#নিরবে নিভৃতে
#জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব-০৪
______
সকাল সকাল এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, রাদিয়া কল্পনাও করেনি। তাসরিক চোখ মেলেই সামনে তাকাতেই রাদিয়ার হাত ফসকে শাড়ির কুঁচিগুলো মেঝেতে এলোমেলো হয়ে পড়ে গেল। আচমকা এই ঘটনায় দুজনই অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
রাদিয়া তৎক্ষণাৎ দু’হাত সামনে জড়িয়ে নিয়ে পেছন ফিরে দাঁড়াল। তাসরিক যেন কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল। সকালবেলা নিজের স্ত্রীকে এমন অবস্থায় দেখে সে নিজেও বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। রাদিয়ার শরীর কাঁপছে। সদ্য গোসল করে বের হওয়ার দরুন তার ভেজা চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে। পিঠের দিকের ব্লাউজ ভিজে শরীরের সঙ্গে লেগে আছে। লজ্জা, অস্বস্তি আর অপ্রস্তুততায় সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তাসরিক ধীরে মুখ থেকে হাত সরিয়ে গলা খাঁকারি দিল। মাথা চুলকে একটু ইতস্তত করে বলল,
— “মিস রাদিয়া, আমি আসলে…”
— “বেরিয়ে যান।”
তাসরিক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। তার ঘর থেকে তাকেই বেরিয়ে যেতে বলছে। অবশ্য মেয়েটা স্পষ্টই রেগে গেছে। কিন্তু তার নিজেরও কিছু করার ছিল না। সে কি আর জানতো তার ঘরে তারই বিবাহিত স্ত্রী আছে। গতোকাল অবধি তো এই ঘরে একাই ছিল। তাই হঠাৎ করে কি আর সে খেয়াল আছে। সে তো জানত না এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। আবারো বলার চেষ্টা করল সে,
— “দেখুন, আমি কিছুই দেখিনি। আপনি যেমনটা ভাবছেন তেমন না…”
ওদিকে রাদিয়ার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। শ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে। এমন আহাম্মকের মতো কাজ করে নিজের ওপরই ভীষণ রাগ হচ্ছে তার। সাথে তাসরিকের উপর ও হচ্ছে। একটু দেরি করে উঠলে কি ক্ষতি হতো। ভেবেছিল তাসরিক দেরিতে উঠবে এই সুযোগে শাড়ি কোন রকম পরে নেবে। কিন্তু তার আগেই সব ওলটপালট হয়ে গেল। এই প্রথম কোনো পুরুষ তাকে এমন অবস্থায় দেখেছে এই ভাবনাতেই তার চোখে পানি এসে গেল।
তাসরিক হয়তো রাদিয়ার লজ্জা আর অস্বস্তিটা টের পেয়েছিল। বিব্রত মুখেই সে উল্টো দিকে ঘুরে ওয়াশরুমে চলে গেল। তাসরিক সরে যেতেই রাদিয়া যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। বুকের ওপর হাত রেখে ধীরে ধীরে দম ছাড়লো সে। অথচ বুকের ধুকপুকানি এখনো কমেনি।
রাদিয়া এবার শাড়ির কুচিগুলো গুছাতে লাগলো, কিন্তু কিভাবে কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। এর আগে কখনোই শাড়ি পরা হয়নি তার। জীবনের প্রথম শাড়ি পরেই বিয়ে! ভাবতেই নিজের অজান্তে ঠোঁটে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো। মনে মনে প্রশ্ন জাগলো “বাবা এত তাড়াতাড়ি কীভাবে তাকে অন্যের ঘরে পাঠিয়ে দিল?” চারপাশের সব মানুষই অচেনা, অজানা। ভয়টা যেন বুকের ভেতর আরও জেঁকে বসছে। তার ওপর নিজের সমস্যাটা মুখ ফুটে কাউকে বলতেও পারছে না। এখন যদি বাড়িতে থাকতো, মা হয়তো এক নিমেষেই শাড়ি পরিয়ে দিতো। “কিন্তু এখানে মা কোথায়? ভাবতেই বুকটা হু হু করে উঠলো। কান্না গলা পর্যন্ত এসে থেমে গেল।
তবুও নিজেকে শক্ত করলো রাদিয়া। মনে মনে বলল, “যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন এসব ভেবে লাভ নেই।” এখন এই শাড়ী নামক ঝঞ্জাট কিভাবে পরা। তার ওপর লোকটাও ঘরে আছে। কখন আবার বেরিয়ে আসবে, তার ঠিক নেই। আর ঝুঁকি না নিয়ে রাদিয়া শাড়িটা হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে ভেতর থেকে ছিটকানি লাগিয়ে দিল। এবার অন্তত শান্তিতে পরা যাবে। এদিকে তাসরিক ওয়াশরুম থেকে বের হতে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলল। বিরক্ত গলায় বলল,
“রাদিয়া, আপনি ছিটকানি লাগিয়েছেন কেন? আমি বের হবো, দ্রুত খুলুন।”
রাদিয়া তাড়াহুড়ো করে শাড়ি পেঁচাতে লাগলো। কিন্তু তার দ্বারা ঠিকমতো শাড়ি পরা যেন অসম্ভব। মনে হলো, এই শাড়ির সাথে লড়াই করার চেয়ে ওই হনুমানটার সংসার করাই হয়তো সহজ!
দরজা না খুলতে দেখে তাসরিক আবারও রাগী গলায় বলল, “দরজা কি খুলবেন না? আমি কিন্তু ভেঙে বেরিয়ে আসবো!”
তাসরিকের রোষানল গলার আওয়াজে রাগ স্পষ্টই রাদিয়ার কানে পৌঁছালো। ভরকে উঠলো । বুঝতে পারলো, লোকটা সত্যিই রেগে গেছে। আর এভাবে তাকে ওয়াশরুমে আটকে রাখা ঠিক হয়নি।
তাড়াতাড়ি করে আঁচলটা কোনোমতে ঠিক করে রাদিয়া দরজার ছিটকানি খুলে দিল।
তাসরিক কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। এক ভ্রু তুলে রাদিয়ার পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে তাকে পর্যবেক্ষণ করল। রাদিয়া কাচুমাচু ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শাড়িটাও ঠিকমতো পড়া হয়নি। তাসরিক ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
” জোকার সেজে বসে আছেন যে ? এখনো শাড়িটা পড়েননি?”
রাদিয়া চট করে মাথা তুলল। কথাটা শুনে তার চোখ-মুখ মুহূর্তেই রাগে লাল হয়ে উঠল। হিসহিসিয়ে বলল,
–” কি বললেন আপনি? আমি জোকার?”
তাসরিক নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,
–“আমি তো সেটা বলিনি। শুধু জিজ্ঞেস করলাম এভাবে এখনো আছেন কেন।”
রাদিয়ার রাগ যেন আরও বেড়ে গেল। মনে হলো, লোকটা তাকে অপমান করেছে। দাঁত চেপে পিছন ঘুরতেই পায়ের সাথে শাড়ি পেঁচিয়ে গেল। পড়ে যাওয়ার আগেই তাসরিক দ্রুত এগিয়ে এসে তার কোমর পেচিয়ে বাহুডোরে ধরে নেয়। সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে রাদিয়া কিছুই বুঝে উঠতে পারল না। আতঙ্কে চোখ-মুখ খিচে শক্ত করে ফেলল। কয়েক সেকেন্ড পর বুঝতে পারল, সে তাসরিকের বাহুর মধ্যে। ঝট করে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। বিয়ের পর থেকেই কী সব অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে তার সাথে তাও আবার এই লোকটার সাথে! ভাবতেই শরীর কাটা দিয়ে উঠল।
তাসরিক কিছুটা বিরক্ত গলায় বলল,
“শাড়ি পরতে না জানলে পরতে গেলেন কেন? বাচ্চা মেয়ে হয়ে কি একদিনেই পূর্ণ নারী হতে চান?’
রাদিয়া নিচু স্বরে বলল,
” আসলে নিয়ম অনুযায়ী আজ শাড়ি পরতে হতো… কিন্তু আমি পরতে জানি না।”
তার মৃদু স্বর শুনে তাসরিক কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেল। গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“আমি হেল্প করছি।”
রাদিয়ার বুক কেঁপে উঠল। সে কিছুতেই এই লোকের সাহায্য নিতে চায় না। শাড়িটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বলল,
—“না… আপনি কাউকে ডেকে দিন, প্লিজ।”
তাসরিক এবার একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
–“লিসেন, এটা বিয়েবাড়ি। এখানে সবারই কাজ আছে। কেউ বসে নেই। পরতে চাইলে পড়ুন, না চাইলে থাকুন আই ডোন’ট কেয়ার। এমনিতেই আমার এত ফালতু সময় নেই।”
মুখের উপর এভাবে বলাতে অপমানিত বোধ হলো। পরক্ষণেই মস্তিষ্ক সায় দিল। রাদিয়া দ্বিধায় পড়ে গেল। এছাডা উপায় না দেখে শেষমেশ রাজি হলো। সে শাড়ির ওপর ওড়না জড়িয়ে নিল। তাসরিক এগিয়ে এসে দক্ষ হাতে শাড়ির কুচিগুলো ঠিক করতে লাগল। তার হাতের কাজ এত নিখুঁত, যেন সে এ কাজে অভ্যস্ত। সব ঠিক হয়ে গেলে তাসরিক কুচিগুলো রাদিয়ার হাতে দিয়ে নিজে হাঁটু গেড়ে বসে নিচের অংশ ঠিক করতে লাগল। রাদিয়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। অবাক হয়ে ভাবল লোকটা এত যত্ন নিয়ে শাড়ি ঠিক করছে! তবে কি সে সত্যিই শাড়ি পরাতে জানে? তার মনে অজানা এক কৌতূহল জেগে উঠল।
কৌতূহলের মাঝেই তাসরিক হঠাৎ থেমে রাদিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
“শাড়িটা গুঁজে নিন।”
“হ্যা?” রাদিয়া ঠিক বুঝে উঠতে পারল না।
তাসরিক আর দেরি করল না। নিজেই এগিয়ে এসে শাড়িটা ঠিক করে গুঁজে দিল। শাড়ি গুঁজতে গিয়েই তার আঙুল হালকা ছুঁয়ে গেল রাদিয়ার পেট। মুহূর্তের মাঝেই রাদিয়ার পুরো শরীর যেন কেঁপে উঠল। অজানা এক শিহরণ বয়ে গেল শিরায় শিরায়। বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে উঠল অকারণে। অদ্ভুত এক অনুভূতিতে শরীরটা যেন অবশ হয়ে এল। তাসরিক ততক্ষণে নির্বিকার ভঙ্গিতে সরে গিয়ে কাবার্ডের দিকে এগিয়ে গেছে। যেন কিছুই ঘটেনি। রাদিয়া স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। হাত-পা কেমন অবশ লাগছে। মুখজুড়ে লাজের লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে। সে যেন নড়তেও ভুলে গেছে। কাবার্ড থেকে কাপড় বের করতে করতে তাসরিক বলল,
ওভাবে খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে না থেকে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিন। সবাই অপেক্ষা করছে।
রাদিয়া ধীরেধীরে মাথা নাড়ল। কিন্তু মনের ভেতরটা এখনো অস্থির। শাড়ির ব্যাপারটা মাথা থেকে সরছে না কিছুতেই। শেষ পর্যন্ত মনের কথা চেপে রাখতে না পেরে প্রশ্নটা করে ফেলল
“আপনি… শাড়ি পরাতে জানেন? কিভাবে? আগে কাউকে পরিয়েছিলেন?”
প্রশ্নটা করেই নিজেই থমকে গেল রাদিয়া। এমন অদ্ভুত প্রশ্ন! লজ্জায় গালটা আরও লাল হয়ে উঠল। তাসরিক থামল। নিস্পৃহ ভাবে তার দিকে ফিরে তাকাল। চোখে অদ্ভুত এক গভীর দৃষ্টি। দৃষ্টির গভীরতা বুঝতে না পেরে রাদিয়ার বুক কেঁপে উঠল। তাসরিক ঠান্ডা স্বরে বলল
— “আমার আরেকটা বউ ছিল তাকে পরিয়েছি।”
তাসরিকের ত্যাড়া জবাবে রাদিয়া নিঃশব্দে স্তব্ধ হয়ে গেল। থমথমে মুখে সরে গেল। তাসরিক রাদিয়াকে আর পাত্তা না দিয়ে রেডি হতে নেয়।
এরই মাঝে ঘরে আগমন ঘটে তনয়ার। বয়স রাদিয়ার থেকে একটু ছোট। তনয়া এবার ফাষ্টা ইয়ারে। আর রাদিয়া পরিক্ষা দিবে। রাদিয়াকে রেডি দেখে এক গাল হেসে রাদিয়ার হাত টেনে ধিরে বলল, ভাবি চলো। নিচে সবাই অপেক্ষা করছে। রাদিয়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে টেনে নিয়ে যায়।
________
“বাড়ির বউ এতো বেলা করে ঘুমিয়ে থাকে। এটাকোথাও দেখেছ আপা?”
নিচে আসতেই সোফায় বসে থাকা খালা শাশুড়ীর মুখ থেকে এমন কথা শুনে থমকে যায় রাদিয়া। তার পাশেই বসে আছে তারানা বেগম। বোনের কথায় মুচকি হাসির রেখা টেনে জবাবে বললেন,
“বাড়ির বউ! আমি তো বাড়িয়ে মেয়ে এসেছি।”
‘যাই বলো না কেন। অন্যের বাড়ি মেয়ে। যতোই আপন ভাবো সে কি তোমাদের আপন ভাব্বে। বাড়ির বউকে এতো লাই দিও না। মাথায় উঠতে নাচতে শুরু করবে।’
কে বলল অন্যের বাড়ির মেয়ে। আমি মোস্তফা ভাইয়ের কাছ থেকে রাদিয়াকে চেয়ে নিয়েছি। তাছাড়া মেয়েটা সবে মাত্র নতুন পরিবেশে এসেছে। নতুন যায়গা নতুন পরিবেশ হয়তো মেয়েটার ঘুম ও ঠিকমতো হয়নি। তাছাড়া নতুন মানুষজনের মাঝে অস্বস্থি লাগবে। সব টা মানিয়ে নিতে একটু সময় তো লাগবে।
বোনের কথা শুনে মুখে ঝামটা মারলেন শাহেদা বেগন। বোনকে খুব ভালো করে চিনেন তিনি। তার বোন মাত্রাধিক পরিমান ভালো মানুষ। কিন্তু অন্যের মেয়ে কে নিয়ে আদিখ্যেতা দেখে গা জ্বলে যাচ্ছে তার। কই তার মেয়েকে নিয়ে তো কখনোই এমন ভাবেনি। চেয়েছিল নিশার সাথে তাসরিকের বিয়ে দিয়ে। কিন্তু তার আগেই তার বোন হঠাৎ করেই এতোবড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। রাগে গজগজ করতে করতে তিনি সোফা ছেড়ে উঠে চলে যায়।
এদিকে শাশুড়ী মায়ের কথা শুনে রাদিয়ার প্রশান্তিতে মন টা ভরে যায়। শাশুড়ী মা কে বেশ পছন্দ হয়েছে তার। কথা বার্তায় স্পষ্ট ভাব। সাথে অমায়িক আন্তরিকতা। রাদিয়া এগিয়ে আসলে তারানা বেগম নরম গলায় বললেন
— ‘ঘুম কেমন হয়েছে মা?’
রাদিয়া ছোট করে জবাব দিল
–‘জ্বি ভালো।’
তারানা বেগম খেয়াল করছেন রাদিয়ার হাত গলা সব খালি। তাই বললেন
— ‘তোমার গহনা – গাটি কই?’
রাদিয়া অপ্রস্তুত হয়ে হাত দিয়ে গলা ছুঁয়ে বলল
— ‘আমি আসলে ভুলে গেছি। গোসলের সময় খুলে রেখেছিলাম।’
তারানা বেগম মুচকি হেসে বললেন,
সমস্যা নেই। তুমি ঘরে গিয়ে পরে নিও কেমন। কালকের দিন টা পর্যন্ত মানিয়ে নেও। কালকের অনুষ্টানের পর সবাই চলে যাবে।
রাদিয়া চট করে বলে উঠে
–‘সমস্যা নেই।’
তারানা বেগম বুক প্রশান্তিতে যায়। বাছাই করে একেবারে খাটি সোনা নিজের ছেলের জন্য এনেছেন। একদম আদুরে পুতুল। এখন ছেলেটা সব টা মানিয়ে নিলেই হলো। তারানা বেগম রুটি ছিড়ে গরুর মাংসের ঝোল দিয়ে রাদিয়ে মুখের সামনে ধরে। রাদিয়া অবাক হয়। খানিকটা হকচকিয়ে ও যায়। মা ব্যতীত কখনো কারো থেকে খাবার খাইয়ে নেইনি সে। অথচ এই মানুষটাকে সে ভালো করে চিনেও না। অথচ কতোটা আপন করে নিয়েছে। সব কিছু স্বপ্নের মতো লাগছে। সে হয়তো প্রথম বউ যে কিনা বিয়ের প্রথম দিনেই শাশুড়ী মা নিজে খাবার খাইয়ে দিচ্ছে। চোখ পানি এসে যায়। এরই মাঝে তাসরিক নিচে নামে ফরমাল ড্রেসে। নাস্তার টেবিলে বসে এক নজর মা আর রাদিয়ার দিকে তাকাল। তারপর গাম্ভীর্য বজায় রেখে চুপচাপ খাওয়ায় মন দেয়।
তারানা বেগম রাদিয়ার চোখের পানি চিকচিক করছে দেখে উদ্বিগ্ন কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন
–‘কি হয়েছে মা। চোখে পানি কেন?’
রাদিয়ার গলা ধরে আসে। কোন মতে নিজেকে সামলে কাতর গলায় বলল,
–‘মায়ের কথা মনে পড়ছে। আম্মু ও আমাকে এভাবে খাইয়ে দেয়।’
বলেই রাদিয়ার চোখ থেকে নোনাজল গড়িয়ে পরে। তারানা বেগমের মাতৃহৃদয় ছলাৎ করে উঠে। তাড়াতাড়ি করে খাবার রেখে আরেক হাতে আলতো করে রাদিয়ার গালে হাত রেখে বলল,
কাঁদছ কেন মা। আমি আছি না। শাশুড়ী মা বলে কি পর পর ভাববে। আমি যেমন তাসরিক ও তনয়ার মা ঠিকই সেরকম আজ থেকে তোমার ও মা। আজ থেকে আমায় মা বলেই ডাকবে। পারবেনা আমায় নিজের মায়ের মতো ভাবতে?
রাদিয়া অশ্রুসজল চোখে তাকায়। মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়। তারানা বেগম তৃপ্তির হাসির দিলেন।
তাসরিক এতোক্ষণ যাবব চুপ মনে মা আর স্ত্রীর কথোপকথন শুনছিল । রাদিয়ার প্রতি অজান্তেই একরাশ কোমল অনুভূতি জমা হতে থাকে তার মনে, নীরবে নিভৃতে।
চলবে….

