#নীল_সীমানার_শেষপ্রান্তে
#Writer_Mahfuza_Akter
||পর্ব_০৪||
;
;
;
—“কেন? আমি কি আজ কোনো ভাবে তোমায় ডিস্টার্ব করে ফেললাম নাকি?”
তনিমার এই পিঞ্চ মারা কথা গুলো কেন যেন খুবই গায়ে লাগলো জয়ের। কিছু বলা দরকার! সবকিছু জেনেও এরকম কথা বলাটা কি আদৌও তনিমার উচিত?
জয় কপট রাগ দেখিয়ে বললো,
—“তুমি ভালো করেই জানো যে, সব জেনে-বুঝে ন্যাকামি করাটাকে আমি কতটা অপছন্দ করি। তোমার কি মনে হচ্ছে না, তুমি সেই কাজটাই করছো?”
তনিমা কথা ঘুরানোর জন্য বললো,
—“আমি আসলে ওভাবে বলতে চাইনি। তুমি আমায় ভুল বুঝছো। আচ্ছা বাদ দাও, তুমি কী করছো এখন?”
—“কিছুই না। সারাদিন অনেক ধকল গেছে, তাই ঘুমানোর জন্য প্রিপেয়ার্ড হচ্ছে। ”
—“ওহ, আসলে আমার একটা দরকারের জন্যই তোমাকে ফোন দেওয়া। যদি আমায় একটু হেল্প করতে,,, ”
জয় নিজের কপাল কুচকে বিরক্তি প্রকাশ করে বললো,
—“উফফ, এতো কিসের ফরমালিটি দেখাও তুমি? এতো কাহিনী করার কোনো মানে আছে? কী দরকার সেটা বলো?”
—“আসলে আমার কিছু টাকার দরকার। ইট’স ভেরি আর্জেন্ট, জয়!”
—“বুঝলাম আর্জেন্ট; কিন্তু গতমাসেও তো তুমি ইমার্জেন্সি দেখিয়ে অনেকগুলো টাকা নিলে। আবার এ মাসেও?”
—“আমার প্রয়োজন না হলে কখনো নিতাম না, বেইব। বায় এনি চান্স, তুমি কি আমায় সন্দেহ করছো?”
—“আমি কোনো সন্দেহ করছি না, তবে সন্দেহ না করাটা অস্বাভাবিক নয় কি? যাই হোক, কাল বিকেলে দেখা করো অফিসে। রাখছি এখন।”
বলেই ফোন কেটে দিলো। এমনি মুনের হাত কেটে গেছে বলে রাগ উঠছে, তার ওপর এসব খোঁচা মারা কথা শোনার পর মেজাজটা যে কতটা খারাপ হয় বলতে বোঝানো দায়!
এদিকে তনিমা কোবরার মতো ফোসফাস করছে। নিবিড় খানিকটা আগুনে ঘি ঢালার মতো করে বললো,
—“আমি মাঝে মাঝে পাজেলড হয়ে যাই এটা ভেবে যে, জয় আদৌও তোমায় ভালোবাসে কি না! বেশিরভাগ সময়ই যখন কথা বলো, পাত্তা তো পাওই না, তার ওপর তোমাকে কখনো ভালোবেসে সম্বোধন করে না।”
তনিমা দাঁত কিড়মিড় করতে করতে বললো,
—“কী বলতে চাইছো তুমি?”
নিবিড় কাঠকাঠ গলায় বললো,
—“মাই থট ইজ, তুমি এখনো ওকে ভালোভাবে নিজের ভাগে আনতে পারোনি। দেখলে তো কেমন ভাবে তোমায় ইগনোর করলো? তোমাকে দূরে ঠেলে এখন নিজের সদ্য বিয়ে করা বউয়ের সাথে হ্যাপি টাইম স্পেন্ড করছে।”
তনিমা ডেভিল হাসি দিয়ে বললো,
—“জয় তোমার মতো এতো কন্ট্রোললেস না। এই তিন বছরের রিলেশনশিপে ও অনেক সুযোগ পেয়েছে, বলতে গেলে আমিই ওকে আমার কাছে আসার অনেক চান্স দিয়েছি। কিন্তু ও কখনো সেসবের অ্যাডভান্টেজ নেয়নি। সবসময় এটাই বলতো, ‘বিয়ের আগে এসব কিছু হবে না। বিয়ের পরেই সব।’ জয়ের সাথে এতো ভালো ফ্রেন্ডশিপ থাকা সত্ত্বেও তুমি ওকে চিনলে না!”
নিবিড় রেগে বললো,
—“ও কোনো কালেই আমার বন্ধু ছিলো না। ও শুধু আমার শত্রু। আমার একমাত্র শত্রু। ওকে ধ্বংস করে নিজে প্রোসপারাস হবো, তারপর ওকে বোঝাবো যে, একজন মানুষ দেউলিয়া হলে তার কেমন লাগে। আর হ্যাঁ, কালকে জয়ের কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে আমরা নিউ প্রজেক্টের জন্য ইনভেস্ট করবো। এটা দাঁড় করাতে পারলেই কেল্লাফতে! ”
—“কিন্তু নিবিড়, এই প্রজেক্ট দাড় করাতে তো আরো টাকা লাগবে!”
—“সেটা সামনের মাসে আবার জয়ের কাছ থেকে নিবে। ওতো আর জানে না যে, ও নিজের হাতে নিজের কোম্পানি লাটে ওঠাচ্ছে! ”
বলেই ভিলেইনি হাসি দিলো।
———-
আমি তোয়ালে দিয় মুখ মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখলাম জয় বেডে হেলান দিয়ে মাথা নিচু করে ডান হাতের দুই আঙুল দিয়ে কপালে স্লাইড করছে।
আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না, হাতে টাওয়েল টা চেয়ারে মেলিয়ে দিয়ে বেডের ওপর থেকে বালেশ নিতে লাগলাম।
কারো উপস্থিতি টের পেয়ে জয় মাথা তুলে দেখলো মুন বালিশ নিয়ে উল্টো দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জয় আরেকধাপ বিরক্তি নিয়ে বললো,
—“হোয়াট হ্যাপেন্ড? বালিশ নিয়ে অন্য রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে কি সবাইকে জানাতে চাও যে, তুমি-আমি নরমাল কাপল না।”
আমি পিছনে ঘুরে ওনার দিকে তাকালাম। এই ব্যক্তিটাকে আমি কোনোদিনই চিনতে বা বুঝতে পুরোপুরি সক্ষম হবো না, এটা বোঝা শেষ। একটু আগে যার মুখে মিষ্টি কথার একবস্তা লেকচার শুনলাম, এখন আবার তার মুখেই একরাশ গম্ভীরতা ও বিরক্তির ছাপ।
—“আমি অন্য ঘরে কেন ঘুমাবো? ওই সোফাটাতে অনায়াসে আমার রাত কেটে যাবে। ”
—“বেডে শুলে কী সমস্যা? ”
আমি মলিন হেসে বললাম,
—“যার জীবনটার প্রতিটি পদক্ষেপে, স্তরে স্তরে সমস্যা ; তার এখানেও সমস্যা থাকাটা এবনরমাল কিছু না। আর আমি চাইও না কারো সমস্যার কারণ হতে। সো, প্লিজ আমায় সোফায়ই শুতে দিন।”
বলে আর একসেকেন্ডও অপেক্ষা না করে সোফায় গিয়ে ধপাস করে শুয়ে পরলাম। এতো চিন্তা করতে মন চাইলেও শরীরের ক্লান্তি তার বিপরীত প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম টেরই পেলাম না।
জয় ঘরের বাতি নিভিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো। কেন যেন না চাইতেও মুনের লাস্টের বলা কথা গুলো বারবার কানে বাজছে। সত্যিই মানুষ কতটা কষ্টে থাকলে এতো ভারী কথা বলতে পারে। আচ্ছা আমি যদি মুনকে ডিভোর্স দিয়ে দেই, তাহলে ওর কী হবে? আমি নিজের স্বার্থের জন্য এতো অন্ধ কবে থেকে হয়ে গেলাম? না, আমায় ওর জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে।
-চলবে…….