কাব্যের আঁধার ২ পর্ব-০২

0
910

#কাব্যের_আঁধার_২
#লেখনীতে: আঁধার চৌধুরী বর্ষা
#পর্ব-২

নাদিরার কথা শুনে আঁধার একটা হাসি দিয়ে নাদিরা কে জড়িয়ে ধরে বলে,
আঁধার, আরে মা শুধু শুধু রাগ করছ। তুমি কি ভুলে গেলে বল?? আমিতো জানি আমার ঘড়িটা কোথায় কিন্তু তোমাকে দিয়ে খুজে তোমার হাতে নিজের হাতে পরা টা আমার ভালো লাগে তাই তো রোজ তোমাকে খুঁজে দিতে বলি। আর তোমার মেয়েকে তুমি এত টুকু চিন্তে পারেনা এত বছরে??তুমি আমাকে খুব কষ্ট দিলে মা??? ( কাদো কাদো মুখ করে )

নাদিরা, নাটক কম কর।তুই কি মনে করেছিস আমিতো নাটক বুঝতে পারছি না তাহলে তুই ভুল ভাবছিস। তোকে সেই তুই যখন ছোট্ট তখন থেকে দেখে আসছি তোকে চিনবো না তা কি হয়?? তাই এসব আজাইরা নাটক আমার সাথে করবি না। আর মন খারাপ করার কিছু নেই আমি জানি তুই জন্য রোজ রোজ একই নাটক করস।

নাদিরার কথা শুনে আঁধার হেসে দিয়ে নাদিরার গলা জড়িয়ে একটা চুমু খায় আর বলে,
আঁধার, আমি এখন যাচ্ছি মা খুব দেরি হয়ে যাচ্ছে। আজকে টেস্ট আছে আর সেটাতে আমাকে ভালো করতেই হবে।

নাদিরা, আরে বাবা খেয়ে তো যা।
আঁধার, না মা আজ অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে বেরোতে যায় তখনই নাদিরা ডাক দেয়।আঁধার বলে,
আঁধার, কি হলো মা?? ডাকলে??

নাদিরা, তো ডাকবো না?? আজ আমার মেয়েটাকে যে এত সুন্দর লাগছে সেটা দেখে যদি কেউ তোর উপর নজর দিয়ে দেয় তখন আমি কি করবো?? আমার একটা মাত্র মেয়ে তার উপর নজর করতে দিলে হয় নাকি??

এতক্ষণে আধার নিজের দিকে তাকায়়।আজ আঁধারের পরণে ছাই রঙের সাথে কালো মিলিয়ে একটা শাড়ি সাথে রুপোর এক জোড়া রুপোর কানের দুল আর কিছু চুরি।আঁধার কখনোই শাড়ি কুচি করে পরে না কারণ এতে কোমর এর শরীর দেখা যায় তখন গুনাহ হয় তাই ওর আঁচলটা সাধারণ ভাবেই পড়া।

আঁধার, কি যে বলো এসব। আমাকে কোথায় সুন্দর লাগছে?? খালি তোমার চোখেই আমাকে এত সুন্দর লাগে।
‘ কই আমার তো তোকে কোনোদিন বেসুন্দর লাগে নি, তোকে তো আমার কাছে চিরকালই সুন্দর লাগে ‘

এক পুরুষালি কণ্ঠ শুনে আঁধার আর নাদিরা পিছনে ফিরে দেখে ওটা শাওন।আঁধার বলে,
আঁধার, তাই তো বলি এতক্ষন কি যেন একটা কম কম লাগছে তবে এখন বুঝতে পারলাম তুই বেটা হতচ্ছাড়া নেই এই জন্যই খালি খালি মনে হচ্ছিল( দাত খিচিয়ে )
শাওন, তাহলে তুই আমাকে মিস করছিলি এটা অবশেষে স্বীকার করছিস??

আঁধার, অবশ্যই করছিলাম মিস কারণ তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। জীবনের ১৫ বছর পর ফ্রেন্ড পেলে যা হয়। এই তোর প্রিপারেশন কেমন রে??আমার তো ভয় করছে।

শাওন, তুই চুপ কর ।তুই তো সব সময় নামমাত্র ভয় পাস ।কাজে তো কখনো ভয় পাস না নাহলে তো সবসময় আমাদের সবার থেকে ভালো রেজাল্ট হয় কি করে বল?? খালি প্রত্যেক পরীক্ষার আগে দিয়ে বলে যে আমার ভয় লাগছে ভয় লাগছে। কিন্তু শেষে গিয়ে দেখি তুই টপ করেছিস। এখন তুই বল আমি তোকে মারবো নাকি আসত রাখব কি করব??

আঁধার, তুই এরকম করিস কেন বলতো?? টপ করি বলে কি পরীক্ষা দেওয়ার সময় ভয় করে না নাকি?? আমার কেন প্রত্যেক মানুষেরই পরীক্ষা দেওয়ার সময় ভয় করে

নাদিরা আঁধারের গায়ে ফু দিয়ে বলে,
নাদিরা, এই এবার তোরা যা তো অনেক ঝগড়া করেছিস। এই ঝগড়া কলেজ গিয়ে কর আমার সামনে নয়। শাওন তুই খেয়েছিস??
শাওন, হ্যান্ডি না খেলে হবে আমার দজ্জাল মা তো আমাকে না খেয়ে ছাড়বে না। ঠিক ধরে বেঁধে খাইয়ে দিবে। সেটাই হয়েছে রোজকার মত জোর করে খাইয়ে দিল।
আঁধার, একদম ঠিক করেছে। আমাকে বলিস আমি খাই না তোর মত দামরা ছেড়ে যদি না খায় তখন আমার মত পুচকি মেয়ে আর কি খাবে??
শাওন, ও আন্টি দেখো তোমার এত বড় মেয়ে নিজেকে পুচকি বলছে পাগল হয়ে গেছে মনে হয়।

আঁধার, পাগল আমি না তুই হয়েছিস?? আমার এত সুন্দর ভালো আন্টিকে তুই দজ্জাল মা বলছিস।
এখন পরিচয় দেই কে এই শাওন। শাওন হল কাব্য একমাত্র চাচাতো ভাই ওরফে শাওন আহমেদ খান। কাব্য চলে যাওয়ার পর আধার যখন কলেজে ভর্তি হয় তখন ওকে কিছু ছেলেমেয়ে রাগিং করছিল কিন্তু কলেজের ভিপি হওয়ার খাতিরে শাওন ওকে বাঁচিয়ে নেয় আর তখন থেকেই ওদের সাথে বন্ধুত্ব আর কি। যেই আধারের কোনদিন কোন বন্ধু ছিল না সেই আঁধারের আজ 5 বছর ধরে একটা বন্ধু আছে। আর তাতেই নাদিরা আর শমসের খুব খুশি কারণ তারা শাওনের জন্য আঁধার কে হাসতে দেখে। সত্যি কথা বলতে আধারা শাওনের মত বন্ধুত্ব খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। একে অপরের জন্য পাগল। শাওন এখন আধারদের বাড়িতেই থাকে আর ওর মা বাবা বিদেশে থাকে। তাড়াসন কি নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু শাওন যেতে চাইনি তাই আর নিতে পারেনি। শাহনুর মা-বাবাকে বিদেশে পাঠিয়ে নিজে বাংলাদেশে রয়ে যায়।

শাওন, দাড়া না একবার বিয়েটা করতে দে তারপর আমার বউকে এনে তোকে শায়েস্তা করব।
আঁধার, তোর আর বিয়ে?? তুই শুধু দেখতেই সুন্দর হ্যান্ডসাম কিন্তু তোর আর বউ জুটবে না বলে হাসতে থাকে।

শাওন, তুই কিন্তু আমাকে অপমান করছিস?? আমি তোর চুল টেনে ছিঁড়বো বলেই চুলে ধরতে নে ওমনি আঁধার বলে,
আঁধার, শাওন তুমি তোমাদের ক্লাসের ফার্স্ট গার্লের চুলে ধরছো?? তোমার সাহস তো কম না।তুমি আধারের চুলে ধরছো। স্ট্যান্ড আপ
আঁধারের কথা শুনতেই শাওন ইয়েস স্যার বলে লাফিয়ে উঠে আর পরক্ষণেই বলে,
শাওন, তবে রে তুই অনন্ত স্যারের মত আমাকে ধমকাচ্ছিস?? আজ তোর একদিন কি আমার একদিন দাড়া দেখাচ্ছি মজা।

নাদিরা, এই তোরা কলেজ যাবি কিনা বলে?? নাহলে এখন আমি দুটোকে উল্টো লটকে দিবো।
আঁধার, যাচ্ছি যাচ্ছি মা।এই চল তো মা রেগে গেছে।
শাওন, হুম চল।

তারপর ওরা বেরিয়ে আসে।আঁধার তাড়াতাড়ি করে দৌড়ে ড্রাইভিং সিটে বসে বলে,
আঁধার, আজ আমি ড্রাইভ করবো।কাল তুই করেছিস আমি কিছু বলিনি।

অগত্যা শাওন কে পাশের ড্রাইভিং সিটে বসতে হয়। শাওন বসতেই আঁধার দেয় এক স্পীডে চালিয়ে।এটা আঁধারের পছন্দের গাড়ী।এবার ওর জন্মদিন শমসের ওকে গিফ্ট করেছে।অবশ্য আঁধার নিতে চায়নি কিন্তু টপ করার কারণে আঁধার কে শমসের এটা গিফ্ট করেছে।যেহেতু আঁধারের কালো আর স্পোর্টস কার পছন্দ তাই শমসের গাড়িটাকে নিজে ডিজাইন করিয়েছেন।গাড়িটা মূলত ব্ল্যাক স্পোর্টস কার সাথে সেই লেভেল এর রাজকীয় দেখতে। এই গাড়িটা কলেজে সবার চেয়ে আলাদা কারণ গাড়ির ডিজাইন টা কিছুটা ডেভিল ডিজাইনের।এটার সামনের ডিজাইন টা ডেভিল ডিজাইন।এরকম বা এর কাছাকাছি আর কোনো গাড়ি কলেজে নেই। গাড়িটা শমসের আঁধার কে দিলেও আঁধার এটা শাওনের সাথে শেয়ার করে নিয়েছে।বলেছে এটা ওদের দুজনের আর একদিন ও আরেকদিন শাওন চালাবে।

শাওনেরও গাড়িটা খুব পছন্দ। তাই সেও আঁধার যখন গাড়ি শেয়ার করার কথা বলে তখন লাফিয়ে উঠে অ্যাকসেপ্ট করে নেয় কারণ তার এরকম গাড়ির খুব শখ ছিল।এমন না যে তার বাবা মার সামর্থ্য নেই এমন গাড়ি কিনার কিন্তু তারা মনে করেন এমন গাড়ির স্পীড নরমাল গাড়ির চেয়ে বেশি হয় তাই কিনে দেন নি।তারা এই গাড়ির কথা শুনে আপত্তি করেছিলেন কিন্তু শমসের তাদের বুঝিয়ে বলেন যে কোনো বিপদ হবে না।আর সেই থেকে এই গাড়ি ওরা দুজন চালাচ্ছে।গাড়িটা কিনেছে তার চারমাস হয়েছে।এই গাড়িতে অনেকেই উঠতে চেয়েছে কিন্তু আঁধার আর শাওনের ভয়ে উঠেনি কারণ ওরা কলেজের টপার তার উপর দিয়ে নিজে জিনিসে ওরা কখনো কোনো স্ক্র্যাচ অব্দি পড়তে দেয় না।

To be continued….