ভালোবাসার অধিকার পর্ব-৩০+৩১

0
1138

#ভালোবাসার_অধিকার❤❤
লেখা- পূজা
পর্ব- ৩০


আজ ঈশান দিয়া শুভ ও সিমির বিয়ে। খুব ধুপধাম ভাবেই বিয়ে হচ্ছে। বাইরে থেকে সবাই খুশি। কিন্তু ভেতরে সবাই প্রহরের জন্য কষ্ট পাচ্ছে। প্রহর বিয়ের ২দিন আগেই চলে গেছে এখান থেকে সিলেট। কাজের কথা বলে। সবাই বুঝতে পেরেছে প্রহর এই বিয়েটা দেখতে পারবে না। তাই চলে গেছে।
অনু তিথি দিয়াকে সাজাচ্ছে। মায়রা নদী সিমিকে। ঈশান চুপচাপ বসে আছে। ওর এই বিয়েটা করতে একদম ইচ্ছে করছে না। প্রহরের কথা বার বার মনে হচ্ছে। দ্বীপ ঈশানের পাশে বসলো।
দ্বীপ:এত টেনশন কেনো করছিস। নে আন্টি ফোন দিয়েছে।
ঈশান:মম?
দ্বীপ:হুম।
ঈশান ফোন নিয়ে ছাদে চলে গেলো। ওর মায়ের সাথে সব কথা শেয়ার করলো। কাদলো। ওর মা অনেক বুঝালেন। অনেকক্ষণ কথা বলে ঈশান নিচে যায়।
শুভ সিমি দিয়া সবাই রেডি শুধু ঈশান রেডি হয়নি এখনো। অভি আবির জলদি ঈশানকে রেডি করিয়ে নিয়ে আসে।
কাজি সাহেব বিয়ে পরানো শুরু করেন।
বিয়ের পর দিয়া আর ঈশানকে দিয়ার বাসায়ই নিয়ে আসা হয়। ঈশান বাসায় এসে ছাদে চলে যায়। গিয়ে প্রহরকে ফোন দেয়। ৩\৪বার দেওয়ার পর প্রহর ফোন রিসিভ করে।
প্রহর:কি ব্যাপার এখন ফোন দিয়েছিস কেনো?
ঈশান:তুই কি করছিস?
প্রহর:আমি ডিনার করে এলাম ঘুমাবো।
ঈশান:আমি জানি তুই ঘুমাতে পারবি না।
প্রহর:আরে না। সিরিয়াসলি ঘুমাবো।
ঈশান:মৃনাল কোথায়?
প্রহর:ও আছে পাশেই। কাজ করছে।
ঈশান:সত্যি তো ও তর পাশে।
প্রহর:হুম। তুই যা দিয়ার কাছে ও রুমে একা আছে না।
ঈশান:তুই ওকে নিয়ে ভাবিস না। তর নি…..
প্রহর:হুম ঠিক বলেছিস। এখন থেকে তো তুই ভাববি। আমার কাজ শেষ। এতো দিন ওকে সেইফ আমি করে এএসেছি এবার তুই করবি। রাখি বাই। গুড নাইট।
ঈশান:প্রহর আমার কথাটা শুন। হ্যালো….। ফোন কেটে দিলো।
ঈশান রুমে যায়। দিয়া ফ্রেস হয়ে বসে আছে। ঈশান গিয়ে বসলো।
দিয়া:উনি কি বললেন?
ঈশান:কি আর বলবে। কিছু বলার আছে ওর।
দিয়া:ঘুমিয়ে পরো।
ঈশান:আমার একটু টাইম লাগবে দিয়া।
দিয়া:আমি জানি। এসব আর বলতে হবে না।
ঈশান:আসলেই লাইফ এর মোড় কখন কোন দিকে ঘুরে যায় কেউ বলতে পারে না।
দিয়ার প্রহরের সাথে কাটানো ছোট বেলার সেই মুহূর্ত গুলা মনে পরে গেলো। ওমনি চোখটা ঝাপসা হয়ে আসলো।
ঈশান:কি হলো কাদছো কেনো?
দিয়া:ভাবছি।
ঈশান:কি?
দিয়া:ছোট বেলায় কাটানো স্মৃতি গুলোর কথা।
ঈশান:জানো প্রহর যখন আমাদের সাথে ইউএস থাকতো সব সময় এই সবই বলতো।
দিয়া:তুমি আমাকে ভালোবাসো তো। না শুধু স্যারের জন্য রাজি হয়েছো।
ঈশান:এই বিয়েতে শুধু প্রহরের জন্যই রাজি হয়েছি।
এই কথা শুনেই দিয়ার চোখে আবার জল চলে আসে।
ঈশান:বাট ভালো ও বাসি।
এবার অবাক হয়ে দিয়া ঈশানের দিকে তাকায়।
ঈশান:ভালো তো অনেক আগে থেকেই বাসতাম।শুধু বলতে চাই নি। আমার থেকে ও প্রহর তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসতো। তুমি জানো শুধু তোমার জন্য ১বছর আগেই ও এই দেশে চলে আসে।
দিয়া:মানে?
ঈশান:প্রহর জানতে পারে তোমাদেরকে কিছু ছেলে নাকি খুব ডিস্টার্ব করে। বিশেষ করে তোমাকে। এসব শুনে প্রহর এক মুহূর্ত ও সেখানে থাকতে পারে নি। চলে আসে।
দিয়ার মনে পরে যায় দের বছর আগের কথা। তখন ওরা ৫জন এক সাথেই ভার্সিটি থেকে বাসায় যেত। যতক্ষণ এক সাথে যাওয়া যেত ওরা হেটেই যেত। হঠাৎ একদিন কিছু ছেলে ওদের পিছু নেয়। এভাবে অনেকদিন চলতে থাকে। ওরা কিছু বলতে ও পারতো না কারন ছেলেগুলো খুব ভয়ংকর দেখতে ছিলো। একদিন রাস্তায় কোনো লোকজন ছিলো না আর ছেলেগুলো সুযোগ পেয়ে যায় উড়না ধরে টানাটানি শুরু করে। দিয়ার উড়না তো নিয়েই নেয়। অনু ড্রাইভাবকে ফোন দিয়ে গাড়ি আনায়। ওদের থেকে বাচার জন্য গাড়িতে উঠে চলে যায়। তারপরের দিন ওরা ভার্সিটিতে যায় নি। এর পরে গিয়ে দেখে প্রহর নতুন জয়েন করেছে ভার্সিটিতে। দিয়া মনে মনে খুব খুশি হয়। কিন্তু প্রহরের অত্যাচারে ওর কড়া আদেশে দিয়া প্রহরের উপর খুব রেগে থাকতো। প্রহর জয়েন করার পর ঐ ছেলেগুলোর দেখা আর পায় নি ওরা।”তারমানে এসব স্যারের কাজ।”ভাবছে দিয়া।
ঈশান:ওহ হ্যালো কি ভাবছো।
দিয়া:উহু কিছু না।
ঈশান:যাও গিয়ে ঘুমিয়ে পরো।
দিয়া:হুম।
দিয়া বিছানায় শুয়ে পরে। দিয়ার পাশে ঈশানও ঘুমিয়ে পরে।


পরেরদিন অনু খুব সকাল ঘুম থেকে উঠে পরে। দ্বীপকে কিছুক্ষণ দেখে ফ্রেস হয়ে নিচে চলে যায়। দ্বীপের মায়ের সাথে অনুও ব্রেকফাস্ট করতে হেল্প করে। কিছুক্ষণ পর ঈশান আর দিয়া নিচে নামে।
অনু:আমি তো ভাবছিলাম আজ হয়তো দিয়ারানির মুখই দেখতে পাবো না😜।
দিয়া:অনুউউউউ।
অনু:(কানে হাত দিয়ে) অহো দিয়া আমি কি কানে কম শুনতে পাই তর মতো। এভাবে চিৎকার করছিস কেনো?
দিয়া:😡তকে আমি পরে দেখে দেবো।
অনু:তুই অন্ধ হলি কবে। এখন দেখতেও পারছিস না। ঈশান শেষে কিনা তুমি এক অন্ধকে বিয়ে করলে।
ঈশান:কপাল খারাপ হলে যা হয় আরকি।
দিয়া:😡ঈশাননন।
দ্বীপ উপর থেকে নিচে নামতে নামতে বললো,”কি হলো এত চিৎকার করছিস কেনো তুই।”
দিয়া:ভাইয়া তর বউ আর ফ্রেন্ড আমার পিছনে লাগছে।
ঈশান:দ্বীপ ও মিথ্যে বলছে। আমরা তো ওর সামনেই লাগছি😜।
দিয়া:😡একবার রুমে যাও তোমার কি হাল করি দেখো।
অনু:কাল এতো কিছু করে ও তর শান্তি হয় নি। আরো কিছু করার বাকি আছে।
ঈশান:আমি আর রুমেই যাবো না।
দ্বীপ:কেনো?
ঈশান:কেনো এটা বলতে লজ্জা করছে😜
দিয়া:ছিঃ খবিস।
ঈশান:যা বাবা। যা করার তো তুমি করলে আর আমি হয়ে গেলাম খবিস।
অনু:😂কি কি করেছে।
দিয়া:ভাইয়া!
দ্বীপ:তোমরা চুপ করবে। যাও ব্রেকফাস্ট নিয়ে এসো।
অনু:😏। শুনা কিন্তু বাকি রয়ে গেলো😜
অনু চলে গেলো কিচেনে বাকিরা চেয়ার টেনে বসলো। দ্বীপের বাবা এসে ও বসলেন।
ঈশান:আংকেল মম ড্যাড কেউ তো এই দেশে আসবেন না। তো উনারা চাচ্ছেন দিয়াকে নিয়ে ইউএস চলে যেথে।
দ্বীপের বাবা:এখনি চলে যাবে?
ঈশান:না আংকেল। গেলে তো অনেকদিন এই দেশে আসা হবে না। তাই অভি আর আবির চাচ্ছে ওদের বিয়ের পরই যেথে।
দ্বীপের বাবা:তাহলে তো লেইট আছে।
ঈশান:লেইট মানে। এতো লেইট ও হবে না। যদি আমাদের মতো অভি আর আবিরের বিয়েটা ও এক সাথে দেওয়া হয়। এটাই ভাবছিলাম।
দ্বীপের বাবা:ওকে তোমরা যা ভালো মনে হয় করো।
দ্বীপের বাবা ব্রেকফাস্ট করে অফিসে চলে যান। দ্বীপ আর ঈশান একসাথে বেরিয়ে পরে।


প্রহর আরো ১সপ্তাহ পর ঢাকা ফিরে আসে। নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে। অভি মায়রার ভাইয়ের সাথে কথা বলেছে। উনি রাজি। অভির সাথে দ্বীপ আবির শুভ ঈশান ওরা ও ছিলো। খুব ভালো করেই ওরা উনাকে বুঝায় তারপর রাজি করায়।
প্রবলেম দেখা দিয়েছে আবিরের ফ্যামিলিতে। আবির জানতে পারে তুলির সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তুলি আবিরের জন্য পুরো পাগল হয়ে গেছে। ও ই আবিরের জিজু মানে তুলির ভাই আর ওর বাবা মাকে বলে আবিরের বাসায় বিয়ের প্রস্থাব পাটায়। আবির ওর মা বাবাকে বলেছে এই বিয়েটা করতে চায় না। কিন্তু উনারা কোনো কথাই শুনছেন না। আজ আবিরের আপু এসেছে ওদের বাসায় এটা নিয়ে কথা বলতে। আবির রুমে বসে ছিলো। তখনি উনি ভেতরে ডুকেন।
আপু:আবির!
আবির ওর আপুর ডাকে উনার দিকে তাকায়। বাট কিছু বললো না।
আপু:তুলি খুব পাগলামি করছে।
আবির:তো আমি কি করবো।
আপু:কেনো বুঝতে পারছিস না। ও তকে খুব ভালোবাসে।
আবির:আমি তিথিকে ভালোবাসি।
আপু:তিথি কে?
আবির:যাকে আমি ভালোবাসি।
আপু:আর তুলি?
আবির:জাস্ট তর ননদ।
আপু:তুলিকে আমি কি বলবো।
আবির:যা সত্যি তাই বলবি। লিসেন আপু আমি কখনো কিন্তু ওর সাথে নিজ থেকে কথা বলি নি। ইভেন কথা বলতেই চাই নি। ফোন দিয়ে আমাকে ডিস্টার্ব করে। ওকে আমার একটুক ও ভালো লাগে না।
আপু:কেনো। ওর মধ্যে খারাপ কি আছে। দেখতে তো অনেক সুন্দর। অনেক ছেলেই ওকে পছন্দ করে।
আবির:তাহলে ওইসব ছেলেকেই বিয়ে করতে বল না। আমাকে এসে এসব বলছিস কেনো। এমন তো নয় যে আমি তুলিকে কখনো দেখি নি। তুই ওর রুপের বর্ননা দিচ্ছিস কেনো। আমার তিথির কাছে ও কিছুই না। ওকে।
আপু:শেষ বারের মতো ভেবে দেখা যায় না।
আবির:একদমই না।
আপু হতাশ হয়ে আবিরের রুম থেকে চলে যান। আবিরকে কিভাবে বুঝাবেন তুলি যা জেদি আবির আর তিথিকে কখনো এক হতে দেবে না এতো সহজে। এসবি ভাবছেন আপু।


প্রহর মাত্র ভার্সিটি থেকে বাসায় এসেছে। রুমে ও ডুকতে পারে নি। ওর মা পথ আটকে দারান। সিলেট থেকে এসেই প্রহর ভার্সিটিতে যাওয়া শুরু করে। কাজে নিজেকে ব্যাস্ত রাখে।
প্রহর:কি হয়েছে?
ফোনটা প্রহরের সামনে এগিয়ে দিয়ে বলেন,”দেখতো মেয়েটা সুন্দর না।”
প্রহর একবার ছবিটার দিকে তাকালো তারপর ওর মায়ের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বললো,”তোমার চয়েস এতো খারাপ হলো কবে থেকে। যাই হোক। এই মেয়েকে আমার পছন্দ হয় নি। আমি আমার জন্য নিজেই মেয়ে দেখবো। এটা নিয়ে তোমায় এত ভাবতে হবে না।”
প্রহরের মা:তর আশায় বসে থাকলে এই জন্মে আমার ছেলের বউ এর মুখ দেখা হবে না। আর নাতি নাতনি তো অনেক দুরের কথা।
প্রহর:সিমুর নতুন বিয়ে হয়েছে। ওকে গিয়ে এসব বলো। নাতি ও দেখতে পারবে। নাতনি ও দেখতে পারবে। এখন আমাকে যেথে দাও। ফ্রেস হতে হবে।
প্রহরের মা:আচ্ছা তুই ফ্রেস হয়ে নে। আমি খাবার রেডি করছি।
প্রহরের মা চলে গেলেন কিচেনে। প্রহর রুমে গেলো। গিয়ে শার্টটা খুললো ফোনের ওয়ালপেপারে দিয়ার পিক। পিকটা একবার দেখলো তারপর ওয়াশরুমে চলে গেলো।


দিয়া ছাদে এক কোনায় দারিয়ে আছে। ঈশান গিয়ে পেছন থেকে দিয়াকে জরিয়ে ধরে বললো,”কিছু ভাবছো।”
দিয়া:না।
ঈশান:মিথ্যে বলছো কেনো?
দিয়া:বাদ দাও এসব।
ঈশান:ওকে। না বলতে চাইলে জোর করবো না।
দিয়া:তিথির সাথে দেখা করতে হবে।
ঈশান:কেনো?
দিয়া:একটা মেয়ের নাম বললো আবিরের জন্য নাকি ও খুব পাগল।
ঈশান:কে? তুলি?
দিয়া:হ্যা রাইট। ও তো তিথি আর আবিরের মাঝখানে এসে দারিয়েছে। তিথি তো খুব কাদছে। আবিরের থেকে যদি ওকে দুর করে দেয়।
ঈশান:আমি জানতাম এমনই একদিন হবে।
দিয়া:জেনে উদ্ধার করেছো।
ঈশান:😐

রাত ১২টা বাজে। অনু রুমেই চেয়ারে বসে ওয়েট করছে দ্বীপের জন্য। কল দিয়েছে ফোন বন্ধ। দ্বীপ এখনো আসছে না।
অনু:(কোথায় তুমি দ্বীপ। এখনো আসছো না কেনো? খুব টেনশন হচ্ছে আমার বুঝতে পারছো না।)
অনু আবার নিচে যায়। ড্রয়িংরুমে বসে। দ্বীপের চিন্তায় ঘুমও আসছে না। সবাই ঘুমিয়ে আছে।
রাত ১টা। দ্বীপ কলিংবেল বাজায়। অনু সাথে সাথে দরজা খুলে দেয়। দ্বীপকে দেখেই জরিয়ে ধরে কেদে দেয়।
দ্বীপ:আরে কাদছো কেনো?
অনু:রাত কয়টা বাজে খেয়াল আছে। ফোন ও বন্ধ। কতো টেনশন হয় আমার সেটা তুমি বুঝো?
দ্বীপ:আচ্ছা কান্না বন্ধ করো রুমে চলো। আমি তো এসে গেছি।
অনু:এতক্ষণ কোথায় ছিলে।
দ্বীপ কি বলবে বুঝতে পারছে না।
অনু:কি হলো বলো।
দ্বীপ:খুব খিদে পেয়েছে আমার।
অনু:এটা আগে বলবে তো। তুমি রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নাও। আমি খাবার নিয়ে আসছি।
দ্বীপ উপরে চলে গেলো অনু গেলো কিচেনে। একটা প্লেটে খাবার সাজিয়ে উপরে নিয়ে গেলো।
দ্বীপ ফ্রেস হয়ে এসে দেখে অনু খাবার নিয়ে এসে গেছে। দ্বীপ খুব আদুরে গলায় বললো,”খাইয়ে দেবে আমাকে প্লিজ।”
দ্বীপের এই সামান্য কথাটাও অনুর পুরো কলিজায় গিয়ে লাগলো। অনু হাত ধুয়ে দ্বীপের পাশে বসে দ্বীপকে খাইয়ে দিতে লাগলো আর দ্বীপ অনুকে দেখছে।
দ্বীপ:তুমি আমাকে খাওয়াবে শুধু। তুমি খাবে না।
অনু:তোমার খাওয়া শেষ হলে।
দ্বীপ:না তুমি ও খাবে। নাউ আমার সামনে।
অনু:ওকে।
অনু নিজে ও খেয়ে নিলো দ্বীপকে খাইয়ে দিলো। তারপর সব কিচেনে রেখে আসলো। এসে দ্বীপের পাশে শুইয়ে পরলো। দ্বীপ কিছুক্ষণ অনুর দিকে তাকিয়ে তাকলো, ভাবলো,”এই মেয়েটাকে কখনো হারিয়ে ফেললে কিভাবে থাকবো?” তারপর অনুকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে এসে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরলো দ্বীপ। অনু চোখ খুলে একবার তাকালো। এইটাই তো চেয়েছিলো দ্বীপ নিজে থেকে ওকে জরিয়ে ধরোক। চোখ বন্ধ করে দ্বীপকে জরিয়ে ধরে অনুও ঘুমিয়ে পরলো।


পরেরদিন আবিরের ঘুম ভাঙ্গে চেচামেচির শব্দে। বালিশ কানে খুব শক্ত করে ধরে। তবুও শব্দ বালিশ বেদ করে আবিরের কানে ঠিক পৌছে যাচ্ছে। আবির এবার বিরক্তি নিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসলো। ফোন হাতে নিয়ে টাইম দেখলো। মাত্র ৮:৩০বাজে। আবির আরো ১ঘন্টা পর ঘুম থেকে উঠে। রেগে আবির রুম থেকে বেরলো। রেলিং এর কাছে আসতেই দেখতে পেলো ওর মা বাবা আপু আর তুলি ড্রয়িংরুমে দারিয়ে কথা বলছে জোরে।
আবির উপর থেকেই বললো,”কি শুরু করেছো এই সাজ সকালে। একটু শান্তিতে ঘুমুতে ও দিবে না।”
আবিরের কথায় সবাই চুপ হয়ে গেলো আর উপরে তাকালো। তুলি আবিরকে দেখেই খুব বড় করে একটা হাসি দিলো আর দৌড়ে উপরে উঠে আবিরকে জরিয়ে ধরে বললো,”দেখো না কেউ তোমার সাথে আমার দেখা করাতে দিচ্ছে না। সবাই বলছে তুমি নাকি রেগে যাবে। আমি জানি তুমি আমার উপর রেগে থাকতেই পারো না।”
আবির এক ঝটকায় তুলিকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিলো।
আবির:কি করছো এসব? আপু তকে কি বলেছিলাম আমি😡।
আপু:আমাদের কারো কথাই শুনে নি। আমি বলেছিলাম। ঘুম থেকে উঠেই এই বাসায় চলে এসেছে।
আবির:লিসেন তুলি, নিজের লিমিটের মধ্যে থাকবে বুঝেছো। একদম আমার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করবে না। আই লাভ তিথি। নট ইউ। সো এই সব ভুলে যাও। আর নিজের বাসায় যাও।
এটা বলেই আবির নিজের রুমে চলে আসছিলো। পিছন থেকে তুলি আবিরের হাত ধরে। আবির পিছনে ঘুরে বলে,”আবার কি।”
তুলি:তুমি শুধু আমার আবির আর কারো না।
আবির:এই তোমার মাথার কোনো তার কি ছেড়া। বুঝতে পারছো না। আমি কি বলছি।
তুলি:না আর বুঝতে চাই ও না। আমি শুধু জানি তুমি শুধু আমার। তার জন্য যা করতে হয় তাই করবো।
আবির:আপু ও পুরো পাগল হয়ে গেছে। প্লিজ এখান থেকে নিয়ে যা। আমি আর এসব টলারেট করতে পারছি না।
আপু:তুলি প্লিজ একটু বুঝার চেষ্টা করো। আবির তোমাকে ভালোবাসে না। তাহলে কেনো আবিরের পেছনে পরে আছো। দেখবে আবিরের থেকেও অনেক ভালো ছেলে তুমি পাবে।
তুলি:আমার আবিরকেই চাই।
আবিরের এবার খুব রাগ উঠতেছে। এতো করে সবাই বুঝাচ্ছে তারপরো আবির আবির করছে। ইচ্ছে করছে থাপ্পড় দিয়ে সব দাত ফেলে দিতে। অসভ্য মেয়ে। আবির রেগেমেগে নিজের রুমে চলে গেলো। আর একটু ওর সামনে থাকলে সত্যিই থাপ্পড় বসিয়ে দেবে।


চলবে?🙄

#ভালোবাসার_অধিকার❤❤
লেখা- পূজা
পর্ব- ৩১


প্রহর নিজের কেবিনে বসে কিছু পেপার দেখছিলো তখনি মায়রা কেবিনে ডুকে। প্রহর মায়রাকে দেখে পেপার গুলো রাখে।
প্রহর:দারিয়ে আছো কেনো বসো।
মায়রা চেয়ার টেনে বসে।
প্রহর:কিছু বলবে।
মায়রা:না মানে…হ্যা
প্রহর:বলো। তুমি কি ভয় পাচ্ছো।
মায়রা:না স্যার।
প্রহর:তাহলে?
মায়রা ভয়ে কাপছে যা বলতে যাচ্ছে তা শুনে না ওকে মাথায় তুলে আচার মারে প্রহর।
প্রহর এবার একটু জোরেই বললো,”কি হলো বলো কি বলতে এসেছো।”
প্রহর এর কথায় মায়রা কেপে উঠে।
মায়রা:অভির সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে সেটাই বলতে এসেছিলাম।
প্রহর ভ্রু কুচকে মায়রার দিকে তাকালো আর বললো,”এটা তো অভি ফোন দিয়ে বলেছে।”
মারয়া:ওহ আমি জানতাম না আসি স্যার। আমায় ক্লাস নিতে হবে।
মায়রা একরকম পালিয়েই প্রহরের রুম থেকে চলে এলো। প্রহরের এটা সুবিধের মনে হলো না। প্রহর ও মায়রার পিছু পিছু বের হলো। একটু সামনে এগুতেই দেখে মায়রার সাথে দিয়া। প্রহর ভালো করে দেখছে দিয়াকে সেদিন এর পর থেকে আর দিয়াকে দেখেনি প্রহর।

দিয়া:তুই বলিস নি উনাকে।
মায়রা:আমার হাত পা কাপছিলো। উনি সিউর একটা চর মারতেন এসব বললে।
দিয়া:তকে দিয়ে কোনো কাজই হবে না ধুর।
দিয়া একবার হাতের ছবিটার দিকে তাকালো তারপর হাটা শুরু করলো। মায়রা চলে গেলো ক্লাসে। প্রহর দিয়ার পিছু পিছু যাচ্ছে। দিয়া আজ গাড়ি আনে নি। হেটে হেটেই যাচ্ছে। এখন তিথির বাসায় যাবে। অনু দ্বীপের জন্য খাবার নিয়ে অফিসে গেছে তাই সাথে আসতে পারে নি। অফিস থেকে সোজা বাসায় আসবে। রাস্তার কিনার দিয়ে হাটছে দিয়া। সামনে দিয়ে দ্রুত গতিতে একটা বাইক দিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে সেদিকে ওর খেয়ালই নেই। ও অনেক কিছু ভাবতে ভাবতে হাটছে। বাইকটা দিয়ার কাছাকাছি আসতেই প্রহর দিয়ার বা হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে যায় হঠাৎ এমন করায় দিয়া কিছুই বুঝতে পারে না। প্রহর খুব রাগি গলায়ই বলে,”ঐ তুমি কি পাগল। দেখে চলতে পারো না। আর আমি কতবার বলেছি গাড়ি ছাড়া চলা ফেরা করবে না। কিন্তু আমার কথা তো শুনবে না। নিজের ইচ্ছে মত চলবে। একনি একটা এক্সিডেন্ট হয়ে যেতো। তখন কি হতো। সবসময় মানুষকে টেনশন দিতে খুব ভালো লাগে তাই না।”
এতক্ষণ প্রহর দিয়াকে জরিয়ে ধরেই কথা বলছিলো দিয়া প্রহরের দিকে একনজরে তাকিয়ে আছে। কতো কিউট ছেলে আজ এত শুকিয়ে গেলো। কেমন অন্যরকম লাগছে। প্রহর তাকিয়ে দেখে ও দিয়াকে জরিয়ে ধরে আছে। সাথে সাথে ছেড়ে দেয়।
প্রহর:সরি বুজতে পারি নি তোমাকে কখন জরিয়ে ধরে ছিলাম।
দিয়া:এখনো আমাকে নিয়ে এত ভাবেন।
প্রহর:সারাজীবন ভাববো।
দিয়া অবাক হয়ে প্রহরের দিকে তাকায়। প্রহর ফোন দিয়ে গাড়ি আনায়।
প্রহর:যাও।
দিয়া চুপচাপ গাড়িতে উঠে চলে যায়। দুর থেকে গাড়িতে বসে এসব দেখছিলো ঈশান। দিয়াকে নিতেই এসেছিলো। এসব দেখে দারিয়ে যায়।


আবির এখনই তিথির সাথে ফোনে কথা বলেছে। আর তিথির সাথে কথা বলেই মাথাটা আরো গরম হয়ে গেছে। ডেস্কের উপর গ্লাস ছিলো ওটা রাগের মাথায় ফেলে ভেঙ্গে দেয়। শব্দ শুনে অভি শুভ ওরা আবিরের কেবিনে আসে।
শুভ:কি হয়েছে আবির?
অভি:গ্লাস ভাঙ্গলি কেনো?
আবির মাথা ধরে রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে।
আবির:মেয়েটার সাহস কি করে হয় তুলিকে বিয়ে করার কথা বলার😡কিছু বলি না বলে মাথায় উঠে নাচচে।
অভি:মানে এসব কি বলছিস।
আবির:তিথি ফোন দিয়ে বলেছে তুলিকে বিয়ে করার জন্য রাজি হয়ে যেথে।
শুভ:উয়াট!
আবির:নিজেকে ভাবেটা কি? ভালোবাসি বলে ওর সব কথা সহ্য করি। কিছু বলি না। তাই বলে সব সহ্য করে নেবো কিছুই কোনোদিন বলবো না ভাবলো কি করে।
অভি:আবির আগে শান্ত হো। এখন তর মাথা গরম আছে। ঠান্ডা মাথায় সব ভাব।
আবির:না। আর কিছু ভাবার নেই। এতো করে বলেছি ওকে চলো বিয়ে করে নেই শুনে নি আমার কথা। এখন বলে ওকে ভুলে তুলিকে বিয়ে করতে। ফাইন ও যখন এটা চায় তাহলে এটাই হবে। আমার কাউকে প্রয়োজন নেই। আগে যেমন একা ছিলাম একাই থাকতে পারবো আমি। চলে যাবো এখান থেকে।
শুভ:এসব কি বলছিস। তর মাথা ঠিক আছে। পাগল এর মতো কিসব আবোল তাবোল বকছিস।
আবির:একদম ঠিক আছি আমি। আর যা বলছি সব ঠিক বলছি। ও চায় না ওর কাছে আমায় রাখতে। থাকবো না। চলে যাবো আবার এখান থেকে।
আবির টেবিলের উপর থেকে কিছু ফাইল ফেলে রাগের মাথায় কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়। শুভ আর অভি ও আবিরের পিছু পিছু যায়। ওরা আবিরের রাগ সম্পর্কে জানে। আবির সহজে রাগে না। আর রাগলে কি করে ও নিজে ও জানে না।
আবির পিছনে না তাকিয়েই সোজা গিয়ে গাড়িতে বসে। পিছন থেকে শুভ অভি আবিরকে ডাকছে কারো কথা ওর কান পর্যন্ত পৌছচ্ছে না। আবির গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে যায়। অভি গিয়ে গাড়ি নিয়ে আসে। ওরা ও আবিরের পিছু পিছু যাচ্ছে।


তিথি বিছানায় হেলান দিয়ে ফ্লোরে বসে কাদছে। আজ আবিরকে অনেক কথা শুনিয়েছে ওর থেকে দুরে চলে যেথে বলেছে তুলিকে বিয়ে করতে বলেছে। এমনকি ওকে ভুলে যেথে ও বলেছে। এগুলো বলতে ওর কতটা কষ্ট হয়েছে তা একমাত্র তিথিই জানে।
দিয়া তিথির বাসায় এসে দেখে তিথির রুম ভেতর থেকে বন্ধ।
দিয়া:তিথি দরজা খুল।
তিথি দিয়ার কন্ঠ শুনে চোখ মুখ মুচে উঠে দরজা খুলে দেয়। দিয়া ভেতরে ডুকতেই তিথি দিয়াকে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়।
দিয়া:তিথি শান্ত হো এভাবে কেউ কাদে।
তিথি:দিয়া আবিরকে খুব ভালোবাসি আমি।
দিয়া:জানি তো। তর থেকে আবিরকে কেউ আলাদা করতে পারবে না দেখিস।
তিথি:আমি তো নিজেই আমার থেকে ওকে আলাদা করে ফেলেছি।
দিয়া:মানে?
তিথি:তুলি ফোন দিয়েছিলো আমাকে। ফোন দিয়ে খুব কেদেছে।ও আবিরকে না পেলে সুইসাইড করবে। আমি কিভাবে একটা মেয়েকে মরতে দেই বল। হয়ত আমার থেকেও বেশি ও আবিরকে ভালোবাসে।
দিয়া:তুই আবিরকে ফোন দিয়ে কি বলেছিস😡
তিথি:তুলিকে বিয়ে করতে বলেছি😭
দিয়া তিথিকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নেয়। আর বলে,”তুই কি পাগল হয়ে গেছিস। ঐ মেয়েটাকে তুই চিনিস। ওর সম্পর্কে কতটুকু জানিস। ওর কথা বিশ্বাস করে কিনা তুই আবিরকে ওই মেয়েটাকে বিয়ে করতে বলে দিয়েছিস।”
তিথি:আমার তখন মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিলো। কি করছি কি বলছি কিছুই বুঝতে পারি নি। আবির রেগে ফোন কেটে দিয়েছে।
দিয়া:নিজের পায়ে কেউ নিজে কুড়োল মারে। কোথাকার কোন মেয়ের জন্য নিজের ভালোবাসা কেউ সেক্রিফাইজ করে।
তিথি:আমি কিছুই জানি না আর। আর কিছু ভাবতে পারছি না।
হঠাৎ দিয়ার ফোন বেজে উঠে।দিয়া স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে অনু ফোন দিয়েছে। দিয়া ফোন রিসিভ করে।
দিয়া:হ্যা অনু বল।
অনু:আবির রেগেমেগে অফিস থেকে বেরিয়ে গেছে। আমি দ্বীপের রুমে ছিলাম। হঠাৎ আবির শুভ অভি ওদের চিৎকারের শব্দে আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি। এসে দেখি আবির গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছে পিছনে শুভ আর অভি ও গেছে।
দিয়া সব শুনে তিথির দিকে তাকালো। তিথি অসহায়ের মতো দিয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে।
দিয়া:আবিরের কোনো খোজ পেলে বলিস। আমি এখন তিথির কাছেই আছি।
অনু:ওকে। তুই ওর কাছেই থাক।
দিয়া ফোন কাটার পরে বিছানায় বসে পরে। দিয়া বিছানায় বসতেই তিথির বুকটা মোচর দিয়ে উঠলো। “আবিরের কিছু হলো না তো।” ভাবছে তিথি।
তিথি কাপা কাপা গলায় বললো,”কি হয়েছে আবিরের।”
দিয়া:আবির রেগে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছে। রেগে গাড়ি চালালে কি হতে পারে বুঝতে পারছিস।
তিথি নিজেকে আর আটকাতে পারলো না এবার হাউমাউ করে কেদে দিলো।
দিয়া:আরে এভাবে কাদছিস কেনো আবিরের কিছু হয় নি তো। শুভ আর অভি গেছে আবিরের পিছনে। কিছু হবে না ওর দেখিস।
তিথি কান্নার জন্য কিছু বলতে ও পারছে না। তিথির মা রুমে এসে তিথিকে এই অবস্থায় দেখে উনি কিছুই বুঝতে পারেন না। তিথির কাছে যান উনি। গিয়ে বলেন,”কি হয়েছে তিথি তর। এভাবে কাদছিস কেনো? দিয়া তুই কিছু জানিস।”
দিয়া কি বলবে বুঝতে পারছে না। সত্যিটা বলে দেবে না লুকাবে এসবই ভাবছিলো দিয়া। তখনি,,
“তিথি আবিরের জন্য কাদছে ফুপি।”
সবাই পিছনে তাকিয়ে দেখে রোদ দারিয়ে আছে। তিথি অবাক হয়ে রোদের দিকে তাকায়।
রোদ:আমি সব জানতে পেরেই এখানে ছুটে এসেছি।
তিথির মা:তুই একটু আগে কার কথা বললি?
রোদ:আবির! তিথি আবির ২জন ২জনকে খুব ভালোবাসে। আমি এটা তোমাদের জানাতেই এসেছি। আবিরকে আমি খুব ভালো করে চিনি। খুব ভালো ছেলে। আর সব থেকে বড় কথা তিথিকে খুব ভালোবাসে।
তিথির মা:তিথি রোদ যা বলছে তা কি ঠিক।
তিথি শুধু মাথা দুলালো।
রোদ:ফুপি তোমার আমার উপর বিশ্বাস আছে তো। আমি তো তিথির খারাপ চাইবো না। আমার কথা তো রাখতেই পারো। প্লিজ ওদের রিলেশনটা মেনে নাও।
তিথির মা কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,” আচ্ছা আমি তিথির বাবার সাথে কথা বলবো।”
তিথি এসে রোদকে জরিয়ে ধরে বললো,”থ্যাংক ইউ ভাইয়া।”
রোদ:ভাইকে কেউ থ্যাংকস বলে।
তিথি:কিন্তু ভাইয়া আরো একটা প্রবলেম রয়ে গেছে।
রোদ:কি?
তিথি আবির আর তুলির সব কথা বললো।
রোদ:পাগল নাকি তুই। ঐ মেয়েটা বললো। আর তুই ও বিশ্বাস করে নিলি।
তিথি:ভয় পেয়ে গেছিলাম।
রোদ:আচ্ছা এত চিন্তা করিস না। আমি আছি না। দেখছি আমি আবির কোথায়।
রোদ তিথির মাথায় হাত ভুলিয়ে দিয়ে চলে গেলো।

আবির এত স্প্রিডে গাড়ি চালিয়েছে। অভি শুভ ওরা আবিরের গাড়িকেই খুজে পাচ্ছে না কোথায় চলে গেছে।
অভি:এখন কি করবো।
শুভ:বুঝতেছি না ২টা রাস্তা কোন রাস্তা দিয়ে ও গেছে।
অভি:আইডিয়া।
শুভ:কি?
অভি:তুই জলদি আবিরের ফোন লোকশন ট্যাগ কর। আবির ফোন নিয়ে তো অবশ্যই গেছে।
শুভ:ইয়াহ্ রাইট। ৫মি দারা।


আবির অনেক দুরে একটা জঙ্গলের মধ্যে এসে গাড়িটা থামালো। গাড়ি থেকে নেমে গাড়িতে হেলান দিয়ে দারিয়ে থাকলো। আবিরের ছোট বেলা থেকেই রাগটা একটু বেশি। রাগ উঠলে একদম হুশ থাকে না। বাট এতো তারাতারি রাগ উঠে ও না। আজ উঠেছে। তিথি যে কথা গুলো ফোনে বলেছে। সামনে বললে সিউর সব দাত আবির থাপ্পড় দিয়েই ফেলে দিতো। আবির গাড়ি থেকে পানির বোতল বের করলো। পানি মাথায় ডাললো।
সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। আবির এখনো এখান থেকে যায় নি। কিছুক্ষণ পর অভি আর শুভ আবিরকে খুজতে খুজতে এখানে চলে আসে। আবিরের সামনে এসে গাড়ি থামায়।
শুভ:আর ইউ ম্যাড? এইভাবে আমাদের টেনশনে ফেলে চলে এলি।
আবির নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। এখনো মনে হচ্ছে রাগ কমে নি।
অভি:আবির কথা বলছিস না কেনো?
আবির:রাত ৮টায় আমার ফ্লাইট।
অভি+শুভ:whatttt!
আবির:যা শুনেছিস তাই। পসিবল না এসব মেনে নেওয়া। তাই চলে যাবো এখান থেকে।
অভি:তুই লাস্ট বারের মতো তিথির সাথে কথা তো বলে নে।
আবির:ওর সাথে আমি আর কথা বলতে চাই না। কি ভেবেছে আমাকে ও। ওর যখন যা বলবে আমি তাই শুনবো। আমাকে গোলাম পেয়েছে। আমাকে মন থেকে ভালোবেসেনি সেটা বললেই হতো। এইভাবে নাটক না করলে ও পারতো।
শুভ:তুই ভুল বুঝছিস।
আবির:না। যা বুঝেছি ঠিক বুঝেছি। আর শুন,, আমি কেনো যাচ্ছি কখন যাচ্ছি এসব কাউকে বলার প্রয়োজন নেই। বাই।
আবির আবার গাড়িতে উঠে
পরে। শুভ আর অভি স্তব্দ হয়ে দারিয়ে রয়েছে। রাগের মাথায় আবির কি করছে না করছে ও নিজে ও জানে না। এখন আবিরকে আটকাতে হবে যেভাবেই হোক।
শুভ:অভি জলদি চল। তিথিই একমাত্র পারবে আবিরকে আটকাতে।
অভি:রাইট। বাট টাইম মতো পৌছতে পারবো তো।
শুভ:পারতে হবে চল।

তিথি শুভ আর অভির কাছ থেকে আবিরের দেশ ছাড়ার কথা শুনে পুরো পাথর হয়ে যায়। সামান্য একটা কারনে আবির এত বড় একটা স্টেপ নেবে তিথি স্বপ্নেও ভাবে নি।
অনু:তিথি তুই কি এভাবে দারিয়ে থাকবি না আবিরকে আটকাবি।
অনুর ধাক্কায় তিথির হুশ আসে। তিথি অনুর দিকে তাকায়।
অনু:চল।
অনু তিথিকে টেনে নিয়ে যায়। অনু দিয়া তিথি ঈশান আর দ্বীপ এক গাড়িতে।দ্বীপ গাড়ি ড্রাইভ করছে। পিছনে অভি শুভ সিমি আর মায়রা আসছে।সব কথা শুনে ওরা ও তিথির বাসায় চলে এসেছিলো।
৮টা বাজার ৫মি আগেই ওরা পৌছে যায় এয়ারপোর্টে। আবির ভেতরে ডুকে গেছে।
দ্বীপ তিথিকে নিয়ে ভেতরে ডুকার পার্মিশন নিয়ে যায়।
আবির পাসপোর্ট জমা দেবে তখনি তিথি “আবির” বলে চিৎকার করে। আবির পিছনে তাকিয়ে তিথিকে দেখে পুরো অবাক হয়ে যায়। তিথি দৌড়িয়ে গিয়ে আবিরকে জরিয়ে ধরে। আশেপাশের সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।
তিথি:আমাকে রেখে কিভাবে তুমি যেথে পারো আবির। একবারো আমার কথা মনে হয় নি। সামান্য একটা ভুল না হয় করেই ফেলেছি। তাই বলে তুমি দেশ ছেড়ে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।
দ্বীপ:এটা একদম ঠিক করিস নি আবির। এইটুকু একটা বিষয়ের জন্য।
আবির:আমাকে যেথে দাও। কেনো এসেছো এখানে।
তিথি:আমাকে একা রেখে কোথাও যেথে দেবো না।
দ্বীপ:এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটা এভাবে কাদছে আর তুই……
“তোমার কোথাও যাওয়া হবে না জিজু।”
সবাই সামনে তাকিয়ে দেখে রোদ দারিয়ে আছে।
রোদ:এভাবে আমার বোনকে কষ্ট দিয়ে কি ভেবেছো যেথে দেবো। একদম না।
আবির একবার তিথির দিকে তাকালো আবার চোখ সরিয়ে নিলো।
রোদ:এত রাগ ঠিক না।
দ্বীপ:প্লিজ চল এখান থেকে।
রোদ গিয়ে আবিরের লাগেজ হাতে নিয়ে নেয়। আর হাত থেকে পাসপোর্ট।
রোদ:চলো।
আবির ওদের সাথে সাথে হাটছে কিছুই বলছে না। তিথি আবিরের হাত ধরে আছে। বাইরে বেরতেই সবাই আবিরকে বকতে শুরু করলো।
দিয়া:তুই কি পাগল হয়ে গেছিলি আবির। এতো রাগ কেনো তর। তিথি না হয় এসব না বুঝে বলে দিয়েছে। তুই ওকে বুঝাতে পারতি তা না রাগ করে এখান থেকে চলে যাওয়ার প্লেন করছিলি।
অনু:এটা একদম ঠিক করো নি। আমরা ছিলাম তিথিকে বুঝানোর জন্য। কিন্তু তুমি তো সেই সুযোগটাই দিলে না।
সিমি:জানো আমরা কতো টেনশনে ছিলাম তোমাকে নিয়ে। তিথি কেদে কেদে নিজের কি অবস্থা করেছে দেখো।
মায়রা:নিজের ভালোবাসার উপর বিশ্বাস রাখা উচিৎ আবির। এই ভাবে রাগ করে চলে যাওয়াটা কোনো কিছুর সমাধান নয়।
আবির কিছু বলছে না। চুপচাপ শুনছে। এখন কিছু বললে ও ভালো কিছু মুখ থেকে বেরবে না। কারন আবিরের মাথা এখনো গরম।
রোদ:আচ্ছা। যা হওয়ার হয়ে গেছে। এবার আমার সাথে সবাই চলো।
অভি:কোথায় যাবো।
রোদ:আরে চলো না। সারপ্রাইজ দেবো।


চলবে?