#বাতাসে_বহিছে_প্রেম
#আয়রা_তাবাস্সুম
পর্ব ০২
ইনস্টিটিউশনাল প্রাইড আমার খুব অপছন্দের বিষয়। তারচে বেশি অপছন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়াল আন্টির বিদ্যের জাহাজ ছেলেটা। সেটার প্রধান এবং একমাত্র কারণ ছিল ব্যাটা নিজের পড়াশোনা শিকেয় তুলে কেমন কুচুটে ব্যাডার মতো আমার সাবজেক্ট নিয়ে ইনভেস্টিগেশনে নেমেছে! ব্যাডামানুষও যে এমন কুচুটে হতে পারে সেটার ধারণা ছিল না আমার। আন্টির গুণধর পুত্রের কল্যাণে এমন অভিজ্ঞতাও জীবনে আমার হলো।
সেদিন আন্টি নিজের বাসায় চলে যাবার পর আম্মু খুব বকল আমায়। আমাকে পেটে ধরেছে আম্মু। রগে রগে নাকি চিনে আমাকে এসব বলে লেকচার ঝাড়ল ঘন্টাখানেক। কেন আন্টিকে নিজের সাবজেক্ট নিয়ে বানোয়াট মনগড়া কথা বলেছি। কি এমন দরকার ছিল সেটার। ঠিকই তো এখন অপদস্ত হতে হলো ব্লা ব্লা ব্লা। আমি বিচলিত হলাম না বিশেষ আম্মুর এরকম কঠিন বকাধমকে। আমার মাথায় তখন অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। ভেবে কূল পাচ্ছিলাম না এই ছেলেকে একটা উপযুক্ত শিক্ষা কিভাবে দেয়া যায়। ব্যাটার ধারণা ডাক্তারি পড়ে সে মাথা কিনে নিয়েছে সবার! কত বড় সাহস আমাকে কিনা বলে অমুক তমুক করলে তবু একটা গতি হবে আমার!
তাকে উপযুক্ত শিক্ষা দেবার কঠিন সংকল্প আমার আলস্যপ্রিয় আমুদে শরীরের সাথে তেমন ফিট হলো না। ফলশ্রুতিতে অতি অল্পদিনেই আমি তার কথা ভুলে গেলাম। নিরুদ্বেগ মনে চট্টগ্রাম ফিরে সেমিস্টার ফাইনালের ব্যস্ততায় নাওয়াখাওয়া ছাড়লাম। ঘুম তো দূর কি বাত! সুদীর্ঘ দু তিন মাসের থিওরী এক্সাম প্র্যাকটিক্যাল ফিল্ড ট্যুর সব মিলিয়ে আমার মনমেজাজ এমনিতেই থিতিয়ে ছিল। সব শেষে বাসায় ফেরার পরে তাই ঘুমে দিন রাত দুটোই কাবার হতো আমার। মনে হচ্ছিল জন্মের ঘুম সব একসাথে ঘুমোচ্ছি। অবশ্য ভালোই হলো সেটা। আমি এমনিও চাচ্ছিলামও না আন্টির মুখোমুখি হয়ে তার বেগুন ছেলের গুণকীর্তন শুনতে।
এরকমই একদিন বিকেলবেলায় আন্টি হাতে এক বাটি মাহালাভিয়া নিয়ে আসলেন আমাদের বাসায়। আমি তখন সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে ফোন টিপছি একনাগাড়ে। আন্টির চোখে পড়ায় ভদ্রতাসূচক হাসি হেসে কিছু বলব তার আগেই আন্টি শুরু করলেন নিজের কথার জাহাজ। ‘দিতিয়া যে! কতদিন পরে দেখলাম তোমায়। মিষ্টি পছন্দ করো তুমি? রিয়াদ এই ডেজার্ট টা খুব পছন্দ করে। আমারও ভালো লাগে তাই চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে আসে প্রতিবার। খেয়ে দেখবে কিন্তু! ভীষণ মজা।’ আমি কাষ্ঠ হাসি হাসলাম কোনোমতে। আবার শুরু হলো আন্টির পছন্দের আলোচনা। তার গুণধর ছেলের গুণকীর্তন!
পরে আম্মুর কাছ থেকেই জানলাম বিদ্যের জাহাজের বিদ্যাপীঠে তথা সিএমসি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কি একটা গন্ডগোল হয়েছে নাকি। সেজন্য মেডিক্যাল কলেজে সকল ক্লাস পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালীন সময়ের জন্য। সেই সুবাদে বিদ্যের জাহাজ বিদ্যাপীঠ ফেলে তার নিজগৃহে অবস্থান নিয়েছে৷ আমি বড়সড় একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে গেলাম। আন্টির গুণধর পুত্র সুদূর চট্টগ্রামে থাকাকালীন তার গুণকীর্তন থেকে নিস্তার পাইনি আমি। আর এখন সে যেহেতু এখানেই আছে নিশ্চয়ই আন্টি পুরোদমে চেষ্টা করবে আমাকে তার সুপুত্রের স্ব মহিমার চাক্ষুষ প্রমাণ দিতে!
আমি আসন্ন পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে টের পেলাম বিদ্যের জাহাজ কে নিয়ে আমার এবার কৌতূহল হচ্ছে বেশ। আন্টির সুপুত্র কি আসলেই এতটা সুপুত্র। সেই কৌতূহলের তাড়নায় আমি এবার আন্টির সুপুত্র বিষয়ক মুল্যবান সব আলোচনা বেশ মনোযোগ সহকারে খেয়াল করতে শুরু করলাম। এরকমই একদিন কথায় কথায় আন্টি বলে ফেললেন তার সুপুত্রের জন্য নাকি আংকেল সুপাত্রী খুঁজে বের করেছে। তবে সুপাত্রীর সাথে সুপাত্রের বিয়ের ব্যাপারটা পাকাপাকি হয়নি সুপাত্র ওরফে বিদ্যের জাহাজের ধনুকভাঙ্গা পণের জন্য। ঘটনার আদ্যপান্ত হলো বিদ্যের জাহাজ মেডিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের তার মনমতন মেয়ে বাদে বিয়ে করবে না। আর যে মেয়েটার সাথে আংকেল তার বিয়ের কথা বলেছিল সে নন মেডিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের।
পায়ের রক্ত আমার মাথায় উঠে গেল৷ আগেই বলেছি আন্টি বেকুব সহজ সরল টাইপের৷ তাই হয়তো তার গুণধর ছেলের এমন গোঁয়ার সংকীর্ণ মানসিকতার কথা নিসংকোচে বলে ফেললেন আমাদের। আমার খুব রাগ হলো এমন কথা শুনে। নন মেডিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের কাউকে বিয়ে করলে জাত যাবে তার! কতবড় হনু হয়েছে সে! তার প্রতি আমার চেপে থাকা আগের রাগ পুনরায় জিইয়ে উঠল তরতরিয়ে৷ বিদ্যের জাহাজ আমার বিদ্যে নিয়েও এমন তাচ্ছিল্য করে কথা বলেছিল৷ তখন বুঝিনি তবে এবারে নিশ্চিত হলাম মানসিকতা ই এমন তার। নিজের বাটখারায় বাকিদের যোগ্যতা মাপে সে।
আমার শান্তশিষ্ট আরামপ্রিয় আমুদে ভাব উবে গেল তক্ষুণি। মনস্থির করলাম বিদ্যের জাহাজ কে এমন শিক্ষা দিব বিদ্যের গৌরব পেছন দিয়ে বের হবে তার। আমার নির্ভেজাল ঘাপটি মেরে থাকা মন আমাকে শাসাল বহুক্ষণ। বাড়াবাড়ি কিছু করলে যে আম্মু আগে আমাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিবে সেটাও জানি। তাই বহু ভাবনাচিন্তার পরে সিদ্ধান্ত নিলাম সাংঘাতিক কিছু করব না। হালকাপাতলা কোনো শাস্তি দিবো তাকে। এটাই হবে একজন নারী হিসেবে বিদ্যের জাহাজের নারী জাতির প্রতি করা চরম অবমাননাকর মন্তব্যের উপযুক্ত জবাব!
পরিকল্পনা করতে আমার বেগ পেতে হলো না অত। পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমার মাথা না চললেও এসব অকাজে মাথা ম্যারাথনের স্পিডে দৌড়ায়। বাকি ছিল স্রেফ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পালা। প্রথম ধাপ হিসেবে আমি হার্মলেস কিছু বেছে নিলাম। বাড়াবাড়িও হবে না আবার আমার মেজাজও ঠান্ডা হবে। হাঁদারাম টার চেহারা দেখি নি আমি। তবে পীপহোলে নজর রাখছিলাম কিছুক্ষণ পর পর। বিকেলের দিকে লম্বাচওড়া একটা অবয়বকে আন্টির দরজা খুলে বের হতে দেখে আমার সাজানো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমি ছুট লাগালাম ব্যালকনিতে। বিদ্যের জাহাজের বিদ্যের অহংকার ছুটাচ্ছি আমি!
আম্মু চা পাতার লিকার রেখে দিয়ে পরে ঠান্ডা পানি মিশিয়ে গাছের গোড়ায় ঢালে সেসব। আমি মগভর্তি ঠান্ডা পানি মিক্স করে চাপাতা সমেত টলটলে পানিসব ঢাললাম ব্যালকনির রেলিঙের বাইরে থেকে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পরবর্তী পরিকল্পনাও আমার সাজানো ছিল৷ কাঁচুমাচু মুখ বানিয়ে বলতাম গাছে পানি ঢালতে গিয়ে হুট করে কিভাবে জানি হাত ফসকে পানি পড়েছে৷ সেটা বিশ্বাসযোগ্য না লাগলে প্ল্যান বিও রেডি ছিল আমার। বলতাম হঠাৎ করে হাতে বাতের ব্যথা উঠেছে। এমন ফাকঁফোকর ছাড়া প্ল্যানিংয়ের দরুন সফলভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নও হলো আমার।
যখন নীচ তলা থেকে বের হয়ে উঠোনে ব্যাটা পা রাখতে যাবে আমি তক্ষুণি অঘটন টা ঘটালাম। নিশানা মোটেও ভুল হলো না। ব্যালকনির খোলা রেলিং থেকেই মাথা বাড়িয়ে দেখলাম ব্যাটার চুল থেকে শুরু করে অফ হোয়াইট শার্টের মেরুদণ্ড বরাবর ভিজে চুপসে হয়ে গেছে আমার ছুঁড়ে মারা পানিতে। শার্টের জায়গায় জায়গায় চা পাতা লেগে আছে। যুদ্ধজয়ের খুশিতে আমি এমন মগ্ন ছিলাম কখন হাঁদারাম ঘাড় ফিরিয়ে আমায় জ্বলজ্বল দৃষ্টিতে দেখল খেয়ালও ছিল না আমার। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পরবর্তী পরিকল্পনার পুরোটা ই ভন্ডুল হলো তক্ষুণি। সরে পড়ার প্ল্যান ছিল আমার। তবে সটকে পড়ার আগে ব্যাটার চোখে পড়ে গেলাম।
বাংলা অভিধানে সম্মোহনী দৃষ্টি নামক একটা শব্দ আছে। যে দৃষ্টির খপ্পরে পড়লে মানুষ বেভুলা হয়ে পড়ে। দিনদুনিয়ার খবর ভুলে বসে এক চক্করে। আমার বোধহয় সেটাই হলো। মেয়েমানুষের চোখ সুন্দর হয় আমি জানতাম। তবে পুরুষমানুষের চোখও যে এমন সুন্দর হতে পারে জানা ছিল না আমার। সেটাও এমন বদপুরুষের! এত সুন্দর চোখ যেন স্রেফ তার চেহারার জন্য কাস্টমাইজ করে বানানো হয়েছে। আর কারো চেহারায় মানাবে না সেটা। লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট এসব ফিল্মে হয় আরকি। বাস্তব দুনিয়ায় হয় না। ফলশ্রুতিতে আমারও হলো না। যার পার্সোনালিটি এরকম ট্রাশ, তার উপ্রে আবার কিসের ক্রাশ! মানতে দ্বিধা নেই হাঁদারাম দেখতে ভালোই সুদর্শন। কিশোরী যাচ্ছেতাই ভাললাগার বয়স তখন পেরিয়ে এসেছি আমি। তাই তার অমন ব্যক্তিত্বের কারণে তার সুদর্শন চেহারা টানল না আমায়। বরং আসন্ন বিদঘুটে পরিস্থিতি থেকে বাঁচার সম্ভাব্য পথ খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম।
লম্বুটা জিরাফের মতন গলা বাড়িয়ে নিচ থেকে যেরকম জ্বলজ্বল দৃষ্টিতে দেখছিল ঘটনার এসপার ওসপার তো করেই ছাড়বে সে। আমার ভাবনা সত্যি হতে বেশি সময় লাগল না। পরবর্তী পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমি সমানে কলিংবেলের শব্দ পেলাম। আম্মু তখন কিচেনে। কিচেনে ঢুকলেই মনমেজাজ বিগড়ানো থাকে তার। আমার সাহস হলো না এরকম কেলেংকারী একটা ঘটিয়ে আরেকটা ঘটানোর৷ হাঁদারাম টা নিচ থেকে আমার চেহারা ক্লিয়ারলি না দেখলেও আন্দাজে ঠিকই ধরেছে এটা তিনতলার তাদের পাশের ফ্ল্যাটের কারো কাজ। আমার মোটেও ইচ্ছে হলো না তক্ষুনি তার চোখের সামনে পড়তে। স্ক্রিপ্ট যেটা বানিয়েছি সেটাও আরেকটু সাজাতে হবে৷ কারণ আম্মু যদি একবার বুঝে গোটা ব্যাপারটা আমি ইচ্ছে করে করেছি বিদ্যের জাহাজের শিক্ষা হোক না হোক আমার ঠিকই হবে!
এরকম সব ভাবনায় আমি পা টিপে টিপে ওয়াশরুমে ঢুকে ঘাপটি মেরে থাকলাম৷ দরজা আম্মু ই খুলুক, মুখোমুখি হোক এই সাইক্লোনের। ঘটনা সামলে উঠলে আমি গিয়ে দুটো ভালো কথা বলে আসব নাহয়৷ এদিকে সমানে কলিংবেল বাজার পরেও আমি কেন দরজা খুলছি না সেজন্য আম্মু তারস্বরে চিৎকার জুড়েছে রান্নাঘর থেকেই। ‘আমার বাপ কে বিয়ে করে জীবন শেষ তার। মেয়ে হয়েছে জগৎ আলসে। মা কে শুধু কাজ করানোর জন্য প্রয়োজন বাপ বেটির’ এইসেই বলতে বলতে আম্মু দরজা খুলতে গেলো। এদিকে ওয়াশরুমের দরজায় কান পেতে দাঁড়ানো আমি শুনলাম সব। ভালোই হয়েছে। বিষে বিষক্ষয়! এক টর্নেডো আরেক সাইক্লোনের মুখোমুখি হবে। কারোর ই প্রভাব থাকবে না বেশিক্ষণ!
আমাকে দ্বিগুণ অবাক করে দিয়ে আম্মুর দরজা খোলার শব্দ হতেই হাঁদারামের না বরং আমি আন্টির হড়বড়িয়ে বলাকথাবার্তা শুনলাম। হাঁদারাম টা যে কতবড় হাঁদারাম সেটা আমি টের পেলাম আবারও। তার প্রতি বিতৃষ্ণা আমার বাড়ল যেন৷ কেন রে ব্যাটা? তুই কি বাবু? কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়া ল্যাদা বাচ্চা? যে মাকে নিয়ে বিচার দিতে এসেছিস! এদিকে আন্টি শুরু করল তার সুপাত্রের সম্মানহানি বিষয়ক যাবতীয় কথাবার্তা।
‘ভাবী! আপনার কোনো আত্নীয়র ছোট ছেলেমেয়ে এসেছে বাসায়? এই যে দেখুন না। ছেলেটার গায়ে কেমন দুষ্টুমি করে পানি ছুঁড়ে মেরেছে। চায়ের পানি৷ রিয়াদ নাকি নিচ থেকে দেখেছে একটা মেয়ের মুখ। আমি তো বারবার ও কে বলছি দিতিয়া এরকম দুষ্টুমি করার মেয়ে মোটেও না। হয়তো ভাবীর বাসায় কোনো আত্নীয় আসছে।’ আন্টির কথাবার্তা শুনে আমার এতক্ষণের আত্নবিশ্বাস সব উবে গেল। আন্টির আমার প্রতি একটা গুড ইম্প্রেশন আছে তা আমি জানি। তার গুণধর পুত্রের কল্যাণে সেটা যে পন্ড হওয়ার পথে সেটা টের পেতেই আমি চটজলদি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলাম নিজের সাফাই গাইতে। আম্মুর বকুনির ভয় তো ছিলোই৷
‘আন্টিইই। আ’ম স্যরি। গাছের গোড়ায় চা’র পানি ঢালছিলাম। আমার হাতে এরকম হঠাৎ করে বাতের ব্যথা উঠে যে হাতের জিনিস হাতে রাখতে পারি না। তাই মগটা হাত থেকে সরে সব পানি ভাইয়ার মাথায় গিয়ে পড়েছে’ চোখমুখ কাঁচুমাচু বানিয়ে কথাগুলো আমি বললাম। একজন মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া মানুষের সামনে মেডিক্যাল নলেজ বহির্ভূত এরকম একটা লেইম এক্সকিউজ দিতে গলা কাপঁছিল আমার। তবু এত কিছু না ভেবে বলে ফেললাম৷ পাশ থেকে আম্মুর রাগী চোখমুখ নজর এড়ায়নি আমার। কিছু একটা তো আত্নপক্ষ সমর্থনে বলতেই হতো। উপায় ছিল না আর।
আন্টি অবশ্য বিশ্বাস করে ফেললেন আমার কথা৷ কোনো একটা কারণে আমার প্রতি তার পছন্দের মাত্রাটা বাড়াবাড়ি রকমের বেশি৷ এবার আমি মাথা খানিকটা উচুঁ করে নজর ফেললাম আন্টির পেছনে দাঁড়ানো লম্বু হাঁদারামের উপরে। দেখলাম অবিকল হাঁদারামের মত ব্যাটা এতক্ষণ গিলছিল আমার কথা। এখন আমি দৃষ্টি তাক করতে সেও নজর রাখল আমার চেহারায়। চোখেমুখে সামান্য বিভ্রান্তি তার। সেটা কি নিয়ে আমি বুঝলাম না৷ তবে এত মাথাও ঘামালাম না৷ সে যা ইচ্ছে ভাবুক। আমি দিতিয়া রাশেদ থুথু দিই তার ভাবনায়!
সাইক্লোনের আসন্ন দুর্যোগকবল পরিস্থিতি মোকাবেলা করা গেলেও আমার আম্মু নামক টর্নেডোর পূর্বাভাস আমি ভালোই টের পাচ্ছিলাম। বিদ্যের জাহাজের প্রতি দুনিয়ার বিতৃষ্ণা জন্ম নিলো আমার। ব্যাটা হাদাঁরাম ই তো যত নাটের গুরু! সামান্য চায়ের পানি পরনের কাপড়ে পড়লে এমন নাচতে নাচতে বিচার দিতে আসতে হবে!
ব্যাটা হাঁদারাম আসলেই হাঁদারাম! এটাই ছিল তাকে নিয়ে আমার প্রাথমিক ভাবনা।
চলবে।

