#তুই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _১৪
[অনুমতি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ ]
আচ্ছা শোন আমি গোসল করে আসি তুই আমার ড্রেস রেডি কর বলেই ঊষান চলে গেলো।।নুহা ভদ্র বউ এর মতো স্বামীর আদেশ পালন করতে গেলো।।। সব ঠিক ঠাক করে রাখার পর হঠাৎ নুহার নজর যায় ঊষান এর ওয়ালেট এর দিকে ও ওটা হাতে নিয়ে খুলতেই ওর চোখ ছানা বড়া হয়ে গেলো।।এর মধ্যে ঊষান গোসল শেষ করে ফিরে এলো।
ঊষান এর ওয়ালেট এ নুহার ছবি। ঊষান নুহাকে এভাবে হা করে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করে,,,,,,
কি হয়েছে এভাবে তাকিয়ে কি দেখছিস?
নুহা যটপট উত্তর দেয়,,,, আপনার কর্ম। খাটাস ব্যাটা সারাদিন বলে ভালোবাসি না আবার আমার ছবি নিয়ে ঘোরে কত খারাপ এই ব্যাটা।।
নুহাকে এভাবে বিড়বিড় করতে দেখে ঊষান সুধায়,,,,,এভাবে কি বিড় বিড় করছিস হ্যা জোরে বল ইডিয়ট আমিও একটু শুনি।।
নুহা ঊষান এর কথা শুনে ব্যাঙ করে বলে,,, এহ আসছে আমার নবাব যা বলবো ওনাকে শুনিয়ে বলতে হবে তাই না। আবার বলে কিনা জোরে বল ইডিয়ট আমিও একটু শুনি।।
চুপ বেয়াদপ!!
এহ আসছে!
নুহা একটু থেমে খুব সিরিয়াস হয়ে উঠলো,,,,,মুখে বলেন ভালোবাসে না অথচ আমার ছবি আপনার ওয়ালেট এ কি করছে?
ঊষান স্বাভাবিক স্বরেই বলল,,,,,,,হ্যা তো আমি তোকে ভালোবাসি না আরকে বলেছে ভালো বাসলেই শুধু ছবি রাখা যাবে।শোন তুই আমার ভালোবাসা না তুই আমার আসক্তি, তুই আমার নিঃশাস যা ছাড়া এই ঊষান বাঁচবে না।ভালোবাসা ভুলে যাওয়া অসম্ভ কিছু নয় কিন্তু একটা মানুষ যতদিন বাঁচে ততদিন অক্সিজেন নামক জিনিস ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব আর তুই সেই নিঃশাস যাকে ছাড়া ঊষান আবিদ মূল্যহীন!!!
নুহা শুধু ঊষান এর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে এই লোক বলে কি। আজ ঊষান যা বলল তাতে নুহার মন শীতল হয়ে গেলো ঊষানের কাছে আসলেই ও এতো মূল্যবান নিজেকে প্রশ্ন করে উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না।আজ নুহার মনে হলো ও আসলেই ভাগ্যবতী! হ্যা তা না হলে ঊষান এর মতো কাউকে পেতো থাক না এভাবেই ঊষান কোনো একদিন বলে দিবে,,,,,,” তোকে ভালোবাসি অক্সিজেন খুব বেশি!”
এখন না হয় সেটার অপেক্ষা করা যাক। এসব ভেবেই নুহা মুচকি হাসে। পরক্ষনেই হাত চলে যায় ওর উদরে যেখানে ওর আর ওর ঊষান ভাই এর ভালোবাসার অংশ আছে।।
কিছুক্ষনের মধ্যে ঊষান পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলো,ঊষান ওকে ওভাবে হাসতে দেখে ওর কাছে গেলো। ঊষান এর হাতে দুইটা ছোট্ট বক্স। ঊষান নুহার পাশে বসতেই নুহা হুসে ফেরে।
কি হয়েছে এভাবে তাকাচ্ছেন কেন?
ঊষান উত্তর না দিয়ে প্রথম বক্স খুলে একটা ডায়মন্ড এর রিং বের করে নুহার অনামিকা আঙুলে পড়িয়ে দিলো সেকেন্ড বক্স খুলে একটা গোল্ড চেইন সাথে ডায়মন্ড বসানো একটা পেন্ডেন্ট বের করে নুহার গলায় পড়িয়ে দিলো এদিকে নুহা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে ঊষান এর দিকে।
এগুলো তো দেখে মনে হচ্ছে অনেক দামী কিছু ঊষান ভাই?
ঊষান নুহার ঠোঁটের উপর আঙ্গুল তুলে বললো,,,
হুস!!কোনো কথা নয়। ইউ নো হোয়াট ইউ আর দ্যা মোস্ট প্রিসিয়াস , দেস আর নাথিং পিচ্চি পাখি !!
বলেই নুহার পায়ের কাছে বসে পড়লো তারপর হঠাৎ নুহার ফর্সা উদর মেলে ধরে সেখানে ঘুটি কয়েক চুমু খেলো।।নুহাও তার প্রিয় পুরুষের ছোঁয়া চোখ বুজে অনুভব করলো।।কিছুক্ষন পর উঠে গেলো।
“শোন আমার আসতে রাত হবে তুই সাবধানে থাকবি এন্ড আমার মায়ের খেয়াল রাখবি ওকে।আর আমি যদি শুনি তুই খাবার না খেয়ে ফাইজলামি করছিস তাহলে তোর খবর আছে মাইন্ড ইট পাখি!!
নুহা সায় জানালো।ঊষান বলেছে আর নুহা তার কথা শুনবে না এটা হতেই পারে না।
হঠাৎ নুহা জিজ্ঞেস করে বসলো,,,,, কই যাবেন।
সকাল থেকেই ঊষানের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক ব্যস্ততা ছিল এটা নুহা ভালো করেই লক্ষ করেছে । অন্যদিনের তুলনায় আজ সে অনেক বেশি চুপচাপ। তৈরি হওয়ার সময় কয়েকবার ফোনে কথা বলেছে, তারপর কিছুক্ষণ একা দাঁড়িয়ে ছিল জানালার পাশে। নুহা দূর থেকে সবকিছু দেখছিল। মানুষটা কী নিয়ে এতটা চিন্তিত, সেটা বোঝার উপায় নেই। জিজ্ঞেস করলেও হয়তো ঠিকঠাক উত্তর দেবে না এই অভ্যাসটা নুহার এখন ভালোভাবেই জানা।ঊষান স্বাভাবিক তার মধ্যে আবার অস্বাভাবিক আচরণ করে।
কোনো উত্তর না আসায় শেষ পর্যন্ত নুহাই আবার জিজ্ঞেস করল,,,,,,,আজ কোথাও যাবেন?
ঊষান ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে বলল,,,,,,,,হ্যাঁ একটু কাজ আছে।তবে তোকে যা বলছি তুই মাথায় রাখিস।
নুহা চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। ঊষান জুতোর ফিতা ঠিক করতে করতে বুঝতে পারল, নুহা আরও কিছু বলতে চাইছে।
কী?
কাজটা কি খুব জরুরি?
ঊষান এবার তার দিকে তাকাল। কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে বলল,,,,,,,হ্যাঁ কেন কিছু বলবি ।
নুহার বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল। তবু সে আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। ঊষান বেরিয়ে যাওয়ার সময় শুধু একবার ফিরে তাকিয়েছিল। নুহা তখনও দরজার কাছে দাঁড়িয়ে।
“আজ তাড়াতাড়ি ফিরবে আমাকে নিয়ে এরপর বের হবেন রাত হলে চলবে না তার আগেই ফিরতে হবে হু!!
ঊষান আর দেরি না করে বেরিয়ে গেলো।।যাওয়ার আগে ঊষান সামান্য থেমে বলেছিল,,,,,, ফিরব।
সেই একটা কথাই নুহার মনে সারাদিন ঘুরতে থাকল।
অন্যদিকে শহরের অনেক দূরে তখন ঊষানের মিশন শুরু হয়ে গেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে যে অপারেশনের জন্য সে নিজের স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে ছিল, আজ সেটার শেষ ধাপ। পুরো এলাকাটা আগে থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। ঊষানের নেতৃত্বে থাকা দল ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান নিচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য, কারণ সামান্য ভুলও পুরো পরিকল্পনাটাকে ভেস্তে দিতে পারত।
ঊষান স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা মাথায় সবকিছু সামলাচ্ছিল। তার নির্দেশে দলের সবাই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছিল। শেষ পর্যন্ত মূল ব্যক্তিটিকে আটক করার সুযোগও তৈরি হয়ে গেল। কিন্তু ঠিক তখনই পরিকল্পনার বাইরে একটা ঘটনা ঘটে গেল।
হঠাৎ গুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠল। ঊষান এক মুহূর্তের জন্য নিজের অবস্থান বদলাতে গিয়েছিল, আর তখনই একটি গুলি এসে তার শরীরে লাগে। সে কয়েক পা পিছিয়ে গেলেও মাটিতে পড়ল না। পাশে থাকা একজন সদস্য সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসতে চাইলে ঊষান হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল।
“আমার দিকে তাকিয়ে থেকো না তোমরা তোমাদের মিশন শেষ করো।”
দলের সবাই জানে ঊষান কেমন তারা কথা না বাড়িয়ে কাজে ফিরলো । দলের বাকিরা কাজ চালিয়ে গেল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মিশনের মূল লক্ষ্য সফল হলো।
মিশন শেষ হওয়ার পর ঊষানকে আর দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া হলো না। তার টিমের সদস্যরা দ্রুত তাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গেল। এতক্ষণ নিজের আঘাতটাকে গুরুত্ব না দিলেও এবার শরীরের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছিল।
একজন উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,,,,,,,স্যার, আপনাকে এখনই হাসপাতালে নিতে হবে।
ঊষান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। চোখের সামনে তখন বারবার নুহার মুখটা ভেসে উঠছে। সকালে বের হওয়ার সময় নুহার সেই ছোট্ট প্রশ্নটাও মনে পড়ল,,,,,,,আজ ফিরবেন?’
সে ধীরে চোখ বন্ধ করে আবার খুলল।
হাসপাতালে না আগে বাড়ি যাব আমার জান টা অপেক্ষায় কিনা ।
কিন্তু স্যার
ঊষান এবার আর কথা বাড়াল না। সবাই জানে ওদের স্যার এক কথার যা বলে তাই করে আজ তাকে বাড়ি ফিরতেই হবে।
এদিকে ঊষান বাড়ি ফিরে তার জান তার পিচ্চি পাখিকে খুঁজে পাচ্ছে না…….!!
★ ★ ★ ★ ★
#চলবে

