#ইচ্ছে_কথন
#writer_falak_moni
#পর্ব_২৯
২৯
সকালটা আজ অন্যরকম লাগঠে তরুর কাছে। প্রিয় বিছানায় কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তরু ঘুম থেকে ওঠে শাওয়ার নিয়ে নামায পড়ে নেয়। তারপর বান্দায় কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকে। কুয়াশায় আচ্ছন্ন পুরো পরিবেশ।পাখি নেই কোনো আনাগোনার সমচার। বাগিচাটা একদম নিরবতা অনকুল দুষ্টান্ত। তরু গায়ে শাল জরিয়ে চুলগুলোকে খোলা রেখে দাড়িয়ে আছে বারান্দায়। নিরব কৌলাচারী পরিবেশ। কুয়াশার হিম বয়ে যাচ্ছে পুরো মাঠের অনুকূল প্রতিকূল জুরে। প্রিয়র রুমের বারান্দা বরাবরই বেড। তরু পেছনের দিকে একটু ফিরে তারপর প্রিয়র ঘুমন্ত মুখটার দিকে অপলকভাবে তাকিয়ে থাকে। কাল রাতের ঘটনা মনে হতেই লজ্জায় কুকরে যাচ্ছে সে। ভাবান্তর হযে প্রিয়র দিতে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো,
এই লোকটাকে কতই না ভয় পেত ছোটবেলায়। কিন্তু আজ, আজ এই লোকটার বুকের মাঝেই সব ভয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা। তরু আস্তে আস্তে রুমের ভেতর গিয়ে প্রিয়র সামনে দাড়ালো। তারপর আস্তে করে প্রিয়র কপালে একটা চুমু দিল।দিয়ে চলে যেতে নেয়।তখনই হুট করে প্রিয় তরুর আহটা ধরে ফেলে।আচমকা এমন হওয়াতে তরু একটু আলগা হতে নিল। প্রিয় তরুকে ধরে টান মেরে নিজের বুকের উপর এনে শুয়ালো।তারপর আদুরি মাখা কন্ঠে বলতে লাগলো,
তোমাকে যদি হাজারো বুকের ভেতর পুষে রাখি তবুও যেন আমার আমার বুকের তৃষ্ণা মিটবে না। কেন মায়াবতী। এমন কেন।
তরু কিছুই বলল না একটু মুচকি হাসলো শুধু। তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ ভেসে আসলো দুজনের কানে। তরু উঠে দরজা খুলতে যাবে তখনই প্রিয় আবারো তরুকে টেনে বুকের উপর জরিয়ে কোমরে হাত রাখ।তরুর শরীর আবারো কাপতে লাগে। তরু প্রিয়কে ধাক্কা দিয়ে ওঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। নাতাশা দরজার এপাশে দাড়িয়ে ছিল।নাতাশা তরুর দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো। অন্যদিনের তুলনায় আজ মেয়েটাকে একটু অন্যরকম লাগছে। চুলগুলো ঝোলা বেনী করে এক পাশে রাখা পরনে লাল রঙের একটা জামদানী শাড়ি। আর কিছুই না। নাতাশা তরুকে জরিয়ে ধরে একটা চুমু দিল। তারপর বলতে লাগলো,,
আমার বাসুরটা কেমন আদর করলো রাতে হুম??
তরু লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
কল্প ভাই তোমাকে যেমন আদর করে তেমন।
নাতাশা আবারো হাসতে লাগলো সাথে তরুরও। দুজনের হাসির আওয়াজ পেয়ে প্রিয় বলতে লাগলো,
এভাবে হাসতেছো কেন তোমরা।
নাতাশা প্রিয়র দিকে তাকিয়ে চোখ মেরে বলতে লাগলো,,
কবে যে সুসংবাদ শুনতে পাব সে অপেক্ষায়।
প্রিয় আর কিছু বললনা। তরুর দিকে তাকিয়ে নাতাশা বলতে লাগলো,
চল তরু তকে এখন সাজানো হবে। অনেক আত্মীয় স্বজনরা আসবে তকে দেখার জন্য, চল। বলেই নাতাশা তরুকে নিয়ে চলে গেল।
দুপুর একটা বাজতে চলেছে পাড়ার সকল কাকিমা জেঠিরা দাদিরা আপুরা এক এক করে সবাই দেখে গেলো তরুকে। যদিও আগে দেখেছে কিন্তু এখন তো একটু ভিন্ন সেই সুবাধেই তাদের আশা। তরুকে একটা বেগুনি রঙের ভেতর সোনালি পাড়ের শাড়ি পড়ানো হয়েছে।চুলগুলো একটু ফুলিয়ে খোপা করে রাখা হয়েছে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক। এতেই যেন তরুর চেহারায় মায়াময় ভাবটা ফুটে ওঠেছে। প্রিয় যেন চোখই সরাতে পারছেনা তরুর দিক থেকে। প্রিয়কে একটা গোল্ডেন রঙের শেরওয়ানি পড়ানো হয়েছে৷ চুলগুলো স্পাইক করে একপাশে রাখা। তরুও প্রিয়র দিকে তাকিয়ে আছে। দুজনের চোখাচোখি হতেই তরু নিচের দিকে তাকিয়ে ফেলল। তারপর আবারো প্রিয়র দিকে তাকালো। তাকাতেই প্রিয় চোখ মারলো তরুর দিকে তাকিয়ে তরু লজ্জায় নিচের দিকেই তাকিয়ে রইলো আর চোখ তুলে তাকায়নি প্রিয়র দিকে। সিধু বসে বসে ফোন টিপছে আর হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছে এমন সময় নাতাশা এসে সিধুর পাশে বসলো।সিধু কান থেকে হেড ফোনটা খুলে নাতাশার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,,
ভাবি ঠিক আছেন কিছু লাগবে কি?
না ভাই কিছু লাগবে না।
পরক্ষণেই মনে পড়লো কল্পকে কখন থেকে দেখছেনা। সে কি হসপিটালে চলে গেল নাকি। তাই নাতাশা সিধুকে বলতে লাগলো,
আচ্ছা কল্পকে দেখতে পাচ্ছি না যে?
ভাবি কল্প তো রুমে বসে আছে।
নাতাশা আর কিছু বললনা আস্তে আস্তে করে রুমে গেল গিয়ে দেখতে পেল কল্প বসে বসে ড্রিংস করছে। কি হয়েছে কল্পের যে সে এমন সময় ড্রিংস করায় ব্যস্ত। নাতাশা পেটে হাত দিয়ে আস্তে আস্তে করে কল্পের সামনে গিয়ে দাড়ায় তারপর কল্পের সামনাসামনি বসে। নাতাশা একটা নীল রঙের শাড়ি পড়েছে। পেট কিছুটা উচু হয়েছে। তবে নাতাশা আগের থেকে অনেকটাই গুলুমুলু হয়ে গেছে। কল্প নাতাশাকে দেখে বলতে লাগলো,
নাতাশা তুলি কি আজ তরুকে দেখতে এসেছিলো??
কল্পের ড্রিংস করার কারন অলরেডি পেয়ে গেল নাতাশা। কেন যে বুকের ভেতরটা ধুক ধুক করতে লাগলো। ক্লান্তিকর অনুবর্তনে পূর্ণ হতে চলেছে। শরীর ঘাম ঝরান দিচ্ছে চামড়া ফুটো করে। তুলির নামটা শুনে এমন কেন অস্থিরতায় পর্যটন হচ্ছে নাতাশার মনের ভেতর সেটাই বুঝতে পারছেনা নাতাশা। নাতাশা জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে একটু হেসে বলতে লাগলো,
হুম এসেছিলো তো।
কল্প নাতাশার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো,
খুব সুন্দর লাগে তুলিকে।
নাতাশার কেন যে রাগ হলো কল্পের উপর। নিজের বিয়ে করা বৌয়ের সামনে যে কেউই এ তার এক্সকে সুন্দর বল্লে খারাপ লাগবেই এটাই স্বাভাবিক। আর কল্প তার বৌয়ের সামনে বসে তার এক্সের গুনগান গাইছে সেখানে তার রাগ হবারই কথা। তবুও রাগকে সংযুগ রেখে নাতাশা হাসি মুখে ওঠে চলে গেল এখান থেকে। কল্প একের পর এক ড্রিংস করেই যাচ্ছে।
#চলবে