#দৃষ্টির_অগোচরে_সে
#কলমে_লাবণ্য_ইয়াসমিন
#পর্ব_১১
হৃদয় ভাবলো লোকটা বাড়িতে যে নাম্বারটা দিয়ে ফোন করেছিল সেই নাম্বারে ফোন করলেই তাকে পাওয়া যাবে। কিন্তু ওর বন্ধুরা ওখানে কি করছিল যদি শাফিনের কথায় সত্যি হয়?। এতোদিনে বন্ধুত্ব সামান্য একটা ব্যপার নিয়ে এমন করে ওকে মারতে আসতে পারলো ওকে? ও তো কোনো ভুল করেনি যা করেছে ঠিক করছিল তবুও ওকে কেউ বুঝলো না। বিপদের দিনে বন্ধু চেনা যায়। সারাজীবন এক সাথে থেকেও ও ওদেরকে চিনতে পারলো না। এখন আফসোস হচ্ছে। ওদের সঙ্গ অনেক আগেই ত্যাগ করা উচিৎ ছিল। যাইহোক ও সিদ্ধান্ত নিলো কখনও আর ওদের সাথে মিশবে না। ওর এই কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই দীলারা বেগম রুমে প্রবেশ করলেন। উনি বেশ উদ্গ্রীব হয়ে ছেলের পাশে এসে বসলেন। এক হাত ছেলের মাথায় রেখে ছলছল চোখে বললেন,
> কতবার বলেছি রাত করে কোথাও যাবি না। আমার একটা কথাও শুনিস না। কতটা ব্যাথা পেয়েছিস বলতো। যদি কিছু হয়ে যেতো কি হতো আমার? আজ থেকে তোর বাইরে যাওয়া বন্ধ। কোথাও যাবি না। সারাদিন বাড়িতে থাকবি। (কান্না করে)
> আম্মু আমার কিছুই হয়নি। সামান্য একটু চোট পেয়েছি ঠিক হয়ে যাবে দেখো।
> এখন বলতো ওরা কারা ছিল? তোর বাবা পুলিশে খবর দিয়েছে ওরা আসবে কিছুক্ষণ পরে।
> এই সামান্য ব্যপারে তুমি পুলিশে খবর দিয়েছো কেনো আম্মু?
> তুই চুপ থাক তো। হৃদীতা সুপ তৈরী করতে গেছে এখুনি এসে যাবে। খেয়ে ঘুমা আমি একটু কেনাকাটা করতে যাবো। বিকালে হৃদীতা আর তন্ময়াকে নিয়ে এতিমখানায় যাবো। অনেক দিন যায় না। আমার ছেলেটার আজ এমন অবস্থা মনটা খুব খারাপ হচ্ছে। ওখানে গেলে ভালোলাগবে একটু।
> আম্মু আমিও কিন্তু যাবো। আমি সুস্থ হয়ে গেছি মানা করতে পারবে না কিন্তু।
> আচ্ছা।
ওদের কথা বলার মাঝেই হৃদীতা সুপের বাটি নিয়ে হাজির হলো। ওকে রেখে দীলারা বেগম বের হয়ে গেলেন তাড়া আছে বলে। হৃদীতা ভয়ে ভয়ে হৃদয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। ও খুব মনোযোগ দিয়ে হাতের খাবার গুলো ট্রি টেবিলের উপরে রাখছে হৃদয় সেদিকেই তাকিয়ে আছে। হৃদীতা সবুজ রঙের একটা থ্রি পিচ পড়ে আছে। চুল গুলো পেছনে রাবার দিয়ে বাধা।সাধারনের মধ্যেই অসাধারণ দেখতে লাগছে ওকে। এতোটা সুন্দর হৃদয় আগে কখনও দেখেনি। ওর অনেক মেয়ে বন্ধু আছে যারা সব সময় মেকআপের আবরণে নিজেকে লুকিয়ে রাখে হৃদয়ের এটা একদম পছন্দ করি না। ও তো এমন মেয়েকেই পছন্দ করে যে প্রকৃতই সুন্দর। হৃদয় ওর দিকে তাকিয়ে আছে টা ও বুঝতে পেরেছে তাই ও ওর দিকে তাকাতে পারছে না। হৃদীতা ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে। হঠাৎ ওর মনে হচ্ছে এখান থেকে এখুনি পালিয়ে যায়। কিন্তু যাবে কেমন করে শাশুড়ি আম্মা যে ওকে দায়িত্ব দিয়েছেন হৃদয় কে খাওয়ানোর। হৃদীতা মুখ নিচের দিকে করেই হৃদয়ের দিকে সুপের বাটি থেকে চামুচ ওর মুখের দিকে এগিয়ে ধরলো। হৃদয় শুধু ওর কর্মকাণ্ড দেখছে। এই মেয়েটা হঠাৎ ওকে দেখে এতো লজ্জা কেনো পাচ্ছে ওর জানা নেই। ওকে দেখে লজ্জা পাওয়ার কি আছে কে জানে। ও হৃদীতার হাত টা বাম হাত দিয়ে ধরে ডান হাত দিয়ে চামুচ টা নিয়ে নিলো।
> আমাকে কি তোমার রোগী মনে হচ্ছে যে চলতে ফিরতে পারে না এমন?। শোনো এই সামান্য আঘাতে হৃদয়ের কিছুই হয়না বুঝলে?( সুপ মুখে দিতে দিতে )
> জ্বী। আপনি কতটা শক্তিশালী সেতো গতকাল রাতেই দেখেছি। (মাথা নিচু করে)
> কি দেখেছো? (ভ্রু কুচকে)
> গাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলেন। ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আপনি মারামারি করেন বন্ধুদের সাথে। বলেছিলাম ঠিক না এমন করা। (কন্ঠ নিচু করে}
> তোমাকে কে বলেছে আমি মারামারি করেছি? এইসব না তোমার জন্য হয়েছে বুঝলে?। কে বলেছিল ওমন লাক্স সুন্দরী হয়ে ওদের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার? (রাগ দেখিয়ে)
> নিচে শাফিন ভাইয়া এসেছে উনি বলেছেন। আপনি খেয়ে নিন আগে।
> খাচ্ছি তুমি ওকে আমার রুমে পাঠিয়েছে দাও। আর শোনো গতকাল লোকটা যে নাম্বার থেকে ফোন দিয়েছিল ওটা আমার লাগবে। তন্ময়াকে বলো ওটা খুঁজতে ঠিক আছে?
> জ্বী আচ্ছা।
হৃদীতা হৃদয়ের সামানে থেকে উঠে মাথা নিচু করে দরজা পযর্ন্ত আসতেই হৃদয় আবার ওকে ডাকলো,
> এই শুনো!
> জ্বী বলুন।( পেছনে তাকিয়ে )
> এই ড্রেসটাতে তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। এমন সাধারন ভাবেই থাকবে তুমি। ওসব শাড়ি টাড়ি পড়বে না। আমার পছন্দ না লোকের সামনে ওমন উদ্ভট সাজে সেজে যাও ঠিক আছে? (রাগ দেখিয়ে)
> জ্বী আচ্ছা। (অবাক হয়ে)
> হ্যা বন্ধ করে দ্রুত যাও। (ধমক দিয়ে )
ও ধমক দিতেই হৃদীতা চলে আসলো। ও ভাবছে কি অদ্ভুত ছেলেরে বাবা একটু প্রশংসা করছে তাও আবার ধমক দিয়ে। শাড়ি পড়লে তো সবাই ওকে সুন্দর বলে তাহলে হৃদয় কেনো বললো উদ্ভট সাজে না সাজতে। ছেলেটার মাথায় সিট সত্যি সত্যিই আছে হয়তো। হৃদীতা ভাবতে ভাবতে নিচে গিয়ে দেখলো শাফিন নাস্তা করছে তন্ময়ার সাথে আর কথা বলছে। ওকে দেখেই ও বলল,
> ভাবি একটু খেয়ে নিলাম অনেক সকালে বের হয়েছি তো তাই খাওয়া হয়নি। হৃদয় কি খেয়েছে?
> জ্বী উনি খাচ্ছেন। রাতে যেই নাম্বার থেকে ফোন এসেছিল ওটা চেয়েছেন উনি।
> ও আচ্ছা যাচ্ছি আমি।
শাফিন খাবার খেয়ে হৃদয়ে রুমের দিকে এগিয়ে গেলো। হৃদয়ের খাওয়া শেষ ও পানি খেয়ে গ্লাস টা টেবিলের উপরে রাখতে রাখতেই শাফিন কে দেখে বিরক্ত হলো। ওর ধারনা এই পেটুক পা শুধু এই বাড়িতে খেতেই আসে।,
> ওই এসেছিস সেই কখন আর এখন আমার সাথে দেখা করতে এসেছিস? তুই বন্ধু না শত্রু হুম?
> রাগ করিস না দোস্ত প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছিল তাই আন্টি বলে গেলো খেয়ে নিতে। যাইহোক এখন বল কি হয়েছিল গতকাল রাতে।
হৃদয় ওকে সব খুলে বললো। সবটা শুনে ও শিউর যে ওর বন্ধুরাই ওকে মারতে এসেছিল কিন্তু ওদেরকে কে মেরেছে ওটা ও বুঝতে পারছে না। অবশেষে হৃদয় সেই নাম্বারে ফোন দিলো। দুবার ফোনে রিং হবার পর একজন ফোন তুললো। একটা ছেলে মিষ্টি করে ছালাম দিলো। অদ্ভুত সুন্দর সেই আওয়াজ।
> আসসালামুয়ালাইকুম মিস্টার হৃদয়।
> ওয়ালাইকুমাসালাম। আপনি আমার নাম কেমন করে জানলেন? (অবাক হয়ে)
> জেনেছি,আপনাকে চেনা কি খুব একটা কঠিন ব্যপার? গতকাল রাতে আপনাকে আমি উদ্ধার করেছিলাম তারপর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। আপনি এখন কেমন আছে?
> আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনার পরিচয় টা কি পেতে পারি?
> অবশ্যই পাবেন। আপনার কাছে যে আমার প্রিয় আর মুল্যবান একটা জিনিস রয়ে গেছে ওটার জন্য হলেও আমি আপনার সাথে পরিচয় করতে প্লাস দেখাও করতে ও চাই। বলুন দেখা করবেন আমার সাথে?
> জ্বী অবশ্যই করবো। আপনি আমাকে সাহায্য করেছেন। পরম বন্ধুর মতো কাজ করেছেন। একদিন আসুন আমার বাড়িতে।
> কখন আসবো শুধু একবার বলুন বন্দা হাজির হয়ে যাবে।
> আজ তো হবে না আপনি বরং আগামীকাল সন্ধ্যায় আসুন।
> আজ হবে না কেনো?
> আমরা কেউ বাড়িতে থাকব না।। একটু বাইরে যাবো। আপনি প্লীজ আগামীকাল আসুন ভালোলাগবে আমাদের।( অনুরোধ করে)
> ওকে অবশ্যই যাবো। আল্লাহ হাফেজ। এখন বাই।
> আল্লাহ হাফেজ।
হৃদয় ফোন রেখে ভাবছে লোকটা কে হতে পারে চেনা জানা কেউ নাকি? কি বললো লোকটা দামি জিনিস কি বা হতে পারে? এই সব ভেবে ওর মাথায় খারাপ হয়ে যাচ্ছেন । ওকে এমন করতে দেখে শাফিন বোঝালো,
> এতো কেনো ভাবছিস বলতো? ও আসলেই বোঝা যাবে লোকটা কে? আগেই ভেবে মাথা নষ্ট করার কোনো দরকার নেই। লোকটার নাম কি?
> এই যা কথায় কথায় নাম শুনতে ভুলে গিয়েছি।যাইহোক আগামীকাল আসবে তখন বিস্তারিত শুনবো। তুই কি এখন চলে যাবি?
> জেতে চেয়েছিলাম কিন্তু আন্টি মানা করেছে বিকালে এতিমখানায় বাচ্চাদের দেখতে যাবে আমাকে ও যেতে হবে। খুব মজা হতো তুমি সুস্থ থাকলে। (মন খারাপ করে)
> আমি সুস্থ ঠিক আছে? মাথাটা একটু ভার আছে ঠিক হয়ে যাবে।
ওরা আড্ডা দিতে দিতে অনেক সময় পার হলো। বিকালে বাড়ির সবাই মিলে বের হলো এতিমখানার উদ্দেশ্যে। হৃদীতা সাদা রঙের আর তন্ময়া সবুজ রঙের গাউন পড়েছে। দুজনকেই সুন্দর লাগছে। হৃদয় বারবার ওর দিকে তাকিয়ে দেখছে। ওর বেশ ভালোলাগছে আজ। সারা রাস্তায় তন্ময়া আর শাফিন বকবক করতে করতে এসেছে। হৃদয় আর হৃদীতা শুনেছে আর হেসেছে। সময় টা বেশ ভালো কাটলো ওদের।হৃদয় অন্যদিনের তুলনায় আজ অনেক খুশি। হৃদীতা বাচ্চাদের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে থেকেছে আর বারবার মনে করেছে আমিও এদের একজন। ওর আজ শুধু কান্না পাচ্ছে। ইচ্ছা করছিল ওখানেই থেকে যায়। তন্ময়া ওকে সামলে নিয়েছে। বাচ্চাদের জন্য ওরা আনেন কিছু এনেছে সেগুলো সবাইকে দিয়ে ওরা বিদাই নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে। সেদিন ওদের এভাবেই পার হলো। পরদিন হৃদয় ওর আম্মুকে বলেছে বাড়িতে একজন বিশেষ মেহমান আসবে যে ওকে সেদিন রাতে সাহায্য করেছিল। হৃদয়ের আম্মা বেশ খুশি হয়েছে অচেনা সেই অগন্তকের আগমনের খবর শুনে। উনি বেশ ভালো ভালো খাবার রান্না করলেন তার জন্য।
সন্ধ্যায় বাড়িতে সবাই অপেক্ষা করছে লোকটার জন্য। হৃদয় বারবার ঘড়ি দেখছে আর পায়চারি করছে। শাফিন এসে খাবার নিয়ে বসেছে। এটা ওটা টেষ্ট করছে আর দীলারা বেগমের পেছনে পেছনে ঘুরছে। ও একটু পেটুক টাইপের খাওয়া ছাড়া কিছুই বুঝে না। হৃদয় মাঝে মাঝে ওর দিকে তাকিয়ে বকছে কিন্তু ওর শুনছে না।
> লোকটা যখন বলেছে আসবে তখন আসবে এতো টেনশনের কি আছে বুঝলাম না। (পায়েস খেতে খেতে)
> তুই কথা না বলে খা।কথা বলবি না আমার সাথে।( দাঁতে দাঁত রেখে)
> ধন্যবাদ।( হাসি দিয়ে )
হৃদয়ের প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে লোকটা আসছে না দেখে। সেই লোকটার উপর ওর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ও আসলেই জানা যাবে গতকাল কি হয়েছিল। কিন্তু লোকটা আসবে তো নাকি আসবে না। লোকটার ফোন টাও বন্ধ কি করবে ঔ বুঝতেই পারছে না। ওর ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠলো। হৃদয় অপেক্ষা না করে দ্রুত গিয়ে দরজা খুঁলে দিলো। দরজার ওপাশে খুব সুদর্শন একটা ছেলে হাসি মুখে দাড়িয়ে আছে। ছেলেটার পোশাক আর চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে বেশ প্রভাবশালী। হৃদয় ছেলেটার দিকে তাকিয়ে ছালাম দিলো,
> আসসালামুয়ালাইকুম, আপনি কি ফোনের সেই?
> ওয়ালাইকুমাসালাম, জ্বী আমি সেই। আমার নাম সজীব রায়হান। আপনার বাবা হয়তো আমাকে চিনবেন। উনার সাথে আমার দেখা হয়েছে কয়েকবার।
> ভেতরে আসুন। হয়তো চিনবেন কিন্তু উনি এখন বাসাই নেই।(ভেতরে জেতে জেতে)
হৃদয় ওকে বাড়ির সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বসতে দিলো। দীলারা বেগম এটা ওটা প্রশ্ন করছে আর সজীব নামের ছেলেটা মিষ্টি হেসে সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। হৃদয় ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
> সেদিন কি হয়েছিল বলবেন? আসলে খুব জানতে ইচ্ছা করছে কি হয়েছিল। আমার বন্ধুদের ও ওখানেই পাওয়া গেছে আহত অবস্থায় আবার আমাকে ও।
> আমি একটা কাজে জন্য এসেছিলাম এই দিকে কিন্তু যখন ফিরছিলাম তখন দেখলাম আপনি পড়ে আছেন অজ্ঞান অবস্থায় আর কিছু ছেলেকে দেখলাম দূরে পড়ে আছে তাই আমার মনে হলো আপনাকে আগে বাঁচানো টা আমার বেশি প্রয়োজন তাই নিয়ে এসেছিলাম আপনার বাড়িতে। ভেতরে আসার সুযোগ ছিল না বাড়িতে আম্মু অসুস্থ ছিল তাই আপনাকে বাড়ির সামনেই রেখে চলে গিয়েছিলাম। আপনার বন্ধুদের কথা জানিনা ওদেরকে আমি ওমন অবস্থাতেই দেখেছি বিশ্বাস না হলে আমার ড্রাইভার কে জিঙ্গাসা করতে পারেন।
> আচ্ছা আপনি ওদেরকে রেখে আমাকে কেনো বাচাঁতে গেলেন। ওরাও ও অসুস্থ ছিল। আপনার কেনো মনে হলো আমাকে আগে বাড়িতে পৌঁছনোর দরকার?
হৃদয়ের এমন প্রশ্ন শুনে সজীব বিব্রত হলো তাই হৃদয়ের মা ওকে ধমক দিলো ওর যা ভালো মনে হয়েছে ও করেছে। এতো প্রশ্ন না করতে। হৃদয় চুপ করলো কিন্তু ওর মন বলছে এই ছেলের ধান্দা অন্যকিছু আর ওদেরকে মারলো সে কে তাহলে?। ও চুপ করে ভেবেই চলেছে অন্যদিকে দীলারা বেগম বেশ আলাপ জমিয়ে ফেলেছে সজীবের সাথে। কথাবার্তার শেষ পর্যায়ে উনি প্রস্তাব দিলেন ডিনার করে যাওয়ার জন্য। ও রাজি হয়ে গেলো এক বাক্যে। হৃদয় কথা বলছে না শুধু মাঝে মাঝে মাথা নাড়িয়ে সাড়া দিচ্ছে। সবাই খাবার টেবিলে গিয়ে বসতেই হঠাৎ দীলারা বেগম বলে উঠলো হৃদীতাকে ডাকতে। ও সন্ধ্যা থেকেই ঘরে আছে। অন্যদিন বাইরে আসে কিন্তু আজ আসেনি। গতকাল থেকে ওর মন বিশেষ ভালো না। কুসুম ওকে ডাকতে গেলো আর এদিকে অন্যরা বসে পড়েছে খাবার নিয়ে। কিছুক্ষণ পরেই হৃদীতা আসলো একপা দুপা করে। ও এসে দাঁড়াতেই দীলারা বেগম ওকে দেখিয়ে সজীব কে বলল,
> বাবা এইটা আমার বউমা । হৃদয়ের স্ত্রী হৃদীতা।
সজীব খাবার রেখে পেছনে তাকিয়ে হৃদীতাকে দেখেই দাঁড়িয়ে পড়লো। ও অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে অনেক দিনের চেনা কাউকে দেখছে ও। হৃদীতার বিরক্ত লাগলো। এমন করে তাকিয়ে থাকার কি আছে। সজীব কে এমন তাকিয়ে থাকতে দেখে হৃদয় সজীবের দিকে হাত ইশারা করে বলল,
> মিস্টার সজীব আপনি কি ওকে চিনেন এমন করে অবাক হয়ে দেখছেন?( ভ্রু কুচকে)
> চিনবো না কেনো? আমাদের অনেক দিনের পরিচয়।( ওর দিকে তাকিয়ে )
> মানে কি বলতে চাইছেন?পরিচয় মানে কেমন করে?
> আমারা দুজন দুজনাকে ভালোবাসতাম বিয়েও করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আপনি তো সব পরিকল্পনা নষ্ট করে দিলেন। আমি পারতাম কথাটা না বলতে কিন্তু ওকে দেখে কষ্টে কথাটা চেপে রাখতে পারলাম না। ওকে আমি এখনো ভালোবাসি। জানিনা ও এখন আমাকে শিকার করবে কি না।
কথাটা শুনেই হৃদয়ে প্রচণ্ড রাগ হলো ও হৃদীতার দিকে তাকিয়ে দেখলো হৃদীতা অবাক চোখে হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। হৃদয় ওর দিকে তাকাতেই ও ছলছল চোখে ইশারা করলো ও কিছুই জানেনা।হৃদয় এবার ওর চেয়ার থেকে উঠে এসে সজীব নামের ছেলেটার কলার চেপে ধরলো। ওদের ধস্তাধস্তি দেখে শাফিন দ্রুত ওকে গিয়ে আটকালো। উপস্থিত সবাই ভয় পেয়ে গেছে। হৃদয় হুঙ্কার ছেড়ে ওর দিকে তাঁকিয়ে বলল,
> তোকে আমার চেনা হয়ে গেছে। কি বললি হৃদীতা তোকে ভালোবাসতো তাই না?তাহলে শোন হৃদয় কখনও না জেনে কোনো কাচা কাজ করেনা। হৃদীতার সম্পর্কে আমি সব জানি। ও কখন কি করছে কোথায় আছে এমন কি ওর কয়জন বন্ধু আছে তাদের সাথে ওর কেমন সম্পর্ক সবটা। তাই আমার বাড়িতে এসে ওই সব আজগুবি কথা বললেই আমি বিশ্বাস করবো তুই ভাবলি কেমন করে? এখুনি বের হয়ে যা। কিসের ধন্যবাদ দিবো তোকে? তোর আসার আগেই একজন আমাকে সেভ করেছিল। তুই না সেই অচেনা লোকটা যে ওদেরকে মেরেছিল ও আমাকে বাঁচিয়েছে।।
> আপনি ভুল করছেন কিন্তু। আমি মিথ্যা কেনো বলবো?। আপনি আমাকে বিশ্বাস না করলে রিয়াকে ফোন দিয়ে জেনে নিতে পারেন।