#ভালোবাসা_তেতো
#part_17
#sarika_Islam
”
”
”
ইয়াজ তার ভাইকে দেখে পুরুই শকড,,,সেকি তার ভাই?তার ভাই জীবিত? ইয়াদের সাথে একটা মেয়েও বসে আছে বেঞ্চিতে,,ইয়াজ দৌড়ে গিয়ে ভাইকে জরিয়ে ধরলো,,হঠাৎ ইয়াদকে এভাবে জরিয়ে ধরায় ইয়াদ ঘাবরে গেল,,কি হলো,?ইয়াদ হাত দিয়ে ইয়াজকে সরিয়ে দিল,,ইয়াজকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ায় ইয়াজ অবাক হয়ে ইয়াদের দিকে তাকিয়ে আছে,,,ইয়াদ তার পাশের মেয়েটির দিকে তাকালো,,মেয়েটি ইয়াদের কান্ডিশন দেখে বলল,,,
_এই আপনি কে?
_আমি কে মানি?আপনি কে সেইটা বলেন,,আর আমার ভাইয়ের সাথে কি করছেন?
ইয়াদ মাঝখান দিয়ে মৃদু স্বরে বলল,,
_রেশমা চলো এইখান থেকে,,
বলেই ইয়াদ রেশমার হাত ধরে চলে গেল,,,ইয়াজ হা হয়ে তাকিয়ে আছে,,তার ভাই তাকে চিনলো না?ভুলে গেছে তাকে?ইয়াজের ফ্রেন্ড তার কাছে এসে বলে,,
_দোস্ত ওইটা ইয়াদ ভাই না?
_হুম,,
বলেই সাইডে চলে গেল,,তার মাকে ফোন করা দরকার,,,ইয়াজ তারাতারি মাকে ফোন করলো,,
_আম্মু,,,আম্মু ভাই,,,
ইয়াজ তার মাকে সব খুলে বলল,,,ইয়াদের আম্মু তো খশিতে কান্না করেই দিল,,এত মাস পর তার ইয়াদ তার কাছে আবার আসবে,,
_আম্মু তুমি আর আব্বু চলে আসো এখানে,,
_ঠিক আছে আমি আজি রওনা হবো,,
ইয়াজ আর তার বন্ধু ইয়াদরা যেখানে আছে সে জায়গার ঠিকানা বের করলো,,,খুব জলদি কাজ টা হয়েও গেল,,ঠিকানা পেতে এত কষ্ট করতে হয়নি,,
বিকেলের দিক দিয়ে তার আম্মু আব্বু চলে আসলো,,ইয়াজ তার আম্মু আব্বুকে নিয়ে সে বাসার উদ্দেশ্য বের হলো,,,
ইয়াদদের বাসার ঠিক সামনে দারিয়ে আছে তারা,,ইয়াদের আম্মুর অনেক খুশি লাগছে এত দিন পর তার সোনা ছেলেকে দেখতে পারবে,,ইয়াজ কলিং বেল চাপতেই কিছুক্ষন পর এসে সকালের সেই মেয়েটা দরজা খুলল,,রেশমা তাদের দেখে ভ্রু কিছুটা কুচকালো,,ইয়াজ রেশমাকে সরিয়ে সবাই ভিতরে ঢুকে গেল,,রেশমা তাদের থামাচ্ছে,,
_আরে কারা আপনারা?এভাবে ভিতরে কই যাচ্ছেন?
বলেই চিল্লাচ্ছে,,তাদের চিল্লাচিল্লিতে ইয়াদ বাহিরে আসলো,,ইয়াদকে আসতে দেখে তার মা তাকে দেখে জরিয়ে ধরলো,,,
_বাবা আমার কেমন আছিস তুই?
বলেই হাতাতে লাগলো,,,ইয়াদ কিছুই বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে না হচ্ছে,,রেশমা তাদের দিকে স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,,ইয়াদের মা ইয়াদকে ধরে আবার বলল,,
_বাবা কিছু বল কি হয়েছে তোর?
ইয়াজ রেশমার কাছে গিয়ে বলে,,
_এই মেয়ে কি হয়েছে ভাইয়ের?কথা বলছে না কেন?
রেশমা আমতাতে লাগলো,,সে মটেও বলতে চাচ্ছে না,,ইয়াজ আবার ধমক দিল,,
_এই মেয়ে বলছ না কেন?কোথায় পেয়েছ ভাইকে?
রেশমা ধমক খেয়ে বলল,,
_আসলে উনাকে একজন হসপিটালে ভর্তি করিয়েছিল,,সেখানকার নার্স আমি,,উনি নাকি পাহাড় থেকে পরে কোন এক গাছে বেজে ছিলেন,,কেউ তাকে পায় আর হসপিটালে এডমিট করে,,সে কিছুটা সুস্থ হওয়ায় তার পরিবারের খোজ করা হয়েছিল,,,কাউকেই পাওয়া যায়নি,,আবার তার মেমরি লস হয়ে গেছে,,স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছে,,তাই আরো খুজে পাইনি,,,তারপর আমি উনাকে আমার কাছেই রাখি, এই সাত মাস উনাকে আমিই সেবা করে যাচ্ছি,,,
ইয়াদের মা ছেলের অবস্থা শুনে ঠাস করে বসে পরলো,,তার স্বামী বউকে ধরলো,,
_বাবা ভাইকে দরকার পরলে লন্ডন নিয়ে হসপিটালে ট্রিটমেন্ট করবো,,তাও ভাইকে খুব জলদি সুস্থ করে তুলবো,,পিচ্চি ভাবী খুব খুশি হবে,,
_হুম ঠিক আছে,,
ইয়াদের মা রেশমার কাছে এসে তার হাত ধরে কান্না করে বলল,,
_মারে তোমার শোধ আমি কিভাবে মিটাবো?তুমি আমার ছেলের এত্ত কেয়ার করেছো,,,
_নাহ আন্টি এভাবে বলেন না,,,
_তোমার পরিবার,,,
_আমি একা আন্টি আমার কেউ নেই,,তাই আমি উনাকে নিয়েই বেচে ছিলাম,,
_তাহলে তুমিও চলো আমাদের সাথে,,
_নাহ আন্টি আপনি যান,,উনার পরিবার পেয়েছি এটাই আমার জন্য অনেক,,
সবাই রেশমার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পরলো,,ইয়াদ শুধু দেখছে হচ্ছে টাকি,,কিন্তু কোন কথা বলার অবস্থায় নেই,,
তারা বেশ রাত করে বাড়ি ফিরলো,,,ইয়াদকে তার আম্মু আব্বু এত মাস পর বাড়ি দেখে খুশিতে কেদেই দিল,,
_বাবা টিকেট কনফার্ম করো,,আজিই যাবো,,
_ঠিক আছে,,
ইয়াজ ইয়াদকে নিয়ে বেরিয়ে পরলো,,সেখানে তার ভাইকে বেস্ট ট্রিটমেন্ট দিয়ে সুস্থ করে তুলবে,,,আর স্মৃতি শক্তি আবার ফিরে আসবে,,
দুই মাস পর,,
ইয়াদ আর ইয়াজ বাড়ি ফিরবে আজ,,তার আম্মু আব্বু বাড়িটাকে হাল্কা ডেকুরেট করলো,,বড় ছেলে এতদিন পর বাড়ি আসবে,,ইয়াদ আর ইয়াজ একসাথে বাড়ির গেটের সামনে দারিয়ে আছে,,ইয়াদের মা ইয়াদকে এভাবে আবার আগের মতো দেখে চোখর কোনের পানি মুছলো,,
_আয় বাবা ভিতরে আয়,,
ইয়াদ ঢুকে মাকে জরিয়ে ধরলো,,
_মা কেমন আছো?
_আমার ছেলে আমার কাছে আছে এখন আমি বেশ ভালো,,
ইয়াদ তার বাবাকেও জরিয়ে ধরলো,,ইয়াদ কাউকে খুজতে লাগলো,,
_ভাই যাকে খুজছিস সে এখানে নেই,,(হাল্কা হেসে)
_কেন সে আবার কই?
_তুই তো কিছুই জানিস না কি হয়েছে,,
_জানবো কিভাবে?(রেগে)
_আচ্ছা বলছি চেতিস না,,এত কিছু ঘটে গেল তাও রাগ কমলো না আল্লাহ,,(লাস্টের টা বিরবির করে বলল)
_এই কি বললি?
_নাহ কিছু না,,
_এই থামতো,,আয় বাবা বস,,
মা ইয়াদকে সব কথা বলল,,এই নয় মাসের কাহিনি,,ফারাহ একা একা কিভাবে কাটিয়েছে,,কিভাবে সামলিয়েছে নিজেকে,,ইয়াদ একসব শুনে চোখ ভরে আসলো,,খুশি হয়ে বলল,,
_আমি বাবা হবো মা?মা আমি বাবা হবো?
বলেই খুশি হয়ে তার বাবা ভাই মাকে জরিয়ে ধরলো,,
_মা আমি এখনি আমার ফারাহকে নিয়ে আসবো,,
_আরে আরে ভাই আজ নয়,,
_তো?
_কাল তোদের anniversary ভুলে গেলি?স্মৃতি শক্তির সাথে সবি ভুলে গেলি?
_ওহ হ্যা,,ঠিকি তো,,
_তাহলে কালই নিয়ে আসবো,শোন আমার কাছে একটা প্লান আছে,,
_কি প্লান?
_কাল ভাবীকে আনবো,, তাকে আবার বউয়ের মতো সাজিয়ে বাসর করাবো তোদের,,
_চুপ শালা,,
তার আব্বু আম্মু হেসে দিল ইয়াজের এমন কথা শুনে,,দুই ছেলের হাসি দেখে তার মার মন ভরে এলো,,,
আমার ছেলেরা যেমন এভাবেই হাসি খুশি থাকে,,(মনে মনে)
সকালে,,,
ইয়াজ ফারাহকে ফোন করলো,,,
_হ্যালো পিচ্চি কেমন আছো?
_এখন ভালো নেই ভাই,,(অস্থির গলায়)
_সেকি কেন?
_ডেলিভেরি ডেট যত সামনে এগুচ্ছে আমার অস্থিরতা ততই বারছে,,
_এত চিন্তা করো না কিছু হবে না,,আচ্ছা শুন,,
_হুম ,,
_আজ বাড়ি আসো,,
_কেন?
_সারপ্রাইজ আছে,,খুব বড় সারপ্রাইজ,,
_সারপ্রাইজ দিয়ে আর কি করবো,,যেখানে মনের শান্তি নেই,,
_আরে আসো তো,,বিকেলে রেডি থেক আমি নিতে আসবো,,
_আচ্ছা,,
বলেই ফোন কেটে দিল,,
আপনারা আমার ইয়াদকে এত্ত ভালোবাসেন❤️তাহা দেখে আমার প্রান জুরিয়ে গেছে🖤ধন্যবাদ এত্ত ভালোবাসা দেওয়ার জন্য🌸
চলবে,,
(ভুল ত্রুটিগুলো হ্মমার দৃষ্টিতে দেখবেন🖤)