#গোধূলি_লগ্নে_তুমি
#কলমে_ফাহিমা_ইসলাম
#পর্ব_১৪
[ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ 🚫]
আয়াশ আর কিছুই বলতে পারলো না। কণ্ঠের সমস্ত শব্দ যেন একে একে নিঃশেষ হয়ে আসছে। যত কথাই সে বলুক না কেন, ইনায়ার কাছে সেসবের প্রতিটাই হয়তো মিথ্যের সমার্থক হয়ে ধরা দেবে। আয়াশ স্বার্থপর, হ্যাঁ, সে স্বার্থপর। নিজের সুখটুকু আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাওয়া প্রতিটা মানুষই কোনো না কোনোভাবে স্বার্থপর। আর তার সেই সুখের সমস্ত সংজ্ঞা জুড়ে রয়েছে এই মেয়েটা।
দিনশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে যখন ঘরে ফিরেছে, ঘর বলতে এই মেয়েটাকেই জেনেছে সে। ইনায়া ছিলো তার সেই আশ্রয়, যেখানে ফিরে এলে বাহিরের পৃথিবীর কোনো ক্লান্তিই তাকে স্পর্শ করতে পারতো না। চারপাশে যত অশান্তিই থাকুক, গৃহদ্বার পেরিয়ে ইনায়ার সান্নিধ্যে এলেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি এসে তাকে ঘিরে ধরতো। অথচ বিগত কয়েকটা মাসে সেই প্রশান্তিটুকুও কেমন অদৃশ্য হয়ে গেছে। ইনায়া চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ঘর থেকে সুখ সরে গেছে, শান্তি নির্বাসনে গেছে। তবুও সেই সুখ ইনায়ার চোখের জলের বিনিময়ে ফিরে পেতে চায় না আয়াশ। ইনায়া নিজে চাইলে তবেই সে আবারও নির্দ্বিধায় স্বার্থপর হয়ে উঠবে, নিজের করে নেবে তাকে। এবার আর কোনোদিন দূরত্বের অন্ধকারে হারিয়ে যেতে দেবে না।
“ আর শুনুন এইসব বন্ধ করুন, রোজ রোজ এইসব পাঠিয়ে কি বোঝাতে চান? আমার কিছুই চাই না, আগে এইসব দেখলে বড্ড খুশি হতাম। ভাবতাম আমি আমায় হয়তো ভালোবাসেন বলেই আমার ছোট ছোট জিনিসগুলো খেয়াল রাখতেন। অথচ সেইগুলো কেবলই দায়িত্ব ছিলো। আপনাকে তো দায়িত্ব নামক বেড়াজাল থেকে মুক্তি দিয়েছি। তবুও কেনো এইসব করছেন?”
আয়াশের দৃষ্টি স্থির হয়ে রইলো ইনায়ার মুখপানে। কথাগুলো যেনো একেকটা ধারালো ফলকের মতো এসে বুকের ভেতরকার বহুদিনের জমাট অনুভূতিগুলোকে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে। তবুও সে নীরব থাকলো না। বিষণ্ণতার ভারে নুয়ে পড়া কণ্ঠে ধীরস্বরে উচ্চারণ করলো/
“ আপনার এইসব দায়িত্ব মনে হয়? কেউ কি তিনটা বছর এতোই নিখুঁত দায়িত্ব পালন করতে পারে?”
ইনায়া খানিকটা থমকে গেলো। আয়াশের কথার বিপরীতে বলার মতো কোনো শব্দই যেনো এই মুহূর্তে তার মস্তিষ্কে জন্ম নিচ্ছে না। দীর্ঘ কয়েকটা মুহূর্ত নীরবতায় গড়িয়ে গেলো। আয়াশ আবারও বলে উঠলো, তার কণ্ঠে এবার জমে থাকা অনুতাপের সঙ্গে মিশে রইলো একরাশ অসহায়ত্ব-
“ আপনার জন্য যা কিছুই করেছি সবটা মন থেকেই করেছি। আপনি আমার দায়িত্ব ছিলেন না শুধু, আমার একজন বন্ধুও ছিলেন, তারপর স্ত্রী! জানি আপনাকে সময় মতো ভালোবাসতে না পারাটা আমার ভুল। বিরাট বড় ভুল, তবে সেই ভুলটাকে আর একবার ঠিক করার সুযোগ দেওয়া যায় না?”
প্রশ্নটা বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ইনায়ার ঠোঁট কেঁপে উঠলো। বহুদিন ধরে বুকের গহীনে চাপা পড়ে থাকা একটা প্রশ্ন হঠাৎ করেই সমস্ত দ্বিধার প্রাচীর ভেঙে বেরিয়ে এলো।
“ প্রিয়াকে আজও ভালোবাসেন?”
আকস্মিক প্রশ্নে আয়াশ মাথা তুলে তাকালো। ঝাপসা হয়ে আসা লালচে দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। অতঃপর ভারী কণ্ঠে উচ্চারণ করলো-
“ হ্যাঁ বাসি, তবে সেটা এককোণে রয়েছে৷ আগেও ছিলো, প্রিয়া তো জানেই না আমি নামক মানুষটা তাকে ভালোবেসেছিলাম। আমি অনুভূতি প্রকাশে বড্ড কাঁচা ইনায়া, নিজের মনের ভালোলাগা,খারাপ লাগা প্রকাশ করতে পারি না। এই আপনাকে আমার প্রয়োজন সেটাও প্রকাশ করতে পারছি না। আমি যাই বলি না কেনো, সেটার কোনো অর্থ দাঁড়াবে না। আমাকে স্বার্থপর বলুন, তবুও আমার হয়ে যান আবারও। আমার ভালো থাকার জন্য আপনাকে প্রয়োজন, আমি ভীষণ স্বার্থ লোভী! আগের বার স্বার্থপর হতে পারিনি, কিন্তু এইবার সেই ভুল করবো না। আপনাকে আমার চাই, ভালো থাকার জন্য হলেও চাই!”
ইনায়া নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলো মানুষটার দিকে। কথাগুলো শুনেও যেনো তার অন্তরস্থলে কোনো প্রশান্তি নামলো না। বরং পুরোনো ক্ষতগুলো আরও একবার নড়েচড়ে বসলো। ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা যেমন তাকে টানে, তেমনই অতীতের অবহেলা তাকে পিছু টানে। শেষ পর্যন্ত তার কণ্ঠেও ফুটে উঠলো নিজের জন্য বেছে নেওয়া কঠিন এক সত্য।
“ আমিও স্বার্থপর আয়াশ! আমি যদি না চাই আপনি কিভাবে আমায় পাবেন? আপনি যেমন ভালো থাকার জন্য চান, আমি ভালো থাকার জন্য আপনার থেকে দূরে সরে যেতে চাই। দিনশেষে সবাই স্বার্থপর!”
আয়াশের বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই ভারী হয়ে এলো। তবুও দৃষ্টিতে ছিলো এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। হারিয়ে ফেলেও যে মানুষটাকে নিজের হৃদয়ের সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে ফিরে পেতে চাওয়া যায়, ইনায়া তার কাছে ঠিক তেমনই একজন। ধীর অথচ অনড় কণ্ঠে সে বললো-
“ আপনাকে আমি জোর করে চাই না, তবে আপনাকে আমার হয়েই থাকতে হবে। কোনোদিন আয়াশ নামক মানুষটার থেকে মুক্তি পাবেন না।”
ইনায়ার ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ এক হাসি ফুটে উঠলো। সে হাসিতে আনন্দের কোনো রেশ নেই, বরং ছিলো বহুদিনের ক্লান্তি, অভিমান আর মেনে নেওয়ার নির্মম বিষাদ।
“ থাকতে পারলে থাকুন, তবে আমার ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।”
আয়াশের দৃষ্টি আরও স্থির হয়ে গেলো। যেনো কথাটুকুর ভেতরেও সে নিজের জন্য এক বিন্দু আশ্রয় খুঁজে নিতে চাইছে। হার মেনে নেওয়ার মানুষ সে নয়। অপেক্ষা যদি শেষ পরিণতি হয়, তবে সেই অপেক্ষার শেষ প্রহর অবধি দাঁড়িয়ে থাকতেও তার আপত্তি নেই।
“ আমি চিরকাল আপনার প্রতীক্ষায় থাকবো। মৃ’ত্যুর শেষ নিশ্বাস অব্দি।”
ইনায়া আর কোনো উত্তর দিলো না। শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে দৃষ্টিটা সরিয়ে নিলো। আয়াশের হাতে এখনও আগের আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। সেই দৃশ্য দেখে সমস্ত অভিমানকে একপাশে সরিয়ে রেখে তার কণ্ঠে এবার অনিচ্ছাসত্ত্বেও মমতার কোমলতা ফিরে এলো।
“ এইবার আসুন, আর হাতের ব্যবস্থা করুন। নিজেকে কষ্ট দেওয়া মানে হয় না।”
বলেই ইনায়া ঘুরে দাঁড়াতেই আয়াশের কণ্ঠ পেছন থেকে তাকে থামিয়ে দিলো।
“ ইনায়া!”
ইনায়া থেমে গেলো। পেছন ফিরে তাকালো না সে। অথচ পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির নিঃশ্বাসের ভার যেনো স্পষ্ট অনুভব করতে পারলো। আয়াশের গলা শুঁকিয়ে কাঠ কাঠ হয়ে এসেছে। এতদিন বুকের গহীনে পুষে রাখা অবাধ্য চাওয়াগুলো যেনো আজ সমস্ত বাঁধন ছিন্ন করে বুকের ভেতর মুচড়ে উঠছে। সহসা কেঁপে উঠছে তার কণ্ঠনালি। মরুভূমির মতো শুঁকিয়ে খা খা হয়ে থাকা কণ্ঠে জমে আছে অগণিত না বলা কথা। কতবার নিজেকে থামিয়েছে, কতবার নিজের আকাঙ্ক্ষাকে নির্বাক করে দিয়েছে, তার হিসাব নেই। কিন্তু আজ, এই একটা মুহূর্তে এসে নিজের অবাধ্য চাওয়াটাকে আর কোনোভাবেই সংযত রাখতে পারলো না আয়াশ। না চাইতেও বহুদিনের গোপন আকাঙ্ক্ষা ঠোঁটের ফাঁক গলে বেরিয়ে এলো।
“ক্যান আই টাচ ই্যয়ু ওয়ান্স?”
কণ্ঠনালিতে জমে থাকা অগণিত দ্বিধা আর সংকোচকে অতিক্রম করে, বহু কষ্টে সঞ্চিত সাহসের আশ্রয়ে প্রশ্নটা উচ্চারণ করলো আয়াশ। কণ্ঠস্বরের প্রতিটা কম্পনে যেনো তার আকাঙ্ক্ষার চেয়েও অধিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অনুশোচনা। ইনায়ার নির্লিপ্ত দৃষ্টি তখনো নিবদ্ধ আয়াশের মুখাবয়বে। সামান্য একটা স্পর্শের জন্যও আজ তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বটা কতখানি দুর্ভেদ্য হয়ে উঠেছে! অথচ একসময় এই মানুষটাই চাইলে অনায়াসে এমন প্রতিটা মুহূর্ত নিজের করে নিতে পারতো। সময় থাকতে যদি মানুষটা ভালোবাসার সঠিক মূল্যটা বুঝতো, হয়তো আজকের এই বিচ্ছিন্নতা, এই অদৃশ্য কাঠগড়া, কিছুই তাদের ভাগ্যে লেখা থাকতো না। তাদের সংসারটা হয়তো আজ পরিপূর্ণতার আবেশে ভরে থাকতো। আয়াশও হয়তো নতুন এক জীবনকে বুকে ধারণ করে, অতীতের সমস্ত ক্লান্তি পেছনে ফেলে পুনরায় বাঁচতে শিখতো।
আয়াশের অবনত, কম্পিত দৃষ্টির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো ইনায়া। যত অভিমানই থাকুক, যত দূরত্বই তৈরি হোক, একটি সত্য কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। তার অনাগত সন্তানের উপর আয়াশেরও সমান অধিকার রয়েছে। আয়াশ যদি কোনোদিন জানতে না পারতো তাদের সন্তানের অস্তিত্বের কথা, তবে হয়তো ইনায়াও কোনোদিন তাকে জানাতো না। কিন্তু এখন যখন সত্য তার সামনে উন্মোচিত হয়েছে, এখন চাইলেও সে পিতৃত্বের সেই অধিকার থেকে মানুষটাকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করতে পারে না। তবে তার অর্থ এই নয় যে, নিজের সন্তানকে আয়াশের হাতে তুলে দেবে সে। আয়াশ স্পর্শ করার অধিকার পেতে পারে, অনুভব করার অধিকারও পেতে পারে, কিন্তু তার কাছ থেকে নিজের সন্তানকে কেড়ে নেওয়ার অধিকার কোনোদিনই পাবে না।
“ ইয়েস!”
ইনায়ার কাছ থেকে সম্মতি মিলতেই আয়াশের স্থির হয়ে থাকা হাতটা ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো ইনায়ার স্ফীত উদরের দিকে। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুগুলো যেনো সামান্য আলো পেলেই গড়িয়ে পড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক আলোড়ন। এতদিন যে অনুভূতিটাকে কেবল কল্পনায় ছুঁয়ে দেখেছে, আজ সেই অনুভূতির অস্তিত্ব তার হাতের তালুর নিচে বাস্তব হয়ে উঠতে চলেছে। স্ফীত উদরের উপর হাত রাখতেই আয়াশের সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে বয়ে গেলো এক অনির্বচনীয় অনুভূতির স্রোত। বিস্ময়, মায়া, অনুতাপ আর অপার ভালোবাসা একসঙ্গে এসে যেনো তার হৃদয়ের সমস্ত দ্বার উন্মুক্ত করে দিলো। ইনায়া নীরবে তাকিয়ে রইলো মানুষটার দিকে। একসময় সে-ই তো চেয়েছিলো এমন মুহূর্তগুলো। চেয়েছিলো, এই ক্ষুদ্র অস্তিত্বের আগমন তারা দুজন একসঙ্গে অনুভব করুক। চেয়েছিলো, সন্তানের প্রতিটা নড়াচড়ায় দুজনের হৃদয় একইসঙ্গে কেঁপে উঠুক। আয়াশের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে মাতৃত্বের প্রতিটা অনুভূতি ভাগ করে নিতে চেয়েছিলো সে।
কিন্তু জীবন তার ইচ্ছের কাছে কখনোই মাথা নোয়ায়নি।
হয়তো ইনায়ার অন্তঃস্থলে আশ্রয় নেওয়া ক্ষুদ্র মানবটাও বাবার উপস্থিতি অনুভব করেছে। তাই পরমুহূর্তেই ক্ষুদ্র এক নড়াচড়ায় নিজের অস্তিত্বের জানান দিলো সে। আয়াশ মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেলো। হাতের নিচে সত্যিই যেনো তারই অস্তিত্ব সাড়া দিয়েছে! কী অদ্ভুত এক সুখ! কী অপরিসীম এক অনুভূতি! এমন অনুভূতির সঙ্গে আয়াশের কোনো পূর্বপরিচয় নেই। অথচ কয়েক ক্ষণেই সেই অনুভূতি তার সমস্ত সত্তাকে এমনভাবে গ্রাস করলো, যেনো বহু জন্মের পরিচিত কোনো ভালোবাসা হঠাৎ ফিরে এসেছে তার কাছে। আয়াশের তৃষ্ণা যেনো মুহূর্তেই আরও প্রবল হয়ে উঠলো। ইচ্ছে করলো, এই সময়টুকুকে যদি কোনোভাবে থামিয়ে রাখা যেতো! এই কয়েকটা মুহূর্তের ভেতরেই যেনো তার হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য দিনের হিসাব মিটিয়ে নিতে চায় সে। কতটা দুর্ভাগা হলে একজন পিতা নিজের ভুলেই এমন নির্মল মুহূর্তগুলো থেকে নিজেকেই বঞ্চিত করতে পারে?
অতীতের প্রতিটি ভুল যেনো এই ক্ষুদ্র স্পন্দনের সামনে এসে আজ তাকে নিঃশব্দে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলো।
“ হেই লিটল ওয়ান, ক্যান ইউ হিয়ার মি? ড্যাডি লাভস ইউ মোস্ট, ইউ নো মি?”
কাঁপা কণ্ঠে কথাগুলো উচ্চারণ করলো আয়াশ। বারবার ভেঙে এসেছে তার কণ্ঠনালি। আবেগে ভারী হয়ে উঠেছে প্রতিটা শব্দ। যেনো কথাগুলো কেবল সন্তানের উদ্দেশেই নয়, নিজের অপরাধবোধের কাছেও এক নীরব স্বীকারোক্তি। আয়াশের কণ্ঠস্বর শেষ হতে না হতেই ভেতরের ক্ষুদ্র প্রাণটা আবারও সাড়া দিয়ে উঠলো। যেনো নিজের ক্ষুদ্র অস্তিত্ব দিয়ে বাবাকে জানিয়ে দিলো, সে শুনতে পাচ্ছে। সে অনুভব করতে পারছে তার উপস্থিতি। ইনায়ার বুকের ভেতরটা কেমন অদ্ভুত ভারে পূর্ণ হয়ে উঠলো। এতক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা নারীটাএবার ধীরে ধীরে কয়েক পা দূরে সরে গেলো। মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, অথচ চোখের গভীরে জমে থাকা অনুভূতিগুলো যেনো এক মুহূর্তেই সমস্ত নৈঃশব্দ্যকে অর্থবহ করে তুলেছে। কিছুক্ষণ আয়াশের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে অবশেষে শান্ত স্বরে বললো-
“ এখন আপনি আসতে পারেন।”
বলেই আর এক মুহূর্তের জন্যও থামলো না ইনায়া। পেছনে ফেলে গেলো, অথচ রেখে গেলো অস্থিরতায় কাঁপতে থাকা এক মানবকে। আয়াশের সমগ্র অস্তিত্বে যেনো অদৃশ্য কোনো কম্পনের সঞ্চার হয়েছে। এ কম্পন কেবল আবেগের নয়, এ যে পিতৃত্বের কম্পন! বহুকাল ধরে বুকের অন্তঃস্থলে যে আকাঙ্ক্ষাটা নিঃশব্দে লালন করে এসেছে, আজ সেই আকাঙ্ক্ষাই যেনো রক্তমাংসের অস্তিত্ব নিয়ে তার একেবারে কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। কখনো কি ছুঁয়ে দেখতে পারবে এই ক্ষুদ্র প্রাণটাকে আবার?
ছেলে কিংবা মেয়েশিশুর জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় পোশাক, ছোট্ট ছোট্ট খেলনা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কতশত জিনিসপত্র, সবই কিনে রেখেছে আয়াশ। প্রতিদিনই সেসবের মধ্য থেকে কোনো না কোনো কিছু ইনায়ার কাছে পাঠায়। কালামকে এই দায়িত্বটা দিয়েছে সে। বাচ্চার জন্য পাঠানো জিনিসগুলো ইনায়া মাঝেমধ্যে গ্রহণ করলেও, তার নিজের জন্য পাঠানো সামান্য উপহারগুলো কোনোদিনই নেয় না মেয়েটা। ফিরে আসে সবকিছু। কখনো রেখে আসা হলেও কারো হাতে ঘুরে, সেগুলো আবার ফিরে আসে তার কাছেই। তবুও আয়াশ থামে না। হয়তো ভালোবাসা এমনই। প্রত্যাখ্যানের পরও যার আকাঙ্ক্ষা নিঃশেষ হয় না, দূরত্ব যার অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘ করে তোলে।
হাত থেকে টুপটাপ করে ঝরে পড়া র’ক্তের ফোঁটাগুলো ততক্ষণে জমাট বেঁধেছে। লাল রঞ্জকের মতো লেপ্টে আছে চামড়ার ওপর। অথচ আয়াশের অনুভূতিতে সেই ব্যথার কোনো অস্তিত্বই নেই। এই মুহূর্তের অনুভূতির কাছে শরীরের সামান্য যন্ত্রণা যেনো নিতান্তই তুচ্ছ। তার সমস্ত সত্তা জুড়ে এখন কেবল একটা প্রশ্নের আনাগোনা, সত্যিই কি সে কোনোদিন নিজের সন্তানকে বুকের কাছে টেনে নিতে পারবে?
•
ইনায়া দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো। একটানা কতক্ষণ যে শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় ছিল, নিজেই বুঝতে পারেনি। মনে হচ্ছিল বুকের ভেতর যেনো বাতাসের অস্তিত্বটুকুও ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। জামার ওপর বেশ খানিকটা র’ক্ত লেগে আছে। ধীর হাতে সেখানটায় স্পর্শ রাখলো ইনায়া।
অন্তঃস্থলে থাকা ক্ষুদ্র মানবটাও কি তার বাবার উপস্থিতি অনুভব করতে পারছে? মাতৃগর্ভে থাকা শিশুরা মায়ের কণ্ঠ শুনতে পায়, ইনায়া স্ফীত উদরের ওপর হাত রেখে কাঁপা কণ্ঠে বললো-
“ তুমি কি তোমার বাবার স্পর্শ চিনতে পেরেছো?”
কথাটা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেনো ক্ষুদ্র প্রাণটা মায়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে নড়ে উঠলো। মুহূর্তেই ইনার মুখে ফুটে উঠলো ক্ষীণ এক হাসি। সেই হাসির আড়ালে কতদিনের প্রতীক্ষা, কত অজানা ভয় আর কত অসীম ভালোবাসা জমে আছে, তার হিসাব হয়তো কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন।
“ আর কয়েকদিন পর মা তোমাকে ছুঁয়ে দেখে অনুভব করবো। তাড়াতাড়ি সুস্থ ভাবে মায়ের বুকে এসে পরো।”
কণ্ঠের শেষপ্রান্তে এসে আবেগগুলো কেমন অস্পষ্ট হয়ে গেলো। এই সময়টুকু ইনায়া যতটা পেরেছে কুরআন তিলাওয়াত করেছে, সূরা পাঠ করেছে, দুহাত তুলে সন্তানের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছে। প্রতিটা নিঃশ্বাসে, প্রতিটা মোনাজাতে, প্রতিটা নির্জন প্রহরে তার একটাই চাওয়া, তার সন্তান যেনো সুস্থভাবে পৃথিবীর আলো দেখে। আর মাত্র কয়েকটি দিন। তারপরই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। শেষ হবে অপেক্ষার প্রহর। বুকের ভেতর এতদিন ধরে আগলে রাখা ক্ষুদ্র প্রাণটাকে অবশেষে নিজের দুহাতের মুঠোয় ছুঁয়ে দেখবে সে। হয়তো সেই মুহূর্তেই ইনায়ার এতদিনের সমস্ত অশ্রু, ভয় আর প্রতীক্ষা একটামাত্র অনুভূতিতে এসে মিলেমিশে যাবে, মাতৃত্বে।
—
সময় কেটেছে, দেখতে দেখতে দিন গুলো পেরিয়ে যাচ্ছে।সন্ধ্যার আবছা আলো ক্রমশ গাঢ় হয়ে আসছে। জানালার কাঁচ ভেদ করে শেষ বিকেলের ম্লান রৌদ্রটুকুও ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে। চারপাশে নেমে আসা সন্ধ্যার নরম অন্ধকারের মাঝেও ল্যাপটপের পর্দা থেকে বিচ্ছুরিত আলোয় পিছনে বালিশে হেলান দিয়ে কাজ করে চলেছে ইনায়া। নাওমি কালকপ তার গ্রামের বাড়ি যাবে, তাই জামা-কাপড় গুছাচ্ছে। আর ইনায়া, প্রতিদিনের মতো নিজের কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় মগ্ন।
হঠাৎই তলপেটের ভেতর কেমন একটা মোচড় দিয়ে উঠলো। আচমকাই হাত থেমে গেলো কিবোর্ডের ওপর।
কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বসে রইলো ইনায়া। অতঃপর ধীর হাতে উদরের ওপর হাত রাখলো। ব্যথাটা খুব বেশি নয়। বরং পরিচিতই মনে হচ্ছে। গর্ভধারণের এই শেষ প্রান্তে এমন টান, এমন ব্যথা তো মাঝেমধ্যেই হয়। তাই খুব একটা গুরুত্ব দিলো না সে। মনে মনে ভাবলো, এমনিই হয়তো পেইন। এই সময়টায় শরীর এমন করতেই পারে। আবারও দৃষ্টি নামলো ল্যাপটপের পর্দায়। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানেই সমস্ত ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করে ব্যথাটা যেনো আচমকাই তীব্র হয়ে উঠলো। ইনায়ার শরীর কেঁপে উঠলো। আঙুলগুলো অনিচ্ছায় কিবোর্ড আঁকড়ে ধরলো। ঠোঁটদুটো কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে গেলো, নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠলো। চোখের পাতা শক্ত করে বন্ধ করে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলো নিজেকে।
এ কেমন ব্যথা?
আগের মতো নয়।এবার যেনো উদরের গভীর থেকে উঠে আসা কোনো অদৃশ্য ঢেউ সমগ্র শরীরটাকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে। কয়েক মুহূর্ত পর ব্যথাটা খানিকটা কমতেই ইনায়া দ্রুত শ্বাস নিলো বড় বড়। নিজের মনকে বোঝাতে চাইলো, হয়তো সাময়িক। কিন্তু পরবর্তী ব্যথার ঢেউ আসতেই তার সমস্ত মুখাবয়ব বিবর্ণ হয়ে গেলো। এবার আর সন্দেহের অবকাশ রইলো না। সময় এসে গেছে। মাতৃত্বের দীর্ঘ প্রতীক্ষার যে প্রহর গুনে এসেছে এতদিন, সেই প্রতীক্ষার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ইনায়া। চোখের কোণে অজান্তেই পানি জমে উঠলো।
“নাওমি!”
কণ্ঠটা এতটাই দুর্বল হয়ে বের হলো৷ নাওমি ইনায়ার দিকে তাকালো, আরেকবার ডাকার আগেই নাওমি ছুটে এলো।
ইনায়াকে এমন অবস্থায় দেখেই তার মুখের সমস্ত স্বাভাবিকতা মুহূর্তে উধাও হয়ে গেলো।
“ইনায়া আপু!”
দ্রুত এগিয়ে এসে তার পাশে বসলো নাওমি। কাঁপতে থাকা হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে উদ্বিগ্ন চোখে তাকালো মুখের দিকে।
“কি হয়েছে? এভাবে কাঁপছো কেন?”
ইনায়া কোনো উত্তর দিতে পারলো না। ব্যথার আরেকটা তীব্র ঢেউ উঠতেই চোখ বন্ধ করে ফেললো সে। কষ্টে নাওমির হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো। কয়েক মুহূর্ত পর ক্ষীণ স্বরে বললো-
“মনে হচ্ছে আমার পেইন উঠেছে!”
কথাটা শুনেই নাওমির বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো।
এই মুহূর্তে সে ছাড়া আর কেউ নেই। সাহায্য করার মতো পরিচিত কোনো মানুষও নেই। আর সবচেয়ে বড় কথা, সময় নষ্ট করার মতো অবস্থাও নয়। নাওমি দ্রুত নিজেকে সামলে নিলো।
“চল, তোমাকে এখনই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।”
ইনায়া ধীরে মাথা নাড়লো। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই ব্যথার তীব্রতায় আবারও শরীরটা কুঁকড়ে গেলো। নাওমি কোনোভাবে তাকে সামলে বসিয়ে রাখলো। তারপর চারপাশে একবার অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো। কাকে ফোন করবে? কার কাছে সাহায্য চাইবে? একা তো সে ইনায়াকে নিয়ে যেতে পারবে না, কালকে ইনায়ার হসপিটালে ভর্তি হওয়ার কথা। অথচ আজকেই যে ডেলিভারি পেইন উঠবে কে জানতো। নাওমি ভাবতে ভাবতে হঠাৎই মনে পড়লো সেই মানুষটার কথা, যে প্রতিদিন মেসের নিচে থাকে। যে মানুষটার উপস্থিতি ইনায়ার জীবনে আজও এক অদ্ভুত দূরত্বের গল্প হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আয়াশ। ইনায়ার সঙ্গে যতই মান-অভিমান থাকুক, যতই দুজনের মাঝখানে অদৃশ্য দেয়াল দাঁড়িয়ে থাকুক, এই মুহূর্তে সন্তানের বাবাকে বাদ দিয়ে আর কাউকে ভাবতে পারলো না নাওমি।
“তুমি একদমই নড়বে না। আমি এখনই আসছি।”
বলেই নাওমি ছুটে বেরিয়ে গেলো। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে তার নিঃশ্বাস এলোমেলো হয়ে আসছে। বুকের ভেতর কেবল একটাই চিন্তা, আয়াশকে এখনই জানাতে হবে। দোয়া করছে আয়াশ যেনো নিচে উপস্থিত থাকে।
নিচে তখন নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে চায়ের কাপ হাতে বসে আছে আয়াশ। প্রতিদিনের মতোই তার দৃষ্টি অকারণে আটকে আছে মেসের প্রবেশপথে। ইনায়া তাকে এড়িয়ে চলে, তার পাঠানো জিনিস গ্রহণ করে না, কথা বলার প্রয়োজন হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি শব্দ উচ্চারণ করে না। তবুও আয়াশের অপেক্ষা থামে না। হঠাৎ নাওমিকে প্রায় ছুটতে ছুটতে নিজের দিকে আসতে দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেলো।
চায়ের কাপটা ঠোঁটের কাছেই থেমে গেলো। এই কয়েক মাসে ইনায়ার সঙ্গে থাকা মেসে গুলোকে চেনে আয়াশ।
“নাওমি?”
নাওমি কোনো ভূমিকা করলো না। হাঁপাতে হাঁপাতে বললো-
“আপুর পেইন উঠেছে।”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই আয়াশের হাত থেকে চায়ের কাপটা প্রায় অসাবধানতাবশত নিচে নেমে গেলো।
“কি?”
একটা মাত্র শব্দ। কিন্তু সেই শব্দের ভেতরেই যেনো আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা আর বহুদিনের অপেক্ষা একসঙ্গে কেঁপে উঠলো।
নাওমি দ্রুত বললো-
“ওনার খুব ব্যথা হচ্ছে। মেসে এখন শুধু আমি আর ওনি আছি। তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে।”
আর একটা শব্দও শুনলো না আয়াশ। সে উঠে দাঁড়ালো।
পরবর্তী মুহূর্তেই যেনো সমস্ত সংযম, সমস্ত স্থিরতা বিসর্জন দিয়ে ছুটে গেলো সিঁড়ির দিকে। যে মানুষটা এতদিন নিজের অনুভূতিগুলোকে নিঃশব্দে বুকে চাপা দিয়ে রেখেছে, আজ সেই মানুষটিা চোখে কেবল একটাই ভয়। ইনায়ার কিছু হলে? তার সন্তানের কিছু হলে? এই দুটো আশঙ্কাই যেনো আয়াশের সমস্ত অস্তিত্বকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
সিঁড়ি পেরিয়ে ঘরের সামনে পৌঁছাতেই ভেতর থেকে ইনায়ার কষ্টভরা নিঃশ্বাস কানে এলো। আয়াশের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়লো তাকে। কেমন বিবর্ণ হয়ে বসে আছে ইনায়া। এক হাত উদরের ওপর, অন্য হাতটা বিছানার চাদর আঁকড়ে ধরা। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। চোখদুটো বন্ধ। আয়াশ কয়েক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেলো। এই সেই মানুষ, যার কাছে যেতে চাইলেই ইনায়া নিজেকে সরিয়ে নেয়। আয়াশ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আয়াশ হাঁটু গেড়ে বসলো তার সামনে।
“ইনায়া।”
ইনায়া চোখ খুললো। দুটো চোখের দৃষ্টি মিলতেই মুহূর্তের জন্য যেনো সময় থমকে গেলো। কত কথা জমে আছে দুজনের মাঝেকত না বলা অভিমান।কত দূরত্ব। তবুও এই মুহূর্তে কোনো কথাই প্রয়োজন হলো না। আয়াশ ধীরে হাত বাড়িয়ে তার কাঁপতে থাকা হাতটা নিজের হাতে নিলো।
ইনায়া হাত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো না। ব্যথায় তার সারা অঙ্গ কেঁপে উঠাছে। ইনায়ার চোখের কোণে জমে থাকা পানিটুকু গড়িয়ে পড়লো। আয়াশের গলা কেঁপে উঠলো।
“ভয় পাবেন না। আমি আছি।”
আয়াশ আর দেরি না করে দ্রুত ইনায়াকে কোলে তুলে নিলো, কোনো কথা ব্যয় না করে দ্রুত অতি সাবধানের সঙ্গে নিচে নামতে থাকলো। ইনায়া ফুঁপিয়ে উঠলো, প্রচন্ড ব্যথায় কাতরে উঠছে সে। আয়াশের হৃদপিণ্ড লাফাচ্ছে। আয়াশের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে ।
“আর একটু সহ্য করুন। আমরা এখনই হাসপাতালে পৌঁছে যাবো।”
ইনায়া চোখ বন্ধ করে রইলো। কোনো উত্তর দিলো না। ভাগ্য ভালো আয়াশ আজক গাড়িটা সঙ্গে করে এনেছিলো৷ ইনায়াকে বসিয়ে পিছনেই শুইয়ে দিলো। নাওমি পিছনে বসে পরে ইনায়াকে শক্ত করে আকঁড়ে ধরে রাখলো।
হাসপাতালের উদ্দেশ্যে গাড়ি ছুটে চললো। আয়াশ গাড়ি চালাচ্ছে তবে তার দৃষ্টি বার বার ইনায়ার উপর যাচ্ছে। মেয়েটা ব্যথায় কেমন করে কাতরাচ্ছে। একটা সন্তান জন্ম দেওয়া কতটা কষ্টে সেটা হয়তো একজন মা ছাড়া কেউ জানে না। নাওমি ইনায়াকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। আয়াশের নিজেকে পাগল পাগল লাগছে। সহ্য হচ্ছে না ইনায়ার এমন যন্ত্রণা! মনে হচ্ছে তার কোনো ভীষণ ভাবে আঘাত লাগছে।
“ প্লিজ ইনায়া বি স্ট্রং! ডোন্ট বি স্কেয়ার্ড অ্যাট অল, আই অ্যাম হিয়ার। জাস্ট বেয়ার ইট এ লিটল।”
#চলবে

