#আনন্দধারা_বহিছে_ভুবনে (পর্ব ৭)
নুসরাত জাহান লিজা
শিউলি এই কয়েক দিনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু আজ যখন সত্যিকার অর্থেই এমন পরিস্থিতি সামনে এসে দাঁড়াল তখন বুঝল ব্যাপারটা একাডেমিক পরীক্ষায় বসার মতো নয়, যে ভালো প্রস্তুতি থাকলেই পরীক্ষায় উতড়ে যাবে। জীবনের পরীক্ষাগুলো বিস্তর কঠিন, কণ্টকযুক্ত। এই কাঁটা হৃদপিণ্ডটা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করে। এর তীব্র ব্যথা একমাত্র তাকেই সইতে হয়, কেউ চাইলে বড়জোর সান্ত্বনা দিতে পারে, কিন্তু সমব্যথী কি আসলেই হতে পারে!
আশ্চর্য ব্যাপার হলো, পরীক্ষার ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলে পড়াশোনা বেশিদূর এগোয়নি, কিন্তু জীবন কী অদ্ভুতভাবেই না তার থেকে সহস্রাধিক জটিল পরীক্ষার ভার ওর মাথায় চাপিয়ে দিয়েছে! সেটা ছেড়ে পালিয়ে বাঁচবার কোনো পথ খোলা নেই। হয় অংশগ্রহণ করো নয় মরো।
শিউলি ছয়দিন হয় বাবার বাসায় এসছে। আজ বিকেলে খাওয়ার পরে মায়ের সাথে রান্নাঘরে এঁটো বাসনকোসন পরিষ্কার করছিল, তখন তাদের বাসায় ছেলের বউ সোমাকে সাথে নিয়ে জহুরা ফুপু এলেন। তিনি বাবার চাচাতো বোন। শাফিন ট্রেনের টিকিট করতে গেছে, তিনদিন পরে চলে যাবে। আর এমদাদ জমিজমা সংক্রান্ত একটা কাজে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন।
জহুরা ফুপু শিউলিকে ডাকলে সে এসে পাশে বসল, তিনি মুখ খুললেন,
“আহারে! আমার শুনার পরে কী যে আফসোস হইসে। এমন সোনার টুকরা মাইয়াডা! আমি এমদাদ ভাইজানরে কইছিলাম জহুরুলের সাথে বিয়া দেও। তাইলে আর এইদিন দেখা লাগত না।”
তার গলায় যেন তীব্র আফসোস! সোমা এবং শিউলি দুজনেই ভীষণভাবে বিব্রতবোধ করল। এভাবে একজনের স্ত্রীকে শোনানোর কোনো যুক্তি নেই যে তার সাথে আরেকজনের বিয়ে দিতে চেয়েছিল। এটা দিয়ে তিনি যেন মেয়েটাকে বোঝাতে চাইলেন তার চাইতে যোগ্য কারোর সাথে ছেলের বিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তুমি ভাগ্যগুণে পেয়ে গিয়েছো। একইসাথে শিউলিকেও কটাক্ষ করা গেল। এই ফুপুর সব কাজই এমন যুক্তিহীন বা কুযুক্তিপূর্ণ।
“তা এখন কী করবি? কিছু ঠিক করছিস?”
“না, ফুপু।”
“শোন, ভালো হইসে যে বাচ্চা-কাচ্চা হয় নাই। যে অকূলদরিয়ায় পড়ছোস, গেন্দা পোলাপান থাকলে কেমনে কী হইত আল্লাহ জানে? গলার কাঁটা হয়ে আটকায়া থাকত। না পারতি গিলতে, না পারতি ফেলতে।”
কেউই উত্তর দিল না, শিউলির অতি অস্বস্তি নিয়ে বসে থাকল। কিন্তু ফুপুর উৎসাহে ভাটা পড়ল না। তিনি বললেন, “হ্যাঁ গো, শেফালি ভাবি, ডিভোর্সের কাজকর্ম শুরু করছো?”
শেফালী মাথা নেড়ে বললেন, “এখনো শুরু করি নাই। তুহিন হুমকি দিতেছে, ডিভোর্স দিব না কয়। এখন কথাবার্তা চলতেছে উকিলের সাথে।”
“ডিভোর্স হইলে আমারে বইলো, আমার কাছে কিছু ভালো পাত্রের সন্ধান আছে। ট্যাকা পয়সা ভালো, জায়গা জমি আছে। কিন্তু বয়স পঞ্চাইশের মতো, একটু বেশি হইব শিউলির চাইতে। আর প্রথম বউডা একটু পাওয়ারওয়ালা। তারে সমঝে চলা লাগব, এই যা। তা সব তো একবারে পাওয়া যায় না, নাকি? একবার ডিভোর্সি হয়ে গেলে যোগ্যতা তো এমনেই কইমা যায়। এট্টুক ছাড় তো দেওয়াই লাগে।”
“এগুলা কী বলো জহুরা, মেয়েটা আমার বাড়িত পারা দিয়াই সারলো না, তুমি বিয়ের কথা শুরু করে দিছো।”
“তুমি ওমন ঝামটা দিলা ক্যান? এই জন্য কয় আগ বাড়াইয়া কারো উপকার করতে নাই। এই মাইয়্যার আর বিয়ে থা হইব মনে করছো? সারা জীবন ঘরে পালবা?”
শিউলির বুকে কেউ যেন বিশাল পাথরের খণ্ড চাপিয়ে থেতলে দিয়েছে। নিজেকে ভারী কোনো বোঝা মনে হলো, যে বাপ-মায়ের সংসারে অনাহুত হয়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। তীব্র অপমানে কান ঝাঁ ঝাঁ করছে। ঝাপসা চোখে কিছুই তেমন স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছে না। শোনা গেল মা বললেন,
“সেইটা আমরা বুঝবনে। যখন মনে হবে মেয়ের যোগ্য পাত্র পাবো তখন বিয়ে দিব, না পাইলে নাই। আমার সংসারে আমার পেটের সন্তানের ভাত-কাপড়ের অভাব হব না কোনোদিন!”
“হ, হ, এরকম কত দ্যাখা আছে! ভালো চাইতে আইসা শত্রু হইলাম। মানুষের কোনো বিবেচনাবোধ নাই। দেহি কোন রাজপুত্র জোটে তোমার মাইয়্যার কপালে।” জহুরার ফুপুর গলা তখন কয়েক ডিগ্রি চড়ে গেছে।
শিউলি এইবার মুখ খুলল, “ফুপু, আপনি মুরুব্বি মানুষ, তাই কিছু বলতে চাই না৷ উপকার করতে আসছেন, ভালো কথা। কিন্তু নিজের সম্মান নষ্ট কইরেন না।”
তিনি অনেক ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে রাগে গজরাতে গজরাতে বেরিয়ে গেলেন। শেফালি দরজা বন্ধ করে এসে মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত দিতেই শিউলি মাকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে ফেলল। মেয়েকে সান্ত্বনা দেবার ভাষা তিনি খুঁজে পেলেন না।
শিউলির মনোবল গুড়িয়ে শূন্যে নেমে এসেছে। ঘুরে দাঁড়ানো এত কঠিন কেন? পরিস্থিতির কাঠিন্য আরও বাড়িয়ে দিতেই বোধহয় তুহিনের আগমন ঘটল।
***
গত কয়েকদিনে অয়ন একবারো বাসায় আসেনি। বড়চাচা রেগে ব্যোম হয়ে আছেন। বড়চাচী মাঝেমাঝেই ছেলের জন্য আঁচল চেপে কাঁদেন। শুধু অবন্তীর মা রোকেয়া ভীষণ খুশি। মেয়ের বিয়ে নিয়ে তিনি নানা জল্পনা কল্পনা করে ফেলেছেন। মেয়ে কোনো কারণে চুপ করে আছে, কিন্তু এই মেয়ের বিশ্বাস নেই। বেঁকে বসতে এক মুহূর্ত সময় লাগবে না। তিনি অবন্তীর বাবাকে সারাক্ষণ এটাই বোঝাতে লাগলেন, যে এখন অবন্তীর বিয়েটা জরুরি। ছেলে অনীকের সাথেও কথা বলেছেন এই ব্যাপারে।
অবন্তী দেখল শাফিন ফোন করেছে, এই কয়দিন এমন অবস্থার মধ্যে কেটেছে যে সেভাবে কথা বলা হয়নি। বোনেকে নিয়ে তাদের পরিবারে এমনিতেই অনেক অশান্তি চলছে বলে আর এসব কিছু বলা হয়নি৷ ফোন ধরতেই শাফিন বলল,
“আমি চলে আসব দুই দিন পরেই৷ একটু গুছিয়ে দিয়ে আসি সব।!
” হুম। আপুকে বেশি বেশি সময় দিস।”
“সেটাই তো চেষ্টা করতেছি। বুঝিসই তো কী অবস্থা।”
“হুম। সাবধানে আসিস।”
“অন্তি, তোর কিছু হয়েছে? তোর কথাগুলো কেমন যেন ছাড়া ছাড়া শোনাচ্ছে!”
অবন্তী কিছু বলতে পারল না, চোখ দিয়ে নিঃশব্দে বিষাদ ঝরল। কোনোমতে বলল, “আরে তেমন কিছু না। তুই আয়, পরে সামনা-সামনি সব বলব।”
“আমাকে অবশ্যই বলবি কিন্তু?”
“অবশ্যই দোস্ত। তোরে না বললে আর কারে বলব? আরেকটা সুসংবাদও আছে তোকে দেবার।” সুসংবাদ শব্দে জোর দিল বেশি করে, কেমন তাচ্ছিল্য ভরে বলেছে কথাটা৷
“আচ্ছা, তাহলে এসেই শুনি। তুই একবার যখন গো ধরেছিস এখন বলবি না, সেটা যে হ্যাঁ হবে না তা এতদিনে ঢের জানা হয়ে গেছে।”
ফোন রাখার পরে কিছুটা হলেও হালকা বোধ হলো, মনে জমা হওয়া গোমট মেঘ যেন কিছুটা হলেও সরে গেল। শাফিন ওকে খুব ভালো করে বুঝতে পারে। বন্ধুত্ব তো এটাই, না বলা কষ্টগুলোও অনুভব করা। ওদিকে অয়ন…
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাবার সাথে কথা বলার জন্য তার ঘরে গেল, এক বুক সাহস সঞ্চয় করেছে এই কয়দিনে। আজ সেই সাহসটুকুই উগড়ে দিতে হবে। বাবা আর বড়চাচা দু’জনকেই অবন্তী খুব ভয় পায়। তারা কেউই কোনোদিন ওকে ধমক দিয়ে কিছু বলেননি, তবুও অবন্তী কেন যে ভয় পায়!
ঘরে গিয়ে দেখল বাবা ক্যালকুলেটর আর কাগজ-কলম নিয়ে কীসের যেন হিসেব করতে ব্যস্ত। মা বিছানায় পানের বাটা থেকে পান সাজাচ্ছেন। অবন্তীকে দেখে রোকেয়া বললেন,
“কিছু বলবি?”
অবন্তী উপর নিচে মাথা দুলিয়ে বাবার উদ্দেশ্যে বলল, “বাবা, তুমি কি খুব ব্যস্ত? কিছু কথা ছিল।”
কেন জানে না অবন্তীর বুক কাঁপছে।
বাবা চোখ তুলে মেয়েকে দেখলেন, মেয়ের সাথে তার খুব বেশি সখ্যতা নেই। আবার কোনো দূরত্বও নেই। তবুও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনুপস্থিত। মেয়েকে আজ ভালো মতো দেখলেন। কত্ত বড় হয়ে গেছে। একসময় বাইরে বেরুতে গেলেই হাত ধরে বায়না জুড়ে দিত সাথে যাবার জন্য। কবে থেকে তেমন বায়না করা থামিয়ে দিয়েছে মেয়েটা! মনে পড়ছে না তেমন, হয়তো বহু আগেই। খেয়াল করা হয়নি তার।
সেই ছোট্ট মেয়েটা এখন পরিপূর্ণ তরুণী, কিছুদিন পরে বিয়ে করে চলেও যাবে। আজ কেমন যেন স্নেহপ্রবণ হয়ে পড়লেন। হুহু হাহাকার ভরা একটা বাতাস তাকে ছুঁয়ে গেল। তিনি মেয়ের হাত ধরে পাশের চেয়ারে বসালেন। বহুদিন পরে আর্দ্র গলায় বললেন,
“বল মা, কী বলবি?”
“বাবা, তুমি আগে আমার পুরো কথাটা শুনবে প্লিজ, তারপর তোমার যা মনে হয় তাই করবে।” কাতর গলায় বলল অবন্তী।
রোকেয়া পান মুখে নিয়েই রুষ্ট স্বরে বললেন, “কী বলবি তুই?”
“আহা, সেটাই তো বলতে চাইছে। তুমি এভাবে কথা বলতেছো কেন?”
অবন্তী বড় করে একটা শ্বাস টানল, এরপর বলল, “বাবা আমার সামনেই ফোর-ওয়ানের সেমিস্টার ফাইনাল। আর সাত আটমাস পরে অনার্সই শেষ হয়ে যাবে। তারপর আর দেড় বছরে মাস্টার্স শেষ হবে। এখন আমার বিয়ে নিয়ে না ভাবলে হয় না? তিনটা বছর একটু সময় দাও না আমাকে। আমার নিজের জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন আছে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমার নিজের একটা আইডেন্টিটি হোক সেটা চাই। এটা কী খুব অন্যায় আবদার, বাবা?”
তিনি মেয়ের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন, কেমন মায়া মায়া আদুরে ভঙ্গি অথচ চোখে রাজ্যের বিষাদ। তিনি তো মেয়ের ভালোর জন্যই সম্মত হয়েছিলেন, কিন্তু মেয়ের ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ের মতো একটা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কী ঠিক হবে! পত্রিকা খুললেই মেয়েদের কত অসহায়ত্বের খবর চোখে পড়ে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলে ক্ষতি কী! বাঁচলে তো মাথা উঁচিয়ে বাঁচার মতোই বাঁচা উচিত। পাছে মেয়ে কোনোদিন তাকে নিজের স্বপ্ন ভঙ্গের জন্য যদি তার কাঠগড়ায় দাঁড় করায়! মুখ লুকিয়ে পালিয়ে যেতে পারবেন?
তিনি স্ত্রীর দিকে তাকালেন, কিছু বলার আগেই রোকেয়া বললেন, “তুই বেশি বুঝে নিজের কপাল পুড়িস না অন্তি। বিয়ের পরেও তো এসব করতে পারবি। নাকি অন্য কোনো মতলব আছে তোর?”
অবন্তী আহত দৃষ্টিতে মা’য়ের দিকে তাকালো, এরপর তীব্র আকুতি ফুটিয়ে বাবার দিকে চাইল।
বাবা অবশেষে মুখ খুললেন, “আমার কাছে মেয়ের চিন্তা সবার আগে। সে খুশি না হইলে আমি আগাইতে পারব না। তোমার চাচাতো ভাইকে বললে সে বুঝবে। তিনি সমঝদার মানুষ।”
স্বামীর এহেন সিদ্ধান্তে রোকেয়া ভারি না-খোশ হলেন। গলা চড়িয়ে বললেন, “যা খুশি করো। আমার কথার কোনো দাম এই সংসারে নাই। আমি এই সংসারের দাসী বাদী ছাড়া আর কিছুই না।”
“তুমি এমন রাইগে গেলা ক্যান? তুমি চাও না মেয়ে ভালো থাক?”
“চাই বলেই বিয়ে দিতে চাইছিলাম। যা ভালো বুঝো করো। আমি আর এসবের মধ্যে নাই।”
পানের বাটা সরিয়ে পাশের টেবিলে ঠকাস করে রেখে বিছানা ঝাড়ু দিয়ে, ধাপ করে শুয়ে পড়লেন। এই তীব্র গরমেও কাঁথায় মুখ-চোখ ঢেকে ফেললেন। স্বামীর সাথে মনোমালিন্য হলেই তিনি এমন করেন।
অবন্তী এখনো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না! বাবা এত সহজে রাজি হয়ে যাবে, এটা সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। খুশিতে উঠে দাঁড়িয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরল। তিনি মাথায় হাত বুলিয়ে মেয়েকে বললেন,
“গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে তোর পক্ষ নিলাম। তুই কিন্তু আমার এই স্যাক্রিফাইসের মূল্য দিবি অবশ্যই।”
“অবশ্যই বাবা। তুমি কি জানো পৃথিবীর সবচাইতে ভালো বাবা?”
মেয়ের ছেলেমানুষী উচ্ছ্বাসে আজহার হেসে ফেললেন, মনে মনে আওড়ালেন, “তোর সব স্বপ্ন-সাধ পূরণ হোক। কোনো অপূর্ণতা যেন তোকে স্পর্শ না করে।”
***
অবন্তী সত্যিই এখন নিজের পড়াশোনায় ফোকাস করতে চায়। বাকি সব মাথা থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে চায়। কিন্তু সে চাইলেই তো আর সব হবে না। অয়নের চিন্তাগুলো, তার বলা কথা, অপমান সব দগদগে ক্ষত হয়ে ওকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। অনবরত দগ্ধে মারছে।
পরেরদিন কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য গাঙিনাপাড় যাবার প্রয়োজন হলো। বড়চাচা সেদিকেই যাবেন। তাই প্রস্তাব দিলেন একসাথে যাবার। একা একা তো বাসা থেকে বের হবার উপায় নেই। শাফিন থাকলে ওকে নেওয়া যেত। অগত্যা বড়চাচার সাথেই বের হলো।
গল্প করতে করতে হাঁটছিল দু’জন, সামনে থেকে রিকশা নেবে বলে। কেওয়াটখালি বাইপাস মোড়ের আগে আগে এসে চোখ আটকে গেল, অয়ন সেখানকার একটা দোকানের বাইরে চেয়ারে বসে সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ছে। চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে আছে, মুখ ভীষণ মলিন আর কেমন উস্কোখুস্কো চুল! অয়ন এখনো তাদের দেখেনি।
অবন্তী আঁতকে উঠে পাশে তাকিয়ে দেখল বড়চাচা সেদিকেই তাকিয়ে আছেন। তাকে দেখে মনে হচ্ছে একটা ক্ষ্যাপা ষাঁড়। চাচা অয়নের দিকে পা বাড়াতে গেলে অবন্তী দু’হাতে শক্ত করে তার হাত চেপে ধরল। জানে না এই বুনো মোষকে সে কী করে সামলাবে!
খোলা রাস্তায়, এমন জনারণ্যে একটা অনর্থ বোধহয় আজ ঘটেই যাবে। ভয়ে অবন্তীর অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল।
……….
(ক্রমশ)