#তোর অনুরাগে
#লেখনীতেঃতানজিলা_খাতুন_তানু
#পর্ব_১৫
____________
আদ্রিকে অজ্ঞান হয়ে যেতে দেখে আহসান খুবই অবাক হয়ে গেলো। আচমকা কি হলো,আহসান আদ্রিকাকে কোলে করে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে,ডাক্তারকে আসতে বললো। ডাক্তার এসে জানায় কোনো কিছু শোনার পর অতিরিক্ত উত্তেজিত হবার জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। আদ্রিকে ঘুমের ওষুধ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে ও ঘুমাচ্ছে। আহসান আদ্রির পাশে বসে অর্ককে ফোন করলো।
আহসানঃ অর্ক কি হয়েছে,আদ্রিকে তুই কি বললি।
অর্কঃ কেন কি হয়েছে।
আহসানঃ আদ্রি অজ্ঞান হয়ে গেছে।
অর্কের মুখে গম্ভীরতা ফুটে উঠল।
অর্কঃ আহসান তাড়াতাড়ি আদ্রিকে হসপিটালে এডমিট কর।
আহসানঃ আমি ডাক্তার কে এনেছিলাম।ডাক্তার বললো কোনো কিছুর জন্য উত্তেজিত হয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে। আর আমার যতটা মনে হয় তুই এমন কিছু বলেছিস যার জন্য আদ্রি অজ্ঞান হয়ে গেছে।
অর্ক চুপ করে আছে।
আহসানঃ অর্ক আমি আদ্রির হাসবেন্ড তাই সবকিছু জানার অধিকার আমার আছে,সবকিছু বল।
অর্কঃ আদ্রিকা রায়হান নিজের জীবনের সবার অধিকার বোধ পছন্দ করলেও আদ্রিকা রায়জাদা কিন্তু পছন্দ করে না। নিজের জীবন নিয়ে কাউকে কিছু বলার অধিকার কাউকে দেয়নি। তোর যদি সবকিছু জানতে হয় তাহলে আদ্রির মুখ থেকেই জানতে হবে.. শুধু মাত্র এইটুকুই বলবো, আদ্রির খুব প্রিয় মানুষটার উপরে আঘাত এনেছে,একসময়ের প্রিয় মানুষটা,,যেটা আদ্রি সহ্য করতে পারেনি উত্তেজিত হয়ে পড়েছে। আদ্রিকে তুই সামলা আমি বাকিসব দেখছি।
অর্ক ফোনটা কেটে দিলো, আহসানের সবকিছু মাথার উপর দিয়ে গেলো,, কিছুই বুঝতে পারলো না,তবে এইটুকু বুঝতে পারলো,আদ্রির রহস্য আদ্রি ছাড়া কেউ উদঘাটন করতে পারবে না।
কিছুক্ষন পর,,আদ্রির জ্ঞান ফিরে আসে। জ্ঞান ফিরে আসতেই আবারো উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
আহসানঃ আদ্রি আমি তোমাকে চুপচাপ বসে থাকতে বলেছি। আবার উত্তেজিত হয়ে পড়লে অসুবিধা হবে।
আহসানের ধমক শুনে আদ্রি কিছুটা শান্ত হয়।
আদ্রিঃ আমাকে যেতে হবে। আমাকে যেতে দাও।
আহসানঃ আমাকে সবকিছু বলো।
আদ্রিঃ সবকিছু বলার সময় এখন নেয়। ফিরে এসে সবটা বলবো কথা দিলাম।
আহসানঃ আমিও যাবো তোমার সাথে,, আমি তোমাকে কিছুতেই একা ছাড়বো না।
আদ্রিঃ আমি তোমাকে নিয়ে যেতে পারবো না প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো।
আহসানঃ আদ্রি আমি তোমার স্বামী আমার অধিকার আছে তোমার সাথে যাবার।
আদ্রি আহসানের দিকে তাকালো। আহসানের চোখে মুখে ভয় রাগ দেখতে পাচ্ছে।
আদ্রি কিছু একটা ভেবে বললোঃ আচ্ছা তুমি যাবে। তবে আমি যা বলবো তাই করতে হবে নিজের মতো কিছু করলে হবে না। আমার সব কথা শুনতে হবে,একটাও প্রশ্ন করলে চলবে না। করবে তো।
আহসান হ্যা বললো। আদ্রি আর আহসান বেড়িয়ে যায়। আদ্রি যেতে যেতে ফোনের ভেতরেই ঢুকে ছিলো,মানে ফোনেই কিছু একটা করছিলো। আহসান আদ্রির কথা মতো জায়গায় গাড়ি নিয়ে পৌঁছে গেলো।
আদ্রি আহসানের দিকে একটা মাক্স আগিয়ে দিয়ে বললোঃ এটা পরে নাও।
আহসান কিছু একটা জিজ্ঞাসা করতে গিয়েও করলো না। আদ্রির নিষেধ আছে।
আহসান মাক্সটা পরে গাড়ি থেকে নেমে চমকে উঠলো। ৫ জন দাঁড়িয়ে আছে,, পোশাক-আশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে না কতজন মেয়ে আর কতজন ছেলে।
আদ্রিঃ সবকিছু রেডি তো।
সকলেই মাথা নাড়লো। আহসান আদ্রির দিকে তাকালো মুখে মাক্স পড়া,, গায়ে তে ব্ল্যাক হুড্ডি।
একজন লোক… আদ্রিকে কিছু বললো,,আহসান কিছুই বুঝতে পারছে না।
আদ্রিঃ আপনারা নিজেদের কাজে চলে যান,, আর একটা কথা মনে রাখবেন,,আদ্রি কখনোই বেইমানি সহ্য করে না। যান..
লোক দুটো চলে গেলো। আদ্রি নিজের মুখের মাক্সটা খুলে ফেলে দিলো।
রাগে গজগজ করতে করতে বললোঃ তোমাকে আমি ছাড়বো না নিরব,ছাড়বো না। তোমার কোনো অধিকার নেয় আমার কলিজার দিকে হাত বাড়ানোর। তোমাকে আমি শেষ করে দেবো,শেষ করে দেবো।
নুপূরঃ আদ্রি শান্ত হ,সবকিছুই ঠান্ডা মাথায় করতে হবে।
আহসান ওদের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো, নুপূর,মাহিয়া,মারিয়া দাঁড়িয়ে আছে। আহসান সবটা গুলিয়ে ফেলছে।
মাহিয়াঃ কিন্তু আদ্রি তুই আহসান দাকে এইখানে এনে ঠিক করিস নি।
আদ্রি আহসানের দিকে তাকালো।
মারিয়াঃ হ্যা আদ্রি। এমনিতেই ওনার রিক্স আছে। আর এতগুলো রিক্স একসাথে নেওয়া ঠিক হবে না।
আদ্রিঃ আমার নিজের উপরে ফুল কনফিডেন্স আছে। একটু অপেক্ষা কর সবকিছু বুঝতে পারবি। আর দাভাই কোথায়?
নুপূরঃ আরেকটা গন্ডগোল হয়ে গেছে।
আদ্রিঃ কি?
মাহিয়াঃ ওরা সাগর দাকেও নিয়ে গেছে।
আদ্রি আরো রেগে গেলো।
আদ্রি মনে মনে বললোঃ আমার কাছের মানুষদের আঘাত করে কাজটা ঠিক করলেন না নিরব আহমেদ। সবকিছুর জন্য আপনাকে পস্তাতে হবে খুব।
আহসান কে আদ্রি এখনো সবকিছু খুলে বলেনি। তবে আহসানকে কিছু কাজ দিয়েছে.. আহসান আর দ্বিমত প্রকাশ করেনি এককথায় রাজি হয়ে গেছে আদ্রির কথায়।
আহসান আদ্রির কথা মতো সবকিছু কাজ করলো।
আহসানঃ নিরব ..
নিরব নিজের বাড়িতে দেখে চমকে উঠলো।
নিরবঃ তুমি এখানে।
আহসানঃ আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো।
নিরব বাঁকা হাসলো। আহসান নিজ পায়ে হেঁটে ওর কাছে এসে ধরা দিয়েছে। এই সুযোগটা কিছুতেই হাত ছাড়া করা যাবে না। নিরব এতটাই এক্সাটিং হয়ে পড়েছে ওর খেয়াল নেয় যে আহসান এতটা দূরে কিভাবে আসলো।
নিরবঃ তোমার সাথে আমরাও কথা আছে, কিন্তু এখানে বলা যাবে না তুমি আমার সাথে চলো।
আহসান মাথা নাড়ল। নিরব আহসানকে নিয়ে বের হয়ে গেলো।
আহসানকে নিরব একটা জায়গায় বেঁধে রেখেছে। আহসান চুপচাপ বসে আছে।
নিরবঃ আদ্রি রায়াজাদা ও সরি মিসেস আদ্রিকা আহসান কিভাবে এই ভুলটা করলো,,কিভাবে বাঘের গুহার সামনে শিকারকে ফেলে দিলো। এই কাজটা কিন্তু করা একদম ঠিক হয়নি।
নিরব হাসতে লাগলো।
নিরবঃ আদ্রিকে আমি ভালোবেসেছিলাম কিন্তু তার পরিবর্তে ও আমাকে ঠকিয়েছে।
আদ্রিঃ আদ্রি কখনোই কাউকে ঠকাই না। কিন্তু আদ্রির সাথে সকলেই বেইমানি করে।
নিরব আদ্রিকে দেখে চমকে উঠলো। আহসান আদ্রিকার কন্ঠস্বর শুনে সামনে তাকিয়ে থমকে গেলো। আদ্রিকে চেনা যাচ্ছে না,, কালো জ্যাকেট,কালো সু, মাথায় কালো টুপি,মুখে মাক্স।
নিরব তুতলে বললোঃ তুমি এখানে।
অর্কঃ নিরব তোমার বোঝা উচিত ছিলো আদ্রি একজন সিক্রেট অফিসার। সে এতটাই কাঁচা কাজ করবে না।
নুপূরঃ তোমাকে তোমার অন্যায়ের শাস্তি পেতেই হবে।
নিরবঃ কি করবে তোমরা।কিছুই করতে পারবে না। তোমাদের প্রিয় মানুষগুলো আমার কাছে।
মাহিয়াঃ পেছন থেকে আঘাত করা বন্ধ করুন।
মারিয়াঃ কাছের মানুষগুলোকে আঘাত করলে আপনি কখনোই ফিরতে পারবেন না।
নিরবের ঘাম ছুটে যাচ্ছে। সবাই চলে এসেছে।
আদ্রিঃ আগের বার বেঁচে গিয়েছিলেন কিন্তু এইবার পারবেন না।
তারপর.. দুইদলের মধ্যে হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির মাঝেই নিরব আদ্রির দিকে বন্দুক তাক করে,সবাই থেমে যায়।
নিরবঃ সবকিছূ মিথ্যার মাঝে একটা কথা সত্যি আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আদ্রিঃ যদি সত্যি ভালোবাসতেন তাহলে আমার দিকে এইভাবে বন্দুক তাক করতে পারতেন না। সেইভাবে সেইদিন আমাকে পাচার করার কথা চিন্তা করতে পারতেন না।
নিরবঃ হ্যা আমি সবকিছুই করেছি। সেই দিন পরিস্থিতিটাই ওইরকম ছিলো,, আর আজকেও। আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাকে না পেলে কেউ পাবে না। অন্য কারোর সাথে আমি তোমাকে সহ্য করতে পারবো না। পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।
অর্কঃ নিরব এটা করো না। তুমি কিন্তু বাঁচতে পারবে না।
আহসানঃ নিরব আমার বউ এর দিকে বন্দুক তাক করার শাস্তি তোকে পেতেই হবে। তোকে তো আমি।
সবাই বারন করছে,, আদ্রির কথা শুনে সকলেই থমকে গেলো।
আদ্রি চোখে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে বললোঃ গুলি চালান। আমি ও দেখতে চাই আপনি আমাকে সত্যি ভালোবেসে ছিলেন কিনা।
কথার মাঝে একটা গুলি বের হয়ে আসে।
হসপিটালে ওটির সামনে দাঁড়িয়ে আছে সকলে।
ডক্টর এসে বললোঃ পেশেন্টের হাতে বেশি সময় নেয়,, আপনাদের সাথে কথা বলতে চাইছে। আপনারা দেখা করে আসুন।
#চলবে…