#তুমি_আছো_তাই
#পর্ব_০৯
#লেখিকা_তাসনিম
“স্যার ম্যাম এসেছেন”
শাকিল ফাইলের থেকে চোখ সরিয়ে বললো,
“কোন ম্যাম”
“স্যার,বাইরে একজন মেয়ে এসে বললো আপনার ওয়াইফ”
“ওহ অনু,হুমম আসতে বলো”
“ওকে স্যার”
অনু এসে নক করলো,শাকিল উঠে গেল ওর জায়গা থেকে আর বললো,
“তোমার নক করা লাগে”
“অবশ্যই লাগে,সবার নিয়ম তো একই”
“আসো,হঠাৎ আমাকে স্মরণ করলে বলো নি তো আমাকে আসবে যে”
“আপনাকে দেখতে ইচ্ছে করছিল তাই চলে এসেছি,আপনার তো আমাকে দেখতে ইচ্ছে করে না”
“ঠিকই বলেছো”
“কিহহহ,আপনার আমাকে দেখতে ইচ্ছে করে না”
“নাহ ইচ্ছে করে না তো”
“চলে যাবো কিন্তু”
“তোমাকে তো আমি প্রতিদিন দেখি”
“কোথায় দেখেন”
“আমার মনে যে ছবি টা আকাঁ হয়েছে তোমার সেটা প্রতিদিন দেখি কথা বলি সেটার সাথে,বেস্ট ফিলিং এভার”
“চলেন ঘুরতে যায়”
“এখন”
“হুমম,এখন”
আরোহী(শাকিলের পিএ) এসে বললো,
“এক্সকিউজ মি স্যার,ক্লাইন্ট চলে এসেছে, আপনি আসলেই মিটিং স্টার্ট করা যাবে”
“তুমি যাও আসছি আমি”
আরোহী চলে গেল,শাকিল অনুর দিকে তাকিয়ে বললো,
“সরি,মিটিং টা অনেক ইমপর্ট্যান্ট,তা না হলে সত্যি ঘুরতে যেতাম আমরা”
“মিটিং শেষ হতে কতক্ষণ লাগবে”
“বলা যায় না,এক ঘন্টা দুই ঘন্টা তুমি কতক্ষণ বসে থাকবে,একা একা বোর হবে”
“ওকে,চলে যাচ্ছি আমি”
“সরিইই”
“হুমম বেস্ট অফ লাক”
“চলো এগিয়ে দেয় তোমাকে”
“নাহহ,আমি যেতে পারবো,আপনি যান”
“আচ্ছা বাইরে পর্যন্ত আসো”
“হুমম,মেয়ে টা কে”
“পি.এ”
“আপনার”
“হুমম আর কার”
“মেয়ে কেন”
“কেন কি হয়েছে”
“কিছু না,আসছি আমি”
অনু চলে গেল,শাকিল কিছু বুঝে উঠলো না,অনু কি বোঝাতে চেয়েছে তা ওর মাথায়ই আসেনি কারণ ও যে কালচারে এতোদিন ছিল এটা একদমই সিম্পল ছেলেমেয়ে একসাথে কাজ করে,কিন্তু এতে যে তার পার্টনার রাগ করতে পারে সেটা সে বুঝতেই পারলো না।শাকিল মিটিং শেষ করে অনু কে কল দিলো,অনু ওর এক ফ্রেন্ডের বাসায় গিয়েছিল, সেখানে গল্প করছিল ব্যাগে ফোন ছিল তাই শুনতে পায়নি।শাকিল ভাবলো ঘুরতে যায় নি বলে হয়তো কল ধরলো না।তাই আর কল দিলো না বাসায় গিয়ে আবার কল দিবে।অনু বাসায় আসার পথে ভাবছিল হাহহ কতক্ষণ মিটিং হয়,একবার কি কল করা যায় না,আমি ঠিকঠাক বাসায় পৌঁছালাম কিনা সেটাও জানার প্রয়োজন মনে করে না।বাসায় এসে অনু দেখলো ফোনে চার্জ নেই তাই চার্জে দিলো,তারপর আর চার্জ থেকে খোলা হয়নি ফোন টা,ঘুমিয়ে পড়লো অনু।
এদিকে কলের পর কল দিয়েই যাচ্ছে শাকিল কিন্তু অনুর ফোন অফ বলছে বার বার,রাত হয়ে যাওয়াতে ও অন্য কাউকেও কল দিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারছিল না কি হয়েছে অনুর,এক পর্যায়ে রাগ চিন্তা দুটোই হতে লাগলো শাকিলের,ও শুধু সকালের অপেক্ষা করতে লাগলো,কখন সকাল হবে ও অনুকে দেখতে যাবে,ও ঠিক আছে কি না।
সকালে……..
অনু ঘুম ঘুম চোখে দেখলো ওর সামনে শাকিল বসে আছে,ও ভাবলো স্বপ্ন হয়তো তাই আবার ঘুমিয়ে পড়তে নিলো,তখনই শাকিল বলে উঠলো
“আমার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে আবার ঘুমাচ্ছ তুমি”
অনু লাফ দিয়ে উঠে বসলো স্বপ্ন না তাহলে সত্যি ওর সামনে শাকিল বসে আছে। অনু কি বলবে বুঝে উঠতে পারছিল না,ঘুমের রেশ কাটেনি আর কি।
“অনু সিরিয়াসলি আমি ভাবিনি তুমি একটা ছোট বিষয় নিয়ে এমন করবে”
“কি করলাম আমি,কি বলছেন”
“মিটিং টা জরুরী ছিলো বলেই তো আমি তোমার সাথে যায়নি সেটা কি তুমি বুঝো না”
“তো আমি কি করলাম আপনাকে,আপনি মিটিং এ যাবেন বলেছেন আমি যেতে দিয়েছি”
“ওহ এ জন্য আমার কল রিসিভ করছিলে না,ফোন অফ করে রেখেছো”
“ফোন অফ কখন করলাম,ওহহ চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছিল ওন করা হয়নি আর”
“হ্যাঁ,ওন কেন করবে তোমার কি আসে যায়,তোমার চিন্তায় আমি শেষ হয়ে যায়,তোমার কি তুমি আরামে ঘুমাও আর কি করতে পারবে তুমি”
শাকিল বেশ রেগে কথা গুলো বললো,অনু কান্নামুখ হয়ে গেল,অনু বললো
“এভাবে কেন বলছেন,আমি কি ইচ্ছে…..”
“নাহ তুমি ইচ্ছে করে কেন করবে সব দোষ আমার,তোমার কোনো ইচ্ছা পূরণ করি না,দেখা করতে আসি না, প্রতিদিন কল দেয় না, ঘুরতে নিয়ে যায় না, সব দোষ আমার”
শাকিল উঠে চলে যেতে লাগলো,অনু উঠে ওকে আটকাতে গেল,শাকিলের হাতে ধরে বললো,
“আমি কখন বলেছি সব দোষ আপনার,কেন এমন করছেন আমার সাথে, আচ্ছা সরিই আমি ফোন ওন রাখবো সবসময়, ভুল হয়ে গেছে আমার”
“হাত ছাড়ো,তোমার কোনো ভুল নেই”
“হাত ছাড়লে আপনি চলে যাবেন”
“তুমি চাও আমি থাকি”
অনু মাথা নাড়ালো,শাকিল অনুর চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো,
“আমি তোমাকে বকবো,কিন্তু তুমি আমার সামনে কান্না করবে না,তোমার চোখের পানি আমার সহ্য হয় না”
“আপনি আমার সাথে এমন করলে আমার কষ্ট হয় না বুঝি,কষ্ট লাগলে তো কান্না আসবেই”
“না কান্না করবে না,আমি কি ছেড়ে চলে যাবো নাকি তোমাকে”
“চলে যেতে চাইলেও আমি যেতে দিবো না”
অনু শাকিলকে জরিয়ে ধরলো,অনুর চোখের পানিতে শাকিলের শার্ট ভিজতে শুরু করলো,শাকিল বললো,
“হয়েছে থামো এখন,আর না হলে তোমার বাবা দেখলে আমার বাসায় আর যেতে দিবে না”
“আপনি আমার সাথে এমন করবেন না কথা দেন”
“কি করবো মাথা গরম হয়ে যায় আমার”
“ঠান্ডা রাখবেন আমার জন্য”
“ওকে মহারাণী,এখন ফ্রেশ হয়ে আসো,হেয়ার ড্রাইয়ার টা দিয়ে যেও শার্ট টা শুকাতে দিব”
শাকিলের কথায় অনু হাসতে লাগলো,তারপর অনু ফ্রেশ হয়ে আসলে শাকিল আর অনু নাস্তা করতে আসলো আফজাল সাহেবের সাথে, উনি খাচ্ছিলেন আর ওদের পর্যবেক্ষণ করছিলেন, দুজনকে একসাথে না দেখলে উনি একটা যুদ্ধ লাগাতেন,শাকিলের কথা বাইরেও শোনা যাচ্ছিল, তাও তিনি তখন চুপ করে ছিলেন,একদিকে খুশি হয়েছেন মনে মনে যে শাকিল বকাঝকা করে আবার মানিয়েও নিয়েছে, তার মেয়ের মুখে হাসি আছে,এটাই তো চায় সব বাবারা,তাদের মেয়েরা সবসময় খুশি থাকবে।
#চলবে
(ভুল ক্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন)