ভালোবাসতে চাই পর্ব-১২

0
797

#ভালোবাসতে_চাই
#পর্বঃ১২
#ফারজানা_আক্তার

ক কি চাওয়া?
থেমে থেমে বলে রিক্তা।
~কফিতে চুমুক দাও।
~কেন?
~দিতে বলছি দাও।
রিক্তা কফিতে চুমুক দিয়ে শিশিরের হাতে কফির মগটা ধরিয়ে দিয়ে বলে বিষ মিশায়নি, খেতে পারেন এবার,বলেই চলে গেলো রিক্তা।
শিশির মুচকি হাসে, কফিতে চুমুক দিয়ে নিজে নিজে বিড়বিড় করে বলে সরি, মাথাটা ভীষণ ঝিম ধরে আছে তাই তোমার উপর রাগ দেখালাম।



দুপুরে খাবার টেবিলে শুঁটকি ভাজি দিয়ে ভাত খাচ্ছে শিশির, রিক্তা শিশিরের পাশ থেকে উঠে একটু দৌড়ে গিয়ে বসতেই আফিয়া বেগম বলে কি হয়েছে মা? ওখান থেকে উঠে আসলে কেনো?
~আসলে আম্মু আমি না শুঁটকি খাইনা আর গন্ধও শুঁকতে পারিনা, তাই
মাথা নিচু করে বলে রিক্তা। কাল রাতেও খুব কষ্টে শিশিরের পাশে বসে ভাত খেয়েছিলো সে।
আফিয়া বেগম রিক্তার কথা শুনে কুটকুট করে হাসতে লাগে, বউ গন্ধও শুঁকতে পারেনা আর স্বামী দিব্যি আয়েশ করে খাই।
রিক্তা আর শিশির আফিয়া বেগমের দিকে অবাক দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে, ওরা বুঝতে পারছেনা আফিয়া বেগমের এভাবে হাসবার কারণ কি।



কোথায় যাচ্ছেন?
শিশির বাহিরে যাওয়ার জন্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছিলো, রিক্তা খাটে বসতে বসতে জিজ্ঞেস করে।
~আমি কোথায় যাচ্ছি না যাচ্ছি সেটা জানার অধিকার তোমার নেই।
খটখট করে বলে দেয় শিশির।

মন খারাপ হয়ে যায় রিক্তার। শিশির টাস করে দরজা লাগিয়ে চলে যায়, হঠাৎ দরজার শব্দে ছিটকে উঠে রিক্তা।।
উনি এমন কেন করছেন?তবে কি উনি আমার ডাইরি পড়ে ফেলেছেন? নাহ নাহ কি ভাবছি আমি, ডাইরি পড়লে তো এমন করার কিছুই নেই, বিয়ের প্রথম রাতেই তো সব বলে দিয়েছি উনাকে আমি।।। আচ্ছা উনি কি এখন উনার কোনো গফ এর সাথে দেখা করতে গেছে? গেলে যাক তাতে আমার কি হুঁ….
এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায় রিক্তা।।।



পাশাপাশি একটা পুকুর পাড়ে বসে আছে শিশির আর নিলি,
ধুর তিন বছর আগের ঘটনা নিয়ে এখন মন খারাপ করার কি আছে? বউকে সময় দে, হাসি খুশি থাক, দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে আবার।
~কিভাবে ঠিক হবে? কানাডা গেলে ওর সাথে যদি আবারও দেখা হয়ে যায় তখন কি করবো? ওর কথা ভাবতেই গায়ের লোম কাড়া হয়ে যায়।
অশ্রু চোখে কথাগুলো বলে শিশির।
নিলি কি বলবে বুঝতে পারছেনা। যাকে এতো কাছের, এতো আপন ভেবেছিলো তার দেয়া ধোঁকায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিলো শিশির।
কিছুক্ষণ পর নিলির ফোনে কল আসলে সে চলে যায়,, একা একা বসে থাকে শিশির, আজ আবারও তিনবছর আগের সেই ঘটনা নিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে শিশিরের। এই ঘটনার পর নতুন করে আর কারো সাথে বন্ধুত্ব পর্যন্ত করেনি শিশির,, একমাত্র নিলি ছাড়া আর কোনো ছেলে বন্ধু পর্যন্ত নেই শিশিরের, একমাত্র নিলির সাথেই মনের সব খুলে বলতে পারে শিশির।।



সন্ধ্যায় শিশির ঘরে এসে দেখে রিক্তা এখনো ঘুমায়, পা টিপে টিপে রিক্তার সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে শিশির।
ঘুমন্ত রিক্তাকে খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে তার। রিক্তার ডান গালে হাত দিতেই রিক্তা জেগে উঠে, মিটিমিটি করে চোখ মেলে দেখে সামনে শিশির বসে আছে।
হুড়মুড় করে উঠে বসে রিক্তা। শিশির দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে যায়।

উনি হঠাৎ এভাবে চলে গেছে কেনো? উনি কি আমায় ছুঁয়ে ছিলো।
গালে হাত রেখে বলে রিক্তা।



রাতে খাবার টেবিলে চুপচাপ সবাই খাবার খাচ্ছে, রিক্তা আঁড়চোখে তাকায় বারবার শিশিরের দিকে।
নুরুল ইসলাম খাবার মুখে দিতে দিতে বলে “শিশির কি চিন্তা করলি?
শিশির পানি খেয়ে বলে ” কোন বিষয়ে?
~হানিমুনে যাওয়ার কথা।
~যাবোনা
~কেন? তোকে ছুটি দিয়েছি কেন তবে? কালকেই যাবি।
~না গেলে কি হয়না?
নুরুল ইসলাম চোখ লাল করে তাকায় শিশিরের দিকে, রিক্তা সব শুনছে কিন্তু কোনো রিয়েক্ট করছেনা। আফিয়া বেগম বলে “মেয়েটার মন খারাপ হয়ে যাবে, নিয়ে যা না কোথাও।
রাগ উঠে যায় শিশিরের আর কর্কশ কন্ঠে বলে ” তোমাদের আদরের বউমা কোথায় যেতে চাই জানো? তবে শুনো, কানাডা যেতে চাই ও, আর তোমরা ভালো করেই জানো আমি মোটেও ওই দেশে যাবো না।
নুরুল ইসলাম আর আফিয়া বেগম খাওয়া বন্ধ করে শিশিরের দিকে তাকালো দ্রুত, শিশির খাওয়া বন্ধ করে বসে আছে, চোখ চিক চিক করছে জলে।

রিক্তা বুঝতে পারছেনা কি হচ্ছে এসব, আফিয়া বেগম রিক্তার দিকে তাকিয়ে বলে “মা কানাডা ছাড়াও আরো অনেক ভালো ভালো দেশ আছে, সেখানে যাও তবে কানাডা যাওয়ার কথা বলিও না।
~তবে কেনো আম্মু? কানাডা যাওয়ার ইচ্ছে তো আমার সেই ছোট বেলা থেকে, তবে কি কিছু লুকাচ্ছো তোমরা আমার থেকে?

শিশির ধাম করে হাতে থাকা পানির গ্লাসটা টেবিলের উপর রেখে চলে যায়, রিক্তা ভরকে যায়। নুরুল ইসলামও কিছু না বলে উঠে চলে যায়।
আফিয়া বেগম নুরুল ইসলামের পেঁছন পেঁছন যায়।
রিক্তা বসে আছে একা, কানাডা গেলে কি এমন হবে? ভেবে পাচ্ছেনা রিক্তা।



শিশির চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে বিছানায়। রিক্তা এসে বিছানায় বসতেই শিশির চোখ খুলে তাকায় রিক্তার দিকে। রিক্তা শিশিরের দিকে না তাকিয়েই শুয়ে পরে, শিশির লাইট অফ করতেই লাফিয়ে উঠে রিক্তা, শিশির দ্রুত লাইট জ্বালায়।
~আপনি লাইট অফ করলেন কেন?
~লাইট জ্বালিয়ে ঘুম আসেনা আমার।
~লাইট বন্ধ করলে আমার ভয় লাগে।
~তবে একটা সমাধান আছে আমার কাছে।
~কি সমাধান? উত্তেজিত হয়ে বলে রিক্তা।
~লাইট বন্ধ করে আমার বুকে মাথা রেখে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে পারো, আমার কোনো আপত্তি নেই।
চোখ টিপ মেরে বলে শিশির।

রিক্তা অবাক, কিছুক্ষণ আগে যে এতো রেগে ছিলো সে এখন এতো শান্ত কিভাবে?
রিক্তা কিছু বলছেনা দেখে শিশির রিক্তাকে টান দিয়ে নিজের খুব কাছে নিয়ে আসে আর লাইট অফ করে দেয়, রিক্তা চিৎকার দিতেই শিশির রিক্তার ওষ্ঠদ্বয় নিজের দখলে নিয়ে নেই। রিক্তা প্রচুর ছটপট করছে কিন্তু অন্ধকারের কারণে বেশি লাফালাফিও করতে পারছেনা। আর রিক্তার এই দুর্বলতাকেই শিশির কাজে লাগাচ্ছে।

প্রাই ১০মিনিট পর শিশির রিক্তাকে ছেড়ে দেয়, রিক্তা শিশিরের বুকে মাথা রেখে শিশিরকে খামছে ধরে, হাঁফাতে থাকে দুজনে।



আ আপনি এটা ঠিক করেননি।
শিশিরের বুকে মুখ গুঁজে বলে রিক্তা।
~আর এখন কি তুমি ঠিক করতেছো?
~আমি কি করেছি?
অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে রিক্তা।
~এই যে আমার বুকে শুরশুরি দিচ্ছো।।
রিক্তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে শিশির।
রিক্তা শিশিরের বুক থেকে সরে যেতে নিলেও সরে গেলোনা, কারণ অন্ধকার যে বড্ড ভয় পায় সে।
~এবার একটা কথা বলি, চুপচাপ শুনবে, কোনো লাফালাফি করবেনা,, নয়তো এখন কি করবো ভালোই জানা আছে তোমার।
রিক্তার চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলে শিশির।

#চলবে।