#তুই_আমার
#Samia_Jarin
পর্ব _১৬
৮১১১+
🚫কপি করা নিষিদ্ধ & প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত, ভালো না লাগলে স্কিপ করুন 🚫
ঊষান চলে যেতে নিলে নুহা ঊষানের দিকে তাকিয়ে কান্না ভেজা কণ্ঠে বললো,,,,,,,,,,,,,
~”আচ্ছা আমাদের মেয়েদের কেনো কেউ বুজে না বলুন তো? পরিবার চায় তাঁদের কথায় চলি বিয়ের পর স্বামীর কথায়।। এর মাঝে যদি কোনো ভুল করে ফেলি তাহলে তো রক্ষে নেই!!বুজতে হবে মেয়ে কিনা আমার সবার কথা শোনার দায় আমাদের থাকলেওআমাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।এই সমাজ পারে শুধু আমাদের দোষারোপ করতে,,,,আর আজ আপনিও সেই ভাবেই আমাকে বিচার করলেন ঊষান ভাই।। আজও শুধু নিজের দিকটা দেখে গেলেন যেমন আমার পরিবার দেখছে!!
ঊষান চেয়ে দেখলো তার অভিমানী কে। আসলেই নুহার একটা কথাও তো ভুল নয়,,,, মেয়েদের নিজেদের বলতে কিছুই নেই যা আছে সবই অন্য কারো।
ঊষান নুহার এই অভিমানী কথা শুনে থমকে দাড়ালো হঠাৎ কোনো আগাম বার্তা ছাড়া নুহার গোলাপি ওষ্ঠ জোড়া দখল করে নিলো।নুহা অবাক এভাবে কেটে গেলো বেশ কিছুক্ষন।ঊষান এবার নুহার ঠোঁট ছেড়ে গলায় মুখ ডোবালো সাথে নুহার সারা শরীর জুড়ে বয়ে যাচ্ছে ঊষান এর হাতের বেসামাল স্পর্শ ।এদিকে নুহার থামার নামই নিচ্ছে না।নুহা আবেশে দুই হাত দিয়ে ঊষান এর শার্ট আঁকড়ে ধরেছে।আহত জায়গায় ঊষান ব্যাথা পেলেও কোন প্রতিবাদ করলো না।
~আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলুন ঊষান ভাই এখানের কেউ ভালো না।।ওরা সবাই আপনার থেকে আমাকে আলাদা করে দিবে।।
বলেই আবার ফুঁপিয়ে উঠলো।
~একটু শান্ত হও আমি আছি তো পাখি।
~না এখুনি আমাকে আপনার বাসায় নিয়ে চলেন।
~কি হয়েছে পিচ্চি পাখি বল আমাকে, তুই হঠাৎ এমন করে চলে এলি কেনো?
ঊষান এর এমন আদর কথা শুনে নুহা ফের ফুঁপিয়ে উঠলো। পুরো মুখ লাল হয়ে গেছে, কিছুক্ষন পরপর গোলাপি ঠোঁট জোড়া কেঁপে কেঁপে উঠছে।
~কিছু না আমার কিছু হয় নি।
কিছু তো একটা হয়েছে ঊষান জানে তা না হলে শুধু শুধু নুহা এমন করবে না এসব ভেবে ঊষান এর মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে।
~তোর পরিবার মানে তোর মা বাবা কিছু বলেছে পাখি বল না।
ঊষান এর এতো নরম কথার পরও নুহা সেই আগের মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে অনবরত। ঊষান এবার নুহার আরও একটু কাছে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলো।
~কে কি বলেছে বলো পাখি আমার। দেখো তুমি যদি এমন কান্না করতে থাকো তাহলে কিন্তু আমি নিজেকে সামলাতে পারবো না।।
ঊষান এর কথা শুনে নুহা পিটপিট করে ওর মুখের দিকে চাইলো। অতিরিক্ত কান্নার ফলে ওর হিচকি উঠে গেছে ঊষান তা দেখে আস্তে করে নুহার চোখের পানি মুছিয়ে দিলো।
~বলো পাখি কি হয়েছে?
~জানেন আজকে বাবা আর বড় আব্বু আমাকে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে নিয়ে এসেছে বলেছে আম্মু নাকি হসপিটালে তারপর ওখানে না নিয়ে গিয়ে এখানে নিয়ে এসেছে। বলেছে আমার বাচ্চা কে মেরে ফেলবে তারপর আপনার সাথে ডিভোর্স করিয়ে দিবে।
নুহা আর কিছু বলতে পারলো না কান্নায় ভেঙে পড়লো। নুহার থেকে এসব শুনে রাগে ঊষানের মাথা ফেটে যাচ্ছে। ওর কানে নুহার বলা কথা গুলো বেজে চলেছে।ঊষান আর কথা না বাড়িয়ে নুহাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিয়ে নিচের দিকে পা বাড়ালো।
নুহাকে এভাবে কোলে নিয়ে নিচে নামতে দেখে সবাই হা। আরমান মির্জা এগিয়ে এসে ঊষান কে বাধা দিয়ে বললো,,,,,,
এই নির্লজ্জ ছেলে আমার মেয়েকে নিচে নামাও আর তুমি ওকে কই নিয়ে যাও। আমি কিছুতেই আমার মেয়েকে তোমার সাথে যেতে দিবো না।।
ঊষান নিজের জন্মদাতার মুখের কথা শুনে বাঁকা হাসলো।
~আচ্ছা আপনার মেয়ে কে জিজ্ঞেস করে দেখুন তো সে কি চায় মিস্টার আরমান মির্জা। আপনার মেয়ে আমার সাথে যেতে না চাইলে রেখে যাবো।
তারপর ঊষান নুহার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,,,,, কি পাখি তুই কি থেকে যেতে চাস।।
নুহা ওভাবে ঊষান এর বুকে মুখ গুঁজে রেখেই উত্তর দিলো,,,,,,,,, আমি আমার স্বামীর সাথে আমার সন্তানের বাবার সাথে যেতে চাই।।
~কি মিস্টার মির্জা উত্তর পেলে এবার পথ ছাড়ুন।
কথা গুলো বলেই ঊষান বেরিয়ে গেলো।।
★ ★ ★ ★ ★
গাড়ি থেকে নামতেই নুহার চোখ ঊষানের দিকে গেল। দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, তার শরীরটা ভালো নেই। জামার একপাশে রক্তের দাগ আর হাতে ব্যান্ডেজ দেখে নুহার মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে দ্রুত ঊষানের কাছে এগিয়ে এসে ক্ষতটার দিকে তাকাল। এতক্ষণ নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকা নুহার মাথায় এখন আর কিছুই আসছে না।
নুহা ঊষান কে দার করিয়ে ওর পিঠ, হাত চেক করতেই আঁতকে ওঠে।স্পষ্ট বোজা যাচ্ছে ঊষানের শরীরে খুব গভীর ভাবে আগাত পেয়েছে।।নুহা দেখে কান্না করেই ফেললো।
~আপনি কি কাজ করেন ঊষান ভাই? এভাবে আঘাত লাগলো কিভাবে?
ঊষান নুহার দিকে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল যেন ওর শরীরে কোনো আঘাতই লাগেনি। নুহার চোখে এতটা চিন্তা দেখে তার কণ্ঠটাও অজান্তেই নরম হয়ে গেল।
~জাস্ট একটু কেটে গেছে পাখি, তুই শান্ত হ।
নুহা ভ্রু কুঁচকে ক্ষতটার দিকে তাকিয়ে রইল। তার কাছে এটা কোনোভাবেই একটু কেটে যাওয়া মনে হচ্ছে না।
~এটাকে আপনার একটু কেটে যাওয়া মনে হচ্ছে?
ঊষান হালকা হেসে নুহার দিকে তাকালতারপর বললো,,,,,,
~তুই এত চিন্তা করছিস কেন?
নুহা সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে নিল।
~চিন্তা করছি না তো আপনার কিছু হলে আমার কিছু আসে যায় না তো।।
ঊষান মৃদু গলায় বলল,,,,
~তাহলে চোখে পানি কেন, পাখি?
নুহা আর কোনো উত্তর দিল না।
~শোন পাখি এখন আমার একটু শান্তি প্রয়োজন অনেক রাত হয়ে গেলো তো।। তোকে বুকে নিয়ে একটু ঘুমাতে দে কাল তোর সব প্রশ্নের উত্তর দিবো আমি কে কি করি সব। নুহাও চুপ করে গেলো ও নিজেও অনেক ক্লান্ত।।
★ ★ ★ ★ ★
নতুন এক ভোরের নরম আলো ধীরে ধীরে ঘরের পর্দার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকছিল। রাতের শেষ অন্ধকারটুকু তখনও জানালার কোণে লেগে আছে, অথচ বাইরে সকাল বেশ আগেই জেগে উঠেছে। বাগানের পাতায় জমে থাকা শিশিরের ওপর সূর্যের প্রথম আলো পড়ে ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝিলমিল করছে। দূরে পাখিদের ডাক, হালকা বাতাসে পাতার মৃদু শব্দ আর ঘরের ভেতরের শান্ত নীরবতা সব মিলিয়ে সকালটা যেন অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশি কোমল।
ঘুম ভাঙতেই নুহা কয়েক মুহূর্ত বুঝতেই পারল না সে কোথায় আছে। চোখ মেলে তাকাতেই প্রথমে দেখতে পেল পরিচিত বুকটা। ঊষানের বাহু তাকে শক্ত করে জড়িয়ে আছে, আর মানুষটা গভীর ঘুমে মগ্ন। সারারাতের ক্লান্তি যেন তার মুখের ওপর স্পষ্ট হয়ে আছে। সাধারণত ঘুমের মধ্যেও যার মুখে একটা কঠিন ভাব লেগে থাকে, আজ তাকে আশ্চর্য রকম শান্ত লাগছে।
নুহা নড়তে গিয়েও থেমে গেল। ঊষানের হাতটা এখনও তার চারপাশে জড়ানো। বাইরে সকালের আলো ধীরে ধীরে ঘরটাকে উজ্জ্বল করে তুলছে, আর সেই আলোয় নুহা চুপচাপ তাকিয়ে রইল ঘুমন্ত মানুষটার দিকে।
কয়েকদিন আগেও এই মানুষটার কাছাকাছি থাকাটাই তার কাছে কেমন। যেন দোটানার ছিল। অথচ আজ একই মানুষটার বুকের মাঝে নিজেকে এতটা নিরাপদ লাগছে এই অনুভূতিটাই নুহাকে নিজের অজান্তে কিছুটা অবাক করে দিল।
ঊষান ঘুমের মধ্যেই সামান্য নড়ে উঠল এবং নুহাকে আরও কাছে টেনে নিল। নুহা মৃদু বিরক্তির ভান করে ফিসফিস করে বলল,,,,,,,
~এত শক্ত করে ধরে ঘুমান কেন আপনি?
কোনো উত্তর এল না ঊষান তখনও গভীর ঘুমে।
নুহা তার মুখের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল,
~ঘুমের মধ্যে তো আর আপনার সেই রাগী চেহারাটাও নেই।
সকালের আলো আরও একটু উজ্জ্বল হলো। নুহা আস্তে করে ঊষান কে ছাড়িয়ে উঠে পড়লো।।
★ ★ ★ ★ ★
#চলবে

