তুমি আসবে বলে পর্ব-৬+৭+৮

0
653

#তুমি আসবে বলে

# নুসাইবা ইভানা

পর্ব – ৬

মিসেস মারিয়া মোর্শেদ আফরোজের হাত ধরে বলে, মোর্শেদ আমি কি ভুল করে ফেলেছি মেঘের সাথে আরহার বিয়েটা দিয়ে! দেখো তোমার আমার মাঝেও তো বারো বছরের ডিফারেন্স তাও তো আমরা একে অপরকে ভালোবেসে এক সাথে আছি।সুখে দুঃখে একে অপরের ছায়া হয়ে। আমি ভেবেছি মেঘ ঠিক তোমার মতো আরহার ছায়া হবে।আমার ভাবনাটা কি তবে ভুল ছিলো! আর তাছাড়াও তুমিই বলো ওই মূহুর্তে আমাদের আর কি করার ছিলো! মেঘ ছাড়া আর কার সাথে আরহার বিয়েটা দিতাম! ওই পাহাড়ি মানুষদের হাত থেকে আরহাকে বাঁচানোর এই একমাত্র পথ ছিলো।
– শান্ত হও মারিয়া। এতো টেনশন করো না দেখবে আমাদের আরহার জন্য আমরা মেঘের চেয়ে বেটার কাউকে খুঁজে নেবো।
– মেঘ নয় কেনো মোর্শেদ?
– দেখো আমার মনে হচ্ছে মেঘ আরহাকে মেনে নেবে না।
– কেনো নেবে না বলো!আরহা বড় হলো অনেক রূপবতী হবে। তাহলে সমস্যা কোথায়?
– দেখো মারিয়া জোড় করে সম্পর্ক তৈরী করা যায় না তার জন্য মনের টান থাকতে হয়। আমি বলছি না ভবিষ্যতে ওদের ডিভোর্স হবেই। হতেও তো পারে ততদিনে সব কিছু মেনে নেবে মেঘ। আর যদি না মানে তাহলে আরহার জন্য জীবনসঙ্গী আমরা ঠিক করবো। অথবা আরহা নিজেও কাউকে পছন্দ করতে পারে।
– তুমি বলতে চাইছি মেঘ যা বলছে তা মেনে নেবো! আমাদের কোন দায়িত্ব নেই। বড় হয়ে আরহা যখন প্রশ্ন করবে তখন আমরা উত্তর কি দেবো?
– দেখো মারিয়া বড় হবে তারপর তো এখন চিন্তা করো না।
– তুমি বুঝতে পারছোনা মোর্শেদ, একটা মেয়ের জন্য বিয়েটা কত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাছাড়া আরহাকে কি বলবো যখন নিজের হ্যাসবেন্ডের কথা জানতে চাইবে?
– যদি জানতে চায় তবে মিথ্যে বলা ছাড়া উপায় নেই।
-শেষ পর্যন্ত মিথ্যে। তাও বাচ্চা মেয়েটার সাথে
– তুমি শান্ত হও তো মারিয়া, পরিস্থিতি বলে দেবে কখন কি করতে হবে। এবার চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করো।

হয়দার মিয়া বাড়ি ফিরলেন মধ্য রাতের দিকে, বিধ্বস্ত মন,ক্লান্ত শরীর নিয়ে। সোনিয়া বেগম তখনো বসে ছিলেন দুয়ারে। অপেক্ষা করছিলেন হায়দার মিয়ার ফেরার।
হায়দার মিয়াকে আসতে দেখে মুখে হাসি ফুটে উঠলো, হায়দার মিয়া সোনিয়া বেগমকে পাশ কাটিয়ে ঘরে ডুকে পরলো। সোনিয়া বেগম কিছু বলতে যেয়েও বললেন না। হায়দার মিয়া সেভাবেই শুয়ে পরলেন হারিসের পাশে। সোনিয়া বেগম হায়দার মিয়ার পাশে যেয়ে বললেন, সারাদিনে তো দানাপানি কিছুই মুখে তুলো নাই, কইছিলাম কি রাগ ছাইড়া চারটা খাইয়া লও।
সোনিয়া বেগমের কথার কোন প্রতিত্তোর এলো না।

মেঘ বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে পাশে ফিরে বললো,সমস্যা কি আপনার?
– আরে জনাব সমস্যা হতে যাবে কেনো! ভালোলাগা বলুন।
– দেখুন এসব বেহায়াপনা অন্য কোথাও করবেন। এখন নামুন রিক্সা থেকে।
– আরে রাগ করছেন কেনো! আমার নাম হিয়া। আর শুনেন ওই যে একটা গান আছে না চুমকি চলেছে একা পথে.. সেটা ঘুরিয়ে বললে কি হবে বলুন, সাহেব চলেছে একা পথে সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে!
– এই মামা রিক্সা থামান আমি নামবো।
– আরে এই বৃষ্টির মধ্যে নেমে পরবেন? শুনেন আমি সামনের মোড়েই নেমে যাবো। আপনি তো ওদিকেই যাচ্ছেন।
– আমি যেদিকেই যাই আপনার মতো থার্ড ক্লাস মেয়েরেস সাথে এক সাথে যাবো না।
– সম্মান দিচ্ছি তাই গায়ে মাখছেন না। মানুষ জড়ো করে গনো ধোলাই খাওয়ালে বুঝবেন এই হিয়া কি জিনিস।
– মেঘ কথা না বাড়িয়ে পকেট থেকে হাজার টাকার নোট বের করে রিক্সা চলকের হাতে গুঁছে দিলো।
– আমার কাছে তো ভাঙতি নাই বাজান।
– ভাঙতি লাগবে না পুরোটাই রেখেদিন।
মেঘঝুম বৃষ্টির মধ্যে হাঁটা ধরবে তখন হিয়া বললো বাপের টাকা থাকলে এরকম ফুটানি সবাই করতে পারে! পারলে নিজের টাকায় ফুটানি করবেন।
আর হ্যঁ একো রাতে রিক্সা পাচ্ছিলাম না তাই আপনার মতো মানুষের সাহায্য নিতে হলো। নইলে এই হিয়া আপনার দিকে ফিরেও তাকাতো না।

মেঘ মনে মনে ভাবছে কি গায়ে পরা মেয়েরে বাবা। লজ্জা সরম বলতে কিছু নেই। বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় ফিরলো মেঘ।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে আরহা ঘরে আলো জ্বলছে । আকশে তারা খুঁজতে ব্যস্ত আরহা। যদিও আজ রাতে তারার দেখা মিলবে না। বার কয়েক হাত দিয়ে বৃষ্টির পানি ছুয়ে দিলো। বৃষ্টির পানি স্পর্শ করতেই মনে পরে গেলও তারা মায়ের কথা। এমনি বৃষ্টির দিনে ভিজছিলো আরহা, তখন তার “মা” তাকে কত রাগারাগি করছিলো আজ মা নেই শাসন করার কেউ নেই। ডান হাতের উল্টো দিক দিয়ে চোখের পানি মুছে নিলো।হঠাৎ আরহার চোখ গেলো নিচের দিকে হালকা আলোতে একটা পুরুষ অবায়ব দেখতে পেলো। আরহা ভাবলো হয়তো চোর এসেছে। রুম থেকে বের হয়ে চোর চোর বলে চেচাচ্ছে। ততখনে মেঘ বাসায় প্রবেশ করেছে ড্রিম লাইটের হলদে আলো সব কিছু স্পষ্ট দেখা না গেলেও আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে। মেঘের কানে আরহার কন্ঠ পৌঁছালো। মেঘ ভাবলো সত্যি হয়তো চোর এসেছে। দৌড়ে উপরে এসে বলে কোথায় চোর?আরহা মেঘকে স্পষ্ট দেখতে পেলো না তাই আরো জোড়ে জোড়ে বলতে লাগলো চোর চোর। মেঘ রেগে পিছন থেকে আরহার মুখ চেপে ধরে বলে এই পিচ্চি একদম চুপ বলো চোর কোথায়! আরহা ভাবলো চোর তাকে মেরে ফেলবে তাই তার মুখ আটকে রেখেছে। সর্বশক্তি দিয়ে কামড় বসিয়ে দিলো মেঘের হাতে। হঠাৎ আক্রমণে মেঘ আউচ শব্দ করলো। মেঘের হাত কিছুটা আলগা হতেই আরহা ছুটে নিচে চলে এসে টেবিলের নিচে লুকিয়ে পরল।

মেঘ বুঝতেই পারলোনা কি থেকে কি হয়ে গেলো।

ততক্ষণে নীলু আর নীলুর মা বাহিরে এসেছে। নীলুর মা লাইট অন করতেই উপরে মেঘকে দেখতে পায়। মুখে বিরক্তির ছাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নীলুর মা জিজ্ঞেস করলো কি হইছে বাবা?
– কিছু না বাড়িতে জঙ্গলি বিল্লিড় আবাদ হয়েছে। বলেই হন হন করে চলে গেলো নিজের রুমে।হাতে প্রচন্ড ব্যথা করছে। মনে মনে বলছে এই মেয়ে মানুষ তো নাকি কোন জঙ্গলী জা*নো*য়ার উফ কি দাঁত রক্ত বের করে ফেলেছে। ফাস্টএইড বক্স থেকে এন্টি সেফটিক নিয়ে হাতে লাগিয়ে নিলো। মেঘের মনে হচ্ছে কোন মানুষ নয় বিষাক্ত কোন পষু তাকে কামড়ে দিয়েছে। কাভার্ড থেকে টি শার্ট আর থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট নিয়ে ফ্রেশ হতে গেলো ওয়াশরুমে।

আলো দেখে আস্তে আস্তে মাথা বের করে চারদিকে নজর বুলিয়ে নিচ্ছে আরহা। চোর কোথায় গেলো সেটাই দেখার চেষ্টা করছে। নীলু টেবিলের নিচে আরহাকে দেখে হাসতে হাসতে বললো, কি গো সই তুমি টেবিলের নিচে কি করো?
– চোর কি চলে গেছে?
– চোর আসলো কোথা থেকে। তুমি বেরিয়ে আসো।
– আরহা বেরিয়ে আসলো। আবার বললো, বলোনা চোর কি চলে গেছে!
– আরে বোকা মেয়ে চোর আসবে কোথা থেকে।
– একটু আগেই চোর ছিলো ওই সিঁড়ির উপরে আমাকে পেছন থেকে এভাবে মুখ চেপে ধরেছিলো। ভাগ্যিস আমি কামড়ে পালিয়েছি নয়তো নির্ঘাত মা*রা পরতাম।
– আরহার কত শুনে নীলু হেসে কুটি কুটি হচ্ছে। নীলুর যা বোঝার বুঝে গেছে।

নীলুকে হাসতে দেখে আরহা বোকার মতো তাকিয়ে থেকে বলে, তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না চোর এসেছিলো!
– আরে বোকা মেয়ে ওটা চোর না, ওটা তো তোর… আর বলতে পারলোনা নীলুর মা এসে নীলুকে এক ধমক দিলেন। নীলু মূহুর্তেই চুপসে গেলো।

নীলুর মা খাবার ট্রে হাতে নিয়ে আরহাকে বললো, বউ মা চলে এসো আমার সাথে। এই বাসায় সিকিউরিটি আছে কোন চোর আসতে পারবে না। আসো আমার সাথে
– আসছি তবে আমি এখন কিছু খেতে পারবো না।রাতে কয়বার খায় মানুষ!
– তুমি আসোতো এ খাবার তোমার জন্য নয়। ছোটো সাহেবের জন্য।
আরহা যাওয়ায় আগে একবার নীলুর দিকে তাকালো,তখন নীলু কি বলতে চাইল!
আর ছোট সাহেবটাই বা কে?
নীলুর মা আরহাকে রুমে পৌঁছে দিয়ে বললো, তুমি শুয়ে পরো আমি ছোট সাহেবকে খাবার দিয়ে আসছি।

আরহা ভদ্র মেয়ের মতো শুয়ে পরলো।

মেঘ ড্রেস চেঞ্জ করার সময় তার পকেটে একটা চুড়ি পেলো ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে মাথা মুছতে মুছতে গভীর চিন্তা মগ্ন হলো চুড়িটা নিয়ে। এটা কার হতে পারে?

#চলবে

#তুমি আসবে বলে

#নুসাইবা ইভানা

পর্ব -৭

আরহা শুয়ে শুয়ে ভাবছে কে এই ছোট সাহেব? তাকে যে আমি চোর সম্মোধন করলাম, এটা যেনে আন্টি যদি আমার প্রতি রেগে যান! আবার হাতে কামড়ও দিয়েছে, সকালে উঠে ক্ষমা চাইতে হবে। শুয়ে থেকে এপাশ ওপাশ করছে ঘুম আসছে না। উঠে বসলো এদিক সেদিক তাকিয়ে কিছু খুঁজত লাগলো না কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি পাওয়া গেলো না। হতাশ হয়ে আবার বিছানায় শুয়ে পরলো, তার মা বলেছিল, রাতে ঘুম না আসলে চোখ বন্ধ করে আল্লাহ তায়ালার নাম স্বরণ করতে। তাই করছে আরহা।

নীলুর মা মেঘের দরজায় কড়া নেড়ে বললেন আসবো বাবা,
– হাতে থাকা চুড়িটা ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখতে রাখতে বলে আসুন।
– তোমার খাবার রেখে গেলাম খেয়ে নিও, আর কিছু লাগলে আমাকে বলো।আমি বউ মায়ের রুমে আছি।
– এই কথাটা ঠিক পছন্দ হলো না মেঘের ওই টুকু বাচ্চা মেয়েকে বউমা বলে সম্মোধন না এটা মানা যায় না।
– আপনি ওকে নাম ধরেই ডাকবেন একটা বাচ্চা মেয়ের সাথে বউমা ডাকটা ঠিক যায় না।
– নীলুর মা অসম্মতি জানিয়ে বললেন, তা কি কথা বাবা। বয়স যাইহোক সে তো এখন এই বাড়ির বউ তাকে তো সম্মান দিতেই হবে।
– সম্মান দিবেন সেটা তো মানা করছি না শুধু বাউমা ডাকবেন না।
নীলুর মা আর কথা বাড়ালেন না। চলে আসলেন আরহার রুমে। আরহা ততক্ষণে ঘুমের দেশে পাড়ি জমিয়েছে। নীলুর মা নিচে বিছানা পেতে শুয়ে পরলেন।

মেঘ খাবার খেয়ে নিলো, তার পছন্দের চিংড়ী মাছের মালাই কারি, পটলের দোলমা,সাজনার ডাল,কসা মাংস আর সবছি, তৃপ্তি করে খেলো মেঘ। খাবার রেখে একটু বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করছে রাতে খাওয়ার পর সাথে সাথে শুয়ে পরা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। তাই খানিকক্ষণ পায়চারি করছে। হাতের ব্যথাটা কমার বদলে বেড়েছে। হাতের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে, মানুষ বিয়ের পর লাভ বাইট পায়। আর আমি রাক্ষসী বাইট পেয়েছি সবই কপাল। এমন সময় মেঘের ফোনটা সশব্দে বেজে উঠলো ভ্রুকুঞ্চিত করে হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর থেকে ফোনটা হাতে নিলো।
সামিরা নামটা জ্বলজ্বল করছে এই মূহুর্তে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। বাজতে বাজতে থেমে গেলো স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লো। তবে আবার বেজে উঠলো ফোনটা এবার রিসিভ করে বলে, কোন সমস্যা সামি!
– এভাবে বলছিস কেনো তোকে কি কল করা যাবে না এতো ব্যস্ত তুই!
– হেয়ালি না করে কি বলবি বল।
– সামিরার মনটা খারাপ হয়ে গেলো পাহাড় সমান অভিমান জমা হলো। হতাশ স্বরে বললো কাল আমার বার্থডে ছিলো তুই ভুলে গেছিস!
– মনে রাখার৷ কথা ছিলো?
– না তা কেনো হবে আমি কি ইম্পরট্যান্ট কেউ যে মনে রাখবি!
– হ্যাপি বার্থডে সামি।
– থাক আর সৌজন্যতা বজায় রাখতে হবে না। এতোটাও পর করে দিস না।
– না আমার মনে ছিলো না তাই এখন বলছি।আসলে ব্যস্ত ছিলাম সারাদিন।

– কি এমন ব্যস্ত ছিলি মেঘ?
– আম্মু হসপিটাল এডমিট
– কি হয়েছে আন্টির? এখন কি অবস্থা?
– এখস সুস্থ আছে। আচ্ছা রাখছি পরে কথা হবে।
সামিরাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে এপাশ থেকে কলটা কেটে দিলো।ফোন টেবিলে রেখে চিন্তা করছে এই কামড়ের শাস্তি দেয়ার জন্য তাকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। ড্রয়ার থেকে ডায়েরি বের করলো তারিখ সহ আজকের ঘটনাটা লিখে রাখলো।
কি হাস্যকর বিষয় বাচ্চাদের মতো, আরহাকে শাস্তি দেওয়ার কথা যাতে ভুলে না যায়! তাই লিখে রাখা।

ডায়েরি জায়গা মতো রেখে ঘুমিয়ে পরলো।

সেই যে মেঘ ফোন কেটেছে তারপর থেকে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। এতোটা অবহেলা ঠিক মতো দুটো কথা পর্যন্ত বললো না। ঠিক আছে মানছি ও রিলেশন করবেনা তাই বলে সামিরা খানকে ইগনোর করবে! নিজেকেই নিজে বলছে, তুমি ভেবেছো সামিরা খুব সস্তা না চাইতেই পেয়ে গেছো। তুমি ভুলে যাচ্ছো “মেঘ” সামিরার পিছে এরকম হাজার ছেলে পরে আছে। ভালোবাসি তাই এতো অবহেলা সহ্য করছি। নিজের চোখের পানি মুছে নিয়ে বলে,তবে মনে রেখো মেঘ তুমি সামিরার না হলে অন্য কারো হতে পারবেনা।
হতে দেবো না। কিছুতেই না।

আরহার ঘুম ভাঙলো বেলা করে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ঘড়ির কাটা এগারোটা পেরিছে। দ্রুত বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমে গেলো ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে আসলো। নিচে শুধু নীলু বসে আছে আর কেউ নেই। আরহা নীলুর পাশে বসে পরলো।
নীলু আরহাকে দেখেই বলে,”তুমি উঠে গেছো!
– আরহাও হেসে বলে না আমার ভূত উঠে তোমার পাশে বসেছে।
– তা পেত্নী আপনার খুদা লাগেনি? তাড়াতাড়ি টেবিলে বসে পরো আমি খাবার দিচ্ছি। খেয়ে নাও দেখি ঝটপট বড় সাহেবেরা আসার সময় হয়ে এসেছে।
– আরহা খেয়ে নিলো।তারপর নীলুর থেকে খাতা আর প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিয়ে রুমে চলে আসলো।

গুন গুন করে গান গাইছ আরহা……

একজনে ছবি আঁকে এক মনে, ও মন!!

আরেকজনে বসে বসে রঙ মাখে, ও মন!!

সেই ছবিখান নষ্ট করে, কোন জনা, কোন জনা,

তোমার ঘরে বসত করে, কয় জনা মন জানোনা,

তোমার বসত করে কয় জনা!!

গানের তালে তালে হাতের ডিজাইনে ফুটে উঠছে একটা সরি কার্ড
মনের মাধুর্য মিশিয়ে কার্ড তৈরী করলো আরহা। তারপর অপরিপক্ক হাতে কিছু লিখে দিলো। কার্ডটি সম্পূর্ণ রেডি হলে বা’ হাতে চোখের জল টুকু মুছে নিলো। না হলে যে কোন সময় টুপ করে ঝরে পরবে। এই গান তার মায়ের থেকে শেখা।
কার্ডটি হাতে নিয়ে নিজের রুম থেকে বের হলো, আশেপাশের তাকিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে আসলো ছোট সাহেবের রুমে। আলত হাতে দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলো। আবছা আলো জানালার পর্দা ভেদ করে যতটুকু আলো আসছে আরকি। পুরো রুমে চোখ বুলালো না রুমে কেউ নেই। পা টিপে টিপে বেডের পাশে আসলো, সাইড টেবেলি কার্ডটি রেখে বেরিয়ে গেলো।
আরহাকে কেউ না দেখলেও নীলু দেখেছে। সেই যে আরহা উপরে এসেছে তখন নীলু চুপিচুপি এসেছে, আরহা কি করে তাই দেখতে। তবে আরহার গান শুনে নীলু মুগ্ধ। আরহার কর্মকাণ্ড দেখে নীলু মুখ টিপে হাসলো।আরহা দেখার আগেই সরে আসলো।

হসপিটাল থেকে মিসেস মারিয়াকে নিয়ে বাড়ি ফিরছে মেঘ,আর মোর্শেদ আফরোজ। এমন সময় মেঘের ফোনে ইমতিহানের কল আসলো। ইমতিহান নামটি দেখেই দ্রুত কল রিসিভ করলো।
ইমতিহান বললো,কিরে আন্টির কি অবস্থা এখন?
– ভালো, আজকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছি।
– তাহলে তো তুই আমার কাজটা করে দিতেই পারিস!
– কেমন কাজ সেটা তো বল
– শোন আমার গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে ঠিক করছে ওর বাবা, মা, তুই বিয়েটা আটকে দিবি।
– তোর গার্লফ্রেন্ড? সেটা আবার কবে আবিষ্কার হলো।
– মজা নিস না এখন প্যারায় আছি। আমি ঠিকানা দিচ্ছি তুই এখনি যা।
– দেখ আবার কিছুক্ষণ পর বলিস না আমার গার্লফ্রেন্ডের হ্যাসবেন্ড হয়ে যা। হাসতে হাসতে বলে ফেললো আমি কিন্তু আলরেডি ম্যরিড।
– কিহহহহহ, কবে, কখন, কাকে বিয়ে করলি?
– মেঘ বুঝতে পারলো কি বলতে কি বলে ফেলেছে। তাই কথা ঘুরানোর জন্য বলল,আমি বোঝাতে চাইলাম পৃথিবীতে এতো মেয়ে থাকতে তোর গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করতে যাবো কোন সুখে।
– তোকে বিয়ে করতে কে বললো ভাই! তুই যা আর যে ভাবেই হোক বিয়েটা ভেঙে দিবি, তাহলেই বুঝবো তুই আসলেই জিনিয়াস।
– আর কিছু বলতে হবে না তুই শুধু দেখতে থাক মেঘের কামাল।
কল কেটে বাবা, মাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মেঘ রওনা হলো ইমতিহানের দেয়া ঠিকানায়।

হিয়া সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছে। ইমতিহানের ফ্রেন্ডের জন্য এখনো আসার নাম নেই। হিয়া নিজের ফোন থেকে ইমতিহানকে কল করলো,সাথে সাথে রিসিভ, ইমতিহানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে হিয়া বলা শুরু করলো,ওই তুই কি আমার সাথে ধোঁকা বাজি করছিস একঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি কই তোর বন্ধু! তুই সত্যি আমাকে ভালোবাসিস তো? নাকি এই দু’বছর ধরে টাইম পাস করছিস। কথা বলছিস না কেনো কথা বল
-তুমি এভাবে বলতে পারলে জান! আমার ফ্রেন্ড যাচ্ছে তোমার কাছে সত্যি বলছি।জান, ওই জান শুনো।
– এতো ন্যকামি না করে বলে ফেলো।
– আমার ফ্রেন্ডের সাথে প্লিজ একটু ঠান্ডা মাথায় কথা বলো। তোমার যা রাগ দেখানোর আমাকে দেখাইয়ো।
– হইছে তোমার আর বলতে হবে না আমি চেষ্টা করবো। এবার বলো আর কত ওয়েট করবো!
– আর অল্প কিছু সময় জান। চলে আসবে।

মেঘ গাড়ি পার্কিং করে পার্কে ডুকলো এদিক সেদিক তাকাচ্ছে না ব্লু রঙের ড্রেসে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। নিজের ফোন বের করে ইমতিহানের দেয়া নম্বর ডায়েল করলো।

ওপাশ থেকে রিসিভ করেই বলা শুরু করলো,কোন ছা*গ*ল, পা*গ*ল তুই দেখছিস ফোন ওয়েটিং তাও কল করেই যাচ্ছিস।
নিজেকে শান্ত রেখে মেঘ বললো,ম্যডাম আমি ইমতিহানের ফ্রেন্ড কাইন্ডলী যদি আপনার অবস্থান সম্পর্কে বলতেন, তবে এই অধমের জন্য উপকার হতো!
– সরি সরি আমি বুঝতে পারিনি। আমি পার্কের ডানদিকে কৃষ্ণচুড়া গাছের নিচে আছি। হোয়াইট ড্রেস পরা।

মেঘের রাগ হলো, বললো ব্লু ড্রেস এখন বলে হোয়াইট!
রাগে দু’ভ্রুর মাঝে ভাজ পরলো। বিরক্তি নিয়ে পা’বাড়ালো সামনের দিকে…..

#চলবে

#তুমি আসবে বলে

# নুসাইবা ইভানা

পর্ব-৮

ইমতিহান টেনশনে পায়চারি করছে। দুই রাগী মানুষ এক সাথে হলে কে যানে কি হয়? সামিরা ইমতিহানকে দেখে হেসে বলে বিসিএস পরীক্ষার সময়ও মনে হয়না কেউ এতো পেরেশানিতে থাকে। রিলাক্স। মেঘ সামলে নেবে।
– তুই হিয়াকে জানিস না প্রচন্ড বদ মেজাজী মেয়ে। আর মেঘের রাগ সম্পর্কে তো ভালোই ধারণা আছে।
– হিয়াকে তো জানিনা তবে মেঘ যা মানুষ। মনে আছে গতবার ওর বার্থডেতে ইরা ওকে কিস করেছিল বলে কি কান্ডটাই না করলো।
– এরজন্যই টেনশন হচ্ছে।
– তুই বরং হিয়াকে টেক্সট করে বলে দে, দেখো এখানে আমার সম্মান জড়িত তুমি কিন্তু আমার ফ্রেন্ডের সাথে ভালো ব্যবহার করবে।
সামিরার কথামতো টেক্সট করে দিলো ইমতিহান।

টেক্সটা পড়ে মুচকি হেসে হিয়া বললো, তুমি কি আমাকে এতোটাই বোকা ভাবো! তোমার সাথে যা ইচ্ছে ব্যবহার করি তারমানে সবার সাথে তাই করবো।

মেঘ কৃষ্ণচুড়া গাছের নিচে এসে দেখতে পেলো সাদা ড্রেস পরা একটি মেয়ে বসে আছে। যদিও চেহারা দেখা যাচ্ছে না। মেঘ পেছন থেকে ডেকে বললো “এই যে মিস”

হিয়া ঘুরে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে আপনি?
– মেঘও বলে আপনি?
মেঘ ফোন বের করে নাম্বার ডায়াল করার আগে মনে মনে বলছে, আল্লাহ এই মেয়ে যেনো না হয়! তারপর ডায়াল করলো।
সশব্দে হিয়ার ফোন বেজে উঠলো, হিয়া ফোন কেটে দিয়ে বলে তার মানে আপনি ইমতিহানের বন্ধু?পুরো দুনিয়াতে মানুষের অভাব পরেছিলো ইমতিহানের জন্য! আপনাকেই বন্ধু হতে হলো।

মেঘ একটু সাইডে এসে ইমতিহানকে কল করে বললো, আর কোন মেয়ে পেলি না শেষ পর্যন্ত এই থার্ড ক্লাস মেয়ের সাথেই প্রেম করতে হলো! আমি কোন হেল্প করতে পারবো না। আমি চলে যাচ্ছি।
– প্লিজ বন্ধু আমার ওই মেয়ের কথা বাদ দে তুই আমার জন্য সাহায্য কর!
– না করবো না বিয়ে হয়ে যাক এই মেয়ের তারপর তোকে আমি এর চেয়ে ভালো, ভদ্র,সুন্দরী মেয়ে দেখে বিয়ে করিয়ে দেবো।
– দেখ আমি কিন্তু হিয়াকে নিয়ে সিরিয়াস ওর কিছু হলো নিজেকে শেষ করে দিতে দু’বার ভাববোনা এবার তোর যা ইচ্ছে কর!
– মেঘ দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, শুনুন ব্যক্তিগত শত্রুতা সাইডে রেখে এখন যে কাজ করতে এসেছি তার সমাধান বের করতে হবে।
– শুনুন এখন আপনি আর আমি কাজী অফিসে যাবো।
– মেঘ সরে যেয়ে বলে আমি বিবাহিত। আমার বউকে অনেক ভালোবাসি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবো না।
আমার বউ অনেক সুন্দরী, অনেক সুইট,অনেক কিউট,রুপবতী রাজকন্যা তাকে রেখে আপনার মতো পেত্নীকে বিয়ে অসম্ভব।

হিয়া বোকার মতো মেঘের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে, আরে কাজী অফিসে যাওয়ার সাথে আপনার বিবাহিত হওয়ার সাথে কি সম্পর্ক! দেখুন বলেছেন সাহায্য করবেন এবার চলুন।

মিসেস মারিয়া আধ শোয়া অবস্থায় থেকে আরহাকে নিজের পাশে বসিয়ে দিয়ে বলে, আরহা কাল তোকে স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হবে। পড়া লেখা করতে ভালো লাগে তো?
– আরহা খুশি হয়ে বলল সত্যি আমি আবার পড়া লেখা করবো!
– হুম পড়া লেখা করে অনেক বড় হও। মনে মনে বললেন আমার ছেলে যেনে তখন তোমাকে দেখে আপসোস করে।

নীলুর মা এসে মিসেস মারিয়াকে ঔষধ খাইয়ে দিলেন। মিসেস মারিয়া বললো, শোন নীলুর মা, তোমার আর নীলুর সাথে আমার কথা আছো তুমি নীলুকে নিয়ে আসো তো। নীলুর মা চলে আসলো।

মিসেস মারিয়া আরহাকে বললো, যাও ফ্রেশ হও আরহা বিকেলে তোমার আঙ্কেলের সাথে বাহিরে যাবে কিছু কেনাকাটা করতে। আরহা চলে আসলে আসার সময়ে একবার উঁকি দিলো ছোট সাহেবের রুমের দিকে, এই ছোট সাহেব কই থাকে, একবারো দেখলাম না। মনে মনে বলছে আর বেখেয়ালে হাঁটছে হুট করেই শক্ত কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে যেই চিৎকার করবে, তখন মনে হলো কেউ তার মুখ আটকে দিয়েছে, ভয়ে চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছে আরহা। কারো গম্ভীর কণ্ঠ কর্ণগোচর হতেই চোখ মেলে তাকালো আরহা।

এমনিতেই মেঘ রেগে ছিলে তারউপর আরহা এসে তার সাথে ধাক্কা খাওয়াতে আরো রেগে গেলো। গম্ভীর কণ্ঠে বললো, চোখ কি কপালে রেখে হাঁটো! চোখে দেখতে পাওনা নাকি!

আরহা বোকাবোকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেঘের দিকে, ফর্সা শরীর কালো টি শার্ট, দারুণ মানিয়েছে মেঘকে। আরহাকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেঘ ধমকের সুরে বলে, কি হচ্ছেটা কি এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? আরহাকে ধরে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলে, এই মেয়ে শুনে রাখো আমার সামনে ভুলেও আসবে না। আমার থেকে দূরে দূরে থাকবে।

কথটা বলে সামনে পা বাড়াতেই মেঘের মনে হলো কেউ তার হাত ধরে আছে, পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে আরহা হাত ধরেছে,
– তোমার সাহস তো কম না তুমি আমার হাত ধরেছো কোন সাহসে!
– আরহা কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো,আপনি ছোট সাহেব তাইতো! আমাতে ক্ষমা করে দিন সত্যি বলছি আপনার সামনে আসবো না।
– রাগে চোয়াল শক্ত করে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে, যাও এখান থেকে আর একটাও কথা বললে, আর কিছু বলার আগেই আরহা হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে ক্ষমা করে দিলে কি হবে। ক্ষমা করে দিন। আমাকে এখান থেকে তাড়িয়ে দিলে কোথায় থাকবো! ঠিকমতো কথা বের হচ্ছে না আরহার হেঁচকির কারণে। তবুও থেমে থেমে বললো এখনো বরটাও একবার দেখিনি।
– মেঘ নিজেকে সামলে নিয়ে বলে এই মেয়ে কান্না থামাও, একটু ধমক দিয়ে বললো, আর চুপচাপ নিজের রুমে যাও সময় হলে ক্ষমা করে দেবো। এখন চোখের সামনে থেকে বিদায় হও।বাচ্চা একটা মেয়ে বলে কিনা এখনো বরকে দেখিনি।

নীলু আর নীলুর মা শেষের দিকের কিছু কথা শুনতে পেলেন।

আরহা চোখের পানি মুছতে মুছতে নিজের রুমে চলে আসলো।

মেঘ রুমে এসে নিজের শার্ট খুলে বেডে ছুড়ে মেরে বসে পরলো, মেজাজ তার প্রচন্ড লেভেলের খারাপ। একেই তো হিয়ার যতসব আজগুবি আইডিয়া, তার উপর বাসায় এসেই আরহার সাথে সাক্ষাৎ। নিজের সেল ফোন বের করে ইমতিহানের নাম্বার ডায়াল করলো,
ইমতিহান সাথে সাথে রিসিভ করলো,
মেঘ বললো তুই এই পাগলের সাথে কোন রকম রিলেশন রাখবি না।
– দেখ এভাবে বলিস না ও একটু রাগী তবে আমাকে সত্যি ভালোবাসে।
– ভালোবাসা! ওই তুই কি স্বপ্নে বাস করিস! ও তোকে ভালোবাসলে আমাকে এসব বললো কেনো?
– আরে কি বলেছে সেটা তো বলবি না বললে বুঝবো কি করে।

– আমাকে বলে কাজী অফিসে চলুন, আমি কত কিছু বললাম আমি বিবাহিত আমার বউ আছে। তাও একি কথা বলে তাই চলে আসছি।
– সত্যি তোকে এ কথা বলেছে হিয়া!
– সত্যি মানে সত্যির বাবা। এই মেয়েকে তুই ভুলে যা। যে অন্য একটা ছেল কে এক/ দুবার দেখেই কাজী অফিসে নিয়ে যেতে চায়। তার ক্যরেক্টার আর কত ভালো হবে বল!
ইমতিহান ছেলেটা বড্ড ইমোশনাল, কান্না ভেজা কন্ঠে বলে, আমি ওকে সত্যি ভালোবাসি! কি ভাবে ভুলে যাবো বল! ওকে ছাড়া তো চিন্তাও করতে পারিনা। দেখ মেঘ আমার মনে হচ্ছে তোর কোথাও ভুল হচ্ছে হয়তো হিয়া তোকে অন্য কিছু বলতে চেয়েছে তুই অন্য কিছু শুনেছিস।
– মেঘ ধমক দিয়ে বলে,এরকম মেয়েদের মতো কাঁদবি না। ওই মেয়ে ছেড়ে গেলে কি? দুনিয়াতে আর মেয়ে থাকবে না। শোন এভাবে ফেছ ফেছ করে না কেঁদে রাগী ভাবে ওই হিয়া না টিয়ার সাথে কথা বল।
এরকম ভাবে কথা বললে কোন মেয়েই থাকবে না। ফোন কাট আর ওই টিয়াকে ফোন করে ঝাড়ি মা*র

হিয়া বাসায় ফিরে রাগে গজগজ করছে কি ছেলেরে বাবা, আমার পুরো কথা না শুনেই ভুলভাল বকে চলে গেলো আমাকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না। এটা হতে পারে না হিয়া কারো কাছে হেরে যাবে কিছুতেই না। নিজের রাগ কমাতে বক্সে নাগিন গান ছেড়ে উড়াধুড়া নাচছে।
হিয়ার মা বলছে আজকে আবার কার সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে এসে বাসায় তান্ডব করছিস, বলি শশুর বাড়ি গেলে ঝাটার বাড়ি একটাও নিচে পরবে না।
হিয়া গান বন্ধ করে দিয়ে তার আম্মুকে এসে বলে, বিয়ে করবো তবেই না শশুড় বাড়ি!
– বাজে কথা বন্ধ করো আগামীকাল তোমার কাবিন।
হিয়া জোড়ে চিৎকার করে বলে, কিহহহহহহহ

#চলবে