#কুঁড়েঘর
#লেখিকা–মার্জিয়া রহমান হিমা
। পর্ব ০৮ ।
নিশাদ কিছু জায়গা চক্কর দিয়ে তারপর বাড়িতে আসলো। এসে দেখে বুয়া খাবার রান্না করে চলে গিয়েছে। নিশাদ সোফায় হাত পা ছড়িয়ে বসে পড়ে।
সূর্য, সাদি আরো আগেই এসেছে তবে রেহানের খোঁজ নেই। মহারাজ এখনও আসেনি।
নিশাদ জ্যাকেট খুলতে খুলতে বলে
“রেহানের আজকাল কোনো কিছুই ঠিক লাগছে না। না জানি কোনো মেয়ের পেছনে পড়েছে কিনা!”
সূর্য শুনতে পেয়ে রুম থেকেই বললো
” আরে আজকাল তোর শত্রু রিধিশার সাথে যে মেয়েটা থাকে সেই মেয়ের সাথে দেখা যায় মাঝে মাঝে। রাতে তো কথাও বলে একটু একটু।”
নিশাদ কোমড়ে হাত দিয়ে মুখ কুঁচকে বললো
” শেষে কিনা আমার শত্রুকে বেয়াইন বানানোর প্ল্যান করছে? এটা আসলেই আমার বন্ধু তো!”
সূর্য হেসে দেয় নিশাদের কথায়।
নিশাদ ওয়াসরুমে ঢুকে যায় গোসল করতে। মারাত্মক গরম পড়ছে কয়েকদিন ধরে।
একঘন্টা সময় লাগিয়ে গোসল শেষ করে বের হলো।
চুল মুছতে মুছতে রুম থেকে বেরিয়ে দেখে রেহান মাত্র এসেছে। ঢুকে জুতা খুলতে ব্যস্ত। নিশাদ টাওয়ালটা সোফার উপর রেখে বললো
” কিরে এতো সময় পর কোথা থেকে এলি?”
.
হুট করে পেছন নিশাদের কথা শুনে রেহান ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠে। নিশাদ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রয়েছে। রেহান দাঁত কেলিয়ে হাসলো তাতেও নিশাদের চাহনির পরিবর্তন হয়নি। রেহান মাথা চুলকে বললো
” জোতির সাথে একটু কফি শপে গিয়েছিলাম।”
নিশাদ খাবার টেবিলে বসতে বসতে বললো
” ১০ মিনিটের ভেতর টেবিলে এসে বসবি নাহলে!”
নিশাদ চোখ রাঙিয়ে তাকালো। রেহান দৌঁড়ে রুমে চলে যায়। সাদি আর সূর্য এসে টেবিলে বসে নিজেদের প্লেটে খাবার নিতে থাকে।
.
টিউশনি শেষ করে বাসায় ফিরে রিধিশা ফ্রেশ হয়ে বসে। এই বাসার ভাড়া দিতে হবে তাই টাকা বের করলো। একজন বাদে সবাই এই মাসের টিউশনির বেতন দিয়ে দিয়েছে। এখানে ৮হাজার টাকা।
রিধিশা লাগেজ থেকে ১০হাজার টাজা বের করে চুপচাপ টাকার দিকে তাকিয়ে বসে থাকে।
কয়েক মাস আগে ঢাকায় আসার সময় লিমা বেগম ১০ হাজার টাকা হাতে দিয়ে বলেছিলো
” এখন তো আর আমার কাছে থাকিস না তাই চাইলেও তোকে কোনো বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারি না। এই টাকাগুলো রেখে দিবি খুব বেশি দরকার পড়লে বা বিপদে পড়লে খরচ করবি। তোর বাবার থেকে লুকিয়ে এই কয়টা টাকাই রাখতে পেড়েছি। আরও যদি দরকার হয় আমাকে বলবি, আমি যেভাবেই পারি সাহায্য করার চেষ্টা করবো। এই সময়টাতে মা হয়েও তোকে আগলে রাখতে পারছি না।”
রিধিশা মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলেছিলো
” আমার কোনো সাহায্যই চাই না। তুমি শুধু বাবার মতো হয়ে যেও না। তুমি সব সময় এই রকম থেকো।”
রিধিশার গাল গড়িয়ে চোখে পানি পড়ে কয়েক ফোটা। রিধিশা নাক টেনে চোখ মুছে নেয়।
সব টাকা মিলিয়ে ১৮হাজার হয়েছে। ১৫ হাজার ভাড়া দিয়ে বাকি ৩হাজার থেকে যাবে। রিধিশা আলতো হাসলো। মাথার উপর থেকে ভাড়ার বোঝাটা নামাতে পাড়লেই চলবে বাকি মাস নাহয় কোনোরকমে চালিয়ে দেবে।
.
কলিংবেল বেজে উঠতেই রিধিশা গিয়ে দরজা খুলে দেয়। তীর্ণ আর তারা দৌঁড়ে এসে তাদের জায়গায় বসে পড়ে। রিধিশা হেসে দুজনের কাছে এসে বসতেই তীর্ণ মন খারাপ করে বললো
” ম্যামাপু কালকে তুমি চলে যাবে? তোমাকে অনেক মিস করবো।”
রিধিশা তীর্ণর গাল টেনে বললো
” আমি তো প্রতিদিনই আসবো তোমাদের পড়াতে তখন তো দেখবেই।”
তারা উৎসুক হয়ে বলে
” ম্যাম’আপু জানো আজকে তীর্ণ ক্লাসে গিয়ে একটু একটু কেঁদেছে আর সব্বাইকে বলেছে আমার ম্যাম’আপু চলে যাবে।”
রিধিশা তীর্ণর দিযে তাকিয়ে হেসে দেয়। তীর্ণ লজ্জা পায় কিছুটা। রিধিশা দুজনকে পড়তে বলে উঠে গিয়ে ব্যাগ থেকে চকলেট বের করে।
আজকে বাসায় আসার সময় দুজনের জন্য কয়েকটা চকলেট কিনেছিলো। এই বাড়িতে আসার পর থেকে দুজনের থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছে রিধিশা তাই দুজনের জন্য খারাপ লাগছে, চলে যাবে বলে। দুজনকে চকলেট দিতে দুজন খুশি হয়ে রিধিশার গালে চুমু দিলো।
রিধিশা দুজনকে পড়াতে থাকে।
.
নিশাদ রুমে বসে হাতে বল নিয়ে খেলছে। একদমই ভালো লাগছে না তার। ফোনের শব্দে নিশাদ হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর থেকে ফোন নিয়ে দেখে মিলি কল দিয়েছে। নিশাদ ফোন সাইলেন্ট করে সিগারেট বের করে লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরালো। সিগারেট হাতে নিয়ে ব্যালকনিতে চলে গেলো।
বাসায় কেউ নেই এখন। সূর্যরা ক্লাবে গিয়েছে কারণ আজকে মিলির জন্মদিন। নিশাদকেই সবার আগে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিলো কিন্তু নিশাদ তো নিশাদই। রেহানরা কেউ যেতে না চাইলেও জোড় করে পাঠিয়েছে আর নিজে ঘরে ঘাপটি মেরে বসে আছে। কেউই না গেলে মিলি বাড়ি খুঁজে বের করে ঠিকই চলে আসতো। রেহানরা মিলিকে আটকে রাখতে পারবে তাই পাঠিয়েছে।
হাতের সিগারেট শেষ করে বড় একটা নিশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করে ব্যালকনির ফ্লোরে বসে পড়ে। চোখের সামনে মায়ের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। নিশাদ কিছুক্ষণ বসে থেকে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো লাইট অফ করে।
.
রাত ১০টা বাজে…
রিধিশা ফ্যালফ্যাল করে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে মুখে বিস্ময়ের রেশ। তার বিকাশে টাকা এসেছে! তাকে টাকা কে পাঠালো? অতি বিস্ময়ে কোন নাম্বার থেকে এসেছে সেটাও দেখেনি এখনও।
” এতো টাকা আমাকে কে পাঠালো?”
রিধিশার কথা শেষ হতেই ফোন বেজে উঠে। জোয়ান কল করেছে। রিধিশা রিসিভ করে
” আসসালাম ওয়ালাইকুম ভাইয়া। কেমন আছো?”
” ওয়াকাইকুম আসসালাম। আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুই কেমন আছিস?”
রিধিশা আমতা আমতা করে বললো
” জি ভাইয়া ভালো।” জোয়ান গম্ভীর গলায় বললো
” মা কথা বলবে তোর সাথে।”
রিধিশা সস্তির নিশ্বাস ফেলে। ভেবেছিলো জোয়ান বকাঝকা দেবে।
” হ্যা দাও খালামনির কাছে।”
.
“কিরে মা কেমন আছিস?” রিধিশা খুশি মনে বলে
” ভালো আছি খালামনি তুমি কেমন আছো?”
” তুই কি আর খোঁজ খবর রাখিস নাকি? আচ্ছা শোন তোকে টাকা পাঠিয়েছি কিছু সেটা দিয়ে ভাড়াটা দিয়ে দিস।”
রিধিশা অবাক হয়ে বললো
” তুমি টাকা পাঠিয়েছো? কিন্তু কেনো? ভাড়া তো আমিই দেবো!”
জোতির মা কড়া গলায় বললো
“বেশি পাকামো করিস না। যা বলবো তাই করবি। তোর আত্মসম্মানবোধ তো বেশি তাই তুই আমাদের থেকে টাকা নিবি না। কিন্তু এটা তোকে টাকা দিচ্ছি না। এটা জোতি এই মাসে যতোদিন এই বাসায় থেকেছে সেটার জন্য, অর্ধেকই দিয়েছি আবার ভাবিস না তোকে দয়া করছি।”
.
“খালামনি জোতি তো তেমন বেশিদিন থাকেনি যে সেটার জন্য টাকা দেবে। আর আমি টাকা জোগাড় করে ফেলেছি।”
জোয়ান মায়ের কান থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে রাগি গলায় বললো
” ছোট ছোটর মতো থাকবি! তোদের দুজনকে আমি সামনে পেলে যে কি করবো সেটাই ভাবছি। তোর মা তোর দায়িত্ব আমাদের কাধে দিয়েছে। এখন তোর গার্জিয়ান আমরা তাই যা বলবো তাই করবি আর তোর এখনও বিয়ে হয়ে যায়নি যে সব কিছু তোর কথায় চলবে। তুই এখনও আমাদের দায়িত্বে রয়েছিস।”
রিধিশাকে কিছু বলতে না দিয়ে কল কেটে দিলো জোয়ান।
রিধিশা মন খারাপ করে ফেলে।
________
আজকে রিধিশা ভার্সিটিতে যাবে না। সকালে চা বিস্কুট খেয়ে তীর্ণ, তারাকে তাদের স্কুলে যাওয়ার আগে পড়িয়ে দিলো।
তারপর দোকানে গিয়ে বিকাশ থেকে টাকা তুললো। আট হাজার টাকা পাঠিয়েছে। একটা ভেন গাড়ি ঠিক করে বাসায় ফিরলো। বাসায় মোটামুটি ভালোই জিনিসপত্র রয়েছে। বাড়িওয়ালার কাছে গিয়ে কারেন্ট বিল, ভাড়া সহ মোট সাড়ে ১৫ হাজার ভাড়া দিয়ে আসে।
ভেন ওয়ালা আসতেই রিধিশা সব জিনিস পত্র দেখিয়ে দেয় আর লোক দুটো জিনিস নিয়ে একে একে বেধে ফেলে।
আগের বাসা থেকে খুব বেশি দূড়ে নিয় এখনের নতুন বাসাটা।
সব জিনিস রেখে আর খাটও সেট করে দিয়ে যায় ভেন গাড়ির লোক দুটো।
একটা খাট, ওয়ারড্রব আর সব রান্নাঘরে কিছু জিনিসপত্র। এগুলোই রুমে সেট করে যায়। দুজনকে পাঁচশ টাকা দিতে হয়।
রিধিশা রুমের সব কিছু ধীরেধীরে গুছিয়ে নিতে থাকে।
.
নিশাদ ভার্সিটিতে আসার পর থেকে মিলি তার পিছনে পড়ে আছে। মিলি ন্যাকা স্বরে বললো
” বেবি কালকে তুমি আমার birthday celebration এ আসোনি! তোমার জন্য কতো কিছু এরেঞ্জ করেছিলাম you have no idea. রেহানদের জিজ্ঞেস করে দেখো! তোমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ৯টায় কেক কাট করেছি আমি। কতো ফোন দিয়েছি তুমি রিসিভ করোনি।”
নিশাদ রেহানদের দিকে তাকিয়ে দেখে তিনজন হাসি আটকে রেখে একসাথে সায় জানায়। নিশাদ বিরক্তকর গলায় বললো
” প্লিজ মিলি এসব ভালো লাগছে না আমার! তুমি যাবে এখন!”
” তুমি এভাবে বলছো কেনো বেবি?”
নিশাদ রেগে ধমকে বলে উঠে
” মিলি! আর একবার বেবি, বেবি বললে তোমাকে কি করবো আমি জানি না। তোমাকে আগে কতোবার বলেছি আমাকে এসব বলে ডাকবে না! তোমার মাথায় ঢোকেনা আমার স্পষ্ট কথা? এসব উল্টো পাল্টা নামে ডাকলে খুব খারাপ হবে। আমার একটা ভালো নাম আছে সেটায় ডাকলে ডাকবে নাহলে আমার কাছেও যেনো না দেখি তোমাকে!”
মিলি নিশাদের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে নেয়। চারপাশে তাকিয়ে দেখে অনেকেই তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। মিলি নিচু স্বরে বলল
” তুমি এভাবে রাগছো কেনো? সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।”
নিশাদ সবার দিকে একবার তাকিয়ে রেহানকে ইশারা করে। রেহানরা গিয়ে সবাইকে ধমক দিয়ে বলে নিজেদের কাজ করতে।
” শোনো মিলি আমাদের মধ্যে এমন কোনো সম্পর্ক নেই যার জন্য তুমি এভাবে আমার সাথে লেপ্টে থাকো বা এসব বলে ডাকো আমাকে। আমি কখনো তোমাকে বলিনি আমি তোমাকে লাইক করি বা ভালোবাসি।” মিলি জোড় গলায় বললো
” তোমার করা না করা দিয়ে আমি কিছু করবো না। আমি তোমাকে ভালোবাসি এটাই আমার জন্য এনাফ। আমাদের বিয়েও হবে দেখে নিও।” নিশাদ অগ্নিদৃষ্টিতে মিলির দিকে তাকিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
.
কিছুটা ফুরফুরে মুডে বসে আছে নিশাদ। বট গাছের নিচে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। সূর্য নিশাদের সামনে বসে বললো
” কই তাকাস? কারে খুঁছো ভাই?” নিশাদ একবার সূর্যর দিকে তাকিয়ে আবার আকাশে দিকে তাকিয়ে বললো
” কারে খুঁজি? কাউকে না। দেখতেছি আজকে মনে বৃষ্টি পরবে।”
সূর্য আর সাদি একে অপরের দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসলো।
” তাই নাকি ভাই? তা বৃষ্টিটা কি আকাশ থেকে পরবে
নাকি তোমার চোখ থেকে?” নিশাদ ভ্রু কুঁচকে বললো
“মানে? আমার চোখ থেকে কেনো পরবে?”
সাদি মাথা চুলকে বললো
” ওই আরকি ফকফকা রোদ উঠা আকাশ থেকে তো বৃষ্টি পড়ে নাই কখনো তাই আমরা ভাবলাম আমাদে৪ নিশাদ ভাইয়ের চোখ থেকে বৃষ্টি পরবে নাকি!”
নিশাদ চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। সূর্য সাদিকে চোখ টিপ দিয়ে বললো
” আজকে কেমন নিরব নিরব লাগতেছে না সব?”
নিশাদ আনমনা হয়ে বিষাদের গলায় বললো
” হ্যা, আজকে চারপাশটা নিরব লাগছে একদম।”
সূর্য আর সাদি মুখ টিপে হাসলো। এরমধ্যে রেহান এসে বসে। সাদি জিজ্ঞেস করে
” কিরে রেহান? আজকে রিধিশা আসে নাই ভার্সিটিতে? না মানে চোখে পড়লো না আজ একবারও।”
” হ্যা, জোতিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বললো কি নাকি কাজ আছে তাই আসেনি।”
নিশাদ কিছুটা রাগের সাথে বলে উঠে
” এমন কি কাজ যে ভার্সিটি বন্ধ করে করতে হবে? এতো কাজ থাকলে তাহলে পড়াশোনা করার কি দরকার?” রেহান চোখ বাঁকিয়ে বললো
” সেটা তো রিধিশাই জানে। পার্সোনাল কাজও থাকতে পারে কিন্তু তোর এতো রাগ কিসের?”
নিশাদ মাথা নেড়ে বললো
” আমার কিসের রাগ? আমি কেনো রাগবো?”
রেহানরা মুখ টিপে হাসলো। ব্রেকটাইম শেষ হতেই সবাই ক্লাসে চলে যায়।
.
আলিফের বাসা থেকে তানিহার বাসায় যাওয়ার পথে ফুটবল মাঠ পড়ে। সেখান দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় হুট করে একটা ফুটবল পায়ের কাছে গড়িয়ে আসে।
রিধিশা খেয়াল না করেই তার উপর দিয়ে হাটায় উল্টে পড়ে গেলো। রিধিশা কোমড় ধরে চেঁচিয়ে উঠে
” মা গো মা পা’টা গেলো আমার!”
নিশাদ মাঠ থেকে দৌঁড়ে এসে রিধিশাকে রাস্তায় বসে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে ধমকে বললো
” এই মেয়ে এখানে বসে বসে কি করো?”
নিশাদকে স্পোর্ট ড্রেসে দেখে রিধিশা কোনো রকমে দাঁড়িয়ে ক্ষেপে বলে
” বসে বসে মশা মারি। বেয়াদব ছেলে! ফুটবলও খেলতে জানেন না নাকি? ফুটবল মাঠ থেকে রাস্তায় আসে কি করে? এভাবেই মানুষ মারেন?”
নিশাদ রিধিশার দিকে এগিয়ে যেতেই রিধিশা পিছিয়ে যায়। নিশাদ দাঁতে দাঁত চেপে বললো
” তোমাকে তো থাপড়ে গাল ফাটিয়ে দেবো। বড়দের সাথে কথা বলতে জানো না? আমাকে বেয়াদব বলো! ভালোই হয়েছে ব্যাথা পেয়েছো। ভার্সিটিতে না গিয়ে রাস্তায় টো টো করলে তো এমন হবেই।”
রিধিশা রেগে বললো
” এই! এই! আপনি দেখেছেন আমি টো টো করেছি? ফালতু ছেলে একটা। আপনার আর কোনো কাজ নেই? যেখানেই যাই আপনার সাথেই দেখা হতে হয়?”
নিশাদ রিধিশার চুলগুলো জোড়ে টান দিয়ে ফুটবল নিয়ে দৌঁড়ে চলে গেলো।
রিধিশা মাথায় দিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
পড়ে বকতে বকতে চলে যায়।
চলবে……