#নিরবে নিভৃতে
#জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব-০২
তাসরিক বাসায় ফিরেই মায়ের নিকট বসে আছে। তাসরিকের মা তারানা বেগম ছেলের দুহাত শক্ত করে ধরে আছেন। তারানা বেগমের প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল। তাই তাসরিকের বোন দ্রুত ভাইয়ের নিকট কল লাগায়। তাসরিক এসে দেখতে পায় তারানা বেগম বিছানায় শুয়ে আছেন। নিঃশব্দে মায়ের পাশে বাসে। কিন্তু তারানা বেগম নিজের শরীরের চিন্তা না করে ছেলেকে উলটো জিজ্ঞাসা করেন, মেয়ে কেমন দেখলি? ভালো লেগেছে তো? না লাগলেও ওকে বিয়ে করতে হবে এটাই ফাইনাল। একথা শুনেই তাসরিক গম্ভীরমুখে চুপচাপ বসে আছে। তার মা যে এর জন্যই প্রেসার হাই করে ফেলেছে বুঝতে পেয়েছে। তারানা বেগম নিজের ছেলে সম্পর্কে অবগত। খুতখুতে স্বভাবের তার ছেলে। বিয়ে ছেলের সম্মতি তে হলেও মেয়ের বয়স কম এটাই নিয়েই তিনি ভয় পাচ্ছিলেন। তার ছেলের বয়স ত্রিশের কোঠায়। স্বাভাবিক ভাবেই কোন সতেরো বছরের মেয়েকে বিয়ে করতে চাইবে না। কিন্তু রাদিয়াকে তার বেশ মনে ধরেছে। তাই তো বিয়ের জন্য এতো তাড়াহুড়ো তার। ছেলের মত আছে কিন্তু যদি মেয়ের বয়স নিয়ে বেকে বসে তখন। তাই তিনি কোন রুপ ঝুকি নিতে চান না। যতোদ্রুত সম্ভব বিয়ের কাজ টা সেরে ফেলতে চাচ্ছেন। আর আজ তাসরিক আর রাদিয়ার দেখা করার বিষয় টা পুরোটা তাসরিকের বোনের ছলচাতুরী ছিল। সেই তাদের দেখা করার আয়োজন করেছে। কিন্তু তারানা বেগমের অজান্তেই। তাসরিকের বোন তনয়া খুব ভালো করেই জানে তার ভাই যে একটা রোবট। সেই ভেবেই দুজনকে একটি কাছাকাছি আনার জন্য এই প্লান করেছে। কিন্তু সে যে এতো বড় গাধামি করে ফেলবে বুঝতে পারেনি। এই কথাটা শুনেই তারানা বেগমের প্রেসার বেড়ে যায়। মেয়েকেও বকতে থাকেন।
তারানা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললেন,
“কিরে বাপ, বিয়েটা নিয়ে তোর কোনো সমস্যা নেই তো? দেখ, মেয়েটা তোর থেকে বয়সে একটু ছোটই কিন্তু তোর পাশে বেশ মানাবে। মেয়েটার মধ্যে একটা আলাদা মায়া আছে।”
তাসরিক হালকা বিরক্তি চেপে বলল,
“তাই বলে এত ছোট মেয়ে, আম্মু? আমাদের বয়সের পার্থক্য কম করে হলেও তেরো বছর! বয়স আঠারোও না হওয়া মেয়েকে বিয়ে করবো আমি? আমি একজন ক্যাপ্টেন হয়ে আমার বউ হবে কিনা একটা বাচ্চা মেয়ে। এটা জানাজানি হলে আমার সম্মান কোথায় যাবে ভাবতে পারছো? ”
তারানা বেগম শান্ত গলায় উত্তর দিলেন,
“আমি সেসব কিছু জানি না তাসরিক। তোমার বাবা ইতোমধ্যে মেহমানদের দাওয়াত দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। এখন তুমিও বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হও।”
“কিন্তু আম্মু, সে তো একেবারেই বাচ্চা! একদমই ইম্যাচিউর।”
ছেলের কথায় তারানা বেগম আলতো করে মুচকি হাসলেন।
“বাচ্চা তো কী হয়েছে? তুম না হয় নিজের মতো করে বড় করে নিবে, ম্যাচিউর করে নিবে। আমার বিশ্বাস, তুমি সেটা পারবি।”
তাসরিক কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। ঠোঁট দুটো শক্ত করে চেপে ধরল।
মায়ের বাধ্য ছেলে হিসেবে সে কখনোই মায়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যায়নি। কিন্তু আজকের এই সিদ্ধান্তটা তার নিজের জীবন নিয়ে তবুও সে কিছু বলতে পারল না। নীরবে মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়াল সে। তারপর ধীরে ধীরে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
____
কেটে গেছে এই দুটো দিন। এই দুই দিন রাদিয়া নিজেকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই বিয়ে নিয়ে কাউকে কিছু বলেনি এমনকি সিয়াকেও না। সবার ওপর একরাশ অভিমান জমে গেছে তার মনে। মনে হচ্ছে, তাকে যেন তাড়িয়ে দেওয়ার জন্যই এত আয়োজন।
একবার এই বাড়ি থেকে চলে যেতে পারলেই আর কখনো ফিরবে না।এমন আজগুবি সিদ্ধান্ত নিয়েই নিজেকে শক্ত করে রেখেছে সে।
বর্তমানে রাদিয়ার রুমের অবস্থা একেবারে নাজেহাল। ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মেঝেতে। তারই মাঝে হলুদ শাড়িটাও বিশ্রীভাবে মেঝেতে লুটিয়ে আছে। শরীরে এখনো লেগে আছে কাঁচা ফুলের কিছু অলংকারের অবশিষ্ট অংশ।
কিছুক্ষণ আগেই হলুদের পর্ব শেষ করে এসেছে সে। নিজেকে জোর করে সামলে নিয়ে অনুষ্ঠানে বসেছিল ঠিকই, কিন্তু কয়েকজনের কানাঘুষা তার কানে যেতেই মেজাজ বিগড়ে যায়। কিছুদিন আগের একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকজন তাকে নানা কথা শোনাতে থাকে। অথচ দোষটা তার ছিল না। বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়েই সে নিজেই বিপদে পড়েছিল। বন্ধুর ভালোবাসার মানুষকে পাইয়ে দিতে পালাতে সাহায্য করেছিল শুধু এতটুকুই। মেয়েটা তো তাদের পাশের বাসাতেই থাকত। কিন্তু সেই ছোট ঘটনাটাকে এলাকার এক লোক তিল থেকে তাল বানিয়ে, নিজের মতো করে রঙ চড়িয়ে রাদিয়ার নামে নানান অপবাদ ছড়িয়েছিল। আজ, নিজের হলুদের দিনেই সেই পুরোনো কথা টেনে এনে যখন তাকে খোঁচা দেওয়া হচ্ছিল, তখন আর নিজেকে সামলাতে পারেনি রাদিয়া। যে অপরাধ সে করেনি, সেই জন্য কথা শুনলে কার না রাগ হয়! রাগে তার শরীর কাঁপছিল। নিজেকে থামাতে না পেরে হলুদের মাঝখান থেকেই উঠে এসে নিজের ঘরে ঢুকে পড়ে। তারপর একে একে ঘরের সবকিছু এলোমেলো করে ফেলে। গায়ে জড়ানো শাড়িটাও এক টানে খুলে ফেলে দেয়। শাড়িতে আটকানো পিন দু’জায়গায় ফুটে গেলে ব্যথায় ককিয়ে ওঠে সে, কিন্তু সেই ব্যথার চেয়েও বুকের ভেতরের জ্বালাটা অনেক বেশি। বাইরে থেকে বারবার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে সিয়া। সঙ্গে রাদিয়ার মা-ও উদ্বিগ্ন কণ্ঠে ডাকছে তাকে,
“রাদিয়া, দরজা খোল মা।”
সিয়া ও অনরবত বার বার দরকায় করাঘাত করছে।
রাদিয়া বোন আমার দরজা খোল। ঠিক আছিস তুই? এই দরজা খোল প্লিজ বোন আমার। দেখ তোকে আর কোন বিষয় নিয়ে জোর করবো না।
রাদিয়া মাথা ব্যথা করছে। সাথে নিজের রাগটাকে দমানোর প্রয়াশ চালাচ্ছে। কিন্তু বাইরে থেকে ডাকাডাকি শুনে আরো বিরক্ত হলো। সবার কথা মতোই তো সব টা করছে এখন একটু ঘরেও শান্তি একাকি থাকবে সেটাতেও নাই।
দাঁত চিবিয়ে বলল
“আমি ঠিক আছি। ফ্রেস হবো বিরক্ত করো না কেউ। ”
_______
বেলা এগারো টা বাজে। তাসরিকদের বাড়িতে মেহমান ভরা। বিয়ে উপলক্ষে সকল আত্নীয়স্বজনরা এসেছে। তাসরিকের কাজিনরা বেশ নাস্তার টেবিলে সবাই বসে নাস্তা করছে। কিন্তু এখনো তাসরিকের খোঁজ নেই। তারানা বেগম ছেলেকে ডাকতে উপর যেতে নিলেই তাসরিক সিড়ি বেয়ে নিচে নামে। আর একটু পরেই হলুদের অনুষ্টান। অথচ ছেলেটা এখনো পাঞ্জাবি পরেনি দেখে তাসরিকের বাবা ছেলেকে উদ্দেশ্যে করে বললেন,
এখনো রেডি হওনি কেন। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে সে খেয়াল তোমার আছে। নাকি এই বিয়ে করতে চাইছোনা? তোমার কি নিজস্ব কোন পছন আছে থাকলে বলো।
তাসরিক খুব সাবলীল ভাবে জবাব দিল
— না নেই। কিন্তু বিয়ের ব্যপারটা আগে থেকে কি জানানো উচিত ছিল না। এভাবে হঠাৎ করে ছুটিতে এসে বিয়ে তাও বাচ্চা মেয়েকে।
তুমি কি তবে আসতে? আমি জানি বিয়ের আলাপ আলোচনা কথা শুনেই ইতোমধ্যে তুমি খোঁজ খবর নিয়েছ। বিয়ে করবে এর কি নিশ্চয়তা। আমি তাদের কথা দিয়েছি। তোমার মায়ের অবস্থা তোমার নিশ্চয় জানা আছে। আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করো না। জলদি রেডি হও।
তাসরিক অবাক চোখে বাবাকে দেখছে। তার সম্মানের জন্য তাকে এভাবে কি সুন্দর ভাবে বলি দেওয়া হচ্ছে। আশরাফ সাহেব বাইরে চলে গিয়েছেন। তাসরিকের আর খাওয়া হলো না। গটগট পায়ে উপরে চলে যায়।
•
বিয়ে বাড়ি। চারদিকে কোলাহল লোকে লোকারণ্য।পুরো বাড়িতে মানুষ গিজগিজ করছে। বিয়ে উপলক্ষে রাদিয়ার দাদা বাড়ির ও নানা বাড়ির সকলেই এসেছে। আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে পুরো বাড়ি। বড়রা বরযাত্রীদের আপ্যায়নের তদারকিতে ব্যস্ত।
রাদিয়াকে পুরোপুরি সাজিয়ে তোলা হয়েছে। তারানা বেগম ছেলের বউয়ের জন্য লাল টুকটুকে বেনারসি পাঠিয়েছেন, সঙ্গে প্রয়োজনীয় সবকিছু। সাজ শেষ হলে সিয়া একবার রাদিয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল
“মাশাআল্লাহ! কী সুন্দর লাগছে তোকে, রাদিয়া! একেবারে জান্নাতের হুরপরি। আজ তোর উনি তোকে দেখেই না জ্ঞান হারিয়ে বসে!”
বোনের কথায় রাদিয়া পিটপিট করে তাকালো। মুখটা একটু পাংশুটে করে বলল
“মজা নিচ্ছো, তাই না আপু? যত খুশি মজা নাও। আর কয়েক ঘণ্টা… তারপর তো পুরোপুরি পর হয়ে যাব। আজ এখান থেকে চলে গেলে আর তোমাদের কাছে আসব না।”
রাদিয়ার কথা শেষ হতেই সিয়া হালকা করে তার কান টেনে ধরল। দৃঢ় কণ্ঠে বলল
“এই, কী বললি তুই? পর হয়ে যাবি মানে? পর হবি কেন? সবার আগে তুই আমার বোন। আমার কাছে তুই কখনোই পর হবি না। আর আসবি না মানে? তুলে নিয়ে আসব তোকে, বুঝেছিস?”
“আউচ আপু, লাগছে! ছাড়ো…” রাদিয়া একটু হাসিমুখে বলল, “পর করার জন্যই তো বিয়ে দিয়ে দিচ্ছো!”
সিয়া মৃদু হেসে তার গাল ছুঁয়ে বলল
“তাই বলে কি পর হয়ে যাস? তুই আগেও আমাদের ছোট্ট রাদিয়া ছিলি আর ভবিষ্যতেও তাই থাকবি।”
সিয়ার কথা শুনে রাদিয়া আলতো করে বোনকে জড়িয়ে ধরে। সাথে চোখ ভরে আসে। কষ্ট হচ্ছে তার। খুব কষ্ট হচ্ছে। আর কয়েক ঘন্টা বাদেই সম্পর্ক বদলে যাবে। সে কারো নামে পুরোপুরি হয়ে যাবে। এক অচেনা অজানা পুরুষের সাথে জড়িয়ে যাবে তার গোটা জীবন। বন্দি শেখলে আবদ্ধ হয়ে যাবে সে। ভাবতেই বুক ভাড়ি হয়ে আছে। কান্না বেড়িয়ে আসতে চায়। দলা পাকিয়ে কান্না চলে আসে তার।
রাত আটটা। বরযাত্রীরা ইতোমধ্যে চলে এসেছে। রাদিয়ার কাজিন বর ভাই সকলে অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাদিয়ার মা রুমা বেগম এর ফাঁকে একবার মেয়ের ঘরে এসে মেয়ে কে দেখে গেছে। তার বাচ্চা মেয়েটা আজ থেকে তার থেকে দূরে চলে যাবে ভাবতেই বুকের ভীতর হাহাকার করে উঠে। না চাইতেও মেয়েকে অন্যের ঘরে পাঠাতে হবে। মেয়েটা আর তার কাছে খাইয়ে নেওয়ার বায়না করবে না। ঘুরেফিরে মা বলে ডাকবে না ভেবেই দু’চোখে পানি চিকচিক করে। রুমা বেগম শাড়ীর আঁচলে চোখের পানি মুচে নেন। যা হচ্ছে মেয়ের ভালোর জন্যই হচ্ছে। তবুও তিনি তো মা। মায়ের মন কি মানে। যতোই নিজের মন কে বুঝাক না কেন তিনি যে মমতাময়ী মা।
মেহমানদের খাওয়া দাওয়া শেষ হয়েছে। রাদিয়াকে তাসরিকের পাশে বসানো হয়েছে। ঘোমটার আড়ালে তাসরিক কে এক পলক দেখেছে রাদিয়া। কিছু লোকটার মাঝে কোন হেলদোল পায়নি। লোকটা কি বরাবরের মতোই এমন। রোরটের মতো। যেন থেকেও নেই। তার পাশে যে একটা মেয়ে বসে আছে তাকায়নি পর্যন্ত । কেমন যেন নির্লিপ্ত ভাব বিদ্যমান। রাদিয়ার বুক ধক করে উঠে। এই লোকটার সাথে সে সারাজীবন কাটাবে কিভাবে? যদি তাদের বন্ডিং টা সুন্দর না হয়? তাকে যদি কোন বিষয় নিয়ে জোড় করা হয়? রাদিয়াকে যদি বুঝতে না চায়? তাহলে সারাজীবন কাটাবে কি করে?
এই রকম হাজানো দুশ্চিন্তা মাথা ঘুরপাক খেতে থাকে। কাজী সাহেব লেখালিখি সেরে ফেলেছেন। এবার কবুল বলার পালা। কাজী প্রথমে তাসরিক কে কবুল করতে বললে কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকে। তারপর বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে অবশেষে কবুল করে। কবুল বলার সময় তার পাশে বসা নববধূবেশে মেয়েটাকে এক ঝলক দেখেও নেয়। তার জীববে জড়িয়ে যাওয়া বাচ্চা মেয়েটাকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী রুপে কবুল করে নিল।
এবার রাদিয়ার কবুল বলার পালা। কাজী কয়েকবার কবুল বলতে বললে রাদিয়া মাথা নিচু করে নিঃশব্দে ঠাই বসে থাকে। বুক টা ফেটে যাচ্ছে ন। চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝড়ছে সকলের অগোচরে। হাত উঠিয়ে কোনরকম চোখের পানি মুছে সামনে তাকালো। তার বাবা মোস্তফা সাহেব মেয়েকে কবুল বলতে ইশারা করে। রাদিয়ার অভিমান ভাড়ী হলো। আশেপাশে মা কে খুজলো কিন্তু রুমা বেগমকে কোথাও পেল না। সিয়া রাদিয়ার পাশেই ছিল। তাই সিয়াকে বলল
— “আম্মু কোথায় আপু?”
–“আছে হয়তো কোন কাজে। তুই চিন্তা করিস না। কবুল বলে দে বোন আমার। রাত বারছে বোন।”
রাদিয়া ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না আটকানোর চেষ্টা করে নিজেকে সামলানোর বৃথা চেষ্টা করলো। অবশেষে বুকে পাথর চাপা দিয়ে কবুল বলে দিল। কবুল বলার সাথে সাথে ঢলে পড়লো তাসরিকের গায়ের উপর।
বিয়ের কাজ সম্পুর্ন হয়েছে। রাদিয়া হঠাৎ করে তাসরিকের গায়ে ঢলে পড়তে নিলে তাসরিক কি ভেবে যেন সদ্য বিবাহিত অর্ধাঙ্গিনীর মুখটা দেখে নেয়। অচেনা এক অনুভুতি জাগলো কিনা মুখের ভাবভঙ্গিতে তা অস্পষ্ট। তবে মেয়েটাকে প্রথম দেখায় যতোটা ছোট লেগেছিল আজ বউরুপে যেন একদম ছোট লাগলো না।
রাদিয়া জ্ঞান হারানোর পর সিয়া চকমে উঠে। তাসরিকে বলে রাদিয়াকে ধরার জন্য। তাসরিক ওমন পরিস্থিতিতে পড়ে নিজেও ঘাবড়ে গেছে। যখন বুঝলো জ্ঞান নেই গালে আস্তে করে চাপর মেরে পরপর দুবার ডাক দেয়। কিন্তু রাদিয়ার কোন সারাশব্দ নেই।পানি এনে মুখের উপর পানির ঝাপ্টা দিতেই পিটপিট করে তাকাল। চোখের সামনে দৃশ্যমান হলো অচেনা একটা মুখ। তৎক্ষনাৎ ধরফড়িয়ে সোজা হয়ে বসে। মাথাটা তার প্রচুর ব্যথা করছে। সাথে গরমে তার অবস্থা নাজেহাল হয়ে গেছে।
এবার বিদায়ের পালা। রুমা বেগম মেয়েকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে দেয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রাদিয়ার চোখ থেকে এক ফোটাও পানি ঝরলো না। শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মোস্তফা সাহেব তাসরিকের হাতে রাদিয়াকে তুলে দিয়ে বললেন,
— আমার মেয়েটাকে দেখে রেখ বাবা ও ছোট মানুষ। ভুল করলে রাগ দেখিও না। বরং তাকে বুঝিয়ে দিও। ওর খেয়াল রেখো।
তাসরিক বিনয়ের সহিত মাথা নাড়ালো। রাদিয়াকে গাড়িতে তুলে দেওয়া হলো। তারানা বেগম রুমা বেগমের হাত ধরে মুচকি হেসে বললেন
আমি শুধু ছেলের বউ নিয়ে যাচ্ছি না। সাথে আমার মেয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আপনি চিন্তা করবেন না আপা। আমার সবটা দিয়া ওর খেয়াল রাখবো। বলেই তিনিও গাড়িতে উঠে বসে। পরপর বরযাত্রী আশা গাড়ি গুলো সারি বেঁধে চলে যায়। রুমা বেগম আরো কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেয়ের বিদায়ের পর মোস্তফা সাহেবের চোখে আসে। অশ্রকণা টুপ করে গড়িয়ে পড়ার আগে বিলিন হয়ে যায়।
চলবে….

