#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ৫১
________________
চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আশিক আরুর মুখের দিকে এ কোন আরুকে দেখছে সে। নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখতে যে মেয়ের থেকে দূরে দূরে থাকছে, সেই কি না হাজির আজ। আশিক নিজেকে সামলালো তারপর আশেপাশে তাকিয়ে বিষন্ন মাখা কন্ঠে বললো,
‘ এসব কি করছিস তুই এটা রেস্টুরেন্ট ভুলে গেলি নাকি?’
আরু আশিকের কথাটায় তেমন পাত্তা না দিয়ে আরো শক্ত করে আশিকের কলাট চেপে ধরে বললো,
‘ নিকুচি করেছে তোর রেস্টুরেন্টের তুই আগে বল তুই ভার্সিটি না গিয়ে এখানে বসে গিলছিস কেন?’ আর এই মেয়েটা কে? (সামনের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে)
আরুর কান্ডে আরো বিস্মিত হলো আশিক। নিজের কলাট থেকে আরুর হাতটা ছাড়িয়ে বললো,
‘ চল বাহিরে চল আমি তোকে বাহিরে গিয়ে সব বলছি।’
‘ বাহিরে কেন এখানে বললে কি সমস্যা?’
‘ কি সমস্যা তুই বুঝতে পারছিস না এখানে কত মানুষ,,
বলেই সামনের মেয়েটিকে ইশারা করে বললো,
‘ ভয় পেও না ও আমার ভার্সিটির ফ্রেন্ড তুমি একটু বসো আমি এক্ষুনি আসছি,
বলেই তক্ষৎনাত আরুকে নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলো আশিক আর আরু হা হয়ে তাকিয়ে আশিকের কান্ডে। মেয়েটাকে এমন তুমি তুমি করে বলার বিষয়টা যেন তাঁর হজম হচ্ছে না রাগ হচ্ছে খুব।’
আশিক আরুকে ধরে রেস্টুরেন্টের বাহিরে দাঁড় করালো তারপর বললো,
‘ এবার বল তো এইভাবে রেগে আছিস কেন?’
আশিকের কথা শুনে চোখ মুখ কুঁচকে এলো আরুর। খানিকটা রাগান্বিত গলায় বললো,
‘ রেগে আছি মানে তুই বুঝতে পারছিস না কেন রেগে আছি।’
আরুর কথা শুনে আশিক অবাক হয়ে বললো,
‘ আমি বুঝবো মানে। আমি বুঝবো কেমনে?’
‘ বেশি কথা বললে দাঁত একদম ভেঙে দিবো বলে দিলাম।’
আরুর কথা শুনে ভ্রু-জোড়া কুঁচকে বললো আশিক,
‘ এবার কিন্তু বারাবারি হচ্ছে কিছু বলার থাকলে বল নয়তো আমি যাই রোজা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।’
‘ রোজা কে রোজা।’
‘ ওহ তোকে তো বলাই হয় নি রোজা হলো আমার গার্লফ্রেন্ড?’
সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড় বড় করে বললো আরু,
‘ কি, হারামজাদা তুই আমারে রাইখা নতুন গার্লফ্রেন্ড জোগাইছো তোরে তো আমি,
বলেই পুনরায় আশিকের কলাট চেপে ধরলো আরু। আরুর কান্ডে চোখ বড় বড় করে বললো আশিক,
‘ আরে আরে কি করছিস? আর তোরে রাইখা মানে তুই আমার গার্লফ্রেন্ড নাকি,
‘ আমি তোর গার্লফ্রেন্ড না আমি তোর বউ।’
‘ কি, তোর কথার আগামাথা কিছু বুঝচ্ছি না আমি।’
‘ আমার সাথে মজা হচ্ছে তুই সত্যি কিছু বুঝতে পারছিস না।’
‘ আমি সত্যি বলছি আরু আমি কিছু বুঝচ্ছি না।’
এবার আরু সিরিয়াস হলো কান্না ভেজা কন্ঠ নিয়ে বললো,
‘ তুই সত্যি কিছু বুঝতে পারছিস না আশিক আমি কি বলতে চাইছি।’
হুট করেই আরুকে কাঁদতে দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল আশিক। থমথমে গলায় বললো,
‘ আরে আরে তুই কাঁদছিস কেন?’
‘ কাঁদবো না তো কি করবো। তোরে কি করে বুঝাই আমি, আমি তোকে ভালোবাসি আশিক।’
সঙ্গে সঙ্গে চমকে উঠলো আশিক। বিস্মিত কন্ঠে বললো,
‘ কি?’
‘ হুম। তোর না থাকার এতদিনের শূন্যতাই আমায় বুঝিয়ে দিয়েছে আমি নিজ অজান্তেই তোকে ভালোবেসে ফেলেছি আশিক। কেন বুঝতে পারছিস না তুই। তোকে এতদিন সামনে না পেয়ে আমার কি অবস্থা হয়েছে।’
বলতে বলতে কেঁদে উঠলো আরু। আর আশিক জাস্ট হা হয়ে গেল খুশিতে যেন চোখ মুখ গদোগদো হলো তাঁর। কারন আশিকও যে ভালোবাসে আরুকে। আর এই ভালোবাসাটাই যাতে আরুর সামনে প্রকাশ না পায় তাই এতদিন আরুর থেকে দূরে দূরে ছিল আশিক। কিন্তু তাঁর এই দূরে থাকাটাতেই যে আরুও তাঁকে ভালোবেসে ফেলবে এটা বুঝতে পারে নি আশিক। আশিক খুশিতে আত্মাহারা হয়ে হুট করেই আরুকে জড়িয়ে ধরলো। সাথে খুশি মাখা মুখ নিয়ে বলে উঠল,
‘ তুই সত্যি আমায় ভালোবাসিস আরু আমিও যে তোকে ভালোবাসি। আর এই ভালোবাসাটা যাতে তোর সামনে না আসে তাই এতদিন দূরে দূরে ছিলাম। তোকে আমি সত্যি সত্যিই সেই ছোট বেলা থেকে ভালোবাসি আরু কিন্তু সাহস করে কখনো বলতে পারি নি। নিজেকে সামলেছি সবসময় কিন্তু তুই সিলেট চলে যাওয়ার পর থেকেই নিজেকে কেমন সামলাতে পারি নি তাঁরওপর রিয়ানের সামনে তোর হুটহাট কাছে চলে আসার বিষয়গুলো আরো বেশি যন্ত্রনা দিচ্ছিল আমায়। তোর শূন্যতায় আমিও কাতর ছিলাম সারাদিন সারারাত সারাটা প্রহর। আর এই শূন্যতা ফিল করতে না পেরেই তো সেদিন তোকে ফোন করেছিলাম। আসতে বলেছিলাম খুব তাড়াতাড়ি কিন্তু পরে কেন যেন ভয় হচ্ছিল বার বার মনে হচ্ছিল তোর সামনে গেলে আমি যদি নিজেকে সামলাতে না পারি তাই এতদিন দূরে দূরে ছিলাম।’
আশিকের সব কথাই মন দিয়ে শুনলো আরু। চুপচাপ থাকলো কিছুক্ষন তারপর বললো,
‘ শালা বান্দর ইডিয়েট সত্যি সত্যি ভালোবাসিস এই কথাটা আগে বলতে পারলি না।’
আরুর কথা শুনে আরুকে ছাড়লো আশিক। তারপর বললো,
‘ আমনেও বা কোন গরুর গোঙালে ঘাস দিতে ছিলেন এতদিন আরো আগে বলতে পারো নি তুমি আমায় ভালোবাসো।’
‘ কোথাও শুনেছিস মেয়েরা আগে প্রপোজ করে ইডিয়েট।’
‘ একদম ইডিয়ট বলবি না বলে দিলাম। তুমি যে কত বুদ্ধিমতি জানা আছে আমার। আর কোথায় লেখা আছে যে সবসময় ছেলেদেরই আগে প্রপোজ করতে হবে বান্দরের বউ।’
‘ তুই কিন্তু এখন বারবারি করছিস,
এই নিয়ে লেগে গেল দুজনের মাঝে ঝগড়া। ঝগড়ার মাঝেই হুট করেই আরু জড়িয়ে ধরলো আশিকে। শান্ত গলায় বললো,
‘ ভালোবাসি তোকে, আমায় বিয়ে করবি তো? রিয়ানের কাছে বলা মিথ্যে অভিনয়টাকেই না হয় এখন সত্যি করে দেই কি বলিস।’
আশিক খুশি হলো। দু’হাতে আরুকে জড়িয়ে ধরে খুশি মাখা মুখ নিয়ে বললো,
‘ কেন নয়। তবে রোজ কিন্তু আমার কবিতা শুনতে হবে তোকে।’
‘ তোর ওই থার্ডক্লাস কবিতার কথা আর নাই বলি। কচ্ছপ একটা।’
‘ তুই আবার আমার কবিতার অপমান করছিস। টিকটিকি কোথা কার।’
হাসলো আরু আশিকও হেঁসে উঠলো আনমনে। অতঃপর অবশেষে প্রকাশিত হলো আরু আশিকের প্রেমকথন। মিলে গেল দুজন দুষ্ট মিষ্টি ঝগড়া করা মানুষের ভালোবাসা।’
আরু আশিক হাত ধরে এগিয়ে চললো সামনে। সবাইকে বলতে হবে তো নাকি। হঠাৎই আরু বললো,
‘ এবার বল রেস্টুরেন্টের মেয়েটা কে ছিল? ও যে তোর গার্লফ্রেন্ড নয় তা আমি আগে থেকেই জানি।’
‘ কেমনে?’
‘ কেমনে আবার তোর মতো হাঁদারামরে আমি ভালোবেসেছি বলে কি সবাই বাসবে নাকি,
‘ তা ঠিক বলেছিস,
পরক্ষণেই কথাটা ঠিক ভাবে বুঝতে পেরে বললো আশিক,
‘ কি বললি?’
হেঁসে ফেললো আরু। বললো,
‘ ভুলে যা। তাড়াতাড়ি বল মেয়েটা কে ছিল?’
‘ আরে রোজা আমার বড় খালামনির মেয়ে। আমার কাজিন লাগে বিয়েও হয়ে গেছে।’
‘ ছিঃ ছিঃ শেষে কি না বিয়াতি মাইয়ারে নিজের গার্লফ্রেন্ড কইছোস?’
‘ ওটা তো মজা করে বলেছিলাম। দেখতে চেয়েছিলাম আমার গার্লফ্রেন্ড আছে শুনে তোর রিয়াকশন কেমন হয়।’
‘ হুম বুঝেছি চান্দু এবারের মতো তোমার এই মজাকে মাফ করে দিলাম বিয়ের পর কিন্তু এসব মজা শুনছি না।’
‘ হুম ঠিক আছে। আচ্ছা এই খুশিতে একটা কবিতা শোনাই,
‘ হুম ক তোর থার্ডক্লাস কবিতা,
আরুর কথা শুনে আশিকও তার গলাটা ঝেড়ে বলে উঠল,
‘ গ্রামের চারিদিকে আছে নদী নালা খাল আর বিল
পরিশেষে আরু আশিকের হইলো মিল।’
মারো তালি।’
‘ আর কিছু পাইলি না, শেষে কিনা নদী নালা খাল বিল নিয়া আসলি মাঝে। তুই যদি একটা ভালো কবিতা বলতি জীবনে, যাক গা কি করার চল। কিন্তু তোর কাজিন তো এখনও রেস্টুরেন্টে বসে আছে।’
‘ কিছু হবে না। দুলাভাইও আছে সাথে।’
‘ ওহ,
‘ হুম। ওসব বাদ দে তুই আমার কবিতা শোন,
‘ গাছের ডালে বসে আছে দুইটা চিল
রাস্তায় রাস্তায় হাঁটবো আর লোকের গায়ে তুমি আমি মিলে মারবো ঢিল!’
‘ হ যাতে রাস্তার লোকে তোরে আমারে ধইরা ক্যালাউক।’
‘ হুম নেক্সটটা শোন,
‘ হুম ক, তবে একটু ভালো তা চিল মিল ঢিল বাদ দিয়া,
প্রতি উওরে আশিক কিছু এরই মাঝে তাঁর চোখে গেল তাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়া একটা ভ্যানের দিকে। ভ্যানের উপর বালতি ভরে সাজানো অনেকগুলো গোলাপ। আশিক আরুকে এক মিনিট বলে তক্ষৎনাত ছুট্টে গেল সামনে। ভ্যানওয়ালার কাছ থেকে একটা গোলাপ নিয়ে এসে ধরলো আরুর হাত। তারপর বললো,
‘ চল,
বলেই ছুট লাগালো দুজন। হুট করেই আশিকের এমন কান্ডে অবাক হলো আরু। বললো,
‘ কোথায় যাবো?’
প্রতি উওরে কোনো জবাব দেয় না আশিক। শুধু ছুট্টে চললো আরুর হাত ধরে।’
___
বুকে হাত বেঁধে একটা গম্ভীর ভাব নিয়ে তাকিয়ে আছে অভ্র আদ্রিজা আর ঈশানের দিকে। কারন কিছুক্ষন আগে আদ্রিজাকে বলা ‘হুম আমি এখানে কি করছো তুমি?’ কথাটার উত্তর এখনো পায় নি অভ্র। অভ্রের চোখ মুখ কুঁচকে আসছে, চোখে মুখে স্পষ্ট রাগের ছাপ। অভ্র নিজেকে সামলে আবারও বলে উঠল,
‘ কি হলো তুমি কথা বলছো কেন এখানে কি করছো তুমি?’
অভ্রের কথায় আজ কেমন যেন একটা রাগান্বিত হওয়ার গন্ধ পাচ্ছে আদ্রিজা। তাই তো এখনও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে সে। এদের দুজনের অবস্থা দেখে ঈশান বলে উঠল,
‘ আইথিং আমার এখানে দাঁড়ানোটা ঠিক হবে না। আপনারা দুজন কথা বলুন, দুলাভাই না হয় তোকে পৌঁছে দিবে বাড়ি। আর হ্যাঁ আমি টমেটো আর সবজিগুলো আন্টিকি পৌঁছে দিবো ডোন্ট ওয়ারি। তুই দুলাভাইর সাথে আয়!’
বলেই ঈশান তক্ষৎনাত সরে গেল ওখান থেকে। আর আদ্রিজা জাস্ট হা হয়ে গেল ঈশানের কান্ডে এভাবে একা রেখে চলে গেল ভাড়ি বদমাশ তো।’
ঈশান যেতেই অভ্র এগিয়ে আসলো আদ্রিজার দিকে। তারপর বললো,
‘ এবার বলো তোমার ওই ঈশান ভাইয়ের সাথে এই বিকেল বেলা এখানে কি করছো?’
‘ না মানে একটু বাজার করতে বেরিয়ে ছিলাম।”
আদ্রিজার কথা শুনে রাগটা যেন আরো বাড়লো অভ্রের। কাট কাট গলায় বললো,
‘ কি? তুমি এই বিকেলবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজার করতে এসেছো? শাশুড়ী মা তোমায় আসতে দিলো।’
‘ মায়ের কোনো দোষ নেই আমিই নিজেই জোর করে এসেছি।’
প্রতি উওরে কি বলবে বুঝতে পারছে না অভ্র। রাগে গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে তার। এতক্ষণ ঈশান আদ্রিজা একসাথে ছিল বিষয়টা মটেও ভালো লাগে নি অভ্রের।’
অভ্রের অবস্থাটা বুঝতে পেরে বললো আদ্রিজা,
‘ আপনি কি কোনোভাবে আমার উপর রেগে আছেন অভ্র? দেখুন রাগ করবেন না প্লিজ। আমি একটা জিনিস ভেবেছি, আমি জানি আমাদের বিয়েটা হয়েছিল একটা দূর্ঘটনার ভিতর দিয়ে। তাই আমি ভেবেছি আমি আপনায় ডিভোর্স দিবো। তারপর আপনি আবার লাবণ্য আপুকে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে বসবাস করবেন।’
এতক্ষণ অভ্র তাঁর নিজের রাগটাকে দমিয়ে রাখতে পারলেও আদ্রিজার মুখে ডিভোর্স শব্দটা শুনে মাথায় আগুন লাগার মতো জ্বলে উঠলো। হুংকার দিয়ে বললো সে,
‘ কি বললে তুমি? তুমি আমায় কি দিবে?’
হুট করেই অভ্রের এমন হুংকার দেওয়া ভয়েস শুনে থমকে গেল আদ্রিজা। খানিকটা আমতা আমতা করে বললো,
‘ না মানে,
অভ্র আদ্রিজার হাত ধরে বসলো এইভাবে মাঝরাস্তায় কোনোভাবেই সিনক্রিয়েট করা যাবে না। অভ্র আদ্রিজার হাত ধরে বললো,
‘ আমার সাথে চলো,
অাদ্রিজা চমকালো এইভাবে অভ্রকে রেগে যেতে এই প্রথম যেন দেখছে সে। খানিকটা আমতা আমতা করে বললো,
‘ কোথায় যাবো?’
‘ কোথায় যাবে তা গেলেই দেখতে পাবে দু’দিন বাপের বাড়ি গিয়ে বড্ড সাহস বেড়ে গেছে তাই না। আজ তোমায় দেখাবো অভ্রের সামনে উল্টো পাল্টা কিছু বললে কি হয়?’
বলেই আদ্রিজাকে টেনেটুনে নিয়ে যেতে লাগলো অভ্র। কিন্তু তাতেও যেন শান্তি মিলছিল না ফট করেই আদ্রিজাকে কোলে তুলে নিলো অভ্র। আকস্মিক অভ্রের এমন কান্ডে চোখ বড় বড় হয়ে গেল আদ্রিজার। বললো,
‘ আরে আরে কি করছেন?’
প্রতি উওরে কোনো জবাব দিলো না অভ্র হন হনিয়ে চললো সে আদ্রিজাকে নিয়ে তাঁর গাড়ির কাছে।’
অন্যদিকে,
গাড়ির ভিতর বসে তুষার আর ইউনুস সবই দেখেছে এতক্ষণ। রাস্তার জ্যাম সেরে গেছে আগেই কিন্তু অভ্রের জন্য তাঁরা যেতে পারছিল না। তাই রাস্তার এক কিনারায় এসে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখে ইউনুস। হঠাৎই তুষার বলে উঠল,
‘ ইউনুস ভাই গাড়ি থেকে নামো আজকে তোমার বস রাগে আগুন?’
উওরে ইউনুসও শুঁকনো ঢোক গিলে বললো,
‘ তা তো দেখতেই পাচ্ছি।’
এরই মাঝে আদ্রিজাকে নিয়ে গাড়ি সামনে এসে রাগান্বিত কন্ঠে বললো অভ্র,
‘ গাড়ি থেকে নামো ইউনুস আর তুষার তুইও নাম আমি আমার বউকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাবো,
বলেই গাড়ি সামনের সিটে আদ্রিজাকে বসিয়ে দিল অভ্র। অভ্রের কথা শুনে ইউনুস তুষার দুজনেই নেমে পড়লো তক্ষৎনাত কারন তাঁরা বুঝতে পেরেছে আজ অভ্র খুব রেগে গেছে। সচরাচর অভ্র তেমন একটা রাগারাগি করে না, কিন্তু হঠাৎ রেগে গেলে সামলানো মুশকিল।’
ইউনুস তুষার নামতেই অভ্র গিয়ে বসে পড়লো ড্রাইভিং সিটে এতক্ষণ গাড়ি ইউনুস চালাচ্ছিল। তাই ইউনুস সরতেই সেখানে বসলো অভ্র। অতঃপর অভ্র, তুষার ইউনুসকে রেখেই চলে গেল গাড়ি নিয়ে। আর ইউনুস তুষার হা হয়ে অভ্রের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো। হঠাৎই তুষার বললো,
‘ যা বাবা সত্যি সত্যিই রেখে চলে গেল?’
তুষারের কথা শুনে ইউনুসও ভারাক্রান্ত গলায় বললো,
‘ হুম! তবে আজ কিন্তু বস বড্ড রেগে গেছেন। ভাবিকে নিয়ে এতদিন যা প্যারায় ছিলেন সব বোধহয় আজই ব্লাস্ট হবে, তুষার ভাই!’
প্রতি উওরে চোখ বড় বড় করে বললো তুষার,
‘ কি সত্যি?’
‘ তাহলে বলছি কি! নয়া নয়া বিয়া তো তাই এমন,
এরই মাঝে ইউনুসের ফোনটা বেজে উঠলো তাঁর বউ ফোন করেছে। ইউনুস তুষারকে বাই জানিয়ে ফোনটা তুলে সামনে হাঁটতে হাঁটতে বললো,
‘ হ বউ কও আদা, রসুন, পেঁয়াজ, কচকো সাবান, ডিটারজেন্ট কোনটা আনবো আজ তোমার জন্য?’
বলতে বলতে এগিয়ে চললো ইউনুস আর তুষার হা হয়ে ইউনুসের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে বললো,
‘ এটাও নয়া নয়া বিয়া ছিল নাকি কিন্তু ইউনুসের তো দুটো বাচ্চাও আছে, ‘অবাক কান্ড!’
বলেই রিকশা ডাকলো তুষার।’ ওই খালি,
#চলবে….
#গোধূলি_বিকেলে_তুমি_আমি❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ৫২
________________
আদ্রিজাকে কোলে নিয়ে গাড়ি থেকে নামলো অভ্র। চোখে মুখে স্পষ্ট রাগের ছাপ। অভ্র আদ্রিজাকে নিয়ে লং ড্রাইভের নাম করে সোজা বাড়িতে চলে এসেছে। আর বেচারি আদ্রিজা ভয়ের চোটে জড়সড় হয়ে এতক্ষণ বসে ছিল চুপচাপ। সে বুঝতেই পারি সে কি এমন ভুলভাল বলেছে যার কারনে অভ্র এইভাবে রেগে গেছে। হুটহাট অভ্রের এইভাবে কোলে তুলে নেওয়াটাও যেন কেমন লাগছে আদ্রিজার। সে কি হাঁটতে পারে না নাকি হ্যাঁ শরীরটা ইদানীং একটু দূর্বল থাকে তাই বলে হাঁটতে পারে না আদ্রিজা। দিব্যি পারে তাহলে?’
আদ্রিজা অভ্রের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তাঁর আগেই গম্ভীর কণ্ঠে দিয়ে বলে উঠল অভ্র,
‘ এখন যদি মুখ খুলেছো তাহলে তো বুঝতেই পারছো একদম ঠাস করে কোল থেকে নিচে ফেলে দিবো।’
অভ্রের কথা শুনে চুপ হয়ে গেল আদ্রিজা। কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারলো না আর।’
___
সোফার ওপর বসে টিভি দেখতে ছিল অভ্রের মা। কালকের একটা নাটকের রিপিট টেলিকাস্ট দেখছে খুব মনোযোগ দিয়ে। আর তাঁর পাশেই নিচে বসা ছিল অভ্রদের বাড়ির নতুন কাজের মহিলা। নাম শিউলি। আজ সপ্তাহে খানেকই হয়েছে কাজে এসেছে সে। আগের মহিলাটা হুট করেই চলে গেছে কেন যেন। আর তাঁর বদলে শিউলিকে দিয়ে গেছে।’
এমন সময় সদর দরজা দিয়ে অভ্র আদ্রিজাকে কোলে তুলে নিয়ে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে থমথমে গলায় বললো,
‘ খালাম্মা অভ্র দাদাবাবু আদ্রিজা আফারে কোলে কইরা নিয়া আইতাছি,
প্রতি উওরে কোনো জবাব দিলো না অভ্রের মা তিনি খুব মনোযোগ সহকারে টিভি দেখতে ব্যস্ত।
অভ্র আদ্রিজাকে কোলে নিয়েই হন হনিয়ে উপরে চলে গেল। আর শিউলি জাস্ট হা হয়ে তাকিয়ে রইলো ওদের যাওয়ার পানে। শিউলি আবারও বললো,
‘ খালাম্মা হুনছেন আমার কথা,
এবার খানিকটা ডিসটার্ব ফিল করলো অভ্রের মা। বললেন,
‘ কি শুনমু,
‘ অভ্র দাদাবাবু,
পুরোটা শেষ করা আগেই বললো অভ্রের মা,
‘ এখন থাম পরে শুনছি।’
বলেই অভ্রের মা আবারও মনোযোগ দিলো টিভিতে আর শিউলিও উপায় না পেয়ে বসে রইলো চুপচাপ।’
___
অভ্র আদ্রিজাকে নিয়ে সোজা উপরে তার রুমে নিয়ে আসলো। তারপর কোল থেকে নামিয়ে দরজা বন্ধ করে বললো,
‘ এবার বলো কি বলছিলে তুমি?’
আদ্রিজা আশেপাশে তাকালো। অভ্রের এই রাগের ভিড়ে নিজেকে যেন বড্ড বেশিই ভীতু বলে মনে হচ্ছে আদ্রিজার। আদ্রিজাকে এদিক ওদিক তাকাতে দেখে খানিকটা বিরক্ত হলো অভ্র। আবারও বললো,
‘ কি হলো এবার চুপ কেন?’
খানিকটা থমকালো আদ্রিজা। তারপর বললো,
‘ না মানে,
‘ অতিরিক্ত মানে খুঁজতে যেও না। কতক্ষন আগে কি বলেছিলে তাঁরই রিপিট টেলিকাস্ট করো।’
খানিকটা সাহস জোগালো আদ্রিজা তারপর বললো,
‘ আসলে আমি এটাই বলতে চেয়েছিলাম। দেখুন আমি জানি আপনি লাবণ্য আপুকে বড্ড ভালোবাসেন। আর লাবণ্য আপুও আপনায় ভালোবাসে। তাহলে মাঝখানে আমি আপনার লাইফে কেন থাকবো বলুন। তাঁর চেয়ে আপনি আমায় ডিভোর্স দিয়ে দিন, তারপর,
আর কিছু বলার আগেই চোখ মুখ শক্ত করে ধমকের স্বরে বললো অভ্র,
‘ Shut up! তোমায় এত বুঝতে কে বলেছে আমি তোমায় একবারও বলেছি আমার ডিভোর্স চাই।’
আদ্রিজা থেমে গেল। বললো,
‘ না মানে,
অভ্র সিরিয়াস হলো। নিজের রাগটাকে দমিয়ে রেখে আদ্রিজার দু’কাঁধে তাঁর দু’হাত রেখে শান্ত গলায় বললো,
‘ তুমি এত অবুঝ কেন ব্ল্যাকবেরি। হুম এটা ঠিক একটা সময় আমি আমার ভালো লাগাকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করেছিলাম। কিন্তু এখন, আমি বুঝতে পেরেছি আমি লাবণ্যকে কোনোদিনও ভালোবাসি নি ব্ল্যাকবেরি।’
আদ্রিজা চমকালো ভয়ংকর ভাবে চমকালো। চমকানোর স্বরে বললো,
‘ ভালোবাসেন নি মানে?’
হুট করেই আদ্রিজাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো অভ্র। তারপর শীতল ভেজা কন্ঠে বললো,
‘ তোমায় কিভাবে বললে তুমি বুঝবে বলো আমি সেভাবেই বলবো। আমি লাবণ্যকে নয় ব্ল্যাকবেরি তোমাকে ভালোবাসি। আমার নিয়তির জীবন সঙ্গিনীকেই ভালোবেসে এসেছি শুরু থেকে। কিন্তু বুঝতে পারে নি। কখন যে তোমার হুট করে কাছে আসা, ভয় পেয়ে জড়িয়ে ধরা, তোমার সাজ, তোমার শান্ত স্বভাবে কথা বলার ধরন সবকিছুকেই শুরু থেকেই ভালো লাগতো আমার। তুমি বিশ্বাস করবে না প্রথম যেদিন তোমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে কথাটা শুনেছিলাম সেদিন সারারাত ঘুম হয়নি আমার। কোথাও একটা খারাপ লাগা কাজ করছিল খুব, তারপর তোমার বধূরূপের সাজ দেখে প্রথম এক অন্যরকম মুগ্ধতা ছুঁয়ে দিয়েছিল আমার। তবে হ্যাঁ এটা ঠিক তোমায় বিয়েটা আমি কিছুটা চাপে পড়েই করেছিলাম কিন্তু খারাপ লাগা নিয়ে নয়। আমি আজ বুঝতে পারছি আমি এতবছরেও কেন লাবণ্যের সামনে ভালোবাসি শব্দটা উচ্চারণ করতে পারে নি। কারন আমার মন তো লাবণ্যকে নয় তোমায় ভালোবাসার অপেক্ষায় ছিল। পরিশেষে বলবো,
‘ আগের সব ভুলে যাও আমাদের জীবনে ভালোবাসার জায়গায় আর কেউ নেই। না শ্রাবণ আছে আর না লাবণ্য। আছি শুধু তুমি আমি।’
গোধূলি বিকেলের লগ্ন চলছি তখন। সূর্যটা তখন তাঁর লালচে আলো দিয়ে আলোকিত করছিল চারপাশ। খানিকটা লালচে সেই রোদ্দুর এসে ভীড় জমিয়েছিল অভ্রের রুমের বেলকনির রেলিং ছুঁয়ে। অভ্র পুরো প্রকৃতিটায় একপলক চোখ বুলিয়ে আবারও বলে উঠল,
‘ এই সুন্দর প্রকৃতির গোধূলির বিকেলের আলোতে বলছি শোন,
‘ আমি শুধু তোমায় ভালোবাসি ব্ল্যাকবেরি। অন্য কাউকে নয়। আমার হৃদয় জুড়ে শুধু তুমি আছো অন্য কেউ নয়। হুট করে আসা প্রথম সেদিনের সেই কালো শাড়ি, ঘন কালো লম্বা চুলে বিনুনি করা, চোখে চশমা, হাল্কা মেকাপে, ঠোঁটে হাল্কা লিপস্টিক, হাতে চুড়ি উফ! পুরোই ব্ল্যাকবেরি লুকিংয়ের সেই ব্ল্যাককফিকে ভালোবেসেছি আমি। আর ভালো যখন বেসেছি তখন তোমায় আর ছাড়ছি না তুমি চাইলেও না। বুঝতে পেরেছো!’
বলেই আদ্রিজাকে ছাড়লো অভ্র। শেষের কথাটা একটু উচ্চ স্বরেই বলেছে সে।’
অন্যদিকে আদ্রিজা পুরো হা হয়ে তাকিয়ে রইলো অভ্রের মুখের দিকে। অভ্র কি বললো তাঁকে? অভ্র ভালোবাসে আদ্রিজাকে। কথাটা ভাবতেই যেন এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করলো আদ্রিজার মাঝে। কিন্তু লাবণ্য আপু?’
আদ্রিজা দু’কদম পিছনে চলে গেল মাথা ভন ভন করছে তাঁর, শরীরটাও কেমন কেমন করছে। গাড়িতে বসেই ভালো লাগছিল না তাঁর। আজ সকাল থেকেই শরীরটা ভালো ছিল না আদ্রিজার বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরাচ্ছিল খুব। আদ্রিজা ভেবেছিল বাড়িতে থেকে এমনটা হচ্ছিল তাই একটু বাজারের নাম করে বাহিরে এসেছিল। এতক্ষণ মোটামুটি নিজেকে ঠিক রাখতে পারলেও এবার যেন রাখতে পারছে না। অভ্রের ভালোবাসি শব্দটা বার বার মাথায় নাড়া দিচ্ছে তাঁর। সাথে লাবণ্যের সেই লেখা চিঠি। আদ্রিজা খানিকটা এগিয়ে যেতে লাগলো অভ্রের দিকে সাথে বলতে নিলো,
‘ আপনি আমায় ভা..
আর কিছু বলার আগেই মাথাটা পুরো দমে চক্কর দিয়ে উঠলো আদ্রিজার। সাথে পড়ে যেতে নিলো সে সঙ্গে সঙ্গে অভ্র ধরলো তাঁকে। খানিকটা থমথমে গলায় বললো,
‘ কি হলো তোমার ব্ল্যাকবেরি, ঠিক আছো তুমি?’
প্রতি উওরে কিছু বলতে পারলো না আদ্রিজা জ্ঞান হারালো অভ্রের বুকেই। এতে অভ্র ঘাবড়ে গেছে অনেকটাই, সে বুঝলো না আদ্রিজার হঠাৎ হলো টা কি?’
___
মেঘলাময় আকাশ! প্রকৃতি তখন বাতাসের ছোঁয়ায় নড়ছিল ভীষণ। নদীর পানিরা খিলখিলিয়ে ঢেউয়ের স্রোতে দৌড়াচ্ছিল খুব। আকাশ পথে বাড়ির ফেরার উদ্দেশ্যে ছুটছিল এক ঝাঁক পাখি। ঘাসের পিঠে চড়ে সুপ্ত পিঁপড়েরা খেলা করছি দলবেঁধে। আর এসবের ভিড়েই একটা বড় গাছের নিচে সাদা বেঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে আছে আশিক আর আরু। কতক্ষণ আগেই আরুকে নিয়ে খোলা মাঠের একদম কিনারার এই জায়গাটায় এসেছে আশিক। সন্ধ্যা নামার পূর্বাভাস চলছিল তখন। আরু আশেপাশের প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে বললো আশিককে,
‘ আমরা এখানে কেন এসেছি আশিক? চল বাড়ি যাই সন্ধ্যা হয়ে আসছে কিন্তু!’
প্রতি উওরে আশিক কোনো জবাব না দিয়েই হুট করে হাতে করে আনা সেই গোলাপটা আরুর দিকে এগিয়ে দিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে বললো,
‘ সন্ধ্যা নেমে আসছে চারিধারে,
পাখিরা উড়ছে মন খুলে
নদী ছুটছে স্রোতের তালে তালে,
গাছের পাতারা নড়ছে মন খুলে
পিঁপড়েরা খেলছে ঘাসের পিঠে চড়ে।
বুঝতে পারছো কি?’
এই ফুড়ফুড়ের প্রকৃতির ভীড়ে,
বুঝাতে পারবো কি কিছু কথা? শুনতে চাইবে কি কিছু গোপনীয় মনের ব্যাথা। উফ! সে ব্যাথা যেন শূন্যতার প্রবল যন্ত্রণার আহ্লাদে আটখানা!’
আজ সেই যন্ত্রণাকেই সরিয়ে রেখেই বলছি শোন,
‘ উড়ন্ত আকাশের বাদামি পাখির ঝলকানো হাসি
তুমি বুঝতে পারো বা না পারো আমি তোমায় ভীষণ ভালোবাসি!’
আশিকে এবারের কথা শুনে হেঁসে ফেললো আরু। বললো,
‘ আমি জানি তুমি আমায় ভীষণ ভালোবাসো তোমার থার্ডক্লাস কবিতার আমার কাব্য মিলানো কবি। তবে এবারেরটা কিন্তু থার্ডক্লাস ছিল না।’
আনমনে হাসলো আশিক। যাক পরিশেষে তাঁর ভালোবাসার মানুষটি তাঁকে কবি বলে আখ্যায়িত করতে পারলো তো। আরু আশিকের হাত থেকে ফুলটা নিতে যাবে এরই মাঝে আশিক আবারও বলে উঠল,
‘ আমার এখনো শেষ হয় নি আরো আছে।’
আরুর খানিকটা অবাক হয়ে বললো,
‘ আরো আছে,
‘ হুম
‘ ঠিক আছে বল,
আশিক আরুর চোখের দিকে তাকিয়ে শীতল কন্ঠে বলে উঠল আবার,
‘ তোমার মায়াবী মুখ, শীতল ভেজা আঁখি।’
কেন আরো আগে বুঝতে পারলে না আমি তোমায় মন থেকে ডাঁকি।’
‘ পেরেছি বুঝতে, হয়েছি একটু দেরি
কি করবো বলো তোমার শূন্যতা সামলাতে গিয়েই তো হোঁচট খেয়েছি বারাবাড়ি!’
তবে ভেবো না আর হবে না আমাদের মাঝে ছাড়াছাড়ি।’
বলেই হেঁসে ফেললো আরু। আরুর হাসি দেখে আশিক মুচকি হাসলো। তারপর বললো,
‘ তোমার জোড়ালো ঠোঁট, মিষ্টি তাঁর হাসি।
আবারও বলছি শোনো আমি তোমায় ভালোবাসি ভালোবাসি, খুব ভালোবাসি।’
এবার নেও? অনেক কষ্ট হইছে কিন্তু।’
আরু হাসতে হাসতেই আশিকের হাত থেকে ফুলটা নিলো। বললো,
‘ লেগেছে ঠান্ডা হয়েছে কাশি
আমিও তোমায় বড্ড ভালোবাসি।’
হাল্কা হাসলো আশিক। অতঃপর এই ছন্দ মিলানো কবিতার ভিড়েই হুট করেই আরু ঝাপটে জড়িয়ে ধরলো আশিককে তারপর বললো,
‘ তোমার কবিতা আর তুমি দুটোকেই আমি ভালোবাসি হোক সেটা থার্ড ক্লাস বা ফুল ক্লাস বুঝেছো।’
আশিকও দু’হাতে আরুকে জড়িয়ে ধরে বললো,
‘ হুম বুঝেছি আমার কবিতার নাইকা।’
আনমনেই হাসলো দুজন। অতঃপর দুজন দুজনকে শক্ত জড়িয়ে ধরে রাখলো কতক্ষণ। এভাবে কাটলো কিছুক্ষন। হঠাৎই আরুর ফোনটা বেজে উঠলো। আচমকা এমনটা হওয়াতে আরুও খানিকটা চমকে উঠলো। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে ফোনটা তুলে বললো সে,
‘ হ্যালো?’
সঙ্গে সঙ্গে অপরপ্রান্তের মানুষটির কিছু কথা শুনতেই হতভম্ব গলায় বললো আরু,
‘ কি করে হলো আমি এক্ষুনি আসছি?’
হুট করেই আরুকে হতভম্ব হয়ে যেতে দেখে আশিকও খানিকটা চিন্তিত কন্ঠে বললো,
‘ কি হয়েছে?’
____
বিছানায় শুয়ে আছে আদ্রিজা। তাঁর সামনেই চিন্তিত মাখা মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অভ্র, অভ্রের মা আর শিউলি। অভ্রের বাবা বাড়ি নেই দু’দিনের জন্য বান্দরবন গেছেন তিনি। অভ্রের চোখে মুখে আতংকের ছাপ সে সত্যি বুঝতে পারলো না হুট করে আদ্রিজা মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেল কেন? আদ্রিজার জ্ঞান এসেছে, কতক্ষণ আগেই জ্ঞান এসেছে তাঁর। বর্তমানে ডাক্তার দেখছে তাঁকে। এরই মাঝে হতভম্ব হয়ে দৌড়ে রুমের ভিতর ঢুকলো আরু। থমথমে গলায় বললো,
‘ কি হয়েছে আদ্রিজা ভাবির?’
আরুর কথা শেষ হতে না হতেই ডাক্তার বলে উঠল,
‘ সুখবর আছে একটা! সি ইজ প্রেগন্যান্ট। বাড়িতে নতুন অতিথি আসছে।’
সঙ্গে সঙ্গে পুরো পরিবারের সবার মুখে যেন হাসির রেখা ফুটে উঠলো। তাঁরা তো ভাবতেও পারে নি এমন কিছু হবে।’
সবার হাসির মাঝে আদ্রিজা শুধু তাকালো অভ্রের মুখের দিকে। অভ্রের রিয়েকশনটা ঠিক বুঝলো না যেন?’
#চলবে….