তুই আমার কাব্য পর্ব-০৫

0
2303

#তুই_আমার_কাব্য 🍂
#Writer: Anha Ahmed
#Part: 05
.
🍁
.
বেশ অনেকক্ষণ বসে থাকার পর অনেকটা ভালো লাগছে। আজ আর ভার্সিটিতে থাকতে ইচ্ছে করছে না মেঘলার । বাসার যাওয়ার জন্য তনু আর মেঘলা ধীর পায়ে বের হচ্ছিলো ভার্সিটি থেকে। পেছন থেকে একটা গলার আওয়াজ পেয়ে থেমে গেলো দুজনেই।

– হে বিউটিফুল!

ঘুরে তাকাতেই দেখে আবির চমৎকার একটা হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। যদিও হাসতে ইচ্ছে করছে না কিন্তু তবুও কিঞ্চিৎ হেসে বললো ,

– আবির ভাইয়া! কিছু বলবেন?

আবির মেঘলার দিকে এগিয়ে এসে সামনে দাড়িয়ে বললেন,

– নাহ্ তেমন কিছু না। দেখলাম আজকে তোমায়। ভেবেছিলাম আসো নি। তো এখনি চলে যাচ্ছো যে? আর তোমার চোখমুখে কেমন যেনো ফ্যাকাশে লাগছে। কিছু হয়েছে? অসুস্থ?

মলিন একটা হাসির রেখা টেনে বললো,

– নাহ্ ভাইয়া! কিছু হয় নি। সামন্য ঠান্ডা আর কি। চারপাশে ধুলাবালি তো। এর্লাজি থেকে ঠান্ডা লেগে একটু লাল হয়ে গিয়েছে আর কি।

– একটু বলছো? বেশ অনেকটাই লাল হয়ে গিয়েছে । বাসায় চলে যাওয়াই ভালো। চলো তোমায় ওঠিয়ে দিই।

আবিরের এতো গায়ে পড়া স্বভাবটা খুবই বিরক্ত লাগছে মেঘলার। এমনভাবে কথা বলছেন যেনো কবে থেকে চেনে । একবারের দেখায় কেউ এরকম বিহেভ করে? মেঘলা আবারো ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে বললো,

– না না ভাইয়া। সমস্যা নেই। আমি একাই পারবো। আর তনু তো আছেই। আর আপনার শুধু শুধু কষ্ট করার দরকার নেই।

– সামন্য একটা রিকশা ঢেকে দেওয়ায় খুব একটা কষ্ট হবে বলে মনে হচ্ছে না। আর তুমি তো অসুস্থ। এতটুকু সাহায্য না করলে সিনিয়র বলে হয়তো দাবি করা বেমানান হয়ে যাবে। মানবিকতার খাতিরেও, এতটুকু করা যেতেই পারে। তুমি এখানেই দাঁড়াও। আমি ভেতরে রিকশা নিয়ে আসছি। বাহিরে কষ্ট করে যেতে হবে না।

কথাটা বলেই আবির দৌড়ে চলে গেলো। মানুষ চেনা আসলেই দায়। কোনো কোনো সময় মনে হয় এই মানুষটা ভালো আর ওই মানুষটা খারাপ আবার কখনো কখনো সেই ধারণা পাল্টে যায়। কিন্তু কথায় বলে বিপদেই নাকি যে এগিয়ে আসে সেই প্রকৃত মানুষ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলাই যায় আবির ছেলেটা খারাপ না। কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই ভাবনায় ছেদ ঘটালো তনুর গলার আওয়াজ।

– কিরে মেঘু। কি ভাবছিস এতো? চল যাবি না? রিকশা চলে এসেছে।

সামনে তাকিয়ে দেখে একটা রিকশা এসেছে। আবির হেঁটে আসছে। তনু একটা ছাড়লো না আজকে। বাসায় পৌঁছিয়ে তারপর যাবে। তনু ওঠে গেলো। মেঘলা ওঠতে যাবে হঠাৎই মাথাটা হালকা ঘুরিয়ে ওঠলো। পা রাখতে গিয়েও রাখতে না পেরে ঝুকে পড়ছিলো তখনই আবির ধরে ফেললো।

– সাবধানে।

বাসায় এসে লম্বা এক সাওয়ার নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।

সন্ধ্যা ৬ঃ৪০ মিনিট। বাহির থেকে বেশ হৈ হুল্লোড়ের শব্দ আসছে। অলসতা ভেঙ্গে ঝিমুতে ঝিমুতে বাহিরে খুশিতে চোখ জোড়া চিকচিক করে ওঠলো। সকল ঘুম এক নিমেষেই চলে গেলো। দৌড়ে গিয়ে পেছন থেকে গলা জড়িয়ে ধরলো,

– খালাআআআ মণি। তুমি কখন এসেছো? তোমরা কেউ আমাকে ডাক দিলে না। খালামনি তুমিও ডাকলে না আমায়। আর কতদিন পর এলে বলো তো? ভুলেই তো গেছো একদম। অহ্ বুজেছি আপন ভাগ্নি তো মনে করো না তাই। আজ যদি তুমি সত্যি সত্যি আম্মুর বোন হতে তাহলে কি এমন করে থাকতে পারতে?

– আরে বোকা মেয়ে থাম। বলতে তো দিবি আগে আমাকে। তুই তো ঘুমাচ্ছিলি তাই ডিস্টার্ব করি নি। আর তোর আংকেল বিদেশ গিয়েছিলো কাজে। তাই এইদিকের কিছু কাজ আমাকে আর তোর বড় ভাইয়াকে দিয়ে গিয়েছিলো। আমি গৃহিনী মানুষ। ওগুলো সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে গিয়েছিলাম রে। তাই একটু ব্যস্ত ছিলাম।

– আআআ আঙ্কেল বিদেশ গিয়েছিলো? কি এনেছে? আমার জন্য চকলেট আনে নি?

– হা হা। এনেছে রে এনেছে। তোর জন্য কিচু আনবে না তা কি হয় বল? যতই হোক তুই আমার ছেলের বউ বলে কথা।

এ কথা বলে সাহানাসহ সবাই হেসে ওঠলো। মেঘলা একটু ভাব নিয়ে বললো,

– হ্যা তা তো বটেই। তোমার মতো শ্বাশুড়ি পেতে যে কোনো মেয়েই রাজি। আমি তো তোমাকে দেখেই বিয়ে করবো। হা হা কিন্তু খালামনি তোমার ছেলের বউ করে নিবে গো? তোমার বড় ছেলে তো ঠিকই আছে কিন্তু ছোট টা কে তো দেখাই হলো এখনো।

– তুই বল তুই আমার কোন ছেলেকে চাস। তোর জন্য দুইটাই এবেলএবোল। যেটা বলবি। তোকে বিয়ে করে আমার বন্ধুত্ব আমি আরো গাঢ় করতে চাই।

মেঘলার মাকে জড়িয়ে ধরে কথাটা বললো। খাওয়া দাওয়া শেষে সাহানা বিদায় নিয়ে চলে গেলো।
.
.
খুব হিমশিম খাচ্ছে শাড়ি নিয়ে। আজ ভার্সিটিতে নবিন বরণ। স্বভাবগতভাবেই শাড়ি পড়া নির্বাচন করা হয়েছে। তাই সকাল সকালই ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেস হয়ে রেডি হতে লেগে পরেছে। শাড়ি যে পড়তে পারে না তা একদমই না। খুবই ভালো শাড়ি পড়তে জানে তবে তা শাড়ি বিশেষে। আজকের শাড়িটা কাতানের। একটু মোটা টাইপের যার জন্য উপরে ভাজ গুলো দিতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামনে ঠিক থাকলে পেছনে থাকছে না। মোহনা ঘুমিয়েই আছে না হলে সেই ঠিক করে দিতো। বেশ কিছুক্ষণ ট্রাই করার পর আর না পেরে মোহনাকে ঢেকে ওঠালো।

– মোহ, এই মোহ। ওঠ না প্লিজ। আমাকে একটু হেল্প কর।

– উহু। ঘুমাতে দে আপি। যাহ্ আম্মুকে বল।

কথাটা বলেই অন্যদিক করে ঘুরে গেলো। মেঘলা রেগে গিয়ে কানের কাছে গিয়ে জোড়ে চিৎকার করে ডাক দিলো,

– মোহহহহহহহহহহহ

মোহনা ধরফরিয়ে ওঠে বলতে লাগে,

– কি কি কি কি? কি হয়েছে?

– কিছুই হয় নি তবে হবে। তুই যদি এখনিই আমাকে হেল্প না করিস তাহলে তোর চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার হবে সাথে তুইও।

– আপিইইই। আম্মু কে বল না।

– টেনে এক চড় লাগাবো। আম্মু রান্না করছে না!

মোহনা ঘুমু ঘুমু চোখেই ঠিক করে দিয়ে আবার ঘুমোতে চলে গেলো। রেডি হয়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়িয়ে নিজেকে দেখে মুচকি এক হাসি দিলো। মিষ্টি কালারের শাড়ি, চোখে শুধু কাজল আর আইলানার মোটা করে দেওয়া, মিষ্টি কালারের লিপস্টিক, হালকা একটা ঝুমকা, গলাটা একদম খালি কারণ গলায় কিছু পড়লে মেঘলার খুব আন ইজি লাগে। আর হ্যা দু হাত ভর্তি চুড়ি তো আছেই। কপালে অতি ক্ষুদ্র টিপ আর চুল মাঝখানে সিতী করে সামনে কিছু চুল বের করে পেছনে খোঁপা করে তিনটি গোলাপির রঙের গোলাপ গাথা।
বেশ ভালোই লাগছে। কথায় আছে না শাড়িতেই নারী। আসলেই তাই। খাওয়া দাওয়া শেষে দ্রুত বেড়িয়ে গেলো। এরি মধ্যে বহুবার তনুর কল চলে এসেছে। সে বেহুশ হয়ে যাবে পারলে কল দিতে দিতে।
তাই মেঘলা দ্রুত বের হয়ে আসে।
বাহিরে বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ দাড়িয়ে আছে। অদ্ভুতভাবে একটা রিকশাও সে পাচ্ছে না। দরকারের দিনে আসলেই দরকারি জিনিস পাওয়া দুঃসাধ্য। উপায় খুজে না পেয়ে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু কেনো জানি মেঘলার মনে হচ্ছে দুটো চোখ তাকে দেখছে। আশে পাশে ভালো করে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই সেরকম। মনের ভ্রম মনে করে এগিয়ে যায়। হঠাৎই খুব জোড়ে একটা বাইক এসে তার পাশে দিয়ে চলে যায়। আর রাস্তায় থাকা কিছু কাদা পানি তার শাড়িতে লেগে সম্পূর্ণটা নষ্ট করে দেয়। মেঘল্ কাঁদো কাঁদো মুখে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে ওভাবেই। কি করবে বুছতে পারছে না। উপায় না পেয়ে বাসার দিকে রওনা দেয় মুখ ভার করে।

চলবে…. 💙