Home "ধারাবাহিক গল্প "তু্ই আমার তু্ই আমার পর্ব-১৭

তু্ই আমার পর্ব-১৭

0
6

#তুই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _১৭(একটু আলাদা )

🚫কপি করা নিষিদ্ধ & প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত, ভালো না লাগলে স্কিপ করুন 🚫

সকালের নরম আলো তখন পুরো ঘরটাকে এক অন্যরকম শান্তিতে ভরিয়ে দিয়েছে। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা সূর্যের আলো বিছানার একপাশে পড়েছে। ঘুমের গভীরতা ধীরে ধীরে কাটতেই ঊষান অভ্যাসবশত নিজের পাশে হাত বাড়াল কিন্তু পাশে কেউ নেই নুহা উঠে গেছে।
ঘুম জড়ানো চোখে কয়েক মুহূর্ত সে স্থির হয়ে রইল কিন্তু পর মুহূর্তে খুঁজতে দু চোখ ব্যাস্ত হয়ে পড়লো তারপর ধীরে ঘরের কোনে চোখ ভুলালো।এদিকে নুহা কোথায় গেল এই ভাবনাটা আসতেই তার ভেতরে হালকা একটা অস্থিরতা তৈরি হলো কালকের স্মৃতি ওকে আবার হামলে ধরলো।

সে উঠে বসতে যাবে ঠিক তখনই তার দৃষ্টি সামনে গিয়ে থেমে গেল।ঘরের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে নুহা তাকে দেখতে অপরূপা লাগছে। আজ নুহা শাড়ি পড়েছে একটা লাল টকটকে শাড়ি দেখে মনে হচ্ছে একটা ফুটন্ত লাল গোলাপ।।লাল শাড়িতে তাকে আজ যেন অন্যরকম লাগছে। সকালের আলোয় শাড়ির রঙ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। খোলা চুল কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছে, মুখে নেই কোনো বাড়তি সাজ, তবুও ঊষানের চোখে সেই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য মনে হলো ওর পিচ্চি পাখিকে ।

নুহাও চুপচাপ তাকিয়ে ছিল ঊষানের দিকে ও ওর ভাব বোঝার চেষ্টা করছে । ঘুম ভাঙার পর ঊষানের সেই অবাক মুখটা দেখে নুহার ঠোঁটের কোণে অল্প হাসি ফুটে উঠল।ঊষান কিছুক্ষণ কোনো কথা বলল না শুধু তাকিয়ে রইল তার পিচ্চি পাখির দিকে।

নুহা এসব দেখে ওখানে থেকেই মৃদু স্বরে বলল,

~এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?

ঊষান ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে নুহার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললো,

~ভাবছি এটা সত্যি নাকি ঘুমের কোনো স্বপ্ন।

নুহা হালকা হেসে ফেললো তারপর একটু ডং করে সরে রসিকতা মিশিয়ে বললো,

~সকাল সকাল এত নাটক করতে হবে না।

ঊষান তার সামনে এসে দাঁড়াল ওর চোখে সেই চেনা কঠিন ভাবটা নেই, বরং ছিল একরাশ শান্তি আর মুগ্ধতা।

~তুই জানিস, অনেকদিন পর একটা সকালকে এত সুন্দর লাগছে কেন?

নুহা চুপ করে রইল তারপর মাথা নাড়িয়ে না জানালো।

~কারণ ঘুম ভেঙে প্রথমবার মনে হলো আমার জীবনে শান্তি বলে কিছু আছে।

কথাটা শুনে নুহার চোখের দৃষ্টি কিছুটা নরম হয়ে গেল ওর মুখ জুড়ে খুশির লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে, নুহা আস্তে করে বললো ,

~আপনি সবসময় এত শক্ত থাকেন কেন?

ঊষান একটু হেসে বলল,

~কারণ সবাইকে শক্ত দেখাতে হয়।

একটু থেমে আবার বললো,

~কিন্তু তোর সামনে সবসময় পারি না।

নুহা আর কিছু বলল না শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে রইল।
বাইরে তখন সকাল আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। নতুন দিনের সেই আলোয় তাদের মাঝের পুরোনো অভিমানগুলো যেন কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছে।

♡ ♡ ♡ ♡ ♡

তারপর উঠে গিয়ে নুহা কে টেনে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে ও ওর উপর আদ শোয়া হয়ে ওর গলায় মুখ গোজে
আরও একটা সুন্দর নরম উষ্ণ সকাল শুরু হলো ওদের মাঝে।হঠাৎ এভাবে ঊষান কে দেখে নুহা প্রশ্ন করেই ফেললো,,,,

~কী হয়েছে আপনার?

ঊষান মৃদু স্বরে বললো,,

~কিছু নাb শুধু মনে হচ্ছে অনেকদিন পর তোকে নিজের কাছে পেলাম।

কথাটা শুনে নুহা চুপ করে গেল ঊষানের এমন শান্ত স্বর সে খুব কমই শুনেছে।

~তুই জানিস? আমার জীবনে অনেক কঠিন সময় গেছে। কিন্তু সবকিছুর মাঝেও একটা জিনিস সবসময় মনে হয়েছে তোকে ঠিক রাখতে হবে।

নুহা ধীরে বলল,

~কিন্তু আপনি তো কখনো কিছু বলেন না।

ঊষান হালকা হাসল তারপর নুহা গালে একটা চুমু দিয়ে বললো,

~বলতে শিখিনি আমি পিচ্চি পাখি!

~আর আমাকে কষ্ট দিতে শিখেছেন?

কথাটা শুনে ঊষানের মুখটা একটু গম্ভীর হয়ে গেল আসলেই সে নুহাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছে।সে নিচু স্বরে বলল,

~হয়তো ভুল করেছি।

নুহা অবাক হয়ে তাকাল কারণ ঊষানের মুখে নিজের ভুল স্বীকার করা খুব সহজ কোনো বিষয় নয়।এর মধ্যে আবার শুনতে পেলো ঊষান খুব আস্তে বলছে ,

~নুহা সবকিছু ঠিক করতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু এবার আর তোকে একা কষ্ট পেতে দেব না!

নুহা একটু নড়তেই ঊষান আহঃ করে উঠলো ওর ক্ষত জায়গায় ব্যাথা পেয়েছে।নুহাও খেয়াল করছিল মানুষটা আগের মতো কঠিন থাকার চেষ্টা করলেও কোথাও একটা ক্লান্তি লুকিয়ে আছে কথার মাঝে মাঝে তার চোখে সেই ক্লান্তির ছাপ ধরা পড়ছিল।নুহা কিছু একটা বলতে গিয়ে একটু নড়ে বসল। সেই মুহূর্তেই ঊষানের মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল মানুষের শরীর তো ব্যাথা নামক অনুভূতি ঊষানের ও আছে ।নুহা খেয়াল এতক্ষণ যে মানুষটা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিল হঠাৎ তার চোখে ব্যথার ছাপ ফুটে উঠল।নুহা সঙ্গে সঙ্গে থেমে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,

~কী হয়েছে?

ঊষান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল।

~কিছু না।

ঊষান যে ব্যাথা লুকাচ্ছে তা নুহা ভালো করেই বুজতে পারছে । ঊষানের মুখের সামান্য পরিবর্তনটুকুও এখন তার চোখ এড়ায় না।

নুহা চিন্তিত হয়ে বলল,

~আপনার ব্যথা করছে, তাই না?

ঊষান অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,

~সামান্য পাখি তুই কাছে থাকলে এসব কিছু না ।

নুহা বিরক্ত আর কষ্ট মেশানো গলায় বলল,

~আপনার কাছে সবকিছুই সামান্য। এত বড় আঘাত নিয়েও আপনি এমনভাবে থাকেন যেন কিছুই হয়নি।

ঊষান কিছু বলল না। শুধু নুহার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল তারপর শান্ত গলায় বললো,,

~তুই চিন্তা করিস এটা আমার ভালো লাগে না।

নুহা ধীরে উত্তর দিল,

~আর আপনি কষ্ট পান, এটা আমার ভালো লাগে?

কথাটা শুনে ঊষান চুপ হয়ে গেল।আরও কিছুক্ষন এভাবে দুজনে সময় কাটালো তারপর ঊষান উঠে যাওয়ার আগে নুহার উদরে ঠোঁট ছোয়ালো সাথে নুহার ঠোঁটে ঠোঁট স্পর্শ করলো।

♡ ♡ ♡ ♡ ♡

দেখতে দেখতে কেটে গেছে প্রায় পাঁচটা মাস। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে গেছে। যে সম্পর্কের মাঝে একসময় ছিল অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি আর দূরত্ব, সেখানে এখন ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম বোঝাপড়া।নুহা এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার শরীরে মাতৃত্বের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগের মতো স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা এখন আর সহজ হয় না। ভরা পেট নিয়ে বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকা, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা কিংবা ছোটখাটো কাজ করতেও তার কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীর ভারী লাগে তবুও তার মুখে মাতৃত্বের এক আলাদা প্রশান্তি দেখা যায়।

এই কয়েক মাসে ঊষান যেন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বাইরে যতই কঠিন আর দায়িত্বশীল মানুষ হোক, নুহার সামনে এসে সে হয়ে উঠেছে একেবারে অন্য একজন। নুহার প্রতিটা ছোট-বড় প্রয়োজন এখন তার চোখে পড়ে। নুহা কখন বিশ্রাম নিচ্ছে, সময়মতো খাওয়া হয়েছে কিনা, শরীর কেমন লাগছে সবকিছুই ঊষানের নজরে থাকে।

নিজের কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সে চেষ্টা করে যতটা সম্ভব নুহার পাশে থাকতে। আগে যে মানুষটা নিজের কষ্ট কিংবা অনুভূতি প্রকাশ করত না, এখন সে নুহার ক্লান্ত মুখ দেখলেই বুঝে যায় তার কী প্রয়োজন।

নুহার চারপাশটাও বদলে গেছে। আসন্ন নতুন অতিথিকে ঘিরে পুরো বাড়িতেই এক ধরনের অপেক্ষার আবহ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি দিন যেন নতুন কোনো অনুভূতি নিয়ে আসে।আর ঊষান যে মানুষটা জীবনের কঠিনতম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, সেও এখন নতুন এক অপেক্ষায় দিন গুনছে। দেশের বড় বড় দায়িত্ব সামলানো মানুষটা আজ নিজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছে নুহা আর তাদের অনাগত সন্তানকে।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নুহার ভেতরে যেমন নতুন একটি জীবন বেড়ে উঠছে, তেমনি ঊষানের ভেতরেও জন্ম নিয়েছে এক নতুন পরিচয় একজন স্বামী আর একজন বাবার পরিচয়।যত দিন যাচ্ছে নতুন অথিতির আসার সময় এগিয়ে আসছে এটা নিয়ে ঊষান নুহা দুজনেই বেশ একটা অদ্ভুত অনুভূতি পার করছে।

♡ ♡ ♡ ♡ ♡

#চলবে