নীড় হারা পাখি পর্ব-০৩

0
591

#নীড়_হারা_পাখি
#৩য়_পর্ব

নিগুঢ় রাত, ব্যস্ত শহরে নেমে এসেছে কৃষ্ণ আঁধার। ঘরের প্রতিটি প্রাণ এখন বেঘুরে ঘুম। শুধু ঘুম নেই অভিলাষার চোখে। চোখের পাতা এক করতে পারছে না সে। দাঁড়িয়ে আছে বারান্দার কাছে। চোখজোড়া প্রতিক্ষিত। তিমির যে এখনো ফিরে নি, অভিলাষা তাকে বেশ ক’বার তাকে ফোন করেছে। কিন্তু বান্দা ফোন ধরে নি। ফলে নিকষকালো ভালো বারবার হা/না দিচ্ছে অভিলাষার ভয়ার্ত হৃদয়ে। ঘরের নিস্তব্ধতা ঘড়ির কাটার টিকটিক শব্দটিকেও প্রগাঢ় করে তুলছে। অভিলাষা ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ঘড়ির দিকে চাইলো। একটা বাজতে দুমিনিট বাকি। আর অপেক্ষা করাটা ঠিক হবে না। কিছু একটা ভেবে সুরভীর ঘরের সামনে গেলো সে। হালকা কড়া নাড়লো। মিহি কন্ঠে বললো,
“ভাবী, ঘুমিয়ে গেছো?”

মিনিট দুয়েক বাদেই ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুললো সুরভী। তুরান ও চশমাটা চোখে দিয়ে এলোমেলো পায়ে এগিয়ে গেলো। বসা গলায় বললো,
“কি হয়েছে অভিলাষা?”
“ভাইয়া, তিমির এখনো ফিরে নি। ফোন করছি, ধরছে না”

অভিলাষার চিন্তিত কন্ঠে সুরভীর কপাল কুঞ্চিত হলো। বিস্মিত কন্ঠে শুধালো,
“এতো রাত হয়ে গেছে অথচ এখনো ফিরে নি! এমন তো হয় না”
“আমারো চিন্তা হচ্ছে। ফোনটাও ধরছে না। ভাইয়া একটু দেখবেন?”

তুরান বা হাত দিয়ে কপাল ঘষলো। ছোট ভাই এর বেপরোয়া ভাব যেনো বড্ড বেশি বিরক্ত করছে তাকে। এখনো ছেলেটার দায়িত্বজ্ঞান হয় নি। সর্বদা যখন যা মনে আছে তাই করে, পাছে কেউ যে তার জন্য দুঃশ্চিন্তা করবে সেটা একটি বার ও ভাবার অবকাশ নেই তার। অন্য সময় হলে হয়তো সে গা ছাড়া ভাব দেখাতো। বলতো,
“যে যখন ফেরার ফিরবে, না ফিরলে না ফিরবে। আমার কি? আমার কাল সকালে বের হতে হবে”

কিন্তু অভিলাষার করুন মুখখানা দেখে কথাটা গিলে ফেললো অচিরেই। শান্ত কন্ঠে বললো,
“আমি দেখছি, তুমি চিন্তা করো না। সুরভী ওকে ঘরে নিয়ে যাও। এই সময় এতো দুশ্চিন্তা ভালো নয়”

সুরভী মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। অভিলাষার কেনো যেনো বুক কাঁপছে। ভয় হচ্ছে, বিশ্রী বি/ষা/ক্ত ভয়। আজকাল প্রায় ই তার ভয় করে। ভয় হয় তিমিরের অস্থিরতার জন্য। লোকটি অর্থ উপার্জনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যেনো অনাগত প্রাণটিকে সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ দিতে পারে। এই সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় বর্তমান হারিয়ে যাবার ভয়টাই কাবু করে দিচ্ছে অভিলাষাকে। সুরভী ধীর স্বরে বললো,
“তিমির কি কিছু বলেছিলো?”
“না”

এর মাঝেই তুরান ঘরে প্রবেশ করলো। চিন্তিত কন্ঠে বললো,
“তিমিরের সব বন্ধুদের ফোন দিয়েছি। ওরা তো কিছু বলতে পারলো না। ওর কাজের জায়গার নম্বর আছে কি অভিলাষা?”
“না, ও তো কারোর নম্বর দেয় নি। আমিও রাখি নি”
“এটা কোনো কথা? বিপদ আপদের ঠিক আছে। এতো রাত হয়েছে অথচ এখনো বাড়ি ফিরে নি, এখন কোথায় যাব?”

অভিলাষা নীরব রইলো। তুরানের কথার যুক্তি রয়েছে। এতো রাতে কোথায় বা যাবে সে! কার সাথে যোগাযোগ করবে! অভিলাষার ভয়ার্ত, চিন্তিত মুখখানা দেখে সুরভী বললো,
“তুমি কি ওর কোম্পানিতে যাবে? ওখানে গেলে খোঁজ পাবে”
“এতো রাতে কোন কোম্পানি আমার জন্য খুলে বসে রয়েছে সুরভী?”

তুরানের ঝাঝালো কন্ঠে থেমে গেলো সুরভী। তুরান গাল ফুলিয়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লো। ভাইয়ের উপরের তীব্র ক্রোধ নিজের বউ এর উপর বর্ষণ করাটা মোটেই উচিত নয়। তাই নিজেকে শান্ত করলো সে। শান্ত গলায় বললো,
“আমি একটু বাহিরে যাচ্ছি। মোড়ে যেয়ে দেখি কি অবস্থা! তুমি চিন্তা করো না অভিলাষা, তিমিরের কিছু হবে না। আর এই কথাগুলো যেনো এই ঘরের বাহিরে না যায়। মাকে এখন সামলাতে পারবো না”

তুরানের কথা শেষ হবার পূর্বেই তার ফোন বেজে উঠলো। ক্রিনে “তিমির” নামটি জ্বলজ্বল করছে। সময় নষ্ট না করেই ফোনটি ধরলো তুরান। ফোন রিসিভ করতেই মুখের ভাব বদলে গেলো তুরানের। গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“আমি আসছি”

সুরভী কুন্ঠিত কন্ঠে বললো,
“কি হয়েছে?”
“আমি একটু বের হবো। তুমি একটু এদিকে এসো তো কথা আছে”

সুরভী কথা বাড়ালো না। উঠে তুরানের সাথে বাহিরে গেলো। অন্যদিকে অভিলাষার মনে ভয়টা যেনো আরোও তীব্র হলো। তুরানের মুখশ্রীর চিন্তার রেশ তাকে আতংকিত করছে। তিমিরের কি কিছু হলো!

বাহিরে যেতেই তুরান বললো,
“আমাকে হাজার আটেক টাকা দাও”

কথাটা শুনতে বিস্মিত হলো সুরভী। অবাক স্বরে বলল,
“এতো টাকা কেন?”
“তিমিরের একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে। হাতে টাকা দরকার”
“ও কেমন আছে?”
“জানি না, বা হাতের আঙ্গুল নাকি ফেটে গেছে। এভাবে আপাতত আর কোথাও চোট পায় নি। ভাগ্য ভালো একটুর উপর দিয়ে গেছে। তাই বলছি টাকাগুলো দাও”
“কিন্তু সেগুলো তো তুলিকার জন্য….”
“পরিবারের জন্য জন্য জমানো টাকা, পরিবারে খরচ হবে। সেটা তুলিকা হোক বা তিমির”

গম্ভীর স্বরে কথাটা বললো তুরান। সুরভী আর কথা বাড়লো না। টাকাগুলো তুলিকার চিকিৎসার জন্য জমিয়েছিলো সুরভী। কিন্তু এখন সেগুলোই দিয়ে দিতে হচ্ছে। তুরান টাকা নিয়ে বেরিয়ে গেলো।

*****

নিস্তদ্ধ রাত, কালো আকাশে তারার রেশ নেই। শীতল হাওয়ায় আমগাছের শুষ্ক পাতাগুলো পতপত শব্দ করছে। ঘরের সকলে ঘুমে কাঁদা। নিস্তদ্ধতার আড়ালে ঘুমহীন দু জোড়া চোখ বসে রয়েছে প্রতিক্ষায়। সুরভী পানি এগিয়ে দিলো অভিলাষাকে। অভিলাষার চোখজোড়া জ্বলছে। গালগুলো ভিজে রয়েছে। কেনো যেনো সবকিছুর জন্য নিজেকে দায়ী লাগছে। জড়সড় হয়ে উদরটাকে ধরে বসে রয়েছে সে। এর মাঝেই তুরানের ফোন এলো। সে কলিংবেল বাজায় নি। ঘরের কাউকে উঠানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। সুরভী দরজা খুলতেই দেখলো তুরানের সাথে তিমির দাঁড়িয়ে রয়েছে। তিমিরের বা হাতের দু আঙ্গুলে সফেদ ব্যান্ডেজ। ময়লা জামাকাপড়, উশকোখুশকো চুল জানান দিচ্ছে তার উপর বহমান ঝড়ের। সুরভী চিন্তিত স্বরে বললো,
“তুমি ঠিক আছো?”

তিমির মাথা নাড়ালো। সে ঠিক আছে। তুরান তখন গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“তুই ঘরে যা, অভিলাষা চিন্তা করছে। ক্লান্ত লাগছে। ঘুমাবো”

বলেই নিজ ঘরে চলে গেলো তুরান। সুরভীও দরজা আটকে নিজ ঘরে প্রস্থান করলো। তুরান ঘরে আসতেই অভিলাষার চিন্তিত মুখশ্রীর দেখা পেলো। তার পাশে বসে মুচকি হেসে বললো,
“আমি ঠিক আছি বউ”

তৎক্ষণাৎ অভিলাষা তাকে জড়িয়ে ধরলো। বুকের উপর গরম তরলের আভাষ পেতেই তিমিরের ডানহাত চলে গেলো তার স্ত্রীর মাথায়। আলতো করে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,
“খুব চিন্তা করছিলে? সরি আর হবে না। কি করবো বলো, হুট করেই যেতে হলো। কখন যে রাত হয়ে গেলো বুঝতেই পারি নি। ও দিকে বিশালটাও এতো জোরে বাইক চালায়। ভাগ্য ভালো, ব্রেক কষতে পেরেছিলো। ওর পায়ের হাল ভালো নয়”
“কোথায় গিয়েছিলে তুমি?”

মাথা তুলে প্রশ্ন করতেই তিমির একটু দম নিলো। রয়ে সয়ে বললো,
“একটা কাজ পেয়েছি, মাস শেষে ভালো টাকা পাবো। যে আসছে তার ভবিষ্যতটাও তো দেখতে হবে”

তিমিরের চোখ চকচক করছে। অভিলাষা তখন অবাক কন্ঠে বললো,
“কি কাজ?”
“আছে তুমি বুঝবে না। এতো ভেবো না তো। রাত হয়েছে, গা টা তাও ব্যাথা করছে। চলো ঘুমাতে যাই”

তিমির কথাটা এড়িয়ে গেলেও অভিলাষার মনে খুতখুত টা রয়েই গেলো। কি কাজ পেয়েছে সে যে বলতে পারছে না!

******
দিন সতেরো পরে এসাইনমেন্টটা জমা দিতে এসেছে সৌভিক। এই স্যারের কাছে মোটেই আসতে চায় না সে। তার মতে লোকটি অতিমাত্রায় খ/চ্চ/র প্রবৃত্তির। নয়তো একটি অনার্সের ছাত্রকে কি নিজের প্রাইভেট কোচিং এ আসতে বলে! তাও যদি সেটা নিজ নিজ ক্লাসমেটদের হতো। নাহ! এটা ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েদের ব্যাচ। কচি কচি মেয়েগুলো গোলগোল চোখে একরাশ কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে তার দিকে। নিতান্তই এই এসাইনমেন্ট টির মার্ক তার ফাইনালে যুক্ত হবে নয়তো ইহজীবনে এমুখো হতো না সে। ইকবাল স্যারের চোখের উপর সোনালী বর্ডারের চশমা। তিনি তীক্ষ্ণ চোখে এসাইনমেন্টের দিকে তিনি তাকিয়ে আছেন। একবার খাতাটি সোজা করেন, একবার উলটো, একবার লম্বা তো একবার চওড়া। কিন্তু তার ভ্রুযুগলের কুঞ্চন ঠিক হয় না। মিনিট পাচেক পড়ে ক্ষেপ ছুড়ে মারলে সেই খাতা। ফলে এসাইনমেন্ট খাতা উড়ে গিয়ে পড়লো বারান্দায়। সাথে সাথে কর্কশ বাক্যের বর্ষণ হলো,
“আ/হ/ম্ম/ক তুমি এই কাকের ঠ্যাং দেখাতে এসেছো এই ভরদুপুরে? ওটা যে আদৌ কি সেটাই তো বুঝছি না। মনে হচ্ছে কারোর পেট খারাপ হয়ে ওখানে হা/গু করে দিয়েছে”

স্যারের কথাগুলো খুব একটা ঝামেলা করলো না সৌভিকের। স্যার মানুষ, বলতেই পারেন। কিন্তু গোল বাধলো যখন সম্মুখে বসে থাকা প্রতিটি যুবতী হো হো করে হেসে উঠলো। এই অপমান কি সহ্য করা যায়! একটি অনার্সে পরুয়া ছেলের জন্য এ নিতান্ত অপমান। কিন্তু সৌভিক মোটামুটি সব কথা গিলে মাথা নত করে বারান্দা থেকে এসাইনমেন্টের খাতাখানা নিয়ে বেরিয়ে গেলো। বাহিরে থাকা বন্ধু লিটন বলল,
“দোস্ত, এই ব্যাটাকে কিছু করা দরকার! বেশি বেশি করে”
“তার আগে নগদ সমস্যা মিটাই”
“সেটা কি?”

সৌভিকের দৃষ্টি অনুসরণ করে সে তাকালো দরজার বাহিরে পড়ে থাকা এলোমেলো চটিগুলোর দিকে। সৌভিক ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো। তার অর্থ ভালো করেই বুঝে গেলো লিটন।

ইকবাল স্যারের পড়া শেষ করে বের হলো তিতির। স্যার ভালো পড়ান বিধায় উনার কাছেই প্রাইভেট পড়ে সে। পড়া শেষে বের হতেই তার আক্কেলগুড়ুম। শুধু তার নয়, উপস্থিত সকলের মাথায় যেনো বজ্রপাত হলো। একটি জুতাও নেই। অথচ তারা স্যারের ঘরে ঢোকার পূর্বে এখানেই জুতা খুলেছিলো। এর মাঝেই কেউ বললো,
“কে জানে আমাদের জুতোগুলো পাশের কুচুরিপানা ঢোবায় ফেলে দিয়েছে”

কথাটা শুনতেই তিতির এবং সকলের মুখের রঙ পালটে গেলো। স্যারের বাড়ির পাশের ওই ডোবা থেকে বিকট গন্ধ বের হয়। এখন কে ওই জুতা তুলবে। এর মাঝে ইকবাল স্যার ও বেরিয়ে এলেন। ছাত্রীদের জুতা হারানোতে তার মাথায় হাত পড়লো। বুঝতে বাকি রইলো না, কাজটি কার।

*****

তিতির বাড়ি ফিরলো খালি পায়ে। উপায় বিহীন মেয়েটির করার কিছু নেই। তার জুতো হীন পা দেখে অভিলাষা অবাক স্বরে শুধালো,
“জুতো কই?”
“একটা পা/জি লোক স্যারের উপর শোধ তুলতে যেয়ে সবার জুতো ডোবায় ফেলে দিয়েছে মানা যায়?”
“সে কি কথা? স্যার কিছু বললো না?”
“ওকে পেলে তো? ধ্যাত, আবার মায়ের জুতো পড়ে যেতে হবে। দেখায় কেমন?”

কথাটা হিমা বেগমের কানে যেতেই তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন,
“ওরে আমার নবাব নন্দিনী, বলো তো জুতোর মহল করে দেই”
“একটা কমদামী জুতো, দাও না আম্মা”
“মাস এখনো বাকি, ফাও খরচ করতে পারবো না। তুমি আমার জুতো পড়ে কাটাও। সামনের মাসে দিবোক্ষণ”

মায়ের কথায় হতাশ হয়ে গেলো তিতির। বিনাবাক্যে ভেতরে চলে গেলো। মিনিট দশেক বাদে অভিলাষা তিতিরকে নিজ ঘরে ডাকলো। তিতির যেতেই একটি পাঁচশত টাকার নোট ধরিয়ে বললো,
“হবে এতে জুতো?”
“কিন্তু ভাবী?”
“মা যেনো না জানে! এটা তোমার ভাই দিয়েছিলো, বাবুর কথা শুনে আমাকে খরচ করতে বলেছিলো। আমার তো লাগছে না, তাই তুমি জুতো কিনে নিও”

অভিলাষার কথা শেষ হতেই তাকে জড়িয়ে ধরলো তিতির। তারপর বললো,
“তুমি খুব ভালো, মা তো চোখে কম দেখে তাই বুঝে না”

অভিলাষা হাসলো। কিন্তু উত্তর দিলো না।

******

বিকালে যখন প্রাইভেট পড়তে বের হবে তিতির যখন তুলিকা তাকে বললো,
“তুই ঘুরতে যাচ্ছিস তাই না?”
“কে বলেছে তোকে?”
“আমি জানি, তুই জুতো কিনতে যাচ্ছিস। আমাকে নিবি?”
“পাগল, কাকে না কাকে কা/ম/ড়ে দিবি! মা বকেছিলো মনে নেই? আবার তোকে নিয়ে বিপদে পড়ি”

তিতিরের কথায় ঠোঁট উলটালো তুলিকা। করুন স্বরে বললো,
“নিয়ে যা না, আমি কা/ম/ড়াবো না। কথা দিচ্ছি। তোর সাথে সাথে থাকবো। আমার ঘরে দমবন্ধ লাগে। ভালো লাগে না। কেমন যেনো আটকা আটকা। নিয়ে চল না আমায়”
“মাকে কি বলবো?”
“বলবি আমি তোকে পাহাড়া দিবো”

তুলিকার কথা শুনতেই খিলখিল করে হেসে উঠলো তিতির। যার নিজের দেখাশোনার ঠিক নেই সে কিনা তিতিরকে দেখবে!

*******

পড়ন্ত বিকেল, বড় বাজারে বিশাল ভিড়। আজ ই যেনো সকলের একসাথে জামাকাপড় পড়ার দিন। তাই সব ছেড়ে তারা জামা-কুতা কিনতে এসেছে। দোকানীরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাস্ত। তিতির শক্ত করে ধরে রয়েছে তুলিকার হাত। মা কে বলেছে, বান্ধবীর বাসা থেকে নোট আনতে যাচ্ছে। যেনো তুলিকাকেও সাথে যেতে দেয়। ফলে হিমা বেগম আপত্তি করেন নি। তবে তুলিকাকে বেশ কড়া ভাষায় বলেছেন যেনো সভ্য থাকে। এইকারণে এই ভিড়ে তিতির মোটেই বোনের হাত ছাড়ছে না। অবশেষে একটি দোকানে ঢুকলো তারা। মোটামোটি বেশ বড় দোকান। তিতির একে একে জুতো দেখছে। তুলিকার নজর তখন পাশের ছোট্ট মাছের দোকানের এক্যুরিয়ামের ধবধবে সাদা বাটারফ্লাই কই এর দিকে। কি সুন্দর মাছ টি! তিতির যখন জুতা দেখতে ব্যস্ত, তুলিকা তখন আনমনেই হেটে গেলো ওই দোকানের দিকে। এক্যুরিয়ামের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো অনেকক্ষণ। এর মাঝেই গম্ভীর স্বর কানে এলো,
“তুমি এখানে কি করছো?”

কথাটা শুনতেই চমকে তাকালো তুলিকা। তার সম্মুখে সেদিনের রাস্তার ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখতেই ভয়ে শিটিয়ে গেলো তুলিকা। আশেপাশে তিতিরকে না দেখতে পেয়ে ঘাবড়ে গেলো তুলিকা। উপায়ন্তর না বুঝে দোকান থেকে ছুটে পালাতে গেলেই তার হাতখানা টেনে ধরলো ছেলেটি। ছেলেটির কাছ থেকে ছুট পাবার চেষ্টা করলো তুলিকা। কিন্তু সুডৌল শরীরের শক্তির কাছে পেরে উঠলো না। উপায়ন্তর না পেয়ে মুখ এগিয়ে দিলেই ছেলেটি তার হাত সরিয়ে নিলো। শান্ত কন্ঠে বললো,
“যদি আরেকবার কা/ম/ড়াতে যাও, আমিও কিন্তু কা/ম/ড়ে দিবো। আমার দাঁত কিন্তু তোমার থেকে ধা/রা/লো।……..

চলবে