কালোবউ পর্ব-২৩

0
1480

🖤#কালোবউ🖤
লেখিকাঃ Tahmina Toma
পর্বঃ ২৩

আকাশঃ আজ তিনদিন হয়েছে মেঘলাকে বাসায় নিয়ে গেছে। হাসপাতালে থাকতে নার্স বা ডক্টরকে ম্যানেজ করে ওকে দেখে এসেছি যখন ঘুমিয়ে থাকতো। এই তিনদিন একটা বার ওর মুখটাও দেখতে পারিনি। এবার মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে মরেই যাবো। কিছু ভালো লাগছে না। রুমে আসলে সব খালি খালি লাগে। অফিসের কাজে মন বসাতে পারছি না। আলমারি থেকে ওর একটা ওড়না বের করে ঘ্রাণ নিলাম। একটা মিষ্টি স্মেইল নাকে এসে লাগলো। ফাজিল মেয়ে নিজের বাড়ি যায়নি মামার বাড়ি গিয়ে বসে আছে। ওদের বাড়ি গেলে তাও দেখা করতে পরতান লুকিয়ে। কিন্তু খান ভিলায় গার্ড আছে অনেক। কিন্তু আজ যেভাবেই হোক আমি যাবোই।

মেঘলাঃ একবার বলেছি না আসতে সত্যি আর এলেন না। আসবেন কেন?? আপনার যার জন্য আমাকে প্রয়োজন ছিলো তা মিটে গেছে। আমারও চাই না আপনাকে।

রিয়াদঃ কী করিস মেঘ??

মেঘলাঃ কিছু না ভাইয়া এমনি বসে আছি।(রিয়াদ আমার খালাতো ভাই। আয়েশা খালামনির ছেলে। পেশায় ডাক্তার। এখানেই নাকি বড় হয়েছে। রুপ আপু রিয়াদ ভাইয়ার সম্পর্কে কখনো কিছু বলেনি।)

রিয়াদঃ আগামীকাল থেকে ভার্সিটি যেতে পারবি। আমি ড্রপ করে দিয়ে যাবো।

মেঘলাঃ না ভাইয়া আমি যেতে পারবো একাই।

রিয়াদঃ একদম বেশি কথা বলবি না। সকালে চুপচাপ রেডি হয়ে থাকিস। হাতটা দেখি ঘা শুকিয়েছে কিনা।

মেঘলাঃ হাত এগিয়ে দিলাম।

রিয়াদঃ (ব্যান্ডেজ খুলে দেখে ) তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। দাড়া মেডিসিন লাগিয়ে ব্যান্ডেজ চেঞ্জ করে দেই আবার।

মেঘলাঃ না না ব্যাথা লাগে।

রিয়াদঃ তুই টেরই পাবি না। আমি গল্প বলছি তুই শুন আর আমি করে দিচ্ছি।

মেঘলাঃ ওকে ব্যাথা লাগলে তোমার খবর আছে।

রিয়াদঃ আচ্ছা বাবা ঠিক আছে।

মেঘলাঃ(ভাইয়া মেডিসিন লাগাচ্ছে আর গল্প বলছে। আমি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে গল্প শুনছি আর হেসে লুটোপুটি খাচ্ছি। ভাইয়া অনেক মিশুক স্বভাবের। সহজে সবার সাথে মিশে যায়। আমার সাথে একবেলায় মিশে গেছে। বাড়িতে গেলে মানুষের কথা শুনতেই হতো তাই মামার বাসায় চলে এসেছি। আর এখান থেকে ভার্সিটিও কাছে। এই বাড়িতে আসার পর ভাইয়াই আমার বেশি খেয়াল রাখছে। ভাইয়া দেখতেও কিন্তু অনেক হ্যান্ডসাম।)

আকাশঃ(এত কষ্ট করে এসে এসব দেখতে হচ্ছে। কোনদিন আমার সাথে একটু হেঁসে কথা বলেছে। এখন দেখো হাসি যেন থামছেই না। দাড়াও এটাকে যেতে দাও তোমার হাসি আমি বের করছি। গার্ডের চোখ ফাকি দিয়ে বাউন্ডারি টপকে ভেতরে ঢুকেছি। এই বয়সে এসে এসব করছি। যে বয়সে করার কথা ছিলো তখন এসব করার কথা চিন্তাও করিনি। আকাশ চৌধুরীর কপালে শেষে এসব ছিলো। নিজের বউয়ের সাথে লুকিয়ে দেখা করতে হচ্ছে। পাইপ বেয়ে ওপরে উঠে দেখি মহারানী ভাইয়ের সাথে গল্প করছে আর হাসছে। এই প্রথম ওকে হাসতে দেখলাম। হাসিটা অসম্ভব সুন্দর। এই হাসির প্রেমে পড়ে গেলাম। যাক রিয়াদের জন্য অন্তত ওর হাসিটাতো দেখতে পেলাম। প্রমিস করছি এখন থেকে এই ঠোঁটে শুধু হাসি আর আমার ঠোঁটের স্পর্শ থাকবে😊। রিয়াদ ওঠে চলে গেলো।)

রিয়াদঃ মেঘ দরজা অফ করে দে।

মেঘলাঃ আচ্ছা দিচ্ছি,,,,

(মেঘপরী দরজা আর লাইট অফ করে ডিম লাইট জ্বালিয়ে শুয়ে পড়লো। বেলকনির দরজায় দাঁড়িয়ে দেখছি। আস্তে করে গ্লাসটা খুলে ভেতরে গেলাম। ওর পাশে বেডে বসে পড়লাম।

মেঘলাঃ (মনে হচ্ছে রুমে কেউ এসেছে। কিন্তু আমিতো দরজা অফ করে এসেছি। ভ,,,,,,ভূত নয়তো। বিরবির করে দোয়া পড়ে চোখ পিটপিট করে তাকালাম। চোখ আপনাআপনি বড় হয়ে গেলো।) আ,,,,,,,আপনি???

আকাশঃ হ্যা আমি,,,কেন অন্য কারো আশা করেছিলে??

মেঘলাঃ বাজে কথা বন্ধ করুন। আপনি এখানে কীভাবে এলেন??

আকাশঃ টেইন এইজ লাভাররা যেভাবে লুকিয়ে দেয়াল টপকে, পাইপ বেয়ে আসে সেভাবে এসেছি। (মেঘলার পাশে শুয়ে পড়লাম)

মেঘলাঃ কী,,,,,??? আরে আপনি এখানে কেন শুচ্ছেন?? উঠুন বলছি।

আকাশঃ এত কষ্ট করে এসেছি ওঠে যাওয়ার জন্য??

মেঘলাঃ মানে,,,,? কেন এসেছেন এখানে??

আকাশঃ তিন দিন তোমাকে দেখিনি। আজ সারারাত দেখবো মন ভরে। আজ এখানেই থাকবো।

মেঘলাঃ আপনি ইয়ার্কি করছেন আমার সাথে?? এখনই আপনি এখান থেকে না গেলে আমি চিল্লাইয়া সবাইকে ডাকবো।

আকাশঃ ট্রাই করে দেখতে পারো(আয়েশ করে শুয়ে)

মেঘলাঃ ম,,,,,,,,,,,, উমমমমমমম(উনি এমন কিছু করবে আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি)

আকাশঃ(ও ডাকতে গেলেই ওর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলাম। এই প্রথম কাউকে লিপ কিস করলাম। নেশা ধরে গেছে। পাগলের মতো ওর ঠোঁট শুষে নিচ্ছি।)

মেঘলাঃ(আমি একদম শকড। কিছুক্ষণ বুঝতে লেগেছে কী হচ্ছে?? যখন বুঝতে পারছি ছাড়ানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু উনার সাথে পেরে উঠার শক্তি আমার নেই। লজ্জায় কুঁকড়ে গেছি। এখন দম বন্ধ হয়ে আসছে তাও ছাড়ছে না।)

আকাশঃ( কতক্ষণ ছিলাম জানি না। দম বন্ধ হয়ে আসতেই ছেড়ে দিলাম। ওর কপালে কপাল ঠেকিয়ে দুজনেই জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছি। চোখ বন্ধ করে আছে ও। লজ্জায় মুখ লাল হয়ে গেছে। ইচ্ছে করছে কামড়ে খেয়ে নেই।) আবার ডাকবে কাউকে??

মেঘলাঃ( মাথা নেড়ে স্বীকার করলাম। বুঝালাম আবার ডাকবো। উনার দিকে তাকাতে লজ্জা লাগছে। কী করলেন এটা উনি?? রাগের থেকে বেশী লজ্জা করছে। কিছু বলতেও পারছি না লজ্জায়)

আকাশঃ বললেই হয় তোমার আরো একটা কিস লাগবে। ডাকবার বাহানা বের করতে হবে কেন? আমিতো তোমার হাসবেন্ড অন্য কেউ না। লজ্জার কী আছে?? ইচ্ছে করলে বলবে।

মেঘলাঃ আপনি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছেন। ভালো হবে না কিন্তু। (উনার দিকে তাকিয়ে)

আকাশঃ কী খারাপ হবে শুনি??(কপালে একটা কিস করে)

মেঘলাঃ আপনি চলে যান এখান থেকে।

আকাশঃ বললামতো আজকে সারারাত তোমাকে দেখবো মন ভরে। এখন বেশি কথা না বলে চুপচাপ আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাও। নাহলে এখনই বাসর করে নিবো। (চোখ টিপ মেরে)

মেঘলাঃ (চোখ বড়বড় করে উনার দিকে তাকালাম)

আকাশঃ এভাবে তাকিয়ে লাভ নেই। আমাদের বাসরটা এখনো বাকি আছে। আর এভাবে আমি সেটা করতে চাই না। বাসর বাসরের মতোই হবে এখন যদি তুমি করতে না চাও। আর যদি তুমি এখন বাসরটা করতে চাও আমি কী করে আমার বউয়ের ইচ্ছা অপূর্ণ রাখি। আর কাউকে ডাকতে চাইলে কীভাবে মুখ বন্ধ করবো নিশ্চয়ই বুঝে গেছো। এখন বলো চুপচাপ আমার বুকে ঘুমাবে নাকি বা,,,,,।

মেঘলাঃ(আর বলতে না দিয়ে চুপচাপ উনার বুকে শুয়ে পড়লাম)

আকাশঃ গুড গার্ল (শক্ত করে জড়িয়ে নিলাম বুকের সাথে। বাকি জীবন এটাই তোমার ঠিকানা। আগলে রাখবো সব সময়। ভালোবাসা দিয়ে ভুলিয়ে দেবো আমার দেওয়া সব আঘাত। ভালোবাসার স্পর্শে আঘাতের চিহ্নও মুছে দিবো।)

মেঘলাঃ(এভাবেই তো থাকতে চেয়েছিলাম এই বুকে সারাজীবন। আঘাতে আঘাতে আমার বুকটা যে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছেন। আপনাকে কীভাবে তা মাফ করি বলেন? এত সহজে আপনাকে মাফ করবো না। এখনই মাফ করে দিলে আবার অপমান করতে একবার ভাববেন না। আগে আপনাকে আমার মূল্য বুঝাবো তারপর এই বুকে শান্তিতে ঘুমাবো।)

আকাশঃ নড়াচড়া করছো কেন?? চুপচাপ ঘুমাতে বলেছি।

মেঘলাঃ এত কাঠের মতো শক্ত কারো বডি হয়??

আকাশঃ আমার হয়,,,,,, অভ্যাস করে নাও এখানেই সারাজীবন ঘুমাতে হবে।

মেঘলাঃ আমি কেন এখানে সারাজীবন ঘুমাবো?? এখানে ঘুমাবে কোন সুন্দরী আর আপনার যোগ্য কেউ।

আকাশঃ একদম বাজে কথা বলবি না। আমার এই মেঘপরীর থেকে অপরূপা আর কেউ নেই। এই বুক শুধু তার নামে লিখা। আর কেউ কোনদিন এই বুকে জায়গা পাবে না।

মেঘলাঃ হঠাৎ এত ভালোবাসা কোথা থেকে উদয় হলো আকাশ চৌধুরীর মনে?? যে ভালোবাসা উপলব্ধি করানোর জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় সে ভালোবাসার কী প্রয়োজন??

আকাশঃ কী ভেবেছিলি মরে গেলে বেঁচে যাবি?? সেখানে গিয়েও হাজির হয়ে যেতাম। আর কখনো যদি এমন কথা চিন্তাও করিস তোর ফ্যামেলির সবাইকে খুন করে দিবো তারপর নিজের বুকে গুলি করে দিবো।

মেঘলাঃ ঢং

আকাশঃ যা মনে করো( কপালে একটা কিস করলাম)

মেঘলাঃ কথায় কথায় কিস করার কী আছে??

আকাশঃ এখন কথায় কথায় করছি পরে সেকেন্ডে সেকেন্ড করবো। (টুপ করে ঠোঁটে কিস করে)

মেঘলাঃ এর সাথে কথা বলাই বেকার।

আকাশঃ এইতো বুঝতে পারছো। তাই চুপচাপ ঘুমাও।

মেঘলাঃ(এর সাথে কথা বাড়ানোই বোকামি। চুপচাপ বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম। মনে হচ্ছে এর থেকে নিরাপদ আর আরামদায়ক জায়গা পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। আস্তে আস্তে চোখে ঘুম নেমে এলো)

আকাশঃ একটুপর দেখি ঘুমিয়ে পড়েছে। তাকিয়ে আছি ওর দিকে। এই নিষ্পাপ ফুলটাকে এতদিন কষ্ট দিয়েছি। আবার শক্ত করে জড়িয়ে নিলাম। এবার ঘুমের ঘোরে আমার মেঘপরীটাও আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। চুল থেকে মিষ্টি একটা স্মেইল আসছে। মাথায় একটা কিস করলাম।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

রুপঃ ভালো হয়েছে চোখের পানির কোন রঙ নেই। রঙ থাকলে সবার সামনে সুখী হওয়ার অভিনয় করতে পারতাম না। মেঘমনির কাছ থেকে এসে রবিনের নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আজ তিনদিন বিছানা থেকে ওঠার শক্তি নেই আমার। শরীরের প্রতিটা জায়গায় বেল্টের আঘাতের চিহ্ন এখনো তাজা হয়ে আছে। জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো রবিনকে বিশ্বাস করা। রবিন আকাশকে হিংসা করতো ছোটবেলা থেকে। সেই হিংসা থেকেই আমাকে আলাদা করেছে আকাশের থেকে। বিয়ের রাত থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমার জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত নরকে পরিণত করেছে রবিন। আজ যে শরীর নিয়ে ওঠে বসার ক্ষমতা আমার নেই সেই শরীর নিয়ে নিজের চাহিদা মিটিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে রবিন। আর আমি নরক যন্ত্রণা উপভোগ করছি। বাবার সামনে দাঁড়ানো মুখ নেই। বিয়েটা যে নিজের ইচ্ছেতে করেছি। মৃত্যু ছাড়া এই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। তাই মৃত্যুর প্রহর গুনছি। কবে এই অপেক্ষার সমাপ্তি হবে।

রবিনঃ এই,,,,, একদম প্যানপ্যান করবি না। বাইরে ফেলে দিয়ে আসবো,,,, ঘুমাতে দে।

রুপঃ মুখের ওপর কাপড় চেপে ধরলাম। ফুপানোর শব্দ বন্ধ করার জন্য।

,,,,,,,,,,,,,,,,,

মাহিনঃ ভালোবাসা এত কষ্ট কেন দেয় চাঁদ বলতে পারো?? এমন একজনকে ভালোবেসেছি যাকে ভালোবাসি বলার যোগ্যতাও আমার নেই। কেন এসেছিলে আমার জীবনে?? ঐ চাঁদের আলো রাখার মতো ঘর যে আমার নেই। যাকে ভালোবাসি তাকে বলার শক্তিও নেই চাওয়াতো অনেক দূর। আর যে আমাকে ভালোবাসে তাকে মেনে নেওয়ার কথা ভাবতেও পারি না। চাঁদের লুকিয়ে তোলা ছবিগুলো জুম করে দেখছি। সত্যি তুমি চাঁদ।

ক্রিংক্রিংক্রিং

মাহিনঃ আসসালামু আলাইকুম,,,,, কে??

চাঁদঃ কী ভেবেছেন দূরে সরিয়ে নেবেন ভাইয়ার থেকে ভাবিকে আর আমার থেকে নিজেকে। জানেন তো আমার ভাইয়া প্রচন্ড জেদি। তার যেটা চাই সে আদায় করে নিতে জানে। হয় বুদ্ধিতে নাহয় শক্তিতে। আমিও আমার ভাইয়ার মতো হয়েছি। পারবেন না আমার থেকে দূরে যেতে। যত দূরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন তত কাছে আসতে বাধ্য হবেন।

মাহিনঃ তোমরা ভাইবোন দুজনেই সাইকো,,,, পাগল।

চাঁদঃ উহুম,,,, পাগল না,,,,, পাগলী,,, আপনার।

মাহিনঃ ধূর,,,,,(কেটে দিলাম,,,, যত চাইছি নিজেকে শক্ত করতে তত দূর্বল করে দিচ্ছে এই মেয়ে। আগামীকাল বাড়িতে চলে যেতে হবে। মেঘটা নাকি এখানেই থাকবে। থাক বাড়িতে গেলে আবার কারো বাজে কথা শুনে কষ্ট পাবে। একটু দেখে আসি পাগলীটা ঘুমিয়েছে কিনা। কী ব্যাপার মেঘতো রুমের দরজা অফ করে ঘুমায় না। আজ অফ কেন করেছে?? আবার কিছু করে বসবে না তো?? দরজা ভাঙবো??)

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,