ভালবাসা বাকি আছে পর্ব-১০+১১

0
563

#ভালবাসা_বাকি_আছে – ১০
Hasin Rehana – হাসিন রেহেনা
(কপি করা নিষেধ)
দুয়েক হাত দূর থেকে আরিশ বেশ জোরেই বললো, “এই বুশরা। তোমার সাথে কথা আছে আমার।”

কথাটা ফোনের ওপাশে থাকা রায়হানের কানে গেল মুহুর্তেই। পুরুষ কন্ঠের আকুলতাও যেন কিছুটা আঁচ পেল রায়হান। অন্যদের চোখে ছেলেমানুষী মনে হলেও একটু ভ্রু কোচকালো রায়হান। তবে ব্যাক্তিত্বশালী মানুষ হওয়ার কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না।

বরং নিজে থেকেই বললো, “ঠিক আছে, বাসায় গিয়ে ফোন করো।”
“এই, না না, ফোন কাটবে না একদম”, অস্থিরভাবে বললো বুশরা, “যাস্ট একমিনিট লাইনে থাকো।”

এরপর আরিশের দিকে ফিরে সাবলীল কন্ঠ বললো, “সরি আরিশ। ইউ হ্যাভ টু ওয়েট। আমার হাজব্যান্ডের সাথে কথা বলছি। জরুরি না হলে কাল ক্লাসে কথা হবে। আর হ্যাঁ, দুদিনের পরিচয়ে হঠাৎ করে তুমি সম্বোধনে যাওয়াটা আমার পছন্দ না। আই হোপ ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড।”

রায়হানকে খুব কম সময় ফোনে পায় বুশরা। সেই সময়টুকু অন্য কারো জন্য বিসর্জন দিতে একেবারেই নারাজ ও। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট আসলেও বোধহয় বুশরা একই রকম টোনে বলবে “সরি স্যার, ইউ হ্যাভ টু ওয়েট।“
বুশরার সাবলীল কথা, জোর দিয়ে আমার হাজব্যান্ড বলা, বোল্ডনেস অনুভব করে পুলকিত হলো রায়হান। এই মেয়েটা তাকে কতটা গুরুত্ব দেয়!

তবে বুশরার কথা বলার ধরন আরিশের খুব একটা ভালো লাগলো না। এর চেয়ে কেউ দু’গালে কষে চড় মারলে বোধহয় কম অপমানিত লাগতো ওর। তবু চেহারার অভিব্যাক্তি লুকিয়ে খানিকটা জোর দিয়েই বললো করে বললো, “সরি, বুঝতে পারিনি। পরে কথা হবে তাহলে। বাই।”

আরিশ চলে গেল। ফোন কানে নিয়ে বুশরা বললো, “সরি গো। অপেক্ষা করালাম একটু।“

“ইটস ওকে”, শান্ত কন্ঠে বললো রায়হান, “ফ্রেন্ড?”

“ক্লাসমেট। বাঙ্গালী। কেমনজানি একটু গায়েপড়া স্বভাবের।“

“সুন্দরী ক্লাসমেটদের সামনে একটু আকটু গায়ে পড়া সব ছেলেরাই হয়।“
“জেলাস নাকি?”

“তা একটুখানি।“

“বাই দ্য ওয়ে, তুমি কি আমাকে সুন্দরী বললে? আর ওয়েট, সব ছেলের মধ্যে কি তুমিও পড়ো নাকি?”

“ওটা তো কথার কথা।“

“উম… অসুন্দরী বলছো তাহলে?”

“কখন বললাম?”

“এই তো। এখনই”

“পাগল নাকি? আমার ঘাড়ে একটাই মাথা।“

“মানে? আমি কি ডাইনিবুড়ি?”

“উফফ। এই তুমি ডাক্তার হয়েছো কেন? উকিল হলেই পারতে।“

“তাহলে কি আপনার দেখা পেতাম জনাব?”

এ কথায় দুজনেই হেসে ফেলে। হাসতে হাসতে রায়হান বলে, “নসিবে ছিলে যখন, দেখা তো হতোই। আচ্ছা শোনো, এবার যেতে হবে আমার যে।“

“আপনি কি আগের চেয়েও বেশি ব্যাস্ত হয়ে যাচ্ছেন রায়হান সাহেব?”, কথাটা মনে মনে উচ্চারণ করলো বুশরা। কিন্তু মুখে বললো, “ঠিক আছে। সাবধানে থেকো।“

সকালের নাস্তা এর মধ্যে হজম হয়ে গেছে বুশরার। বাসায় ফিরে রান্না করার মত এনার্জি নেই। অথচ খেতে মন চাচ্ছে ভাত, পুইশাক দিয়ে ডাল চচ্চড়ি, আর পাবদা মাছ ভাজা। কতদিন মায়ের হাতের রান্না খাওয়া হয়না। চোখের সামনে ভেসে উঠলো শিউলি বেগমের মততাময়ী মুখটা। মা বলতে তো ওই মানুষটাকেই বোঝে ও। জ্বরটা বাড়ছে। অগত্যা ক্যান্টিন থেকে খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু তার আগে ফোন করল শিউলি বেগমকে।

কল রিসিভ হতেই আদুরে গলায় বললো, “আম্মা, ও আম্মা।“

গলার স্বর আর আহ্লাদ শুনে উদ্বেগে অস্থির হলেন পৌড়া রমনীটি, “জ্বর আসছে নাকি মা তোমার?

জোর করে ধরা গলায় বুশরা বললো, “কই না তো? তুমি ভালো আছো?”

“খুব বড়ো হয়ে গেছ না? মায়ের চোখ ফাঁকি দিবার চাও।”

“আমি বড় হতে চাইনা আম্মা। ছোট্টবেলায় ফিরে যেতে চাই। আর তখনও তোমার আদর, স্নেহ, মমতা চাই। আর জন্মে আমি তোমার নিজের মেয়ে হতে চাই।“

“পাগলী। তুই কি আমার নিজের মেয়ের চেয়ে কম? রুকু কিন্তু ভীষণ হিংসা করে তোকে। বলে এখন ওর ভালবাসা কমে গেছে।“

এই মেয়েটা তার বড় আদরের। নিজের ছেলেমেয়ে চোখের সামনে থাকলেও এই পরের মেয়েটার জন্য কেন যে এত মন পোড়ে। ইদানিং মনে হয় পেটের দুইটা ছেলেমেয়ের জন্যও বোধহয় এতটা চিন্তা হয়না। কি জানি, এই বাচ্চাটা একা একা বহুদূরে আছে দেখে হয়তোবা।

খেতে বসে আরিশকে দেখলো বুশরা। দুইটা টেবিল পরে বসেছে। গভীর মনযোগ দিয়ে খাচ্ছে। বুশরাকে দেখে দেখেছে কি না বোঝা যাচ্ছে না। বুশরা খাওয়ায় মনযোগ দিল। জিভে একদম টেস্ট নাই। জোর করে আর কতটুকু খাওয়া আগায়। তবু চেষ্টা করলো অনেক্ষণ।

হাল ছেড়ে দেবে এমন সময় খাওয়াদাওয়ার পাঠ চুকিয়ে সামনে এসে দাড়িয়েছে আরিশ।
“বসতে পারি?”

সামনে তাকিয়ে বুশরা বললো, “হ্যাঁ সিউর। কিছু বলতে চাচ্ছিলেন তখন।“

একটু কাচুমাচু করে আরিশ বললো, “কিভাবে যে বলি?”

একটু অবাক হলো বুশরা। কি এমন কথা বলবে ছেলেটা যে এমন ইতস্তত করছে, ভেবে পেলো না কিছুতেই।

সৌজন্যবোধ ধরে রেখে বললো, “আরে বলে ফেলুন।“

“আসলে প্রফেসর ঝ্যাং এর লেকচার বুঝতে পারছিনা কিছুতেই। উনার এক্সেন্টের সাথে নিজের কানকে এডজাস্ট করতে পারছিনা কিছুতেই। আগের দুইটা এসাইনমেন্টে ডাব্বা খেয়েছি। ক্যান ইউ হেল্প মি উইথ দ্য নেক্সট ওয়ান? আগামী পরশু ডেডলাইন।“

কেউ পড়াশুনার ব্যপারে সাহায্য চাইলে বুশরা কখনোই না করে না। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। “ঠিক আছে, কাল দুটা ক্লাসের মাঝে দুই ঘন্টার গ্যাপ আছে। ওই সময় দেখিয়ে দিব।“

“থ্যাঙ্ক ইউ বুশরা। আচ্ছা লাইব্রেরিতে তো বেশি কথা বলা যাবে না, বাইরে কোথাও বসি কাল?”

এক মুহুর্ত চিন্তা করে বুশরা বললো, “আচ্ছা। বাস্কেটবল কোর্টের পাশের সিড়িতে বসা যায়।”

আরিশ ভেবেছিল ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসেপাশের কোন ক্যাফেতে বসবে। ওই সময়টা অফিস আওয়ার হওয়ায় নিরিবিলি ই থাকে। তবে বুশরা সচেতনভাবেই সে অপশনের ধারেকাছেও গেলো না। আরিশও আপত্তি করলো না। একদিনে এটুকু প্রোগ্রেসই যথেষ্ট, সবুরে মেওয়া ফলে। এই বলে নিজেকে বুঝ দিলো ছেলেটা।

চলবে…

#ডাক্তার_মিস – সিকুয়েল
#ভালবাসা_বাকি

#ভালবাসা_বাকি_আছে – ১১
Hasin Rehana – হাসিন রেহেনা
(কপি করা নিষেধ)

বুশরার জ্বরটা উঠানামা করছে দুইদিন ধরে। রায়হান ফোনে বারবার বলেছিল জ্বর যেহেতু যাচ্ছেনা একবারে তাই দুয়েকদিন রেস্ট নিতে। সকালেও আসার সময়ও বেশ ভালই ছিল শরীর। তাই নিষেধ কানে নেয়নি বুশরা। কিন্তু এখন কিছুটা খারাপ লাগছে। বাসায় চলে যেতে পারলে ভাল হতো। কিন্তু ঘন্টা দুয়েক পরে একটা সেমিনার আছে। বুশরা সাধারণত এসব সেমিনার বাদ দেয় না। তাই কষ্ট করে থেকে গেল ক্লাসের পর। তাছাড়া আরিশকে আজ কয়েকটা টপিক বুঝানোর কথা। ছেলেটাকে ক্লাস শেষে দেখেনি বুশরা। দেখলে আজ নিষেধ করে দিত। অগত্যা পূর্বপরিকল্পনা মত বাস্কেটবল কোর্টের ওদিকে এগুলো বুশরা। ক্যাটকেটে হলুদ রঙের মার্কামারা জ্যাকেটের কারনে দূর থেকেই সিড়িতে আরিশের দেখা পেল বুশরা।

এই রঙের পোষাকে যেকোন ছেলেকে জঘন্য দেখাবে। কিন্তু অদ্ভুত, ছেলেটাকে এই উৎকট রংটাও মানিয়ে যায় অবলীলায়। ক্লাসে অনেক শেতাংগী মেয়েও আরিশকে ফ্লার্ট করার চেষ্টা, তবে আরিশের চোখের তারায় আপাতত বাঁধা পড়েছে সাদামাটা দেশি গোলগাল চেহারায় শ্যামসুন্দরী বুশরা। আর তাইতো একটু আধটু চেষ্টা করে দেখা। বিদেশ বিভুইয়ে একলা একটা মেয়ে কতদিন ইস্পাতকঠিন থাকবে? বিরহ, একাকিত্ব দূর করার জন্যও তো সাময়িক একটা কাধ চাই। আর যেকয়দিন টাইমপাস করা যায় সেটাই লাভ আরিশের। আর তাছাড়া বাংগালী, বিবাহিত মেয়ে, কয়দিন পর এমনিই কেটে পড়বে, কমিটমেন্টের ঝামেলা করবে না। সবদিক থেকেই বুশরা একটা জ্যাকপট। আর তাকে বাগাতে একটু তো চেষ্টা করাই যায়। কাছাকাছি আসতেই হাত নেড়ে “হাই” জানালো আরিশ।

“সরি একট দেরি হয়ে গেল।”

“তোমার জন্য কয়েক ঘন্টাও দেরি করতে অপেক্ষা নাই বুশরাসোনা”, মনে মনে বললো আরিশ। কিন্তু মুখে বললো, ” ইটস ওকে। আমিও মাত্রই আসলাম।”

“আচ্ছা শুরু করি তাহলে।”

কথা না বাড়িয়ে ব্যাগ থেকে ক্লাসনোটস আর বলপেন বের করলো বুশরা। টপিকগুলো বুঝিয়ে দিতে লাগলো একে একে। মাঝে মাঝে চোখ তুলে তাকালে মেয়েটা দেখতে পেত আরিশের মোহগ্রস্ত দৃষ্টি। শুরুতে বুশরার মায়াবী চেহারায় মেতেছিল আরিশ। কিন্তু আজ এই ঘন্টাখানেকে ওর কথা বলা, হাত নেড়ে নেড়ে বুঝানো, চেহারার এক্সপ্রেশন, সবকিছুর উপর মেয়েটার স্ট্রং ব্যাক্তিত্বে বুকের মধ্যে একটা হালকা কাঁপন অনুভব করে আরিশ। এরকমটা তো আগে কখনো হয়নি। মনে মনে ভাবে কয়েকদিন নয়, অন্তত কয়েক মাস চাই মেয়েটাকে ওর। তবে তার জন্য পা ফেলতে হবে সাবধানে। বেহায়ার মত তাকিয়ে থাকলে আজই শেষদিন হবে ভেবে চোখ ফিরিয়ে খাতার দিকে নিয়ে আসলো আরিশ।

“ইজ ইট ক্লিয়ার আরিশ? নাকি রিপিট করবো?”

বুশরা পড়াশুনার ব্যাপারে খুব ডেডিকেটেড। বুঝায়ও অস্থির। তবে বাস্তবতা হলো আরিশ খুব একটা মনোযোগ দিতে পারেনি। তবে সেটা প্রকাশ করা যাবে না। সিরিয়াস মেয়ে স্টুডেন্টরা আবার আতেল হয়। মনযোগ দেয়নি বুঝলে পরেরবার গ্রুপস্টাডির জন্য রিকুয়েষ্ট করা যাবে না। আর তাহলেই সাড়ে সর্বনাশ হবে। কারন এই মেয়েকে অত সহজে কফি ডেটে নেওয়া সম্ভব না, গ্রুপস্টাডিই ভরসা।

মাথা নেড়ে আরিশ বললো, “হ্যাঁ, বুঝেছি। বাসায় গিয়ে আরেকবার দেখলে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।”

একবার ভাবলো বলবে, “যদি আটকে যাই ফোন করবো।”

কিন্তু বললো না। কারন বুশরার নম্বর নেই ওর কাছে। আর এখনই ছ্যাচড়ার মত ফোন নম্বর চাওয়া যাবে না কিছুতেই। এমন সিচুয়েশন ক্রিয়েট করতে হবে যাতে না চাইতেই ফোন নাম্বার চলে আসে শুড়শুড় করে।

“আজ উঠি তাহলে।”, বলে উঠে দাড়ালো বুশরা। তবে সিড়ি ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই পৃথিবীটা যেন দুলে উঠলো ওর। সবকিছু ঝাপসা হয়ে এল মুহুর্তেই। আরিশ পুরো ব্যাপারটা বুঝে ওঠার আগেই ঘাসের উপর লুটিয়ে পড়লো মেয়েটা। মাথাটা সিড়ির কোনায় ঠুকে যাওয়ার আগে কোন মতে ধরে ফেললো আরিশ। জ্বরে যা পুড়ে যাচ্ছে বুশরার। আজ রোদও পড়েছে খুব বেশি। দীর্ঘ সময় রোদে থাকার কারনে গরমে ব্রহ্মতালু ফেটে যাচ্ছে মেয়েটার। চেহারা একদম ফ্যাকাসে। হুট করে উঠে দাঁড়াতেই আর শরীর সাপোর্ট দেয়নি। জ্ঞান হারানোর আগে বুশরার মনে হলো ও রায়হানের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে, ঠিক ধলতা নদীর পাড়ে যেভাবে শুয়ে ছিল কোন এক বিকেলে৷

ঘটনার আকস্মিকতায় একটু থমকে যায় আরিশ। বুশরার মাথাটা কোলে টেনে নেয়। আলতো করে ডাকে, ” বুশরা, এই বুশরা।” কোন সাড়া না পেয়ে দ্রুত চিন্তা করে কি করবে। ওর এপার্টমেন্টটা কাছেই। কিন্তু রাইসা বাসায় থাকলে খুব রাগ করবে। মাসখানেক ধরে মেয়েটার সাথে লিভইনে আছে আরিশ। কিন্তু মেয়েটা বড্ড বেশি পজেসিভ। গত সপ্তাহেও শপিংমলে একটা মেয়েকে সামান্য ফ্লার্ট করায় ঝগড়া করে নিজের ডর্মে চলে গেছিল মেয়েটা। গেল যাক, মানাতে যায়নি আরিশ। কিন্তু বেটি কাল সন্ধ্যায় ফেরত এসেছে। আরিশের খুব আফসোস হয়। বুশরার বাসার এড্রেসটা জানলে ভালো হতো। চাবি নিশ্চয়ই ব্যাগেই আছে। আর নাহলে ফিঙারলক, সমস্যা হতো না। এমন সুযোগ লাখে একবার আসে। কিন্তু এসব ভেবে লাভ নাই।

দুহাতে বুশরার গাল ধরে ঝাঁকায় আর ডাকতে থাকে আরিশ। তবে কোন সাড়া পায়না। পানির ছিটা দেওয়া দরকার। কিন্তু ব্যাগে পানি ক্যারি করেনা ও। তাই বুশরার ব্যাগে হাত দিল। তবে পানি পেল না। বরং ভাইব্রেট করতে থাকা ফোনটা হাতে লাগলো। ফোনটা বের করে দেখলো, ” চেয়ারম্যান সাহেব কলিং”। নামটা কনফিউজিং হলেও স্ক্রিনে বুশরার সাথে ক্লোজ এংগেলে তোলা কাপল ছবি দেখে বুঝতে বাকি রইলো না যে ফোনের ওপাশের মানুষটা কে।

একটু চিন্তা করে ফোনটা ধরলো আরিশ।

“হ্যালো কে বলছেন?”

অনেকখন ধরে বুশরাকে ফোন করছে রায়হান। শেষমেশ যখন ফোন রিসিভ হলো স্ত্রীর অপরিচিত পুরুষ কন্ঠ শুনে অবাক ও। অবাক তো হওয়ারই কথা। ভয় কিংবা সন্দেহ আসাটাও বাড়াবাড়ি নয়।

“রায়হান বলছি। কিন্তু আপনি কে? বুশরা ঠিক আছে?”, কন্ঠের উদ্বিগ্নতা চাপা থাকলো না খুব একটা।

“আমি কে সেটা ইম্পর্ট্যান্ট না। আমার নাম আরিশ। আমি ভুল না হয়ে থাকলে বুশরা আপনার স্ত্রী। রাইট?”

“জি। ঠিকই ধরেছেন।”, বিষ্ময় চেপে বললো রায়হান।

“বুশরা আমার সাথেই ছিল ঘন্টাখানেক। আমি বুঝতে পারিনি যে অসুস্থ। একটু আগে প্রচন্ড জ্বরে জ্ঞান হারিয়েছে। আপনি চিন্তা করবেন না প্লিজ, আমি ওকে বাসায় পৌঁছে দেব।”

সাংঘর্ষিক অনুভূতিতে দিশেহারা রায়হান। একদিকে বুশরা জ্ঞান হারিয়েছে সেই চিন্তা, অন্যদিকে তৃতীয় ব্যাক্তির অযাচিত পদচারণা।

যথাসম্ভব শান্ত কন্ঠে রায়হান জিজ্ঞাসা করলো, “বাসার ঠিকানা জানেন আপনি?”

“না মানে….”, ধরা পড়ে গেলেও শেষ তীরটা ছোড়ে আরিশ, ” আপনি যদি এড্রেসটা টেক্সট করে দেন তাহলে পৌঁছে দিতে পারি। নাহলে বুশরার জ্ঞান ফেরা পর্যন্ত এখানেই অপেক্ষা করবো। সমস্যা নাই।’

“অনেক কষ্ট করেছেন অলরেডি, বাকিটা আমি দেখছি। আপনারা কি ক্যাম্পাসে? লোকেশনটা আমাকে একটু শেয়ার করুন আমি ব্যাবস্থা করছি।”

ফাটা ফাটা বেলুনের মত চুপশে আরিশ বললো, “আচ্ছা।”

ফোনটা কেটে তানিয়ার নম্বর ডায়াল করলো রায়হান।

“আসসালামুআলাইকুম ভাইয়া। ভালো আছেন?”

“আমি ভালো আছে আপু। একটা সমস্যা হয়েছে। হেল্প লাগতো। আপনি কি ক্যাম্পাসে?”

“হ্যাঁ ভাইয়া।”

“বুশরা হঠাৎ জ্ঞান হারিয়েছে। প্রচন্ড জ্বর ওর। ওকে একটু আপনার বাসায় নিয়ে যাবেন কষ্ট করে? এই অবস্থায় একা থাকা নিরাপদ না।”

“হ্যাঁ অবশ্যই। কালই তো মেয়েটার সাথে কথা হলো। কিছু বললো না তো।”

“ও শরীর খারাপের কথা একদম চেপে যায়। আমি লোকেশন পাঠাচ্ছি। একটু প্লিজ….”

“হ্যাঁ প্লিজ”

রায়হান লোকেশন ফরওয়ার্ড করে দিল তাড়াতাড়ি।

চলবে…

#ডাক্তার_মিস – সিকুয়েল
#ভালবাসা_বাকি