ভালোবাসা তেতো পর্ব-০৩

0
894

#ভালোবাসা_তেতো
#part_3
#sarika_Islam



আমার ধাক্কা মারায় ইয়াদ(নায়কের নাম চেঞ্জ করা হয়েছে) চেতে গিয়ে উঠে বলল,,

_হোয়াট রাবিশ,,কিসব বলছ তুমি?এভাবে ধাক্কা মারলে কেন?

আমি উঠে বসলাম ঠিকভাবে,,তারপর উনাকে বললাম,,

_আমাকে কিস করলেন কেন আপনি?
_তুমি আমার বউ করতেই পারি,,
_বউ!কিসের বউ! আমি মানি না এইসব,,একদম আমার থেকে দুরুত্ব বজায় চলবেন,,
_তুমি মানো আর না মানো আমার কিছু যায় আসে না,,আমাদের বিয়ে হয়েছে সো এখন থেকে আমরা স্বামী স্ত্রী,,আর আমি আমার স্বামীর অধিকার চাই,,

অধিকার চাই এই কথাটা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম,,বলেকি কাল না কি ভালো ভাবে কথা বললাম আমরা ফ্রেন্ড হলাম আজ কি হলো?ডিরেক্ট স্বামীর অধিকার চেয়ে বসলো?আমি ভাবনার জগত থেকে বের হয়ে বললাম,,

_কাল না আপনি ফ্রেন্ডশীপ করলেন?
_হুম তো স্বামী স্ত্রী কি ফ্রেন্ড হতে পারে না?আর আমরা ফ্রেন্ড মানলাম কিন্তু আমার অধিকার আমি চাই ব্যাস,,

আমি তার এই কথা শুনে বিছানা ছেরে উঠে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম,,আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,,আমরা ফ্রেন্ড হই আস্তে আস্তে আগাই,এভাবেই কি সব হয়?আমি কাদতে কাদতে আম্মুর রুমের দরজা নক করলাম,,আম্মু দরজা খুলে আমাকে দেখে যেন চমকে গেল,,আমার কান্না দেখে আম্মু আমাকে নিয়ে সোফায় বসলো,,আর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলছে,,

_কি হয়েছে মা কাদছিস কেন?
_আম্মু, ইয়াদ আমার থেকে তার স্বামীর অধিকার চায়,,

আম্মু আমার কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ করে ছিল,,তারপর বলল,,

_ফারাহ কান্না থামা,,চুপ মা,,

আমি কান্না থামিয়ে দিলাম,,কিন্তু হেচকি উঠছে,,আম্মু আবার বলল,,

_দেখ মা বিয়ে যখন হয়েছে স্বামীতো তার অধিকার চাইবেই,,,এতে এত্ত কাদার কি হলো? আর বুঝলাম তুই ওকে চিনিস না জানিস না ইয়াদ ও চিনে না কিন্তু তাও স্বামী তো হয়ে গেছে এখন তো তোকে মানতেই হবে,,,
_কিন্তু মা এভাবে হুট করেই আমি আমাকে বিলীন করে দিব,,চিনিনা জানিনা,,আমার মানিয়ে নিতে কিছু সময় তো লাগবে,,আমাকে সেই সময়টা পর্যন্ত দিচ্ছে না,,এখনি নাকি অধিকার চাই,,
_একদিন না একদিন তো তোকে তার অধিকার দিতেই হবে তাহলে আজ নয় কেন?

আমি আম্মুর সাথে আর কথা না বলে সোফা থেকে উঠে গেলাম,,নিজের ঘরে গিয়ে বারান্দায় চলে গেলাম,,কেমন জানি লাগছে,,আম্মু তো সত্যিই বলেছে আমার তো তাকে অধিকার দিয়েই হবে আজ না হয় কাল দিতে তো হতোই,,কিন্তু তাও কেন জানি নিজেকে মানাতে পারছি না খুব কষ্ট হচ্ছে,,,এই রীমার বাচ্চাকে পেলে একদম মেরে দিব,শালা ওর জন্য আজ আমার তার হতে যাওয়া বরকে সহ্য করতে হচ্ছে,,উফফফফ,আর ভাবতে পারবো না নাহলে এখানেই মরে থাকবো,,

বারান্দা থেকে গিয়ে সোজা বিছামায় শুয়ে পরলাম,,আমার পাশেই বরবাবু শুয়ে আছে,কি সুন্দর ভাবে শুয়ে আছে তাকে দেখলে কি বুঝাযাবে সে এমন অধিকারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে?মরিয়া তো হবেই পুরুষ মানুষ সাথে বউ থাকলে সব ছেরে অধিকারের কথা মাথায় আসে,,এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমের দেশে পাড়ি জমালাম,,

ঘুমের মাঝে আমার ফিল হচ্ছে কেউ আমার গালে গলায় বুকে চুমু খাচ্ছে আমার উপর উঠে,,কামড়ও দিচ্ছে হাল্কা হাল্কা,,কেমন জানি জ্বলছে,,আর চোখ বন্ধ করে থাকতে পারলাম না ফট করে চোখ খুলে ফেললাম,,চোখ খুলে যা দেখলাম আপনি আপনি আমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরলো,,ইয়াদ আমার উপর উঠে আমার শাড়ির আচল সরিয়ে এমন করছে,,সে তার মতো তার অধিকার নিতে বেস্ত,, আমার ঠোঁটে চুমু খাচ্ছে আমি তাকে ধাক্কা দিলাম কিন্তু তাকে এক চুল পরিমান নাড়াতে পারলাম না সে আমাকে এমন ভাবে জরিয়ে রেখেছে নাড়তেও পারছি না,, আর সে যেন অন্য এক মোহে আছে তার চাহিদা মেটানোর মোহে,,আমার আর কিছু করার নেই নিরবে চোখের পানি ফেলা ছাড়া,,চোখের পানি ফেলছি আর আম্মুর বলা কথা গুলো মনে করছি,,কিছু দিন আমাকে টাইম দিত নিজের মতো করে মানিয়ে নেওয়ার আমি তো তাকে না বলি নি শুধু টাইম তো চেয়েছিলাম,,তাতেই দিল না,,

তার শরিরের চাহিদা মেটানোর শেষ হলে সে টায়ার্ড হয়ে আমার পাশে শুয়ে পরে,,নিজের মতো করে চাহিদা মেটালো এখন নিজের মতো করে শুয়ে আছে,,আমার খুব কান্না পাচ্ছে,,আমি কাদছি,,ভালোবাসা এত্ত কষ্ট এত্ত পেইন,,তাহলে কি সত্যিই #ভালোবাসা_তেতো?

দুই দিন এমন ভবেই কাটলো,,সারাদিন কাজে বিজি থাকে রাতে আসে আর তার শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে শুয়ে পরে,,এমনি কি ভালোবাসা?বরবাবু আমাকে বুঝবে আমি বরবাবুকে বুঝবো,,বরবাবু ঠিকভাবে তাকায়ও না আমার দিকে,,আজ বাবা বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি চললাম,,গাড়িতে পর্যন্ত সে আমার সাথে কথা বলেনি,, কথা তো দূরে থাক ফিরে তাকায় ও নি,,আমার খুব কষ্ট হয়,,,

দরজায় কলিং বেল বাজালাম,,ইয়াজ এসে দরজা খুলে দিল,,আমাকে দেখে খুশি হয়ে গেল,,বরবাবু নিজের মতো করে বেগ নিয়ে উপরে চলে গেল,,আমার মুখটা মলিন হয়ে গেল,,এ কেমন স্বামী?যে শুধু নিজের দিকটাই বুঝে,,আমার ভিতর কি চলে আমি কি চাই তা জানার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে নেই তার,,

ইয়াজের ধাক্কায় ভাবনার জগত থেকে বের হলাম,,সে আমাকে খুব আদর করে,,

_আরে ভাবি ভিতরে ঢুকো,,
_হুম,,

আমি ভিতরে ঢুকে শ্বাশুরী মার সাথে কথা বলে উপরে গেলাম ফ্রেশ হতে,,গিয়ে দেখি বরবাবু ফ্রেশ হয়ে মাত্র বের হলো,,আসলে আমার বরটা খুব সুন্দর কোন নায়কের থেকে কোন অংশে কম না,,কিন্তু তার যেই বিহেভিয়ার তার কথা মনে পরলে মন চায়,,,,,,,,,সে আমাকে ক্রস করে নিচে চলে গেল,,আমিও কিছু বললাম না,,বেগ থেকে শাড়িগুলো বের করে কাবার্ডে রাখলাম,,শ্বশুর বাড়িতে শাড়ি পরবো আমার আগের থেকেই খুব ইচ্ছে ছিল,,তো এখন তো শ্বশুর বাড়ি হয়েই গেছে আশাটা না হয় পুরন করেই ফেলি,,কিন্তু মন মতো একটা জামাই জুটালো না আল্লাহ আমার কপালে,,

এইসব ভাবতে ভাবতে একটা হাল্কা হলুদ কালারের শাড়ি নিয়ে ওয়াশ্রুমের গেলাম,,শাওয়ার ছেরে সেটার নিচে দারিয়ে কান্না করছি ইচ্ছে মতো কান্না করছি,,এই কি আমার জীবন?এভাবেই কি পার হয়ে যাবে?না আছে কোন ভালোবাসা কোন সুখ,,শুধু আছে চাহিদা আর অধিকার,,আজ কান্না করবো ইচ্ছে মতো কান্না করবো,,

বেশ কিছুক্ষন কান্না করে নিজের মনকে হাল্কা করলাম,তারপর শাড়িটা পরে বের হলাম,, সন্ধ্যা হয়ে গেছে,,চুল থেকে টাওয়ালটা নিয়ে বারান্দায় শুকাতে দিলাম,,রুমে এসে দেখি বরবাবু লেপটপ নিয়ে বের হচ্ছে,,এই রুমে যে এখন তার বউও আছে সেখানে তার কোন খেয়ালি নেই,,শুধু রাতে ঘুমুতে গেলে মনে পরে বউ এর কথা,,

এইসব ভেবেই আরও খারাপ লাগলো,,কিন্তু না এখন আর কষ্ট পাবো না,,ভাগ্য ভেবে সব মেনে নিব চুপচাপ সহ্য করবো,দেখি আল্লাহ কতো দূর নিয়ে যায়,,আমি চুল আচড়িয়ে নিচে গেলাম,,গিয়ে সোফায় বসলাম,,সেখানে বসে বসে বরবাবু লেপটপে তার কজ করছে আর ফল খাচ্ছে,,ইয়াজ আমাকে বলল,,

_বাহ ভাবি তোমাকে তো হলুদে পুরো হলুদ পরি লাগছে,,বেশ সুন্দর লাগছে,,

আমি হাল্কা হাসি দিলাম,,মাঝ দিয়ে আমার শ্বাশুরী বলে উঠে,,

_মাসাল্লাহ বল ইয়াজ,,আমি কোটির মধ্যে একটা বউমা পেয়েছি,,
_হুম হুম মাসাল্লাহ,,

আমি হাসলাম,,খুব ভাগ্য করে একটা শ্বাশুরী আর দেবর পেয়েছি,,আমার দেবর টা খুব ভালো,,বরবাবু আমার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না সে তার লেপটপে কাজ করতে বেস্ত,,আমার খুবি কষ্ট হচ্ছে,,আর পাচটা মেয়ের মতো আমারওতো মন চায় আমার বর আমাকে দেখবে ভালোবাসবে আমার প্রশংসা করবে,,,কিন্তু এইসব আমার কপালে নেই,,রাতে খাবার খেয়ে রুমে চলে গেলাম ঘুমুতে,,

ঘুমুতে যাবো তখন আমার ফোনে ফোন আসে,,আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি মীনা ফোন করেছে আমি বারান্দায় চলে গেলাম,,আর বরবাবু আবার কাজ নিয়ে পরে রইলো,,

_হ্যালো,,মীনা,,কেমন আছিস?
_হুম ভালো তুই?
_হুম আমিও,,
_আচ্ছা শুন কাল আমার বাচ্চার জন্মদিন এক বছর পুরন হবে,তোর দুলাভাই পার্টি রেখেছে আসবি কিন্তু,,
_আচ্ছা আমি ইয়াদকে বলে নেই,,,
_ওহ তোর তো বিয়ে হয়ে গেল,,শুনেছি কীভাবে হয়েছে রে আমার খুবি খারাপ লাগছে তোর জন্য,, এই শুন রীমাকেও আসতে বলেছি,,
_রীমাও আসবে?তাহলে তো আমিও আসবো,,ওর সাথে বোঝা পড়া আছে,,
_হাহা আচ্ছা আসিস কিন্তু সকাল সকাল চলে আসিস আমি রাখছি বাচ্চা কান্না করছে,,
_আচ্ছা,,, আল্লাহ হাফেজ,,

বলেই ফোন রেখে দিলাম,,কাল যাবো আর শয়তান রীমাকে বানাবো আমি শালা ওর জন্য এই তেতো ভালোবাসা আমার সহ্য করতে হচ্ছে,,এইসব ভেবেই রুমের ভিতরে আসলাম,,দেখলাম এখনও বরবাবু কাজ করছে,,আমার উপস্তিতি টের পেয়ে লেপটপের ভিতরেই মুখ দিয়ে বলল,,

_কে কল করেছিল?

আমি শকড তার আবার কবের থেকে ইন্টারেস্ট জাগলো আমি কার সাথে কথা বলি তা নিয়ে?এভাবে তো নিজের জিনিস নিয়েই পরে থাকে?বরবাবু আবার বলল,,

_ফারাহ কিছু জিজ্ঞেস করেছি?

এই প্রথম বরবাবু আমাকে আমার নামে ডাকলো,,এভাবে তো বরবাবু আমাকে ডাকেই না,,তার কোন প্রয়োজনের কথাই হয়না আমার সাথে,,বরবাবুর কথায় আমার ঘোর কাটলো,,

_আবার হাড়িয়ে গেলে কোথায়?
_কই নাতো,,(হচকচিয়ে)
_কে কল করেছিল?
_ওহ হে,,,আমার একটা ফ্রেন্ড ফোন করেছিল,,
_ওহ,,

বলেই লেপটপ নিয়ে উঠে পরলো,,বিছানায় গেল ঘুমুবে এখন,,আমি আবার বললাম,,

_কাল তার বাচ্চার এক বছর বার্থডে সেলিব্রেশন করবে,,আমাদের যেতে বলেছে,,
_হুম তো তুমি যাও,,
_আপনি যাবেন না?
_নাহ আমার অনেক কাজ আছে,,আমি তোমাকে ড্রপ করে দিব নে,,এখন ঘুমুতে আসো,,

আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল,,গেলে কি এমন মহাভারত অসুদ্ধ হয়ে যেত?নাকি আমার সাথে যাওয়া যায় না?এইসব নিজে নিজেই ভেবে মন খারাপ হয়ে গেল,,বিছানা শুয়ে পরলাম বরবাবুর পাশে,,সে বেঘোরে ঘুমুচ্ছে,,মানুষ কিভাবে এত তারাতারি ঘুমাতে পারে?কেমন বর আল্লাহ সব ছেরে আমার কপালেই পরলো,,

সকালে,,

গায়ে কারো ভারের চোটে ঘুম ভেংগে গেল,,চোখ খুলে দেখি বরবাবু তার একশ কেজি ওজনের হাতটা আমার উপর দিয়ে ঘুমুচ্ছে,,আল্লাহ এত্ত ভার?আমি আস্তে করে হাতটা সরিয়ে উঠে পরলাম,,ফ্রেশ হয়ে এসে দেখলাম বরবাবু উঠে গেছে,,আমি তার দিকে তাকিয়ে একটা স্মাইল দিলাম,,আর বরবাবু সোজা ওয়াশ্রুমে চলে গেল,,আমার খুবি খারাপ লাগলো এ কেমন সম্পর্ক একটু হাসতে ও কি কষ্ট হয়?আমি নিচে গেলাম,,সকালের নাস্তা করবো বরবাবু নিচে আসলো,,সবাই একসাথে নাস্তা শেষ করলাম,,বরবাবু আমাকে বলল,,

_ফারাহ রেডি হয়ে এসো বেরুবো,,
_হুম,,

আমি উঠে যেতে নিলে আমার দেবর ইয়াজ বলে,,

_ভাবী কোথাও যাচ্ছো?
_হুম আমার এক ফ্রেন্ডের বাচ্চার জন্মদিন,,সেখানে,,
_ওহ,,
_মা যাবো?
_সেকি এটা আবার জিগ্যেস করতে হয়নি যা,,ইয়াদ তুই যাবি?
_না মা আমার কাজ আছে,,
_সেকি তাহলে ফারাহ একা যাবে?
_আমি দিয়ে আসবো,,আর নিয়েও আসবো নে,,
_হুম মনে করে নিয়ে আসিস,,
_ঠিক আছে,,

আমি উপরে রেডি হতে চলে আসলাম, আমার শ্বশুর অফিসে চলে গেল,,

নীল কালারের একটা শাড়ি পরেছি,, হাত খোপা করে বেলীফুলের মালা,,হাতে নীল কালারের রেশমি চুরি,,কপালে কালো টিপ,,ঠোটে নুড কালারের লিপস্টিক,, চোখে চিকন করে লাইনার,,,ব্যাস আমার রেডি হওয়া শেষ,,আমি নিচে গেলাম,,ইয়াজ আমাকে দেখে চিল্লান দিয়ে বলল,,,

_ওয়াওওও ভাবী তোমাকে যা লাগছে না মাসাল্লাহ,,হায়য়য়,,আয়হায় দুইজন মেচিং মেচিং,,

আমি হাল্কা হাসলাম,,বরবাবু তাও আমার দিকে তাকালো না আমার হাসিটা মলিন হয়ে গেল,,সেও নীল কালারের শার্ট পরেছে,,সাদা পেন্ট,,আমিই তার সাথে মেচিং করে পরেছি,,আমরা দুইজন গাড়িতে বসলাম,,

চলবে,,,
(ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন🖤)