Home "ধারাবাহিক গল্প অবাঞ্চিতা অবাঞ্চিতা পর্ব-৩৫+৩৬

অবাঞ্চিতা পর্ব-৩৫+৩৬

0
276

৩৫.
কাচা বাজারের পরিবেশ সকালে যতটা প্রাণোচ্ছল ছিল এখন ঠিক তার বিপরীত। ক্রেতা- বিক্রেতারা যথাসম্ভব নিচু স্বরে কথপোকথনে ব্যস্ত। অল্পবয়স্ক ছেলেরা সন্তপর্ণে চলাচল করছে। মুরুব্বিরা বিড়ির ধোঁয়া এবং পানের পিক ফেলছে অতি সাবধানতার সহিত। কারণ, আজ বহুদিন পর কাচাবাজারে তুর্জয় তালুকদারের পদধূলি পড়েছে। ভয়ে সকলে তটস্থ।

তুর্জয় বসেছে হাওরের তীর ঘেঁষে। বর্ষায় হাওর জলে টইটুম্বুর হয়ে উঠলেও, হেমন্তে জল নেমে যেতে শুরু করে। সদ্য জেগে ওঠা জমিগুলোতে কৃষকেরা বোরো ধান চাষ করে। এদিকের জমিগুলো অন্যান্য ধান চাষের জন্য তেমন একটা উপযোগী নয়।

চায়ের সস্তা মগে চুমুক দিতে দিতে ঠিক এরকম একটি জমির দিকে নজর পড়ল তুর্জয়ের। গালে ঝুলে উঠল রহস্যময় হাসি। স্বাভাবিক গলায় ডাকল,

– ওসমান..

– জ্বি, ভাই?

– ওই যে জমিটা দেখছস?

– হ ভাই। কি করতে হব কন খালি।

– ওই জমিতে নাশকতা করুম রে! যেটুকু রক্ত আমার শরীর থিকা বাইর করছে খাং**কি/র পোলারা তার দ্বিগুণ রক্ত আমি ওগো পে/ছন দিয়া বাইর করুম।

ওসমান চোখমুখ শক্ত করে বলল,

– ভাই আপনি খালি হুকুম করেন। হা/রামির বাচ্চা গুলারে তুইলা আইনা আপনার পায়ের সামনে ফালামু।

ওসমানের কথা শুনে তুর্জয় তৃপ্তির হাসি হাসল। ওসমান এবং ফারুকের এই আনুগত্য তার মাঝে অন্যরকম স্বস্তি এনে দেয়।

– সময় হইলে হুকুম করুম। আপাতত ওই জমিটার দিকে কেউ যেনো নজর না দেয় হেই ব্যবস্থা কর।

– আইচ্ছা, ভাই। হইয়া যাব।

তুর্জয় ভ্রুঁ কুঁচকে শুধালো,

– ফারুক কই রে? ওর তো আসার কথা ছিল।

– ফারুক একটু শহরে গেছে ভাই।

– ক্যান?

ওসমান মুখে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে বলল,

– হালায় প্রেমে পড়ছে ভাই। প্রেমিকার লগে দেখা করবার গেছে।

– কস কি? ফারুকে প্রেমে পড়ছে? তাও আবার শহরের মাইয়ার ওপর?

– হ ভাই!

তুর্জয় চায়ের মগে শেষ চুমুক দিল। এরপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে সুদূরে দৃষ্টি মেলল। বিস্তৃত জলরাশি মৃদুমন্দ হাওয়ায় দুলে উঠছে ছন্দে ছন্দে। সেই ছন্দের মোহে বিমোহিত হয়ে অন্যমনস্ক তুর্জয় বলে উঠল,

– জীবনে সব করিস, ওসমান। খুন, চুরি, ডাকাতি, মাইয়া নিয়া মজ-মাস্তি সব করিস! কিন্তু প্রেমে পড়িস না। প্রেমে পড়লে রক্ষা নাই রে। প্রেমে পড়া মানে মনের নাটাই আরেকজনের হাতে দিয়া দেওয়া। জীবন ধ্বংস হইয়া যাব। টেরও পাবি না।

ওসমান বাধ্য শিষ্যের মত বলল,

– জ্বি ভাই। আপনি যা বলবেন তাই হব।

তুর্জয় এবার উঠে দাঁড়াল। বলল,

– ফারুক আসলে ওরে নিয়া তাইলে ব্যবস্থা কইরা ফালা। ওই মা/গী/র পোলাগুলারে আমি আগামীকালকের মধ্যে আমার জুতার নিচে চাই।

ওসমান তুর্জয়কে আশ্বস্ত করে বলল,

– হইয়া যাব, ভাই। আপনি নিশ্চিন্তে বাড়ি যান।

তুর্জয়ের শরীর এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয়। মস্তিষ্কে কিছু একটা গোলমাল হচ্ছে। এ সম্পর্কে সে অবগত। প্রতিনিয়ত মৃত মানুষদের দেখা অবশ্যই স্বাভাবিক মস্তিষ্কের লক্ষণ নয়। হোক তা ভ্রম। কাজেই, সেও বাড়ি ফিরে যেতে চাইল।

সহসা তুর্জয় দেখতে পেল, হাওরের তীর ঘেঁষে এক বৃদ্ধ লোক একজোড়া কবুতর হাতে এদিকে আসছেন। জীর্ণ শরীর ক্রমশ কেঁপে কেঁপে উঠছে। নিঃশ্বাস ভারী। কৌতুহলী তুর্জয় হাঁক ছাড়ল,

– ও কাক্কা, এই কবুতর জোড়া নিয়া এদিকে কই যান?

বৃদ্ধ লোকটি কম্পিত দেহ নিয়ে তুর্জয়ের দিকে এগিয়ে এলো। কপাল কুঁচকে বলল,

– কে তুমি বাবা? তালুকদার মশাই এর বড় পুত না?

– হ কাক্কা।

– কই আর যামু বাবা! কবুতর জোড়া বেঁচতে শহরের দিকে যাইতেছি।

– এই একজোড়া কবুতর বেঁচে যা টাকা পয়সা পাবেন, তা তো আসতে যাইতেই খতম হইয়া যাব।

বৃদ্ধ লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। মুখে কৃত্রিম হাসির রেখা টেনে বললেন,

– কি করুম বাবা? খাইতে ত হবে। ঘরে অসুস্থ বউ না খাইয়া রইছে।

– পোলাপান নাই?

– না গো বাবা। আল্লায় দেয় নাই। এজন্যই তো কপালে এত দুঃখ।

তুর্জয়ের গোটা শরীরে শীতল স্রোত বয়ে গেল। সে মৃদু স্বরে বলল,

– কবুতর জোড়া আমারে দেন।

বৃদ্ধ খানিকটা ইতস্তত করতে লাগল। তুর্জয়ের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সে অবগত। টাকা পয়সা চাইতে পারবে না। আবার টাকা চাইলে মুন্ডু হাতে ঘরে ফেরাও মুশকিল। কিন্তু বৃদ্ধকে অবাক করে দিল তুর্জয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ। সে চিৎকার করে উঠল,

– ওসমান?

– জ্বি, ভাই!

– এই কাক্কার বাড়িতে এক মাসের বাজার সরঞ্জাম কিনা দিয়া তালুকদার বাড়িতে আয়। টাকা পয়সা যা লাগে দিয়া দিব তোর কাছে।

এরপর পুনরায় তুর্জয় বৃদ্ধ লোকটির দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,

– কাক্কা, নিশ্চিন্তে বাড়ি যান।

বৃদ্ধ লোকটিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তুর্জয় হনহন করে হাঁটতে লাগল বাড়ির উদ্দেশ্যে।

সূর্য আজকাল দ্রুত পশ্চিমে হেলে পড়ে। দিনের আলো ফুরিয়ে যায় নিমিষেই। শীতের বার্তা প্রকৃতি এভাবেই বয়ে আনে। তালুকদার মশাই মন খারাপ করে নিজের ঘরে বসে আছেন। কপাল কুঁচকে চুরুট টানছেন।

সকালে বৈদ্য শম্ভু নাথ এসেছিল। শরীর টিপেটুপে দেখেছেন। দুজোড়া শান্ত ভ্রুঁর মধ্যিখানে গোটা কয়েক ভাজ পড়েছিল তার। গম্ভীর কণ্ঠে বলেছেন,

– মশাই, আপনার শইলের ভাব তো বুঝতাছি না।

অসহায় মুখে তালুকদার মশাই চেয়েছেন তার পানে। চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি।

– কেন? কি হইছে শম্ভু?

– ব্যামোর মাথামুণ্ডু বুঝতেছি না মশাই। আপনারে যা যা করতে বলছিলাম করছেন?

– পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে করছি।

শম্ভুনাথের মুখে তখন একরাশ চিন্তারা ভীড় জমিয়েছে। তার পথ্য কি তবে কাজে দিচ্ছে না? শাস্ত্রমতে, এমন বিরল রোগের চিকিৎসা তো এভাবেই হওয়ার কথা। যদিও শাস্ত্রের বৈধতা নিয়ে শম্ভুনাথের মত বৈদ্যদের মাথাব্যাথা নেই। তাদের প্রতি গ্রামবাংলার মানুষদের অগাধ বিশ্বাস। এই বিশ্বাসের জোরেই তো চিকিৎসা বিজ্ঞানের তোয়াক্কা না করে তারা নিজেদের পেটে খাদ্য জোটাচ্ছে! বিজ্ঞানের যুক্তিতর্কের মাঝে পড়ে অভুক্ত থাকবে নাকি?

শম্ভুনাথ নিজের পরামর্শ বজায় রাখতে বললেন,

– নির্ঘাত মেয়েছেলেগুলার মাঝে ঝামেলা ছিল, মশাই।

তালুকদার মশাই মাথা ঝাঁকিয়েছেন। বৈদ্যর এই কথার সাথে তিনি একমত হতে পারেন নি।

– না শম্ভু। বিছানার চাদর রক্তে ভাইসা গেছে। এঁটো খাবার গন্ধ শুকলেই আমি বুঝি। আমার অভ্যেস আছে।

শম্ভুনাথ অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন। যেন কৌতুক শুনিয়েছেন তালুকদার মশাই।

বৈদ্য নতুন কোনো পথ্যের সন্ধান জোগাতে পারে নি। কাজেই মনে খুতখুত রয়ে গেছে তালুকদারের। সেই খুতখুতানি থেকে শরীর এখন বেশ নিস্তেজ।

তবে তালুকদারের শরীর যেমনই হোক এ বাড়ির নিয়ম কোনোদিন নড়চড় হয় না। কাজেই রোজকার নিয়মানুযায়ী বিকালের নাস্তা নিয়ে ঘরে প্রবেশ করল মাজেদা।

টেবিলের ওপর নাস্তা রাখতেই তালুকদার খুক খুক করে কেশে উঠলেন। মাজেদা অস্থির হয়ে উঠলেন। স্বামীর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে শুধালেন,

– আপনের শরীর ব্যাথা কমে নাই?

তালুকদার মশাই দুদিকে মাথা নাড়লেন। এর মানে হল কমে নি। মাজেদা কণ্ঠে অস্থিরতা রেখে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন,

– তাইলে কি গায়ে তেল মালিশ কইরা দিব?

– দে।

মাজেদা বাধ্য স্ত্রীর মত রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল। সরিষার তেল গরম করে তালুকদারের গায়ে মালিশ করে দিবে সে। আচমকা তালুকদার তাকে থামতে বললেন। চুরুটে টান দিয়ে জিজ্ঞাসু চোখে তাকালেন। বললেন,

– তুর্জয় কই?

– বাইরে গেছে।

– বাইরে কই গেছে? বইলা যায় নাই?

মাজেদা দুঃখ চেপে ফিকে হাসলেন। বললেন,

– আপনার বড় পোলা আবার কবে আমার কাছে কৈফিয়ত দিত?

তালুকদার বিরক্ত হলেন। বললেন,

– হ্যাঁ বা না তে উত্তর দিতে পারস না? যাজ্ঞে, চারুলতারে একটু আমার ঘরে পাঠাইয়া দে। আর তেল নিয়া তুই আসিস না। জোহরারে পাঠাইয়া দিবি।

মাজেদা কোনো কথা না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

চারুলতা রান্নাঘরে উবু হয়ে বসে থালাবাসন মাজছিল। জোহরাও টুকিটাকি কাজ এগিয়ে দিচ্ছিল। একবার আঁড়চোখে সে চারুলতার দিকে তাকাল। মেয়েটা কাজে ব্যস্ত। গলা খাঁকারি দিয়ে জোহরা বলল,

– বলতেছিলাম যে ভাবী, তোমার ভাইয়ের ওপর রাগ হয় না? মন চায় না মাইরা ফেলতে?

চারুলতা বিস্মিত কণ্ঠে বলল,

– তা কেন মন চাইব?

জোহরা দাঁত কিড়মিড় করে বলল,

– না এমনেই জিগাইলাম। আমার স্বামী যদি অন্য মহিলা নিয়া মজ মাস্তি করত লু/ঙ্গিটা খুইলা কাইটা দিতাম।

– আর যে মহিলার সাথে করব, তারে কি করা উচিত রে জোহরা?

মাজেদার গলার আওয়াজ শুনে চমকে উঠল জোহরা। আমতা আমতা করতে লাগল।

– চাচীজান!

– থাওক। উত্তর দাওয়া লাগব না।
মাজেদা এবার চারুলতার দিকে মনযোগ দিল। বলল,

– চারু, তালুকদার মশাই ডাকতেছেন। যা, শুইনা আয় কি বলে সে।

জোহরা খানিকটা বিচলিত স্বরে বলল,

– ক্যান? চারুলতারে ক্যান ডাকছে?

মাজেদা স্বাভাবিক গলায় বলল,
– তারে আমি কোনো প্রশ্ন করি না। সেই সাহস আমার নাই। তুই চুলায় একটু সরিষার তেল গরম দে। তোর চাচাজানের শরীরে তোরই মালিশ কইরা দাওয়া লাগব।

জোহরা খুশিমনে চুলায় তেল গরম করতে দিল।

চারুলতা তালুকদার মশাই এর ঘরে ঢোকার আগেই সাক্ষাৎ হল তুর্জয়ের সাথে। হাতে খাঁচা ঝুলছে। তাতে একজোড়া কবুতর। শেষ বিকালের আলোয় তুর্জয়ের হাসিমুখ ঝলমল করছে। কবুতর দুটিও বেশ শান্ত ভঙ্গিতে বসে আছে।
চারুলতার চোখজোড়া চকচক করে উঠল। ছোটবেলায় বাবা তাকে একবার একজোড়া কবুতর এনে দিয়েছিল। বড় আদরের ছিল তারা। যত্নে কোনো ত্রুটি রেখেছিল না সে।
হঠাৎ একদিন সকালে উঠে দেখে কবুতর দুটো নেই। গোল খুপরি ঘরের আশেপাশে রক্ত এবং কবুতরের ফইড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। হয়ত কোনো বিড়াল আক্রমণ করেছিল রাতে। চারুলতা ভীষণ কান্না করেছিল সেবার।

পুরোনো স্মৃতি জাগ্রত হতেই অক্ষিজোড়ায় জল জমল তার। জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল তুর্জয়ের দিকে।

তুর্জয় মুখে একই হাসি ঝুলিয়ে রেখে বলল,

– হ তোর জন্য আনছি।

খাচা এগিয়ে দিল সে চারুলতার দিকে। এই প্রথমবার চারুলতা কোনো আপত্তি করল না। আনন্দের সহিত খাচা হাতে নিল। এরপর তুর্জয়ের দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা মেশানো হাসির রেখা টানল গালে।
চারুলতা কবুতর জোড়া নিয়ে নিজের ঘরের দিকে ছুটল। তালুকদার মশাইয়ের তলবের কথাও ইতোমধ্যে বেমালুম ভুলে গেল।

*****

জোহরা গরম তেল ঘষে ঘষে মালিশ করে দিচ্ছে তালুকদারের গায়ে। তালুকদার আরামে চোখ বুজে আছে। জোহরা হাসিমুখে শুধালো,

– একটু ভাল্লাগতাছে চাচাজান?

– হুঁ।

– ফাহিম কইল আমাগোরে জমি লেইখা দিবেন?

– হুঁ।

জোহরা তালুকদারের শরীরের সাথে আরেকটু ঘেঁষে বসে বলল,

– কিভাবে যে আপনারে ধন্যবাদ জানাই চাচাজান!

তালুকদার চোখ বুজেই বললেন,

– ধন্যবাদ দিতে হবে না। আমার একটা কাজ কইরা দিতে হবে। পারবা না?

– কি কাজ চাচাজান?

তালুকদার বললেন,

– তুমি চুপিচুপি নাহিদারে গিয়া বলবা রাত বারোটায় তোমার সাথে বাড়ির পেছনে দেখা করতে। তুমি তারে আমার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলবা। কি পারবা না?

জোহরা ক্ষণিককাল চুপ থেকে বলল,

– পারুম, চাচাজান।

– আরেকটা কাজ করা লাগবে তোমার।

– কি কাজ?

– তোমার সাথে যে আমার এই বিষয়ে কথা হইছে তা তুমি ভুইলা যাবা। বুঝলা?

জোহরার গায়ের রক্ত হীম হয়ে গেল। তালুকদার বাড়ির সকল অন্যায় সম্পর্কে সে অবগত। কিন্তু চাক্ষুষ সাক্ষী নয়। সে কি কোনো অনাগত অন্যায়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলছে আজ?

– জোহরা, কথা বলতেছো না যে?

তালুকদারের প্রশ্ন শুনে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিল সে। হাসার চেষ্টা করে বলল,

– বুঝতে পারছি, চাচাজান।

– সাব্বাশ! ভালোমতো পা জোড়া টিপা দাও দেখি। বেশি করে তেল নিয়া মালিশ করো। উফ! সারাটা শরীরে কি ব্যাথা, কি বেদনা! আহা!

জোহরার মস্তিষ্কে অনেক প্রশ্ন গিজগিজ করতে থাকলেও, সে প্রশ্ন করার সাহস পেল না। সাপের গর্ত দূর থেকে দেখাই উত্তম। অতি কৌতূহলে গর্তের দিকে ধাবিত হলে কামড়ে আর মৃত্যু ঠেকায় কে?

চলবে।

৩৬.
তুর্জয় বিছানায় চোখ বুঁজে শুয়ে আছে। কিন্তু একফোঁটা ঘুম ভর করেনি দুচোখের পাতায়। রাতের অন্ধকার হাতছানি দিচ্ছে চতুর্দিকে। সাথে হাতছানি দিচ্ছে ঘোর বিপদ। এ বিপদ উপনীত হবে নাহিদার ওপর। অথচ সে এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবগত নয়। বিপদ কখনো বলে কয়ে আসে না।

নাহিদার মনটা আজ ভালো নেই। সে খুব চেষ্টা করছে তুর্জয়ের বুকে জায়গা করে নিতে। কিন্তু তুর্জয় সে সুযোগ তাকে দিচ্ছে না।

নাহিদা ক্ষণিককাল বিছানায় শুয়ে এপাশ অপাশ করল। তারও দুচোখ সজাগ। বিন্দুমাত্র ঘুম নেই।

নাহিদা এবার তুর্জয়ের দিকে ফিরে তার বুকের ওপর আলগোছে হাত রাখল। তুর্জয় এক মুহুর্ত দেরি করল না। ঝ্যাংটা মেরে হাত সরিয়ে দিল। বাজখাঁই গলায় শুধালো,

– কি হইছে? কি সমস্যা তোর? এমন লাগাইছস ক্যান?

নাহিদা মিনমিন করে বলল,

– আপনি আমারে ধরতে দিতাছেন না ক্যান? কি হইছে?

– কিছুই হয় নাই। তুই ধরবি না আমারে। তোর ছোঁয়াও আমার সহ্য হইতাছে না।

তুর্জয়ের কণ্ঠে স্পষ্ট বিরক্তি। নাহিদা চোখমুখ শক্ত করে বলল,

– আপনে কার জন্য আমার সাথে এমন করতাছেন? ওই এক রত্তি মাইয়ার জন্য? ওর শইলে যা আছে আমার শইলেও তাই আছে। ওর চাইতে আমার শইলে বেশিই আছে। তাও আপনে আমার সাথে এমন করতাছেন? ক্যান?

তুর্জয় স্বাভাবিক গলায় বলল,

– কারণ আমি ওরে ভালোবাসি। তোরে আমি কোনোকালেই ভালোবাসি নাই। তুই জানস নারী দেহ পাইলে আমি নিজেরে ঠিক রাখতে পারি না। আমার ভেতরে খারাপ লাগতে থাকে। এর সুযোগ নিছস তুই। বুকে হাত রাইখা বল তো তুই এর সুযোগ নেস নাই?

তুর্জয়ের প্রশ্ন শুনে নাহিদা কিছুটা ঘাবড়ে গেল। আমতা আমতা করে বলল,

– না, মানে… আপনে…

– হইছে। মাথার ভেতর তো মিথ্যা গিজগজ করতাছে তোর। তুই আর কি সত্য বলবি?

তুর্জয়ের এমন ব্যবহারে নাহিদা বিস্ময়ে ফেটে পড়ল। কেন এমন করছে তার সাথে? মানসিকভাবে না পারলেও নিজের লাস্যময়ী দেহ নিয়ে তুর্জয় তালুকদারকে কাবু করে ফেলা কোনো ব্যাপার ছিল না এতদিন। সে কিনা আজ তার শরীরকে অবজ্ঞা করছে?

নাহিদা এখনো চুপ করে আছে। টু শব্দটি করছে না। যেন মুখে কুলুপ এঁটে আছে সে। তুর্জয় সহসা এমন একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল, যে প্রশ্নের মোকাবেলা করতে নাহিদা প্রস্তুত ছিল না।

– তোরে আমার বাপ সেই রাতে মারে নাই। তোরে সে জান ভিক্ষা দিছে। বিনিময়ে তুই তারে কি দিছস, নাহিদা?

নাহিদার অক্ষিজোড়া যেন কোটর ঠিকরে বের হয়ে আসতে চাইল। সে মুখ একটুখানি হাঁ করে থেমে গেল। কিছু বলতে গিয়েও যেন বলা হল না তার। তবে তুর্জয় থেমে রইল না। একনাগাড়ে বলেই চলল,

– সে আমার বাপ। কতখানি হা/রা/মি তা আমি জানি। সকল মাইয়া মানুষ তার সামনে একটা খেলনা। চক্ষুলজ্জার ভয়ে নিজের সেই হা/রা/মিপনা সে লুকাইয়া রাখে। কিন্তু রাতের আঁধারে তো চক্ষুলজ্জার ভয় নাই! তুই তোর নিজের শ্বশুরের সাথে শুইছস। এজন্যই সে তোরে জানে মারে নাই। অস্বীকার করতে পারবি? তুই কি ভাবছস এই খবর আমি কোনোদিন পামু না? খোঁজ লাগানোর মত লোকজন আমারো আছে, নাহিদা। তোর মত দুশ্চরিত্রা মা/গী আমারে ছুঁইলে ব/মি আসে আমার। তোর সাথে ভবিষ্যতে কোনোদিন চারুলতারে মিলাবি না। ও নিষ্পাপ। ওর দুর্ভাগ্য, ও আমার মত নিকৃষ্ট পাপীর ঘরের বউ হইয়া আসছে।

তুর্জয় কথাগুলো বলে অন্য পাশ ফিরে পুনরায় চোখ বুজল। নাহিদার চোখ বেয়ে তখন টপটপ করে পানি পড়ছে। জীবন বাঁচানোর জন্য নিজের সম্মান বিসর্জন দেওয়া কি ঘৃণিত অপরাধ? অবুঝের মত নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকে সে।

চারুলতা অতিথিঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে কবুতর দুটিকে ছেড়ে দিয়েছে। একটু পর পর ডানা ঝাপটিয়ে কবুতর দুটি অল্প বিস্তর উড়ছে। পরক্ষণেই আবার মেঝেতে এসে বসছে।
সন্ধ্যার পর খাঁচার ভেতর বসে ঝিমাচ্ছিল তারা। আচমকা কি হল কে জানে? রাত একটু গভীর হতেই সজাগ। যেন ওদের জন্য সবেমাত্র ভোর হয়েছে!

চারুলতা কবুতর দুটোর কাহিনী দেখছে আর মিটমিটিয়ে হাসছে। হঠাৎ অদ্ভুত কিছু শব্দ ভেসে এলো দেয়াল থেকে।

খটর মটর। খুট খুট!

চারুলতা কপাল কুঁচকালো। সামনের দেয়ালের কাচা অংশটির একটি ইট নড়ছে। সে কিছুটা ঘাবড়ে গেল বটে। পরক্ষণেই মনে পড়ল দেয়ালের ওইপাশের ঘরটিতে রাহাত থাকে।

চারুলতা রাগী ভঙ্গিতে এগিয়ে গেল দেয়ালের দিকে। দেয়াল থেকে ইট নিজের দিকে টান দিয়ে নিয়ে এলো। ছোট একটি আয়তকার ফাঁকা স্থান তৈরি হল। রাহাতের চোখ এবং নাক ভেসে উঠল ইতোমধ্যেই।

চারুলতা কণ্ঠ সরু করে বলল,

– ছিহ! আপনে এখন রাইতে আমারে দেখার জন্য দেয়ালের ইট সরাইতাছেন?

রাহাত জিভে কামড় দিয়ে বলল,

– এসব কি বলছেন? আমি মোটেও এরকম কিছু করতে চাই নি। আমি তো আপনার সাথে নিশ্চিন্তে কথা বলার একটি মাধ্যম তৈরি করছিলাম মাত্র।

– আমার সাথে কথা বলার মাধ্যম খুঁজতাছিলেন?

– হুঁ।

– ক্যান?
চারুলতা অবিশ্বাসের সুরে জানতে চাইল।

– আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন। বিষয়টি আমার ভালো লাগছে না।

চারুলতার কপালে আরোও ভাঁজ পড়ল। তার সুগভীর জিজ্ঞাসু অক্ষিজোড়া দৃষ্টিগোচর হতেই শরীরে সামান্য কাঁপুনি অনুভব করল রাহাত। পঞ্চাদশী কণ্যার রূপের মোহ, অশেষ গুণ আর অদম্য সাহসের প্রেমে মনের অজান্তেই পড়ে গেছে হায়দার আলম রাহাত। শুধুমাত্র অনুভূতির আলোড়নে সায় দিচ্ছে না সে। তার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দুর্বল হয়ে পড়লে চলবে না। যদিও চারুলতার দুর্লভ সৎ সাহসের কাছে পরাজিত হয়ে গেছে সে।

– ভুল তো আপনারে শুরুতে বুঝছিলাম। এখন আবার চাইতাছেন আমারে পট্টি পড়াইতে।

– না, না। একটাবার বিশ্বাস করুন আমাকে?
আকুতি মিনতি করা শুরু করল রাহাত।

– আমি আর কাউরে বিশ্বাস করি না।

– আমি গোয়েন্দা। তালুকদারের কোনো লোক নই।

– কি কইলেন? আপনি গোয়েন্দা?

চারুলতার চোখ কোটর ছেড়ে বেরিয়ে এল। তাকে দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সন্দেহ কাটে নি। কাজেই, রাহাত পুনরায় আশ্বস্ত করে বলল,

– হুঁ। আমি গোয়েন্দা বিভাগ থেকে এসেছি। একটি বিষয়ে তদন্ত করতে।

– কি বিষয়ে তদন্ত করতে আসছেন?

– তা আমি বলতে পারব না। আমাকে অনুগ্রহ করে জিজ্ঞেস করবেন না। সময় হলে সব জানতে পারবেন। আপনি কি আমাকে বিশ্বাস করেছেন?

চারুলতা জোরে জোরে দুদিকে মাথা ঝাঁকাল। মুখে মৃদু স্বরে বলল,

– না। আমি আপনারে বিশ্বাস করতে পারতেছি না।

– তা কি করলে আপনার বিশ্বাস হবে স্বর্গকণ্যা?

চারুলতা অবাক স্বরে প্রশ্ন করল,

– স্বর্গকণ্যা কি?

– যে কন্যা স্বর্গে বাস করে। সাধারণ অর্থে যদি বলি, অপরূপ সুন্দরী।

চারুলতা লজ্জা পেয়ে গেল। কিছু একটা বলতে চাইল কিন্তু ইতস্ততবোধ গ্রাস করে ফেলল সে ইচ্ছা।

– আমি একটা কথাও মিথ্যা বলি নি। আপনি শুধু আমাকে বিশ্বাস করুন অনুগ্রহ করে।

চারুলতা গম্ভীরভাবে বলল,

– আমি আপনারে বিশ্বাস করতে পারি কিন্তু একটা শর্ত আছে।

– কি শর্ত?

চারুলতা ভেজা চোখে বলল,

– আমার মায়ের খোঁজ আইনা দিতে পারবেন? আমার মায়েরে দেখতে খুব ইচ্ছা করতাছে। বিয়ার পর তার একখানা চিঠি পাইছিলাম। তারপর আর কোনো খোঁজ পাই নাই।

‘তাই? কি লিখা ছিল চিঠিতে?’ – আগ্রহভরে জিজ্ঞেস করল রাহাত।

– মা, এই গ্রাম ছাইড়া চইলা যাইতাছে শহরের কোনো আশ্রমে।

– কিন্তু সে এই গ্রাম ছেড়ে গেল কেন?

– থাকব কি জন্যে? হের তো সাত কূলেও কেউ ছিল না। বোন আর বাপ মারা যাওয়ার পর আমারে বিয়া দিয়া দিল। সে একা হইয়া গেছিল। তাই চইলা গেছে। নাকি…

চারুলতার চোখেমুখে স্পষ্ট ভয়ের রেখা। শ্বাসঃপ্রশ্বাস ভারী হয়ে এলো। পলক পড়ল না একবারও। গলায় আটকে যাওয়া কথাগুলো যেন এক ধাক্কায় বলে ফেলল সে।

– নাকি আমার মায়েরেও মাইরা ফেলল?

রাহাতও অতি সন্তপর্ণে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। কারণ, চারুলতার সন্দেহকে সে একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছে না। তালুকদার বাড়ির প্রতিটি দেয়ালে লেগে আছে পুরোনো রক্তের গন্ধ। আটকে আছে শ্বাসরুদ্ধকর নারী কণ্ঠের চিৎকার। নিষিদ্ধ মি/ল/নের উৎসব। তারা প্রয়োজনে খু/ন করে। মে/রে ফেলে প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেও। নারী দে/হ তালুকদারের কাছে শুধুমাত্র ভোগের বস্তু। মতে, অমতে কত মেয়ের সর্বনাশ করেছে নারীপিপাসু তালুকদার এবং তার বড় পুত্র তুর্জয় তালুকদার।
এদের কিভাবে বিশ্বাস করবে সে? কিভাবে আশ্বস্ত করে বলবে চারুলতাকে, তার মা বেঁচে আছে!

– আমি খোঁজ এনে দিব। আপনি চিন্তা করবেন না।

চারুলতা দ্রুত আঁচলের কোণা দিয়ে নিজের চোখ মুছল। এরপর কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করল,

– দেয়ালের ইট সরাইতেছিলেন ক্যান?

– আপনার সাথে কথা বলার জন্য। সকলের সামনে তো কথা বলা সম্ভব না। তাছাড়া আপনি সারাদিন যা ব্যস্ত থাকেন!

চারুলতা তৃপ্তির হাসি হেসে বলল,

– হ। সংসারের সব দায়িত্ব সামলাইতে হয়।

– এই সংসারের প্রতি বুঝি আপনার ভীষণ মায়া কাজ করে?

চারুলতা মাথা ঝাঁকাল। বলল,

– নিজের সংসারের ওপর মায়া কাজ করব না?

– আর স্বামীর প্রতি?

রাহাত বোধহয় ইচ্ছে করেই প্রশ্নটা করল। চারুলতার মাঝে তুর্জয়ের স্থান পর্যবেক্ষণ করার জন্য। মুহুর্তেই চারুলতার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। ঠোঁট কাঁপতে লাগল তিরতির করে। সে কম্পিত কণ্ঠে বলল,

– আমি তারে ঘৃণা করি।

– কিন্তু আপনি তো তাকে ভালোবাসতেন। কাউকে একবার ভালোবাসলে তাকে ঘৃণা করা যায়?

– ঘৃণা করার মত কাজ করলে কেন যাব না? সে আমারে বিয়ার পর থিকাই তারে ঘৃণা করার হাজারটা কারণ দিছে। ভালোবাসার জন্য কোনো কারণ দেয় নাই। সে নামে মাত্র আমার স্বামী।

রাহাত আর কোনো কথা বলল না। হঠাৎ একটা কবুতর এসে চারুলতার কাঁধে বসল। চারুলতা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল।

– কবুতর দেখি!

– হ।

– কে দিল?

– স্বামী।

চারুলতা কাঁধের কবুতরটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেল। রাহাত সেদিকে তাঁকিয়ে মনে মনে বলল,

– স্বর্গকণ্যা, তুমি এখনো তাকে ঘৃণা করতে পার নি! এখনো তার স্পর্শ ভুলতে পার নি। ভালোবাসাটুকু একেবারে মরে যায় নি।

জোহরা পা টিপে টিপে নিজের ঘর থেকে বের হল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন তার নাহিদাকে ডাক দিয়ে বাড়ির পেছনে নিয়ে যাওয়ার কথা। ফাহিম সেখানে আলী মাঝির সাথে দাঁড়িয়ে আছে। জমির লোভে সে জঘন্য একটি অন্যায় করতে চলেছে আজ। যদিও এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে নেই।

দরজায় টোকা পড়ল তিনবার। সাথে মৃদু ডাক।
‘নাহিদা ভাবী। ও.. নাহিদা ভাবী!’

দেয়াল থেকে লণ্ঠন হাতে নিয়ে দুয়ার খুলে দিল নাহিদা।

– কি হইছে, জোহরা? এত রাইতে তুমি এখানে?

ফিসফিস করে জোহরা শুধালো,

– আগে কও ভাই কি ঘুম নাকি জাগনা?

নাহিদা আঁড়চোখে একবার তুর্জয়কে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে উত্তর দিল,

– ঘুম। ক্যান কি হইছে?

– তুমি জলদি আমার সাথে বাড়ির পিছে আসো। বিশাল বড় কাহিনী হইয়া গেছে।

– কি কাহিনী হইছে?

– আসো তো আগে, দেখলে বুঝবা।

নাহিদা কৌতূহলের তাগিদে জোহরার পিছু পিছু অগ্রসর হতে লাগল।

জোহরা নাহিদাকে ঠিক বাড়ির পেছনের গেটের সামনে নিয়ে গেল। সহসা একটা কালো কাপড় মুখে পরিয়ে দেওয়া হল তার। মুখ চেপে ধরা হল সঙ্গে সঙ্গে। আলী মাঝি নাহিদার পা শূণ্যে তুলে ধরল। ফাহিম জোহরাকে ইশারা করল ঘরে ফিরে যাবার জন্য। জোহরাও সময় নষ্ট না করে দ্রুত গতিতে সেই স্থান ত্যাগ করল।

নাহিদাকে ভ্যানে তোলা হল। তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রজেক্টের স্থানে। পাচার করে দেওয়া হবে ওই ফুলগুলোর সাথে।

উপন্যাসঃ #অবাঞ্ছিতা
লেখিকা, #আতিয়া_আদিবা