শ্যামসুন্দর স্বপ্ন পর্ব-০৫

0
369

#শ্যামসুন্দর_স্বপ্ন
#পর্ব_৫
#নুশরাত_জাহান_মিষ্টি

মেহরুন বেগম কাগজটি নিজের কাছে রেখে নুরকে বাহিরে বের করে দিলো। নুর না বুঝতে পেরে হতভম্ব হয়ে গেলো।

নুর এবং রাইমা ঘরের কাজে ব্যস্ত। রাইমা আপনমনে কাজ করছিলো। নুর বেশ কয়েকবার রাইমার দিকে তাকালো। এক পর্যায়ে নিচু কন্ঠে বললো,“ভাবী কিছু কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?”
রাইমা নুরের মুখের পানে তাকায়। হাসি মুখে জবাব দিলো,“হ্যাঁ বলো।”
নুর বেশ আমতা আমতা করে বললো,“এ বাড়ির বড় ছেলে কে? ”
রাইমা ঘাবড়ে গেলো। রাইমার মুখে স্পষ্ট বিষ্ময় দেখতে পেলো নুর। রাইমা নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বললো,“অযথা কথা না বলে কাজ করো।”
নুর মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। নুর এ বাড়িতে নতুন এসেছে, তাই বেশি কিছু বলার সাহস দেখালো না। তবে মনের মধ্যে কৌতুহল রয়েই গেলো।

সন্ধ্যা নামার কিছু মূহুর্ত পূর্বে দেলোয়ার ফরাজি বাসায় ফিরে এলেন। বাসায় ফিরে বেশ কিছুক্ষন ঘরের দরজা বন্ধ করে মেহরুন বেগমের সাথে কথা বললেন।

মেহরুন বেগম দরজা খুলে বের হয়ে রাইমাকে ভিতরে ডাকলেন। রাইমা কিছুটা অবাক হলো। সচরাচর এ সময়ে তার ডাক পড়ে না। আজ পড়লো কেন? কে জানে?
রাইমা মেহরুন বেগমের ঘরে প্রবেশ করতেই দেলোয়ার ফরাজি বললেন,“বড় বৌমার সাথে তোমার কিসের সম্পর্ক? তার সন্ধান কোথায় পেলে তুমি?”
রাইমা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো। রাইমা মুখ দেখে স্পষ্ট সে কিছু বুঝতে পারছে না।
দেলোয়ার ফরাজি সকালে পাওয়া কাগজটি রাইমার হাতে তুলে দিলো। রাইমা কাগজের লেখা দেখে নিজেও কিছুটা ভয় পেলো। আমতা আমতা করে বললো,“এটা তো… ”
“এটা বড় বৌমার হাতের লেখা। এবার বলো তুমি এটা কোথায় পেলে?”
“আমি?”
“হ্যাঁ তুমি। তুমি সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এটা মেহরুন ঘরে পেয়েছে।”

রাইমা পূর্বের চেয়ে দ্বিগুন হতভম্ব হয়ে গেলো। তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। রাইমা বেশ ভয়ে ভয়ে বললো,“বিশ্বাস করুন কাকা আমি এ ব্যপারে কিছু জানি না।”
দেলোয়ার ফরাজি বেশ বিচক্ষণ মানুষ। তার ধারনা ছিলো রাইমার কাছ থেকে এমন একটি উত্তর পাওয়া যাবে।
বেশ গম্ভীর কন্ঠে দেলোয়ার ফরাজি বললেন,“যদি কিছু জেনে থাকো আমাকে বলে দাও। সাহেদের কাছে খবরটি গেলে, এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।”

দেলোয়ার ফরাজি চোখের ইশারায় রাইমাকে চলে যেতো বললো। রাইমা চলে যেতেই মেহরুন বেগম বললেন,“আপনি কি সাহেদকে বলতে চাইছো?”
“তাকে জানানো উচিত নয় কি?”
মেহরুন বেগম কিছুটা ভয়মিশ্রিত কন্ঠে বললেন,“আপনি তো জানেন আপনার ভাই কেমন? দয়া করে তাকে না জানানোর অনুরোধ রইলো।”

দেলোয়ার ফরাজি মেহরুন বেগমের মুখের পাণে তাকালো। কন্ঠ স্বাভাবিক করে বললো,“বেশ জানাবো না।”
মেহেরুন বেগম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।

সুফিয়ান রাত আটটা নাগাদ বাড়ি ফিরে এলো। বাড়ি ফিরে হন্তদন্ত হয়ে নিজের ঘরে গেলো। নুর তখন ঘরেই ছিলো। সুফিয়ান গিয়ে সোজা গালে একটা চর বসিয়ে দেয়। নুর অবাক চাহনি দিলো সুফিয়ানের মুখশ্রীতে। সুফিয়ান খুব রাগ নিয়ে বললো,“তোমার জন্য আমি কোথাও মুখ দেখাতে পাচ্ছি না। বিদেশ থেকে পড়ালেখা শেষ করে গ্রামে এসেছিলাম, একমাত্র গ্রামের মানুষদের সুচিকিৎসা দিতে। যারা এতদিন আমার দিকে সম্মানের চোখে তাকাতো, তারা এখন আমায় ঘৃণার চোখে দেখে।”
নুর মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সুফিয়ান পুনরায় বললো,“জানো আজ এক মেয়ে রোগী আমার কাছে চিকিৎসা নিতে চাইছিলো না। কেননা সে ভয় পাচ্ছিলো, আমি যদি তার সাথে কিছু করি।”

নুর বলার মতো ভাষা হারিয়ে ফেললো। সুফিয়ান একনাগাড়ে বলেই চললো,“তুমি বোঝো এটা আমার জন্য কতটা লজ্জার? তোমার কথা সত্যি বলে মেনে নিলে, দোষের জন্য তুমি নির্দোষ ব্যক্তিকে ফাঁসাতে। একজনের দোষে অন্যকে অপরাধী বানাবে?”
নুরকে মাথানত করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সুফিয়ান প্রচন্ড রাগ নিয়ে বললো,“লজ্জা করে না এমন কাজ করতে যার জন্য মাথানত করে দাঁড়াতে হয়। লজ্জা করে না নিজের ব্যক্তিত্বকে ছোট করতে।”
একটু থেমে পুনরায় বললো,“কাকে কি বলছি? তোমার আদো কোন ব্যক্তিত্ব আছে?”

নুর নিজের আঁখিযুগল বন্ধ করে ফেললো। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,“ব্যক্তিত্ব তার থাকে যার কাছে তার জীবনটা বেঁচে থাকে। আমার জীবন তো হারিয়ে গেছে অন্ধকারের ভিরে।”
সুফিয়ান কিছু বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো,“মানে?”
“যে মানুষটা আমার নয় তাকে আমার যন্ত্রনা কিভাবে বোঝাবো?”
“কি বলতে চাইছো তুমি?”
“আপনার ভাই কতটা জঘন্য মানুষ সেটা আপনি যদি বুঝতেন। তবে আজ আপনাকে আমার ব্যক্তিত্ব খুঁজতে হতো না।”

সুফিয়ান নুরে মুখের পাণে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। নুর পুনরায় বললো,“সত্যি কখনো লুকানো থাকে না। সময় হলে এ গ্রামের সবাই সত্যিটা জেনে যাবে। আপনার হারানো সম্মান আপনি পুনরায় ফিরে পাবেন। চিন্তা করবেন না।”
সুফিয়ান আপনমনে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বসে পড়লো। নুর কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলো। নুরের চোখ দিয়ে অশ্রুকোনা গড়িয়ে পড়ছিলো। সুফিয়ান একমনে নুরের সেই গড়িয়ে পড়া চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। মনেমনে বললো,“আমার ভাই খুব খারাপ কাজ করেছে কি তোমার সাথে? যার মূল্য আমাকে এভাবে দিতে হলো।”
সুফিয়ানকে একমনে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নুর বললো,“মায়া খুব খারাপ জিনিস। এভাবে তাকিয়ে থাকবেন না মায়ায় পড়ে যাবেন। শেষে বের হতে পারবেন না।”
সুফিয়ান কিছু না বলে ছাদে চলে গেলো। নুর চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পড়লো। মনেমনে ভাবছে,“সত্যি কি আমার কোন ব্যক্তিত্ব নেই? ভুল করেছি একজনার জন্য অন্যজনকে বাঁধনে জড়িয়ে?”

ঘরের দরজা খোলা রেখে নুর ঘুমিয়ে পড়লো। সুফিয়ান ফিরে আসবে এই ভাবনাতে বোধহয় দরজা আটকানো হয়নি। নুরের ঘরের পাশ দিয়ে সুমন ফরাজি যাচ্ছিলো। দরজা খোলা দেখে এক পা এক পা করে ভিতরে প্রবেশ করলো। আশেপাশে সুফিয়ানকে দেখতে না পেয়ে নুরের খুব কাছে চলে গেলো।
সুমন ফরাজি নুরের খুব কাছাকাছি চলে এলো। নুর গভীর ঘুমে মগ্ন। সুমন ফরাজি নুরের কাছে গিয়ে যেই নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিবে তখনি পিছন থেকে সুফিয়ান হাতটা ধরে নিলো। সুমন চমকে পিছনে ফিরে সুফিয়ানকে দেখতে পেয়ে ঘাবড়ে গেলো।
সুফিয়ান স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করলো,“তুই এ ঘরে কি করছিস?”
“সুফি আসলে আমি…..।”
“কি?”
“আমি তুই ঘরে আছিস কিনা সেটা দেখতে এসেছিলাম।”
“সে ভালো কথা। আমাকে খুঁজতে আসছিলো তো ওর দিকে হাত বাড়াচ্ছিলি কেন?”

“না মানে।”
“কি?”
“দেখলাম তোর বউটা কত সুন্দর? তুই খুব ভালো জিনিসে হাত দিয়েছিস, গরিব হলে কি হবে জিনিসটা দেখতে হেব্বি?”

সুফিয়ান নিজের রাগকে কনট্রল করে বললো,“নারীকে নারী বলতে শেখ। জিনিস এটা কোন ধরনের শব্দ? আর হ্যাঁ তোর সাথে আমার সখ্যতা কোনকালেই ছিলো না, আজও নেই। তাই তুই আমাকে খুঁজতে এসেছিস এটা ভাবতে আমার কষ্ট হচ্ছে। চুপচাপ নিজের ঘরে যা। দ্বিতীয়বার জানো কখনো তোকে এ ঘরে না দেখি।”
সুমন অপমানিত হয়ে চলে গেলো। সুফিয়ান নুরের মুখের পাণে তাকিয়ে মনেমনে বললো,“তুমি সত্যি বলেছো সেটা আজ প্রমাণ হয়ে গেলো।”

পরক্ষনেই বলে উঠলো,“তুমি সত্যি খুব সুন্দর।”
সুফিয়ানের কি হলো জানা নেই? হঠাৎ নুরের কপালে একটা ভালোবাসার পরশ দিয়ে দিলো। না এ পরশে রাগ নেই, আছে ভালোবাসা। সুফিয়ানের মন বলে উঠলো,“মেয়েটাকে কি আমার ভালো লাগতে শুরু করলো?”
সুফিয়ান নিজের মাথা নিজে চাপড়ে নুরের পাশে শুয়ে পড়লো।

সুমন প্রচন্ড রাগ নিয়ে বাবা, মার ঘরে বসে আছে। কাঠকাঠ কন্ঠে বললো,“তোমার ভাই গ্রামের প্রধান, তার ছেলে সকলের চোখের মনি। তুমি, তোমার ছেলে তাহলে কি?”
রোকসানা বেগম ছেলের কথায় তাল মিলিয়ে বললেন,“তুই আর তোর বাপ তো দেলোয়ার ফরাজির চাকর। চাকরের মতো করেই তো রাখছে। সেদিন তোর বাপকে বলেছিলাম ব্যবসায় নিজের নামটাও যোগ করতে কিন্তু করেনি৷ কি বলেছিলো ভাইয়া আমার সাথে অবিচার করবে না? তেনার তো ভাই প্রেম। ভাই প্রেম ছাড়া তেনার চলে না।(ব্যঙ্গ করে)”
সাহেদ ফরাজি বিরক্ত হয়ে বললো,“আহ থামবে।”
“কেন থামবে? তোমার ভাই প্রেমের জন্য আজ এ সংসারে আমাদের কোন অধিকার নাই। তোমার ভাতিজা আমার ছেলেরে অপমান করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার সাহস পেয়েছে। এই তোমার ভালো মানুষির জন্য।”
“চুপ করবে তুমি। তোমার ছেলে তো খুব ভালো কাজ করতে সুফির ঘরে গিয়েছিলো। নির্ঘাত সুফির বউয়ের দিকে কু-নজর দিতে গেছিলো। আমাকে না বলে তোমার ছেলেকে বোঝাও, এটা সুফিয়ান অন্যকেউ নয়। সুফিয়ান নিজের বউয়ের দিকে হাত বাড়ানোর সুযোগ দিবে না তাকে। এই কথাটা তোমার ছেলে বুঝলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যা। বাকি ভাইয়ার বিষয়টা, সেটা আমি দেখছি।”

সুমন রাগ নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। রোকসানা বেগম বিলাপের সুরে বললেন,“আমার ছেলেটা রাগ করে চলে গেলো। তুমি বাবা হয়ে ছেলের মন বোঝো না।”

সাহেদ ফরাজি বিরক্তিমাখা চাহনি দিয়ে চলে গেলেন। রোকসানা বেগম ঘরে বসে বিলাপ করতে লাগলেন।

_____
সামিয়াকে হন্ত হয়ে খুঁজছে রাজ। পুরো পুলিশ টিম মেয়েটাকে খুঁজতে ব্যর্থ। কথায় বলে, “যে নিজে থেকে হারিয়ে যায় তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়।” সামিয়া নিজে থেকে হারিয়ে গেছে তাই তাকে খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়ে। রাজের উপর চাপ বাড়ছে, উপর থেকে কেস সমাধানের জন্য বেশ চাপ দিচ্ছে। প্রথমে তো সামিয়া একজন মেয়ে, দ্বিতীয়ত গর্ভবতী। চাপটা বেশ বড়।

সামিয়ার বাসার সামনের দোকানে একটা সিসিটিভি লাগানো ছিলো। যার ফুটেজ দেখে রাজ নিশ্চিত হলো সামিয়া নিজে থেকে চলে গেছে। কেননা ফুটেজে সামিয়াকে একা একা বের হতে দেখা যাচ্ছে। রাজ সামিয়ার জন্য একজন পাহারাদার রেখেছিলো। সামিয়াকে বলেছিলো যেখানেই যাক না কেন তাকে নিয়ে যেতে। কিন্তু সামিয়া তাকে না বলে চলে গেলো। কেন?

রাজ যখন সামিয়াকে খুঁজতে ব্যস্ত ঠিক তখন রাজের ফোনে টুন করে একটা শব্দ হলো। রাজ ফোনের দিকে দৃষ্টি রাখলো। অপরিচিত একাউন্ট থেকে মেসেজ আসায় চেক করতে ভিতরে ক্লিক করলো। ভিতরে একটি ভিডিও সেন্ট করা। রাজ ভিডিও চালু করতেই চোখ ছানাবড়া দিয়ে গেলো। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সালেহা রফিকের চায়ে কোন একটা ঔষধ মিশিয়ে দিচ্ছে। রফিক চা খাওয়ার কিছু মূহুর্তের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো। সালেহা নিজ হাতে বড় ছুরি দিয়ে রফিকের গলা কেটে ফেলে। রাজ কয়েক মূহুর্তের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলো। ভিডিও শেষ করতে না করতে একটা মেসেজ আসলো, “পুরো খেলাটা এভাবেই সাজানো। বাকিটা তুমি বুঝে নিও। তুমি হয়তো ভাবতে পারো আমি তোমাকে এটা কেন পাঠালাম? খুব সহজ উত্তর। এত সহজে তুমি আমার কাছে আসতে পারবে না। তুমি যখন আমার কাছে আসবে তখন পুরো খেলাটা শেষ হয়ে যাবে। তবে তুমি বিশ্বাস করবো কিনা জানি না, আমি চাই তুমি আমার কাছে আসো। তুমি আমাকে খেলা শেষ হওয়ার পূর্বেই ধরে ফেলো। জানি পারবে না তবুও মন থেকে চাইছি তুমি আমার কাছে নিজ থেকে আসো। তাই তোমার জন্য একটা ছোট্ট ক্লু সামিয়া সালেহার খুনিকে মারতে গেছে। পারলে আটকাও।”
একাউন্ড ডিজেবল। বারবার চেষ্টা করেও রাজ একাউন্টে প্রবেশ করতে পারছে না। রাজের মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছি। ক্লু অনুযায়ী এতটুকু পরিস্কার খুনি নিজ হাতে কাউকে খুন করছে না। সে যাদের মারতে চায় তাদের দ্বারাই তাদের খুন করাচ্ছে।

রাজের আপনমনে বিরবির করে বলে উঠলো,“খুনি বেশ চতুর। তবে সে যেই হোক তার কাছে আগে পৌঁছাব।”

চলবে,
(ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। লিখনি কেমন হচ্ছে জানান)