#নিরবে_নিভৃতে
#জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব-০১
২০২৬ সালে এসে কেউ অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করে! তাও কিনা আমার মতো একটা বাচ্চা মেয়ের বিয়ে। এখনো এইচএসসির গন্ডি ও পেরুতে পারিনি। বাবা কি করে পারলো এমন অমানবিকের মতো কাজ করতে। তাও আজ সেই লোকটা সাথে দেখা করতে এসেছি যার সাথে আর দু’দিন বাদেই বিবাহ নামক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাব। যে বাবা কখনো কলেজ ছুটির পর একা কখনো ছাড়েনি। হাজার ব্যস্ততার মাঝে আমায় কলেজ থেকে নিয়ে যেত। সে বাবা আজ কি করে এমন একটা অচেনা ছেলের সাথে দেখা করতে পাঠিয়েছে। আমার ভীষণ ভয় করছে আপু।
রেস্টুরেন্টের এক কোনে বসে অসহায় মুখ করে এতোক্ষন যাবত বোনের নিকট অভিযোগ করলো রাদিয়া। পুরো নাম রাদিয়া মেহবুব। ইন্টার সেকেন্ডে ইয়ারের স্টুডেন্ট। সামনেই তার এইচএসসি নামক বড়সড় একটা প্যারা। এরই মধ্যে বিয়ের নামক ঝঞ্জাট এসে হাজির হয়েছে। অহসায় হয়ে বিষণ্ণ চোখে সামনে বসা বোনের দিকে তাকিয়ে। রাদিয়ার কথায় ফোন থেকে চোখ তুলে রাদিয়ার দিকে তাকাল সিয়া। রাদিয়া ছলছল দুচোখে তখনো বোনের দিকে তাকিয়ে। নয়নজুড়ে স্পষ্ট অভিমান মিলেমিশে। সিয়া ফোন ব্যাগে ঢুকাতে ঢুকাতে বলল,
“হ্যাঁ কি বলছিলিস যেন?”
সিয়ার কথা কর্ণগুহরে পৌঁছাতে রাদিয়া যেন তাজ্জব বনে গেল। এতোক্ষণ যাবত সে যে বোনের নিকট অভিযোগ করলো একটাও তার বোনের কান অবধি পৌঁছাতে পারেনি। এতোটাই ফোনে মশগুল ছিল। অভিমান আরো যেন দ্বিগুন হলো। বুক ভার হয়ে এলো। সে যে এখানে সিরিয়াস একটা কথা বলল সেটা তার বোন গুরুত্ব দিল না। উল্টো প্রশ্ন করলো। বুকের ভীতর হঠাৎই খা খা করে উঠে। চিত্ত জুড়ে অহসায়ত্ব ভাব। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিনমিন করে বলল,
আমি এতোটাই বেশি হয়ে গেছি যে তোমরা আমার এখনই তাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছো আপু। আমি এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত না। এভাবে হঠাৎ করে কি যাকে তাকে বিয়ে করা যায়? আমার কি এখন সংসার সামলানোর বয়স হয়েছে বলো।
সিয়া রাদিয়ার কথা এবার পুর্ণ মনোযোগ দিয়ে শ্রবন করলো। আলতো হেসে বলল,
‘কে বলল তুই যাকে তাকে বিয়ে করছিস?’
তাই বলে একটা অচেনা ছেলের সাথে বিয়ে? সামনে আমার যে এইচএসসি এক্সাম সে খেয়াল কি তোমার মামার আছে বলো। আমার এখন হেসেখেলে বেরুনোর বয়স। আর তোমরা কিনা আমার সাথে এতোবড় একটা অন্যায় করছো।
কিছুক্ষন ভেবে সিয়া বলল
অচেনা তো কি হয়েছে তোর ওনাকে আস্তে আস্তে চিনে নিবি। তাছাড়া মামা তোর ভালোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেখ যুগ জামানা ভালো না। চারদিকে কি সব ঘটনা ঘটছে দেখছিস না। এই বিয়েতে শুধুই পবিত্র সম্পর্ক না সাথে তোর একটা খুটি শক্ত হবে। তোকে সব বিপদ আপদ থেকে সব সময় আগলিয়ে রাখার কেউ থাকবে।
বোনের কথা শুনে সে শেষ ভরসা টুকু ছিল রাদিয়ার কাছে তাও যেন টুপ করে নিভে গেল। এবার যে তাকে এই বিয়ে দিয়েই ছাড়বে সেটা বুঝতে পেরেছে। আটসাট বেঁধে তবেই না নেমেছে। রাদিয়ার ভীষণ কান্না পেল। দুচোখ জলে টুইটুম্বুর হয়ে যায়। এই বুঝি জল গড়িয়ে পড়বে। সিয়ার অগোচরে তা সযত্নে মুছে নিল। সে বুঝে গেছে তার কোন পথ বাকি নেই। সবাই কেমন তাকে বিদায় করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। রাদিয়ার মন আরো বেশি বিষিয়ে উঠলো। সিয়া বুঝতে পারলো তার বোনের মুড একেবারে খারাপ হয়ে গেছে। সেও তো চায়না এখনই রাদিয়ার বিয়ে হোক। কিন্তু সব সময় কি শকুনের দৃষ্টি থেকে মামা বাঁচাতে পারবে! সিয়ার ফোনে টুংটাং করে আওয়াজ আসে। ফোন বের করে চোখ বুলিয়ে রাদিয়ার মুড ভালো করার জন্য বলে,
‘দেখ রাদিয়া একদম ভয় পাবি না। বিয়েই তো কোন না কোন দিন করতে হবেই একটু আগে হলে ক্ষতি কি বল।’
— ‘তাই বলে এখনই?’
অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে পালটা প্রশ্ন করলো রাদিয়া। সিয়া থমকে গেল। থমথমে মুখে জোরপূর্বক হাসি ফুটিয়ে বলল,
‘দেখ রাদিয়া বুঝার চেষ্টা কর। বিয়ে দিলেই যে পর হয়ে যাবি এমন টা ভাবছিস কেন বলতো। বরং একটা হালাল সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে থাকবি। মামা নিশ্চয়ই তোর খারাপ চাইবে না তাইনা।’
রাদিয়া দমে যায়। বলার কিছু পেল না এই মুহুর্তে। মাথা নিচু করে বসে রইলো। সিয়া রাদিয়ার মনের অবস্থা বুঝতে পারছে কিন্তু তার ও করার কিছু নেই। এরই মাঝে চলে আসে সেই পুরুষটি যার সাথে কিনা রাদিয়ার বিয়ে। সিয়া এক পলক দরজার দিকে তাকালো। পরিচিত মুখ টা দেখতে পেয়েই হাসি ফুটে উঠলো। লোকটি তাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সিয়া রাদিয়াকে ডাক দিল। কিন্তু অভিমানী রাদিয়া বোনের ডাকে সারা দিল না। খুব খুব খুব অভিমান জমেছে তার মন কোঠরে। কিছুতেই সে আর সারা দিবে না বলে সিদ্ধান্ত নিল। জেদ চেপে ধরলো মনে। সিয়া পর পর দু তিন বার ডেকেও যখন রাদিয়ার সারা পেল না ঠিকই তখন যেন ভড়াট ভারিক্কি আওয়াজ শুনতে পেল রাদিয়া।
“মিস রাদিয়া মেহবুব!”
নিজের নাম কর্ণগোচর হতে চমকে উঠলো রাদিয়া। শরীর শিউরে উঠলো। কি ভয়ানক গমগমে গলার স্বর। এক সেকেন্ডের জন্য নিঃশ্বাস থেমে গেছিল তার। সেই আওয়াজের উৎস খুঁজতে পাসে তাকালো। অবাক হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষটির দিকে তাকালো। চিনতে একটুও বেগ পেতে হলো না। কেননা সিয়া আগেই হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়েছিল। তবুও অচেনা অজানা লোকটাকে দেখে আতঙ্কিত হলো। হচকচিয়ে উঠলো খানিকটা। পা থেকে মাথা,অবধি ভালো করে দেখলো। চোখে কালো সানগ্লাস। ঘামে ভেজা সাদা শার্ট। বিরক্ত ফুটে উঠেছে চেহারায়। সিয়া এই সুযোগে ব্যাগ নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। লোকটাকে সালাম দিয়ে রাদিয়ার উদ্দেশ্যে গলার স্বর নিচু করে বলল,
‘আচ্ছা তোরা বরং আলাপ কর। আমার জরুরি একটা কাজ আছে। এক্ষুনি যাব আর আসবো। ভয় পাবিনা কেমন আপু আছে।’
সিয়ার কথা শেষ হতেই রাদিয়ার সিয়ার হাত চেপে করুন চোখে তাকালো। সে কিছুতেই এই অচেনা পুরুষের সাথে একাকি কথা বলতে চায়না। ক্ষীন গলায় বলল,
‘তুমি থাকো প্লিজ।’
সিয়া কোনরকম বুঝিয়ে সুঝিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। বেচারি রাদিয়ে জড়সড় হয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকে। রাগ লাগছে প্রচুর। অন্যের উপর নয় নিজের উপর লাগছে। পারলে যেন নিজেকেই খুন করতে ইচ্ছে করছে তার। মনে মনে কঠিন এক সিদ্ধান্ত নিল।
____
প্রায় দশ মিনিট ধরে কাঠের পুতুলের মতো নিশ্চুপ বসে আছে রাদিয়া। সামনে বসে থাকা অচেনা লোকটি আসার পর থেকেই ফোন নিয়ে ব্যস্ত। স্ক্রল করেই যাচ্ছে। লোকটির নাম হচ্ছে তাসরিক মাহবুব। কাকতালীয় ভাবে নামের মধ্যে পুরোপুরি মিল না হলেই আংশিক মিল বিদ্যমান। এ কার আর আকারের মাঝে পার্থক্য। এতক্ষণে তাদের মধ্যে একটি কথাও হয়নি। রাদিয়ার ভীষণ বিরক্ত লাগছে। অস্বস্তিও যেন ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে ধরছে। একটা অচেনা পুরুষের সামনে এভাবে চুপচাপ বসে থাকার কোনো মানে হয়? তার ওপর আপুরও কোনো খোঁজ নেই। কোথায় গেল কে জানে! এবার রাদিয়ার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে বসেছে। লোকটা এখনো পর্যন্ত একবারও তার দিকে ফিরে ও তাকাল না। মানে, দেখা করতে এসেছে, অথচ আচরণটা এমন যেন সে এখানে একাই বসে আছে! রাদিয়া না পারছে সহ্য করতে, না পারছে কিছু বলতে। ভেতরে ভেতরে রাগটা জমে জমে এখন বিস্ফোরণের পথে। নিজের ওপর যেমন রাগ লাগছে, তেমনি সামনে বসে থাকা লোকটার ওপরও। ইচ্ছে করছে উঠে গিয়ে তার চুলগুলো টেনে ছিড়ে দিই ব্যাটা হনুমান কোথাকার। চুপ করেই যদি বসে থাকবি, তাহলে বড়দের কাছে দেখা করার কথা বললি কেন? মনের সব কথা মনেই চেপে রেখে রাদিয়া গজরাতে থাকে। সাথে মনে মনে তাসরিকের গুষ্টিও উদ্ধার করতে থাকে।
রাদিয়ার ছটফটানি চোখ এড়াল না তাসরিকের। সে অবশেষে ফোন থেকে মুখ তুলে তাকালো। ফোনটা টেবিলে রেখে ধীরে সানগ্লাসটি খুলে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
Are you okay? Any problem, Miss Radia?
রাদিয়া একটানা হড়বড়িয়ে বলে উঠল,
‘গরম লাগছে,গলা শুকিয়ে আসছে। ঠান্ডা কিছু দেবেন প্লিজ।’
কথাটা বলে সে এক নিঃশ্বাসে থেমে গেল। লোকটি আগের মতোই স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ওর কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করছে। এইভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাদিয়ার গাল লাল হয়ে উঠল। হঠাৎই নিজের আচরণটা মনে হতেই ভীষণ অস্বস্তি লাগল তার। এটা সে কী করল! চেনা নেই, জানা নেই কোনো কথাবার্তাই হয়নি ঠিকমতো, আর সে কিনা প্রথমেই এভাবে ইম্যাচিউরের মতো আচরণ করে ফেলল! ভাবনাটা মাথায় আসতেই লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে গেল সে। তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করে চোখ মুখ খিচে ফেলল।
এরই মাঝে লোকটি একজন ওয়েটারকে ডেকে অর্ডার দিয়ে দিল।
ওয়েটার চলে যাওয়ার পর রাদিয়া আড়চোখে তাকিয়ে বলল
‘সরি আমি আসলে..’
It’s okay.
রাদিয়ার কথাটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। আবারও নেমে এলো পিনপতন নীরবতা।
কিছুক্ষণ পর ওয়েটার এসে খাবার রেখে গেল। রাদিয়া তাড়াতাড়ি ঠান্ডা ড্রিংসের স্ট্রটা ঠোঁটে ছুঁইয়ে দিল। সত্যিই তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। নীরবতা ভেঙে তাসরিক নিজেই বলল,
‘এই বিয়েতে আপনার মত আছে, মিস রাদিয়া? না থাকলে নির্দ্বিধায় বলতে পারেন। I will manage.’
রাদিয়া না বুঝেই মাথা নেড়ে বলল, জ্বি…
Okay.
শব্দটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই রাদিয়ার বুক কেঁপে উঠল। সে ফ্যালফ্যাল করে এভারের দিকে তাকিয়ে রইল। সে কী বলল একটু আগে?
সে তো বুঝেই ওঠেনি প্রশ্নটা। তাহলে না ভেবেই ‘জ্বি’ বলে দিল কেন?
আর লোকটা, সে কি সত্যিই সেটাকে সম্মতি হিসেবে ধরে নিল?
রাদিয়ার বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে ধকধক করে উঠল।
রাদিয়ে মুখ ফুটে কিছু বলার জন্য উদ্যত হতেই পাস থেকে তাসরিকের ফোন বেজে উঠে। তাসরিক ফোন পেয়ে দ্রুত কল টা তুলে নিল। হয়তো জরুরি ছিল। কয়েক সেকেন্ডের ফোনালাপ শেষ করে তাসরিক তাড়া দিয়ে বলল,
‘আপনার আর কিছু বলার আছে মিস রাদিয়া? আমাকে এক্ষুনি যেতে। ’
রাদিয়া ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। বলার আছে মানে কি! অনেক কিছুই বলার আছে। কিন্তু তাসরিকের চেহারায় চিন্তার রেখা দেখে রাদিয়া আর মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস পেল না। সেই বিশ্ববিখ্যাত ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে। রাদিয়ার কোন জবাব না পেয়ে তাসরিক ও আর রাদিয়াকে নিয়ে মাথা ঘামালো না। ওয়েটার কে ডেকে দ্রুত বিল দিয়ে ব্যস্ত পায়ে বেড়িয়ে যায়। পিছনে রাদিয়া শুধু তাসরিকের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মাত্র। এটা কোন দেখা করা কিছু নাকি?
____
রাদিয়া আর সিয়া বাসায় ফিরেছে খানিক আগেই। এসে ফ্রেশ হয়ে রাদিয়া এখন নিজের ঘরে বসে আছে। চিন্তায় ডুবে। সে তো মনে মনে ভেবেছিল, ওই তাসরিক নামের অপ্রয়োজনীয় মাথাব্যথাটাকে কিছু কথা শুনিয়ে একেবারে ঝেড়ে ফেলবে। কিন্তু হলো কই! কথাই তো বলা গেল না ঠিকমতো। আকাশ-কুসুম ভাবনায় ডুবে ছিল রাদিয়া।
হঠাৎই সিয়া এসে তার পিঠে হালকা চাপড় মেরে হেসে বলল,
— ‘কী রে, কী ভাবছিস? তাসরিককে নিয়ে?’
তাসরিকের নাম শুনতেই রাদিয়ার মুখটা সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর হয়ে গেল। চোখে স্পষ্ট বিরক্তি নিয়ে বলল,
উফ আপু, প্লিজ! ওর কথা কেন ভাববো আমি? তুমি তো জানোই আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না। তবুও তোমরা সবাই মিলে আমাকে জোর করে ওই হনুমানের সাথে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছো! আমি সত্যিই বিয়ে করতে চাই না, আপু।
রাদিয়ার গলায় অসহায়তা মিশে গেল। সিয়া ভ্রু তুলে একটু মজা করেই বলল,
— তাহলে সোজা গিয়ে মামাকে বলে দে না। তাহলেই তো সমস্যাই শেষ।
রাদিয়া তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে মাথা নাড়ল,
— পারলে কি আর এখানে বসে থাকতাম? আমি একদম নিরুপায় হয়ে গেছি।
সিয়া এবার দাঁত কেলিয়ে মুচকি হেসে বলল,
যখন পারছিস না, তখন বিয়েটা করেই নে। আর তাছাড়া তাসরিক কিন্তু একেবারে খারাপ না দেখতে। রূপকথার রাজকুমার না হলেও শ্যামবর্ণের বেশ সুপুরুষ কিন্তু!
বোনের কথা রাদিয়া মুখ গোমড়া করে ফেলল। কেউ তাকে যেন বুঝতে চাইছে না। রাদিয়া ভীতর থেকে চাপা শ্বাস ছাড়লো। রাগ আর জেদ চেপে ধরলো খুব করে। বিয়ে করবে সে। রাদিয়ার ঘরের দরজায় নক হতেই রাদিয়া নিজেকে ঠিক করে উঠে দরজার দিকে এগোলো। দরজা খুলে দেখলো তার বাবা দাঁড়িয়ে আছে। মোস্তফা সাহেব মেয়েকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে নিয়ে আসেন। মেয়েকে পাশে বসিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলেন,
— এই বিয়েতে তোমার কোন আপত্তি নেই তো মা? আমি সব ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রাদিয়ার মন টা ভার হলো। সাথে বাবার প্রতি অভিমান হলো আকাশচুম্বী। বুকে মাটি চাপা দিয়ে নিজেকে যুদ্ধে পরাজিত সৈনিকের মতো মিনমিন গলায় মাথা নিচু করেই প্রত্যুত্তরে বলল, না নেই।
চলবে…

