Home "ধারাবাহিক গল্প "তু্ই আমার তু্ই আমার পর্ব-১২

তু্ই আমার পর্ব-১২

0
1

#তুই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _১২

🚫কপি করা নিষিদ্ধ & প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত, ভালো না লাগলে স্কিপ করুন 🚫

প্রায় সবাই এতদিন ঊষানকে ভুলভাবে চিনেছে। মির্জা বাড়ির লোকজনের কাছে সে ছিল এমন একজন ছেলে, যার কোনো নির্দিষ্ট কাজ নেই, নিজের মতো ঘুরে বেড়ায়, কখনো কোথায় থাকে তার ঠিক নেই। নুহার চোখেও বিষয়টা খুব আলাদা ছিল না। তার কাছে ঊষান ছিল একরকম ভবঘুরে মানুষ যে নিজের জীবন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করে না, হঠাৎ আসে, আবার হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়।কিন্তু সত্যিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন যে সত্যতা মির্জা বাড়ির সকলকে নাড়িয়ে দিতে পারে।

ঊষান কোনো বেকার বা উদ্দেশ্যহীন মানুষ ছিল না। বরং তার পরিচয় এমন একটি জায়গায়, যেখানে তার কাজ, পদমর্যাদা কিংবা দায়িত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগই নেই। সে দেশের একটি বিশেষ সামরিক ও নিরাপত্তা ইউনিটের অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কর্নেলের চেয়েও অনেক ওপরে তার অবস্থান। তার পরিচয় সাধারণ সেনা কর্মকর্তাদের মতো প্রকাশ্য নয়, কারণ তার বেশিরভাগ কাজই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন মিশনের সঙ্গে জড়িত।

তার কাজের ধরনও ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। নিয়মিত কোনো সেনানিবাসে বসে অফিস করা কিংবা প্রতিদিন নির্দিষ্ট পোশাকে দায়িত্ব পালন করা তার জীবনের অংশ ছিল না। তাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, কখনো দেশের বাইরেও, সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে কাজ করতে হতো। কোনো মিশনে তাকে ব্যবসায়ী সেজে থাকতে হয়েছে, কোনো সময় সাধারণ মানুষের মতো ভাড়া বাসায় থেকেছে, আবার কখনো এমন জায়গায় থেকেছে যেখানে তার নিজের পরিচয় পর্যন্ত কাউকে জানানো সম্ভব ছিল না।

এই কারণেই গত কয়েক মাসে কেউ ঊষানের কোনো খোঁজ পায়নি।

মির্জা বাড়ির সবাই ভেবেছিল, হয়তো নিজের ইচ্ছায় কোথাও চলে গেছে। কেউ খুব একটা খোঁজও করেনি। কিন্তু বাস্তবে সেই সময়টাতেই ঊষান এমন একটি মিশনের মধ্যে ছিল, যেটা তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মিশনটির সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার পাশাপাশি একটি বড় আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র জড়িত ছিল। বহুদিন ধরে সেই চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল, কিন্তু তাদের মূল ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না। ঊষানের ওপর দায়িত্ব পড়ে তাদের ভেতরে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করা এবং পুরো নেটওয়ার্কের মূল মাথাকে চিহ্নিত করা।

এই মিশনে সবচেয়ে বড় নিয়ম ছিল কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিচিতি কিংবা পুরোনো জীবনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে না।তাই ঊষান ইচ্ছে করেই নিজের সব পরিচয় আড়াল করে রেখেছিল।

তার কাছে দামি গাড়ি ছিল, নিজের বাড়ি ছিল, নিরাপত্তার জন্য প্রশিক্ষিত বডিগার্ড ছিল কিন্তু মির্জা বাড়িতে সে কখনো এসবের কিছুই দেখায়নি। কারণ নিজের আসল অবস্থান প্রকাশ করা মানেই তার মিশনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া।

এমনকি নুহাও কখনো বুঝতে পারেনি, যে মানুষটাকে সে বেকার ভেবেছে, সেই মানুষটির একটি ফোনকলেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকা কর্মকর্তারা সতর্ক হয়ে যেতে পারে।

ঊষানের জীবন ছিল দুই ভাগে বিভক্ত,,,একটা জীবন, যেটা সবাই দেখেছে আর আরেকটা জীবন, যেটা সম্পর্কে কেউ কিছুই জানত না।

মিশনের কারণে তাকে কখনো সপ্তাহের পর সপ্তাহ নিখোঁজ থাকতে হয়েছে। কখনো টানা কয়েক রাত ঘুম ছাড়াই কাজ করতে হয়েছে। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে গিয়ে এমন অনেক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যেখানে নিজের কাছের মানুষকেও সত্যি বলা সম্ভব ছিল না।

নুহার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টাও এই মিশনের সময় তার জন্য আরও জটিল হয়ে উঠেছিল।

কারণ ঊষান জানত, নুহার সঙ্গে তার সম্পর্ক যতটা ব্যক্তিগত, তার থেকেও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সে যতটা নুহার কাছে থাকতে চেয়েছে, তার চেয়ে বেশি তাকে দূরে রাখতে হয়েছে। কিন্তু নিজের অনুভূতি নিয়ে সে কখনো কথা বলেনি। বরং সবকিছুকে রাগ, কঠোরতা আর নির্লিপ্ততার আড়ালে ঢেকে রেখেছে।হয়তো এই কারণেই ঊষান তার ভিতরে থাকা নুহাকে নিয়ে না বলা কথা গুলো বলতে পারে নাই।।

মিশন শেষ হওয়ার পরও সে সঙ্গে সঙ্গে মির্জা বাড়িতে ফিরে আসেনি। প্রথমে তাকে নিশ্চিত করতে হয়েছিল, তার পরিচয় কিংবা মিশনের কোনো তথ্য শত্রুপক্ষের হাতে যায়নি। এরপর নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক করে সে অবশেষে দেশে ফিরে আসে।আর যখন ফিরে আসে তখন নুহাকে অন্য কারো সামনে বউ রূপে দেখে ঊষান পুরোপুরি থমকে গেছিলো অবশ্য নুহাকে দেখতে আসার খবর ঊষান আগে থেকেই জানতো।।।আর সেই কারণেই নুহাকে দেখতে আসার দিন হঠাৎ তার আবির্ভাব এতটা অপ্রত্যাশিত ছিল।

নুহা তখনও জানত না, সে যে মানুষটাকে এতদিন ভবঘুরে ভেবেছে, তার চারপাশে আসলে কত বড় একটি পৃথিবী লুকিয়ে আছে।

আর ঊষানের সেই বিলাসবহুল বাড়ি, প্রশিক্ষিত বডিগার্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এসব কোনো হঠাৎ পাওয়া সম্পদ নয়। এগুলো ছিল তার আসল জীবনেরই অংশ।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ঊষান কখনো নিজের পদমর্যাদা নিয়ে অহংকার করেনি। কারণ তার কাজের প্রথম শর্তই ছিল নীরবতা।

সে জানত, তার পরিচয় যত কম মানুষ জানবে, তার কাজ তত নিরাপদ থাকবে।

আর এখন, এতদিন পর মিশন শেষ করে যখন সে নিজের জীবনে ফিরে এসেছে, তখন সামনে দাঁড়িয়ে আছে এমন একটি পরিস্থিতি, যার জন্য কোনো প্রশিক্ষণই তাকে প্রস্তুত করেনি নুহা, তাদের অনাগত সন্তান, আর তাদের ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক।দেশের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে অভ্যস্ত ঊষান হয়তো শত্রুর সামনে কখনো দুর্বল হয়নি।কিন্তু নুহার সামনে এসে সে বুঝতে শুরু করবে সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধটা হয়তো এবার তার নিজের ভেতরেই।।।

ভাবনা থেকে বের হতেই ঊষান দেখলো নুহা অবাক চোখে চারোদিক অবলোকন করতে ব্যাস্ত।। ঊষান নুহার এই অবস্থা দেখে ফের একটা রহস্যময় হাসি দিলো।।কিছুক্ষনের মধ্যে ঊষান আবার তলিয়ে গেলো নুহার সাথে ওর প্রথম দেখার কথা মনে করে।

সামনেই ঊষানের এসএসসি এক্সাম,,,,যেদিন ঊষান প্রথম তার পরিচয় জানতে পারলো যে ঊষান মির্জা পরিবারের বড় সন্তান আরমান মির্জার ছেলে তখন ঊষান কোনো কথা না শুনে সোজা ওর মায়ের সাথে কেন এমন করলো উনি এটা জানার জন্য ঠিক সেই দিন,,,,,,,

ছোট্ট একটা পরী মির্জা বাড়ির বাগানে বসে কান্নায় ব্যাস্ত ছিলো কারণ তার বড় ভাই তার চকলেটে নিয়ে গেছিলো।। ঊষান একটু সামনে এগোতেই থমকে দাড়ালো ছোট্ট পরী অতিরিক্ত কান্নার ফলে পুরো মুখ টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছিলো আর এই ছোট্ট পরিটাই নুহা ঊষানের পিচ্চি পাখি।।

ঊষান সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,,,, কি হয়েছে পিচ্চি পাখি??

হঠাৎ অচেনা কারো কণ্ঠ শুনে পিচ্চি নুহা মাথা তুলে তাকায়।।ঊষান এর প্রশ্ন শুনে নুহা ফুপাতে ফুপাতে উত্তর করলো,,,,, ভাইউ আমাল চকেট খেয়ী ফেলছি জানু?

তাই তুমি কান্না করছো।।
নুহা সাথে সাথে মাথা নাড়িয়ে হ্যা জানালো।। নুহাকে পেয়ে ঊষান যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য ওর মূল উদ্দেশ্য ভুলে গেলো।।

ঊষান পকেট হাতড়ে একটা চকলেট পেলো কারণ ঊষান নিজেও চকলেটে অনেক পছন্দ করে।। কথা না বাড়িয়ে ঊষান ওটা নুহার হাতে দেয় নুহা তো বেজায় খুশি।। ঊষান কে ওর পাশে বসতে বললে ঊষান ও বসে পরে অমনি নুহা ঊষান এর গালে টপাটপ দুইটা চুমু খায়।।ঊষান এর কিছু একটা মনে পড়তেই ঊষান নুহা কে সরিয়ে দেয় ।

আচ্ছা সর আমাকে এখন যেতে হবে।।

তুমি কই ডাবে গুট বয়!!তোমাল সাথি আবাল কবে দেকা হবি গুত বয়!শোনো গুত বয় আমি তোমাকি অনেত
বেশি ভালুবাসি তুমিও আমাকি কি অনেট
ভালুবাসো????

উহু,,তোকে আমি একদম ভালোবাসি না কিন্তু তুই বড় হয়ে শুধু আমার হবি মনে থাকে যেন পিচ্চি পাখি হু!!!

আত্তা আমি তোমাল জন্য অপেকা কলবো তুমি কিনতু
আসাল সময় আমাল জন্য চককেট নিয়ে আসবে ওক্কি!!

উহু,,তোকে আমি একদম ভালোবাসি না কিন্তু তুই বড় হয়ে শুধু আমার হবি মনে থাকে যেন পিচ্চি পাখি হু!!!

ঊষান আজ নিজেই অবাক হচ্ছে এই পিচ্চি কে এক দেখায় কিভাবে এতোটা অদ্ভুত কথা বলতে পারলো।।নুহার ডাকে ঊষান এর ঘোর কাটলো।

এই সত্যি করে বলেন তো আপনি কী করেন ঊষান ভাই?

ঊষান চুপ!!নুহা কিছুক্ষণ ঊষানের দিকে তাকিয়ে থেকে
আবার ধীরে বলল,,,,

সত্যি করে বলেন তো, আপনি কী করেন ঊষান ভাই?”

ঊষান কোনো উত্তর দিল না। শুধু নুহার দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখের সেই অদ্ভুত নীরবতা দেখে নুহা আবার প্রশ্ন করতে যাবে, তার আগেই ঊষান তাকে আলতো করে কোলে তুলে নিল।

নুহা চমকে উঠে বলল,,,,,,,

এটা কী করছেন আপনি?

অনেক প্রশ্ন করিস।

“প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আমাকে এভাবে নিয়ে যাচ্ছেন?”

ঊষান মৃদু হেসে বলল,,,,,,,, “সব প্রশ্নের উত্তর আজ দিতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই।”

সে নুহাকে ঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিল। নুহা এখনও অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। ঊষান পাশে বসে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

নুহা ধীরে বলল,,,,,,,, “আপনি আসলে খুব অদ্ভুত।”

ঊষান তার দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,,,,”জানিস তো, তবুও এতদিন ধরে আমার কাছেই আছিস।”

নুহা মুখ ফিরিয়ে নিল ঠোঁটের কোণে অনিচ্ছার হাসি ফুটে উঠল।ভাবে এই লোক এতো তেড়া কেন সোজা কথার উত্তর এতো পেঁচিয়ে কেন দিতে হবে।

“আপনার সঙ্গে কথা বলাই কঠিন।”

“তবুও কথা বলিস।”

“কারণ আপনি উত্তর দেন না।”

ঊষান এবার হালকা হেসে বলল,,,,,,

সব উত্তর মুখে বলতে হয় না, নুহা। কিছু উত্তর সময় নিজেই দিয়ে দেয়।

আপনার মাথা অসভ্য লোক !!!

ঊষান কোনো উত্তর না দিয়ে নুহাকে এক ঝটকায় টেনে নিয়ে বিছানায় ফেলে নুহাকে শুইয়ে দিয়ে ওর উপরে আধশোয়া হয়ে নুহার গলায় মুখ গুজে দিয়ে পড়ে থাকে।।কিছুক্ষনের মধ্যে ওর ঠোঁটে হামলা চালায়।। প্রায় মিনিট খানেক পরে ছেড়ে দিয়ে ফের গলায় মুখ গুজে আর ডান হাত টা নুহার ডিলেডালা কামিজের ভিতরের উদরে বিচরণ করে বেড়াচ্ছে।। নুহার তো লজ্জায় মরি মরি অবস্থা।।

★ ★ ★ ★ ★

#চলবে