#প্রণয়ের_অন্তরমহল
#তাহরিশমিতা_মুনতাহা
#পর্বঃ১০
⚠️ অনুমতি ব্যতীত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫
দিয়া নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে দেখলো সবকিছু। ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে এসবে ওর কিচ্ছু যায় আসে না। তবে নির্ণয় কিছুটা অপ্রস্তুত হলো বোধহয়, নদী কে নিজের থেকে দূরে সরাতে সরাতে ব্যস্ত কন্ঠে বললো-
—“কি’ করছো কি? সবাই দেখছে’ ছাড়ো বলছি”
নির্ণয়ের কথায় নদী মাথা তুলে একবার তাকালো উপস্থিত সকলের দিকে। ভাবলেশহীন কন্ঠে বললো-
—“দেখুক তাতে কি?
নদীর এমন ব্যবহারে রাগ লাগছে নির্ণয়ের, তবে এই মুহূর্তে রেগে উল্টোপাল্টা বললে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই তো যতটা সম্ভব নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে নদীর কানের কাছে মুখ নিয়ে হিসহিসিয়ে বললো-
—“নিজের লিমিটের মধ্যে থাক, বেশী বাড়াবাড়ি করিস না এর পরিমাণ কিন্তু ভালো হবে না।”
নদী ভয় পেলো বোধহয় তাই তো দ্রুত নির্ণয় কে ছেড়ে দূরে সরে গেলো। স্ক্রু হাসলো নির্ণয়। এসব ঘটনা সুক্ষ্ম চোখে পরখ করলো দিয়া, তবে একটা টু শব্দ অব্দি করলো না। তবে নিলা খুচা মেরে বললো-
—“আপনাদের হয়ে গেলে আমাদের দিকেও একটু তাকান। অনেকক্ষণ যাবত তো এখানে দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে আছি! আর কতো?”
নদী বেড়ে গিয়ে বসলো। মেকি হেঁসে বললো-
—“সরি’ আমি একটু আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম” তা তোমরা কেমন আছো?”
এবার মিলা পেছন থেকে খুচা মেরে বললো-
—“যাক বাবা অবশেষে আমাদের চোখে পড়লো তাহলে! আমরা ভালোই আছি, ভালো না থাকলে কি আর তোমাকে দেখতে আসতাম নাকি?”
ওদের কান্ড দেখে দিয়া ঠোঁট টিপে হাসছে। প্রিয়া নদীর দিকে এগিয়ে গিয়ে পাশে ধপ করে বসলো। ঠোঁটে হালকা হাঁসি টেনে বললো-
—“এতোদিন কোথায় ছিলে? আর পালিয়ে গিয়েছিলে যখন’ তখন আবার ফিরে আসলে কোন দুঃখে?”
নদী কিছু বলতেই যাচ্ছিলো তখন হঠাৎই দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলেন নেওয়াজ মোল্লা। নির্ণয়দের দেখে সজন্য মুলক হেঁসে বললেন-
—“কখন এলে তোমরা?”
নির্ণয় ও মৃদু হেঁসে জবাবে বললো-
—“এই তো কিছুক্ষণ আগেই”
দিয়া এগিয়ে এসে দাঁড়ালো নেওয়াজ মোল্লার সামনে। নিম্ন স্বরে বললো-
—“কোথায় গিয়েছিলে? আসার সময় তোমাকে দেখলাম না যে।”
—“একটু বাহিরে গিয়েছিলাম হাঁটতে”
দিয়া আর কিছু বললো না এক কোনে দাঁড়িয়ে রইলো চুপচাপ। রুহানি বেগম বাড়ি থেকে ফ্রেশ হয়ে সবে এলেন হসপিটালে। দিয়া দের দেখে ঠোঁট প্রশারিত করে হাসলেন-
—“ওমা তোমরা কখন এলে?
আরিয়ান মিষ্টি করে হেঁসে বললো-
—“এই তো আন্টি কিছুক্ষণ আগেই”
—“ওমা ওভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? বসো”
—“সমস্যা নেই আন্টি, আমরা এভাবেই ঠিক আছি”
রুহানি বেগম আর কথা বাড়ালেন না, গিয়ে বসলেন নদীর পাশে। নদী বসে বসে ফল খাচ্ছে। আসার সময় হরেক রকমের ফল নিয়ে এসেছে নির্ণয়’রা একজন নার্স সেগুলো কেটে দিয়ে গেছেন। নদী বসে সেগুলোই খাচ্ছে।
দিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করছে নদীকে। বুঝার চেষ্টা করছে নদীর মনভাব। মেয়েটার মতলব ঠিক লাগছে না দিয়ার। মাথায় কোন শয়তানি বুদ্ধি চলছে কে জানে।
—“কিরে দিয়া তুই ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? এদিকে আয়”
দিয়া কোনো প্রতিউত্তর করলো না। গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে বসলো নদীর পাশে। নদী দিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে মৃদু স্বরে বললো-
—“তুই অনেক শুকিয়ে গিয়েছিস। মুখটাও কেমন শুকিয়ে গেছে। ঠিক সময় মতন খাওয়া দাওয়া করবি বুজেছিস।”
দিয়া জবাব দিলো না, শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো। নদী কুটিল হাসলো, মুখটা দিয়ার কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বললো-
—“ঠিক সময় মতন খাওয়া দাওয়া করে নিজেকে শক্ত কর। নিজের যত্ন নে, শরীর ঠিক রাখ” নয়তো এতোকিছু সামলাবি কি করে?”
দিয়া নদীর কথার মানে বুঝলো না। না বুঝার চেষ্টা করলো। শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো-
—“হ্যাঁ এখন থেকে নিজের যত্ন নিবো” তোর এতো চিন্তা করতে হবে না আমার জন্য।”
এরপর অনেকক্ষন বসে গল্প গুজব করলো সকলে। দিয়া শুধু নিরব দর্শক হয়ে সব দেখে গেলো নিরবে। প্রায় সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেছে। নির্ণয় একবার হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো-
—“যেতে হবে আমার কিছু কাজ আছে।”
যাওয়ার কথা শুনে নেওয়াজ মোল্লার মুখটা ছোট হয়ে এলো। দিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন-
—“আজ না হয় দিয়া আমাদের সাথেই থাকুক” কাল না হয় আমি গিয়ে দিয়ে আসবো”
নেওয়াজ মোল্লার কথাটা বোধহয় নির্ণয়ের পছন্দ হলোনা। শুধু নির্ণয় নয় আরিয়ান প্রিয়া ওদের কারোরই বোধহয় পছন্দ হয়নি। তাই তো মুখটা অমাবস্যা রাতের মতো কালো হয়ে গেছে। নির্ণয় নিম্ন স্বরে বললো-
—“বাবা দিয়া ও তো অসুস্থ ওর এখানে থাকাটা ঠিক হবেনা। আমি বলি কি, ও না হয় পরে সময় করে আপনাদের বাড়ি গিয়ে দু’দিন থেকে আসলো।”
নেওয়াজ মোল্লার পছন্দ হলো নির্ণয়ের কথাটা। মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়ে মৃদু হেঁসে বললেন-
—“আচ্ছা ঠিক আছে। দিয়া সুস্থ হলে না হয় দু’দিন আমাদের ওখানে থেকে আসবে।”
আর কোনো কথা বাড়ালেন না কেউ। বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে আসলো ওরা। রওনা দিলো বাড়ির দিকে।”
___________________
রাত বারোটা- দিয়া বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। নির্ণয় সবে ফিরলো বাড়িতে। হসপিটাল থেকে ওদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ততক্ষণাৎ বেরিয়ে গিয়েছিল নির্ণয় আর ফিরলো এখন। খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে ওকে। গামে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে শার্ট।
নির্ণয় ফ্রেশ হয়ে এসে বসলো ঘুমন্ত দিয়ার মুখের সামনে। হঠাৎই কি যেন হলো নির্ণয়ের। দিয়ার মুখের উপর পড়ে থাকা চুল গুলো সরিয়ে দিলো খুব যত্ন সহকারে। শব্দ করে চুমু খেলো কপালে। দরা গলায় আওড়ালো-
—“কেনো এতো পালায় পালায় করো পাখি? তোমাকে ছাড়া যে আমি একটুও ভালো থাকতে পারিনা সেটা কি তুমি বুঝো না?”
ফের চুমু খেলো দিয়ার সারা মুখে। ঘুমন্ত দিয়া কেঁপে উঠলো নির্ণয়ের বেপোরোয়া স্পর্শে। নির্ণয় ঠোঁট কামড়ে হাঁসলো। এগিয়ে গিয়ে দু হাতে ঝাপটে জরিয়ে শুইয়ে পড়লো দিয়ার এক পাশে।
দিয়া চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলো একবার। চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার। আর কেউ তাকে শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে বুকের সাথে। দিয়া হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলো-
—“কি হয়েছে সমস্যা কী?
বলেই নির্ণয় ফের টেনে বুকে জরিয়ে নিলো দিয়াকে। নির্ণয়ের কন্ঠ শুনে স্বস্তি পেলো দিয়া। তবে নিজেকে নির্ণয়ের বাঁধন থেকে ছাড়ানোর জন্য মুচড়া-মুচড়ি করতে করতে বললো-
—“ছাড়ুন বলছি। এমন সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরলে ঘুম আসে নাকি? ছাড়ুন আমাকে।
নির্ণয় বিরক্তিতে খেকিয়ে উঠলো-
—“এই সালি তোকে ছুলেই এমন ষাঁড়ের মতো চিল্লাচিল্লি করিস ক্যান? বাল যাহ ছুবো না তোকে। কিন্তু মনে রাখিস তোর শরীর আমার শরীরের সাথে একটু ছোঁয়া লাগলে লাথি মেরে বিছানা থেকে নিচে ফেলে দিবো।”
দিয়া ও কম না ও খেকিয়ে উঠে বললো-
—“আপনার শরীর ও যেন আমার শরীরের সাথে ছোঁয়া না লাগে। নয়তো…”
নির্ণয় শুয়া থেকে উঠে বসলো। বললো-
—“নয়তো কী?”
—“নয়তো? নয়তো আমি আপনাকে টেনে নিয়ে গিয়ে বেলকনিতে রেখে আসবো।”
—“বড় সাহস হয়েছে দেখছি। মুখে মুখে কথা বলিস।”
—“আপনারই তো বিয়ে করা বউ। আপনার মতো না হলে কী চলে?
—“তাহলে কি আমাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিচ্ছো?”
দিয়া মুখ বাঁকিয়ে বলে উঠলো-
—“এই জীবনে তা কখনো সম্ভব নয়।”
নির্ণয় কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো। কি যেনো ভেবে মুখ ঘুরিয়ে ওপাশ ফিরে ধপ করে শুয়ে পড়লো। দিয়া সেদিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো-
—“ভাব দেখলে মনে চাই জুতা খুলে খালি পায়ে হাঁটি।
নির্ণয় বোধহয় শুনলো কথাগুলো। মাথা উঁচু করে প্রশ্ন করল-
—“কী বললে?”
দিয়া বিছানা ছেড়ে উঠে বেলকনির দিকে যেতে যেতে গলা উঁচিয়ে বললো-
—“যেটা শুনেছেন সেটাই বলেছি”
নির্ণয় আর কথা বাড়ালো না। মেয়েটা ইদানিং খুব বাড় বেড়েছে। তবে শরীর খুব ক্লান্ত থাকায় আজ কিছু বললো না। চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়লো।”
#চলবে

