Home "ধারাবাহিক গল্প বকুলের মালা শুকাবে বকুলের মালা শুকাবে পর্ব-০৮

বকুলের মালা শুকাবে পর্ব-০৮

0
722

#বকুলের_মালা_শুকাবে—৮
#শার্লিন_হাসান

“আমি খাইয়ে দিব?”

রাগিনী অভিদের দিকে তাকায়। এতো কিছুর পরেও এই লোক এতো কুল হয়ে আছে কীভাবে? আবার খাইয়ে দেওয়ার আবদার পোষণ করে কীভাবে? সে হলে, লা থি মে রে চলে যেত। ইগো কী সস্তা জিনিস নাকি!
কাটকাট গলায় জবাব আসে, “তার কোন প্রয়োজন নেই।”
অভিদ সিদ্দিকী জবাব দেয়,
” খাবার নষ্ট করারও প্রয়োজন নেই। এসব এখানে চলেনা। খাবার নষ্ট করা আমার পছন্দ না।”

“খাবার নষ্ট করা পছন্দ না তবে অন্যের জীবন নষ্ট লরা পছন্দ তাইনা অসভ্য সিদ্দিকী সাহেব।”

নিজের নামের বিকৃতি দেখে অভিদ ভ্রু জোড়া কুঁচকে নিয়ে জবাব দেয়, “তোমার দেওয়া নাম তোমার মতোই সুন্দর।”

মূহুর্তে মেজাজ চড়ে যায় রাগিনীর। ও ক্ষেপাটে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে, “আমার জন্য কারোর অপেক্ষা করতে হবেনা। কেউ চাইলে রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে পারে।”

“বউ ছাড়া একা রুমে গেলে বিষয়টা খারাপ দেখায়।”

“খবরদার, তুই আমাকে বউ বলে ডাকবি না।”

মূহুর্তে রেগে যায় রাগিনী। অভিদ সিদ্দিকী ব্রু কুঁচকে বলে, “রেগে যাচ্ছ কেন? খারাপ কী বললাম!”

রাগিনী বিরক্ত হয়। বেডা মানুষ কী এমনই হয়? অপমান করে আবার ইগো সরিয়ে নিজে থেকে বেহায়ার মতো কত কী বলে, মন গলাতে। কিন্তু রাগিনীর সেসবে কিছু যায় আসেনা। ও খাবার রেখে হাত ধুয়ে রুমে চলে আসে। রাগিনীকে যেতে দেখে অভিদ আর কিছু বলেনা। নামের মতোই রাগটা একদম নাকের ডগায় লেগে থাকে মেয়েটার। ও বরং টেবিল গুছিয়ে রুমে আসে। অভিদ রুমে আসতে দেখে পায়ের কাছে বালিয় একটা রাখা। রাগিনী ইতোমধ্যে শুয়ে পড়েছে। ও বালিশ হাতে রাগিনীর পাশে রেখে শুতে গেলে রাগিনী পুনরায় রাগ দেখিয়ে বলে, “বাঙালির এই এক স্বভাব, একটু খানি বসতে দিলেই শুতে চায়।”

“বউয়ের পাশে শুতে এসেছি, পরনারীর পাশে না।”

“খবরদার ওই মুখে বউ বউ করে আমার কানের অসহ্য জ্বালা বাড়াবেন না। বারণ করার পরেও, আপনার মুখে বউ ডাক শুনলে ইচ্ছে করে, আপনাকে খু ন করে ফেলি।”

“তোমার ফিগার দেখে, খু ন তো আমি অলরেডি হয়ে গেছি।”

রাগিবীর রাগ হলো প্রচন্ড রকমের। শোয়া থেকে খপ করে অভিদের টিশার্টের কলার চেপে ধরতে অভিদ ঝুঁকে পড়ে রাগিনীর মুখের উপর। মূহুর্তে রাগিনীর ঠোঁটের সমস্ত নম্রতা এক লহমায় শুষে নেয় অপরপ্রান্তের অসভ্য সিদ্দিকী। রাগিনী নড়াচড়া করে উঠতে অভিদ তাকে ছাড়েনা। জেনো কত বছরের জমিয়ে রাখা আকুতি,হৃদয়ের সবটুকু আকর্ষণ নিবারন করছে। একদম ভিন্ন একটা অনুভূতি। মিনিট পাঁচেক ধরে, রাগিনীর অধরে অত্যাচার চালানো পর অভিদ সিদ্দিকী হাফিয়ে উঠে। ওপাশে রাগিনীও হাফিয়ে ওঠে। মূহুর্তে রেগে ফুঁসে ওঠে বলে, “এসব অসভ্যতামীর জন্য একদিন তোকে আমি খু ন করব বুড়ো, অসভ্য সিদ্দিকী।”

অভিদ সিদ্দিকী ঘোরের মাঝে আছে। তার ভেতরে অদ্ভুত অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে। মন না করলেও, শরীর জেনো অন্য কিছু চাচ্ছে। রাগিনীকে পরখ করে অভিদ। গায়ে ওরনাটা মাথার কাছে রাখা। জামার গলাটা কিঞ্চিৎ বড় হওয়ায় বুকের ভাজ স্পষ্ট রুপে ধরা দিয়েছে। বউয়ের সোন্দর্য দেখে অভিদ সিদ্দিকী জেনো এক নিমিষে খু ন। ঘোর লাগা কন্ঠে বলে, “তোমার ঠোঁট খুবই মিষ্টি। বাসর করতে না পারলেও, ঠোঁট তো টেস্ট করতে পেরেছি। নাউ অ্যাম হ্যাপি ফর দ্যাট।”

রাগিনী কী জবাব দিবে ভেবে পেলো না। মাথায় কিছুই আসছেনা। সেজন্য সে আক্রমণ করে বসে, অভিদ সিদ্দিকীর ঘাড়ে। নিজের সমস্ত রাগ নিয়ে কামড় বসায় অভিদ সিদ্দিকীর ঘাড়ে। রাগিনীর আক্রমণটা সহ্য করে নেয় অভিদ। কারণ তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে একেবারে। এরপরের আক্রমণটা সে নিজেই করবে রাগিনীকে। কোনরকম প্রমিস মনে আসছেনা তার। আগে-পিছে কী বলেছে জানেনা সে। রাগিনী হাফিয়ে উঠার মাঝে দ্বিতীয় আক্রমণটা তার অধরে হয়। হাতের কাছে থাকা টেবিল ল্যাম্পটা নিভে যায় মূহুর্তে। রাগিনীর বুকের মধ্যিখানিতে তোলপাড় চলছে। উথালপাতাল ঢেউ খেলা করছে। তীব্র বাতাসের মুখে কোন এক মোমবাতির নিবুনিবু জ্বলুনির মতো তার তেজ গুলোও নিবোনিবো পর্যায়ে চলে গেছে।অসভ্য অভিদ সিদ্দিকীর হাত এসে ঠেকেছে নিজের নরম কোমল বুকে। অধরজোড়া ছুঁয়ে যাচ্ছে মুখশ্রী, গলা ঘাড়েরে প্রতিটি অংশে। অভিদের তীব্র উম্মাদনার রেশ রাগিনীকেও গ্রাস করে বসেছে। পুরুষালি প্রতিটি স্পর্শ ওকে পাগল করে তুলছে। স্বজ্ঞান কিংবা উৎকন্ঠার মাঝেই ও অভিদ সিদ্দিকীর সমস্ত ভর বহন করে নেয়।

দুটো তনুর মাঝেরকার তীব্র উম্মাদনার ভেতরেও অভিদ সিদ্দিকী রাগিনীকে জিজ্ঞেস করে, “তোমার মেজার্মেন্ট বললে না তো?”

“থার্টি ফোর।”

কথাটা শেষে কান্না করে দেয় রাগিনী। তার কান্না থামাতে অভিদ সিদ্দিকী পুনরায় তার অধর জোড়া দখল করে নেয়।

★★★

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেছে রাগিনী। শরীরের প্রতিটি ভাজ ব্যাথা হয়ে আছে। হাঁটাটা অস্বাভাবিক হয়ে গেছে। অভিদ সিদ্দিকী পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছে। গতকাল রাতের কথা মনে পড়তে রাগিনীর রাগ চেপে বসে। নিজেকে ভীষণ রকমের ধিক্কার জানাতে ইচ্ছে করছে। ও নিজে কী করে এসবে রাজী হয়ে গেলো? কীভাবে! তখন অভিদ সিদ্দিকীকে কেনো চ ড় মারলো না। কেনো সেও এসব করতে গেলো! ষোলো বছরের একটা মেয়ে হয় কীভাবে, ওই বত্রিশ বছরের বুড়ো সিদ্দিকীর সমস্ত ভর নিয়ে নিলো?

কমফোর্টার সরাতে চাদরের দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠে রাগিনী। মূহুর্তে শব্দ করে কান্না করে দেয় ও। তার কান্নার শব্দে অভিদ সিদ্দিকী চমকে উঠে যায়। রাগিনী মুখ চেপে ধরে কান্না করছে। অভিদ সিদ্দিকী ঘাবড়ে উঠে জিজ্ঞেস করে, “কী হয়েছে রাগিনী?”

“আপনি… আপনি আমাকে খু ন করেছেন।”

ও তৎক্ষনাৎ জবাব দিলোনা। রাগিনীকে জোর করে নিজের বুকে আগলে নিয়ে জানালো, “খু ন তো তুমি নিজেই আমাকে করেছ। আমার মাথা পা’গল বানিয়ে দিয়েছে লিটল এঞ্জেল।”

অভিদের সুন্দর সম্বোধন রাগিনীর মন গলাতে পারলো না। ও অভিদ বুকে আ ঘাত করে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। পুনরায় কাঁদতে থাকে। শরীরের সাথে পেটের ব্যাথাটাও ক্রমশ তীব্র গতিতে বাড়তে লাগলো। রাগিনী নিজের চুল টেনে ধরে। ব্যাথা একদমই সহ্য হয়না তার। মাসের বিশেষ দিনগুলোতেও নিজেই নিজের কতরকম টেক কেয়ার করে। একদম বিছানা ছেড়ে উঠতে চায়না সহজে। একদম প্রিন্সেসের মতো বড় হয়েছেও। কিন্তু এই বুড়ো সিদ্দিকী তার ব্যাথা কী বুঝবে! রাগিনী এবার চিৎকার করে বলে, “আই হেইট ইউ।”

অভিদ শান্ত স্বরে বলে,
“ফাইন, আই এক্সেপ্ট ইট।”

রাগিনী এবার কথা বলার জো ফেলো না। এই লোকটা এমন কেনো? কেনো তাকে দ্বিতীয় বার কথা বলার মতো সুযোগ রাখতে চায়না। ও বিরক্ত হয়ে বলে, “আপনাকে সত্যি একদিন খু ন করব আমি।”

“তবে তাই হোক, তোমার হাতে আমার খু ন ও মঞ্জুর।”

“কিছুই করব না আমি। ম রে যাব আমি।”

“ফ্রেশ হতে যাও।”

রাগিনীর রাগ হয় প্রচন্ড। অভিদ যেভাবে বলছে, ও কী সব মেনে নিয়েছে নাকি! এতো সহজ নাকি! একবার ভুল করেছে তাই বলে বারবার ভুল করতে রাজী না, রাগিনী। ও কোনরকম কথা বলেনা।
এই বাড়িতে একদমই থাকতে ইচ্ছে করছে না তার। চৌধুরী বাড়িতে যাওয়ার রুচিটুকুও অবশিষ্ট নেই। আনমনা হয়ে সোজা ব্যালকনিতে চলে যায় রাগিনী। অভিদ সিদ্দিকী তার যাওয়া দেখে। চাদরে নজর যেতে নিজেও আঁতকে ওঠে। তড়িঘড়ি সেটা চেঞ্জ করে, ওয়াশরুমে ভিজিয়ে রাখে।

প্রচন্ড পেইনের সাথে ব্লি ডিং হতে, রাগিনী ফ্লোরে দপ করে বসে যায়। স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি খারাপ লাগছে তার। অস্বাভাবিক লাগছে নিজেকে। ব্যালকনিতে একদমই ভালো লাগছেনা দেখে রুমে চলে আসে। এসে নজর যায় অভিদ সিদ্দিকীর দিকে। রাগিনীর মনে হলো, লোকটা তার দিকে বাজে নজরে তাকাচ্ছে।

#চলবে