আরশি পর্ব-১৯

0
2257

#আরশি
#Part_19
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat

— তুমি কেন আমাকে আগের মত ভালোবাসো না? তুমিও কি পঁচা হয়ে গিয়েছ?

কথা শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। মনের মধ্যে কোথ থেকে জানি এক ঝাঁক ভয় এসে বাসা বাঁধতে শুরু করে। ভিতরটা ধীরে ধীরে দুমড়ে মুচড়ে উঠতে শুরু করে। ছন্দছাড়া মনে হতে থাকে নিজেকে। মনটার মাঝে একটা প্রশ্ন বার বার আঁচড়ে পড়তে থাকে, “অহনা এই কথা কেন বললো আমি ওকে ভালোবাসি না? ওর নরম মনে এই প্রশ্ন কেন জাগ্রত হলো?” নিজেকে শান্ত করার যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও আমি বার বার ব্যর্থ হচ্ছিলাম। ছটফটানি ভাব চলে আসছিল নিজের মধ্যে। তা দেখে অহনা আবার বলে উঠে,

— বলো না আম্মি! তুমি কি আর আমায় ভালোবাসো না?

কথা দ্বিতীয় বারের মত কর্ণপাত হতেই আমি স্থির হয়ে যাই। মনোবল শক্ত করলাম। নিয়ন্ত্রণে আনলাম নিজেকে। ঘন ঘন নিশ্বাস নিয়ে ঠোঁটের কোনে কিঞ্চিৎ এক হাসি ঝুলিয়ে অহনার দিকে দুই হাত বাড়িয়ে দেই। ওকে টেনে নিজের কোলে বসিয়ে দেই। ওর নরম তুলতুলে গালে একটা চুমু খেয়ে ভালো মত জড়িয়ে ধরে বিনয়ী কন্ঠে বলি,

— তোমার এমন কেন মনে হলো মামণি যে আমি তোমায় ভালবাসি না? আম্মি তো তোমাকে এত এত এত ভালবাসে।

অহনা এইবার ঠোঁট উল্টিয়ে বলে,

— তাহলে তুমি কেন আগের মত আমার সাথে খেল না,আমায় গোসল করিয়ে দাও না,নিজ হাতে খায়িয়ে দাও না, ঘুরতে নিয়ে যাও না,আদর করো না।

সাথে সাথে বুকটা ধক করে উঠে। সত্যি তো অহনাকে এই কয়েকদিন যাবৎ ধরে ঠিক মত সময় দিতে পারছি না। নতুন নতুন কাজে জয়েন করেছি। প্রথমদিকে কাজ বুঝতে আমার বেশ কাঠখড় পুড়াতে হয়েছে। এই ফাইল ওই ফাইল ঘাটতে হয়েছে। রাত জেগে সাদের দেওয়া বই- ফাইলগুলো দেখে শেষ করতে হয়েছে। ল্যাপটপের বিভিন্ন সাইট বুঝতে ও শিখতে হয়েছে। যার ফলে হাতের নাগালে কাজের গতিটা ধরা দিয়েছে। কিন্তু এর মাঝে যে আমার ছোট পরীটা কষ্ট পাচ্ছে তা তো বুঝতে উঠতে পারিনি। এমন নয় যে আমি অহনাকে দেখে রাখিনি। রেখেছি কিন্তু কম। মামার ভরসায় ছেড়ে দিয়েছিলাম। কথাটা বলা বাহুল্য যে, আমি কাজের প্রতি একটু বেশি মনোযোগ দেওয়ার ফলে ওর দিকে নজর একটু কম দিয়েছি। ওর সাথে ভালো মত সময় কাটাতে পারি নি, টুকিটাকি সময় কাটিয়েছি। কিন্তু এখন ওকে কিভাবে বুঝাই আমি এই কষ্ট গুলো ওর জন্যই করছি। ওর ভবিষ্যৎ সাজানোর জন্য আজ ওকে সময় দিতে পারছি না। এই ৫ বছরের অবুঝ বাচ্চাকে আমি কিভাবে বুঝাই আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করছি সবদিক সামলাবার কিন্তু পেরে উঠছি না। এই জীবনটা যে আমার জন্য একদমই ভিন্ন। আমি এইভাবে অভ্যস্ত নই। কিছু সময় আমার প্রয়োজন সব সামলে উঠার। আচ্ছা সকল কর্মজীবী মায়েরই এই একই কষ্টে ভুগে? যদি এমনই হয় তাহলে তো সকলে তাদের বাহিরটাই দেখে ভিতরটা না। তাদের মলিন হাসি চোখে পড়ে কিন্তু তাদের ভিতরের কষ্টটা না। আর এই কষ্টটাই তীব্র হয়ে উঠে যখন নাকি তার নিজের সন্তানই তাকে ভুল বুঝে। তাকে বলে উঠে, “তুমি তো আমায় ভালবাসা না। অন্যের মায়েদের মত আমার জন্য এটা ওটা করো না।” মনের মাঝে এই ভাবনাগুলো বিচরণ করতেই বুক চিরে বেরিয়ে আসে দীর্ঘ নিঃশ্বাস। সাথে এক রাশ বিষন্নতা। আমি আহত চোখে অহনার দিকে তাকিয়ে বলি,

— একটা গল্প শুনাই শুনবে?

অহনা জোরে দুইপাশে মাথা দুলাই। যার অর্থ হ্যাঁ সে শুনবে৷ আমি স্মিত হেসে বলা শুরু করি,

— এক দেশে ছিল এক রাজা। রাজার রাজত্বে ছিল এক রাণী আর এক ছোট রাজকন্যা৷ সাথেই ছিল তার অসংখ্য সৈন্য,শিপাহি। ছিল এক বিশাল প্রজা। খুব সুন্দর প্রসাদ ছিল তাদের। কিন্তু রাজাটা ছিল দুষ্টু প্রকৃতির। সে সকলের সামনে ভালো সেজে থাকলেও ভিতর দিয়ে ছিল ততোই বাজে। সে সকল প্রজাদের সামনে দেখাত সে তার রাণী আর রাজকন্যাকে খুব ভালোবাসে কিন্তু যখন তার প্রজারা তার সামনে থাকতো না সে তখন রাণীর সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করতো। মারতো। এমনকি সে তার রাজকন্যাকেও বকতো, দুই একসময় মারতোও। তাই রাজকন্যা রাজাকে সবসময় ভয় পেত। রাজা কখনো রাণী আর রাজকন্যাকে ভালোবাসে নি। সে সবসময় তাদের প্রসাদের চারদেয়ালে বন্দী করে রাখতো। কখনো কোথাও বের হতে দিত না। এইভাবে চলতে থাকে দিন। একদিন রাজা প্রসাদে নতুন এক রাণীকে নিয়ে আসে আর আগের রাণী ও রাজকন্যাকে প্রসাদ থেকে বের করে দেয়। এতে রাজকন্যা আর রাণী মোটেও কষ্ট পায় নি বরং তারা ছিল অনেক খুশি। কেন না তারা সেইদিন চিরতরের জন্য এই বন্দীশালা থেকে মুক্ত পেয়েছিল। তাই তারা ছিল খুশি। আর সেই খুশি মন নিয়েই তারা বেড়িয়ে যায় রাজ্য থেকে। সেখান থেকেই শুরু তাদের নতুন জীবনের রচনা।

এতটুকু বলে আমি নিঃশ্বাস ফেলি। অহনার দিকে তাকিয়ে দেখি ও আমার মুখপানে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। তার চোখ দুইটি বলছে সে বাকি কাহিনী শুনার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে। আমি অহনার এমন উৎসুক দৃষ্টি দেখে আমি মুচকি হাসি। আবার বলতে শুরু করি,

— রাণী তার রাজকন্যাকে নিয়ে তার ভাইয়ের রাজ্যে উঠেন। সেখানে তাদের দিন ভালোই যাচ্ছিল কিন্তু তার ভাইয়ের উপর চাপ পড়ছিল। সে তার নিজের রাজ্য চালাতে হিমসিম খাচ্ছিল। কেন না তার রাজ্য ছিল অতি ক্ষুদ্র। মানে ছোট। আর তখন সেই বিষয়টা রাণীর চোখ এড়ায় নি। সে ঠিকই বুঝতে পেরেছি তার ভাইয়ের অভাব। তাই সে সেখান থেকে চলে আসতে নেয়। যখন তার চলে যাওয়ার সকল পরিকল্পনা স্থির তখনই সেখানে এসে হাজির হয় রাণীর একমাত্র মামা। রাণীর মামা ছিলেন অতি বুদ্ধিমতি একজন মানুষ। সে চারদিকে এক নজর বুলিয়েই সকল সমস্যার কথা জেনে যান। সব বুঝে তিনি তখন সকল সমস্যার সমাধান করে দেন আর রাণী ও রাজকন্যা তার সাথে নিজের রাজ্যে নিয়ে যান। মামার রাজ্যে তারা দুইজন বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু রাণীর মাথায় তখন জীদ চাপে সে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। নিজের এক রাজ্য তৈরি করবে আর নিজে রাজত্ব করবে। সাথেই রাজকন্যাকে পুরো রাজ্যের দেখাশুনা করার জন্য যোগ্য করে তুলবেন। যোদ্ধা বানাবেন তার রাজকন্যাকে। যাতে সে কখনো ভেঙ্গে না পড়ে। সেই পরিকল্পনা মনে নিয়েই রাণী কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন। দিন রাত খাটতে থাকেন। যার ফলে সে রাজকন্যাকে বেশি সময় দিতে পারতেন না। তার সাথে আগের মত খেলতে পারতেন না, তাকে খায়িয়ে দিতে পারতেন না, মনভরে আদর করতে পারতেন না। সে পরিকল্পনা করে একবার সব গুঁছিয়ে নিয়ে সে তার পুরো সময় রাজকন্যাকে দিবেন। কিন্তু অবুঝ রাজকন্যা তো সেটা বুঝতো না। সে ভাবত রাণী আর তাকে ভালবাসে না। তাই তাকে আদর করে না, তার সাথে খেলে না। একদা সে রাণীকে এই নিয়ে জিজ্ঞেস করে। রাণী তাকে বুঝাতে চাইলেন কিন্তু সে বুঝতে চাইলো না। ভুল বুঝলো রাণীকে। মুখ ফিরিয়ে নিল। রাণী এতে খুব কষ্ট পেলেন। রাণীর মনে তো শুরু থেকেই কষ্ট ছিল। কিন্তু কখনো তা প্রকাশ করতেন না। কারণ সে ভাবতো তার কষ্ট দেখতে পেয়ে রাজকন্যাও খুব কষ্ট পাবে। কিন্তু যখন রাজকন্যা তার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো তখন যেন তার কষ্ট দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাও সে দমে যায়নি। একা সব কাজ করতে থাকেন। দেখতেই দেখতে কেটে যায় বহু বছর। ধীরে ধীরে রাণী গড়ে তুলেন গোটা এক রাজ্য। হয়ে উঠেন সেই রাজ্যের রাজরানী। রাণী ছিলেন ভীষণ দয়ালু। তিনি সবসময় তার প্রজাদের সাহায্য করতেন। যার ফলে ধীরে ধীরে তার গুনগান চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জনপ্রিয়তা লাভ করেন তিনি। হয়ে উঠেন প্রভাবশালী রাণী। তা দেখে অন্যের রাজ্যের রাজারা ঈর্ষা করতে শুরু করে। রাণীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করে। অন্যদিকে রাজকন্যা তখনও রাণী প্রতি নারাজ। কোন কথা বুঝতে সে রাজি নয় সে। দুইজনের মাঝে তৈরি হয় বিশাল দূরত্ব। আর এই দূরত্বের ফায়দা উঠায় অন্যের রাজ্যের রাজারা। তারা রাজকন্যাকে ব্যবহার করে রাণীকে নিজের পথ থেকে সরানোর পরিকল্পনা করে। আর সফলও হয়। রাজকন্যা রাণীর খাবারে বিষ মিশিয়ে দেয়। রাণী সেই বিষাক্ত খাবার খাওয়ার পরে তার রাজকন্যাকে নিজের রুমে ডেকে আনেন। তাকে রাজ্যের দায়িত্ব দেন। রাজরাণীর মুকট পড়িয়ে দেন। শেষবারের মত রাজকন্যাকে বুঝান যে তিনি কেন তখন তাকে আদর করতে পারেন নি। সময় দিতে পারেন নি। সাথে তিনি এইটাও জানান সে জানতেন খাবারের বিষ কিন্তু তাও তিনি সেই খাবারটা খেয়েছেন একমাত্র রাজকন্যার খুশির জন্য। তখন সব জেনে রাজকন্যা নিজের ভুল বুঝতে পারে আর রাণীর কাছে ক্ষমা চায়। রাণীর ভালবাসা চায়। কিন্তু ততক্ষণে খুব দেরি হয়ে গিয়েছিল। রাণী তখনই লুটিয়ে পড়ে মাটিতে আর তৎক্ষনাৎ সেইখানেই মারা যান। র‍য়ে যায় শুধু আর্তনাদ আর অনুশোচনা।

আমার কথা শুনে অহনা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আমার বুকে মুখ লুকায়। আদো আদো গলায় বলে উঠে,

— আমিও তো রাজকন্যার মত তোমাকে ভুল বুঝেছি তাই না আম্মি?

কথাটা শুনে আমি অহনার মাথায় হাত বুলিয়ে বলি,

— আমি জানি আমার মামণি খুবই বুদ্ধিমতি। বুঝদার। আম্মি তাকে বুঝালে সে ঠিকই আম্মির কথা বুঝবে। সে তো আর ওই রাজকন্যার মত বোকা নয় তাই না?

অহনা জোরে জোরে মাথা ঝাঁকায়। আমি মুচকি হেসে বলি,

— আম্মি যা করছে তোমার জন্যই করছে সোনা। একটু সময় দাও আম্মিকে, আম্মি সব গুছিয়ে উঠলেই তোমাকে আগের মত সময় দিবে। তোমার সাথে খেলবে। আদর করবে। এখনও করবে কিন্তু হয়তো তা একটু কম কম লাগবে। কিন্তু তুমি এতে মানিয়ে নিতে পারবে না?

— হুম পারবো। তুমি আমায় আদর না করলেও চলবে শুধু তুমি আমার পাশে থেক। আমার আর কিছু চাই না। প্রমিস!

আমি অহনার মুখ তুলে তার কপালে চুমু একে বলি,

— এই গল্প থেকে কি শিখলাম জানো? সম্পর্কে কখনো দূরত্ব আসতে দিতে নেই। ভুল বোঝাবুঝি হলে তা মিটিয়ে নিতে হয় কখন তা মনের মধ্যে পুষে রাখতে হয় না। না হলে সম্পর্কে ফাটল ধরে যায়। আর এত মোক্ষম সুযোগই খারাপ মানুষেরা নেয়। তো তুমি কখনো আম্মিকে ভুল বুঝবে না কেমন। আর মনের মধ্যে কোন প্রশ্ন হতে আম্মিকে জিজ্ঞেস করবে। ঠিক আছে?

অহনা মাথা দুলায়। কিছু বুঝা আগেই সে টুপ করে আমার গালে চুমু দিয়ে বসে আর গলা জড়িয়ে ধরে।

___________________________

সবে ভোর হতে শুরু করেছে। সূর্যদেব তার নরম আলো ছড়িয়ে দিয়ে আলোকিত করছে আধারে ডুবে থাকা জগৎটাকে৷ দূর থেকে ভেসে আসছে পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ। দক্ষিণা বাতাস বইছে। এক কিঞ্চিৎ রোদ এসে উঁকি দিচ্ছে জানালার ফাঁক দিয়ে। আমি ফজরের নামাজটা আদায় করে অহনার কাছে এগিয়ে গেলাম। হাত পা ছড়িয়ে ঘুমাচ্ছে সে। আমি অহনার মাথায় ফুঁ দিয়ে ওর পাশে বসি। মাথায় হাত বুলিয়ে দেই। বেশ কিছুক্ষণ পর নামাজের পোশাক ছেড়ে অন্য পোশাক পড়ি। চলে যাই রান্নাঘরে দিকে। ডাইনিং রুমে আসতেই কানে ভেসে আসে পুরুষালী কন্ঠে কোরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ। অতি মিষ্টি তার সুর। সাথে সাথে আমি থমকে যাই। সর্তক চোখে মামার রুমের দিকে তাকাই। ধীর পায়ে এগিয়ে যাই তার রুমে। দরজা ভেজানো। আমি আলতো হাতে দরজাটা ঠেলে দেই। উঁকি মারি ভিতরের দিকে। রুমের মধ্যভাগে পাটি বিছিয়ে একজন মধ্যবয়স্ক মানব বসে আছে। গায়ে তার ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি আর পায়েজামা। মাথায় টুপি। রেহালের উপর কোরআন শরিফটা রেখে সে এক ধ্যানে তা তিলাওয়াত করছে। আমি চেয়ে রই সেইপানে। ওড়না টেনে মাথায় কাপড় দেই। দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে শুনতে থাকি তিলাওয়াতটা। বেশ কিছুক্ষণ পেরুতেই মাথায় টনক নাড়ে, ” মামা আজ কোরআন তিলাওয়াত কেন করছে? তিনি তো সচারাচর কোরআন তিলাওয়াত করেন না। যখনই কারো মৃত্যুবার্ষিকী আসে তখনই… ” কথাটা মনে হতেই আমার মেরুদণ্ড সোজা হয়ে যায়। মনটা অস্থির হয়ে উঠে। দ্রুত মনে করার চেষ্টা করি আজকের তারিখটা। মনে পড়তেই আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। করুণ চোখে তাকাই সামনের দিকে। মনটা ধীরে ধীরে ভরে যায় বিষাদে। বুকটা ভারী হয়ে আস্তে শুরু করে। ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে শুরু করি। কিভাবে ভুলে গেলাম আমি যে আজকে মিহি আন্টির মৃত্যুবার্ষিকী।

#চলবে