#বিধ্বস্ত_অনুভূতি
#সৌরভে_সুবাসিনী(moon)
#পর্ব-৪
“যাও ক্ষমা করলাম আবার।
তুমি আমার অভিমানের যোগ্য নও।
ভালোবেসে ছিলাম তোমায়
তুমি আমার ঘৃণারও যোগ্য নও।
যাও প্রতিজ্ঞা করলামই
এক ফোঁটা কাঁদবো না।
যতই অনুরোধ করো
আমি আর ফিরবো না।
আমি তো ভুলেই গেছি
তুমি কেনোই বা ফিরবে?
তোমার খেলনা ছিলাম
এখন ভেঙে গেছি
আজ হয়তো অন্য খেলায় মাতবে।
তবে মনে করিয়ে দেওয়া ভালো
খেলনা নই, রানী আমি
ভালোবাসার কালিতে লেখা প্রেম কাহিনী আমি।
হ্যাঁ আমি ভেঙ্গেছিলাম, ভেঙ্গেছিলাম পুরোপুরি
তবে, এখন এক একটা টুকরো জমাবো
তুমিও এবার দেখে নাও কি দারুণ হ্যাপি এন্ডিং বানাবো।
ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চোখে কাজল দিচ্ছিলো নীলিমা। হাতের কাজল নিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে অভিষেক করের কথাগুলো বলল নীলিমা।
অনির তখন সবে মাত্র গোসল সেরে বেরিয়েছে। তোয়ালে পাশে রেখে বিস্ময়কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অনির।
“এত অভিমান কেন?”
পাশে রাখা নিউজ পেপার হাতে নিয়ে বলল,
“দেখো, মানুষ কতটা জানোয়ার হলে এসব করতে পারে?ঘরে বউ বাচ্চা রেখে পরকীয়া করে বেড়াচ্ছে আবার বউ প্রতিবাদ করাতে তার সামনে বাচ্চাটাকে মেরে ফেলেছে।
কেন জানো?”
কথাগুলো শুনে নীলিমার পাশ থেকে উঠে যায় অনির। বেড সাইড টেবিলের উপর থেকে সিগারেটের প্যাকেট উঠিয়ে একটা সিগারেট মুখে পুরে অনির জিজ্ঞাসা করলো,
“কেন?”
তখন ধপ করে জ্বলে উঠলো লাইটার। সিগারেটে প্রথম টান দিয়ে একরাশ ধোঁয়া ছড়িয়ে দিলো সে।
“কারণ বউ বলেছিল তার সংসারের মায়া নেই। মাত্র ছেলের জন্য সংসারে পড়ে আছে। তাই স্বামী সন্তানকে তার সামনে মেরে ফেলল।
মেয়েটাকে বেধে।ভাবা যায় এসব?”
“ভাবা যায়। কারণ প্রণয় বিষে সব সম্ভব।প্রণয়ের বিষ গোখরো বিষের থেকে জ্বালাময়ী। এ বিষ তোমাকে না দিবে বাঁচতে না দিবে মরতে।”
“ভালো বললে তো।এখন বলো আমরা বিয়ে কবে করছি?”
“খুব দ্রুত।”
টলটলে পায়ে হাটতেছিল তন্দ্রা।বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে সে চলে এসেছে।পিছনে রয়ে গেলো তার শৈশব, কৈশোর, সদ্য পা দেওয়া যৌবনের স্মৃতি।
সে কোথায় যাবে? স্বামীর সংসারে ফিরলে অসম্মান বাবার ঘরে অতিথি মাত্র।
আমার আমি তাকে বার বার প্রশ্ন করছে
“”ব্যর্থ জীবনে তপস্যার থেকে মৃত্যুকে বরণ কী শ্রেয় না?”
বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সে পাশের একটা প্রাইভেট হাসপাতালে আশ্রয় নিলো। ওয়েটিং রুমে তখন অনেকে। ক্লান্ত শরীরে মাথা নিচু করেছিল তন্দ্রা। পাশে বসে থাকা এক ভদ্র মহিলার কোলে থাকা বছর খানেকের বাচ্চা তার দিকে হাত বাড়িয়ে টানছে। মুখ দিয়ে শব্দ করছে
“ব্বা ব্বা ব্বা ব্বা”
তন্দ্রা চোখ মেলে তাকায়। হঠাৎ মনে হয় তাকে অনিরের কাছে ফিরতেই হবে। তার সন্তানের জন্য কিন্তু সেই দৃশ্য ভেসে উঠে মানস্পটে। বিষিয়ে দেয় তন্দ্রার মন।
কী করবে সে? তার কী করার আছে?যখন শুরুর দিকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চেয়েছিল তখন সবাই বলল,
“একা তো রাখা যাবে না।বিয়ে দিতেই হবে। পরের জন যে ভালো হবে তার গ্যারান্টি কী?”
তার শক্তি হয়ে কেউ নেই। বিয়ের পর বন্ধ হয়েছে লেখাপড়া। না আছে কোনো চাকরি বা সামান্য টাকা পয়সা৷ সে কোথায় যাবে?নিজ ভিতরে থাকা ছোট্ট হৃদ স্পন্দনের জন্যও তাকে বাঁচতেই হবে।
দাঁতে দাঁত চেপে উঠে দাঁড়ায় তন্দ্রা। ফিরে আসে স্বামীর বাড়িতে।
বাড়ি ফিরে এসে দেখে অনির বসে আছে ঘরে। তাকে কিছু না বলেই ওয়াশরুমে চলে যায় তন্দ্রা।
ফিরে আসতেই দেখে অনির দুটো বার্গার নিয়ে বসে আছে। পাশে থাকা ব্যাগের লোগো বলে দিচ্ছে আজ অনির বেশ খরচ করেছে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপহীন তন্দ্রা। রাতের খাবার বসাতে যাচ্ছিলো তখন অনির তার হাত ধরে বলল,
“রাতে খাবার বানাতে হবে না।আমি নিয়ে এসেছি।এটা তোমার জন্য এসো বসো।”
তন্দ্রা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল তার ক্ষুধা নেই।তবে অনির নাছোড়বান্দা।
একটু মুখে দিতেই বমির কথা বলে বাহিরে এসে ফেলে দিলো।
আজ থেকে সে শুধু বেঁচে থাকার জন্যই বাঁচবে।
অনিরের থেকে, এই সংসারের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিবে।
দেখতে দেখতে কেটে গেলো প্রায় এক মাস। তন্দ্রার পেট কিছুটা ফুলেছে। সময় পেলেই সে নিজের পেটে হাত রেখে বসে থাকে।
একদিন বিকেলে ভ্যাপসা গরমে ঘুমিয়েছিল তন্দ্রা। অনির বাড়ি নেই, আফসানা কেমন করে যেন পা পিছলে পড়ে যাচ্ছিলো।
মেয়ের এমন অবস্থা দেখে অশ্রাব্য গালি দিচ্ছে তন্দ্রার শাশুড়ী। দোষ তন্দ্রার সে কেন ঠিক মতো পরিষ্কার করেনি?
ক্লান্ত তন্দ্রা ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে গেলো পরিষ্কার করতে।
সেরাতেই তার শাশুড়ি বলল ঘরে কোথাও বিড়ালে পটি করেছে। গন্ধে থাকা যাচ্ছে না।তন্দ্রা যেন দ্রুত পরিষ্কার করে দেয়।
খাটের নিচে বিড়ালছানা পটি করেছে। না সরিয়ে পরিষ্কার সম্ভব নয়। তন্দ্রা যখন নিরুপায় হয়ে খাটের পাশে ধাক্কা দিলো কিছুক্ষণ পর পেটে চিনচিনে ব্যথা হচ্ছিলো।
পরিষ্কার করে যখন ঘরে ফিরে এলো তখন সে খেয়াল করলো
তার দুই পা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে এক সূক্ষ্ম রক্তের স্রোত৷
তন্দ্রা হঠাৎ মনে হলো বাচ্চাটা টিকবে তো?
চলবে