রৌদ্র মেঘের আলাপণ পর্ব – ০৪

0
622

#রৌদ্র মেঘের আলাপণ
#পর্ব-৪
#WriterঃMousumi Akter

নিজের স্বামির খু*নের দায় যখন নিজের উপর দেওয়া হয় তখন তার থেকে তীব্র যন্ত্রণা পৃথিবীর কোথাও নেই।পৃথিবীর সব থেকে আপণ আর ভালবাসার মানুষ একটা মেয়ের কাছে তার স্বামি ই হয়।আর সেই ভালবাসার মানুষের খু*নের দায় যখন নিজের উপর দেওয়া হয় তখন যন্ত্রণা গুলো যেনো আরো তীব্র হতে থাকে।প্রিয় মানুষ টা চলে গিয়েছে ওপারে তাকে ছেড়ে থাকা টা ভীষণ যন্ত্রণার।যে যন্ত্রণা দিনের আলো থেকে রাতের আধারে যেনো আরো প্রগড় হতে থাকে।বাকি জীবন তাকে ছাড়া কাটিয়ে দিতে হবে, বাকি জীবন একাই পথ চলতে হবে প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে তার ক্ষত আরো দগ্ধ করে হৃদয় কে।মেঘের উপর তার শ্বাশুড়ির চাপিয়ে দেওয়া দায় কি সারাজীবন ই থাকবে।মেঘ যদি পারতো নিজের জীবন দিয়ে মাহিম কে বাঁচাতো।মেঘের প্রাণের থেকে প্রিয় ছিলো মাহিম।তাকে ছাড়া নিঃস্ব জীবনে প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছে মেঘ। এমন অকাল মৃত্যু কেনো হয় একটা মানুষের। যে মৃত্যুতে বেঁচে থেকেও মরে যায় আরেক টি প্রাণ।প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা এতটাই তীব্র যে যন্ত্রণায় মানুষ নিজের মৃত্যু কামনা করতে দুবার ভাবে না।রঙিন জীবন টা ঢেকে যায় আধারে।

মেঘ কাঁদছে ভীষণ কাঁদছে।কাউকে বোঝাতে পারছে না সে নির্দোষ।নির্দোষ অথচ প্রমাণ করার মতো কোনো প্রমান নেই মেঘের কাছে।

–মেঘের বাবাকে মেঘের শ্বাশুড়ি ফোন দিয়ে জানালো আমার বাড়ি থেকে নিয়ে জান আপনার দুঃচরিত্রা মেয়েকে।

–মেঘের বাবা অবাক হয়ে বললো,কেনো বিয়াইন কি করেছে মেঘ।

–আর কি কি করলে খুশি হবেন আপনি বলতে পারেন।নিজের চরিত্রহীনা মেয়েকে আমার ছেলের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে আমার ছেলেকে খেয়েছেন আপনারা।এখন আমার মেয়ের জন্য ঠিক হওয়া পাত্রের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করেছে আপনার মেয়ে।ছিঃছি এতই যদি দরকার ছিলো বাইরে কারো সাথে করতো আমরা মেনে নিতাম।আমার মেয়ের সাথেই এমন করতে হলো।আমরা সমাজে মুখ দেখবো কি করে।

–বিয়াইন আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে নাতো?

–কোনো ভুল হচ্ছে না।আমরা প্রমান সহ পেয়েছি।আমার মেয়ের সাথে ঠিক হওয়া পাত্র আপনার মেয়েকে ফোন করে অসভ্য কথা বলছিলো।আপনাদের রক্ত ই আসলে খারাপ।জীবনে যদি কোনো পাপ করি তাহলে সেটা হলো আপনাদের সাথে আত্মীয়তা করে।আমার ছেলের জীবন গিয়েছে আপনার মেয়ের জন্য।

–আপনি মেঘের কাছে ফোন টা দিন তো।

–ক্ষীপ্ত নয়নে মেঘের শ্বাশুড়ি মেঘের দিকে ফোন এগিয়ে দিলো।মেঘ ভয়ে ভয়ে ফোন টা হাতে নিয়ে মেঘ হ্যালো বলতেই মেঘের বাবা বলে উঠলো,’আমাদের আর কত জ্বালাবে তুমি মেঘ।আমাদের মুখ পোড়াতে লজ্জা করলো না তোমার।যেদিকে মন চাই চলে যাও আমার বাড়ির ত্রিসীমানায় তোমাকে দেখতে চাই না মেঘ।তোমার জন্য তোমার মা কে হারিয়েছি।বিয়ের আগে একবার আমার মান সম্মান নষ্ট করেছো তুমি।তোমার মুখ দেখার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার নেই।’

–মেঘ কিছু বলার আগেই তার বাবা ফোন ট কেটে দিলো।

–মেঘের শ্বাশুড়ি বললো,শোনো মাহির বাবা আজ যদি তুমি ওই মেয়ের পক্ষে কথা বলো তাহলে আমি আর মাহি এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।ওই মেয়েকে বেরোতে বলো আমার বাড়ি থেকে।

–মেঘ শ্বশুর-শ্বাশুড়ির হাত পা ধরে বললো,
মা, বাবা আমি জানিনা উনি কেনো ফোন দিয়েছেন।আপনারা প্রয়োজনে আমার ফোন নিয়ে নিন।আমাকে প্রমাণ করার সুযোগ দিন আমি কিছুই করি নি।তবুও আমাকে তাড়াবেন না।

–মাহি কেঁদে বললো,মা এই বাড়িতে ও থাকলে আমি সুইসাইড করবো।

–মেঘের শ্বাশুড়ি বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে দিলো মেঘ কে।

–এক কাপড়ে নিজের স্বামির একটা ছবি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো মেঘ।যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই মেঘের।কোথায় যাবে মেঘ তাও জানেনা।অজানা গন্তব্য হেঁটে চলেছে মেঘ।এ শহরের কিছুই সে চিনে না।সন্ধ্যার পরে একটা নিষিদ্ধ গলির ভেতরের পথে প্রবেশ করে মেঘ।মেঘ জানেই না এ রাস্তা দিয়ে কারা যাতায়াত করে।এ শহরের কিছুই চিনেনা মেঘ।রাস্তার পাশে বাইকে কয়েক টা ছেলে বসে সিগারেট টানছে।মেঘ কে দেখেই বললো কি মামুনি আজ নতুন নাকি?রেট কত?তোমাকে দেখতে হেব্বি। অন্যদের থেকে আমি বেশী দিবো।মেঘের কোনো খেয়াল নেই কে তাকে কি বলছে।ছেলে গুলো আস্তে করে বাইক থেকে নেমে এসে মেঘ কে ঘিরে দাঁড়িয়ে বললো কি ব্যাপার ফুলটুসি এদিকে কোথায় যাওয়া হচ্ছে।তোমাকে নতুন করে খদ্দের ধরতে হবে না আমাদের পার্মানেন্ট কাস্টমার হয়ে যাও।রানী করে রাখবো।

–মেঘ তাদের কথা শুনে ভীষণ অবাক হয়ে বললো,আপনারা এসব কি বলছেন?দেখুন আমি ওই ধরনের মেয়ে নই।

–তাহলে কোন ধরনের মেয়ে সোনা।এসেছো নিষিদ্ধ পল্লির সামনে আবার বলছো তুমি ও ধরনের মেয়ে নও।

মেঘ ভয়ে কাঁপছে।এই সন্ধ্যায় এই নির্জন রাস্তায় কে বাঁচাবে মেঘ কে।

–ছেলে গুলো মেঘের হাত স্পর্শ করতে যেতেই পেছন থেকে দুজন ছেলে তাদের আটকে দিয়ে বললো,উনাকে স্পর্শ করলে ঝামেলা হয়ে যাবে।উনি আমাদের কেনা, উনাকে আমাদের বস কিনে নিয়েছেন।আপনাদের সাথে ঝামেলা করতে চাই না আমরা।বস কিন্তু সব দেখছেন।কোনো রকম সিনক্রিয়েট করতে চাইছেন না বস বরং আপনাদের সাহায্য চাইছি পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উনাকে আমাদের বসের আস্তানায় পৌছে দিতে সাহায্য করুন।হয় টাকা নিন নাহলে বস এক্ষুনি পুলিশ পাঠাবে আপনাদের ধরতে।আপনারা ম্যাডামের সাথে যে বাজে ব্যবহার করেছেন বস তার সবটায় দেখেছেন।টাকা দেখলে কাঠের পুতুল ও হা করে সেখানে রক্ত মাংসে মানুষ তো হা করেই।ঝামেলায় না জড়িয়ে মেঘ কে তারা কয়েক জন একটা প্রাইভেট কারে মুখ বেঁধে তুলে দিলো।মেঘ লাফালাফি করছিলো বলে তারা নাকে কিছু একটা চেপে ধরে তারপর বেঁহুশ হয়ে যায় মেঘ।মেঘ বুঝতেই পারে না তার জীবনে আসলে কি ঘটতে চলেছে।

–জ্ঞান ফেরার পর মেঘ দেখতে পায় সে একটা বেডে সুয়ে আছে,ঘর টা মনে হচ্ছে একটা হোটেলের।বেড থেকে উঠে দরজা খোলার চেষ্টা করতেই আরো বেশী চমকে যায় মেঘ।তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রৌদ্র, হাতে পিস্তল।মেঘের মাথায় ঠেকিয়ে বলে পালানোর চেষ্টা করলে একটা গুলিতে মাথা উড়িয়ে দিবো মেঘ।জীবনে অনেক পালিয়ে বেড়িয়েছো।পালাতে পালাতে শেষ করেছো আমার জীবন।এখন আর পালানোর চেষ্টা করো না মেঘ।

–মেঘ ভীষণ অবাক হয়ে যায়।এখানে রৌদ্র কিভাবে?তার মানে সেই তাকে নিয়ে এসছে।

–মেঘ এবার অগ্নিচোখে বললো,কি চান আপনি আমার কাছে?আর আমাকে এভাবে তুলে আনার মানে কি?কি চান কি আমার কাছে আমার শরীর চান।তাহলে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?

–সেটা চাইলে সেই তুমি যখন নাবালক ছিলে তখন ই পারতাম মেঘ।কখনো কি ছুয়েছি তোমাকে।কতবার আমার মেসে গিয়েছো ফুল আনতে আমক ছুয়েছি তোমায়।তোমার শরীর দিয়ে কি হবে আমার।

–তাহলে কি চান কি আপনি?

–সাক্ষর! তোমার একটা সাক্ষর চাই আমার।।

–কিসের সাক্ষর।

–যে সাক্ষর তোমাকে জীবন আমার জীবনে জুড়ে যাবে।

–কি চান কি আপনি?আর কত করবেন।আমাকে একবার বাবার বাড়ি ছাড়া করলেন,এখন শ্বশুর বাড়ি ছাড়া করলেন।আমাকে চরিত্রহীনা কেনো বানালেন।সবাই আমাকে ভুল বুঝে তাড়িয়ে দিয়েছে?

–আমি কি তাড়িয়ে দিয়েছি মেঘ…

চলবে,,,