এক্স গার্লফ্রেন্ড যখন বেয়াইন পর্ব-০৮

0
543

#এক্স_গার্লফ্রেন্ড_যখন_বেয়াইন
#পর্ব_৮
#লেখক_মোঃ_আঃ_আজিজ
.
বাসর ঘরের মধ্যে বসে আছে জান্নাত। আমি দরজা টা খুলে ভিতরে ডুকে রীতিমতো অবাক হলাম। কারন ঘরটা অনেক সুন্দর ভাবে সাজানো। এতো অল্প সময়ে এতো কিছু কি ভাবে সাজালো খালামুনি বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে আগে থেকেই সাজানো ছিলো ঘরটা। আরও অবাক হলাম জান্নাত এর দিকে তাকিয়ে কারন যে মেয়ে সবসময় আমার পিছে পরে থাকে সেই মেয়ে টা মাথায় ঘোমটা দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে ভাবা যায়।
জান্নাত কে বউ বেশে যেনো সুন্দরী অপ্সরার মতো লাগছে।
আমি ভয়ে ভয়ে একপা দুপা করে খাটের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। খাটের কাছে যেতেই জান্নাত খাট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আমার কাছে এসে সালাম করতে লাগলো । আমি তার দুই বাহু ধরে দার করিয়ে বললাম,,,,,,
আমি– এই এই কি করো?
জান্নাত– তুমি এখন আমার স্বামী সো এটা এখন আমার অধিকার। শুধু অধিকার নয় বিয়ের রাতে স্বামীর পা ধরে সালাম করা প্রত্যেক টা স্ত্রীর কর্তব্য ও আমাদের সমাজের নিয়ম। তাই আমাকে তুমি এটা থেকে বিরত রাখতে পারোনা।
কি আর করা এই মেয়ের সাথে কথায় পারা খুবই মুস্কিল। তারপর জান্নাত আবার আমার পা ছুয়ে সালাম করে নিলো। তারপর,,,,,,,,,,
জান্নাত– তোমার কী অজু আছে? না থাকলে করে আসো আমরা দুই রাকাআত নামাজ আদায় করবো।
আমি– হুম আমি অজু করে আসছি। তোমার আছে?
জান্নাত– হুম আছে। আসো তাহলে আমরা নামাজ আদায় করে নেই।
জান্নাত দুই টা জায়নামাজ বিছিয়ে দিলো। আমি ও জান্নাত দু’জনে নামাজ আদায় করে নিলাম।
তারপর নামাজ শেষ করে জান্নাত আবার গিয়ে বিছানাতে বসে পরলো। আমি আমার টুপি ও পাঞ্জাবি টা খুলে বিছানার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। বিছানার কাছে যেতেই জান্নাত একটা বালিশ হাতে নিয়ে আমার দিকে ঢিল মেরে দিয়ে বললো,,,,,,,,
জান্নাত– একদম বিছানার দিকে আসবে না?
আমি– কেনো ( অবাক হয়ে,,,, কি হলো আবার মেয়েটার)
জান্নাত– কারণ তুমি ওই সোফায় গিয়ে ঘুমাবে আর আমি এই বিছানায় ঘুমাবো।
আমি– বুজলাম না। তুমি বিছানায় ঘুমাবে আর আমি সোফায় ঘুমাবো? কিন্তু কেনো, আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা এখন স্বামী স্ত্রী তাহলে একসাথে ঘুমালে সমস্যা টা কোথায়?
জান্নাত– কারণ আমি তো আর একা না তাইনা। তোমার তো অনেক বান্ধবী আছে। ভার্সিটিতে রিয়া আপু,, তারপর দেখলাম নাদিয়া নামের ওই পেত্নী,, আর এখন সামিরা আপুও তোমার কথা বলে তার সাথে আমার যখনই কথা হয়। (অভিমানী কন্ঠে)
আমি– কি বলো এগুলো? তুমি জানো আমি কত কষ্টে সেদিন রিয়াকে ফাঁকি দিয়ে আসছি। রিয়াকে যদি ভালোই বাসতাম তাহলে কি আর তাকে ওই ভাবে অবহেলা করতাম?
জান্নাত– সে না হয় বুঝলাম। কিন্তু নাদিয়া আর সামিরা আপু।
তুমি সে দিন নাদিয়ার সাথে কি কথা বললে যা আমার সামনে বলা যেতো না?
আমি– হা হা হা এই কথা। এটা সেই দিন জিজ্ঞেস করলেইতো বলে দিতাম। এর জন্য আমার পাগলীটা অভিমান করে আছে?
জান্নাত– হুম। সেদিন বলো নাই তো এখন বলো। একদম মিথ্যা কথা বলবে না তাহলে কিন্তু,,,,,,।
আমি– আচ্ছা শোনো তাহলে।
নাদিয়া আমার স্কুল জীবনের বান্ধবী। আর তোমার বেস্টফ্রেন্ড এর ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড।
জান্নাত– ঠিক বুঝলাম না। আমার বেস্টফ্রেন্ড তো নাবিলা আর নাবিলার ভাই তো বুলবুল ভাইয়া। তার মানে নাদিয়া আপু বুলবুল ভাইয়ার গার্লফ্রেন্ড।
আমি– হুম my dear বউ। তোমার আর আমার মধ্যে যেমন মনমালিন্য হয়েছিল ঠিক তেমনি ওদের মধ্যেও একই অবস্থা হয়েছিল। তাই আমি তাদের সব কিছু ঠিক করে দিলাম। আর তুমি তো জানোই তোমার সামিরা আপুর বয়ফ্রেন্ড আছে। তাহলে? আর সামিরা আমার একজন ভালো ফ্রেন্ড বুঝতে পারলেন বউ? ☺😉
( বলেই বালিশ টা হাতে নিয়ে সোফার দিকে যেতে লাগলাম আর বললাম)
আমি– তাহলে আমি কি এখন সোফাতেই ঘুমাবো?
জান্নাত– কেনো?(অবাক হয়ে)
আমি– তুমিইতো বললে আমি যেনো বিছানাতে না যাই।
জান্নাত– আমি,,,,,, আমি কখন তোমাকে বললাম😱😱
আমি– এই মাত্র বললে।
জান্নাত– ওহ বুঝতে পারছি। তুমিতো আমায় ভালোইবাসো না। তাইতো সোফাতে ঘুমাইতে চাচ্ছো তাই না,, বুঝিতো সব বুঝি।
আমি– ওহ এখানেও আমার দোষ হয়ে গেলো তাই না। নিজের কাধেঁ কখনোই দোষ নিবানা।
জান্নাত– হি হি হি☺☺ আমার বর থাকতে আমি কেনো দোষ নিতে যাবো🙈😂
আমি–😒😞😏
জান্নাত– হয়েছে,,,, আমার বর টার আর মন খারাপ করে থাকতে হবে না। আসো সোনামুনি তোমায় একটু আদর করে দেই।
আমি– হুম ( বলেই এক লাফে সোজা জান্নাত এর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরলাম আর জান্নাত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো)
আচ্ছা জান্নাত ধরো যদি আমি সত্যি ওদের একজনের সঙ্গে প্রেম করতাম তাহলে কি করতে?
জান্নাত– তোমার মাথার সব চুল গুলো নেরা করে দিতাম। হাতপা ভেঙে দিতাম আর নাকে ঘুসি মেরে নাখ ফাটিয়ে দিতাম হুহ্।
আমি– ওরে বাবা এত কিছু করতে। তখনতো আমায় কেমন বাজে দেখা যেত তখন।
জান্নাত– তাতে আমার কি।
আমি– তখন তো সবাই বলতো দেখ দেখ জান্নাত এর বর টাকে কেমন বাজে দেখা যায়।
জান্নাত– হুম বলতো। কিন্তু কেউ তো তোমায় আর আমার থেকে আলাদা করতে পারতো না।
আমি– বাহ তোমার মাথায় তো সেই লেভেলের বুদ্ধি। তা আমায় কি এখন ওমন করবে নাকি যাতে আমার দিকে কেউ নজর না দেয়।
জান্নাত– না তা করবো না। তবে এমন কিছু করবো যাতে করে কেউ তোমার ওপর নজর দিলেও তোমার নজর যেনো তাদের ওপর না পরে।
আমি– সেটা কি ভাবে? (মজা করে
জান্নাত– আমার বেবি লাগবে। একদম ফুটফুটে কিউট বাচ্চা। যাতে তুমি তার কথা চিন্তা করে হলেও আমাদেরকে ছেড়ে না যাও। (বলেই কেদে দিলো আমার বুকের ওপর মুখ লুকিয়ে)
আমি– ধুর পাগলী। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবোই না ছেড়ে যাওয়া তো দুরের কথা। ( জান্নাতুল কে জরিয়ে ধরে তার কপালে একটা চুমু দিয়ে)
জান্নাত– সত্যি তো কখনো আমাকে ছেড়ে যাবে নাতো?
আমি– নেহি বউ কাভী নেহি।
জান্নাত– তারপরেও আমার বেবি লাগবেই। আর আজকে থেকেই মিশন শুরু করবো আমরা।🙈
আমি– আজকে থেকেই😏
জান্নাত– হুম🙈😍
আমি– তাহলে দেরি কেনো চলো লেগে পড়ি। আমাদের মিশন স্টার্ট করি কি বলো😍😍
জান্নাত– যাহ দুষ্টু🙈
আমি– ইসসস আমার বউ তো দেখি লজ্জাও পায়☺ আসো আরও কাছে আসো বউ আর লজ্জা পেতে হবে না।
আসো আমাদে মিশন টা স্টার্ট করা যাক🙈
বলেই জান্নাত এর ঠোঁটে আমার ঠোঁট ডুবিয়ে দিলাম।
ধিরে ধিরে আমরা একে অন্যের মাঝে হারিয়ে যেতে লাগলাম। (সব কিছু জানতে চাহিয়া লজ্জা দিবেন না🙈😍🙈🙏)
আমাদের মিশন কমপ্লিট। এখন ফরজ গোসল টা করতে হবে। আমরা এখন যাই ফরজ গোসলটা সেরে আসি কেমন😍😜🙈
চলবে,,,,,,,,?
বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।