#ইচ্ছে_কথন
#falak_moni
#পর্ব_২৩
বিকাল ৪টা বাজে ছাদের এক কর্নালে দাড়িয়ে আছে তরু। সূর্য অস্ত যাবে বিকালে ৫টা কিংবা ৫:৩০ মিনিটে।তাই দাড়িয়ে আছে সেই দৃশ্যটা দেখার জন্য। দক্ষিণা এক হিমেল হাওয়ার ঠান্ডা হিম বয়ে যাচ্ছে তার শরীর জুরে। অনুভূতিগুলো কতই না প্রখর বিদ্রূপাত্মক হয়ে ভাসিয়ে যাচ্ছে মনের কিনারায়। ভালোবাসা হয়তো এমন একটা বিত্তহীনতার আর্যগণ উপাস্যদে আসুর। যেটার থেকে হাজারো মুখ ফিরিয়ে নিলে এক জায়গায় ঠাই হয়ে থাকে। দক্ষিনা হিমেল হাওয়ার সাথে সাথে তরুর মনটাকেও ফ্রেশ করতে চায়। কিন্তু মন তো ফ্রেশ হচ্ছেনা। সেটা কেবল একটা নামই যপছে প্রিয়, প্রিয়, প্রিয়। কিন্তু এই নামটাকে তো এবার ভুলার সময় হয়ে এসেছে। তরু অন্যমনস্ক হয়ে ছাদের নিচে তাকালো। তাকিয়ে দেখতে পেল একটা ছেলে আর একটা রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে। ছেলেটার হাতে একটা হাওয়াই মিঠাই যেটা মেয়েটাকে খুব আদরে যত্ন করে খাওয়াচ্ছে। মেয়েটা বার বার নিষেধ করা শর্তেও ছেলেটা জোর করে মেয়েটাকে খাওয়াচ্ছে। তরু না চাইতেও চোখে অশ্রু টলটল জমাটবদ্ধ হয়ে গেল। মলিন মুখেন একটা মৃদু হাসি দিয়ে নিজে নিজেই বলতে লাগলো,
হায়রে কেয়ারিং, কেউ চায় কেউ বা না পায়।আর আমি আমি তো এটার যোগ্যই না। যদি যোগ্য হতাম তাহলে প্রিয় প্রতিদিন খাবারের সময় একটিবার হলেও আমার খোঁজ নিত। খেয়েছি নাকি উপোস রয়েছি।
তরুর চোখের পানি মুছে পেছন ফিরে। পেছন ফিরতেই বাকরুদ্ধ হয়ে দাড়িয়ে পড়ে। কারন পেছনে সয়ং প্রিয় দাড়িয়ে আছে। তরু প্রিয়কে এভোয়েট করে নিচে নেমে যেতে নেয় তখনই প্রিয় তরুর হাত ধরে পথ আটকায়।
দাড়া তরু তকে আমার কিছু বলার আছে?
তরু নিচের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
কি বলবে বলো।
আমি আজ অফিস থেকে ফিরে এসেছি শুধু একটি কারনে। কাল রাতের জন্য আমি খুবই সরি তরু। আসলে এটা আমার করা উচিত হয়নি। আমি তকে সেভাবে থাপ্পর দিতে চাইনি। কিন্তু কি করব বল কন্ট্রোল বলে কিছু একটা আছে। তর এমন হুটহাট জরিয়ে ধরা,চুমু খাওয়া এসব আমাকে কন্ট্রোল থাকতে দেয় না।
তরু এবার প্রিয়র চোখ পানে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
সত্যিই কি তাই?
প্রিয় তরু সামনে হাটু গিরে বসে প্যান্টের পকেট থেকে একটা গোলাপ বের করে তরুর দিকে নিক্ষেপ বলতে লাগলো,,
আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি ভেনডি।
প্রিয়র কথা শুনে তরু বিষম খাওয়া অবস্থা।তরুর প্রিয়র দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো। এমন একটা সময়ে প্রিয়র এমন একটা প্রত্যবর্তন আশা করেনি সে। তাই ছাদের কিনারে ঠায় হয়ে দাড়িয়ে খুব এক্সাইটেড হয়ে বলতে লাগলো,
হোয়াট ভেনডি?
হুম তুমি আমার ভেনডি।
তরু প্রিয়র কথা শুনে আঁতকে আছে। প্রিয় তরুকে আরো অবাক করে দিয়ে গান ধরলো ,
বয়স আমার বেশি না ওরে ও তরুর মা, খালি চুল কয়ডা পাইক্কা গেছে বাতাসে,
তোমার মাইয়াডারে দিবানা একথা মোরে কবানা। তাইলে মুই সন্নাসি হইয়া যামু এ বয়সে।
প্রিয়র কথা শুনে তরু হাসতে লাগলো। এটা কোনো গান ভাবতেই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আফসোস মা নেই। পরক্ষণেই মনে পড়লো অন্য কথা নিমিষেই হাসিটা মলিন করে প্রিয়র দিকে বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো।
প্রিয় মাথাটা চুলকে মুখটাকে বাকা করে বলতে লাগলো,
শুধু শাশুড়িটা নেই। নয়তো গানটাকে আরো সুন্দরভাবে বানিয়ে বলতে পারতাম।
তরু প্রিয়কে এমন চঞ্চল স্বভাবে আজ অব্দি দেখেনি। যখনই দেখেছে মুখটাকে গম্ভীর করে রাখতো রাংলা পাঁচের মতো করে । তবে আজ দেখে একটু ভালোই লাগছে। কিন্তু হাতে ফুল। তারপর আবার ভেনডি। এসব কিছুই মাথায় আসছে না। তরু এখনো বাকরুদ্ধ হয়ে প্রিয়র দিকে তাকিয়ে আছে। প্রিয়র হাতে থাকা ফুলটা তরুর মাথার খোপায় গুঁজে দিয়ে বলতে লাগলো,
আমার কেশবতী রূপেরঘটা মায়াবতী। যাকে প্রথম দেখায় মুগ্ধতা ভরপুর হয়েছিলো মনের ভেতর যেটার বর্হিরপ্রকাশ আমি সেই মায়াবতীকে করতে পারিনি।কারন আমার মনের ভেতর এক অন্ধত্ব উন্মাদনা ডেকে ছিল এতদিন৷ যেই উন্মাদ থেকে আজ বের হতে পেরেছি। আমি নিশ্চিত যে আমি তোমাকে ভালোবেসেছি। কারন কাল সারা রাত অব্দি দিন হতে তোমার ঐ মায়াময় আকুলতার মুখখানা আমাকে বার বার নিরাশা করে গিয়েছে। কারন আমার ভেতর তোমার আর আমার বয়স নিয়ে বেশি চিন্তা ছিলো।তোমার বয়স ১৮আর আমার ৩০ তুমি নিজেই ভেবে দেখ কতটা ডিফারেন্স। কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে আমি তোমাকে ছাড়া বাকি জীবনটা রাঙিয়ে দিতে পারবো না। তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত কাটাতে পারবোনা। আমার নিঃশ্বাস প্রঃস্বাসে তোমাকে আমার খুব দরকার। বিকজ লাই লাভ হিম। আমি তোমাকে ভালোবাসি তরু।
প্রিয়র কথা শুনে তরুর চোখ থেকে কয়েক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো।এটা কি সুখের কান্না নাকি দুঃখের কান্না। কাউকে পাবার আনন্দ নাকি জীবন থেকে কাউকে হারাবার আনন্দ। সেটাই বুঝতে পারছেনা তরু। প্রিয় তরুর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলতে লাগলো,
আর এক ফোটা চোখের পানি আসতে দেব না এই কথা দিলাম তোমাকে। আগলে রাখবো আমার সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে।
তরু মান অভিমান করে প্রিয় উপর কখনো রাগ দেখাতে পারেনি। এখনও বরাবর একই কাজ করলো।সব কিছু ভুলে প্রিয়কে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো তার বাহুডোরে। প্রিয় তাকে এভাবে আপন করে নিবে বুঝতে পারেনি। ভেবেছে হয়তো এই লোকটা সব সময় একই থেকে যাবে অনুভূতিহীন।
তাদের এমন দৃশ্য দেখে আফজাল চৌধুরি , কল্প জোরে জোরে পেছন থেকে হাত তালি দিতে লাগলো। তার মানে এতক্ষণ তারা ছাদের ওপাশে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সব শুনছিলো নাকি। তরু লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো সাথে প্রিয়ও৷ আফজাল চৌধুরি বলতে লাগলো,
অবশেষে প্রিয় তরুকে মেনে নিতে পারলো তাহলে?
প্রিয় নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। বাবার দিকে তাকাতে এই মুহূর্তে লজ্জা লাগছে। কল্প বলতে লাগলো,
যাক বাবা অনেক খুশি হলাম। যে আমার ভাইটা শেষ পর্যন্ত ভাবির কষ্টটা বুঝলো।
বলেই তরুর দিকে তাকিয়ে তরুকে চোখ মারলো। তরু কল্পকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আফজাল চৌধুরি বলতে লাগলো,
প্রিয় যেহেতু তরুকে মেনে নিয়েছে। তাই আমি ভাবছি আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের বিয়েটা সম্পূর্ন করতে। কারন আমি জানি তারা গত একমাস এক সাথে থাকলেও স্বামী স্ত্রী কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠে নি। কারন সেটা আমি। আমাকে খুশি রাখার জন্য প্রিয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। কিন্তু প্রিয় তো জানেনা তার বাবার টেলেন্ট। ঘরের কোথায় কি চলে সব আমি বুঝেও না বুঝার মতো থাকি। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে প্রিয় আর তরুর বিয়ের ডেট ফিক্সড করার আগ মুহূর্তে তরু নাতাশার ঘরে থাকবে আর কল্প প্রিয়র ঘরে। নাতাশার জন্য তরুর চেয়ে ভালো কেয়ারিং আর কেউ হবেনা। সো ডিসিশন ইজ ফাইনাল বলেই চলে যায়। প্রিয় আর কল্প দুই ভাই দুই ভাইয়ের গলায় জরিয়ে বলতে লাগলো,
এ……
#চলবে
#ইচ্ছে_কথন
#writer_falak_moni
#পর্ব_২৪
২৪.
নাতাশার পেটের উপর হাত দিয়ে তরু চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে তার পাশে।নাতাশা আস্তে করে তরুর মাথায় আলতোভাবে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর মনে মনে ভাবছে৷।
মেয়েটা এমন চুপচাপ শুয়ে আছে কেন। মুখটাকে এমন মলিন মলিন লাগছে কেন। তার তো আজ খুশিতে আটখানা হওয়ার কথা। কিন্তু মেয়েটার চোখ মুখ এমন গ্লানি দেখাচ্ছে কেন। যেন সে অনেক অসুস্থতায় ভুগছে।
নাতাশা তরুর কপালে একটা চুমু দিয়ে তরুকে আস্তে করে ডাকে। ডাক শুনতেই তরু চোখ মেলে খুব দৃঢ়ভাবে তাকায় নাতাশার দিকে। মেয়েটার এমন চাহনি দেখে নাতাশার বুকটা কেপে ওঠলো। কারন মেয়েটার চোখগুলো লাল হয়ে আছে। মুখটা কেমন যেন হলুদাভ হয়ে আছে৷ ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ভেসে আছে মেয়েটার চেহারায়। নাতাশা তরুকে আদুরে মাখা গলায় হাতটা ধরে বলতে লাগলো,
তরু কি হয়েছে তর?
তরু একটা মলিন হাসি দিয়ে বলল কিছুনা আপু। শরীরটা ভালো লাগছেনা।কেমন যেন ম্যাচ ম্যাচ করছে।
নাতাশা বোরকে গেল তরুর কথা শুনে। কারন মেয়েটার গলার কন্ঠটাও কেমন যেন শুনাচ্ছে। নাতাশা তরুর দিকে তাকিয়ে আবারো বলতে লাগলো,
মাথায় পানি দিয়ে দেব।
তোমাকে কিছু করতে হবেনা সোনা আপু। তুমি শুধু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও।কারন তোমার হাতের ছোয়ায় আমি আমার মাকে অনুভব করতে পারি। আমার মনে হয় আমার মা আমার পাশেই আছে।
নাতাশা তরুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু মনের ভেতর কেন যে একটা সন্দেহ খটকা লাগতে লাগলো।তাই সে বালিশের কোনে থাকা থেকে ফোনটা বের করে প্রিয়কে একটা এস এম এস দিল।যাতে লেখা ছিল।
প্রিয় আমার রুমের বাহিরে একটু এসো তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
প্রিয় তখন হাতে ফোন নিয়ে তরুর ছবিই দেখে যাচ্ছিলো। কারন মেয়েটাকে না দেখলে যে এখন তার নিদ্রাও চলে যায়।মেয়েটার প্রতি সে আসক্ত হয়ে গেছে সেই একমাস আগে থেকেই। যখন তার বন্ধুরা মিলে ট্যুরে গিয়েছিলো তখন। প্রিয় হঠাৎ নাতাশার এমন মেসেজ দেখে চিন্তায় ভেঙ্গে পড়লো। কারন এত রাতে নাতাশা তার রুমের বাহিরে কেন ডাকবে। পুরাতন কথা মনে করাবার জন্য না তো। প্রিয়র পাশে কল্প ঘুমিয়ে আছে। এখন যদি কল্প দেখে এত রাতে তার বৌ প্রিয়কে ডাকছে ঘরের বাহিরে তাহলে ব্যপারটা অন্যদিকে মোর নিবে। তাই প্রিয় রিপ্লাই দিল।
হাউ এ্যানি প্রবলেম।
নাতাশা সাথে সাথে মেসেজের রিপ্লাই দেয়।
এত কিছু বলতে পারবোনা তুমি তাড়াতাড়ি আসো।
প্রিয় কোনো উপায় না পেয়ে নাতাশার দরজার সামনে দাড়িয়ে ওয়েট করতে লাগলো। তরু এতক্ষণে ঘুমিয়ে গেছে। নাতাশা আস্তে করে বিছানা থেকে নেমে খালি পায়ে গায়ে শাল জরিয়ে নেমে এসে প্রিয়র পাশে দাড়ালো।
ঠান্ডা শীতের রাত্রিটা দেখতে বেশ চৌচির শূঁড় হয়ে আছে । আকাশে নেই কোনো তারা মেলা। অবকাশন আকাশটা ঘন হয়ে আছে শিশির জমে। দূরে আকাশে এক ফালি চাঁদ উঠেছে। সেটাও কুয়াশার জন্য ঝাপসা হয়ে আছে। অনক্ষরী পরিবেশে নাতাশার কেমন যেন বিদগুটে বিদগুটে লাগছে। কিন্তু কিছু করার নেই। প্রিয় পাশে দাড়িয়ে প্রিয়কে এক নজর দেখে নিলো। এই সেই প্রথম ভালোবাসা। যাকে নিয়ে দিন রাত এক করে স্বপ্ন কল্পনা উভয় করে যেত। কিন্তু আজ সে যেমন অন্যকারো নাতাশাও ঠিক তেমন। তবে কেন যে বুকের বা পাশটায় এখনো তাকে নিয়ে হাহাকার জুরিয়ে থাকে যেটা নাতাশা টের পেলেও নিজেকে সামলিয়ে নেয়।হয়তো প্রথম ভালোবাসা সে জন্য। নাতাশা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
তোমাকে যদি জরিয়ে ধরার অধিকার থাকতো। তাহলে হয়তো এতক্ষনে জরিয়ে ধরতাম। কিন্তু না তুমি আমার বাসুর। তবে আজ আমি অনেক খুশি যে তুমি তরুকে মেনে নিতে পেরেছো। প্রিয় নাতাশার দিকে তাকিয়ে ধির হয়ে একটা হাসি দিল। যে হাসিতে নাতাশা বুঝতে পেরেছে।তরুতে শুধু সে মেনেই নেয় নি। তরুতেই সে আসক্ত। তরুই তার ইচ্ছে কথন। যাকে ইচ্ছে হলে মারবে, ইচ্ছে হলে আদর করবে। আবার ইচ্ছে হলে শাসনও করবে৷ নাতাশা বিষয়টা বুঝতে পেরে ঠোঁটের কোনে হাসি টেনে বলতে লাগলো,
তোমাকে এখানে ডেকেছি শুধু মাত্র একটি কারনে।কারন তুমি তো এতদিন তরুর সাথে থেকেছো মেয়েটার চেহায় যে একটা অসুস্থতা ভাব ফুটে আছে সেটা কি খেয়াল করেছো।
নাতাশার কথা শুনে প্রিয় হেয় হয়ে রইলো।কারন তরুকে তো সব সময় একই দেখতো সব সময় তার সামনে হাসি খুশি থাকতো ।তবে তেমনভাবে সরাসরি দেখতো না। ঘুমালেই এক মাত্র তার দিকে তাকিয়ে থাকতো। নাতাশার কথাটা শুনা মাত্রই প্রিয়র ভেতর এক অজানা ভয় তীব্র বেগে ছুটতে লাগলো। বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে কম্পন হতে লাগলো। তরুর যেন কিছু না হয়ে যায় সেটা ভেবেই।প্রিয় কেমন অস্থিরতা মনস্তাপ হতে লাগলো।নাতাশা সেটা বুঝে বলতে লাগলো,
ঘাবড়িও না প্রিয়। তরু ঠিক হবে। তবে মেয়েটাকে আজ আমি কেমন যে অদ্ভুত দেখলাম। কারন যে মেয়েটা গত তিনটা বছর আমাকে জ্বালিয়েছে শুধু তোমার সাথে একটু কথা বলবে বলে। তোমাকে ভিডিও কলে একটু দেখবে বলে। তুমি কি করলে তাকে পছন্দ করবে। তোমার প্রিয় খাবার কি এসব বলে। সে মেয়েটা আজ তোমাকে পেয়েও কেন যেন নিরবতা হয়ে আছে। মুখে কোনো হাসি নেই । শুধু ক্লান্তির অবসান দেখতে পাচ্ছি। কথার ভেতর বার বার শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছে।
নাতাশার কথা শুনে প্রিয় নিজেকে অপরাধী ভাবতে লাগলে।কারন এইটুকু একটা বাচ্চা এত অনুভূতি ছিল তাকে নিয়ে। আর সে কিনা একটা মেয়েটার খোজ কবরও রাখে নি এমন কি মেয়েটাকে এতদিন এভাবে কষ্ট দিয়ে এসেছে। গালে থাপ্পর মেরেছে আরো কত কি। প্রিয়র কেন যে বুকের বা পাশটা চিন চিন করতে লাগলো। মেয়েটার কিছু হয়নি তো। ওর কিছু হলে যে সে নিজেই বাঁচবেনা।কারন মেয়েটার প্রতি যে সে আসক্ত হয়ে গেছে। রাতে মেয়েটার ঘুমন্ত মুখখানা না দেখলে যে তার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়।
প্রিয় না চাইতেও আপসেট হয়ে নাতাশার কাঁদ ঝাকিয়ে বলতে লাগলো,
প্লিজ নাতাশা যেই ভাবেই হোক তরুকে আমার চাই ওর কিছু হলে আমি নিজেই বাঁচবো না। প্লিজ নাতাশা কিছু একটা কর।
প্রিয়র চোখে তরুর জন্য এতটা ভালোবাসা দেখে নাতাশা ভেতরে ভেতরে অনেকটা শান্তি পেল। অবশেষে আসক্তিতে বাধতে পারলো তরু এই অনূভুতিহীন মানুষটাকে। নাতাশা প্রিয়কে ধরাগ্রস্ত গলায় বলতে লাগলো,
প্রিয় আমাকে ছাড়ো শরীর ভালো লাগছেনা। আর তরুর কিছু হবেনা। ওকে একটা ভালো ডাক্তার দেখাও। আর আমি বলি কি, ওকে তোমার সাথে রাখো। কারন আমার অবস্থা তো বুঝতেই পারছো। নিজের শরীরটাকে নিজের কাছে ফুরসত করতে ইচ্ছে করে ন। আর তরুর টেক ইয়ার কিভাবে করব। তুমি ওকে একটু ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখো দেখবে মেয়েটা একদম ঠিক হয়ে যাবে।
নাতাশার কথা শুনে প্রিয় কোনো প্রতিক্রিয়াই করলো না। সোজা রুমে চলে গেল। নাতাশাও নিজের রুমে চলে গেল। গিয়ে তরুর দিকে আবারো তাকালো। মেয়েটার মুখটা কেমন ফেকাসে হয়ে আছে। নাতাশা মনে প্রানে বলতে লাগলো,
আল্লাহ মেয়েটার যেন কিছু না হয়। সেই কামনাই করি তোমার কাছে।
সকালবেলা
আফজাল চৌধুরির মুখোমুখি বসে আছে প্রিয়। ছেলে হঠাৎ ডাকলো কেন কারন প্রিয় তো কখনো আলাদাভাবে কোনো কথা বলতো না। প্রিয় বাবার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
বাবা তরুকে নিয়ে আজ একটু হসপিটাল যাব।
কেন বাবা তরুর কি হয়েছে?
বাবা জানিনা। তবে সে অসুস্থ এতটুকুই বলব তোমাকে। কারন তরুকে আমি বল্লে সে কখনোই হসপিটাল যাবে না আমার সাথে। তাই তুমি বলো সেটাই ভালো হবে।
আফজাল চৌধরি সাথে সাথেই তরুকে ডাকলেন। তরু রান্না ঘরে ছিল। সেখান থেকে আস্তে আস্তে হেঁটে এসে দাড়ালো প্রিয়র পাশে। প্রিয় তরুর দিকে তাকিয়ে আছে। সত্যিই তো মেয়েটাকে কেমন যেন লাগছে। চোখ জোড়া কেমন যেন নিচের দিকে প্রসস্ত হয়ে আছে। ঠোঁট জোড়া শুকিয়ে আছে। আফজাল চৌধুরি তরুর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
তরু রেডি হয়ে নাও কিছুক্ষণ পর ডাক্তারের কাছে যাবে।
তরু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো আফজাল চৌধুরির দিকে। তারপর নরমাল কন্ঠে বলতে লাগলো,
কেন বাবা।
তরুর কথা শুনে প্রিয়র রাগ হতে লাগলো। ডাক্তারের কাছে কেন যায় মানুষ। প্রিয় তরুর দিকে চোখ পাকিয়ে শক্ত গলায় বলতে লাগলো,
মরতে যাব৷ মরার তো বেশি শখ হইছে সেজন্য। তবে এটা যেন রাখো তুমি মরার আগে আমি মরব। তারপর ডাক্তারকে বলে যাব তোমাকে ইনঞ্জেকশন দিয়ে মারতে। কারন আমার চোখে তোমার মরন সহ্য করতে পারবো না। তাই আমিই আগে মরি সেটাই ভালো হবে।
প্রিয়র কথা শুনে তরু বাবা স্তব্ধ হয়ে রইলো। আফজাল চৌধুরির বেশ খুশিই লাগছে। যাক অবশেষে ছেলেটা তাহলে মেয়েটাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে এটাই অনেক। তরু প্রিয়র কথা শুনে অবাক হয়ে রইলো। কি অলোক্ষনে কথা বলে এসব ছি…
বেলা দুপুর ১২টা বাজতে চলল, কল্প আর প্রিয় দাড়িয়ে আছে দরজার বাহিরে ভেতরে তরুরকে অনেকগুলো টেস্ট দিয়েছে। যেগুলোর রিপোর্ট পাবে আগামীকাল। তরুকে সব টেস্ট করানোর পর বাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে এসে তরু নাতাশার ঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। তখনই প্রিয় হাতটা শক্ত করে ধরে ফেলে।
#চলবে