#আয়নায়_বন্দী_পরী
#লেখক_আকাশ_মাহমুদ
#পর্ব_২৩
“দরজার ছিটকিনি খুলতেই কালো ছায়ার মতন কিছু একটা দরজা দিয়ে তাঁদের কক্ষে প্রবেশ করে দু’জনের সামনে দাঁড়ায়।দু’জনেই অবাক দৃষ্টিতে সেই কালো ছায়াটার দিকে তাকিয়ে আছে!তখনি তাঁদের রুমের দিকে রাজ দরবারের একজন সিপাহী আসে।যাকে দেখে কিনা কালো ছায়াটা মুহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে গায়েব হয়ে যায়।আর রাজ দরবারের সেই সিপাহী’টা এসে আনহাকে বলে,
–মাসুদা রানী,আপনাদের দু’জনকে রাজামশাই
ডাকছেন।ধর্মোপাসনা কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে।
–ঠিক আছে তুমি যাও।আমরা আসছি।
.
আনহার কথায় সিপাহী চলে যায়।তখনি আনহা আকাশকে বলে,
–আকাশ এটা কি ছিলো!আমাদের পরী-পালকে এই ভয়ানক ছায়ার আবির্ভাব হলো কি করে!আমাদের পরী-পালকে তো অসাধু মতলবি কেউ থাকার কথা না।কারন যে ছিলো,তাকে তো শেষ করে দেওয়া হয়েছে।তাহলে এই অশুভ ছায়া পরী-পালকে আসলো কোথা থেকে!
.
আনহা আকাশকে এসবের বিষয়ে বলতেই আতাউরের বলা শেষ কথা গুলা আকাশের মনে পড়ে।তাই সে আনহাকে বলে…
–আনহা আমি যখন ছদ্মবেশী আতাউরকে শেষ করি,তার আগে সে আমায় বলেছিলো তার উপরেও নাকি কেউ আছে।এবং সে তোমাদের পরী-পালক থেকেই বিলং করে।
–কি বলো এসব?
–হুম সত্যিই বলছি।আতাউর তো আমায় এমনটাই বলেছে।
–দাঁড়াও তাহলে সেই অসাধু মতলবি টাকে খুঁজে বের করছি।তবে তার আগে ধর্মোপাসনা টা শেষ হোক।
–আচ্ছা..
–হুম এবার চলো..
ধর্মোপাসনা শুরু হয়ে যাবে।
.
তারপর আনহা আর আকাশ ধর্মোপাসনায় চলে যায়।রাজ প্রসাদের বিচারালয়ে ধর্মোপাসনার আয়োজন করা হয়েছে।যেখানে কিনা পরী-পালকের সবাই এসে উপস্থিত হয়েছে।পরী-পালকের সব কয়টা পন্ডিত ও এসে উপস্থিত হয়েছে।আকাশ আর আনহা গিয়ে ধর্মোপাসনার মাঝখান বরাবর একটা জায়গায় গিয়ে বসে পড়ে।”অন্যদিকে পন্ডিতরা তাঁদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে আনহা আর আকাশ ধর্মোপাসনায় উপস্থিত হওয়ায়।পরী-পালকের পূর্ব পুরুষ’রা পরী-পালকের লোকদের জন্য বহু শত বছর আগে একখানা কিতাব লিখে গেছে।যার ভিতরে কিনা সব সমস্যার সমাধান রয়েছে।আর সেই কিতাবখানা থেকে বর্তমানে পরী-পালকের পন্ডিত’রা মানব আর পরীর মিলনী নিয়ে সুরাহা বের করছে।যাতে করে আনহা আর আকাশের মিলন হয়ে যায়।এবং তাঁদের মিলনীতে পরী-পালকে এবং বিশেষ করে তাঁদের দু’জনের উপরে কোনো ধরনের মুসিবত না আসে।সবাই চুপচাপ বসে আছে।রূপন্তীও এসেছে ধর্মোপাসনায়।আর পন্ডিতরা নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর পরী-পালকের সব চাইতে বড় পন্ডিত হটাৎ করেই ভয়ানক ভাবে চিৎকার দিয়ে উঠে!যেই চিৎকার শুনে সবাই ঘাবড়ে যায়!পন্ডিতের চিৎকারের আওয়াজ শুনে আনহার বাবা নিজের আসন ছেড়ে পন্ডিতের কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে…
–কি হয়েছে পন্ডিত মশাই?
আপনি এভাবে চেঁচিয়ে উঠলেন কেন?
–রাজামশাই বিনাশ হয়ে যাবে সব কিছু।আমাদের পরী-পালক ধ্বংসের পথে।
–আরে কি হয়েছে সেটা তো বলবেন?
আর পরী-পালক ধ্বংসের পথে মানে?
–আপনার মেয়ে যেই মানবকে বিয়ে করতে চাইছে,সে ভবিষ্যতে পুরো পরী-পালক ধ্বংস করে দিবে।আমি পূর্ব পুরুষের লিখা কিতাব থেকে দেখলাম,এমন একজন আমাদের পরী-পালকে বিচরণ করবে,যাকে কিনা আমরা সবাই ভালো ভাবে গ্রহণ করে নিব।কিন্তু তার হাত দিয়েই পরী-পালক ধ্বংস হবে।মহারাজ আপনি তাড়াতাড়ি জমিনী মানব টাকে সিপাহী দিয়ে আটক করুন।না হয় তো আমরা সবাই শেষ হয়ে যাবো।
–আরে পন্ডিত মশাই কি বলছেন আপনি?এই ছেলে কেন আমাদের পরী-পালক ধ্বংস করতে আসবে?সে তো উল্টো আমাদের পরী-পালককে বাঁচিয়েছে।
–মহারাজ আপনি আপনার মেয়ের জেদের জন্য কোনো কিছুই উপলব্ধি করতে পারছেন না।কিন্তু সত্যিকারত্বে এই ছেলেই পরী-পালক ধ্বংস করবে।আর এমনটাই আভাস পাচ্ছি পূর্ব পুরুষের লিখা কিতাব ঘেঁটে।সো আপনি সেই ছেলেকে বন্দী করুন।না হয় কিন্তু পরে গিয়ে আমাকে কোনো কিছুই বলতে পারবেন না।
.
পন্ডিতের কথা শুনে উপস্থিত যতজন ছিলো ধর্মোপাসনার মজমায়,তাঁদের সবার হুঁশ উড়ে যায়!বিশেষ করে আকাশের!কারন সে কোনোদিন কল্পনাতেও ভাবেনি,যে সে পরী-পালকের ক্ষতি করবে!এবং তাকে নিয়েই পরী-পালকের সব চাইতে বড় পন্ডিত এমনধারা ভবিষ্যৎ বানী করবে!সে থতমত খেয়ে পন্ডিতের দিকে তাকিয়ে আছে!তখনি সেই পন্ডিত আনহারা বাবাকে বলে…
–রাজামশাই,এখনো সময় আছে সব কিছু শেষ হওয়ার আগে সব কিছুকে ঠিক করে নিন।এছাড়া আপনি যদি পূর্ব পুরুষদের লিখা কিতাবে বিশ্বাসী না হন,এবং তাঁদের কিতাব অনুযায়ী আমার বলা ভবিষ্যৎ বানীকে বিশ্বাস না করে এই ছেলের উপরে বিশ্বাস করেন।তাহলে আমি এক্ষুনি পরী-পালক ত্যাগ করবো।কারন পরী-পালকের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আপনার হলেও পরামর্শ কিন্তু আপনি আমাদের থেকেই নেন।এবং আমরাই কিন্তু পন্থা খুঁজে বের করি সব রকম সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার।সো এখন সব কিছুই আপনার উপর।আপনি যদি এই ছেলের অসাধু মতলব বাস্তবায়নে বাঁধা না দেন,তাহলে আমি পরী-পালক ত্যাগ করতে বাধ্য হবো।কারন আমি অকালে মরতে চাই না।সো তাড়াতাড়ি ডিসিশন নিন আপনি।
.
পরী-পালকের পন্ডিতের কথা শুনে আনহার বাবা দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যায়!সে এখন কি করবে,বা তার এখন কি করা উচিৎ সে বুঝে উঠতে পারছে না!তাই সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সিপাহীদেরকে আদেশ করে আকাশকে পাকড়াও করে কয়েদি খানায় বন্দী করতে।
তার এমন ফায়সালা শুনে আনহার মাথা চরম পরিমাণে খারাপ হয়ে যায়।তাই সে ঝাঁঝালো কণ্ঠে তার বাবাকে বলে…
–বাবা এসব কি হচ্ছে হ্যাঁ?
তুমি আকাশকে বন্দী করার আদেশ দিয়েছো কি ভেবে?সে কি এমন খারাপ কাজ করেছে হ্যাঁ?
–আনহা জানি না সে কি খারাপ কাজ করেছে!তবে পরী-পালকের পন্ডিত তো মিথ্যা বলবে না।আর তাছাড়া তিনাকে আমি হারাতেও চাই না।কারন পরী-পালকের সমস্ত বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করার উপায় পন্ডিতরা’ই বের করেন।তাই তিনার কথায় সহমত পোষণ করে আকাশকে গ্রেফতার করার আদেশ দিয়েছি।
–বাবা এই কাজটা একদম ঠিক করলে না।আমি আকাশকে নির্দোষ প্রমাণ করবো।
–ঠিক আছে করিস।কিন্তু আপাতত তাকে কয়েদি খানায় যেতে হবে।
.
আনহা আর তার বাবাকে কিছুই বলে না।তবে তার রাগ চুড়ান্ত পর্যায় পৌঁছে গেছে।তাই সে সেখান থেকে উঠে তেড়েফুঁড়ে অন্য কোথাও চলে যায়।”এদিকে আনহার বাবার প্রহরী’রা আকাশকে ধরে নিয়ে গিয়ে হাজতে পুড়েছে।তবে আকাশ কোনো ধরনের রিয়েক্ট করে না।কিন্তু যদিও সে পন্ডিতের আচরণে বেশ অবাক হয়েছে!তবে সে আনহার দিকে তাকিয়ে কিছুই বলে না।কারন আনহার উপরে তার একটা বিশ্বাস আছে।যে আনহা তাকে এই খাঁচায় বেশিক্ষণ বন্দী অবস্থায় থাকতে দিবে না।এভাবেই একটা বেলা কেটে যায়।আনহা সেই যে রেগেমেগে কোথায় গিয়েছে,সে আর ফিরে আসেনি।এমনকি আকাশের সাথেও দেখা করতে আসেনি।এভাবেই পরী-পালকের আলো নিভে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসে।মানে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে পরী-পালকে।
আকাশ মন মরা হয়ে হাজতে বসে আছে।আর আনহার কথা ভাবছে।তখনি ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে কেউ একজন এসে হাজির হয় আকাশের সামনে।আকাশ কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে জিজ্ঞেস করে…
–কে এখানে?
–আরে আমি রূপন্তী।
–এই তুমি অন্ধকারের মধ্যে এখানে এসেছো কেন?
–তোমায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলার আছে আকাশ।তাই সবার থেকে লুকিয়ে এখানে এসেছি।
–কি কথা বলো..
–আকাশ ধর্মোপাসনা যখন হচ্ছিলো,তখন আমি কোনো এক শয়তানের উপস্থিতি টের পেয়েছি সেই ধর্মোপাসনার মজমায়।আর সেই শয়তান টা আমাদের কাকাতুয়ার কেউ হবে।কারন আমাদের কাকাতুয়ার লোকেরা তাঁদের নিজেদের গোত্রের বা তাঁদের নিজেদের এরিয়ায় বসবাসকারী সবার উপস্থিতিই বুঝতে পারে।আর আমিও সেই সুত্রে বুঝতে পেরেছি ধর্মোপাসনার মজমায় আমাদের সেখানকার কেউ একজন ছিলো।আর যে ছিলো,সে অনেক বড় শয়তান।এবং আমার থেকেও বেশি শক্তিশালী।না হয়তো সে আমার কাছে ধরা খেতো।আর আমি তাকে দেখে বা তার উপস্থিতি টের পেতেই তাকে ধরে ফেলতাম।
.
আকাশ রূপন্তীর কথা শুনে যা বুঝবার তা বুঝে নেয়।কারন ছদ্মবেশী আতাউর তাকে বলেছিলো,তার থেকেও উচ্চ লেভেলের শয়তান এই পরী-পালকেই বসবাস করে।মানে হলো শয়তানের গডফাদার সে।
আর সেই জন্যই রূপন্তী তাকে ধরতে পারেনি।আকাশ সব কিছু বুঝলেও রূপন্তীকে সেই বিষয়ে কিছু বুঝতে দেয় না।তাই রূপন্তী আকাশকে বলে…
–কি হলো চুপ করে আছো কেন আকাশ?
কিছু তো বলো…
–রূপন্তী আমার জন্য একটা কাজ করো তুমি।
–কি কাজ..
–তুমি আনহাকে বলো আমার সাথে দেখা করতে।
–ঠিক আছে বলবো।কিন্তু তাকে তো ধর্মোপাসনার মজমা থেকে উঠে যাওয়ার পর আর কোথাও দেখতে পাইনি।
–মেয়েটা হয়তো মন মরা হয়ে কোথাও বসে আছে।তুমি প্লিজ তাকে খুঁজে বের করে আমার সাথে জরুরী ভাবে দেখা করতে বলো।
–আচ্ছা ঠিক আছে তুমি টেনশন করিও না।আমি তাকে খুঁজে বের করে তোমার সাথে দেখা করার কথা বলছি।
–হুম..
–আচ্ছা চলে গেলাম আমি।
–আচ্ছা…
.
রূপন্তী আকাশের কাছ থেকে এসে আনহার খোঁজ করতে শুরু করে।অনেক খোজাখুজির পর সে আনহাকে দেখতে পায়।আনহা মন মরা হয়ে রাজ্যের একদম সর্ব চুড়ায় উঠে একা একা বসে আছে।মানে হলো রাজ ভবনের ছাদে আনহা একা একা বসে আছে।সে আনহার কাছে গিয়ে আকাশের বার্তা তার কাছে পৌঁছে দেয়।
“অপরদিকে আনহার বাবা পরী-পালকের সব চাইতে বড় পন্ডিতকে আকাশের বিষয়ে জিজ্ঞেস করে,
–আচ্ছা পন্ডিত মশাই ছেলেটাকে কি করবেন?
তাকে তো আপনার কথা মতন বন্দী বানিয়েছি।
–আগামীকাল সন্ধ্যায় আবারো একটা মজমা তৈরী করবো।তারপর সবার সামনেই তাকে শেষ করে তার রক্ত দিয়ে পরী-পালকের বেড়িবাঁধ তৈরী করবো।এবং সবাইকে সতর্ক করবো।আগামীতে যেনো কেউ জমিনের কারোর সাথে সম্পর্কে না জড়ায়।
–পন্ডিত মশাই এটা কি ঠিক হবে?
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ছেলেটা এমন না।
–রাজামশাই,মনে না হলেও কিছু করার নেই।কারন আমাদের পূর্ণ পুরুষ’রা কখনো বানোয়াট কিছু লিখবে না কিতাবের মধ্যে।কারন তারা আগেও পরী-পালক রক্ষা করে গেছে।এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা কি করে নিজেদেরকে রক্ষা করবে,এবং কি করে পরী-পালককে রক্ষা করবে সেই নিয়ম কানুন ও বলে গেছে।তাই আমরা তাঁদের নিয়ম কানুন এই অনুসরণ করবো।
–ঠিক আছে পন্ডিত মশাই,আপনার পরামর্শ মতেই সব হবে।
.
আনহার বাবা আর পন্ডিত কথা বলছিলো।এমন সময় আনহা তার বাবার কক্ষে আসে।যদিও বা তার যাওয়ার কথা ছিলো আকাশের কাছে।কিন্তু সে জরুরী একটা কথা বলার জন্য আকাশের কাছে না গিয়ে তার বাবার কাছে আগে আসে।পন্ডিত আনহাকে দেখতে পেয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে চলে যায়।যাতে করে বাপ-মেয়ে নিজেদের মতন কথা বলতে পারে।আনহা তার বাবার কাছে এসে তার বাবাকে বলে….
–বাবা আকাশকে মুক্ত করে দাও।কারন আমি জানি সে খারাপ কোনো মতলব নিয়ে এখানে আসেনি।
–আনহা আমারো তাই মনে হচ্ছে।কিন্তু ঐ যে বললাম পন্ডিত মশাই,তার কিতাব দেখে বলা ভবিষ্যৎ বানীকে তো মিথ্যা বলা যাবে না।তাই তিনার সাথে মত পোষণ করেছি।আর তিনার পরামর্শ অনুযায়ী আগামীতে সব কিছু করবো।কারন তিনি পরী-পালকের ভালো চায়।
–তো তার পরামর্শ কি?আর তোমরা আকাশের সাথে কি করতে চাইছো?
–পন্ডিত বললো আগামীকাল একটা মজবা তৈরী করবে।যেখানে পরী-পালকের সবাই থাকবে।এবং সবার সামনে আকাশকে শেষ করে দেওয়া হবে।এবং তার রক্ত দিয়ে পরী-পালকের বেড়িবাঁধ করা হবে।
–বাহ কি সুন্দর কথা।আমার তো মনে হচ্ছে রাজ তুমি নও।রাজা হচ্ছে পন্ডিত মশাই।
–আনহা এমনটা নয়।আসলে কথা হচ্ছে পরী-পালকের ভালোর জন্য যে যাই করবে,আমি তার পক্ষ নিতে বাধ্য।কারন আমি রাজা।ভালোর সঙ্গ দেওয়া আমার কর্তব্য।
–ঠিক আছে তুমি তোমার কর্তব্য পালন করো।আর আমিও আমার কর্তব্য পালম করবো।এটা মনে রেখো আমি বেঁচে থাকতে আকাশের কিছু হতে দিব না।কারন আমি জানি সে খারাপ মানুষ নয়।
–দেখ মা,সত্যি বলতে আমারো মন বলছে সে খারাপ না।কারন আমি বন্দী ছিলাম।আর তুই ও বন্দী ছিলি।ছেলেটার যদি খারাপ উদ্দেশ্য থাকতো,তাহলে সে তোকে না বাঁচিয়ে পরী-পালকের ক্ষতি করতে পারতো।তবে সে এমনটা করেনি।বরং তোকে আর আমাকে বাঁচিয়েছে।কিন্তু অন্যদিকে পরী-পালকের পন্ডিত,যে কিনা অনেক বড় লেভেলের মানুষ।যদিও বা আমি রাজা।কিন্তু আমি তার সাথে সঙ্গ না দিলে খারাপ দেখায়।কারন না হয়তো পরী-পালকের লোকেরা বলবে আমি পরী-পালকের ভালো না চেয়ে নিজের মেয়ের কথা চিন্তা করছি।তাই আমি তার মতে মত মিলিয়েছি।কিন্তু তুই একটা কাজ কর।আগামীকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তোর হাতে সময় আছে।তুই এমন কিছু একটা খুঁজে বের কর,যাতে করে তাকে তুই বাচিয়ে নিতে পারিস।
–ঠিক আছে বাবা।
.
আনহা তার বাবার কক্ষ ছেড়ে আকাশের কাছে কয়েদি খানায় আসে।তারপর আকাশের সাথে দেখা করে।
আনহা আকাশের সাথে দেখা করতে এসে ফুফিয়ে কান্না করে দেয়।তখনি আকাশ আনহার দুই গালে হাত রেখে তাকে শান্ত করে।এবং তার পরে তাকে একটা বুদ্ধি শিখিয়ে দেয়।আর সেই অনুযায়ী আনহা সেখান থেকে চলে এসে আকাশের কথা মতন নিজের কাজে লেগে যায়।
.
“পরেরদিন সন্ধ্যায় মজমা জমে যায়।এবং সবাই উল্লাস করতে করতে দলবদ্ধ হয়ে আকাশের মৃত্যু দেখতে এসেছে।কারন পরী-পালকের বেড়িবাঁধ যেদিন তৈরী করা হয়,সেদিন সবাই আনন্দ উল্লাস করে।আকাশকে মজমায় হাজির করা হয়েছে।আর পরী-পালকের পন্ডিতরা নিজেদেরকে পবিত্র করে কিছু একটা পাঠ করতে আরম্ভ করে সবাই মিলে।সম্ভবত কোনো একটা রীতি-রিওয়াজ পালন করছে সবাই মিলে।কিছুক্ষণ পর সবাই থেমে যায়।এবং সিপাহীরা আকাশকে এনে তার হাত- পা বেঁধে তাকে একটা কাঠের কলের মধ্যে সোজা করে শুইয়ে দেয়।আর পন্ডিত একটা ধারালো রামদা নিয়ে আকাশের দিকে অগ্রসর হয় আকাশকে শেষ করে পরী-পালককে রক্ষা করার জন্য।তখনি আনহা হুট করে কোথা থেকে যেনো এসে সবার উপরে এক জাতীয় পানি ছিটাতে শুরু করে।আর রূপন্তী আগ থেকেই সেই মজমায় ছিলো।সেও তার হাতির মুঠি খুলে এক জাতীয় গাছের বীজ উপরের দিকে ছুড়ে মারে।আনহা আর রূপন্তী দু’জনে আগ থেকেই প্ল্যান করে এসেছে।আনহার পানির ছিটা গায়ে পড়ায় কেউ একজন ভয়ানক ভাবে চেঁচাতে আরম্ভ করে।আর রূপন্তী উপরের দিকে ছুঁড়ে মারা গাছের বীজ গুলা সেই লোকটার গায়ের উপরেই গিয়ে পড়ে,যে কিনা চেঁচাচ্ছিলো।আর সাথে সাথেই সেই বীজ গুলা গাছে রুপান্তরিত হয়ে সেই লোকটাকে গাছের ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলে।যেটা দেখে সবাই হতবাক হয়ে যায়!কিন্তু আনহা হতবাক না হয়ে সজোড়ে হাসতে আরম্ভ করে….
চলবে….
গল্পের ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমার নজরে দেখবেন।