেলো। ততক্ষণে নিলাও মৌ এর খাবার রেখে চলে গেছে। নিলা মূলত খাবার দিতেই এসেছিলো। হঠাৎ মুবিনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলো তখন। কারণ মুবিন তো এ ঘরে আসে না তাই কিছু লাগবে কি না জিজ্ঞেস করেছিলো।

মৌ আবারো পড়ায় মগ্ন হলো । মিমের সাথে নরমালি কথা বলে মৌ। মেয়েটা ভীষণ মিষ্টি আর মুবিনের সাথে তেমন একটা কথা হয় না। ওদের উপর রাগ নেই মৌ এর। রাগ নেই তানিশা আহমেদ এর উপর ও। উনার দোষ দিয়ে কি হবে? উনি নিজেও তো জানেন না কিছু। যদি জানতেন এবং মৌকে রাখতে না চাইতেন তখন উনাকে দোষ দেওয়া যেতো। তাই ওদের কারোর উপই রাগ নেই ওর। মুবিন হয়তো পড়ার জন্যই এসেছিলো। তাই এতোটা ঘাটলো না মৌ। শত হলেও ভাই ওর। উল্টো পাল্টা চিন্তারা মাথায়ও এলো না তাঁর ।

রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।

“কেমন আছো মাহির ভাই?”

——- আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুই কেমন আছিস?

“আছি কোনোরকম। ঘুমিয়ে ছিলে?

——না, শুয়েছি মাত্র।

” তোমার বউ কি পাশে আছে?”

মাহির ভাবলো মৌ ওর সাথে এক ঘরে থাকে না এই কথাটা সোহীকে বলাটা ঠিক হবে না।

——– হ্যাঁ।

“ডিস্টার্ব করলাম কি?”

——- না। ও ঘুমোচ্ছে। কিছু বলবি? এতো রাতে কল করলি হঠাৎ?

” হ্যাঁ। আমি আগামী পরশু ফুপির কাছে চলে যাচ্ছি মাহির ভাই”

——- ওহ।

“একটা রিকোয়েস্ট করবো রাখবে?

—— কি?

” কাল একবার দেখা করতে পারবে?

মাহির কিছু একটা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো…..

—— কোথায় আসতে হবে?

“আমি এড্রেস ম্যাসেজ করে দিচ্ছি। ”

——- ঠিক আছে। গুড নাইট।

“গুড নাইট”

#চলবে??