#তুই_যে_আমারি
#আঁখি আজমীর নুরা
part 3
আঁখি পাঁচ মিনিটের মধ্যে নাস্তা শেষ করে আয়। আমি গাড়িতে ওয়েট করছি। তখন আঁখি ক্লাস সিক্সে পড়তো। সেদিন আঁখিকে স্কুলে দিয়ে, আমি ভার্সিটিতে চলে যায়। ভার্সিটিতে আসার পর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে থাকি। একসময় সবাই প্লান করি, ঘুরতে যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ। সবাই ঘুরতে চলে যায়। আমার মনেই ছিল না যে, আঁখির ছুটির পর তাকে নিয়ে বাসায় ফিরতে হবে।
দুপুর বেলা সব বান্ধবীরা স্কুল থেকে ফিরছি। কারণ আয়াজ ভাইয়া নিতে আসে নি।অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পরও যখন আয়াজ ভাইয়া আসছিলো না তখন সাদিয়া বলল, কিরে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবি? তোর ভাইতো আসছে না। চল আমাদের সাথে চলে আয়। আমিও ভাবলাম আর কতক্ষণ এভাবে দাড়িয়ে থাকব? তার থেকে চলে যাওয়ায় ভালো। তখন দেখি মাঝপথে অচেনা এক লোক এসে আমাদের সামনে এসে দাড়ালো, আর জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের মধ্যে আঁখি কে? আমিও বললাম জ্বী আমি! কেন কী হয়েছে? আসলে তোমার সাথে একটু কথা আছে। জ্বি বলেন! আসলে একটু আলাদা ভাবে কথা বলতে হবে। নাহ যা বলবেন এভাবে সরাসরি বলেন। কারণ আয়াজ ভাইয়া মানা করেছে যেন অপরিচিত কেউ কিছু দিলে, যেন তা গ্রহণ না করি বা কেউ ডাকলে যেন না যায়। কিন্তু লোকটি বারবার জোর করছে যেন তার সাথে যায়, অনেক ইম্পর্ট্যান্ট কথা নাকি। নয়লে নাকি অনেক প্রবলেম হয়ে যাবে। আমিও ভাবলাম হয়তো কোনো ইম্পর্ট্যান্ট কথা থাকলে থাকতেও পারে। তাই আমি বললাম, আচ্ছা চলুন।
এরপর লোকটা আমাকে একটা নিরব জায়গায় নিয়ে আসলো। আপনি আমাকে এই কোথায় নিয়ে আসলেন। বলতে না বলতেই লোকটা আমার মুখে একটা রুমাল চেপে ধরলো এরপর আর কিছুই মনে নেই।
যখন জ্ঞান ফিরলো নিজেকে একটা বদ্ধ ঘরে আবিস্কার করলাম। হাত পায়ে দড়ি বাধানো। রুমটার চারদিকে মাকড়সার জাল আর তেলাপোকা ইঁদুরের আনাগোনা। এবার ভয়ে কেঁদে দিলাম। আর চিৎকার করতে লাগলাম। কে আছো, আমাকে খুলে দাও, আমি বাসায় যাবো। আম্মু ভাইয়া তোমরা কই?
এদিকে, কি হলো তিনটা বেজে গেলো, মেয়েটা এখনো ফিরছে না কেন? রোজিনা চৌধুরী চিন্তা করতে লাগলেন। ছেলেটাও তো বাড়ি ফিরলো না। দেখি আয়াজ কে একটা ফোন করে। কি হলো? হঠাৎ আম্মু ফোন দিলো, হ্যালো আম্মু আসসালামুয়ালাইকুম। ওয়ালাইকুমুসসালাম। কিছু বলবে আম্মু। হ্যাঁ রে তুই আর আঁখি এখনো বাসায় ফিরলি না কেন? ৩টা বেজে গেলো মেয়েটাও এখনো বাসায় ফিরলো না। তুইও ফিরিস নি। তোরা কি কোথাও গিয়েছিস? ওহ শিট! আম্মু রাখছি আমি। ও মাই গড আমারতো মনেও ছিলো নাহ। তারাতারি করে বাইক নিয়ে আঁখির স্কুলের দিকে রওনা হলাম। কিন্তু গিয়ে যা দেখলাম যা শুনলাম, মাথাটা যেন ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে। পুরো স্কুল ফাঁকা। কোথাও কোনো স্টুডেন্ট নেই। মেয়েটা গেলো কোথায়। আম্মুও যে বলল বাসায় যায় নি। তাহলে কি! না না এসব কি ভাবছি। মনের ভিতর অজানা ভয় যেন কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। হয়তো বাসায় গেছে। আমি একটা ফোন করে দেখি। ফোনে আম্মু যা বলল তা শুনে ফোনটা মাটিতে পড়ে গেল। আঁখি বাসায় যায় নি।
আমি গাড়ি নিয়ে শহরের চারদিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। আর আঁখির ছবি দেখিয়ে সবাইকে আস্ক করছি কোথাও দেখেছে কিনা। কিন্তু কেউ বলতে পারছে না। হঠাৎ আঁখির ফ্রেন্ডসদের কথা মনে পড়ে গেলো। ওদের সাথে যোগাযোগ করে যা শুনলাম, তাতে যেন কান গরম হয়ে গেলো। রাগে চোখ দুটো লাল হয়ে গেলো। পুলিশ কমপ্লেন করলাম। আর বললাম যত তারাতাড়ি সম্ভব ওই কুত্তার বাচ্চাকে আমার সামনে চাই। নয়তো আপনাদের কি হাল করবো আমি নিজেও জানি না। বাসায় যখন আমাকে একা ফিরতে দেখলো রোজিনা চৌধুরী হন্তদন্ত হয়ে আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, কিরে বাবা একা ফিরলি কেন? আমার মেয়ে কই?
আয়াজ কোনো জবাব দিতে পারলো না। শুধু মাথা নিচু করে রইলো। কি হলো কথা বলছিস না কেন? নেই! নেই মানে? রোজিনা চৌধুরী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো? তারপর পুরো ঘটনা খুলে বলল।
এই মেয়ে এভাবে চেঁচাচিচ্ছস কেন? আমি কোথায়? কে আপনারা? আমাকে কোথায় আটঁকে রেখেছেন? আমি বাসায় যাবো। কাঁদতে কাঁদতে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছি না। চুপপপ! একদম চুপ কোনো কথা না। তুই এখন আমাদের খাঁচায় বন্দি, চাইলেও পালাতে পারবি না। প্লিজ আমাকে যেতে দিন। আমি আপনাদের কি ক্ষতি করেছি। তুইতো আমাদের সোনায় পাড়া ডিম। তোকে কিভাবে যেতে দেয়। প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন। কেউ আছো, আমাকে বাঁচাও। এভাবে চিল্লাতে থাকি। এমন চিল্লাতে দেখে আমার মুখের উপর কয়েকটা থাপ্পড় লাগিয়ে দেয়। এতে যেন কান্নার গতি আরও বেড়ে যায়। চুপ নয়তো এই যে ছুরি দেখছিস, একদম এই ছুরি দিয়ে জীহ্ব কেটে ফেলবো। ভয়ে আমি এবার গুটিয়ে গেলাম। কিন্তু ফোঁপানি যেন থামছেই না।
এই চৌধুরী বাড়িতে ফোন লাগা। আয়াজদের বাড়ির ল্যান্ডফোনে কল আসতেই আলতাফ চৌধুরী রিসিভ করলেন। হ্যালো কে বলছেন? আমি কে জানলেও চলবে আপনার। আদরের ভাগ্নীকে ফিরে পেতে চাইলে কালকে ***** জায়গায় এক কোটি টাকা নিয়ে হাজির হবেন। নয়তো বুজতেই পারছেন, কি হাল করবো আপনার ভাগ্নের। আঁখি মা! কোথায় আমার মেয়েটা। আয়াজ আঁখি নামটা শুনেই দৌড়ে বাবার কাছ থেকে ফোনটা কেরে নিলো। আর অস্থির গলায় বলল, আঁখি.. আঁখি কোথায়। ওপাশে, আরে রিলাক্স রিলাক্স এই নিন কথা বলুন। আঁখির সামনে ফোন ধরতেই ভভভাইয়া। কককোথায় আপনি। ওরা আমাকে খুব মমমারছে। বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে কথা গুলো শুনে। কিচ্ছু হবে না তোর। আমি আছিতো.. হ্যালো হ্যালো! টাকাটা নিয়ে জায়গা মতো পৌঁছে যাবেন। নয়তো লাশও খুঁজে পাবেননা। কুত্তার বাচ্চা তুই যদি একটা ফুলের টোকা দিয়েছিস তো? তোর কি হাল করবো আমি নিজেও জানি না। টুট টুট টুট….. হ্যালো
ওদিকে মেয়ের কিডন্যাপের কথা শুনে হাসান রহমান আর নুরী রহমান বাসায় বসে থাকতে পারলেন না। নুরী রহমান তার বোনকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। আর বিলাপ করতে থাকে । এদিকে আজিফাও এক কোণে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলতে থাকে।
চলবে