#ফিরেছি_তোর_আঙিনায়
অন্তিম পর্ব (১ম খন্ড)
মৌমো তিতলী
নিশুতি রাতে শহর তখনও পুরোপুরি নিস্তব্ধ হয়নি। ঢাকা শহরে নিস্তব্ধ নিশি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্তত বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলাচলের আওয়াজ শহরটাকে জাগিয়ে রাখে সর্বদা।
নিজের ঘরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সেই শহরের স্বল্প ব্যস্ত রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে মৌমিতা। হাণে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ। তাতে চুমুক দিয়ে সারাদিনের ধকল কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টায়।
অনেক ঝড় ঝাপটা পেরিয়ে আজ আয়াত আর নোরার বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের প্রত্যেকটি মানুষ আজ খুশি। এতো কিছুর মাঝে গভীর এক ভাবনায় মশগুল মৌমিতা।
আষাঢ়ের মেঘের গর্জনের মত এক একটা ভাবনা আঁছড়ে পড়ছে মৌমিতার হৃদয়ে।
নোরার জীবনে ঘটে যাওয়া আকষ্মিক দূর্ঘটনায় একটা জিনিস বেশ উপলব্ধি করতে পেরেছে সে।
মানুষের জীবনে কখন কি ঘটবে,কার জীবনের মোড় কোথায় গিয়ে থামবে আসলে কেউই আগে থেকে বলতে পারে না।
আমাদের ছোট্ট এই জীবন খানায় আমরা অর্ধেকের বেশি সময়ই নষ্ট করে ফেলি রাগ, অভিমান আর অবহেলায়। আমরা ভবিষ্যতের জন্য কত পরিকল্পনা করি।
ভাবি… আরও পরে বলবো… আরও পরে সময় দেবো… আরও পরে ভালোবাসা প্রকাশ করবো…
কিন্তু সেই “পরে” যদি আর না আসে?
সেদিন নোরার জীবনে এর থেকেও ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যেতে পারতো। বা ঘটনাটা মৌমিতার সাথেও
ঘটতে পারতো।
আজ মনে হচ্ছে সে আদিত্যর থেকে দুরে থেকে জীবনের মূল্যবান সময়গুলো সে নষ্ট করছে। এতো গুলো দিন আদিত্যের সঙ্গে সহজ হলেও স্বামীর অধিকার তাকে এখনো দেয়নি মৌমিতা।
আদিত্যর নিজ জীবনে অনিচ্ছাকৃত ভাবে ঘটে যাওয়া একটা সম্পর্কের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আদিত্যর অধিকার ছিলো। এখানে আদিত্যর তো কোন দোষ ছিলো না। তারা প্রত্যেকেই ছিলো পরিস্থিতির শিকার।
এরপর ফিরে এলো আদিত্য। ভাগ্য আবার তাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলো। এরপর…. এরপর তো!
—মৌমি!
ভাবনার মাঝেই আদিত্যর ডাকে ধ্যান ভঙ্গ হলো মেয়েটার। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালে আদিত্য কে ব্যালকনির দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেলো। এগিয়ে এলো আদিত্য।
ঠান্ডা হাওয়া বইছে। শীত আসন্ন। এই সময়ের বাতাস খুব একটা স্যুটেবল হয়না। আদিত্য মৌমিতার দিকে এগিয়ে এসে হাতের উল্টো পিঠে মৌমিতার গলায়, মুখে স্পর্শ করে ঠান্ডার মাত্রা বোঝার চেষ্টা করলো। বিরস গলায় বলল,,,
—সিজন চেঞ্জ হচ্ছে সেদিকে খেয়াল আছে? দেখো কেমন ঠান্ডা হয়ে গেছে শরীর। রুমে না থেকে এখানে কি?
মৌমিতা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো আদিত্যর পানে। মানুষ টা আজ কয়েকসপ্তাহ ধরে একটানা খেটে চলেছে। এতো টুকু বিশ্রামের সময় পায়নি। অফিস, হসপিটাল,বাড়ি করতে করতে নিজের দিকে তাকাতে ভুলেছে। সুন্দর চোখজোড়ায় ডার্ক সার্কেল পড়ে গেছে।
চোখেমুখে ক্লান্তি স্পষ্ট। তবুও নিজেকে নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই।
আচ্ছা মানুষটার কি একটু শান্তি দিতে পারেনা মৌমিতা? অবশ্যই পারে। তার প্রিয়তমের সমস্ত ক্লান্তি, অপেক্ষা, ধৈর্য সবটা লুটপাট করে দেওয়ার মোক্ষম অস্ত্র তো সে নিজেই।
মৌমিতা কে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে ঠোঁট এলিয়ে হাসলো আদিত্য। টোন মেরে বললো,,,
—কি ব্যাপার ম্যাডাম! আজ কি একটু বেশিই হ্যান্ডসাম লাগছে নাকি আমি?
আদিত্যর কথায় ফিক করে হাসলো মৌমিতা। খালি কফির কাপটা নিয়ে স্থান ত্যাগ করলো। পিছে পিছে এলো আদিত্য।
আদিত্য রুমে এসে সোফায় বসতেই ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো আন্তর্জাতিক ভিসা এজেন্সির নাম।
— হ্যালো, মিস্টার আদিত্য চৌধুরী?
— জি, বলছি!
— আপনারা যাদের মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন,মিস্টার আয়াত মাহমুদ, মিসেস নোরা মাহমুদ এবং মিসেস বিপাশা মাহমুদের ভিসা অনুমোদিত হয়েছে। ডকুমেন্টগুলো প্রস্তুত আছে। আপনার সুবিধামতো সময়ে সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।
কথাটা শুনে আদিত্যর মুখে অনেকদিন পর তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠলো।
— থ্যাংক ইউ সো মাচ।
ফোন রেখে চোখ বন্ধ করে টানটান হয়ে শুয়ে পড়লো আদিত্য। ভীষণ ক্লান্তিতে চোখ বুজে এলো তার।
রাত ১২:৩০…
আয়াতের ঘরটা খুব সাধারণভাবেই রাখা হয়েছে।
আয়াত নিজেই কাউকে বাড়তি সাজসজ্জা করতে দেয়নি।
তবু মৌমিতা কয়েকটা কাঁচের ফুলদানিতে নোরার প্রিয় কমলা, গোলাপী, হলুদ আর সাদা জারবেরা সাজিয়ে রেখেছে। ঘরের চার কোণে জ্বলছে কয়েকটি সুগন্ধি মোমবাতি। হালকা আলোয় ঘরটা শান্ত, উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে।
জানালার পর্দা দুলিয়ে শীতল বাতাস ভেতরে ঢুকছে।
নোরা বিছানার একপাশে বসে আছে মাথা নিচু করে।
আজ সে আয়াতের স্ত্রী হয়েছে ,তার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে।
আয়াত ধীরে ধীরে নোরার এসে বসলো। কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়েই রইলো নববধূর পানে।
তারপর মৃদু হেসে বললো,,,
— জানো নোরা…আজ তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে, আল্লাহ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দোয়াটা কবুল করেছেন।
নোরা লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললো।
আয়াত খুব আলতো করে তার হাত নিজের হাতে নিল।
— তুমি কথা বলতে পারো বা না পারো…
তাতে আমার ভালোবাসার এক বিন্দুও কমবে না নোরা। তোমার শরীরের দাগগুলো আমার কাছে যুদ্ধ জিতে ফিরে আসা একজন সাহসী রমনীর সম্মানের চিহ্ন।আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি…তুমি আর কখনো একা লড়বে না। আমি সবসময় তোমার পাশে থাকবো।
নোরার চোখ বেয়ে নীরব অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।
আয়াত আলতো করে তার চোখের জল মুছে দিয়ে কপালে একটি দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিলো।
এরপর খুব ধীরে নোরার চিবুক ছুঁয়ে বললো,,,
— আজ বিশ্রাম নাও।
আগামী দিনের লড়াই আমরা একসঙ্গেই জিতবো।
নোরা মৃদু হেসে মাথা নাড়লো। নোরা কে চেঞ্জ করিয়ে এনে ঠিকঠাক করে শুইয়ে দিলো আয়াত। নিজেও ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়লো পাশে। আলতো করে নোরাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরলো নিজের সাথে। নোরাও লাজে গুটিয়ে এলো যেন। তবুও নড়লো না একবিন্দু। ওভাবেই গুটিসুটি হয়ে পড়ে রইলো আয়াতের বুকের মাঝে। মোমবাতির আলোয় নীরবে শুরু হলো তাদের নতুন জীবনের প্রথম রাত।
____________
কয়েকদিন পর…
আজ আশাকুঞ্জের সকালটা অন্যসব সকালের মতো নয়।
বাড়িজুড়ে ব্যস্ততা। আনন্দ আর বিচ্ছেদের মিশ্রিত এক পরিবেশ। সকলের হাসির আড়ালে আজ লুকিয়ে আছে বিদায়ের দীর্ঘশ্বাস।
আজ সন্ধ্যায় কানাডার উদ্দেশে রওনা হবে আয়াত, নোরা আর বিপাশা মাহমুদ।
ভোর থেকেই গোছগাছ আর রান্নাঘরে ব্যস্ত আশালতা বেগম আর মৌমিতা।
চুলোর ওপর একসাথে কয়েকটা প্যান বসানো। কোনটায় চিকেন স্যান্ডউইচ তৈরি হচ্ছে, কোনটায় ছোট ছোট চিকেন প্যাটিস বেক হচ্ছে। অন্যদিকে শুকনো কেক, বাদাম, কুকিজ, খেজুর, ফল আর জুস আলাদা আলাদা বক্সে গুছিয়ে রাখা হচ্ছে।
আশালতা বেগম কাজ করতে করতেই বললেন,,,
— প্লেনের খাবার আছে ঠিকই, তবু ঘরের খাবারের মতো কি আর হয়! মাঝপথে যদি ক্ষিধা লাগে, এগুলো খেয়ে নিবে।
মৌমিতা মুচকি হেসে মাথা নাড়লো।
— আমি কয়েকটা কফি স্যাশেও রেখে দিচ্ছি। আয়াত ভাইয়ার তো মাঝেমধ্যে কফি ছাড়া চলে না।
আশালতা বেগমের মুখেও হাসি ফুটলো।
…
অন্যদিকে ড্রয়িংরুমে ল্যাপটপ খুলে বসে আছে আদিত্য।
একটার পর একটা মেডিকেল রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন, কানাডিয়ান হাসপাতালের কনফার্মেশন, ডক্টর মর্গানের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স সবকিছু আরেকবার মিলিয়ে দেখছে।
পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট প্রতিটা ফাইল আলাদা করে সাজিয়ে রাখলো সে।
আয়াত সোফার একপাশে বসে নিঃশব্দে সব দেখছে।
আদিত্য ফাইলগুলো বন্ধ করে তার দিকে তাকিয়ে বললো,,,
— নে সব ঠিক আছে। আজ তো সন্ধ্যা সাতটার ফ্লাইট। চারটার মধ্যে বের হলেই হবে।
আয়াত মাথা নাড়লো।
— ডক্টর মর্গানের অ্যাপয়েন্টমেন্ট?
— ল্যান্ড করার পরের দিনই। আমি উনার সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলেছি। সব কনফার্ম করেই জানিয়েছে।
আয়াত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,,,
— ধন্যবাদ আদি…
আদিত্য হেসে উঠলো।
— ধন্যবাদ দিবি না। আমার বোন আর ভাইয়ের বউকে সুস্থ করে আনবি, এটাই চাই।
পরমুহূর্তেই দুজনেই হেসে উঠলো।
…
সকাল থেকেই নোরার মনটা খারাপ।
আজ সারাটা দিন সে যেন এক মুহূর্তের জন্যও মৌমিতাকে চোখের আড়াল করতে চাইছে না।
মৌমিতা যেদিকে যাচ্ছে…নোরাও সেদিকে।
কখনো রান্নাঘরে এসে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকছে।
কখনো ডাইনিং টেবিলের পাশে বসে শুধু তাকিয়ে আছে।
আবার কখনো মৌমিতার ওড়নার কোণা আলতো মুঠোয় ধরে হাঁটছে।
সবাই বিষয়টা লক্ষ্য করলেও কেউ কিছু বলছে না।
মেয়েটার বুকের ভেতরটা যে কী ভীষণ শূন্য হয়ে যাচ্ছে, সেটা সবাই বুঝতে পারছে।
মৌমিতা মাঝেমধ্যে ফিরে তাকিয়ে মৃদু হাসছে।
নোরাও খুব কষ্ট করে হাসার চেষ্টা করে।
কিন্তু সেই হাসিতে আগের মতো ঝলক নেই।
…
দুপুর গড়িয়ে বিকেল।
সব লাগেজ গুছিয়ে রাখা হয়েছে।
শেষবারের মতো নোরার রুমে ঢুকলো মৌমিতা।
বিছানার ওপর খোলা স্যুটকেস। ভেতরে সুন্দর করে ভাঁজ করা জামাকাপড়। পাশেই চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। মৌমিতা একে একে সব দেখে নিল।
পাসপোর্ট…মেডিসিন…রিপোর্ট…সব ঠিক আছে।
ঠিক তখনই পিছন থেকে দুটো হাত এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে।
মৌমিতা থমকে দাঁড়িয়ে গেল।
এক মুহূর্তেই বুঝে গেল…এটা নোরা। মৌমিতা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
পেছন থেকে জড়িয়ে ধরা দুটো হাত ক্রমশ শক্ত হয়ে উঠছে। সেই আলিঙ্গনে লুকিয়ে আছে হাজারো না-বলা কথা, অজস্র ভয়, অগণিত অনুভূতি।
ধীরে ধীরে নিজের হাতটা বাড়িয়ে নোরার হাতের ওপর রাখলো সে।
মৃদু হেসে বললো,,,
— কী হলো? এভাবে জড়িয়ে ধরেছিস কেন?
নোরা কোনো উত্তর দিতে পারলো না।
শুধু মুখটা আরও গুঁজে দিল মৌমিতার পিঠে।
তারপর খুব আস্তে… কাঁপতে কাঁপতে মাথা নাড়লো।
মৌমিতার বুকের ভেতরটাও মোচড় দিয়ে উঠলো।
সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতেই নোরা আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না।
ঝাঁপিয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরলো বান্ধবীকে।
দু’চোখ বেয়ে অবিরাম জল গড়িয়ে পড়ছে।
অস্পষ্ট কণ্ঠে বহু কষ্টে বলার চেষ্টা করলো,,,
— ম…মৌ…
শব্দটা সম্পূর্ণ হলো না। গলা আটকে গেল।
মৌমিতা বুঝে গেল, নোরা কী বলতে চাইছে।
সে আলতো করে নোরার চোখের জল মুছে দিলো।
— কাঁদছিস কেন পাগলি?
নোরা মাথা নাড়তে নাড়তে আবার কিছু বলতে চাইল।
তার ঠোঁট কাঁপছে। কিন্তু শব্দগুলো বের হচ্ছে না।
শুধু অস্পষ্ট ভাঙা আওয়াজ। শেষ পর্যন্ত হাত তুলে নিজের বুকের দিকে ইশারা করলো, তারপর মৌমিতার দিকে। যেন বলতে চাইছে “তোকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না।”
মৌমিতার নিজেরও চোখ ভিজে উঠলো। তবু সে জানে,এখন যদি সে কেঁদে ফেলে, নোরা আর নিজেকে সামলাতে পারবে না।
তাই জোর করে ঠোঁটে হাসি এনে বললো,,,
— এই জন্য এত কান্না?
নোরা শিশুর মতো মাথা নাড়লো।
— আরে বোকা… এটা কি চিরদিনের বিদায় নাকি?
মৌমিতা দু’হাতে নোরার মুখটা তুলে ধরলো।
— ডাক্তার কী বলেছে মনে আছে? দুই বছরের চিকিৎসা। তারপর তুই একদম সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবি।
নোরা নিশ্চুপ।
মৌমিতা আবার বললো,,,
— দেখিস… চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই সময় চলে যাবে। তারপর আবার তুই আগের মতো কথা বলবি,আমরা ঘুরবো, কফি খাবো, তুই আমার সঙ্গে আইসক্রিম নিয়ে ঝগড়া করবি।
নোরার ঠোঁটে ক্ষীণ একটা হাসি ফুটে উঠলো।
মৌমিতা আঙুল তুলে শাসনের ভঙ্গিতে বললো,,,
— আর একটা কথা…যদি চিকিৎসার সময় ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করিস,ওষুধ না খাস,ডাক্তারের কথা না শুনিস…
তাহলে কিন্তু আমি নিজে কানাডায় গিয়ে তোর কান মুচড়ে দিয়ে আসবো।
নোরা এবার সত্যিই হেসে ফেললো।
যদিও সেই হাসির সঙ্গে চোখের জলও ঝরছে।
মৌমিতা তাকে আবার বুকের মধ্যে টেনে নিল।
ধীরে ধীরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,,,
— আমার বেস্টু খুব সাহসী মেয়ে। তুই তো মৃত্যুকেও হারিয়ে ফিরে এসেছিস। এই চিকিৎসা তো কিছুই না।
আর একটা কথা মনে রাখিস…
আয়াত ভাইয়া তোকে পৃথিবীর যেখানেই নিয়ে যাক না কেন…তোর একটা বাড়ি সবসময় এখানেই থাকবে।
এই আশাকুঞ্জে। আর একটা মানুষ সবসময় তোর জন্য অপেক্ষা করবে। সেটা আমি।
নোরা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। মৌমিতাও এবার চোখের জল লুকাতে পারলো না। দুজন বান্ধবী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ নিঃশব্দে কাঁদলো।
ঠিক তখনই দরজায় মৃদু নক করার শব্দ হলো।
আয়াত দাঁড়িয়ে আছে।
দুজনকে এভাবে দেখে সে কিছুক্ষণ নীরব রইলো।
তারপর হাসার চেষ্টা করে বললো,,
— আমি কি ভেতরে আসতে পারি?
মৌমিতা চোখ মুছে হেসে বললো,,,
— আসুন ভাইয়া!
আয়াত ভেতরে ঢুকে নোরার দিকে তাকালো।
তারপর মৃদু হেসে বললো,,,
— এই যে ম্যাডাম… কানাডা যাওয়ার আগেই যদি সব কান্না শেষ করে ফেলো, তাহলে ওখানে আমাকে কে বিরক্ত করবে?
নোরা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো।
আয়াত এগিয়ে এসে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
— চল… এবার বের হতে হবে। আদি বাইরে অপেক্ষা করছে। ফ্লাইট কিন্তু কারও জন্য অপেক্ষা করে না।
নোরা শেষবারের মতো আবার মৌমিতার হাতটা শক্ত করে ধরলো।
মৌমিতা তার হাতের পিঠে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে বললো,
— যাহ..একদম সুস্থ হয়ে ফিরে আসিস।
আমি অপেক্ষা করবো।
চলবে…..
#ফিরেছি_তোর_আঙিনায়
অন্তিম পর্ব
মৌমো তিতলী
আশাকুঞ্জের প্রধান ফটকের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে কালো রঙের বিলাসবহুল এসইউভি।
লাগেজগুলো একে একে গাড়ির বুটে তুলে রাখছে বাড়ির কর্মচারীরা।
আদিত্য নিজে দাঁড়িয়ে প্রতিটা লাগেজ, পাসপোর্ট, মেডিকেল ফাইল আর হ্যান্ড ক্যারি ব্যাগ আরেকবার মিলিয়ে নিল।
সবকিছু নিশ্চিত হয়ে সে আয়াতের দিকে তাকিয়ে বললো,,,
— সব ঠিক আছে। আর কোনো চিন্তা নেই। এবার শুধু নিরাপদে পৌঁছে ডক্টর মর্গানের কাছে পৌঁছানোটা বাকি।
আয়াত মৃদু হেসে মাথা নাড়লো।
তারপর বাড়িটার দিকে একবার তাকালো।
এই বাড়িতেই কত হাসি… কত স্মৃতি… কত আনন্দের মুহূর্ত! আজ সেই বাড়ি ছেড়ে অনিশ্চিত এক দীর্ঘ যাত্রায় বেরিয়ে পড়ছে সে।
আশালতা বেগম এগিয়ে এসে নোরার কপালে আলতো করে চুমু খেলেন। চোখ দুটো বারবার ভিজে উঠছে।
তবু হাসিমুখেই বললেন,,
— আল্লাহর নাম নিয়ে যাও মা। একদম সুস্থ হয়ে ফিরবে ইনশাআল্লাহ। আমরা অপেক্ষায় থাকবো কেমন!
নোরা চোখের জল সামলে মাথা নাড়লো।
তারপর ধীরে ধীরে ঝুঁকে আশালতা বেগমকে সালাম করলো। আশালতা বেগম পরম মমতায় নোরাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
— আল্লাহ তোমাকে আমার মেয়ের মতোই ভালো রাখুক।
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা মৌমিতার চোখও টলমল করছে।
নোরা আবার এগিয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলো।
এবার কেউ কোনো কথা বললো না।
দুই বান্ধবী শুধু একে অপরকে শক্ত করে ধরে রইলো।
কিছু সম্পর্কের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
তাদের এই নীরবতাই যেন হাজারটা কথার চেয়েও বেশি অর্থ বহন করছিলো।
…
প্রায় এক ঘণ্টা পর…
ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি প্রবেশপথের সামনে এসে থামলো গাড়ি।
গাড়ি থামতেই নিরাপত্তারক্ষীরা এগিয়ে এলো।
কিন্তু তারও আগে ছুটে এলো অসংখ্য ক্যামেরা আর মাইক্রোফোন।
দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আয়াত মাহমুদকে দেখে সংবাদকর্মীরা মুহূর্তেই ভিড় করে ফেলেছে। আয়াতের স্ত্রীর ট্রিটমেন্টের জন্য কানাডা যাওয়ার নিউজ পেয়েই ছুটে এসেছে তারা।
ক্যামেরার ফ্ল্যাশে চারপাশ ঝলসে উঠছে বারবার।
— স্যার! স্যার! একবার এদিকে প্লিজ!
— মিঃ আয়াত ! আপনার স্ত্রীর বর্তমান অবস্থা কেমন?
— বিদেশে কতদিন থাকতে হবে?
— আবার কবে দেশে ফিরবেন?
— আপনার ভক্তদের জন্য নতুন গান কবে আসছে?
— এটা কি অনির্দিষ্টকালের বিরতি?
একটার পর একটা প্রশ্ন ছুটে আসছে।
আয়াত খুব শান্তভাবে নোরার হাতটা নিজের হাতে আরও শক্ত করে ধরলো।
তারপর সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে বিনীত কণ্ঠে বললো,,,
— প্রথমেই আমি আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই। আমার স্ত্রী এখনও চিকিৎসাধীন। ওর সম্পূর্ণ সুস্থতাই এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
একটু থেমে নোরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে আবার বললো,,,
— গান, স্টেজ, শো… সবই থাকবে। কিন্তু একজন মানুষের জীবন তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। ও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরলে আমিও আবার আমার শ্রোতাদের কাছে ফিরে আসবো। ইনশাআল্লাহ খুব বেশি অপেক্ষা করাবো না।
একজন সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করলেন,,,
— আপনার স্ত্রীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক আলোচনা হয়েছে। এসব কি আপনার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে?
আয়াত এক মুহূর্তও দেরি না করে দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিল,,,
— মানুষ কী বলছে, সেটা নিয়ে আমি কখনো জীবন সাজাইনি। আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি। ও যেমন আছে, ঠিক তেমনভাবেই আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর। আজ, কাল, আর সারাজীবন।
চারপাশ মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
অনেক সাংবাদিকের চোখেই যেন শ্রদ্ধার ছাপ ফুটে উঠলো।
আদিত্য পাশে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিল।
অদ্ভুত এক প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠলো তার ঠোঁটে।
সে জানতো…তার ভাই ঠিক এই উত্তরটাই দেবে।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বোর্ডিং গেটের দিকে এগিয়ে গেল তিনজন।
ঘোষণা ভেসে এলো,,
“Passengers for Flight AC… to Toronto, Canada, are now requested to proceed for final boarding…”
তিনজন ধীরে ধীরে বোর্ডিং ব্রিজের দিকে এগিয়ে গেলো।
কাঁচের দেয়ালের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা আদিত্য শেষবারের মতো হাত নাড়লো।
কিছুক্ষণ পর বিশাল উড়োজাহাজটি রানওয়ে ধরে ছুটতে শুরু করলো।
একসময় মাটি ছেড়ে ধীরে ধীরে আকাশে মিলিয়ে গেল।
সঙ্গে করে নিয়ে গেল তিনটি মানুষের নতুন করে ফিরে আসার গল্প…একটি পরিবারের অটুট ভালোবাসা…
আর একটি অসমাপ্ত জীবনের নতুন করে বেঁচে ওঠার স্বপ্ন।
এদিকে…
আদিত্য আয়াতদের এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে যখন আশাকুঞ্জ থেকে বেরিয়ে গেল, তখন বাড়িটা কেমন যেন হঠাৎ করেই ফাঁকা ফাঁকা লাগতে শুরু করলো।
যে বাড়িটা গত কয়েকদিন ধরে বিয়ের আয়োজন, হাসি-আনন্দ আর ব্যস্ততায় মুখর ছিল, সেই বাড়িতেই আজ নেমে এসেছে এক অন্যরকম নীরবতা।
আর সেই নীরবতার মাঝেই নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌমিতা।
আজকের রাতটা সে অন্যরকম করে কাটানোর সিন্ধান্ত নিয়েছে। আজ থেকে আর কোনো অভিমান নেই… কোনো দূরত্ব নেই… কোনো অস্বস্তি নেই…
আজ সে নিজের সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত অপেক্ষা, সমস্ত না-বলা অনুভূতি তার একান্ত মানুষটির হাতে তুলে দেবে।
ওয়ারড্রোব খুলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো সে।
অবশেষে বের করলো গাঢ় মেরুন রঙের একটি সিল্কের শাড়ি। খুব বেশি জাঁকজমক নয়, কিন্তু রাজকীয় এক সৌন্দর্য রয়েছে শাড়িটাতে।
ধীরে ধীরে নিজেকে সাজাতে লাগলো মৌমিতা।
খোলা, ঘন স্টেইট চুলগুলো এক পাশে নামিয়ে দিল।
চোখে হালকা কাজল, ঘন আইল্যাশ আর খুব সামান্য আইশ্যাডো। ঠোঁটে গোলাপি আভা।
গলায় চিকন সোনার চেইন, তাতে ছোট্ট সাদা পাথরের লকেট। কানে ছোট্ট দুল,হাতে কাঁচের লাল-সোনালি চুড়ি।
শেষে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলো। আয়নার ভেতরের মেয়েটাকে আজ নতুন লাগছে। আজ থেকে সে শুধু মৌমিতা হয়ে নয়…আজ সে আদিত্যর পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী হয়ে উঠবে।
মৃদু লজ্জায় নিজের ঠোঁটেই হাসি ফুটলো তার।
এরপর ধীরে ধীরে ঘরটা সাজাতে শুরু করলো।
বিছানার সাদা চাদর বদলে দিল নতুন অফ-হোয়াইট সিল্কের বেডকভারে।
রুমের বড় লাইট নিভিয়ে শুধু কর্নারের উষ্ণ হলুদ ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে রাখলো। সেন্টার টেবিলের ওপর ছোট্ট কাঁচের ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখলো তাজা সাদা আর গোলাপি রঙের গোলাপ।
কয়েকটি সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখলো জানালার ধারে।
ঘরের ভেতর ভেসে বেড়াতে লাগলো ভ্যানিলা আর জুঁই ফুলের মিষ্টি সুবাস।
সবকিছু শেষ করে গভীর একটা শ্বাস নিলো মৌমিতা।
তার বুকের ভেতরটাও আজ অদ্ভুত আবেশে কাঁপছে।
সে বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে শুধু অপেক্ষা করতে লাগলো…তার প্রিয়তম স্বামীর জন্য।
…
এদিকে আদিত্য অনেক রাত করে বাড়ি ফিরলো।
সারাদিনের দৌড়ঝাঁপে শরীরটা একেবারে অবসন্ন।
এয়ারপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে, একবার অফিসে গেছিলো আদিত্য। কিছু ইম্পরট্যান্ট কাজ আর কয়েকটা জরুরি ফোনকল সেরে তবেই ফিরেছে সে।
বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই দেখলো যে যার রুমে ঘুমিয়ে পড়েছে। নিজের রুমের দরজার কাছে গিয়ে আশ্চর্য হয়ে গেল। এত নীরব কেন?
স্বাভাবিকভাবে এই সময়ে মৌমিতা হয় বই পড়ে, নয়তো বারান্দায় বসে কফি খায়। আজ রুমে আলোর ছিটেফোঁটার দেখা নেই।
মৃদু বিস্ময় নিয়ে নিজের ঘরের দরজাটা ঠেলে খুললো আদিত্য। ঘরটা সত্যিই অন্ধকার।
সে ভ্রু কুঁচকে বললো,,,
— মৌমি…?
কোনো উত্তর নেই।
দরজার পাশের সুইচটা অন করতেই…
পুরো ঘরটা নরম সোনালি আলোয় ভরে উঠলো।
আর পরের মুহূর্তেই…আদিত্যর নিঃশ্বাস যেন আটকে গেল। চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
দরজার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে মৌমিতা।
মেরুন শাড়িতে মোড়ানো শান্ত, লাজুক, অপার্থিব সুন্দর এক নারী। খোলা চুল কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছে।
গোলাপী অধর জুড়ে লাজুক হাসি।
আদিত্য একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।
এতটাই মুগ্ধ হয়ে গেছে যে কথা বলতেই ভুলে গেছে।
শুধু ঢোক গিলে ফিসফিস করে বললো,,,
— ইয়া আল্লাহ…এই মেয়ে এভাবে সেজেছে কেনো? মার ডালা রেএএএ!
মৌমিতা ঠোঁট টিপে হেসে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।
তারপর একেবারে আদিত্যর সামনে এসে দাঁড়ালো।
নরম কণ্ঠে বললো,,,
— কিছু বলছেন না কেন? চিনতে পারছেন না?
আদিত্য মাথা নাড়লো।
— চিনছি… কিন্তু আজ তোমাকে মনে হলো নতুন করে দেখছি।
মৌমিতা মৃদু হেসে এগিয়ে এসে দু’হাত বাড়িয়ে আদিত্যকে জড়িয়ে ধরলো।
আদিত্য যেন এখনও বিশ্বাসই করতে পারছে না। নিঃশ্বাস নিতেও ভুলে গেছে বেচারা।
কি করতে চায়ছে মেয়েটা! কতদিন,কত রাত…
নিজের সমস্ত অনুভূতি বুকের ভেতর চেপে রেখেছে সে।
কখনো জোর করেনি। কখনো অধিকার ফলায়নি।
শুধু অপেক্ষা করেছে। আজ সেই অপেক্ষা শেষ করতে নেমেছে মেয়েটা। দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে আছে আদিত্য। নিজেকে সামলাতে আপ্রাণ চেষ্টা করলো।
মৌমিতা আদিত্যর বুকে নাক ঘষে খুব আস্তে বললো,,,
— অনেক অপেক্ষা করিয়েছি আপনাকে…
ক্ষমা করবেন?
আদিত্য চোখ বন্ধ করে ঢোক গিলতে লাগলো।
কিছুটা ধাতস্থ হয়ে মৌমিতাকে আরও শক্ত করে আগলে নিলো।
— তোমার কাছে কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না আমার।
মৌমিতা মাথা তুলে তাকালো তার চোখের দিকে।
চোখ দুটো ভিজে এসেছে।
মৃদু কাঁপা গলায় বললো,,,
— আজ থেকে আর কোনো দূরত্ব নয় আদিত্য।
আজ আমি নিজেকে… আমার সমস্ত ভালোবাসা… সম্পূর্ণভাবে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম।
আজ থেকে আমরা নতুন করে আমাদের জীবন শুরু করবো।
মৌমিতার কথাগুলো শুনে আদিত্যর বুকের ভেতর জমে থাকা অপেক্ষা, ভালোবাসা আর আবেগ যেন একসঙ্গে উথলে উঠলো।
সে খুব আলতো করে মৌমিতার কপালে একটি দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিল।
তারপর কাঁপা কণ্ঠে বললো,,,
— আলহামদুলিল্লাহ…
আজ আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর রাত হবে ইনশাআল্লাহ।
মৌমিতা লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললো।
আদিত্য দু’হাতে তার মুখটা তুলে ধরে গভীর মমতায় তার কপাল, গাল ছুঁয়ে দিলো, যেন এতদিনের অপেক্ষার মানুষটাকে নতুন করে অনুভব করছে।
পরম যত্নে তাকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিল।
পরপর প্রিয়তমার অধরে বিলিন হলো আদিত্য।
ঘরের বাইরে তখন রাত আরও গভীর হয়েছে। জানালার ওপাশে শহর তখনও জেগে।
আর ঘরের ভেতর…
দু’টি ক্লান্ত হৃদয় অবশেষে খুঁজে পেল বহু প্রতীক্ষিত শান্তি, বিশ্বাস আর পূর্ণতার এক নতুন সূচনা।
— সমাপ্ত —

