#তু্ই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব_৪
[লেখিকার অনুমতি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ, প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত ]
আর সেই থেকে বসে বসে কান্না করছে নুহা। এভাবে কান্না করতে করতে কখন যে ওর চোখ লেগে গেছে। ঊষান আস্তে করে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলো,, সামনের বিড়াল ছানার মতো কাউকে পড়ে থাকতে দেখে কপাল কুঁচকে এলো। সামনে এগিয়ে গিয়ে নুহা কে তুলে নিয়ে বিছানায় শোয়ালো। ওর মুখের উপর লেপ্টে থাকা অবাধ্য চুলগুলো কানে গুজে দিতে দিতে বিড়বিড় করে আওড়ালো,,,,,,,,,
কেন এতো জ্বালাস পিচ্চি পাখি!!!
নুহা কি বুজলো কে জানে, ঘুমের গোড়েই ঊষান এর একটা হাত আগলে নিলো। ঊষান হাত টা যখনি ছাড়াতে যাবে ঠিক সেই সময় কানে এলো নুহার কিছু কথা, বিড়বিড় করে ঊষান কে নিয়ে অভিযোগ করতে ব্যাস্ত,,,,,,
ভালোবাসি ঊষান ভাই আপনাকে খুব বেশি ভালোবাসি। আমাকে এভাবে কষ্ট দিলে আপনার নামে আমি সবাইকে বলে দেবো যে আপনি আমার মতো ছোট্ট একটা মেয়েকে একলা পেয়ে নির্যাতন করেন। এমন করলে আমিও আপনাকে এমন করবো তখন বুজবেন মজা হু খালি খালি নুহাকে কষ্ট দেওয়া ।
নুহার এমন বাচ্চামো কথা শুনে ঊষান এর বেশ হাসি পেলো। ও আর দেড়ি না করে নুহার কপালে ওর কালো পোড়া ঠোঁট দুটো চেপে ধরলো, ফলে নুহা আবার কেঁপে উঠলো।নুহার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে রইল ঊষান। মেয়েটার চোখের কোণে শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুর দাগগুলো যেন বুকের ভেতর কোথাও গিয়ে বিঁধল।আজ যদি নুহা জেগে থাকতো তাহলে ওর কাছে সব কষ্ট তুচ্ছ মনে হতো।
ঊষান আবার ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে ওর গাল থেকে একগুচ্ছ চুল সরিয়ে দিল সে।
“এতটা ভালোবাসিস কেন আমাকে, পিচ্চি পাখি?” খুব আস্তে করে বলল ঊষান, “যাকে ভালোবাসছিস, সে তোর জীবনে শুধু কষ্টই এনে দিয়েছে।”
ঘুমের মধ্যেই নুহা একটু নড়ে উঠল। অচেতন অবস্থাতেই ঊষানের হাতটা আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। ঠোঁট নড়ল সামান্য।
“যেও না ঊষান ভাই আমি তোমাকে হারাতে পারবো না। ”
এই মাত্র কয়েক টি শব্দ,,,,,,,ঊষানের বুকটা কেঁপে উঠল। অনেক কষ্টে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়াল। একবার ফিরে তাকাল নুহার দিকে। নিষ্পাপ মুখটা দেখে মুহূর্তের জন্য মনে হলো—সব প্রতিশোধ ভুলে যাক। সবকিছু শেষ করে শুধু এই মেয়েটাকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাক।
কিন্তু পরক্ষণেই মায়ের রক্তাক্ত স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠল।ঊষান চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিল।
“না দুর্বল হলে চলবে না।”
নিজেকেই যেন বোঝাল সে।
ঘরের দরজা বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসতেই ওর সব বন্ধুরা অপেক্ষা করছিল।
“ভাই, সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে।”
ঊষান স্বাভাবিক গলায় বলল, “বাড়ির চারপাশে নজর রাখিস নুহার যেন কোনো অসুবিধা না হয়।”
রাফিন(ঊষান এর বেস্ট ফ্রেন্ড )অবাক হয়ে বলল, “তু্ই তো বলেছিলি ওকে শুধু নজরে রাখতে তাই না?”
শেষের কথা গুলো একটু ডং করে বললো, ওরা সবাই জানে ঊষান যতই কঠিন হোক না কেন ও নুহাকে ভালোবাসে তা না হলে নুহার সুইসাইড এর কথা শুনে অমন করতো না।
ঊষান কথার মাঝেই থামিয়ে দিল।
“আমি যা বলছি, তাই কর। সময়মতো খাবার দিস । ওষুধ লাগলে এনে দেবে। আর,,,,”
কয়েক সেকেন্ড থেমে নিচু স্বরে বলল,
“ও যেন কাঁদতে না পারে।”
রাফিন বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল। এতদিনের পরিচয়ে সে জানে, ঊষান কাউকে নিয়ে এতটা ভাবেনি কখনও, নুহাকে নিয়ে এতো ভাবার পরও বলবে ওকে আমি ভালোবাসি না।
“ঠিক আছে, ভাই তু্ই যা আর তাড়াতাড়ি ফিরিস আমাদের ও বাড়িতে ফিরতে হবে।।”
ঊষান আর কিছু না বলে রাতের অন্ধকারে হাঁটতে শুরু করল।
এদিকে ঊষান যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর নুহার ঘুম ভাঙল। চোখ খুলতেই অপরিচিত ঘরটা আবার মনে করিয়ে দিল নিজের বাস্তবতা। ধীরে ধীরে উঠে বসতেই দেখল, পাশে একটা ট্রেতে খাবার রাখা। তার সঙ্গে একটা গ্লাস পানি।ট্রের নিচে ছোট্ট একটা কাগজ। নুহা কাগজটা তুলে পড়ল।
‘খেয়ে নিস । না খেলে অসুস্থ হয়ে পড়বি ।
ইতি তোর অপছন্দের একজন জেদি মানুষ’
লেখাটা পড়ে নুহার ঠোঁটে অজান্তেই ক্ষীণ হাসি ফুটল। সে বুঝতে পারল, এই লেখাটা কার।
“আপনি মুখে যতই কঠিন কথা বলুন না কেন, আমার খেয়াল ঠিকই রাখেন, ঊষান ভাই আর আমি শিওর আপনি আমাকে আমার থেকেও বেশি ভালোবাসেন তবে সেটা আপনার ইগো আর প্রতিশোধ বলতে দিচ্ছে না।”
মেয়েটা কাগজটা বুকের কাছে চেপে ধরল। চোখে আবারও জল এসে গেল, তবে এবার সেই অশ্রুর সঙ্গে মিশে ছিল একফোঁটা আশাও।অন্যদিকে, বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল ঊষান।
“আর কয়েকটা দিন,,,,”
নিজের মুঠো শক্ত করে ফিসফিস করে বলল সে,
“প্রতিশোধ শেষ হলেই তোকে মুক্তি দিয়ে দেব, নুহা। তখন তুই আমাকে ঘৃণা করিস, তবু বেঁচে থাকিস এটাই চাই।”
কিন্তু সে জানত না, মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যত সহজ, হৃদয় থেকে কাউকে মুক্তি দেওয়া তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন।এটা হয়তো খুব তাড়াতাড়ি বুজবে ঊষান কিন্তু ততক্ষনে দেড়ি না হয়ে যায়।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
রাত প্রায় দুইটা,,,,
চারপাশে নিস্তব্ধতা। বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।দরজার তালা খোলার আওয়াজে নুহার ঘুম ভেঙে গেল। সারাদিন কিছু না খেয়ে অপেক্ষা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল, নিজেও জানে না।
ঊষান ধীর পায়ে ঘরে ঢুকল। শার্টের হাতা গোটানো, চোখে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ। সারা ঘরে একবার চোখ ভুলিয়ে নিলো,একবার তাকিয়েই বুঝে গেল, ট্রেতে রাখা খাবার প্রায় ছোঁয়াই হয়নি কপাল কুঁচকে গেল তার।নুহা এতক্ষনে জেগে গেছে।
“খাবার খাসনি কেন?”
নুহা মুখ ফিরিয়ে নিল, তারপর জেদি গলায় বললো
“আপনার কী?”
হঠাৎ এমন উচ্চ স্বরে কথা বলতে দেখে ঊষানের ধৈর্য মুহূর্তেই ফুরিয়ে গেল,,,,
“আমার কী মানে? সারাদিন না খেয়ে থাকবি কেন?”
“আপনি তো চান আমি কষ্ট পাই। তাই ভাবলাম আপনার ইচ্ছেটাই পূরণ করি।”
ঊষান হঠাৎ ট্রেটা তুলে টেবিলের ওপর জোরে রাখল।
“নাটক করিস না।”
নুহার চোখ ভিজে উঠল, সে অভিমানী গলায় বললো,,,
“আমার কান্না আপনার কাছে নাটক, আমার ভালোবাসা আপনার কাছে ভুল, আর আমার অস্তিত্বটাই আপনার কাছে বোঝা। তাহলে আমাকে এখানে আটকে রেখেছেন কেন?”
ঊষান চোয়াল শক্ত করল।
“কারণ এখনও আমার কাজ শেষ হয়নি।”
“কাজ? আমি কি মানুষ নই? আমি কি আপনার প্রতিশোধের একটা জিনিস?”
বলতে গিয়ে নুহার কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
“একবারও কি আমার কথা ভেবেছেন? আমি আমার পরিবার ছেড়ে এখানে বন্দি হয়ে আছি। প্রতিদিন আপনার একটা ভালো কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করেছিতারপর যখন অপেক্ষা শেষ হলো তারপর থেকে অপনার এই রূপ দেখছি । অথচ আপনি?”
কথা শেষ করতে পারল না। কান্নায় গলা আটকে গেল।
ঊষান চোখ ফিরিয়ে নিল। নুহার ভাঙা কণ্ঠ শুনলে তার নিজের মনও দুর্বল হয়ে যায় হয়তো ।কিন্তু সে তা প্রকাশ করল না।
ঠান্ডা গলায় বলল,
“যেদিন তোকে নিয়ে এসেছিলাম, তখনি বলেছিলাম আমার কাছ থেকে ভালোবাসা আশা করিস না।”
নুহা তিক্ত হেসে বলল,,
“তাহলে কেন আমার যত্ন নেন? কেন খাবার রেখে যান? কেন আমি অসুস্থ হলে রাত জেগে বসে থাকেন আমি অনেক কিছুই জানি কিন্তু ? কেন?”
প্রশ্নগুলো যেন ধারালো ছুরির মতো গিয়ে বিঁধল ঊষানের মনে।কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে সে কঠিন মুখে বলল,
“ভুল বুঝেছিস। এসবের কোনো মানে নেই।”
“মিথ্যে!”
নুহা এবার চিৎকার করে উঠল।
“আপনি মিথ্যে বলছেন। আপনার চোখ আপনাকে বারবার ধরে ফেলে।”
ঊষান রাগে এক পা এগিয়ে এল।
“চুপ!”
নুহা ভয় পেলেও পিছিয়ে গেল না।
“চুপ করব না। আজ উত্তর চাই। আমি কি এতটাই অপছন্দের?”
ঊষান নিজের ভেতরের ঝড় সামলাতে না পেরে রাগের মাথায় পাশের চেয়ারটায় জোরে লাথি মারল। চেয়ারটা উল্টে গিয়ে মেঝেতে পড়ল।
“আমি যা বলি তাই হবে! আমার সামনে আর একটা কথাও বলবি না।”
ভয়ে নুহা কেঁপে উঠল। চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল।
“ঠিক আছে আজ থেকে আর কখনও আপনার কাছে ভালোবাসা চাইব না। আর কোনো প্রশ্নও করব না।”
কথাগুলো বলে ধীরে ধীরে বিছানার এক কোণে গিয়ে বসে পড়ল। হাঁটু জড়িয়ে মুখ লুকিয়ে নীরবে কাঁদতে লাগল।
ঊষান কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল।
মেয়েটার কান্না তার বুকের ভেতরটা ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল। তবু সে এগিয়ে গেল না।
নিজের মনে শুধু একটাই কথা বললো,,,,,,
“আমাকে ঘৃণা কর, নুহা। কারণ তুই যদি আমাকে ভালোবাসতে থাকিস , শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কষ্ট তোরই হবে”
ঘরের দুই প্রান্তে দুজন মানুষ বসে রইল। একজন কান্না লুকিয়ে, আরেকজন নিজের ভালোবাসা।এই দৃশ্যে ঊষান নুহাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিলেও কোনো শারীরিক নির্যাতন বা সহিংসতা দেখানো হয়নি। এতে তাদের মনোমালিন্য ও ঊষানের অন্তর্দ্বন্দ্ব দুটোই ফুটে ওঠে।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
ভোরের নরম আলো জানালার ফাঁক গলে ছোট্ট ঘরটায় ছড়িয়ে পড়েছে। বাইরে পাখির কিচিরমিচিরে ধীরে ধীরে ঘুম ভাঙল নুহার।চোখ খুলেই কিছুটা অবাক হয়ে গেল সে।যেহেতু জায়গাটা অনেকটা গ্রামের দিকে তাই এরকম পরিবেশ পাওয়া কোনো স্বপ্ন না।ঘুমের মধ্যে কখন যে ঊষান ওর এক হাত আলতো করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়েছে, সেটা নুহা টেরই পায়নি। ঊষানের মুখে রাতভর জেগে থাকার ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। কপালের ওপর এলোমেলো চুলগুলো পড়ে আছে, আর গভীর ঘুমে তার মুখের সেই চিরচেনা কঠোরতাটুকুও যেন কোথায় হারিয়ে গেছে।
নুহা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে রইল, মুখের কোণে অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।খুব আস্তে করে নিজের হাতটা সরিয়ে নিতে গেল সে। কিন্তু হাত সরাতেই ঊষান ঘুমের মধ্যেই আরও শক্ত করে ধরে ফেলল।
নুহা ফিসফিস করে বলল,
“এত রাগ দেখান, আর ঘুমের মধ্যে আবার এভাবে ধরে রাখেন কেন।”
অনেক কষ্টে আলতো করে নিজেকে ছাড়িয়ে বিছানা থেকে নেমে পড়ল সে।ঘরের একপাশে রাখা কাপড় নিয়ে গোসলখানায় চলে গেল।এসব কাপড় কালকে রাতেই ঊষান ওর জন্য এনে রেখেছে আর এটা নুহা দেখেছে।গোসল সেরে কিছুক্ষণ পর ফিরে এল ভেজা চুল নিয়ে। সকালের আলোয় পানির ছোট ছোট ফোঁটাগুলো চুলের ডগা বেয়ে ঝরে পড়ছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে লাগল।ঠিক তখনই বিছানায় শুয়ে থাকা ঊষানের ঘুম ভাঙল।চোখ খুলতেই প্রথমেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামল নুহার ওপর।
নুহা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে লম্বা চুল আঁচড়াচ্ছে। সকালের সোনালি আলো তার মুখে এসে পড়েছে। ভেজা চুলের ফাঁক দিয়ে কয়েকটি এলোমেলো গোছা গাল ছুঁয়ে আছে।
ঊষান অন্যমনস্কের মতো তাকিয়ে রইল।
মুহূর্তটা এতটাই শান্ত ছিল যে তার মনে হলো, এই দৃশ্যটা যেন অনেকদিন ধরে দেখার অপেক্ষায় ছিল সে।
নুহা হঠাৎ আয়নায় ঊষানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেল।
চোখাচোখি হতেই মুচকি হেসে বলল,
“কী দেখছেন?”
ঊষান যেন বাস্তবে ফিরল। দ্রুত দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“কিছু না।”
নুহা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“মিথ্যে কথা। অনেকক্ষণ ধরেই তো তাকিয়ে আছেন।”
ঊষান কাশির ভান করে বিছানা থেকে উঠে বসল।
“তুই নিজের সম্পর্কে খুব বেশি ভাবিস।”
নুহা মৃদু হেসে আবার চুল আঁচড়াতে লাগল।
“তাহলে আয়নায় যাকে দেখছিলেন, সে কে?”
প্রশ্ন শুনে ঊষান কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তারপর খুব আস্তে বলল,
“আজকে তোকে অন্যরকম লাগছে।”
কথাটা বলেই যেন নিজের ওপরই বিরক্ত হয়ে গেল সে।
“মানে ওই আরকি চুল ভেজা থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে। আগে শুকিয়ে নে।”
নুহার চোখে বিস্ময়ের সঙ্গে লাজুক আনন্দও ফুটে উঠল।সে ধীরে বলল,
“এতক্ষণে একটা ভালো কথা বললেন।”
ঊষান কোনো উত্তর দিল না। শুধু জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, যাতে নুহা তার ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা ক্ষীণ হাসিটা দেখতে না পায়।
আর নুহা আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই হাসল।হয়তো এই কঠিন মানুষটার হৃদয়ে তার জন্য সত্যিই কোথাও একটু নরম জায়গা আছে।
♡ ♡ ♡ ♡ ♡
#চলবে?

