#ভালোবাসার_উল্টো_পিঠে
#বিশ
প্রজ্ঞা জামান দৃঢ়তা
ভোরের আলো একটু একটু করে ফুটে ওঠেছে। শুকতারা আকাশে জ্বলজ্বল করছে।
ওটির সামনে অস্থির হয়ে পায়ে চারি করছে শাহানেওয়াজ। তার জীবনে এমন অস্থির সময় খুব কম এসেছে। মনে হচ্ছে ভেতরে তার প্রাণটা রাখা আছে। বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে।
যতবার নার্সরা আসছে ততবারই তাদের জিজ্ঞেস করছে রিদ্ধিমা কেমন আছে।
এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হচ্ছে এই অপেক্ষার চেয়ে মৃত্যু বুঝি ঢের ভালো। জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হারানোর ভয়ের চেয়ে ভয়াবহ বোধহয় এ দুনিয়াতে আর কিছুতেই নেই।
সে বেঞ্চে দু’হাতে মুখ ডকে বসে রইল। কিছুক্ষণ পর হুমায়রা তার সামনে এসে দাঁড়াল। শাহানেওয়াজকে ডাকল, “এই যে?”
শাহানেওয়াজ মুখ তুলে তাকিয়ে দেখল তার হাতে কাপড়ে মোড়ানো ফুটফুটে বাচ্চা।
আচমকা উঠে দাঁড়াল সে। বলল, “রিদ্ধি ঠিক আছে তো?”
হুমায়রা হেসে বলল, “ঠিক আছে। কেউ তার জন্য এভাবে কাঁদছে আর সে ঠিক না হয়ে পারে!”
কথাটা শুনে মনে হলো বুকের উপর থেকে অনেক বড় বোঝা নেমে গেছে। সে উৎকন্ঠা হয়ে বলল, “আমি আগে রিদ্ধিমাকে দেখতে চাই।”
হুমায়রা হেসে বলল একটু সময় লাগবে। তার সেলাই চলছে, “ওকে কোলে নেবেন না?”
চোখের জল মুছে হুমায়রার কোলে পবিত্র অতিথিকে দেখল। কাঁপা হাতে শাহানেওয়াজ বাচ্চাটাকে কোলে নিল। মনে হলো ছোট্ট একটা মাটির দলা। নিজের অজান্তেই দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। মনে হলো এ শুধু রিদ্ধিমার অংশ নয়। তারও। না হোক এর শরীরে তার রক্ত। তাও যা রিদ্ধিমার তা সে নিজের করে নিয়েছে বহু বছর আগে। তাই তো মন প্রাণ দিয়ে অনুভব করতে পারছে। এই এক টুকরো স্বর্গ তার আর রিদ্ধিমার।
সে মনে মনে ভাবল, “রিদ্ধিমা হায়দার, আজ থেকে আমি তোমার কাছে কিছু আশা করব না। তোমার কাছে আমি কৃতজ্ঞ এমন সুন্দর অনুভূতি উপহার দেয়ার জন্য।”
এক দৃষ্টিতে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে রইল। খুব যত্ন করে কপালে চুমু খেল। তার খুব ইচ্ছে করল এই সুন্দর অনুভূতিটুকু বাক্স করে জমা রাখতে। যাতে আজীবন অনুভব করা যায়।
★★★
রিদ্ধিমাকে কেবিনে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো জ্ঞান ফিরেনি। শাহানেওয়াজ আজ চেয়েও নিজেকে আটকাতে পারেনি। সে গিয়ে রিদ্ধির বেডের পাশে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বসে রইল। অনেকক্ষণ পর যখন তার জ্ঞান ফিরছে বুঝতে পারল তখনই কেবিন থেকে বেরিয়ে আসল। সে চায় না রিদ্ধিমা তাকে এখানে দেখুক।
ছেলেকে হুমায়রার কোলে দিয়ে বলল, “আমি বাইরে বসে আছি। কী লাগবে আমাকে বললেই হবে। আর ও সুস্থ হয়ে যাবে তো?”
“মা হওয়া সহজ কথা নয়। সময় লাগবে কিছুদিন। আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে যাবে। অনেক খেয়াল রাখতে হবে।”
“আচ্ছা, ঠিক আছে তাই হবে। আমি নাফিজাকে সব বলে দিচ্ছি। কোনো অযত্ন হবে না।”
রিদ্ধিমা চোখ মেলে বুঝতে পারল সবকিছু কেমন ঝাপসা লাগছে। আবার চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ পর আবার খুলল। এবার ঠিক লাগছে। তার পাশে ছেলেকে শুইয়ে দেয়া হয়েছে।
ডক্টর হুমায়রা বলল, “অভিনন্দন রিদ্ধিমা।”
রিদ্ধি হাসার চেষ্টা করে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইল। ছেলের কপালে চুমু দিয়ে বলল, “ডক্টর, ও সুস্থ আছে তো?”
“একদম সুস্থ আছে। আমরা ভেবেছিল সমস্যা হবে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তেমন কোনো কিছুই হয়নি। এখন তোমার সুস্থ হওয়ার পালা। ছেলেকে দেখতে হবে তো।”
দুজনেই হাসল। রিদ্ধিমার চোখের কোণ বেয়ে জল
গড়িয়ে পড়ছে। সে ভাবছে, “এই সময়টা বাবা-মা থাকলে কত খুশি হতেন। রিয়ন তো খুশিতে কী যে করত। আর রাইয়ান নিশ্চয়ই গাল ফুলিয়ে বলত, ” আপুনি তুমি এবার থেকে আমায় আদর করবে না তাই না?”
ইশ! সবকিছু ভাবতেই কী খুশি লাগছে তার। না চাইতেও আরেকজনের কথা মনে পড়ে গেল। মাহিদ! আচ্ছা, মানুষ হিসেবে খারাপ হলে, বাবা হিসেবেও কী খারাপ হয়? আজ নিজের সন্তানকে দেখে সে কী একটুও খুশি হত না! ধুর কিসব ভাবছি আমি। ও তো চেয়েছিল আমার সন্তানকে মেরে ফেলতে। ওর কোনো মায়া নেই। না কোনো হক আছে।
★★★
সাতদিন পর।
রিদ্ধিকে বাসায় নিয়ে এসেছে। তার সাথে দুজন নার্সও। নাফিজা বাচ্চার দেখাশোনা করছে। আর বাকি নার্সরা রিদ্ধিমাকে দেখছে। অবশ্য শুধু খাওয়ানোর সময়টুকু ছাড়া ছেলেকে শাহানেওয়াজ তার রুমে তার কাছে রাখে। এতদিন এই বাসায় না থাকলেও। বাচ্চাটাকে ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে পারছে না। তাই তো এখানে থাকবে এখন।
রিদ্ধিমার রুমে আসে না। তার সাথে দেখা করে না। কিন্তু বাচ্চাকে নিজে যত্ন করে। নাফিজা রুমে এসে রিদ্ধির সামনে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে।
রিদ্ধি অবাক হয়ে বলল, “কী হয়েছে নাফিসা?”
“আর বলবেন না ম্যাম। স্যার রিহানকে কোলে নিয়ে আদর করছে। আমি বললাম প্যাম্পাস পরিয়ে দেই। তারপর না হয় কোলে নেবেন।”
স্যার খুব গর্ব করে বললেন, “আমার রিহান আমার কোলে যা খুশি করবে তাতে তোমার কী?”
কথা শেষ না হতেই রিহান স্যারের পুরো শার্ট-প্যান্ট ময়লা করে দিয়েছে। স্যার হাসছে, আর আমিও। জানেন, আমি কখনো স্যারকে এত কেয়ারিং দেখিনি। এত হাসতেও দেখিনি। এই কয়দিন রিহানের সাথে উনি কীভাবে সারাক্ষণ বকবক করছেন আর হাসছেন। তা দেখে খুব অবাক হচ্ছি।
স্যারের গম্ভীর ভাবটা কোথায় যেন উড়ে গেছে। রিহান যে স্যারের প্রাণ আমি বুঝে গেছি।
নাফিসার কথা শুনে রিদ্ধিমা ভাবনায় ডুবে গেল।
এমন সময় নাফিসাকে কল দিয়ে শাহানেওয়াজ বলল, “রিদ্ধিমাকে একটু ধরে হাঁটাও। আরও ভালো হয় যদি প একা হাঁটে। যত তাড়াতাড়ি হাঁটতে পারবে। তত তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে। আর খাবার ঠিক মতো খাচ্ছে তো?”
“জি, স্যার খাচ্ছে। রিহান কাঁদছে স্যার?”
“একটু কাঁদছে। আমি কোলে নিচ্ছি শান্ত হয়ে যাবে। তুমি ওর মাকে দেখো।”
রিদ্ধিমা নাফিসার কথা শুনে বুঝতে পারল তার কথাই হচ্ছে ফোনে। যদিও নিজে কখনো আগ বাড়িয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে না।
★★★
এক মাস পর।
রিদ্ধিমা এখন একদম সুস্থ। সেলাই শুকিয়ে গেছে। সারাক্ষণ ছেলেকে নিয়ে সময় চলে যায়। রিহান এখন শাহানেওয়াজের কাছে তাই সে উপরের তলায় গেল। এখানে এসেছে পর্যন্ত যাওয়া হয়নি। আজকে আচমকা ইচ্ছে করল। যেতে যেতে একটা রুমে ঢুকল। অন্ধকার রুম। লাইট জ্বালিয়ে দেখল। ছোট্ট একটা রুম। পড়ার টেবিলে কিছু বই দেখল। কি বই তা দেখতে দেখতে হঠাৎ একটা ডায়েরিতে চোখ গেল। ভাবল দেখবে না। তারপরও কৌতুহল নিয়ে খুলে দেখল। আর তার পায়ের নিচ থেকে জমিন সরে গেল।
রিদ্ধিমা কাঁপতে শুরু করল। কারো পায়ের আওয়াজ পাচ্ছে। তাড়াতাড়ি করে ডায়েরিটা ওড়নায় পেচিয়ে বেরিয়ে এলো নিজের রুমে। এটুকু পথ যেন তার হাজার মাইল বলে মনে হলো। শরীর ঘামছে। অস্থির লাগছে। ভাবছে এত বড় ধোঁকা!
চলবে
#ভালোবাসার_উল্টো_পিঠে
#একুশ
প্রজ্ঞা জামান দৃঢ়তা
নিজের রুমে এসে রিদ্ধিমা সবুজ মলাটে বাঁধা ডায়েরিটা খুলে বসে পড়ল। প্রথম পৃষ্ঠায় একটা ছবি আছে। তার একটুও দেরি হলো না ছবির মানুষটাকে চিনতে। মেয়েটার পরনে গাঢ় নীল-সাদা ড্রেসের উপর নীল রঙের ব্লেজার। মাথার দু’পাশে দুটো বিনুনি দুলছে। মেয়েটা একটা ছেলের সাথে হাসছে।
সে মনে করার চেষ্টা করল ছেলেটা কে! একটু ভাবতেই মনে পড়ে গেল। হ্যাঁ মনে পড়েছে। যখন ওর বাবা কক্সবাজার থেকে চট্রগ্রাম ট্রান্সফার হয়ে আসে। তখন বাবার এক বন্ধু আগে থেকেই এখানে পোস্টিং ছিলেন। তাদের কোয়াটার পাশাপাশি ছিল।
তাকে সেখানকার স্কুলে ভর্তি করা হলো। বাবার বন্ধুর ছেলে সেই স্কুলে পড়াশোনা করত। তাই তার সাথে সে আসা-যাওয়া করত। এই ছবির ছেলেটা সেই।
যদিও ছেলেটা তার পাঁচ বছরের সিনিয়র ছিল। তাও তারা একসাথে খেলাধুলা করত। এতে তার সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই ছেলেটার বাবার পোস্টিং হয়ে অন্য কোথাও চলে গেল। তারপর আর দেখা হয়নি। অনেক চেষ্টা করেও নামটা মনে করতে পারছে না।
রিদ্ধিমার স্পষ্ট মনে আছে ছেলেটা চলে যাওয়ার পর সে অনেক কেঁদেছে। কিন্তু পরে আর কখনো বাবাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেসও করেনি। ধীরে ধীরে তারা মন থেকে সব মুছে গেছে।
সেদিন সে একটুও ভাবেনি কেউ এভাবে তার ছবি এতদিন ধরে রেখে দেবে! গুনে দেখল ২০০৯ থেকে ২০২১ বারোটা বছর। বারো বছরে কত দিন! কত ঘণ্টা, কত মিনিট, কত সেকেন্ড হয় কোনো আইডিয়া আছে নেই তার!
★★★
রিদ্ধিমা কাঁপা কাঁপা হাতে ডায়েরির অপর পৃষ্ঠা উল্টাল।
“রিদ্ধিমা হায়দার” এটা কী শুধু একটা নাম? নাকি বুকের বাঁ পাশে আটকে থাকা নিশ্বাস!
এটুকু পড়ে হাত দিয়ে লাইন দুটো ডেকে দিল রিদ্ধি। চোখ বন্ধ করে জোরে শ্বাস নিল।
এমন ছোট ছোট অসংখ্য লাইন পড়ে।
শেষ করে দেখল এরপর বিস্তারিত অনেক কিছু লেখা আছে।
পৃষ্ঠাঃ ত্রিশ
ভেবেছিলাম রিদ্ধিমা হায়দার শুধু মাত্র আমার বন্ধু বা আত্মীয়। কিন্তু যখন বাবার পোস্টিং হয়ে চট্টগ্রাম থেকে চলে আসলাম। তখন কেন যেন তাকে খুব মিস করতে লাগলাম।
অনেক ভুলার চেষ্টা করলাম। পারছিলাম না। তারপর পড়াশোনায় মনোযোগ দিলাম। সবকিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে অনেকটা ভুলেও গিয়েছিলাম। তারপরও হুটহাট যেন মনে পড়ে যেত। কিন্তু কেন মনে পড়ত এর কোনো ব্যখ্যা আমার কাছে ছিল না।
সমস্যা তখন হলো যখন আমরা আবার চট্রগ্রাম চলে আসলাম। একদিন বন্ধু শামীমের সাথে তার ভাইকে স্কুল থেকে আনতে গেলাম। দেখলাম একটা মেয়ে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। এক সেকেন্ডও লাগল না তাকে চিনতে। আগে থেকে বড় হয়ে গেলেও মুখের আদল ঠিক আগের মতোই আছে। সেই হাসি। থুতনিতে সেই কাঁটা দাগ।
আমি ভেবেছিলাম তাকে আমি ভুলে গিয়েছি। কিন্তু আমার সব ভাবনায় জল ঢেলে, তাকে দেখে মনে হলো, আমি আসলে তাকে কোনোদিন ভুলিইনি। শুধু নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত পারলাম কী!
সেই থেকে শুরু হলো আরেক যন্ত্রণা। কিছুদিন যেতেই বুঝতে পারলাম তাকে না দেখলে কেমন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছে। সেই অনুভূতির নাম তখন আমার কাছে স্পষ্ট ছিল। তাও স্বীকার করতে ভয় হচ্ছিল।
হঠাৎ একদিন কী মনে করে যেন একদিন একটা চিঠি লিখলাম। বলাই বাহুল্য যে সে চার লাইনের চিঠি লিখতে আমার গোটা একটা রাত লেগে গেল। কতবার কতকিছু লিখে ছিড়ে ফেলে দিয়েছি তার হিসেব নেই।
সকালে ফুলের মালার সাথে সেটা দিয়ে দিলাম। কিন্তু কোনো পরিচয় দিলাম না। আমি দেখতে চাইছিলাম রিদ্ধিমা চিঠি পেয়ে কী করে।
ছোট বাচ্চা একটা মেয়ে যখন চিঠি আর মালা তার হাতে দিচ্ছিল, তখন তাকে ঘাবড়ে যেতে দেখলাম। তার মুখ দেখে কিছুই বোঝার উপায় ছিল না। ঠিক কী ভাবছে। এভাবেই আমার তার প্রতি ভালোবাসা বেড়ে চলল। চিঠি চিরকুট দিতে লাগলাম। এরপর আমি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ি৷ তাও চিঠি লিখা বন্ধ করি না। আমার বাসার পাশে একটা ছেলে ছিল যাকে অনেক অনুরোধ করে বললাম। রিদ্ধিমার হাতে চিঠি দিয়ে আসতে। সে রিদ্ধিমাকে চিঠি দিয়ে আসল।
আর আমি তখনই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করলাম। মাহিদ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিদ্ধিমাকে চিঠি দিত। যা আমি জানতাম না। তারা দেখা করা শুরু করল যা আমার অজানাই ছিল। আমি তো জানতাম মাহিদ বিবাহিত ছিল। তাই তার কাছ থেকে কোনোরকম আশংকা আমার কোনোকালেই ছিল না।
অথচ আমার সব ধারণা ভুল প্রমাণ করে মাহিদ আমার এতগুলো বছরের অপেক্ষা আর ধৈর্যকে এক নিমিষেই শেষ করে দিল।
আমি জানামতে কোনোদিন কারো ক্ষতি করিনি। তবে আমার এত বড় ক্ষতিটা কেন হল! সবকিছু আমার কাছে এতটা দেরিতে কেন প্রকাশ পেল। যখন আমার হাতে কিছুই করার ছিল না।
আর নিষ্পাপ মেয়েটার কী দোষ ছিল। মাহিদের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে কষ্ট দেয়া। আর সে সেটাই করল। যদি সে আমায় খুন করত তাতেও এতটা কষ্ট হত না। যতটা কষ্ট আমার রিদ্ধিমাকে আমার কাছ থেকে দূরে করে দিয়েছে।
জীবনের অনেক স্বপ্নের মধ্যে কিছু স্বপ্ন অধরা রয়ে যায়। সেই অধরা স্বপ্ন আমায় যত ইচ্ছে পোড়াত তাতে তো আমার সমস্যা ছিল না। কিন্তু রিদ্ধিমাকে কেন আমার জন্য শাস্তি পেতে হলো!
যখন সব সত্যি আমার সামনে আসল বুঝতে পারলাম আগে ‘রিদ্ধিমা হায়দার’ আমার নিশ্বাস ছিল। আর এখন আমার আত্মায় রূপান্তরিত হয়েছে। নিশ্বাস শেষ হলে শরীর তো শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আত্মার তো শেষ নেই৷
এতটুকু পড়তেই নাফিসা রিহানকে কোলে করে নিয়ে রুমে ঢুকল। রিদ্ধিমা তাড়াহুড়ো করে ডায়েরিটা বালিশের নিচে ঢুকিয়ে উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না। কোনো একটা অশরীরী তাকে উঠতে দিল না। নাফিসা তার কাছে এসে রিহানকে দিল।
রিহানকে কোলে নিয়ে কান্না থামাতে চাইল রিদ্ধিমা।
নাফিসা বলল, “স্যার কাল এক মাসের জন্য দেশের বাইরে যাবেন। রিহানের কী কী লাগবে লিস্ট করে দিতে বলেছে। আপনি তো বাইরে যান না। তাই স্যার সব এনে দিয়ে যাবেন।”
রিদ্ধিমা তখন কোনো এক ঘোরে আছে। অনেক হিসাব মেলাতে পারছে না। সবটা না পড়লে মেলানো সম্ভবও নয়। তাকে ঘিরে এতকিছু হয়ে গেছে অথচ সব তার অজানা। জীবনটা কেমন হিসাব বিজ্ঞানের জটিল সব অংকের মতো মনে হচ্ছে। যার প্রতিটি এন্ট্রি জটিল থেকে জটিলতর।
তার মনে হচ্ছে সে কোনো সিক্রেট গেইমের কেন্দ্রবিন্দু যাকে ঘিরে একের পর এক খেলা চলছে। অথচ সেই কিছু জানে না।
এই মুহূর্তে দুটো প্রশ্ন তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
“মাহিদ কে?”
“শাহানেওয়াজ শেখ কে?”
আর,” রিদ্ধিমা হায়দার তাদের কে?”
চলবে