#রাগে_অনুরাগে💚✨
#পর্ব_০৬
#লেখক_ঈশান_আহমেদ
আরাধ্যা চোখ রাঙিয়ে আর্যর দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমার হাতটা ছাড়ুন।”
আর্য দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“আমার সাথে ভাব দেখাও?তোমার এতো সাহস বেড়ে গেছে?”
“লজ্জা করে না এমন অসভ্যের মতো একটা মেয়ের হাত ধরে থাকতে!”
“আমার কেনো লজ্জা লাগবে লজ্জা তো তোমার লাগা উচিত।কিভাবে তোমাকে বিয়ে না করে তোমারই বান্ধবীকে বিয়েটা করে ফেললাম।”
“কিন্তু আমার এক বিন্দু পরিমাণ লজ্জা করছে নাহ্।”
এটা শুনে আর্য আরাধ্যার হাত আরো জোরে চেপে ধরলো।আরাধ্যা ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো।
মিহির গাড়ি নিয়ে রাস্তার চারিপাশ ভালো করে দেখতেছে।তার দুচোখ আরাধ্যাকে খুঁজছে।সে ভেবেছিলো আরাধ্যাকে নিয়ে আজকে ঘুরতে যাবে।অফিসে সেটা বলেনি।মিহির মনে করেছিলো অফিস থেকে বের হলে হয়তো আরাধ্যাকে পেয়ে যাবে তখনই গাড়িতে উঠিয়ে নিবে। কিন্তু নাহ্ আরাধ্যা ততক্ষণে চলে গেছে!
হঠাৎ মিহিরের চোখ আটকে গেলো রাস্তার পাশে।সে দেখলো একটা ছেলে আরাধ্যার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে।আরাধ্যা হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে নাহ্।মিহিরের রাগ উঠে গেলো।সে গাড়ি থেকে নেমে আরাধ্যার দিকে হাঁটা শুরু করলো।মিহির গিয়ে আর্যর হাতটা ঝটকা মেরে ছাড়িয়ে দিলো।মিহিরকে দেখে আরাধ্যার মুখে হাসি ফুটলো।আর্য চোখ রাঙিয়ে মিহিরের দিকে তাকিয়ে আছে।আর্য কর্কশ গলায় বললো,
“এই কে আপনি?আমার হাত এভাবে ঝটকা মেরে ছাড়িয়ে দেন?”
মিহির চোয়াল শক্ত করে বললো,
“আগে বলুন আপনি কে?আপনার সাহস হয় কি করে চাশমিশের হাত এভাবে ধরার?”
আরাধ্যা পাশে থেকে বললো,
“মিহির বাবু উনিই হলেন আমার সেই হবু বর।”
মিহির আরাধ্যার কথা শুনে বললো,
“আই সি!এর জন্যই তো বলি এতো সাহস কোথা থেকে আসে।”
আর্য মিহিরের কলার টেনে ধরে বললো,
“এই তুই কে রে?তুই আমার আর আরাধ্যার মাঝে এসে কথা বলিস কোন সাহসে?”
মিহির রাগে ফুসছে।তাও সে কিছু না বলে খুব শান্ত গলায় বললো,
“কলারটা ছাড়ুন!”
“যদি না ছাড়ি?”
মিহির আর কিছু না বলে আর্যর নাক বরাবর একটা ঘু*ষি দিলো।যার ফলে আর্য রাস্তায় পড়ে গেলো।মিহির আর্যর কলার টেনে ধরে দাঁড়া করিয়ে বললো,
“তোদের মতো মানুষের জন্য সমাজের এই অবস্থা।একটা মেয়ের চোখে সমস্যা নিয়ে খোঁটা দিয়ে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ফেলিস!আবার রাস্তাঘাটে সেই মেয়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকিস।আজকে তো তোকে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে!”
মিহির যেই আরেকটা ঘু*ষি দিতে যাবে সেই আরাধ্যা মিহিরের শার্ট পিছন থেকে টেনে ধরলো।মিহির আর্যকে ছেড়ে আরাধ্যার দিকে তাকালো।আরাধ্যা একটা ঢোক গিলে বললো,
“উনাকে ছেড়ে দিন।যতই হোক আমার বান্ধবীর বর।”
মিহির আর্যকে ছেড়ে দিলো।আর্য গাড়িতে উঠতে উঠতে বললো,
“তোদের দুজনকে আমি দেখে নিবো।”
মিহির চিৎকার করে বললো,
“হ্যাঁ দেখে নিস।তোর মতো ছোটখাটো মস্তানকে আমি ভয় পাই নাহ্।”
আর্য গাড়ি চালিয়ে চলে গেলো।
মিহির আরাধ্যার দিকে তাকালো।সে দেখলো আরাধ্যা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে অনেকটা ভয় পেয়ে গেছে।মিহির মুচকি হেসে বললো,
“আপনি আবার ভয়ও পান নাকি মিস.চাশমিশ?”
আরাধ্যা চশমা ঠিক করে বললো,
“আসলে এর আগে তো আপনাকে কখনো রাগতে দেখিনি তাই আপনার এমন রাগ দেখে হঠাৎ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
“আমার চাশমিশের হাত ধরে টানলে তো আমি রাগবোই।এটা তো স্বাভাবিক!”
আরাধ্যা ভ্রু কুচকে বললো,
“আপনার চাশমিশ?”
মিহির আরাধ্যার দিকে কিছুটা মাথা হেলিয়ে বললো,
“তা অন্য কারো নাকি?”
আরাধ্যা কিছু বললো নাহ্।মিহিরের হঠাৎ চোখ পড়লো আরাধ্যার হাতের দিকে।সে দেখলো আর্য হাত চেপে ধরার ফলে আরাধ্যার হাতের কাঁচের চুড়ি ভেঙে হাত কেটে রক্ত বের হচ্ছে।
মিহির হকচকিয়ে বললো,
“আরে আপনার হাত তো কেটে গিয়েছে।আপনি আমার সাথে আসুন।”
“আরে কিছু হবে নাহ্ মিহির বাবু।”
মিহির চোখ রাঙিয়ে বললো,
“কিছু হবে নাকি হবে নাহ্ সেটা আমি বুঝবো।আপনাকে যা বললাম তাই করেন।”
আরাধ্যা কিছু না বলে মিহিরের পিছু পিছু হেঁটে গেলো।মিহির গাড়ি থেকে ফাস্টএইড বক্স বের করে আরাধ্যাকে বললো,
“আচ্ছা আমি যদি আপনার হাত ধরে ব্যান্ডেজ করে দেই আপনি কি মাইন্ড করবেন?”
আরাধ্যা কিছু না বলে মুচকি হাসি দিয়ে তার হাত মিহিরের দিকে এগিয়ে দিলো।মিহিরও মুচকি হেসে আরাধ্যার হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলো।
” আচ্ছা ব্যান্ডেজ করা শেষ এখন গাড়িতে উঠুন।”
আরাধ্যা অবাক হয়ে বললো,
“গাড়িতে উঠবো মানে?আপনার নাকি কি কাজ আছে?”
“আমার এখন একমাত্র কাজ হলো আপনাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া।আমি এরজন্যই আপনাকে অফিস থেকে চলে যেতে বলেছিলাম।ভেবেছিলাম অফিস থেকে বের হয়ে বাইরে আপনাকে পেয়ে যাবো।কিন্তু আপনি যে এতো দূর হেঁটে চলে এসেছেন সেটা তো আর আমি জানিনা।”
“তা আমাকে নিয়ে আপনি ঘুরতে যাবেন কোন দুঃখে?”
“আহা দুঃখ হবে কেনো?সুখে বলেন।আর সেই সুখটা হলো এই যে আপনি আমার পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে গেলেন!”
আরাধ্যা কিছু না বলে মৃদু হাসলো।মিহির ভ্রু জোড়া নাড়াতে নাড়াতে বললো,
“আপনি কি আমাকে লজ্জা পাচ্ছেন নাকি?”
“একটু একটু পাচ্ছি।যখন শুনেছি আপনি আমার বস তখন থেকে।”
“কিন্তু আমি আপনার বস হয়ে নাহ্ মিহির বাবু হয়েই থাকতে চাই।তবে হ্যাঁ চাইলে অন্য কিছুও বানাতে পারেন।”
আরাধ্যা চশমা ঠিক করে বললো,
“অন্য কিছু মানে?”
“সেটা না হয় পরে বলবো।এখন চলুন।”
“কিন্তু আমরা যাবো কোথায়?”
“নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য নেই।যেখানে মন চাইবে সেখানেই যাবো।”
“একটা জিনিস কি জানেন গাড়ি থেকে কিন্তু রিক্সায় ঘোরার মজা আলাদা।”
“আপনি রিক্সায় ঘুরতে চান?এটা আগে বলবেন তো।জাস্ট ওয়েট করেন।”
মিহির আরাধ্যাকে কিছু বলতে না দিয়ে গাড়ি লক করে কাকে যেন কল করলো।মোবাইলে কথা বলা শেষ করে একটা রিক্সা ডাক দিলো।তারপরে রিক্সায় উঠে বললো,
“আপনি কি দাঁড়িয়ে থাকবেন নাকি রিক্সাতে উঠবেন?নাকি লজ্জা লাগছে?”
আরাধ্যা আঙুল দিয়ে ওড়না প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে বললো,
“আপনার সাথে রিক্সায় উঠতে আসলেই লজ্জা লাগছে।”
আরাধ্যার কথা শুনে মিহির জোরে হেসে দিলো।যা দেখে আরাধ্যা মুখ গোমড়া করে ফেললো।মিহির হাসি থামিয়ে বললো,
“আপনি যে এতো লজ্জাবতী আগে তো জানতাম নাহ্!উঠে পড়ুন।ভরসা রাখতে পারেন।ছেলে কিন্তু আমি মন্দ নাহ্।”
মিহিরের কথায় আরাধ্যা খিলখিল করে হেসে দিলো।তারপরে রিক্সায় উঠে বসলো।মিহিরের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আপনি কিন্তু বেশ মজার মানুষ।বাই দ্যা ওয়ে আপনার গাড়ি কি এখানেই থাকবে?”
“ড্রাইভারকে কল করে বলেছি এসে নিয়ে যাবে।”
রিক্সা চলছে তার আপন গতিতে।আরাধ্যা আশেপাশে তাকিয়ে চারিদিক দেখছে।কিন্তু মিহিরের চোখ আরাধ্যার দিকে।আরাধ্যার খোলা চুলগুলো উড়ছে।তা বারবার আরাধ্যার মুখে এসে পড়ছে।আরাধ্যা সেগুলো কানের পাশে গুজে রাখছে।মিহিরের বড্ড ইচ্ছে হচ্ছে আরাধ্যা চুলগুলো একটু ছোঁয়ার।কিন্তু সব ইচ্ছে তো আর পূরণ হয় নাহ্।
আরাধ্যা হঠাৎ মিহিরের দিকে তাকালো।সে দেখলো মিহির একভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে।যা দেখে আরাধ্যা মুচকি হেসে মিহিরের হাতে একটা চিমটি দিলো।
চিমটি দেওয়ার কারণে মিহিরের ধ্যান ভাঙ্গলো।সে হাত বুলাতে বুলাতে বললো,
“আউ!এভাবে চিমটি দিলেন কেনো?”
“মেয়েদের দিকে এভাবে তাকাতে হয় নাহ্।সেটা আপনার জানা নেই।”
“এতো সুন্দরী মেয়ে যদি আমার পাশে বসে থাকে।তাহলে না তাকিয়ে কিভাবে পারি বলেন তো!”
আরাধ্যা খেয়াল করে দেখলো মিহির একদম রিক্সার পাশে বসে আসে।আরাধ্যার শরীরের সাথে একটু টার্চ লাগেনি তার শরীর।আরাধ্যা মিহিরের হাত টেনে তার কিছুটা কাছে এনে বললো,
“আরে আপনি এভাবে বসেছেন কেনো?মোড় ঘুরলেই তো পড়ে যাবেন রিক্সা দিয়ে!”
“না মানে আপনার শরীরের সাথে টার্চ লাগলে যদি আপনার অস্বস্তি হয় তাই একটু দূরে বসে ছিলাম।”
“মিহির বাবু আপনি আসলেই পাগল!রিক্সায় পাশাপাশি বসলে টার্চ লাগতেই পারে।এটা সিম্পল ব্যাপার।”
“কিন্তু রিক্সায় উঠার সময় তো বলতে ছিলেন আপনার লজ্জা লাগে।”
“আরে এর আগে তো আমি কোনো ছেলের সাথে রিক্সাতে উঠিনি তাই একটু লজ্জা লাগতে ছিলো।তবে এখন ঠিক হয়ে গেছে।”
“আমি মনে হয় হাজার হাজার মেয়েদের সাথে রিক্সায় উঠেছি!আচ্ছা আপনি এই কথাটা বলে কি এটা বোঝানোর চেষ্টা করলেন নাকি?”
আরাধ্যা মুচকি হেসে বললো,
“উঠতেও পারেন ছেলেদের তো বিশ্বাস নেই।”
মিহির মুখ গোমড়া করে বললো,
“দেখুন আমিও কিন্তু ফাস্ট টাইম কোনো মেয়ের সাথে রিক্সায় উঠেছি।আর সেটা আপনি।”
মিহিরকে মুখ গোমড়া করে থাকতে দেখে আরাধ্যা জোরে হেসে দিলো।আরাধ্যা থামিয়ে বললো,
“আমি তো মজা করেছি।তবে হ্যাঁ মিহির বাবু।আপনাকে কিন্তু রাগ করলে অনেক কিউট লাগে।”
মিহির আরাধ্যার কথা শুনে হেসে দিলো।
#চলবে……………………