ইচ্ছে কথন পর্ব-২৭+২৮

0
841

#ইচ্ছে_কথন
#writer_falak_moni
#পর্ব_২৭

তরুকে একটা হলুদ রঙের ভেতর লাল পাড়ের সুতি কাপড় পড়ানো হয়েছে। চুলগুলো বেনী করে সামনের দিকে কোমড়ের বিছার সাথে বেধে দেওয়া।যেহেতু চুলগুলো সামলানো তার জন্য মুশকিল তাই বিছার সাথে বেঁধে দেওয়া।
ছোট ছোট চুলগুলো সামনের দিকে একটু কুকরানো স্টাইল করে রাখা হয়েছে। কপালে লাল রঙের টিপ পড়ানো ঠোঁটে গাঢ় খয়েরী লিপস্টিক। মুখে কোনো মেকাপ নেই।মেকওবার ছাড়াই মেয়েটার মুখে এক স্নিগ্ধতা ফুরিয়েছে। যেটা তার ফেইস দেখলেই বুঝা যায় । মেয়েটা তেমন আহামারী ফর্সা নয়৷ আবার কালো নয়। এক অন্যরকম গায়ের রঙ।এই হলুদ রঙটা যেন তার জন্যই ব্যবস্থাপনা করা। সাজপোশাক সবই নাতাশা নিজের হাতে করেছে। যদিও নাতাশার এখন একটু সমস্যা চলছে। তবে তরুর জন্য তার কাছে এটা কিছুই না। মেয়েটার হাসি খুশির মুহূর্তে তার পাশে দাড়াবেনা সেটা তো হতে পারে না। নাতাশা তরুকে ভর দিয়ে আস্তে আস্তে করে নিচে নামতে লাগলো। প্রিয়কে স্টেইজে অলরেডি বসানো হয়েছে গেছে । হলুদ পাঞ্জাবি চুলগুলো স্পাইক করে একপাশে রাখা। গালে হালকা চাপ দাড়ি লোকটাকে মন্দ লাগছেনা। ২৫বছরের ইয়াং যুবক বলে মনে হচ্ছে তরুর কাছে। প্রিয় এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে তরুর দিকে। মেয়েটাকে এত মায়া কেন লাগে।যতই মেয়েটাকে দেখছে ততোই যেন নতুন করে প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করছে। তাকে নিয়ে অনুভূতিগুলো প্রকটভাবে নাড়া দিচ্ছে মনের কৌঠায় যেখানে জমা রয়েছে তরুকে নিয়ে হাজারো ভালোবাসার বর্হিপ্রকাশ।যেটা মুখে হাজার বলেও কুল পেরোতে পারবেনা প্রিয়। শুধু আজ রাতটাই বাকি কাল রাতে থাকবেনা কোনো দেয়াল। মানবেনা কোনো মনোরমের ইতিহাস। এক করে নিবেই তরুকে। এসব ভেবে যাচ্ছে তরুর দিকে তাকিয়ে।

তরুর মাথায় হাতে গলায় সব জায়গায় গাঁধা ফুল গেঁথে রেখেছে। মেয়েটাকে খুবই স্নিগ্ধ স্নিগ্ধ লাগছে। তরু প্রিয়র দিকে তাকাতেই প্রিয় ঠোঁটে কামড় দিয়ে চোখ মারল। তরু সাথে সাথে লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে ফেলল।লোকটা দুষ্টু বটে।

তরু নিচে নামতেই কল্প সব লাইটিং বন্ধ করে দিয়ে এল ই ডি লাইট লাগিয়ে দিলো। যাতে রয়েছে বিভিন্ন রকমের কালার একটার পর একটা জ্বলছে। তরুকে প্রিয়র পাশে বসানো হয়েছে।সিধু নীলিমাও এসেছে। আকাশ আসতে পারেনি তাই তার গার্লফ্রেন্ডকেও পাঠায়নি। তরুকে স্টেইজে বসিয়ে কল্প ডিজে স্পিকারে লীলাবালি গানটা লাগালো,

সেই গানের তালে তালে তরুকে আর প্রিয়কে এক এক করে সবাই হলুদ ছোয়ালো।প্রিয় তরুর কানের কাছে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,

ম্যাডাম রেডি থেকো যতই বাহানা দাও কাল কিন্তু নিস্তার নেই তোমার। এই প্রিয়র ট্যলেন্ট তো দেখোনি ।

তরু প্রিয়র কথা কিছুই বুঝলো না। নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। হলুদ শেষে সবাই আবদার করলো তরু আর প্রিয়কে এক সাথে নাচতে। তরু যেন এটার অপেক্ষায় ছিল।চট করে ওঠে দাড়িয়ে বলতে লাগলো আগে সোনা আপুকে বলো আমার জন্য একটা বেশ রোমেন্টিক গান সিলেক্ট করতে তাহলেই নাচবো।

নাতাশা বসে ছিল এক কোনে। স্পিকারের সব দায়িত্ব কল্পের উপর। তাই কল্প নিজেই জারা জারা বাহেকতাহে হিন্দি গানটা সিলেক্ট করে দিলো তরু আর প্রিয়র নাচার জন্য। স্টাউন্ডাল লেভেলে গানটা ভাজতে লাগলো স্পিকারে। প্রিয় তরুকে কোলে নিয়ে স্টেইজ থেকে মাঝখানে নামালো৷ তারপর গানের সাউন্ডের সাথে সাথে তরুর কোমড় জরিয়ে নাচাতে লাগলো।তরুর এতক্ষণ নাচার ইচ্ছে থাকলেও এমন রোমেন্টিক পরিবেশে সবার সামনে এতটা রোমেন্টিক মোডে নাচতে কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে। বিশেষ করে প্রিয়র এমন স্পর্শ। যা তরুর ভেতর উলোটপালোট করে তুলছে। প্রিয় তরুকে ঘুরিয়ে কোমরে হাত রাখতে তরু প্রিয়র পাঞ্জাবির কলার শক্ত করে খামছে ধরলো। এত রোমেন্টিক গান কেন লাগলো কল্প। যেই গানের সাউন্ডস ভয়েস রিমিক্স, সাথে প্রিয়র ছোয়া সব কিছু তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রিয় তরুর এমন ভাব দেখে কানের কাছে মুখটক নিয়ে আস্তে করে বলতে লাগলো,

এখনই এতটা নার্ভাস।

তরু কোনো জবাব দিল না। প্রিয়র চোখের দিকে চোখ রেখে বাকি ডান্সটা শেষ করলো।

______________

হলুদের আয়োজন শেষ করে কল্প নাতাশাকে রুমে নিয়ে গেল। নাতাশার শরীরটা আজ বেশি খারাপ লাগছে। তার উপর এত লোকজন।শরীরটা বেশ ভার ভার লাগছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। যতই পানি খায় না কেন তৃষ্ণা যেন মেটে না। নাতাশা কল্পের দিকে তাকিয়ে বলল,

কল্প আমাকে একটু লেবুর শরবত বানিয়ে খাওয়াতে পারবে?

কল্প নাতাশার কথা শুনে সাথে সাথেই শরবত বানালো।

নাতাশা শরবতটা মুখে দিয়ে এক টানে পুরো গ্লাস খালি করলো।যেন কত বছর ধরে পানি খায় না। নাতাশা ছোট করে একটা ধন্যবাদ জানালো কল্পকে। প্রতিউত্তরে কল্প বলতে লাগলো,

ধন্যবাদ বলতে হবেনা। আমি আমার বৌ আর সন্তানের জন্য শরবত বানিয়েছি এতে ধন্যবাদের কি আছে?

নাতাশা কিছুই বলল না। হাত পায়ে বিন্দু বিন্দু পানি জমে গেছে। প্রেগ্যানেন্টসিতে এটা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক বলেই কল্প সম্বোধন করছে। নাতাশা বিছানায় বসে বসে হাপাতে লাগলো। কল্প বিছানা ছেড়ে ওঠে বলতে লাগলো,

আমার সন্তানটা তোমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে তাইনা।

নাতাশা একটু ম্লানমুখে হেসে বলতে লাগলো,

আমরাও তো আমাদের বাবা মাকে কষ্ট দিয়েছি। আর তোমার কষ্টের কাছে আমার কষ্ট তো কিছুইনা কল্প।

কল্প আর কিছুই বলল না। নাতাশার কপালে একটা আলতো করে চুমা দিল। নাতাশা কল্পকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে বলতে লাগলো,,

কল্প আমার খুব ভয় হচ্ছে।

কেন?

কারন আমি তোমাকে ভালোবাসি।

তাহলে ভয় কিসের আমি কি তোমাকে ছেড়ে যাবো নাকি?

সেটা নয়। যদি আমি ছেড়ে চলে যাই।

নাতাশার কথা শুনে কল্পের চোখের কোনে কেন যে পানি জমে গেল সাথে সাথেই।কিন্তু হাসি মুখে নাতাশার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,

আরে পাগলি আমার, এমন কথা বলে কেউ। তোমার কিছু হলে আমি কি নিয়ে বাঁচবো। আর কখনো এ কথা মুখেও আনবা না।

নাতাশা আর কোনো কথাই বললনা। মনের ভেতর এক অন্যরকম ভয় গ্রাস করে যাচ্ছে তাকে প্রতিনিয়ত। বাচ্চার বয়স যত বাড়ছে ভয়টা যেন ততোই বেড়ে উঠছে।

রাত দুটা বাজে তরু শাড়ি চেইঞ্জ করেড় একটা নরমাল থ্রিপিছ পরে শুয়ে পড়লো বিছানার উপর। প্রিয় এসে দেখতে পেল তরু খাবার ঔষধ কিছুই খায় নি তাই সে ডাকতে লাগলো,

তরু এই তরু খাবার খাবেন তুুমি?

তরু ঘুম জরানো কন্ঠে বাচ্চাদের মতো করে নাকচ করে। প্রিয় তরুর এমন বাচ্চামো ফেইসের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। তার পর আস্তে করে তরু পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লো । প্রিয় তরুর পাশে শুতেই তরু ধরফরিয়ে শুয়া থেকে উঠে গিয়ে বলতে লাগলো,

ভূত ভূত প্রিয় ভাইয়া আমাকে বাঁচাও

আরে আস্তে আস্তে ভূত না আমি প্রিয় ।

ও তুমি এত রাতে আমার বিছানায় কি করো। আমার সুযোগ নিচ্ছো বুঝি?

তর সুযোগ নেওয়ার থাকলে কবেই নিয়ে নিতাম।

তরু আর কিছু বললনা। প্রিয় খাবারের প্লেটটা তরুর সামনে রেখে বলতে লাগলো,

খাওয়া দাওয়া তো ঠিক মতো করিস না রোগ ভালো হবে কিভাবে?

তরু ঠোঁট জোড়া উল্টে বলতে লাগলো,

রোগ তো নেই। এই তো ভালো আছি। সকাল থেকে অনেক খাবার খাইছি পেট পুরা। তাই এখন আর খেতে ইচ্ছে করছেনা। প্লিজ আমাকে বলোনা খেতে।

তরুর কথা শুনে প্রিয় এক ধমক দিল। সাথে সাথেই তরু পুরো খাবার শেষ করলো। ঔষধ খেয়ে শুয়ে পড়লো।প্রিয় সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লো

#চলবে

#ইচ্ছে_কথন
#writer_falak_moni
#পর্ব_২৮

সকাল হতেই বিয়ের সরঞ্জাম নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শুধু একজন বাদে। সে হল প্রিয়। বিয়ের সব এরেজমেন্ট এক সাইটে রেখে তরুর কেয়ারিং করায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো সে। কিন্তু আফজাল চৌধুরির এক কথাই বলে দিয়েছে সেটা হলো আজ সকাল থেকে রাত অব্দি তরুর মুখ যেন সে না দেখে। একেবারে বাসর ঘরে বৌয়ের মুখ দেখবে সে আশায় প্রিয় তরু দুজনই বুরিং হয়ে আছে কারন সকাল থেকে এখনো অব্দি তাদের কারোর চেহারা কেউ দেখেনি। এদিকে তরুর শরীরটা কেমন জানি ম্যাচ ম্যাচ করছে। মাথাটা ঘুরছে। সকালে খাওয়ানোর পরে পার্লারের কিছু লোক এসে তাকে সাজিয়ে চলে যায়। এই বাড়ি লেহেঙ্গা তার উপর এত গয়না ঘাটি পড়ে শরীরটা আরো বেশি খারাপ লাগছে। তরু চেয়ার টেনে বসে আছে। এমন সময় নাতাশা খাবার প্লেট নিয়ে তরুর রুমে প্রবেশ করলো। তরু নাতাশার দিকে তাকিয়ে রইলো।এ মেয়েটা দুদিন ভরা কত কাজ করে যাচ্ছে এমন শরীর নিয়ে যেটা একদমই ঠিক নয়। নাতাশা তরুর জন্য প্লেটে করে পোলাও আর রোস্ট নিয়ে আসলো৷ তারপর নিজের হাতে করে তরুর মুখের সামনে ধরলো। তরু সাথে সাথেই চোখ থেকে কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। আজ যদি মা বেঁচে থাকতো তাহলে ঠিক এভাবেই মেখে মেখে তাকে খাইয়ে দিলো। নাতাশা তরুর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলতে লাগলো,

এই পাগলি মেয়ে এভাবে কাদঁছিস কেন?

না এমনেই।

আমি জানি, মায়ের কথা মনে পড়ছে তাই না?

তরু নাতাশাকে জরিয়ে ধরলো,

আরে পাগলি এভাবে কাঁদছিস কেন। মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে তো।

তরু নাতাশার কথা শুনে কান্না মুখেই হাসতে লাগলো, নাতাশা তরু পুরো খাবার শেষ করে বলতে লাগলো,

তর স্বামী তো তকে দেখার জন্য একদম মরিয়া হয়ে আছে। বেটার একদম তর সইছেনা।

নাতাশার কথা শুনে তরু লজ্জা পেয়ে নিচে তাকিয়ে রইলো। নাতাশা তরুর কপালে একটা চুুমু দিয়ে বলতে লাগলো,

এত লজ্জা পেতে হবেনা বনু।

বলেই নাতাশা প্লেট হাতে নিয়ে চলে যেতে নেয়। তখনই তরু নাতাশার হাতটা ধরে বলতে লাগলো,

খুব কষ্ট হচ্ছে আপু,?

কই না তো

তুমি না বল্লেও বুঝি।

হয়েছে হয়েছে এত বুঝতে হবেনা তোকে। মা হতে গেলে এমন আতটু কষ্ট কিছুই না।

নাতাশা চলে গেল।তরু রুমে ভেতর বসে বসে ফোন টিপছে। তখনই নীলিমা আসলো নিচে নিয়ে যাওয়ার। কাজী এসে গেছে বিয়ে পড়ানো হবে এখন। তরুর বুকটা কেমন জানি ধুক করে উঠলো। কই আগে তো বিয়ে পড়িয়েছে এমনটা লাগে নি তো। এখন কেন এমন লজ্জা লজ্জা লাগছে। তরু কিছু বললনা। নীলিমা তরুকে লম্বা ঘোমটা টেনে নিচে নিয়ে চলে গেল। নিচে সোফার এক কোনে বসে আছে প্রিয়। খয়েরী রঙের ভেতর গোল্ডেন কালার শেরওয়ানি পড়ে আছে। মাথায় টুপর। যেটা খুলে হাতে নিয়ে বসে আছে। নীলিমা তরুকে প্রিয়র পাশে এনে বসালো।তরু ঘোমটার ফাকে প্রিয়কে দেখার জন্য এক্সাইটেড হয়ে আছে। কিন্তু মরার ঘোমটার পাড়ের জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। কে বলেছে এত বড় ঘোমটা দেওয়াতে। তরু মনে মনে নীলিমার চৌদ্দ গুষ্টি শুদ্ধো বিনাশ করছে। এদিকে প্রিয়রও প্রায় একই অবস্থা মায়াবতীটাকে তো সে কখনোই দেখেনি। ছোট বেলায় মেয়েটাকে বৌ সাজিয়েছে ঠিকই কিন্তু তখন রাগ ক্ষুব জেদের কারনে আর দেখা হয়নি। তবে তখন কে জানতো মেয়েটার প্রতি যে সে এতটা আসক্ত হবে। তবে কেন যে নাতাশার জন্যও আজ খারাপ লাগছে। কিন্তু সে তো খুব হাসি খুশিতেই কাটাচ্ছে। তাহলে প্রিয় কেন তার অতীতের জন্য তার মায়াবতীকে কষ্ট দিবে। সব কিছু ভুলে নতুন করে বাঁচতে চায় সে তরুকে আকড়ে ধরে। কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানো শেষ করে চলে গেলেন। আগের বার বিয়ের সময় কাবিন হয়নি কারন তরুর তখন বিয়ের জন্য প্রাপ্ত বয়স ছিলনা। এখন কাবিন হয়েছে ১টাকা৷ যেটা তরু নিজের মুখেই বলেছে। তরুর কথা শুনে প্রিয় একটু মুচকি হাসলো। ১টাকা দিয়ে কাবিন এই প্রথম শুনলো সে।

বিয়ের সব আচার আচরন মেনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ছোট বেলায় যখন তরুকে বলা হয়েছিলো কবুল বলার জন্য। তখন তরু বলেছিল কবুল কি? কিন্তু এখন যখন বলা হয়েছে কবুল বলার জন্য ফটাফট কবুল বলে ফেলে।

রাত ১০বাজে তরু এখনও এত বড় ঘোমটা টেনে বসে রইলো প্রিয়র অপেক্ষায়। প্রিয় সিধু কল্প ছাদে বসে আড্ডা দিচ্ছে। কল্প প্রিয়র দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,

ভাই কোনো প্রটেকশন লাগবে নাকি। এমনই চলবে।

কল্পের কথা শুনে প্রিয় চোখ পাকালো। তখন সিধু হাসতে হাসতে বলল,

আরে কোনো প্রটেকশন লাগবেনা। দোস্ত আমার এমনেতেই বুড়ো হয়ে যাচ্ছে আর কবে বাচ্চা কাচ্চা জন্ম দিয়ে পোলা মাইয়ার মুখ থেকে বাবা ডাক শুনবে।

বলেই কল্প আর সিধু হাসতে লাগলো, প্রিয় তাদের ধমক দিয়ে বলতে লাগলো,

তদের প্রটেকশন, বাচ্চা কাচ্চা তদের কাছেই রাখ। আমি আসছি। এই বলেই প্রিয় চলে যেতে নেয়। তখন পেছন থেকে কল্প বলতে লাগলো,

আমার ভাইয়ের তো দেখছি তর সইছেই না।

প্রিয় আবারো পেছন ফিরে চোখ পাকালো। সাথে সাথেই সিধু হাসতে হাসতে বলল,

যা ভাই যা বৌয়ের কাছে যা। নয়তো আবার আমাকেও বাসর রাতে এভাবে আটকে রাখবি৷ বলা তো যায় না। আমার আবার ধৈর্য্য কম।

প্রিয় কিছুই বলল না। এই মুহূর্তে তার একটাই লক্ষ্য তার মায়াবতীকে সে এক নজর দেখার। তাই প্রিয় ছাদ থেকে নেমে রুমে চলে গেল। রাত ১১:৩০ মিনিট বাজতে চলেছে তরুর শরীরটা আবারো কেমন জানি ডুলছে। কিন্তু কি করার জনাবের জন্য তো তাকে অপেক্ষা করতে হবে। প্রিয় রুমে ঢুকে দরজার ছিটকিনি লাগায়। প্রিয়র আসার আওয়াজ পেয়ে তরু একটু নড়ে চড়ে বসে। প্রিয় দরজার ছিটকিনিটা লাগিয়ে মাথার টুপোরটাকে খুলে ডেসিন টেবিলের সামনে রাখলো। পুরো ঘর রজনীগন্ধা ফুল আর গোলাপ ফুলে সাজানো হয়েছে। বিছানার উপর বড় করে লিখা T love P। প্রিয় তরুকে বিছানার উপর এভাবে বসে আছে দেখে একটু ম্লানমুখে হাসি দিয়ে তরুর পাশে এসে বসলো। তারপর বাম কানে ধরে বলতে লাগলো,

সরি। এতটা লেট করানোর জন্য। তা আমি কি এখন আমার বৌয়ের হাতটা একটু ধরতে পারি।

তরু মাথা নাড়ালো।

প্রিয় এক হাতে তরুর হাতটা ধরে অন্য হাতে ঘুমটা সরালো। মেয়েটাকে তো খুব সুন্দর করেই সাজিয়েছে। মেকআপ ছাড়া শুধু কনজিলার দিয়ে। মুখে নেই কোনো মেইওবার। শুধু ঠোঁটে গাঢ় লাল রঙের লিপস্টিক। চোখে কাজল।চুলগুলো খোপা করা। কিন্তু মেয়েটাকে এমন দেখাচ্ছে কেন । শরীর খারাপ নাকি ।
এসব ভেবেই প্রিয় তরুকে বলতে লাগলো,

তরু তোমার শরীর ঠিক আছে তো।

তরু আস্তে করে জবাব দিলো।

আমার শরীরটা দুর্বল লাগছে। খুব ক্লান্ত।

নিশ্চয়ই রাতের খািার খাওনি।

তরু কিছু বলল না। প্রিয় পকেট থেকে ফোনটা বের করে নাতাশার ফোনে এস এম এস লিখলো তাড়াতাড়ি কাউকে দিয়ে খাবার পাঠাতে প্রিয়র রুমে। নাতাশা তখন বসে বসে কল্পের জন্য ওয়েট করছিলো। প্রিয়র মেসেজ দেখে সে তাড়াতাড়ি করে খাবার নিয়ে যায় প্রিয়র রুমে। আশে পাশে কাউকে না পেয়ে সে নিজেই খাবার নিয়ে গেল। কিন্তু প্রিয় কি তা মাইন্ড করবে। যদি করে বসে। তাই খাবারগুলো দরজার সামনে রেখে নাতাশা চলে যায়। তারপর প্রিয়র ফোনে মেসেজ দেয় খাবার তার রুমের সামনে রাখা। প্রিয় কিছু না ভেবেই খাবারটা এসে তরুর মুখের সামনে ধরে। তরু পুরো খাবার শেষ করে ওয়াশ রুমে চলে যায় এই লেহেঙ্গা চেইঞ্জ করার জন্য। আরেকটু হলে দম বন্ধ হয়ে আসবে তার। তরু লেহেঙ্গা বদলে একটা ব্লাক রঙের জর্জেট শাড়ি পড়লো। হাতমুখ সব কিছু ধুয়ে এসে ডেসিন টেবিলের সামনে বসে। প্রিয় তখন ওয়াস রুমে যায় তার জামা কাপড় চেইঞ্জ করতে। তরু আয়নার সামনে বসে বসে মাথার ক্লিপগুলো খুলতে ব্যস্ত। একসব ক্লিপ লাগিয়েছে যা এখন খুলতে গেলে মাথার সব চুল উঠে যাবে। তরু এক এক করে মাথার ক্লিপ খুলতে লাগলো। আরো তিনটা ক্লিপ মাথায় রয়ে গেল। তখনই প্রিয় ওয়াসরুম থেকে বের হলো। তরুর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে টোলের নিচে পড়ে আছে। ব্লাক রঙে মেয়েটাকে খুব সুন্দর লাগছে এই মুহূর্তে। তরু হাত দিয়ে মাথার ক্লিপ খুলার সময় মাড়ি বেদ করে নাভির কিছু অংশ দেখা যাচ্ছিলো৷ যেটা প্রিয়র চোখ এড়ায়নি। প্রিয় একটা নীল টিশার্ট আর ব্লাক রঙের হাফ প্যান্ট পড়ে। প্রিয় ওয়াস রুম থেকে এসে আস্তে আস্তে তরুর দিকে এগুতে থাকে। তারপর তরুকে কোলে নিয়ে বিছানায় বসায়। তরু কেমন যেন লাগছে প্রিয়র ছোয়ায়। এই ছোয়া তো কতই অনুভব করেছে সে। তবে আজ কেন এমন লাগছে। হার্ট বন্ধ হয়ে আসছে শ্বাস ভারি হয়ে। প্রিয় তরুর চুলগুলো এক সাইটে রেখে পিঠে একটা কিস করলো সেটাতে তরু হালকা কেঁপে ওঠলো তারপর গলার নেকলেসটা আর কানের জিনিসগুলো খুলে বিছানার এক পাশে রাখলো৷ মায়বতীর দিকে মন ভরে কতক্ষন তাকিয়ে রইলো সে নিজেও জানে না। এদিকে তরুর ভেতর ঝড় বয়ে যেতে লাগলো। কি হতে চলেছে এই মুহূর্তে যেটা সে এত দিন যাবত প্রিয়র কাছে চেয়ে আসতো ভালোবাসা। আজ প্রিয় কি তাকে তার প্রাপ্য সম্মান মর্যাদা দিয়ে নিজের করে নিবে৷ প্রিয় তরুকে দেখে কেমন যেন ঘোর লাগা আবেগ ভালোবাসা ভালোলাগা সবগুলো নাড়া দিতে লাগলো হৃৎস্পন্দনের গহিন কোনায় যেখানে এতদিন তরুকে নিয়ে যেই অনুভূতিগুলো জমা ছিল সেখানে।প্রিয় আস্তে করে তরু শুয়িয়ে দিয়ে তরুর গালে কিস করলো। তারপর তরুর পাশে শুয়ে পড়লো চোখ বন্ধ করে। তরু বেচারি মুখটাকে ফেকাশে করে বলতে লাগলো,,

এই শুনছো তুমি কি ঘুমিয়ে গেলা নাকি?

তরুর মুখে এমন মিষ্টি ডাক শুনে প্রিয় ফিরে তাকালো তারপর বলতে লাগলো,

ঘুমাবো না তো কি করব।

কেন কাল তো খুব করে বলছিলা তোমার ট্যালেন্ট দেখাবা। তাহলে কই গেছে সেই ট্যালেন্ট।

তরুর মুখে এমন কথা শুনে প্রিয় একটু মুচকি হেঁসে বললো,

আমার বৌয়ের শরীর ভালো না। বেশি আদর করতে গেলে কন্ট্রোল হাড়িয়ে ফেলবো৷ যা বৌয়ের জন্য ভালো হবেনা। সো শরীর ঠিক হোক তারপর ভাবা যাবে।

তরু প্রিয়র কথা শুনে অন্যপাশে ফিরে শুয়ে পড়লো। এই একটা রাত ছিল প্রিয়কে আপন করে নেওয়ার। হয়তো এমন রাত হাজারো আসবে তবে আজকের মতো পরিপূর্ন নয়। প্রিয় তরুর এমন অভিমানের ভাষা বুঝতে পারলো। তাই পেছন থেকে তরুকে জরিয়ে বলতে লাগলো,

আমার মায়াবতীর কি রাগ হয়েছে।

তরু প্রিয়র জবাবে কিছুই বলল না। প্রিয় তরুকে টেনে তার দিকে ফেরালো। তরু চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। আচমা প্রিয় তরুর ঠোঁট জোড়ার সাথে নিজের ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। তরু নিজেও প্রিয়র সাথে মেতে যায় সেই অচেনা ভালোবাসার সাগড়ে। কাল সকালটা হবে এক নতুন সকাল। দিনটা যাবে এক নতুন দিন। কাল থেকে শুরু হবে এক নতুন ভাবে পথ চলা।
#চলবে

ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। গল্প কেমন হয়েছে জানাবেন।