Home "ধারাবাহিক গল্প ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ পর্ব-৪৯

ক্লান্তিহীন তুই আমার ফরিয়াদ পর্ব-৪৯

0
136

#ক্লান্তিহীন_তুই_আমার_ফরিয়াদ
#পর্বঃ৪৯
#সুমাইয়া_জান্নাত_ইলমা

ওটিতে ইশাতের অপারেশন চলছে। এতক্ষনে খবর পেয়ে আসিয়া বেগম, সানজিদা জেরিন, রিজভী, সিয়াম সবাই হসপিটালে চলে এসেছে। মানুষের জীবনে নিয়তি মানুষকে কোথার থেকে কোথায় টেনে নিয়ে দাড় করায় আরিয়ানই তার জলজ্যান্ত প্রমান। সে আর হসপিটালে দাড়িয়ে নেই, পাশের একটা মসজিদে গিয়ে নফল নামাজের লম্বা সিজদায় পড়ে আছে সে। জীবনের এমন এক পরিস্থিতি থেকে একমাত্র আল্লাহই তাদের উদ্ধার করতে পারবেন। ভাবতেই অবাক লাগে, ইতিমধ্যে সিজদায়ে পড়ে সে এমন এক নারীর জন্য প্রাণ পনে দোয়া করে যাচ্ছে যাকে কিনা একসময় সে তার শ’ত্রু মনে করতো। যাকে সে কটেজে আটকে রেখে দিন রাত অত্যাচার করেছে। এখন কিভাবে এই নারীটাই তার বেঁচে থাকার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওদিকে ইশাতের অপারেশন শেষ হতেই রিজভী গিয়ে আরিয়ানকে ডেকে আনলো। আরিয়ান এসে দেখলো ইশাতের জ্ঞান এখনো ফিরে নি। ওটি থেকে ডক্টর তার দুই মৃ’ত ছেলে মেয়ের লাশ বের করে আনলো। সঙ্গে এলো তাদের ডেথ সার্টিফিকেট। নিষ্পাপ শিশু দুটি দুনিয়ার আলো দেখার আগেই জীবনের মায়া ত্যাগ করে বাবা মাকে ছেড়ে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু একটা বাবা মার জন্য সন্তানের মৃ’ত্যুর শোক অনেক ভ’য়াবহ হয়। আরিয়ানের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। সে অশ্রুসিক্ত চোখে তার নিষ্পাপ সন্তান দুটোকে কোলে তুলে নিলো। সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সে বলল।
— আল্লাহর কাছে ভালো থেকো তোমরা। জেনে রেখো, তোমরা তোমার বাবা মায়ের অনেক আদরের। আর পারলে বাবাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আজ বাবার জন্য তোমারা দুনিয়ার আলো দেখতে পেলে না। সবচেয়ে নি’ষ্ঠুর সত্য এটাই যে তোমাদের মৃ’ত্যুর জন্য তোমাদের বাবা দায়ী। আমি জানি এর জন্য আমি সারাজীবন তোমাদের মায়ের কাছে অ’পরাধী হয়ে থাকব। কিন্তু আমার যে আর কিছুই করার ছিল না।

এই প্রথম স্বচক্ষে সবাই আরিয়ানের চোখে পানি দেখলো। এই দৃশ্যটা সবার জন্যই হৃদয় বিদারক ছিল। আরিয়ান ইশাতের জ্ঞান ফেরার আগেই বাচ্চাদের লা’শ দাফনের ব্যবস্থা করলো। সে জানে জ্ঞান ফিরলে ইশাত এটা সহ্য করতে পারবে না। তাই পুরুষরা মিলে সবাই লা’শ দাফনের জন্য চলে গেলো। লা’শের খাটিয়া কাঁধে তুলে আরিয়ানের মনে হলো যেন দুনিয়ার সকল বোঝা তার কাঁধের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশেষে দাফনের কাজ সম্পন্ন করে শেষ বিদায় দিয়ে তারা ফিরে আসতেই আরিয়ান জানতে পেলো ইশাতের জ্ঞান ফিরেছে। তাকে ওটি থেকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে।

আরিয়ান তখন ছুটে তার কেবিনে গিয়ে দেখলো ইশাত অঝোরে কেঁদে যাচ্ছে। কোনো নার্স অথবা পরিবারের কেউই তাকে থামাতে পারছে না। নার্সরা তাকে বুঝাচ্ছে, অপারেশনের পর তার শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে এভাবে কাদলে বড় কোনো ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু সে কারো কথা শুনছে না।

আরিয়ানকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইশাত তাকে নিজের কাছে ডাকলো। আরিয়ান পাশে এসে বলতেই সে তার হাত ধরে করুন গলায় বলে উঠলো।
— দেখুন উনারা সবাই আমাকে বুঝাচ্ছে আমাদের বাচ্চাদের নাকি কিছু হয়নি। আমি কি এত বোকা? তাহলে আমার অপারেশন কিসের হলো? আমি এতো হালকা কেন অনুভব করছি? আমার তলপেটে এটা কিসের ব্যথা অনুভব হচ্ছে? আমার মনে হচ্ছে ওরা আর নেই। একটু আগেও তো ওরা আমার গর্ভে ছিল। কোথায় গেল আমার বাচ্চারা? ওরা মিথ্যে কেন বলছে আমাকে?

আরিয়ান সবাইকে ইশারায় বেরিয়ে যেতে বলল। সবাই বেরিয়ে যেতেই সে ইশাতকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরলো।ইশাত তখনও হিঁচকি তুলে কান্না করে যাচ্ছে। তার সারা শরীর কাপছে। আরিয়ান অপ’রাধীর ন্যায় মাথা ঝুঁকিয়ে বলল।
— আমাদের বাচ্চারা আর দুনিয়াতে নেই। তাদের লা’শ আমি দাফন করে দিয়ে এসেছি।

ইশাত যেন বড়সড় একটা ঝটকা খেলো। সে দূরে সরে গিয়ে কণ্ঠস্বর খাদে নামিয়ে বলল।
— কি বললেন এটা আপনি?

ইশাতের এমন প্রতিক্রিয়ার দেখে আরিয়ানের ভেতর ঘাবড়ে উঠলো। তবুও সে সত্যিই লুকালো না। সে মাথা তুলে ইশাতের চোখে চোখ রাখলো। ইশাত দেখলো তার চোখ দুটো কেমন রক্তিম হয়ে আছে। এমন সময় আরিয়ান বলে উঠলো।
— ডক্টর বলেছিল তারা যেকোনো একজনকে বাঁচাতে পারবে। তখন আমি বাচ্চাদের পরিবর্তে তোমাকে বেছে নিয়েছি। এর পরিণতিতে আমাদের বাচ্চারা এখন আল্লাহর অতিথি।

ইশাত আরিয়ানের হাত ছেড়ে দিয়ে বলল।
— এটা আপনি কি করেছেন!!

আরিয়ান আর্তনাদ করে বলে উঠলো।
— আমাকে ক্ষমা করো, আমি তোমার বাচ্চাদের খুনি। সারাজীবন করা আমার পাপের শাস্তি তোমাকে আর আমাদের বাচ্চাদের ভোগ করতে হলো। আমি নিজেকে এর জন্য ক্ষমা করতে পারবো না।

কথার সঙ্গে আরিয়ানের গাল বেয়ে একা একাই অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকলো। ইশাত তখন তার চোখ মুখ শক্ত করে বলল।
— আপনি নন, আমাদের সন্তানদের খু’নি অন্য কেউ।

আরিয়ান কয়েক মুহূর্ত স্তম্ভিত হয়ে প্রশ্ন করলো।
— মানে?

ইশাত তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা আরিয়ানকে বলল।
— আমি সিঁড়ি থেকে একা একা পড়ি নি। আমাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আসিফ ধাক্কা দিয়েছে আমাকে। আমি যখন একা বাসায় ছিলাম তখন সে গার্ডদের সরিয়ে বাসায় ঢুকে এসব করেছে।

ইশাতের কথায় আরিয়ানের মনে পড়লো সে ফেরার পর বাড়ির ভেতরে বাহিরে গার্ডদের পড়ে থাকতে দেখেছিল। এতকিছুর মধ্যে সেই কথা তার মাথা থেকেই বেরিয়ে গিয়েছিল। এখন মনে পড়তেই ক্ষোভে, আক্রোশে তার শরীরের শিরা উপশিরা সব ফুলে উঠল। আরিয়ান তীব্র ক্রোধে উঠে দাড়ালো। ইশাত তার হাত ধরে থামিয়ে বলল।
— কোথায় যাচ্ছেন?

আরিয়ান র’ক্তিম চোখে তাকিয়ে বলল।
— আমার বাচ্চাদের খু’নিকে আমি এভাবেই ছেড়ে দিতে পারি না। আইল কিল দ্যাট বা**র্ড।

আরিয়ানের ক্রোধ উপলব্ধি করতেই ইশাত আতকে উঠে তাকে আটকে বলল।
— যাবেন না প্লীজ, আপনার এখন মাথা ঠিক নেই। উল্টা পাল্টা কিছু করে বসবেন। আমি নিশ্চিত ওই অমানুষটা আপনার জন্য ফাঁদ পেতে বসে আছে, আপনার ক্ষতি করে ফেলতে পারে। আমি আমার সন্তানদের হারিয়েছি। এখন আপনাকে হারাতে চাই না। আপনার কিছু হলে আমি এমনিতেই শেষ হয়ে যাব।

আরিয়ান শুনল না ইশাতের বারন। সে নিজের হাত ছাড়িয়ে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে গেল। ইশাত তাকে অনেকবার পিছু ডাকলো কিন্তু আরিয়ান আর ফিরলো না। এদিকে নার্সরা এসে ইশাতের চেঁচামেচি শুনে তাকে জোর করে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে দিলো। ওষুধের ডোজে ইশাতের দৃশ্যপট ধীরে ধীরে ঘোলাটে হয়ে আসতেই সে ঘুমে তলিয়ে গেলো। এদিকে আরিয়ান বেরোনোর পথে ইমরানকে সামনে পেয়ে বাজপাখির ন্যায় ছো মে’রে ইমরানের পকেট থেকে তার ব’ন্দুক নিয়ে চলে গেল। ইমরান আশ্চর্য হয়ে আরিয়ানের পেছনে ছুটলো।

—————————

হসপিটালের পার্কিং লটের জায়গাটা বেশ নিস্তব্ধ। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে ক্লারা আর আসিফ। বেশকিছুক্ষণ যাবত তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক চলছে। ক্লারা এক পর্যায়ে রেগে বলল।
— আমি সবকিছু এখানেই থামিয়ে দিতে চাই। এভিয়ান তার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটা হারিয়েছে। আমার মনেহয় আমাদের এখানেই থেমে যাওয়া উচিত। ওকে ওর মতো ছেড়ে দেওয়া উচিত। তোমার কাজ শেষ, তুমি এবার নিজের জায়গায় ফিরে যাও।

আসিফ তাকে অবজ্ঞা করে হেসে বলল।
— কোথায় ফিরব? জে’লে? ফিরলেই তো আমার ফাঁ’সি নিশ্চিত। যেহেতু এখন আমার জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই, তাই আমিও এভিয়ানকে বাঁচতে দিব না। ও ইশাতকে নিয়ে সুখে সংসার করুক এটা আমি হতে দেব না। আর আমার পথে যে আসবে আমি তাকেই শেষ করে দেব। আমার কোনো পিছুটান নেই এখন।

ক্লারা বুঝলো যে আসিফকে বলে আর লাভ হবে না। তাই সে আসিফের দিকে কটমট করে তাকিয়ে পার্কিং লট থেকে বেরিয়ে আরিয়ানের খোঁজে করিডোরের দিকে চলে গেল, যেদিকে ইশাতের কেবিন। ক্লারা ঠিক করলো সময় থাকতে তাকে আরিয়ানকে সতর্ক করতে হবে। সেই ভেবে করিডোরে গিয়ে সে শুধু সিয়ামকে দেখতে পেল। তাই কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে সে সিয়ামকেই জিজ্ঞাসা করলো।
— এভিয়ান কোথায়?

সিয়াম এক পলক ক্লারার দিকে তাকিয়ে বলল।
— এখন কেন খুঁজছেন তাকে? এতবড় ঘটনা ঘটিয়েও প্রতি’শোধের নেশা যায় নি?

ক্লারা অধৈর্য হয়ে চেঁচিয়ে বলল।
— জাস্ট সাট আপ, যেটা প্রশ্ন করেছি সেটার উত্তর দিন।

সিয়াম থমথমে গলায় উত্তর দিলো।
— আসিফের খোঁজে বেরিয়েছে।

ক্লারা আর দেরি করলো না। সে দৌড়ে নিচে নেমে গেলো। সিয়ামও তার পেছনে গেল। ওদিকে আরিয়ান পার্কিং লটে গিয়ে গাড়ির দরজায় হাত রাখতেই, পেছন থেকে একটা ঠান্ডা গলার আওয়াজ শুনতে পেলো। ইমরানও সবে মাত্র আরিয়ানের পিছু এসে পৌঁছেছে। এমন সময় ইমরান খেয়াল করলো আসিফ দূর থেকে আরিয়ানের দিকে ব’ন্দুক তাক করে রেখেছে। ইমরান হুম’কির সুরে চেঁচিয়ে বলল।
— আসিফ ওইখানেই থেমে যাও বলছি।

আসিফ ইমরানের হুম’কির তোয়াক্কা করলো না। তখন আরিয়ান ঘুরে দাঁড়াতেই আসিফ আবারো অট্ট হেসে বলল।
— আমাকে খুঁজতে বেরিয়েছিস নিশ্চই? আর কষ্ট করতে হবে না।

আরিয়ান রাগের তোপে নিজের ব’ন্দুকে হাত দিতে যাবে তার আগেই তাকে সময় না দিয়ে আসিফ আরিয়ানের দিকে গু’লি ছুড়লো। তখন হঠাৎ কোথার থেকে যেন ক্লারা এসে আরিয়ানকে ধা’ক্কা মে’রে দিল। আরিয়ান সরে যাওয়ায় আরিয়ানের জায়গায় গু’লিটা ক্লারার বুকে গিয়ে বিদ্ধ করলো। আরিয়ান তখন সতর্ক হয়ে আসিফের হাতে পায়ে একাধারে গু’লি করে দিলো। ইমরান ছুটে এসে আসিফের হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে আরিয়ানের হাত থেকে বন্দু’কটা ফিরিয়ে নিয়ে আসিফকে ধরে সেখান থেকে নিয়ে গেলো।

আরিয়ান তখন হাঁটু মুড়ে ফ্লোরে পড়ে থাকা ক্লারাকে তুলে কপাল কুচকে জিজ্ঞাসা করলো।
— এটা কেন করলে?

ক্লারা অনুশোচনার দৃষ্টি নিয়ে বলল।
— ভুলের মাশুল দিলাম।

কথাটুকু বলে ক্লারা চোখ বন্ধ করে ফেলল। আরিয়ান আশ্চর্য হলো ক্লারার মুখ থেকে এমন কথা শুনে। সিয়াম তখন দ্রুত গিয়ে হসপিটাল থেকে একটা স্ট্রেচার নিয়ে এলো। আরিয়ান ক্লারাকে সেটায় তুলে ইমারজেন্সি রুমের দিকে অগ্রসর হলো।

আরিয়ান নিজেই ক্লারার অপারেশনের সকল ফর্মালিটি পূরণ করলো। ডক্টররা ক্লারাকে ওটিতে নিতেই কয়েক ঘণ্টা তার অপারেশন চলল। আরিয়ান আর সিয়াম বাহিরে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। মাঝ দিয়ে আরিয়ান কয়েকবার গিয়ে ঘুমন্ত ইশাতকে দেখে এসেছে। কিছুক্ষন পর ডক্টর এসে জানালো তারা সফলভাবে গু’লিটা বের করতে পেরেছে। ক্লারা এখন সম্পূর্ণরূপে ঝুকিমুক্ত। এটা শুনে সিয়াম আর আরিয়ান একসাথে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।

জ্ঞান ফিরতেই ক্লারা আরিয়ানের সাথে দেখা করতে চাইলো। আরিয়ান খবর পেয়ে তার কেবিনে গেলো। ক্লারা আরিয়ানকে দেখতে পেয়ে বলল।
— ভাইয়া আমাকে ভাবির সাথে দেখা করার সুযোগ করে দাও। আমি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিব।

ক্লারার মুখে ভাইয়া ডাক শুনে আরিয়ানের মন প্রভাবিত হলো। সে ক্লারাকে প্রশ্ন করলো।
— হঠাৎ ভাইয়া ডাকলে যে?

ক্লারা করুন দৃষ্টি নিয়ে বলল।
— যখন আসিফ তোমাকে মা’রতে চাচ্ছিল তখন আমি উপলব্ধি করেছি আমার ভাই আমার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মনে হচ্ছিল আমি অন্যয় কাজ করেছি এতদিন। মা বাবাকে হারিয়ে আমি দিক শূন্য হয়ে পড়েছিলাম। আমাকে বোঝানোর কেউ ছিল না। পরে যখন জানতে পারি বাবাকেও মাই খু’ন করেছে। তখন বুঝতে পারি সবকিছুর পেছনে আমার মা দায়ী ছিল। আজ আমাদের জীবনটা এমন না হলেও পারতো। কিন্তু তুমি তো এসবকিছু থেকে বেরিয়ে সুখে আছো। আমি সুখে ছিলাম না। আচ্ছা, আমাকে শান্তি খুঁজে পেতে হলে কি করতে হবে? আমি যদি তোমার মতো ইসলাম ধর্ম গ্রহন করি তাহলে কি তোমার মতো সুখ খুঁজে পাবো?

আরিয়ান দৃষ্টি কোমল করে বলল।
— যখন তুমি তোমার জীবনের মূল লক্ষ্য বুঝে যাবে, তখন মনে এমনি এমনি শান্তি চলে আসবে। ইসলাম আমাকে সেই লক্ষ্যের খোঁজ দিয়েছে। আমার অশান্তিময় জীবনে শান্তি এনে দিয়েছে। আল্লাহ চাইলে তুমিও সেই শান্তির খোঁজ পাবে।

ক্লারা তখন তার মত জানিয়ে বলল।
— তাহলে আমিও তোমাদের ধর্ম গ্রহন করবো।

আরিয়ান সস্থির নিঃশ্বাস ফেলে ক্লারাকে কালেমা পড়ালো। ক্লারাও আরিয়ানের সঙ্গে কালেমা উচ্চারণ করে ইসলাম গ্রহন করলো।

কিছুক্ষন পর ইশাতের জ্ঞান ফিরলে আরিয়ান ক্লারাকে হুইল চেয়ারে করে ইশাতের কেবিনে নিয়ে গেল। ক্লারাকে দেখতেই ইশাত অবাক হয়ে আরিয়ানের মুখের দিকে তাকালো। ক্লারা তখন ইশাতের হাত জড়িয়ে ধরে অনুশোচনা নিয়ে বলল।
— আমি আমার যাবতীয় অন্যয়ের ক্ষমা চাইতে এসেছি। আমাকে ক্ষমা করবে ভাবি?

ক্লারার অবস্থা দেখে ইশাত আশ্চর্য হয়ে তাকে প্রশ্ন করলো।
— আপনার এই অবস্থা হলো কি করে?

আরিয়ান তখন সবকিছু স্পষ্ট করে জানালো।
— আসিফ আমাকে মা’রার জন্য শ্যুট করেছিল, তখন ক্লারা সামনে এসে পড়াতে গু’লি ওর গায়ে লাগে। অপারেশন শেষ হতেই জ্ঞান ফেরার পর ও আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে। এখন ও এসেছে তোমার কাছে ক্ষমা চাইতে। ওর কাজে ও অনুতপ্ত।

আরিয়ানের মুখ থেকে সব শুনে ইশাত আতকে উঠে বলল।
— আল্লাহ মাফ করুক, কতবড় ভ’য়াবহ একটা পরিস্থিতি থেকে তিনি আপনাকে রক্ষা করেছেন। আপনি আমার একটা কথাও শুনলেন না। কেন গেলেন? আসিফ কোথায় এখন? আর কোনো ঝুঁকি নেই তো?

আরিয়ান গম্ভীর গলায় বলল।
— পুলিশের আন্ডারে, কিছুদিনের মধ্যে তার ফাঁ’সি কার্যকর হবে।

ইশাত তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ক্লারার দিকে তাকিয়ে তার হাতে হাত রেখে বলল।
— তোমার নাম আজ থেকে তাজকিয়া। নামটা পছন্দ হয়েছে?

ক্লারা উজ্জ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে মাথা দুলিয়ে বলল।
— তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছ তুমি?

ইশাত মাথা নাড়িয়ে বলল।
— হ্যা।

আরিয়ান খেয়াল করলো ইশাতের মুখটা কেমন মলিন হয়ে আছে। প্রেয়সীর এমন হাল দেখে তার ভেতরটা যন্ত্র’ণায় নিল হয়ে উঠলো। তবে ইশাত ইতিমধ্যে তাসকিয়ার সাথে কথা বলে অন্য খেয়ালি হয়ে আছে বলে সাময়িক সময়ের জন্য নিজের য’ন্ত্রণা ভুলে আছে। আরিয়ান তখন তাদের কথা বলার সুযোগ করে দিয়ে বিনা শব্দে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। সময় মতো ডক্টর হসপিটাল থেকে ইশাত আর ক্লারাকে ডিসচার্জ দিতেই আরিয়ান তাদের বাড়িতে নিয়ে গেলো।

চলবে ( ইনশাআল্লাহ )……………….