#সেদিন বৃষ্টি হবে
#পর্ব_১০
#সামিয়া_মেহেরিন
হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে থাকা ব্যক্তিটি হলো উদয়ের যমজ ভাই, উজান। পেশায় সে ডাক্তার। আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে সিরাজগঞ্জে তাদের গ্রামে গিয়েছিল মেডিক্যাল ক্যাম্পিংয়ের জন্য। সেখানে বিভা নামের মেয়েটির সাদে তার পরিচয়। আর সেখানেই তাদের প্রণয়ের শুরু।
ক্যাম্পিং শেষে উজান ঢাকায় আসার সময় তার গাড়ি এক্সিডেন্ট করে। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এক বছর ধরে সে কোমায় ছিল। গতকাল রাতে তার জ্ঞান ফিরেছে। হাসপাতালের ডক্টর উদয়কে ফোন করে তা জানায়।
গ্রামে যখন বিভা উদয়কে দেখেছিল তখন ভেবেছিল সে উদয়কে উজান ভেবেছিল। উজানের এক্সিডেন্টের কথা তখনো সে জানতো না। উদয় তার পরিচয় জানায় বিভাকে। বিভা উজানের কথা জিজ্ঞাসা করলে উজানের এক্সিডেন্টের কথা বলে উদয়।
বিভার আকুতি মিনতিতে বাধ্য হয়ে উদয় বিভাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। এখানে আসার পর বিভা দিনের অর্ধেক সময় বলতে গেলে হাসপাতালেই উজানের সাথে কাটিয়েছে।
আর এই সব কথা তূর্ণা জেনেছে নওরিনের মুখ থেকে। নওরিন হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিল বিভাকে নিয়ে উদয় আর তূর্ণার মাঝে দণ্ড চলছে। সব কথা শুনে তূর্ণা অবাক। সাথে লজ্জিতও। সে কিনা বিভাকে নিয়ে উদয়কে সন্দেহ করলো। আর কত কথা শুনিয়ে দিয়েছে সে উদয়কে। তূর্ণা উদয়ের দিকে একপলক তাকালো। চেহারায় রাগের ছাপ নেই ঠিক, কিন্তু মনের আঘাতটা তো কম পায়নি।
নওরিন তূর্ণা, উদয় আর বিভার উপস্থিতিতেই উজানকে জিজ্ঞাসা করল সেদিন এক্সিডেন্ট কীভাবে হয়েছিল।
উজান আর আধো স্পষ্ট, আধো অস্পষ্ট গলায় যা বলে তার সারাংশ এই যে- সেদিন নিজের টিম থেকে আলাদা হয়ে উজান নিজের গাড়ি নিজেই ড্রাইভ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল। রাত তখন বোধহয় দেড়টার কাছাকাছি। উজার টাঙ্গাইলের রাস্তায় একটা চায়ের দোকানের সামনে গাড়ি দাঁড় করায়। গভীর রাত হওয়ায় চোখে ঘুমও ধরা দিচ্ছিল। ঘুম কাটাতে এক কাপ চা খেতে যায় উজান। চা খাওয়া শেষ করতে না করতে ঝুম বৃষ্টি নামে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গাড়ির দিকে পা বাড়ায় উজান। ঠিক সেই মুহূর্তেই একটা গাড়ি এসে তাকে চা’পা দিয়ে দেয়। উজানের যতটুকু মনে পড়ে সেই গাড়ির ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে বসা ব্যক্তিটি গাড়ি থেকে নেমে এসে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। আর কিছু তার মনে নেই।
তূর্ণা তার বর্ণনা শুনে শিউরে ওঠে। অতীতের কিছু অস্পষ্ট ঘটনা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। অতীতের ঘটনার সাথে উজানের বলা ঘটনা কিছুটা মিলে গেল না?
উদয় তূর্ণাকে দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। বিভা, নওরিন ওরা আসেনি। ওরা উজানের সাথে থাকবে বলেছে।
উদয় ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি ড্রাইভ করছে। আর তার পাশের সিটে বসা তূর্ণা বারবার শিউরে উঠছে। তার অস্থিরতা সময়ের সাথে সাথে বেড়েই যাচ্ছে। তূর্ণার অস্থিরতা চোখ এড়ায়নি উদয়ের। মনো চাপা রাগে নিজ থেকে কিছু বলছেও না।
সহসা বেজে ওঠে উদয়ের ফোন। উদয় গাড়ি সাইট করে ফোন রিসিভ করে। ফোনে কথা বলা শেষে তূর্ণাকে বলে,
“তূর্ণা, আমার দরকারি কাজ আছে অফিসে যেতে হবে। তোমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসতে আসতে দেরি হয়ে যাবে। আমার সাথেই চলো তবে।”
তূর্ণা উদয়ের কথা কি বুঝলো কে জানে। তড়িঘড়ি করে বলে,
“আমি বাসায় যাবো। আমাকে বাসায় নিয়ে চলুন।”
উদয় তূর্ণার দিকে ফিরে বলে
“কিন্তু তূর্ণা, আমার অফিসে যাওয়া জরুরি।”
তূর্ণার আবারো একই কথা।
“আমি বাসায় যাবো। নিয়ে চলুন আমায়।”
উদয় কি যেন ভেবে বলে,
“আচ্ছা, এক কাজ করো। তুষারের কাছে শুনেছিলাম তুমি গাড়ি ড্রাইভ করতে পারো। তুমি গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে যাও। আমি অন্য কোনো ভাবে অফিসে যাচ্ছি।”
তূর্ণা লাফিয়ে উঠে বলে,
“না আমি ড্রাইভ করব না। আমি আর কোনোদিনো ড্রাইভ করব না। আমি ড্রাইভ করব না কিছুতেই।”
তূর্ণার অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখে উদয় শান্ত গলায় বলে,
“আচ্ছা বেশ, ড্রাইভ করতে হবে না তোমাকে। তোমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়েই আমি অফিসে যাবো। এবার শান্ত হও।”
______________
উদয় তূর্ণাকে বাসায় নামিয়ে দিয়েই অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। বাসায় আসার পর থেকেই তূর্ণা কেমন অস্থির হয়ে উঠেছে। কেমন অন্যমনস্ক দেখায় তাকে। আর এর কোনোটাই চোখ এড়ায়নি ঊর্মিলা বেগমের। দুপুরের রান্না শেষ করে তিনি তূর্ণার ঘরে যান। তূর্ণা তখন অন্যমনস্ক হয়ে বিছানার কোণায় বসে ছিল।
ঊর্মিলা বেগম তূর্ণার পাশে বসে তূর্ণার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন,
“কি হয়েছে মা? এমন দেখাচ্ছে কেন তোমাকে?”
তূর্ণা ঊর্মিলা বেগমের দিকে ফিরে তাকায়। কিন্তু মুখে কিছু বলে না। ঊর্মিলা বেগম নিজেই বলেন,
“উজানের কথা ভেবে এমন করছো? তোমার শ্বশুর মশাই এইজন্যই আমাকে বারণ করেছিল তোমাকে কিছু বলতে। আমরা তো জানি এক্সিডেন্ট, খু’ন-খারাপি এসবের কথা তুমি সহ্য করতে পারো না। উজানের এক্সিডেন্টের কথা জানলে তুমি কষ্ট পেতে, অস্বস্তিতে পড়ে যেতে।”
তূর্ণা এবার ঊর্মিলা বেগমকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে দেয়। ঊর্মিলা বেগম থতমত খেয়ে তূর্ণার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে।
তূর্ণা কান্নারত অবস্থাতে বলে ওঠে,
“আমায় ক্ষমা করে দিন, মা। সবকিছু হয়েছে আমার জন্য। আমিই সবকিছুর জন্য দায়ী। আমার জন্যই আপনাদের সবাইকে কষ্ট পেতে হয়েছে। উজান ভাইকে কষ্ট করতে হয়েছে।”
ফুঁপিয়ে ওঠে তূর্ণা। ঊর্মিলা বেগম অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন।
“কি বলছ তুমি এইসব? তোমার জন্য কিন উজান কষ্ট পাবে?”
তূর্ণা ফুঁপাতে ফুঁপাতে বলে,
“ওই এক্সিডেন্ট, ওটা আমার জন্য হয়েছে। আমিই ওই গাড়ি চালাচ্ছিলাম।”
একবছর আগে সেই রাতে তুষার আর তূর্ণা তাদের মামাবাড়ির থেকে ফিরছিল। তুষার গাড়ি ড্রাইভ করছিল। টাঙ্গাইলের কাছাকাছি একটা জায়গায় এসে তূর্ণা জেদ ধরে সে ড্রাইভ করবে। তখন সবে ড্রাইভ শিখেছে তূর্ণা। তুষার হাইওয়েতে ড্রাইভ করতে দিতে চায়নি তূর্ণাকে। কিন্তু তূর্ণার জেদের কাছে হার মেনে তাকে ড্রাইভ করতে দিতে হয়েছিল।
প্রথমটায় ভালোভাবে ড্রাইভ করতে পারলেই। খানিকক্ষণ পর থেকে তূর্ণা কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে। ঠিকভাবে গাড়ি ড্রাইভ করতে পারছিল না সে। তারওপর সেই সময়ই বৃষ্টি নামে। সহসা গাড়ির এক্সি’ডেন্ট হয়ে যায়। গাড়ির নিচে পড়ে উজান। তূর্ণা ভয় পেয়ে সেভাবেই বরফের মতো জমে বসে থাকে। তুষার দ্রুত বেরিয়ে এসে উজানের কাছে যায়। অন্ধকার থাকায় উজানের মুখ সে সেদিন দেখেনি।
কি করবে না করবে ভেবে না পেয়ে তুষার তার বাবাকে কল করে সবটা জানায়। তারপর জা করার সব তুষারের বাবার পাঠানো লোকেরাই করে।
তূর্ণা বাবা পুলিশ অফিসার হওয়ায় তিনি সবটা সামলে নিয়েছিলেন। তূর্ণার নাম জড়ায়নি এসবের মাঝে। যদিও তিনি তূর্ণাকে বলেছিলেন যার এক্সিডেন্ট হয়েছে সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছে। কিন্তু তা যে মিথ্যা এতোদিন টর জেনেছে তূর্ণা। তূর্ণার মনে সবসময়ই অপরাধবোধ কাজ করে। সেদিন যদি সে জেদ না করতো তাহলে হয়তো ওই মানুষটা সুস্থ থাকতো। ওই মানুষটার জন্য তার পুরো পরিবারকে কষ্টও করতে হতো না।
___________
কেটে গেছে একটা সপ্তাহ। উদয় তার মায়ের মুখ থেকে শুনেছে এক্সিডেন্টটা তূর্ণার হাতে হয়েছে। তূর্ণা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। উদয় ওই সময়টায় সামলেছে তাকে। ঊর্মিলা বেগমও সাথে ছিলেন। অনেকভাবে বুঝানো পর তবে গিয়ে তূর্ণা স্বাভাবিক হয়েছে।
উজান এখন মোটামুটি সুস্থ। হাসপাতালেই আছে এখনো। একবছর হাঁটাচলা না করায় এখন স্বাভাবিকভাবে তা করে উঠতে পারছে। না। কথাবার্তা ঠিকঠাক ভাবেই বলে। হাত-পা এখনো নাড়াচাড়া করতে পারে না। ডাক্তার বলেছে কিছুদিন সময় লাগবে সাথে কিছু এক্সারসাইজ করলে আবারো স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আজ উজান তূর্ণকে ডেকেছে তার সাথে কি কথা বলবে বলে। নওরিনকে সাথে নিয়ে এসেছে। ক্যাবিনে ঢুকে তারা। কুশলাদি বিনিময় করে উজান তূর্ণার উদ্দেশ্যে বলে,
“মায়ের কাছে শুনেছিলাম তুমি নাকি নিজেকে দোষারোপ করেছো।”
তূর্ণা দৃষ্টি নত করে নেয়। উজান আবারো বলে,
“তোমার এতে কোনো দোষ নেই। দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই। এতে কারো হাত থাকে না। জাস্ট হয়ে যায়। আর নিজেকে দোষ দেবে না কেমন!”
তূর্ণা প্রতিউত্তরে মিষ্টি একটা হাসি উপহার দেয়। উজান মুখে হাসি ঝুলিয়ে বলে,
“তুমি নাকি বিভাকে নিয়ে উদয়কে সন্দেহ করেছিল?”
এবার লজ্জায় পড়ে যায় তূর্ণা। উজান সশব্দে হেসে বলে,
“যা হওয়ার হয়েছে। বাদ দাও ওসব। তবে নিশ্চিন্ত থাকতে পারো বিভাকে নিয়ে। বিভা শুধু আমার জন্যই এসেছে।”
তূর্ণা এবার আমতা আমতা করে বলে,
“আচ্ছা, ভাইয়া আপনার শার্টের পকেটে যে মেয়ের ছবি ছিল, ওটা কি বিভার?”
উজান কিছুক্ষণ ভেবে তারপর জবাব দেয়।
“ওটা আমার শার্টের পকেটে ছিল? কত খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। আমিই এঁকেছিলাম ওটা বিভাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, সেদিনটা মনে করে।”
তূর্ণা আবারো প্রশ্ন করে।
“আপনি যে উদয়ের ভাই এটা কেউ জানে না কেন?”
উজান জবাব দেয়।
“আসলে কি বলোতো, ভাইবোনদের ভিতর যেমন সম্পর্ক হয় আমার আর উদয়ের ভিতর কখনোই তেমন ছিল না। তার কারণ অবশ্য আমি নিজেই। ছোট থেকেই উদয়কে সব বিষয়ে ছোট করতাম আমি। এই যেমন ধরো গায়ের রঙ। উদয়ের শ্যামলা রঙের জন্য ওকে অপমান করেছি অনেক। আবার উদয় পড়ালেখায় ভালো ছিল না, আবার খুব খারাপও ছিল না। আমি ছিলাম ফার্স্ট বয়। এই নিয়েও ওকে অপমান করতাম। সবথেকে বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিলাম ক্লাস নাইনে থাকতে। স্কুলেই ঝগড়া লেগে গিয়েছিল আমাদের। আর আমি আমার বন্ধুদের সাথে নিয়ে খুব মেরেছিলাম ওকে। তখন না বুঝলেও এখন বুঝি কতটা ভুল করে এসেছি আমি। সেদিনের ঘটনার পরপরই বাবা আমাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে ডাক্তারি পাশ করে একবছর আগে দেশে ফিরেছি। আর তার পরই তো দুর্ঘটনাটা ঘটে গেল। আমার দুর্ব্যবহারের জন্য উদয় আমাকে সবসময় এড়িয়ে চলতো। কখনো কাউকে বলতো না যে তার কোনো ভাই আছে। তবে কি জানো, আমাকে কিন্তু ঠিকই ও ভালোবাসে। এতকিছুর পরও ভালোবাসে। তবে যে কারো প্রতি ওর ভালোবাসা খুব নিভৃতে প্রকাশ পায়। কেন যেন নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে চায় না কখনো আর এটাতো আমার থেকে তোমারই ভালো জানার কথা তাই না।”
তূর্ণা মৃদু হাসে। আরো কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলে তাদের ভিতর। এর ভিতর ঊর্মিলা বেগম ক্যাবিনে আসেন। ঊর্মিলা বেগমের রোজ বাসার বাইরে যাওয়ার রহস্যটা এবার বুঝেছে তূর্ণা। ছেলেকে দেখতে আসেন তিনি।
তূর্ণা আর নওরিন চলে আসে হাসপাতাল থেকে। নওরিন মেয়েটার খুব কষ্ট লাগে তূর্ণার। নিঃস্বার্থ ভাবে এতগুলো বছর ভালো বেসে এসেছে সে উজানকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শূণ্য হাতে ফিরতে হলো। উজানতো তাকে ভালোবাসে না। ভালোবাসে বিভাকে।
______________
উজান হাসপাতাল থেকে ফিরেছে আজ সন্ধ্যায়। বাড়ির সবাই ভীষণ খুশি। বিশেষ করে ঊর্মিলা বেগম। আজ সবার সব পছন্দের খাবার রান্না করেছেন আজ নিজ হাতে। বিভা আর তূর্ণা সাহায্য করেছিল কিছুটা।
তূর্ণা থম মেরে নিজের ঘরে বিছানায় বসে আছে। বিভা তাকে দুবার খেতে ডেকে গেছে কিন্তু সে যায়নি। মিনিট দুয়েক পর উদয় ঘরে আসে ধমকে বলে,
“কখন থেকে ডাকছে তোমায়। আছসো না কেন? জানো না মা আজ ভীষণ খুশি। তার পুরো পরিবার আজ এক হয়েছে।”
তূর্ণা ছলছল চোখে উদয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমি কি এই পরিবারের কেউ?”
তূর্ণার ছলছল চোখ দেখে হতভম্ব হয় উদয়। তবু নিজেকে সামলে বলে ওঠে,
“না। কেউ নও। খেতে এসো জলদি।”
বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায় উদয়। তূর্ণার চোখ বেয়ে জল গড়াতে চায়। কিন্তু তা গড়াতে দেয় না তূর্ণা। নাহ, অনেক হয়েছে। আর থাকবে না সে এই বাড়িতে। আর থাকবে না এই কঠোর হৃদয়হীন মানুষটার সাথে।
চলবে!